সকাল সন্ধ্যার দুআ ১ম ভাগ
আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল (amalul yawm wal lail) ইবনুস সুন্নী রহ. (Ibnus sunni)

সকাল সন্ধ্যার দুআ – ইবনুস সুন্নী (রহ.) প্রণীত আমালালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল কিতাবটি দৈনন্দিন আমল ও দুআর একটি নির্ভরযোগ্য সংগ্রহ।
এই গ্রন্থে বর্ণিত সকাল ও সন্ধ্যার দুআ একজন মুমিনের দিন–রাতের ইবাদতকে সুসংগঠিত ও অর্থবহ করে তোলে।
“ইবনুস সুন্নী আমালালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল থেকে সকাল সন্ধ্যার দুআ – প্রথম অংশ” শিরোনামে উপস্থাপিত এই অংশে দিনের শুরু ও শেষ মুহূর্তে পাঠযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ দুআসমূহ সংকলিত হয়েছে।
যেখানে আল্লাহর একত্বের স্বীকৃতি, তাঁর নিকট নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা এবং ঈমান নবায়নের দিকগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এই দুআগুলো নিয়মিত আমল করলে অন্তরে খুশু‘ বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল দৃঢ় হয় এবং সকাল–সন্ধ্যার সময়গুলো বরকতময় হয়ে ওঠে।
بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا أَصْبَحَ
সকাল ও সন্ধ্যায় কি দুআ পাঠ করবে?
সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা করা
হাদীস ৩৪. হযরত আব্দুর রহমান বিন আবযা (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ভোরে এই দুআ পাঠ করতেন-
أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ، وَكَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ، وَدِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
আমরা ইসলাম, কালিমায়ে ইখলাস, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা) এর দীন এবং আমাদের পিতামহ ইবরাহীম (আ) এর মিল্লতের উপর প্রভাত করলাম- যিনি একত্ববাদী ও মুসলমান ছিলেন এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
ফায়দা এই দুআ মুমিনকে প্রতিদিন সকালে তার পরিচয়—“আমি এক আল্লাহর বান্দা, ইসলামের অনুসারী”—এই চেতনায় নতুনভাবে জাগিয়ে তোলে।
আল্লাহর দয়ায় প্রভাত
হাদীস ৩৫.হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, ভোরে তুমি এই দুআ পাঠ কর-
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ، وَإِلَيْكَ النُّشُورُ
হে আল্লাহ! আমরা আপনার দয়ায় প্রভাত করলাম এবং আপনার দয়ায় সন্ধ্যা করলাম। আপনার দয়ায় জীবিত আছি এবং আপনার নির্দেশেই মৃত্যুবরণ করব আর আপনার দিকেই ফিরে যাব।
ফায়দা এই দুআ মুমিনকে প্রতিদিন সকালে স্মরণ করিয়ে দেয়— আমার জীবন, মৃত্যু এবং ফিরে যাওয়া সবই আল্লাহর হাতে।
আশ্রয় চাওয়া
হাদীস ৩৬. হযরতআব্দুল্লাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সন্ধ্যার সময় এই দুআ পড়তেন
أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَسُوءِ الْكِبَرِ، وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَعَذَابِ الْقَبْرِ، وَعَذَابِ النَّارِ»
আমরা এবং সমস্ত রাজত্ব আল্লাহর জন্য প্রভাত করলাম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই।
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কাপুরুষতা, কৃপণতা, বার্ধক্যের অনিষ্ট, দুনিয়ার ফিতনা, কবরের আযাব এবং জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
তিনি ভোরেও অনুরুপ দুআ পড়তেন। অপর রিওয়ায়াতে আছে তিনি সন্ধ্যায় এই দুআ পড়তেন।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِير
ফায়দা এই দুআ মুমিনকে শেখায়— আল্লাহই সর্বময় মালিক। মানুষ দুর্বল, তাই সবসময় আল্লাহর আশ্রয় দরকার। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা দুনিয়া নয়, আখিরাতের নাজাত
সংক্ষেপে: এটি তাওহিদ, আত্মশুদ্ধি এবং আখিরাতের নিরাপত্তার পূর্ণ দুআ।
আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ
হাদীস ৩৭. হযরত বারা ইবনে আজীব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ভোরে ও সন্ধ্যায় এই দুআ পাঠ করতেন,
أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ،
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذَا الْيَوْمِ، وَخَيْرِ مَا بَعْدَهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذَا الْيَوْمِ، وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ،
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ، وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ
