আল হাদীস

আল্লাহর যিকির এর মাহাত্ম্য

Kanzul ummal - kitabul azkar

আল্লাহর যিকির মুসলিম জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। এটি হৃদয়কে শান্তি দেয়, মনকে আলোকিত করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ সুগম করে।

কানযুল উম্মালের এই প্রথম ভাগে আল্লাহর যিকিরের ফযীলত বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, যা বিশ্বাসীদের উৎসাহিত করে নিয়মিত যিকিরে মনোযোগ দিতে।

যারা ইসলামী আধ্যাত্মিকতা বৃদ্ধি করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি মূল্যবান দিকনির্দেশনা। এই অধ্যায়টি প্রতিটি মুসলিমকে দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর স্মরণ এবং নেক আমল অনুসরণের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

আরও পোস্ট

শায়খ আলী মুত্তাকী রহ. রচিত কানযুল উম্মাল – কিতাবুল আযকার থেকে অনূদিত
আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত

Table of Contents

আল্লাহর যিকির এর মাহাত্ম ও  তার ফযীলত প্রসঙ্গে

হাদীসে কুদসী

রিওয়ায়াত: ১৭৪৭ আল্লাহ তাআলার এমন কিছু ফেরেশতা আছে যারা আমলনামা লিখা ছাড়া (শুধু) যমীনে ঘোরাঘুরি করেন। তারা যিকিরকারীদেরকে অনুসন্ধান করতে থাকেন। যখন তারা এমন লোকসকল পেয়ে যায় যারা আল্লাহর যিকিরে মশগুল আছেন, তখন তারা পরস্পর বলে, এসো তোমাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।

এরপর তারা তাদের জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন এবং একজন আরেকজনের উপর কাতারবন্দী হয়ে আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যান। এরপর যখন মজলিস সমাপ্ত হয় তখন তারা আল্লাহর দরবারে হাজির হয়। তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, যদিও তিনি তাদের ব্যাপারে খুব ভালভাবেই অবগত আছেন- বল আমার বান্দারা কি বলছিল?

ফেরেশতারা বলে তারা আপনার তাসবীহ-তাহলীল ও তাকবীর-তাহমীদ করছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন- তারা কি আমাকে দেখেছে? তারা বলে, না আল্লাহর কসম! তারা আপনাকে দেখে নাই। আল্লাহ বলেন, যদি দেখত তবে তাদের অবস্থা কেমন হত?

ফেরশেতারা বলে, তারা আপনার ইবাদতে আরো কায়মনোবাক্যে নিয়োজিত হত এবং আপনার বড়ত্ব এবং পূত-পবিত্রতা আরো বেশী করে বর্ণনা করত।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন- তারা আমার কাছে কি প্রার্থনা করছিল?

ফেরশেতরা বলল, তারা আপনার নিকট জান্নাত প্রার্থনা করছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন- তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলে. না আল্লাহর কসম! তারা জান্নাত দেখে নাই। আল্লাহ বলেন, যদি দেখত তবে তাদের অবস্থা কেমন হত?

ফেরশেতারা বলল, তারা তার জন্য আরো বেশী লোভ করত এবং আরো কঠিনভাবে তা পাওয়ার অন্বেষণে লেগে যেত।

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন, তারা কোন জিনিস থেকে আশ্রয় প্রর্থনা করছে। ফেরেশতরা বলে, তারা জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে।

ফেরশেতারা বলে, না আল্লাহর কসম! তরা দেখেনি। আল্লাহ বলেন, যদি দেখত তবে তাদের অবস্থা কেমন হত? ফেরশেতারা বলে, যদি দেখত তবে তারা তার থেকে আরো দূরে থাকত আর আরো বেশী তার ভয় করত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা সাক্ষি থাকো। আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। তখন একজন ফেরেশতা বলল, এক ব্যক্তি তাদের মধ্যে শামিল ছিল না। শুধু সে তার কোন প্রয়োজনের জন্য এখানে এসেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন, তারা এমন সম্পদায় যে, তাদের পাশে বসা ব্যক্তিও বঞ্চিত হয় না।

উত্তম যিকির

1748 – ” أفضل الذكر لا إله إلا الله، وأفضل الدعاء الحمد لله”. (ت ن هـ حب ك عن جابر) .

