আল হাদীস

সন্তান লালন পালন – হাদীসসমূহ

Adab al mufrad - Imam Bukhari rh.

সন্তান লালন পালন – হাদীসসমূহ জানা প্রতিটি মা বাবা ও অভিভাবকদের অপরিহার্য দায়িত্ব। সন্তান সন্ততি মানুষের জীবনে এক অমূল্য দায়িত্ব ও আনন্দের উৎস।

ইসলামে সন্তান পালন, তাদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান, এবং সুপরিণতি নিশ্চিত করার জন্য নানা আদেশ ও নির্দেশনা রয়েছে।

ইমাম বুখারী কর্তৃক সংকলিত আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে শিশুদের প্রতি দায়িত্ব, তাদের সাথে আচরণের সঠিক নিয়ম এবং পরিবারে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নানান হাদিস বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

আরও পোস্ট

এই প্রবন্ধে আমরা আদাবুল মুফরাদের আলোকে সন্তানের প্রতি মাতা-পিতার দায়িত্ব, তাদের আচরণ ও শিক্ষার গুরুত্ব এবং ইসলামী প্রেক্ষাপটে সন্তান সম্পর্কিত মূল নীতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করব।

ইমাম বুখারী রহ. রচিত আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থ থেকে অনূদিত।

আমাদের অনুবাদ ও  প্রকাশনা – দারুস সাআদাত

Table of Contents

সন্তান সন্ততি 

যে ব্যক্তি এক অথবা দুইজন কন্যাসন্তান প্রতিপালন করে

76 – عن عقبة بن عامر – رضي الله عنه – قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسلم يقول: (مَنْ كَانَ لهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ وَصَبَرَ عليهِنَّ وكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِه كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النار) .

হাদীস: ৭৬ উকবা ইবনে আমির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি,

কারো তিনটি কন্যা সন্তান থাকলে এবং সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করলে, যথাসাধ্য তাদের (পানাহার ও) পোশাক-আশাক দিলে, তারা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে অন্তরায় হবে।

যার দুটি কন্যা সন্তান আছে 

77 – عن ابن عباس رضي الله عنهما عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (مَا مِن مُسلم تُدركه ابْنَتَانِ فَيُحْسِنُ صحبتَهُما إلا أدخلتاه الجنة) .

হাদীস: ৭৭ ইবনে আব্বাস (রা) নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি ইরশাদ করেন-

কোন ব্যক্তির দু’টি কন্যা সন্তান থাকলে এবং সে তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করলে, তবে তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।

জান্নাত ওয়াজিব যার জন্য

হাদীস: ৭৮ জাবির (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-

مَنْ كَانَ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ يُؤويهنَّ ويَكْفِيهنَّ ويَرْحَمَهُنَّ فَقَدْ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ الْبَتَّةَ

যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা থাকে আর সে তাদেরকে আশ্রয় দেয় ও প্রতিপালন করে এবং তাদের সাথে দয়ার্দ্র আচরণ করে, তবে তার জন্য নিঃসন্দেহে জান্নাত ওয়াজীব।

লোকদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, যদি দুটি হয়? তিনি (সা) বললেন, দুটি হলেও।

যে ব্যক্তি তিন বোনকে প্রতিপালন করে

হাদীস: ৭৯ আবু সাঈদ খুদরী (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-

لَا يَكُونُ لِأَحَدٍ ثَلَاثُ بَنَاتٍ أَوْ ثَلَاثُ أَخَوَاتٍ فَيُحْسِن إِلَيْهِنَّ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ

যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা বা বোন থাকে আর সে তাদের সাথে দয়ার আচরণ করে তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

যে তার ছেড়ে দেয়া কন্যা সন্তানকে প্রতিপালন করে তার মর্যাদা

হাদীস: ৮০ আলী বিন রাবাহ বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) সুরাকা ইবনে জু’শুম (রা)-কে বলেন,

أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى أَعْظَمِ الصَّدَقَةِ أَوْ مِنْ أَعْظَمِ الصَّدَقَةِ؟

আমি কি তোমাকে সবচেয়ে বড় সাদকা অথবা যা বড় সাদকার মধ্যে গণ্য হয় তার সম্পর্কে বলব না? সে বলল, অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ!

রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন-

ابْنَتُك مَرْدُودَةٌ إِلَيْكَ ليس لها كاسِبٌ غيرُكَ

তা হলো, তোমার সে কন্যা (বা বোন) যে তোমার নিকট ফিরে এসেছে এবং তুমি ছাড়া তার আর কোন উপার্জনকারী নেই।

অনুরূপ হাদীস

81 – عَنْ سُرَاقَةَ بْنِ جُعْشُمٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا سُرَاقَةُ مثله

হাদীস: ৮১ সুরাকা ইবনে জু’শুম (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- হে সুরাকা! অতঃপর বর্ণনাকারী অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেন।

নিজের জন্য ও পরিবারের জন্য যা ব্যয় করা হয় তা সাদকা

হাদীস: ৮২ মিকদাম ইবনে মাদীকারব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছেন-

مَا أطعمتَ نَفسَك فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أطعمتَ ولدكَ فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ زوجكَ فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أطعمت خادمك فهو لك صدقة

তুমি নিজের ভরণপোষণের জন্য যা ব্যয় কর তা তোমার জন্য সাদকা। তোমার সন্তানের ভরণপোষণের জন্য যা ব্যয় কর তা তোমার জন্য সাদকা।

তোমার স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য যা ব্যয় কর তা তোমার জন্য সাদকা। তোমার খাদিম ও পরিচর্যাকারীর ভরণপোষণের জন্য যা ব্যয় কর তা তোমার জন্য সাদকা।

যে ব্যক্তি তার কন্যা সন্তানের মৃত্যু কামনা অপছন্দ করে

হাদীস: ৮৩ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তার নিকট একজন লোক বসা ছিল। তার কয়েকজন কন্যা ছিল। আর সে (কথায় কথায়) তাদের মৃত্যু কামনা করল।

তখন ইবনে উমর (রা) তার উপর খুব রাগান্বিত হয়ে বললেন,

أنت ترزُقُهن

তুমিই কি তাদেরকে রিযিক প্রদান কর?

সন্তানের কারণে কৃপণ ও ভীরু হওয়া

হাদীস: ৮৪ আয়িশা (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবু বকর (রা) একদিন বললেন, আল্লাহর শপথ! পৃথিবীর বুকে আমার নিকট (আমার সন্তান) উমরের চাইতে বেশী প্রিয় আর কেউ নাই।

অতঃপর তিনি বাহিরে গিয়ে ফিরে এসে বললেন, হে আমার কন্যা! আমি কি শপথ করেছিলাম?

তখন আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, সে আমার নিকট খুব আদরনীয়। আর সন্তান তো কলিজার টুকরা হয়ে থাকে।

মশার রক্তের মাসআলা

হাদীস: ৮৫ ইবনে আবু নু’ম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ের সাক্ষী যে, এক ব্যক্তি ইবনে উমর (রা) এর নিকট মশার রক্ত বিষয়ে (মাসআলা) জিজ্ঞাসা করল।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথাকার অধিবাসী? সে বলল, আমি ইরাকের অধিবাসী।

তিনি বললেন, তোমরা এর দিকে দেখ, সে (তুচ্ছ বিষয়) মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। অথচ তারা নবী (সা) এর সন্তান [নাতী- হুসায়ন (রা)]-কে হত্যা করেছে।

আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি-এই দুজন (হাসান-হুসাইন) আমার দুনিয়ার দুটি ফুল।

সন্তানকে কাঁধে উঠানো

হাদীস: ৮৬ বারা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি নবী (সা)-কে দেখেছি, তার কাঁধে ছিলেন হাসান (রা)। আর তিনি তার জন্য এই দুআ করছিলেন,

اللهم إني أُحِبُه فَأَحِبَّه

হে আল্লাহ! আমি তাকে মহব্বত করি সুতরাং আপনিও তাকে মহব্বত করুন।

সন্তান চক্ষু শীতলকারী হয়

হাদীস: ৮৭ জুবায়র বিন নুফায়র বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন আমরা মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রা) এর পাশে বসা ছিলাম।