আমরা এবং সমস্ত রাজত্ব আল্লাহর জন্য প্রভাত করলাম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই।
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এই দিনের কল্যাণ এবং এর পরে যে কল্যাণ আছে তা প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার নিকট এই দিনের অখল্যাণ এবং এর পরে যে অকল্যাণ আছে তা থেকে আশ্রয় প্রার্থখনা করছি।
হে আল্লাহ আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা, বার্ধক্যের অনিষ্ট থেকে। আমি আপনার আশ্রয় চাই জাহান্নামের আযাব থেকে। আমি আপনার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে।
ফায়দা এই দুআটি মূলত একজন মুমিনের নতুন দিন শুরু করার সময় আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও নিরাপত্তার আবেদন।
সমস্ত রাজত্ব
হাদীস ৩৮. হযরত ইবনে আবী আউফা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ভোরে এই দুআ পাঠ করতেন-
أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَالْكِبْرِيَاءُ وَالْعَظَمَةُ لِلَّهِ، وَالْخَلْقُ وَالْأَمْرُ، وَاللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَمَا سَكَنَ فِيهِمَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ،
اللَّهُمَّ اجْعَلْ أَوَّلَ هَذَا النَّهَارِ صَلَاحًا، وَأَوْسَطَهُ نَجَاحًا، وَآخِرَهُ فَلَاحًا، يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
আমরা এবং সমস্ত রাজত্ব আল্লাহর জন্য প্রভাত করলাম। সমস্ত প্রশংসা, বড়ত্ব ও মহত্ব মহান আল্লাহ তাআলার জন্য।
সমস্ত মাখলুক, সমস্ত বিষয়াবলী, দিন রাত আর যা কিছু তার মধ্যে আছে সবকিছু্ই আল্লাহর রাজত্বের মধ্যে রয়েছে।
হে আল্লাহ! আপনি আজকের দিনের প্রথম অংশকে আমার জন্য যথাযথ, মধ্য অংশকে আমার জন্য ধৈয ও কল্যান এবং শেষ অংশকে আমার জন্য সফলতা বানিয়ে দিন। হে দয়ালু দয়াময়।
ফায়দা এই দুআটি একজন মুমিনের পুরো দিনের সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও সফল সমাপ্তির প্রার্থনা।
সংক্ষেপে: এই দুআ মুমিনকে শেখায় যে দিনের প্রতিটি অংশ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে, এবং প্রতিটি অংশেই তাঁর রহমতের প্রয়োজন।
আকস্মিক কল্যাণ প্রার্থনা ও আকস্মিক অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাওয়া
হাদীস ৩৯.হযরত আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সকাল সন্ধ্যায় এই দুআ পাঠ করতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَجْأَةِ الْخَيْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فَجْأَةِ الشَّرِّ،
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপ্রত্যাশিত কল্যাণ প্রার্থনা করি আর অপনার নিকট অপ্রত্যাশিত অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।
কেননা কোন বান্দা জানে না যে, সকাল-সন্ধ্যায় হঠাৎ তার উপর দিয়ে (ভাল-মন্দ) কি বয়ে যাবে।
ফায়দা এই দুআটি মূলত অজানা ভবিষ্যৎ থেকে নিরাপত্তা এবং হঠাৎ আসা কল্যাণকে স্বাগত জানানোর প্রার্থনা।
সংক্ষেপে: এই দুআ মুমিনকে শেখায় যে জীবন অনিশ্চিত, আর সেই অনিশ্চয়তার একমাত্র নিরাপত্তা আল্লাহর আশ্রয়।
দীন দুনিয়ার নিরাপত্তা
হাদীস ৪০. জুবায়র ইনে মুতয়িম (রহ) বলেন, আমরা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) এর মজলিসে বসা ছিলাম।
তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে ভোরে ও সন্ধ্যায় এই দুআ পাঠ করতে শুনেছি,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي،
اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي،
اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيِّ وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তার প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ আমি আপনার নিকট আমার দীন দুনিয়া, পরিবার পরিজনের ব্যাপারে ক্ষমা ও নিরাপত্ত প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সেসব বিষয় গোপন রাখুন যা প্রকাশ পেলে আমাদেরকে লজ্জা পেতে হবে।
হে আল্লাহ আপনি আমাকে হিফাযত করুন আমার সামনে আমার পিছন থেকে, আমার ডান কি হতে আমার বাম দিক হতে, আমার উপর থেকে।
আর আমি আপনার মযাদার আম্রয় প্রার্থনা করছি নিচের দিকে ধ্বসে যাওয়া হতে।
হযরত জুবায়র (রহ) বলেন, নিচে ধ্বসে যাওয়ার অর্থ ভুমিধ্বস। উবাদাহ (রহ) বলেন, আমি জানি না এটা কি জুবায়র (রহ) এর উক্তি নাকি নবী (সা) এর উক্তি।