রিওয়ায়াত: ১৭৪৮ উত্তম যিকির হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আর উত্তম দুআ হলো আলহামদুলিল্লাহ।

যিকির আল্লাহর নিআমত

1749 – “الذكر نعمة من الله فأدوا شكرها”. (فر عن نبيط ابن شريط) .

রিওয়ায়াত: ১৭৪৯ যিকির আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত। সুতরাং এর জন্য আল্লাহর শোকর আদায় কর।

নীরব যিকির

1750 – ” الذكر الذي لا يسمعه الحفظة يزيد على الذكر الذي يسمعه الحفظة سبعين ضعفا”. (هب عن عائشة) .

রিওয়ায়াত: ১৭৫০ যেই যিকির হিফাযতকারী ফেরেশতারা শুনতে পায় না (নীরব যিকির), তা সেই যিকির যা হিফাযতকারী ফেরেশেতা শুনতে পায় তার থেকে সত্তর গুণ বেশী ফযীলত রাখে।

অন্তরের শিফা

1751 – “ذكر الله شفاء القلوب”. (فر عن أنس) .

১৭৫১ আল্লাহর যিকির অন্তরের (রোগের) শিফা ।

মৃত্যুর সময় আল্লাহর যিকির

1752 – ” أحب الأعمال إلى الله أن تموت ولسانك رطب من ذكر الله”. (حب وابن السني في عمل اليوم والليلة طب حب عن معاذ) .

রিওয়ায়াত: ১৭৫২ আল্লাহর নিকট উত্তম আমল হলো এই যে, তোমার মৃত্যু এমন অবস্থায় হওয়া যে, তোমার যবান আল্লাহর যিকির দ্বারা সিক্ত থাকবে।

এমনভাবে যিকির করা যাতে লোকেরা মনে করে পাগল

1753 – “أكثروا ذكر الله تعالى حتى يقولوا مجنون”. (حم ع حب ك هب عن أبي سعيد)

রিওয়ায়াত: ১৭৫৩ বেশী করে আল্লাহর যিকির কর। এমনকি লোকেরা যেন বলে পাগল।

এমনভাবে যিকির করা যাতে মুনাফিকরা মনে করে পাগল

1754 – “أكثروا ذكر الله تعالى حتى يقول المنافقون إنكم مراؤون”. (ص حم في الزهد هب عن أبي الجوزاء مرسلا) .
রিওয়ায়াত: ১৭৫৪ বেশী করে আল্লাহর যিকির কর। যেন মুনাফিকরা তোমাকে বলে- এই লোক রিয়াকার।

আল্লাহর যিকির এর মাহাত্ম্য- বাসনা পূর্ণ হয়

1755 – “اذكر الله فإنه عون لك على ما تطلب”. (ابن عساكر عن عطاء بن أبي مسلم) مرسلا.

রিওয়ায়াত: ১৭৫৫ আল্লাহর যিকির। এটা তোমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের জন্য সাহায্যকারী।

রিয়াকার

1756 – “اذكروا الله ذكرا يقول: “المنافقون إنكم تراؤون”. (طب عن ابن عباس) .

রিওয়ায়াত: ১৭৫৬ আল্লাহর যিকির এমনভাবে কর, যেন মুনাফিকরা তোমাকে বলে এই লোক রিয়াকার।

যিকিরে খামিল

1757 – “اذكروا الله ذكرا خاملا قيل وما الذكر الخامل قال: الذكر الخفي”. (ابن المبارك في الزهد عن ضمرة بن حبيب مرسلا) .

