আল হাদীস

ইমানের হাকীকত

কানযুল উম্মাল (kanzul ummal), শায়খ আলী মুত্তাকী রহ.

ইমানের হাকীকত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা প্রতিটি মুসলমানের বিশ্বাস ও আমলের মূল ভিত্তি।

ইমান শুধু মুখে স্বীকার করার বিষয় নয়; বরং অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস, মুখের স্বীকৃতি এবং বাস্তব জীবনে আমলের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটানোই ইমানের প্রকৃত বাস্তবতা।

কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে ইমানের এই গভীর অর্থ বোঝা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পোস্ট

হাদিসের বিশ্বস্ত ও সমৃদ্ধ সংকলন কানযুল উম্মাল গ্রন্থের কিতাবুল ইমান অধ্যায়ে ইমানের সংজ্ঞা, স্তরসমূহ ও তার বাস্তব প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রবন্ধে আমরা কানযুল উম্মাল কিতাবুল ইমান থেকে ইমানের হাকীকত বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব, যাতে পাঠক নিজের ঈমানকে বিশুদ্ধ ও মজবুত করার সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারেন।

শায়খ আলী মুত্তাকী (রহ) রচিত বিখ্যাত হাদীস বিশ্বকোষ কানযুল উম্মাল এর ইমান অধ্যায় থেকে অনূদিত

আমাদের  অনূবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত 

Table of Contents

ইমানের হাকীকত

ইমানের পরিচয় 

১- ইমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে- আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসূলদের প্রতি।

তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে জান্নাত, জাহান্নাম এবং মীযানের প্রতি। বিশ্বাস স্খাপন করবে মৃত্যুর পর পূণরুত্থানের প্রতি। আরো বিশ্বাস স্থাপন করবে তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি।

ইমান হলো অন্তর দিয়ে আল্লাহকে চেনা

২- ইমান হলো অন্তর দিয়ে আল্লাহকে চেনা, মুখ দ্বারা স্বীকার করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করা।

অন্তরের সত্যায়ন

৩- আল্লাহর প্রতি ইমান হলো- মুখের স্বীকারোক্তি, অন্তরের সত্যায়ন এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করা।

যবান ও অন্তর দ্বারা ইমান লাভ হয়

৪- যবান ও অন্তর দ্বারা ইমান লাভ হয় আর জান ও মাল দ্বারা হিজরত।

৫- ইমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে- আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার সাক্ষাতের প্রতি, তার রাসূলদের প্রতি।

আরো বিশ্বাস স্খাপন করবে মৃত্যুর পর পূণরুত্থানের প্রতি।

চারটি বিষয়

৬- আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি আর চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি।

আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি একক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর উপর ইমান আনার। তুমি কি জান আল্লাহর প্রতি ইমান আনার অর্থ কি?

আল্লাহর প্রতি ইমান আনার অর্থ হলো এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর রাসূল।

(আর নির্দেশ দিচ্ছি) নামায কায়েম করার, যাকাত প্রদান করার, রমজানের রোযা রাখার এবং (আরো একটি অতিরিক্ত বিষয়) গনীমতের মালের পাঁচ ভাগের এক ভাগ দান করার।

আর আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি (মদের জন্য প্রস্তুতকৃত) কদুর খোল দ্বারা তৈরিকৃত বরতন, মাটির সবুজ পাত্র, কাঠের পাত্র এবং তৈলাক্ত পাত্র (ব্যবহার করা) থেকে।

এই কথাগুলোকে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের আশপাশের লোকদেরকেও তা জানিয়ে দাও।

চারটি বিষয় পালন করা

৭- আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি আর চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি- তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার সাথে কিছু শরীক করবে না।

সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমজানের রোযা রাখবে এবং গনীমতের মালের এক পঞ্চমাংশ দান করবে।

আর আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি (মদের জন্য প্রস্তুতকৃত) কদুর খোল দ্বারা তৈরি বরতন, কাঠের পাত্র, তৈলাক্ত পাত্র এবং মাটির সবুজ পাত্র (ব্যবহার করা) থেকে।

যেভাবে ইমানের স্বীকৃতি দিবে

8- কোন ব্যক্তির ইমানের জন্য এটা বলা যথেষ্ট যে- আমি আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ (সা)-কে রাসূল হিসাবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