তখন সেখান দিয়ে একটি লোক যাওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে বললো, ধন্য হোক এই চোখ দুটি যা নবী (সা) এর দর্শন লাভ করেছে।

আল্লাহর শপথ! আমারও এই আকাঙ্ক্ষা হয় যে, যদি আমি তা দেখতাম যা আপনি দেখেছেন, আর আমি সেখানে উপস্থিত থাকতাম যেখানে আপনি উপস্থিত ছিলেন।

এটা শুনে মিকদাদ (রা) রাগান্বিত হলেন। আমি অবাক হলাম যে, সে তো ঠিক কথাই বলেছে (তথাপি তিনি কেন রাগান্তি হচ্ছেন)।

তখন আসওয়াদ (রা) তার দিকে ফিরে বললেন, মানুষের কি হলো যে, তারা ঐখানে থাকার ইচ্ছা পোষণ করে যেখান থেকে আল্লাহ তাদেরকে অনুপস্থিত রেখেছেন। কে জানে, যদি তারা ঐ সময় উপস্থিত থাকত তখন কি করতো?

রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট এমন লোকও তো আসত যাদেরকে আল্লাহ তাআলা উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন অথচ তারা না তো তাকে মেনেছেন আর না তাকে সত্যায়ন করেছেন।

তোমরা আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আদায় কর যে, তোমাদেরকে আল্লাহ তাআলা এমন সময় ইসলামে প্রবেশ করিয়েছেন যখন তোমরা আল্লাহকে চিন এবং তোমাদের নবীর আানিত সবকিছুর সত্যায়ন কর এবং অস্বীকৃতির বিপদ অন্যের ঘাড়ে (যারা এখনো মুসলমান হয়নি) পতিত হয়েছে (আর তোমরা নিরাপদ আছ)।

আল্লার শপথ! নবী (সা) অন্যান্য নবীদের চাইতেও কঠোর পরিস্থিতে আবির্ভূত হন। ঐ জাহিলিয়াতের যুগে মানুষ মূর্তিপূজা ছাড়া আর কোন ইবাদতকেই উত্তম মনে করতো না। অনন্তর রাসূলুল্লাহ (সা) কুরআন নিয়ে অবতরণ করেন যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দেয়, পিতা পুত্রের মধ্যে পার্থক্য করে দেয়।

পিতা তার সন্তান বা ভাইকে কাফির অবস্থায় দেখতো কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার অন্তরকে বন্ধনমুক্ত করে ইমানের সৌভাগ্য দান করেছেন, সে ভাবতো- তারা তো এই অবস্থায় ধ্বংস হয়ে জাহান্নামে চলে যাবে।

আর যখন তারা দেখে যে, তাদের প্রিয়জন এভাবে জাহান্নামে চলে যাবে তখন তাদের চক্ষু শীতল হতো না। এ্রর পরিপ্রেক্ষিতেই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ
আর যারা বলে, হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষ থেকে চোখের শীতলতা দান করুন।– সূরা আল ফুরকান ৭৪

 কারো জন্য মাল-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততীতে বরকত হওয়ার দুআ করা

হাদীস: ৮৮ আনাস (রা) বর্ণনা করেন। একদিন আমি নবী (সা) এর নিকট হাজির হলাম। সেখানে আমার মা এবং আমার খালা উম্মু হারাম উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) তাশরীফ আনেন এবং বলেন- আমি কি তোমাদেরকে নামায পড়াবোনা?