রিওয়ায়াত: ১৭৫৭ যিকিরে খামিল বা মন্থরভাবে আল্লাহর যিকির কর। জিজ্ঞাসা করা হলো যিকিরে খামিল কি? তিনি বললেন, নীরবে ও অনুচ্চ স্বরে যিকির করা।

ভাগ্যবান

1758 – “أسعد الناس بشفاعتي يوم القيامة من قال: لا إله إلا الله خالصا مخلصا من قلبه”. (خ عن أبي هريرة) .

রিওয়ায়াত: ১৭৫৮ কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশের ভাগ্যবান ব্যক্তি হবে সে, যে ইখলাস ও আন্তরিকতার সাথে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে।

সর্বোত্তম মর্যাদা

1759 – “أفضل العباد درجة يوم القيامة الذاكرون الله كثيرا”. (حم ت عن أبي سعيد) .

রিওয়ায়াত: ১৭৫৯ কিয়ামতের দিন সর্বোত্তম মর্যাদা সম্পন্ন বান্দা হবে আল্লাহর অধিক যিকিরকারীগণ।

উত্তম ইলম ও দুআ

1760 – ” أفضل العلم لا إله إلا الله، وأفضل الدعاء الاستغفار”. (فر عن ابن عمر) .

রিওয়ায়াত: ১৭৬০ উত্তম ইলম হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আর উত্তম দুআ হলো ইস্তিগফার।

বেশী করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা

1761 – ” أكثروا من شهادة أن لا إله إلا الله قبل أن يحال بينكم وبينها ولقنوها موتاكم”. (ع عد عن أبي هريرة) .

রিওয়ায়াত: ১৭৬১ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষ্য বেশী করে প্রদান করতে থাক সেই সময় আসার আগে যে, তোমার ও তার মাঝে মৃত্যুর পর্দা আড়াল হয়ে যাবে। আর তোমাদের মৃতদেরকে এর তালকীন কর।

1762 – “إن الله حرم على النار من قال: لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله”. (ق عن عتبان بن مالك) .

রিওয়ায়াত: ১৭৬২ আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের জন্য প্রত্যেক ঐ ব্যক্তিকে হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর সন্তিুষ্টির জন্য লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে।

আল্লাহ যখন বান্দার সাথে থাকেন

1763 – “إن الله تعالى يقول: أنا مع عبدي ما ذكرني وتحركت بي شفتاه”. (حم هـ ك عن أبي هريرة) .

রিওয়ায়াত: ১৭৬৩ আল্লাহ তাআলা বলেন- আমি আমার বান্দার সাথে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে এবং আমার যিকিরের জন্য তার দুই ঠোঁট নড়াচরা করে।

1764 – “إن الله تعالى يقول: إن عبدي كل عبدي يذكرني وهو ملاق قرنه “. (ت عن عمارة بن زعكرة) .

রিওয়ায়াত: ১৭৬৪ আল্লাহ তাআলা বলেন- আমার যে বান্দাই আমার যিকির করে, তখন সে তার নিকটতম বন্ধুর (আল্লাহ) সাথে সাক্ষাত করে থাকে।

আল্লাহর যিকির এর মাহাত্ম্য -দীন দুনিয়ার সবকিছু সহজ করে

1765 – ” إن لكل ساع غاية، وغاية ابن آدم الموت فعليكم بذكر الله فإنه يسهلكم ويرغبكم في الآخرة”. (البغوي عن جلاس بن عمرو) .

রিওয়ায়াত: ১৭৬৫ প্রত্যেক বস্তুর শেষ বা চূড়ান্তসীমা নির্ধারিত আছে। আর (এই দুনিয়াতে) মানুষের শেষ হলো তার মৃত্যু। অতএব তোমাদের উপর আল্লাহর যিকির করা আবশ্যক। কেননা এটা তোমাদের (দীন-দুনিয়ার সবকিছু) সহজ করবে এবং আখিরাতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবে।

শেষ রাতে আল্লাহর যিকির করা

1766 – ” أقرب ما يكون الرب من العبد في جوف الليل الآخر فإن استطعت أن تكون ممن يذكر الله في تلك الساعة فكن”. (ن ت ك عق عمرو بن عبسة) .