যে ব্যক্তি ইমানের স্বাদ পেয়েছে

৯- ঐ ব্যক্তি ইমানের স্বাদ পেয়েছে- যে আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ (সা)-কে রাসূল হিসাবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

যে তিনটি কাজ করবে

১০- যে ব্যক্তি তিনিটি কাজ করবে নিশ্চিত সে ইমানের স্বাদ পাবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকে এবং আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই তার স্বীকৃতি প্রদান করে।

প্রতি বছর সন্তুষষ্টচিত্তে নিজের মালের যাকাত প্রদান করে এবং বৃদ্ধ বয়সের (পশু), রোগগ্রস্ত (পশু), ত্রুটিপূর্ণ ও নিকৃষ্ট মাল প্রদান করে না। বরং মধ্যম ধরণের মাল প্রদান করে।

আল্লাহ তোমাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ চান না আবার নিকৃষ্ট মাল প্রদান করতেও বলেন না।

বেশ ভূষার নাম ইমান নয়

১১- ইমান আশা-আকাঙ্ক্ষা বা বেশভূষার মাধ্যমে হাসিল হয় না বরং ইমান তো হলো এমন বিষয় যা অন্তরে পরিপক্ক হয়- আর আমল তার সত্যায়ন করে।

ইমানের হাকীকত

১২- প্রত্যেক জিনিসের একটি হাকীকত আছে আর কোন বান্দা ইমানের হাকীকত পর্যন্ত ঐ সময় পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না,

যে পর্যন্ত সে এ বিষয়টি ভালভাবে জেনে না নিবে যে, যে মুসিবত তার উপর আপতিত হয়েছে তা কখনো তাকে ভুল করত না।

আর যা তার উপর আপতিত হয়নি তা তার উপর কখনও আপতিত হত না।

তাকদীরের প্রতি ইমান

১৩- ইমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবের প্রতি এবং তার নবীদের প্রতি। আরো বিশ্বাস স্থাপন করবে তাকদীরের প্রতি।

নিশ্চিত ইমান আনয়ন

১৪- ইমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবের প্রতি, তার নবীদের প্রতি, মৃত্যুর প্রতি এবং মৃত্যুর পর পূণর্জীবনের প্রতি।

আরো বিশ্বাস স্থাপন করবে জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি, হিসাব ও মীযানের প্রতি। আরো বিশ্বাস স্থাপন করবে তাকদীর বা ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি।

যখন তুমি এগুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে নেবে তখন তুমি নিশ্চিত ইমান আনয়ন করলে।

যার মধ্যে চারটি বিষয় থাকবে

১৫- যার মধ্যে চারটি বিষয় থাকবে সে নিশ্চিত মুমিন। আর যার মধ্যে তিনটি থাকবে আর একটি ছেড়ে দিবে সে নিশ্চিত কাফির।

এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং আমি [মুহাম্মদ (সা)] আল্লাহর রাসূল এবং মৃত্যুর পর তাকে পূনর্জীবিত করা হবে (এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা)।

আর তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ইমান আনয়ন করা।

চারটি বিষয় এমন যে

১৬- চারটি বিষয় এমন যে, তার উপর ইমান আনা ব্যতীত বান্দা ইমানের স্বাদ পেতে পারে না।

এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং আমি [মুহাম্মদ (সা)] আল্লাহর রাসূল- যিনি আমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন।

এটাও যে, তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে এবং মৃত্যুর পর পূণরায় জীবিত করা হবে। আর তাকদীর বা ভাগ্যের সকল বিষয়ের প্রতি ইমান আনা।

নিজেকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করা

১৭- ইসলাম হলো এই যে, তুমি তোমার অন্তরকে (নিজেকে) আল্লাহর সোপর্দ করবে। আর তোমার হাত ও যবান থেকে অপর মুসলমানকে নিরাপদ রাখবে।

জিজ্ঞাসা করা হলো কোন ইসলাম উত্তম? তিনি বললেন, ইমান। জিজ্ঞাসা করা হলো ইমান কি?