যদিও তখন কোন নামাযের সময় ছিল না। কওমের এক ব্যক্তি আনাস (রা)-কে প্রশ্ন করলো তখন আপনাকে কোথায় দাড় করিয়েছিলেন? তিনি বললেন, তিনি তাকে ডান দিকে দাড় করিয়েছিলেন এবং আমাদেরকে নফল (নামায) পড়ালেন।

অতঃপর তিনি তার পরিবারের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের প্রত্যেক কল্যানের দুআ করেন। তখন আমার মা বললো, ইয়া রাসূল্লাহ! এ আপনার ছোট এক খাদিম, এর জন্য দুআ করুন। অতএব নবী (সা) আমার জন্য সব ধরণের কল্যাণের দুআ করেন। আর দুআর শেষে ছিল-

اللَّهُمَّ أَكْثِرْ ماله وولده وبارك له

হে আল্লাহ তার মাল-সম্পদ ও সন্তান সন্ততী বাড়িয়ে দিন এবং তাকে বরকত দান করুন।

 মায়েরা মমতাময়ী

হাদীস: ৮৯ আনাস (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এক মহীলা আয়িশা (রা) এর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি তাকে তিনটি খেজুর দিলেন। তখন মহীলাটি দুটি খেজুর তার দুই সন্তানকে দিয়ে একটি নিজের জন্য রাখলেন।

বাচ্চা দুটি তাদের খেজুর দুটি খেয়ে নিল এবং মায়ের দিকে তাকালো। মা তখন তার নিজের খেজুর দুটি দুই ভাগ করে দুই সন্তানকে দিয়ে দিলেন।

এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা) ঘরে তাশরীফ আনেন। আয়িশা (রা) ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট জানালেন।

তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, হে আয়িশা! এর মধ্যে অবাক হওয়ার কি আছে? যেভাবে ঐ মহীলা তার বাচ্চাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়েছে, আল্লাহও তার প্রতি দয়াপরবশ হবেন।

শিশুদেরকে চুমু দেয়া

হাদীস: ৯০ আয়িশা (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এক আরব বেদুইন রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট হাজির হলো এবং বললো, আপনারা শিশুদেরকে চুমু দেন? আমরা তো তাদেরকে চুমু দেই না।

তখন নবী (সা) বললেন,

أَوَ أمْلِكُ لَكَ أن نَزَعَ الله من قلبِكَ الرَّحمة

যদি তোমার অন্তর থেকে আল্লাহ তাআলা দয়ামায়া বের করে নেন তবে আমি কি করতে পারি?

যে তার সন্তানকে চুমু দেয় না

হাদীস: ৯১ আবু হুরায়রাহ (রা) বলেন, নবী (সা) হাসান বিন আলী (রা)-কে চুমু দিলেন। পাশে আকরা বিন হারিস তাইমী (রা) বসা ছিলেন।

তিনি বললেন, আমার তো দশজন সন্তান, আমি তো তাদেরকে কখনো চুমু দেইনি।

রাসূলুল্লাহ (সা) তার দিকে তাকিয়ে বললেন,

مَنْ لَا يَرحَم لَا يُرحَم

যে অন্যের প্রতি দয়া করে না তার প্রতিও দয়া করা হয় না।

সন্তানকে পিতার আদব ও সদ্ব্যবহার শিখানো

হাদীস: ৯২ নুমায়র বিন আউস বলেন,

كَانُوا يَقُولُونَ الصَّلَاحُ مِنَ اللَّهِ وَالْأَدَبُ مِنَ الآباء.

নেক আমল আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে আর আদব শিষ্টাচার আসে পিতা-মাতার পক্ষ থেকে।

সকল সন্তানের প্রতি সুবিচার করা

হাদীস: ৯৩ নুমান ইনে বশীর (রা) বর্ণনা করেন। একদিন তার পিতা তাকে উঠিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে নিয়ে গেলেন এবং আরয করলেন,

ইয়া রাসূল্লাল্লাহ! আমি আপনাকে এ বিষয়ের সাক্ষী বানাচ্ছি যে, আমি অমার সন্তান নুমানকে এই এই সম্পদ দান করলাম।

রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, তুমি কি তোমার সব সন্তানকে অনুরুপ দিয়েছো? সে বললো, না। তিনি (সা) বললেন, তুমি আমাকে সাক্ষী করো না, বরং অন্য কাউকে সাক্ষী কর।

অতঃপর বললেন, তুমি কি এটা চাও না যে, তোমার সব সন্তান নেককাজে (আদব ও সদ্ব্যবহারে) সমান হয়? সে বললো, অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ!

রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, তাহলে এমন করো না (বরং সবার সাথে সদাচরণ ও ইনসাফ কর যাতে তারাও তোমার সাথে ইনসাফ ও সদ্ব্যবহার করে)।

ইমাম বুখারী (রহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) এই সাক্ষ্যের ব্যাপারে তাকে অনুমতি প্রদান করা উদ্দেশ্য নয় বরং উদ্দেশ্য তাকে ইনসাফ করতে উদ্বুদ্ধ করা।

 সন্তানের প্রতি পিতার সদ্ব্যবহার

হাদীস: ৯৪ ইবনে উমর (রা) বলেন- আল্লাহ তাআলা (কুরআনে) নেককারদের নাম ‘আবরার’ রেখেছেন। কেননা তারা তাদের পিতা ও সন্তানদের সাথে সদ্ব্যবহার করেন।

যেভাবে তোমার পিতার তোমার উপর হক আছে, তেমনি তোমার উপর তোমার পুত্রেরও (সন্তানের) হক আছে।

যে দয়া করে না তার প্রতিও দয়া করা হয় না

হাদীস: ৯৫ আবু সাঈদ (রা) নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি ইরশাদ করেন-

مَنْ لَا يَرحم لَا يُرحَم

যে অন্যের প্রতি দয়া করে না তার প্রতিও দয়া করা হয় না।

যে মানুষের প্রতি দয়া করে না

হাদীস: ৯৬ জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-

لَا يَرْحَمُ اللَّهُ مَنْ لَا يَرْحَمُ الناس

আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না, যে মানুষের প্রতি দয়া করে না।

আল্লাহ যার প্রতি দয়া করেন না

হাদীস: ৯৭ জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-

من لا يرحم الناس لا يرحمه الله

যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না।

বাচ্চাদেরকে চুমু দেয়া

হাদীস: ৯৮ আয়িশা (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট কতক বেদুইন আগমন করে। তাদের মধ্যে একজন বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনারা বাচ্চাদেরকে চুম্বন করেন। আল্লাহর শপথ! আমরা তো চুম্বন করি না। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন,

أَوَ أَمْلِكُ أنْ كَانَ اللَّهُ عَزَّ وجل نَزَع من قلبِك الرحمة

যদি তোমাদের অন্তর হতে আল্লাহ তাআলা একান্তই দয়া মায়া উঠিয়ে নেন, তাতে আমার কি করার থাকতে পারে?

সদাচারীই দয়া পাওয়ার যোগ্য 

হাদীস: ৯৯ আবু উসমান (রা) বলেন, উমর (রা) এক ব্যক্তিকে কর্মী নিয়োগ করলেন। কর্মীটি বললো, আমার এতগুলো সন্তান আর আমি তাদেরকে কখনো চুমু দেইনি।

তখন উমর (রা) ধারণা করলেন বা বললেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের মধ্যে সদাচারী ব্যতীত কাউকে দয়া করেন না।

 দয়া ও রহমতের শতভাগ

হাদীস: ১০০ আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি,

جَعَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الرَّحْمَةَ مِائَةَ جُزْءٍ فَأَمْسَكَ عِنْدَهُ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ وَأَنْزَلَ فِي الْأَرْضِ جُزْءًا وَاحِدًا فَمِنْ ذَلِكَ الْجُزْءِ يَتَرَاحَمُ الْخَلْقُ حَتَّى تَرفعَ الفرسُ حافِرها عن ولدها خشية أن تُصِيبَه

আল্লাহ তাআলা রহমত ও দয়া মায়াকে শত ভাগ করেছেন। তার মধ্যে নিরানব্বাই ভাগ তার কাছে রেখে দিয়েছেন আর এক ভাগ পৃথিবীবাসীদের জন্য দিয়েছেন যার দ্বারা সৃষ্টজীব পরস্পর দয়ামায়া প্রকাশ করে থাকে। এমনকি ঘোড়া তার পা এই আশঙ্কায় সরিয়ে নেয় যে, তার বাচ্চা হয়তো ব্যথা পাবে।

🔸🔸🔸

👉 আরও পড়ুন পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার, আদাবুল মুফরাদ – ইমাম বুখারী রহ.

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!