রিওয়ায়াত: ১৭৬৬ বান্দা রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হয়। অতএব যদি তুমি পার, তবে সেই সময় আল্লাহকে স্মরণ করো।

সর্বোত্তম আমল

1767 – ” ألا أنبئكم بخير أعمالكم، وأزكاها عند مليككم وأرفعها في درجاتكم وخير لكم من إنفاق الذهب والورق وخير لكم من أن تلقوا عدوكم، فتضربوا أعناقهم ويضربوا أعناقكم ذكر الله”. (ك ق هـ ن عن أبي الدرداء) .

রিওয়ায়াত: ১৭৬৭ আমি কি তোমাদের আমলসমূহের সর্বোত্তমটি সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবো না, যা তোমাদের প্রভুর নিকট সর্বাধিক প্রিয়, তোমাদের মর্যাদাকে অধিক উন্নীতকারী, আল্লাহর পথে তোমাদের সোনা-রূপা দান করার চেয়ে উত্তম এবং যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে তোমাদের শক্রুদের হত্যা করা এবং তোমাদের নিহত হওয়ার চেয়ে উত্তম? তা হলো আল্লাহর যিকির।

আল্লাহর যিকির এর মাহাত্ম্য – ইমান তাজা হওয়া

1768 – “جددوا إيمانكم أكثروا من قول لا إله إلا الله”. (حم ك عن أبي هريرة) .

রিওয়ায়াত: ১৭৬৮ তোমাদের ইমানকে তাজা কর বেশী করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে।

আল্লাহর দূর্গ

1769 – “حدثني جبريل قال: يقول الله تعالى: لا إله إلا الله حصني فمن دخله أمن من عذابي. (ابن عساكر عن علي) .

রিওয়ায়াত: ১৭৬৯ আমাকে জিবরাঈল (আ) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আমার দূর্গ। যে এর মধ্যে প্রবেশ করল, সে আমার শাস্তি থেকে নিরাপদ হয়ে গেল।

কালিমায়ে ইখলাস

1770 – “حضر ملك الموت رجلا يموت فشق أعضاءه فلم يجد عملا خيرا ثم شق قلبه فلم يجد فيه خيرا ففك لحييه فوجد طرف لسانه لاصقا بحنكه يقول لا إله إلا الله فغفر له بكلمة الإخلاص”. (ابن أبي الدنيا في كتاب المحتضرين هب عن أبي هريرة) .

রিওয়ায়াত: ১৭৭০ মালাকুল মউত এক মৃত্যু-নিকটবর্তী লোকের নিকট হাজির হলেন। তিনি তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনুসন্ধান করে দেখলেন যে, কোথাউ কোন নেক আমল নেই। এরপর অন্তরকে দেখলেন সেখানেও ভাল কিছু পেলেন না।

এরপর তার চোয়ালের দিকে দেখলেন যে, তার যবানের এক পাশ তালুর সাথে লেগে আছে আর সে বলছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহ তাআলা এই কালিমায়ে ইখলাসের কারণে তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

উত্তম যিকির ও উত্তম রিযিক

1771 – “خير الذكر الخفي وخير الرزق ما كفى” (حم هب عن سعد) .

রিওয়ায়াত: ১৭৭১ উত্তম যিকির হলো নীরব যিকির। আর উত্তম রিযিক হলো যা যথেষ্ট হয়ে যায়।

উত্তম আমল

1772 – “خير العمل أن تفارق الدنيا ولسانك رطب من ذكر الله”. (حل عن عبد الله بن بشر) .