তিনি বললেন, ইমান হলো এই যে- তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসূলদের প্রতি এবং মৃত্যুর পর পূণর্জীবনের প্রতি।

জিজ্ঞাসা করা হলো কোন ইমান উত্তম? তিনি বললেন, হিজরত। জিজ্ঞাসা করা হলো হিজরত কি? তিনি বললেন, গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। জিজ্ঞাসা করা হলো কোন হিজরত উত্তম, তিনি বললেন, জিহাদ।

জিজ্ঞাসা করা হলো জিহাদ কি? তিনি বললেন, জিহাদ হলো এই যে, যখন কাফিরদের সাথে তোমার মুকাবিলা হবে তখন তুমি তাদেরকে হত্যা করবে।

জিজ্ঞাসা করা হলো কোন জিহাদ উত্তম? তিনি বললেন, যেই জিহাদে মুজাহিদের ঘোড়া যখমী হয় এবং তার রক্ত বয়ে যায়।

অতঃপর এগুলোর পর দুটি আমল উত্তম এটা ব্যতীত যে, কেউ অনুরুপ আমল করে- হজ্জে মাবরূর (মকবুল হজ) অথবা উমরা।

ইসলামের হাকীকত

১৮- ইসলামের হাকীকত হলো তুমি এই সাক্ষ্য প্রদান করো যে- ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর রাসূল।’

নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর, রমজানের রোযা রাখ আর যদি সফরের সামর্থ্য থাকে তবে বায়তুল্লাহর হজ পালন কর।

ইসলাম ও ইমান

১৯- ইসলাম হলো প্রকাশমান বিষয় আর ইমান হলো অন্তরের বিষয়।

ইসলামের দৃষ্টান্ত হলো পথের দৃষ্টান্তের মত

২০-  ইসলামের দৃষ্টান্ত হলো পথের দৃষ্টান্তের মত। পথের যেমন একটা মূল থাকে তেমনি ইসলামের মূল বা চূড়া হলো এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে,

আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল। আর নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় এবং (রমজানের) সব রোযা রাখা।

ইসলামের ভিত্তি

২১-  ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।

নামায কায়েম করা। যাকাত আদায় করা। বায়তুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোযা রাখা।

দীনের মূল

২২- এই দীনের মূল হলো ইসলাম। আর যে ইসলাম গ্রহণ করল সে নিরাপত্তা লাভ করল।

আর এই দীনের স্তম্ভ হলো নামায আর উচ্চতা হলো জিহাদ। উত্তম লোক ব্যতীত তা কেউ লাভ করতে পারে না।

ইসলাম পূত পবিত্র

২৩- ইসলাম সব দোষ থেকে পবিত্র। আর দীনের তিনটি ভিত্তি রয়েছে যার উপর ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

যে এর মধ্যে একটিও ছেড়ে দিবে সে কাফির, তার রক্ত হালাল। তা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর’ সাক্ষ্য প্রদান করা, ফরয নামায ও রমজানের রোযা।

ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার নাম

২৪- হে আদী ইবনে হাতিম! ইসলাম গ্রহণ কর। শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে। সাক্ষ্য প্রদান কর এই কথার যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই আর আমি [মুহাম্মদ (সা)] আল্লাহর রাসূল।

আর ইমান আনয়ন কর তাকদীর বা ভাগ্যের সবকিছুর প্রতি- চাই তা ভাল হোক অথবা মন্দ, মিষ্ট হোক অথবা তিক্ত।

ইসলাম কি?

২৫- ইসলাম হলো নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, বায়তুল্লাহর হজ করা, রমজানের রোযা রাখা এবং জানাবত বা অপবিত্রতা থেকে গোসল করা।

ইসলাম হলো

২৬- ইসলাম হলো এই যে- তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে আর তার সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। নামায কায়েম করবে।

ফরয যাকাত আদায় করবে। রমজানের রোযা রাখবে এবং বায়তুল্লাহর হজ করবে।

ইসলামের ভিত্তি কয়টি বিষয়ের উপর?

২৭- ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্টিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। সালাত ও রমজানের সিয়াম (এবং হজ ও যাকাত)।

যে ব্যক্তি এর কোন একটি ছেড়ে দিবে সে কাফির, তার রক্ত হালাল।

ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর 

২৮- ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্টিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।

নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, বায়তুল্লাহর হজ করা। রমজানের রোযা রাখা। আর জিহাদ এবং সাদকাহ হলো নেক আমলের মধ্যে থেকে।

পাঁচটি বৈশিষ্ট্য 

২৯- ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের উপর প্রতিষ্টিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল।

নামায কায়েম করা। যাকাত আদায় করা। বায়তুল্লাহর হজ করা। রমজানের রোযা রাখা। আর জিহাদ এবং সাদকাহ হলো নেক আমলের মধ্যে থেকে।