ফায়দা এটি একটি অত্যন্ত ব্যাপক ও নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক দুআ, যা ভোর ও সন্ধ্যায় পড়ার জন্য বর্ণিত হয়েছে। এর মূল শিক্ষা হলো—আল্লাহর কাছে দীন, দুনিয়া, পরিবার ও শরীর-মন সব দিক থেকে পূর্ণ নিরাপত্তা ও কল্যাণ চাওয়া।
দিবারাতের শোকর আদায় করা
হাদীস ৪১.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন,
যে ব্যক্তি ভোরে এই দুআ পাঠ করল, সে ঐ দিনের শোকর আদায় করল
اللَّهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ، فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ، فَقَدْ أَدَّى شُكْرَ ذَلِكَ الْيَوْمِ
হে আল্লাহ আজ সকালে যে নিআমত আমার অথবা আপনার কোন মাখলুকের লাভ হয়েছে তা আপনার পক্ষ থেকেই এসেছে।
আপনি একক আপনার কোন শরীক নেই। অতএব সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য এবং আপনার জন্যই কৃতজ্ঞতা।
ফায়দা এই দুআটি মুমিনকে শেখায়—জীবনের প্রতিটি নিয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাই সকালেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে পুরো দিন শোকরের বরকত পাওয়া যায়।
যে দুআ পাঠ করলে জান্নাত
হাদীস ৪২. হযরত বুরায়দাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যায় এই দুআ পড়বে-
رَبِّيَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، مَا شَاءَ اللَّهُ كَانَ، وَمَا لَمْ يَشَأْ لَمْ يَكُنْ، أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا
আমার প্রতিপালক তিনি যিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, যিনি সমুচ্চ সুমহান।
আমি নির্ভর করছি আল্লাহর উপর যিনি মহান আরশের প্রতিপালক। আল্লাহ তাআলা যা চান তা-ই হয়, আর তিনি যা চান না তা হয় না।
আমি জেনে নিয়েছি যে আল্লাহ তাআলা সবকিছুর উপর ক্ষমতবান এবং সবকিছু্ উপর তার জ্ঞান পরিব্যপ্ত।
অতঃপর যদি সে মারা যায় তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
ফায়দা এটি অত্যন্ত শক্তিশালী তাওহীদ ও তাওয়াক্কুলের দুআ—যা সকাল-সন্ধ্যায় পড়লে ঈমান মজবুত হয় এবং বড় ফযীলত লাভ হয়।
আরেকটি দুআ
হাদীস ৪৩. হযরত বুরায়দাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকালে এই দুআ পড়বে,
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি আপনার বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সাথে কৃত অঙ্গিকারের উপর অটল আছি।
আমি যা করেছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমি আপনার নিআমতের স্বীকৃতি প্রদান করি এবং আমার গুনাহর কথাও স্বীকার করি। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা আপনি ব্যতীত গুনাহ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই।
অতঃপর যদি সে সেদিন মারা যায়, তবে শাহাদাত লাভ করবে। আর যদি রাতে মারা যায় তবে শাহাদাত লাভ করবে।
এই দুআটি ইস্তিগফারের সেরা দুআ—
তাওহীদ
আনুগত্য
গুনাহ স্বীকার
ক্ষমা প্রার্থনা
—সবকিছু একসাথে রয়েছে।
হঠাৎ বিপদ থেকে নিরাপত্তা
হাদীস ৪৪. হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি এই দুআ পাঠ করবে-
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে যুক্ত থাকলে আসমান ও যমীনের কোন কিছু ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সব কিছু শুনেন ও জানেন।
যদি সে এই কালিমা সন্ধ্যয় পাঠ করে তবে সকাল পর্যন্ত তার কোন আকস্মিক বিপদ হবে না। আর যদি সকালে পড়ে তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কোন আকস্মিক বিপদ হবে না।
ফায়দা এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিফাজত ও নিরাপত্তার দুআ, যা সকাল-সন্ধ্যার অজস্র বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পড়া
আবু বকর (রা)- কে শিখানো দুআ
হাদীস ৪৫. হযরত আবু বকর (রা) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু কালিমা বলে দিন, যা আমি সকাল সন্ধ্যায় পাঠ করব। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, পাঠ কর-
اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَشِرْكِهِ
হে আল্লাহ! আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ের জ্ঞানী, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই।
আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার নফসের অনিষ্ট এবং বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট হতে।
নবী (সা) বললেন, তুমি এই কালিমাগুলো সকাল সন্ধ্যা এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় পড়বে।