রিওয়ায়াত: ১৭৭২ উত্তম আমল হলো এই যে, তুমি দুনিয়া থেকে এমনভাবে প্রস্থান করবে যে, তোমার যবান আল্লাহর যিকির দ্বারা সিক্ত থাকবে।

মুফাররিদগণ

1773 – “سبق المفردون المستهترون في ذكر الله يضع الذكر عنهم أثقالهم فيأتون يوم القيامة خفافا”. (ق ك عن أبي هريرة طب عن أبي الدرداء) .

রিওয়ায়াত: ১৭৭৩ মুফাররিদগণ অর্থাৎ আল্লাহর যিকিরে আত্ম-বিভোর ব্যক্তিগণ অগ্রগামী হয়ে গেছে। যিকির তাদের গুনাহর বোঝা নামিয়ে দেবে। সুতরাং কিয়ামতের দিন তারা হালকা-পাতলা হয়ে উপস্থিত হবে।

জুমাদান পর্বতে ভ্রমণ

1774 – “سيروا هذا جمدان سبق المفردون الذاكرون الله كثيرا والذاكرات”. (حم عن أبي هريرة) .

রিওয়ায়াত: ১৭৭৪ তোমরা এই জুমদান পর্বতে (মদীনার একটি বসতী পাহাড়) পরিভ্রমণ কর। এখানে মূফাররিদগণ- অধিক যিকরকারী ও অধিক যিকরকারিণীরা অগ্রগামী হয়ে গেছে। 

আল্লাহর যিকির এর মাহাত্ম্য –  ওয়াসওয়াসা প্রতিরোধ

1775 – “إن الشيطان ملتقم قلب ابن آدم فإذا ذكر الله عز وجل خنس عنده وإذا نسي التقم قلبه”. (الحكيم عن أنس) .

রিওয়ায়াত: ১৭৭৫ শয়তান মানুষের অন্তরে নিজের মুখ লাগিয়ে ওয়াসওয়াসা প্রদান করতে থাকে। অতএব বান্দা যখন আল্লাহর যিকির করে তখন দ্রুত পৃথক হয়ে যায়। আর যখন গাফিল হয়ে যায় তখন পুনরায় তার শূর প্রদান করে।

আল্লাহর প্রতি মহব্বত ও শত্রুতার নিদর্শন

1776 – “علامة حب الله تعالى حب ذكر الله وعلامة بغض الله تعالى بغض ذكر الله عز وجل”. (هب عن أنس) .

রিওয়ায়াত: ১৭৭৬ আল্লাহর প্রতি মহব্বতের নিদর্শন হলো আল্লাহর যিকিরের প্রতি মহব্বত পোষণ করা। আল আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষের নিদর্শন হলো আল্লাহর যিকিরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।

আল্লাহর যিকির এর মাহাত্ম্য – অন্তর পরিষ্কারক

1777 – “إن لكل شيء صقالة وصقاله القلب ذكر الله تعالى وما من شيء أنجى من عذاب الله من ذكر الله ولو أن تضرب حتى ينقطع”. (هب عن ابن عمر) .

রিওয়ায়াত: ১৭৭৭ প্রত্যেক বস্তু পরিষ্কারে উপায় আছে। আর অন্তর পরিষ্কারের উপায় হলো আল্লাহর যিকির। আল্লাহর আযাব থেকে নাজাত দানকারী আল্লাহর যিকির থেকে উত্তম কিছু নাই। চাই তুমি (জিহাদে) তলোয়ার এতটা চালাও যে, (জিহাদ করতে করতে) তা ভেঙ্গে যায়।

লা ইলাহার নিরাপত্তা

1778 – “من قال لا إله إلا الله نفعته يوما من دهره يصيبه قبل ذلك ما أصابه”. (البزار هب عن أبي هريرة) .
যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, এটা তার জীবনকালে মৃত্যুর পূর্বে কোন না কোন দিন তাকে দৈব-দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে উপকার প্রদান করবে।

যে ইখলাসের সাথে লা ইলাহা বলবে

1779 – “من قال لا إله إلا الله مخلصا دخل الجنة”. (البزار عن أبي سعيد) .
১৭৭৯ যে ব্যক্তি ইখলাস ও আন্তরিকতার সাথে বলবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

1780 – “من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة”. (حم د ك عن معاذ) .