কয়েকটি বৈশিষ্ট্য 

৩০- ইসলামের ভিত্তি এই কয়টি বৈশিষ্ট্যের উপর প্রতিষ্টিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।

আর এই স্বীকারোক্তি প্রদান করা যে- যা কিছু তিনি নিয়ে এসেছেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে।

আর যখন থেকে আল্লাহ তাআলা রাসূল প্রেরণ করেছেন তখন থেকে জিহাদ জারি রয়েছে এবং মুসলমানদের সর্বশেষ জামাআত (পর্যন্ত তা জারি থাকবে আর) তারাও দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে।

কোন যালিমের যুলুম এবং কোন ন্যায়বিচারকের ন্যায়বিচার তাদেরকে তাদের মাকসাদ থেকে হঠাতে পারবে না।

তারা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর পরিবারভুক্ত। অতএব তাদের কোন গুনাহ ও ত্রুটির কারণে তাদেরকে কাফির সাব্যস্ত করো না আর না তাদের প্রতি শিরকের সাক্ষ্য প্রদান করো।

আর (জেনে রাখ যে,) তাকদীরের ভাল মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে।

ইসলামের ভিত্তি এই কয়টি বৈশিষ্ট্যের উপর

৩০- ইসলামের ভিত্তি এই কয়টি বৈশিষ্ট্যের উপর প্রতিষ্টিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।

আর এই স্বীকারোক্তি প্রদান করা যে- যা কিছু তিনি নিয়ে এসেছেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে।

আর যখন থেকে আল্লাহ তাআলা রাসূল প্রেরণ করেছেন তখন থেকে জিহাদ জারি রয়েছে এবং মুসলমানদের সর্বশেষ জামাআত (পর্যন্ত তা জারি থাকবে আর) তারাও দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে।

কোন যালিমের যুলুম এবং কোন ন্যায়বিচারকের ন্যায়বিচার তাদেরকে তাদের মাকসাদ থেকে হঠাতে পারবে না।

তারা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর পরিবারভুক্ত। অতএব তাদের কোন গুনাহ ও ত্রুটির কারণে তাদেরকে কাফির সাব্যস্ত করো না আর না তাদের প্রতি শিরকের সাক্ষ্য প্রদান করো।

আর (জেনে রাখ যে,) তাকদীরের ভাল মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে।

ইসলামের দশটি অংশ 

৩১- আমার নিকট জিবরাইল (আ) আসলেন এবং বললেন- হে মুহাম্মদ! ইসলামের দশটি অংশ রয়েছে। আর বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেই ব্যক্তি যার নিকট কোন অংশই নাই।

প্রথম: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষ্য প্রদান করা।

দ্বিতীয়: নামায- আর তা হলো পবিত্রতা।

তৃতীয়: যাকাত- আর তা হলো ফিতরাত।

চতুর্থ: রোযা- আর তা হলো জান্নাত (লাভের উপায়)।

পঞ্চম: হজ- আর তা হলো শরীআত।

ষষ্ট: জিহাদ- আর তা হলো গাযওয়া (অভিযান)।

সপ্তম: নেককাজের আদেশ করা- আর তা হলো আনুগত্য।

অষ্টম: অসৎ কাজে নিষেধ করা- আর তা হলো প্রমাণ।

নবম: জামাআত (মুসলিমদের সংঘবদ্ধতা)- আর তা হলো ‍মহব্বত ও সুসম্পর্ক।

দশম: আনুগত্য- আর তা হলো সুরক্ষা।

আটটি অংশ

৩২- ইসলামের আটটি অংশ। ইসলাম একটি অংশ। নামায একটি অংশ। যাকাত একটি অংশ। বায়তুল্লাহর হজ করা একটি অংশ। জিহাদ একটি অংশ। রমজানের রোযা একটি অংশ।

নেককাজের আদেশ প্রদান করা একটি অংশ। অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা একটি অংশ। আর বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেই ব্যক্তি যার নিকট একটি অংশও নাই।

চারটি জিনিস

৩৩- আল্লাহ তাআলা চারটি জিনিস ইসলামে ফরয করেছেন। যদি কেউ তিনটিও পালন করে (আর একটি পালন না করে) তথাপি তার দ্বারা তার কোন ফায়দা হবে না-

যে পর্যন্ত না সে সব কয়টির উপর আমল করে। (তা হলো) নামায, যাকাত, রমজানের রোযা এবং বায়তুল্লাহর হজ করা।