১৭৮০ যার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর শক্তি

1781 – ” لا إله إلا الله لا يسبقها عمل، ولا تترك ذنبا”. (هـ عن أم هانيء) .

১৭৮১ কোন আমল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর থেকে অগ্রবর্তী হতে পারে না। আর না তা কোন গুনাহকে বাকী রাখে।

মানুষ যখন গাফিল হয়

1782 – “إن الشيطان واضع خطمه على قلب ابن آدم فإن ذكر الله خنس وإن نسي التقم قلبه”. (ابن أبي الدنيا ع هب عن أنس)

১৭৮২. শয়তান মানুষের অন্তরে তার শূর দিয়ে ওয়াসওয়াসা প্রদান করতে থাকে। অতএব বান্দা যখন আল্লাহর যিকির করে তখন দ্রুত পৃথক হয়ে যায়। আর যখন গাফিল হয়ে যায় তখন পুনরায় তার শূর প্রদান করে।

যাদেরকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়

1783 – ” أولياء الله الذين إذا رؤوا ذكر الله”. (الحكيم عن ابن عباس) .

১৭৮৩. আল্লাহর ওলী বা প্রিয় ব্যক্তি তারা যাদেরকে দেখলে আল্লাহকে স্মরণ হয়।

1784 – “أفضلكم الذين إذا رؤوا ذكر الله تعالى لرؤيتهم،” (الحكيم عن أنس) .
১৭৮৪. তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি তারা যাদেরকে দেখলে কেবল আল্লাহর কথা স্মরণ হয়।

1785 – “خيار أمتي إذا رؤوا ذكر الله وشرار أمتي المشاؤون بالنميمة المفرقون بين الأحبة الباغون للبرآء العنت”. (حم عن عبد الرحمن ابن عاصم – (طب عن عبادة بن الصامت) .

১৭৮৫. আমার উম্মতের উত্তম ব্যক্তি তারা যাদেরকে দেখলে আল্লাহকে স্মরণ হয়। আর আমার উম্মতের নিকৃষ্ট লোক তারা যারা চোগলখুরী করে, বন্ধুদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং পূত-পবিত্র নিষ্কলুষ ব্যক্তিদেরকে অপবাদ প্রদান করার সুযোগ সন্ধান করে।

1786 – ” خياركم الذين إذا رؤوا ذكر الله وشراركم المشاؤون بالنميمة المفرقون بين الأحبة الباغون للبرآء العنت”. (هب عن ابن عمر .

১৭৮৬. তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি তারা যাদেরকে দেখলে আল্লাহকে স্মরণ হয়। আর তোমাদের মধ্যে নিকৃষ্ট লোক তারা যারা চোগলখুরী করে, বন্ধুদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং পূত-পবিত্র নিষ্কলুষ ব্যক্তিদেরকে অপবাদ প্রদান করার সুযোগ সন্ধান করে।

1787 – “خياركم من ذكركم بالله رؤيته وزاد علمكم منطقه ورغبكم في الآخرة عمله”. (الحكيم عن ابن عمرو) .
১৭৮৭ তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সে যাকে দেখলে আল্লাহর স্মরণ তাজা হয়। তার কথার দ্বারা তোমার ইলম ও জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। আর তার আমল (দেখে) তোমার আখিরাতের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।

1788 – “ألا أنبئكم بخياركم، خياركم الذين إذا رؤوا ذكر الله”. (حم هـ عن أسماء بنت يزيد)

১৭৮৮. আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম লোকদের কথা বলব না? তোমাদের মধ্যে উত্তম লোক তারা যাদেরকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়।

আল্লাহর যিকির এর মাহাত্ম্য – আল্লাহর স্মরণের চাবি

1789 – ” إن من الناس مفاتيح، لذكر الله إذا رؤوا ذكر الله “. (طب عن ابن مسعود) .

১৭৮৯. কিছু মানুষ আছে যারা আল্লাহর স্মরণের চাবি হয়ে থাকে। যখন তাদেরকে দেখ তো, তখন আল্লাহকে স্মরণ হয়

مردويه عن أنس) (عبد بن حميد في تفسيره عن الحسن مرسلا) .
জান্নাতের মূল্য হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

আল্লাহর যিকির ও দরূদ 

1791 – “عليكم بذكر ربكم وصلواتكم في أول وقتكم فإن الله عز وجل يضاعف لكم”. (طب عن عرباض) .

১৭৯১. (যিকির শুর করার) প্রাথমিক সময়ে তোমাদের উপর আল্লাহর যিকির এবং দরূদ পাঠ করা আবশ্যক। এতে আল্লাহ তাআলা তোমাদের আমলকে বাড়িয়ে নিয়ে যাবেন।

লা ইলাহা ও আস্তাগফিরুল্লাহ

1792 – ” عليكم بلا إله إلا الله والاستغفار، فأكثروا منهم فإن إبليس قال: أهلكت الناس بالذنوب، وأهلكوني بلا إله إلا الله والاستغفار، فلما رأيت ذلك أهلكتهم بالأهواء، وهم يحسبون أنهم مهتدون”. (ع عن أبي بكر) .

১৭৯২. তোমাদের উপর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা আবশ্যক। খুব বেশী করে তা পাঠ কর। কেননা ইবলিস বলে, আমি মানুষকে গুনাহে নিমজ্জিত করে ধ্বংস করে দেই। আর তারা আমাকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং ইস্তিগফার দ্বারা ব্যর্থ করে দেয়।

অতএব যখন আমি এই অবস্থা দেখি তখন আমি (ভিন্ন কৌশলে) তাদেরকে এমন খাহিশাতের মধ্যে লাগিয়ে ধ্বংস করে দেই যে (তারা বুঝতেও পারে না, অথচ) মনে করে যে তারা হিদায়াতর পথেই আছে।

যিকিরের মজলিসের প্রতিদান

1793 – “غنيمة مجالس الذكر الجنة”. (حم طب عن ابن عمر) .

১৭৯৩. যিকিরের মজলিসের গনীমত বা প্রতিদান হলো জান্নাত।

মানুষ যে বিষয়ে উদাসীন

1794 – “الغفلة في ثلاث، عن ذكر الله، وحين يصلى الصبح إلى طلوع الشمس وغفلة الرجل عن نفسه في الدين حتى يركبه”. (طب هب عن ابن عمر) .

১৭৯৪. (সাধারনত) তিনটি বিষয়ের মধ্যে (মানুষের) গাফলত ও উদাসীনতা হয়। আল্লাহর যিকিরে, ভোরের নামাযের পর থেকে নিয়ে সূর্য উঠা পর্যন্ত এবং মানুষের তার দীনের ব্যাপারে। যে পর্যন্ত না (মৃতের খাটিয়ায়) আরোহণ না করে।

ফজর ও আসরের মাঝে আল্লাহকে স্মরণ করা

1795 – “قال الله تعالى: يا ابن آدم اذكرني بعد الفجر وبعد العصر ساعة أكفك ما بينهما”. (حل عن أبي هريرة) .

১৭৯৫. আল্লাহ তাআলা বলেন- হে ইবনে আদম! ফজর ও আসরের পর কিছু সময় আমাকে স্মরণ কর। তাহলে এই উভয় সময়ের মাঝে আমি তোমার জন্য যথেষ্ট হব।

যে আল্লাহকে স্মরণ করে আল্লাহ তাকে স্মরণ করেন

1796 – “قال الله تعالى: لا يذكرني عبد في نفسه إلا ذكرته في من ملأ من ملائكتي ولا يذكرني في ملأ إلا ذكرته في الرفيق الأعلى”. (طب عن معاذ بن أنس) .