ইসলামের দৃষ্টান্ত

৩৪- ইসলোমের দৃষ্টান্ত হলো পথের দৃষ্টান্তের মত (পথের যেমন মূল/শাখা থাকে তেমনি ইসলাম) এর মধ্যে আছে- আল্লাহর ইবাদত করা। তার সাথে কোন কিছু শরীক না করা।

নামায কায়েম করা। যাকাত আদায় করা। বায়তুল্লাহর হজ করা। রমজানের রোযা রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা।

মানুষকে সালাম করা। যদি সে সালামের জবাব প্রদান করে তবে ফেরেশতা তোমার প্রতি ও তার প্রতি রহমত প্রেরণ করবে।

আর যদি সে উত্তর না দেয় তবে ফেরেশতা তোমার প্রতি রহমত প্রেরণ করবে আর তার প্রতি লা’নত, অথবা তার ব্যাপারে নীরব থাকবে।

আর যখন ঘরে প্রবেশ করবে তখন ঘরের লোকদেরকেও সালাম প্রদান করবে।

এসবের মধ্য থেকে যার একটি অংশ কম হবে তবে নিশ্চিত, ইসলামের অংশের মধ্য থেকে তার একটি অংশ কমে গেল।

আর যে সব ছেড়ে দিল, সে নিঃসন্দেহে ইসলামকে ছেড়ে দিল।

একক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদত করা

৩৫- আমি তোমাদের নিকট কল্যাণ ব্যতীত আর কিছুই নিয়ে আসিনি। আমি তোমাদের নিকট এসেছি (এই বার্তা নিয়ে) যে, তোমরা একক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদত করবে।

লাত ও উযযাকে (সব মূর্তিকে তথা আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুকে যার উপাসনা করা হয়) পরিত্যাগ করবে।

দিনে রাতে পাঁচবার নামায পড়বে। সাড়া বছরে এক মাস রোযা রাখবে। বায়তুল্লাহর হজ করবে। আর তোমাদের ধনীদের নিকট থেকে যাকাত ও সাদকা উসূল করে তোমাদের গরীব ও নিঃস্বদের মধ্যে তা দান করবে।

তাকদীরের প্রতি ইমান

৩৬- হে আদি ইবনে হাতিম! ইসলাম গ্রহণ কর, শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে। ‍তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইসলাম কি? নবী (সা) বললেন-

এ কথার সাক্ষ্য প্রদান কর যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং আমি (মুহাম্মদ) আল্লাহর রাসূল। আর তাকদীরের প্রতি ইমান আনয়ন কর- তা ভাল হোক অথবা মন্দ, মিষ্ট হোক অথবা তিক্ত।

আদি ইবনে হাতিমের প্রতি উপদেশ 

৩৭- হে আদি ইবনে হাতিম! ইসলাম গ্রহণ কর, শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে। ‍তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইসলাম কি?

নবী (সা) বললেন, তুমি আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি আর তার রাসূলগণের প্রতি ইমান আনয়ন কর।

আর ইমান আনয়ন কর তাকদীরের প্রতি- তা ভাল হোক অথবা মন্দ, মিষ্ট হোক অথবা তিক্ত। হে আদি ইবনে হাতিম! কিয়ামত কায়েম হবে না- যে পর্যন্ত না কিসরা ও কায়সার তথা পারস্য ও রোম সম্রাটের ধনাগার বিজিত না হবে।

হে আদি ইবনে হাতিম! (কিয়ামত কায়েম হবে না- যে পর্যন্ত না) এমন এক সময় আসবে, যখন একজন নারী সুদূর হীরা থেকে একাকী সফর করে এসে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে।

হে আদি ইবনে হাতিম! কিয়ামত কায়েম হবে না- যে পর্যন্ত না (সম্পদের এমন প্রাচূর্য হবে যে) একজন লোক মাল ভর্তি থলে নিয়ে এসে কা’বা তাওয়াফ করবে আর তার মাল নেওয়ার মত কোন লোক পাওয়া যাবে না।

শেষ পর্যন্ত সেই ব্যক্তি সেই মালের থলি যমীনে মারতে মারতে বলবে- যদি তুই না থাকতি, যদি তুই মাটি হতি।

ইসলাম কি?