১৭৯৬. কোন বান্দা এমন নাই, যে আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আর আমি ফেরেশতাদের মজলিসে তার আলোচনা না করি। আর কোন বান্দা এমন নাই, যে আমাকে মজীলসে স্মরণ করে আর আমি তার আলোচনা উচ্চপরিষদে না করি।

1797 – ” قال الله تعالى: “عبدي إذا ذكرتني خاليا ذكرتك خاليا، وإن ذكرتني في ملأ ذكرتك في ملأ خير منهم وأكثر”. (هب عن ابن عباس) .

১৭৯৭. আল্লাহ তাআলা বলেন- হে আমার বান্দা! যদি তুমি আমাকে নির্জনে স্মরণ কর তাহলে আমিও তোমাকে নির্জনে স্বরণ করি। আর যদি তুমি আমাকে কোন মজলিসে স্মরন কর তাহলে আমি তারচেয়েও উত্তম মজলিসে তোমার আলোচনা করি এবং আরো বেশী করে করি।

দুটি কালিমা

1798 – “كلمتان: إحداهما ليس لها نهاية دون العرش، والأخرى تملأ ما بين السماء والأرض، لا إله إلا الله والله أكبر”. (طب عن معاذ) .

১৭৯৮. দুইট কালিমা এমন যার একটির মর্যাদা আরশের নীচেও শেষ হয় না। অপরটি আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থান পূরণ করে দেয়। তা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।

দুনিয়ার সবকিছু হতে উত্তম

1799 – “لأن أذكر الله تعالى مع قوم بعد صلاة الفجر إلى طلوع الشمس، أحب إلي من الدنيا وما فيها، ولأن أذكر الله تعالى مع قوم بعد صلاة العصر إلى أن تغيب الشمس أحب إلي من الدنيا وما فيها”. (هب عن أنس) .

১৭৯৯. আমি কোন কওমের সাথে ফজরে পর থেকে নিয়ে সূর্য উঠা পর্যন্ত যিকিরে মশগুল থাকব- এটা আমার নিকট দুনিয়া এবং দুনিয়ার সবকিছু থেকে বেশী প্রিয়। এমনিভাবে আমি কোন কওমের সাথে আসরের পর থেকে নিয়ে সূর্য ডুবা পর্যন্ত যিকিরে মশগুল থাকব- এটা আমার নিকট দুনিয়া এবং দুনিয়ার সবকিছু থেকে বেশী প্রিয়।

1800 – “لأن أقعد مع قوم يذكرون الله من صلاة الغداة حتى تطلع الشمس، أحب إلي من أن أعتق أربعة من ولد إسمعيل ولأن أقعد مع قوم يذكرون الله من صلاة العصر إلى أن تغرب الشمس أحب إلي من أن أعتق أربعة”. (حب د عن أنس) .

১৮০০. আমি এমন কোন দলের সাথে ফজরের পর থেকে নিয়ে সূর্য উঠা পর্যন্ত বসে যাব, যারা আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত হয়ে যায়। এটা আমার নিকট ইসমাইল (আ) এর বংশের চারজন গুলাম আযাদ করার চেয়ে উত্তম। এমনিভাবে আমি এমন কোন দলের সাথে আসরের পর থেকে নিয়ে সূর্য ডুবা পর্যন্ত বসে যাব, যারা আল্লাহর যিকির লিপ্ত হয়ে যায়। এটাও আমার নিকট চারজন গুলাম আযাদ করার চেয়ে উত্তম।

🔸🔸🔸

👉 আরও পড়ুন লা হাওলা ওয়া কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহর ফযীলত ও হাদীসসমূহ, কানযুল উম্মাল-শায়খ আলী মুত্তাকী

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!