৩৮- ইসলাম হলো এই যে, তুমি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর’ সাক্ষ্য প্রদান করবে। নামায কায়েম করবে। যাকাত প্রদান করবে।

রমজানের রোযা রাখবে। বায়তুল্লাহর হজ পালন করবে- যদি সে পর্যন্ত যাওয়ার (দৈহিক ও আর্থিক) সামর্থ্য থাকে।

নিজেকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করা 

৩৯- ইসলাম হলো এই যে, তুমি নিজেকে আল্লাহর সোপর্দ করবে। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে। তিনি একক তার কোন শরীক নাই আর মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল।

আর নামায কায়েম করবে। যাকাত প্রদান করবে। রমজান মাসের রোযা রাখবে। বায়তুল্লাহর হজ পালন করবে-

যদি সে পর্যন্ত যাওয়ার (দৈহিক ও আর্থিক) সামর্থ্য থাকে। যদি তুমি এই কাজগুলো কর তবে তুমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে।

ইসলাম হলো

৪০- ইসলাম হলো এই যে, তুমি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর’ সাক্ষ্য প্রদান করবে। নামায কায়েম করবে। যাকাত প্রদান করবে।

বায়তুল্লাহর হজ ও উমরা পালন করবে। জানাবাত বা অপবিত্রতা থেকে গোসল করবে। ওযু পূর্ণাঙ্গভাবে করবে। আর রমজান মাসের রোযা রাখবে।

তাকদীরের ভালো মন্দের প্রতি ইমান

৪১- ইসলাম হলো এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং আমি (মুহাম্মদ) আল্লাহর রাসূল। আর এটাও যে, তুমি তাকদীরের ভাল-মন্দ সবকিছুর প্রতি ইমান আনবে।

যে এর মধ্য থেকে কোন অংশ ছেড়ে দিল

৪২- ইসলাম হলো এই যে, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে আর তার সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। নামায কায়েম করবে। যাকাত প্রদান করবে। (রমজানের) রোযা রাখবে। হজ পালন করবে।

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। আর নিজের ঘরের লোকদেরকে সালাম করবে।

এসবের মধ্য থেকে যে একটি অংশ ছেড়ে দিল সে ইসলামের একটি অংশ ছেড়ে দিল। আর যে সব ছেড়ে দিল সে ইসলামকে পিছনে ফেলে দিল।

ইসলামের দশটি বিষয়

৪৩- ইসলামের দশটি অংশ রয়েছে। আর বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেই ব্যক্তি যার নিকট কোন অংশই নাই।

প্রথম: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষ্য প্রদান করা। আর তা হলো মিল্লাত বা দীন।

দ্বিতীয়: নামায- আর তা হলো ফিতরাত।

তৃতীয়: যাকাত- আর তা হলো পরিশুদ্ধি।

চতুর্থ: রোযা- আর তা হলো (জাহান্নাম থেকে বাঁচার) ঢাল।

পঞ্চম: হজ- আর তা হলো শরীআত।

ষষ্ট: জিহাদ- আর তা হলো গযওয়া (অভিযান)।

সপ্তম: নেককাজের আদেশ করা- আর তা হলো আনুগত্য।

অষ্টম: অসৎ কাজে নিষেধ করা- আর তা হলো প্রমাণ।

নবম: জামাআত (মুসলিমদের সংঘবদ্ধতা)- আর তা হলো ‍মহব্বত ও সুসম্পর্ক।

দশম: আনুগত্য- আর তা হলো সুরক্ষা।

ইসলাম প্রকাশ্য

৪৪- ইসলাম প্রকাশ্য বিষয় এবং ইমান অন্তরের বিষয়। আর তাকওয়া হলো অন্তরে- অন্তরের দিকে ইশারা করে (এ কথা বলেছেন)।

নবী (সা) এর ওসিয়ত

৪৫- হয়তোবা এ বছরের পর তোমরা আমাকে আর দেখবে না। (অতএব আমি তোমাদেরকে ওসীয়ত করছি) তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করবে।

পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে। রমজান মাসের রোযা রাখবে। বায়তুল্লাহর হজ করবে।

খুশিমনে নিজের সম্পদের যাকাত আদায় করবে। আর যখন তোমাদেরকে কোন কিছুর নির্দেশ প্রদান করি তা মানবে। এতে তোমরা তোমার প্রতিপালকের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।

রবের ইবাদত করা 

৪৬- তোমরা কি শোন না (আমি কি বলি)? তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে। রমজান মাসের রোযা রাখবে। নিজের সম্পদের যাকাত আদায় করবে।

যখন আমি তোমাদেরকে কোন কিছুর নির্দেশ প্রদান করি তা মেনে চলবে। এতে তোমরা তোমার প্রতিপালকের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।

এটা তোমার দীন 

৪৭- তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে আর তার সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। নামায কায়েম করবে। যাকাত আদায় করবে।

আর জেনে রাখ! প্রত্যেক মুসলমানের জান ও মাল অপর মুসলমানের জন্য হারাম। হে হাকীম ইবনে মুয়াবিয়া! এটা তোমার দীন। তুমি যেখানেই যাও তা (মেনে চলা) তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।

এই রিওয়ায়াতের পূর্ববর্তী সূত্র হলো যে, হাকীম ইবনে মুয়াবিয়া (রা) রাসূলুল্লাহ (সা)- এর নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, আপনার প্রতিপালক আপনাকে কোন জিনিসের সাথে প্রেরণ করেছেন? তখন তিনি উক্ত হাদীস ইরশাদ করেন।

আল্লাহর অভিমুখী হওয়া

৪৮- বল আমি নিজেকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করলাম, আমি তার অভিমুখী হলাম এবং তার জন্য আত্ম-নিবেদিত হলাম। আর নামায কায়েম কর। যাকাত আদায় কর।

জেনে রাখ! প্রত্যেক মুসলমান (তার জান ও মাল) অপর মুসলামানের জন্য হারাম। সবাই ভাই ভাই এবং একে অপরের সাহায্যকারী।

আর জেনে রাখ! কোন মুশরিক মুসলমান হওয়ার পর তার আমল আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করেন না- যে পর্যন্ত না সে মুশরিকদের থেকে পৃথক হয়ে মুসলমানদের সাথে না মিশে।

এই রিওয়ায়াতের পূর্ববর্তী সূত্র হলো যে, ঐ সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট ইসলামের আলামত এর বিষয় জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি উক্ত হাদীস ইরশাদ করেন।

যে অবস্থায় পৌঁছলে ইমান মজবুতভাবে প্রবেশ করে

৪৯- তুমি একথার সাক্ষ্য প্রদান কর যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। তিনি একক তার কোন শরীক নাই। আর মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর বান্দা এবং তার রাসূল।

আর তোমার নিকট যেন আল্লাহ এবং তার রাসূল অন্য সবকিছু থেকে বেশী প্রিয় হয়। আর আল্লাহর সাথে শরীক করার চেয়ে যেন আগুনে জ্বলা তোমার নিকট বেশী পছন্দনীয় হয়।

আর কাউকে মহব্বত করলে যদিও সে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়- আল্লাহর জন্যই মহব্বত কর।

যখন তুমি এই অবস্থায় পৌঁছে যাবে তখন তোমার অন্তরে ইমান এমনভাবে প্রবেশ করবে (প্রিয় হয়ে যাবে), যেভাবে উত্তপ্ত দিনে পিপাসার্তের নিকট পানি প্রিয় হয়ে যায়।

এই রিওয়ায়াতের পূর্ববর্তী সূত্র হলো যে, ঐ সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলেন ইমান কি? তখন তিনি (সা) উক্ত হাদীস ইরশাদ করেন।- হাদীসটি হাসান

কারো গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান না করা

৫০- তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে আর তার সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। নামায কায়েম করবে। যাকাত আদায় করবে। রমজানের রোযা রাখবে। হজ ও উমরা করবে।

আমীরের কথা শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে। তোমরা প্রকাশ্য বিধানের জন্য আদিষ্ট। অতএব কারো গোপনীয় বিষয়ের অনুসন্ধান করবে না।

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলেছিলেন, আমাকে উপদেশ দিন। তখন তিনি (সা) এই হাদীস ইরশাদ করেন।

দীন শিক্ষক 

৫১- তোমরা কি জান ইনি কে? ইনি জিবরাইল (আ)। তোমাদেরকে তোমাদের দীন শিখাতে এসেছেন। তার কথাগুলো সংরক্ষণ করে রাখ।

কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ! সে পূর্বে যতবার এসেছে তাকে চিনতে কোন অসুবিধা হয়নি এইবার ছাড়া। আর এইবার তাকে আমি তখন চিনেছি যখন সে প্রস্থান করতে উদ্যত হলেন।

🔸🔸🔸

আরও পড়ুন মুনাফিকের স্বভাব চরিত্র, কানযুল উম্মাল-কিতাবুল ইমান

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!