ফায়দা নবী ﷺ নির্দেশ দিয়েছেন— এই দুআ সকাল সন্ধ্যা এবং ঘুমানোর আগে পড়লে বান্দা শয়তানের অনিষ্ট ও নফসের খারাপ প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকে।
সকাল সন্ধ্যার হিফাজত
হাদীস ৪৬. রাসূলুল্লাহ (সা) এর একজন কন্যা বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সা) তাকে নিম্নের দুআটি শিখিয়েছিনে। নবী (সা) বলেছেন, তুমি সকাল সন্ধ্যায় এই দুআ পাঠ কর-
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، مَا شَاءَ اللَّهُ كَانَ، وَمَا لَمْ يَشَأْ لَمْ يَكُنْ، أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا
আল্লাহ তাআলা পবিত্র আর আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা। গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং নেক কাজ করার তাওফীক একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই।
আল্লাহ যা চান তাই হয়, আর আল্লাহ যা চান না তা হয় না।
আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তাআলা সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং তার জ্ঞান সবকিছুকে বেষ্টন করে আছে।
যে ব্যক্তি ভোরে এই দুআ পাঠ করে তাকে সন্ধ্য পর্যন্ত হিফাযত করা হয়। আর যে সন্ধ্যায় এই দুআ পাঠ করে তাকে ভোর পর্যন্ত হিফাযত করা হয়।
ফায়দা এটি একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী তাসবীহ, তাওয়াক্কুল ও ঈমান দৃঢ় করার দুআ—যা সকাল-সন্ধ্যায় পড়লে আল্লাহর বিশেষ হিফাজত লাভ হয়।
নবী (সা) যায়দ (রা) এর ঘরের লোকদেরকে যে দুআ পাঠ করার তাকীদ করেছেন
হাদীস ৪৭. হযরত যায়দ বিন সাবিত (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) তাকে এই দুআ শিখিয়েছেন এবং এই নির্দেশ দিয়েছেন যে ঘরের লোকদেরকে প্রতিদিন এই দুআ পড়ার তাকীদ কর-
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ، وَمِنْكَ وَإِلَيْكَ، مَا قُلْتُ مِنْ قَوْلٍ، أَوْ نَذَرْتُ مِنْ نَذَرٍ، أَوْ حَلَفْتُ مِنْ حَلِفٍ، فَمَشِيئَتُكَ بَيْنَ يَدَيْهِ، مَا شِئْتَ مِنْهُ كَانَ، وَمَا لَمْ تَشَأْ لَمْ يَكُنْ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِكَ، إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ،
اللَّهُمَّ وَمَا صَلَّيْتُ مِنْ صَلَاةٍ فَعَلَى مَنْ صَلَّيْتَ، وَمَا لَعَنْتُ مِنْ لَعْنٍ فَعَلَى مَنْ لَعَنْتَ، أَنْتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
আমি উপস্থিত হে আল্লাহ আমি উপস্থিত। অঅমি উপস্থিত এবং আপনার আনুগত্যের জন্য প্রস্তত। সব কল্যাণ আপনারই হাতে এবং আপনার পক্ষ থেকেই আর তার সম্পর্ক আপনার দিকেই।
আমি যে কথাই বলেছি, যে মানতই করেছি, আর যে কসমই করেছি, আপনার ইচ্ছা তার আগে। আপনি যা চেয়েছেন তা হয়েছে। আর অপনি যা চাননি তা হয়নি। আপনি ব্যতীত না কোন শক্তি আছে আর না ক্ষমতা। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
হে আল্লাহ! আমি যে রহমতের দুআই করেছি তা এর উপর, যার উপর আপনি রহমত করছেন। আর আমি যে লানতই করেছি তা এর উপর যে, যার উপর আপনি লনত করেছেন।
আপনিই দুনিয়া ও আখিরাতে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং নেককারদের সাথে মিলিত করুন।
ফায়দা এটি একটি গভীর অর্থবহ আত্মসমর্পণ, তাওয়াক্কুল ও দোয়া-আদব শেখানোর দুআ—যা পরিবারকেও নিয়মিত পড়াতে বলা হয়েছে।
এই দুআটি একজন মুমিনকে শেখায়—
আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ
তাকদীরের উপর দৃঢ় বিশ্বাস
দোয়া ও কথার আদব
সুন্দর মৃত্যুর প্রস্তুতি।
ফাতিমা (রা)-কে শিখানো দুআ
হাদীস ৪৮. হযরত আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) হযরত ফাতিমা (রা)-কে বলেন, আমার উপদেশ শুনতে কোন বিষয়টি বাঁধা প্রদান করে? তুমি সকাল সন্ধ্যায় এই দুআ পাঠ কর-
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ
হে চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের দ্বারে ফরিয়াদ করছি।
অপর বর্ণনায় আরেকটু বৃদ্ধি আছে
وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ أَبَدًا
আমার সব অবস্থা ঠিক করে দিন। আর কখনো এক মুহুর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিবেন না।
ফায়দা এই ছোট দুআটির মধ্যে রয়েছে—
আল্লাহর উপর পূর্ণ নির্ভরতা
নিজের দুর্বলতার স্বীকারোক্তি
সব বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য কামনা।
এটি নিয়মিত পড়লে হৃদয়ে তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর সাথে সম্পর্ক অনেক মজবুত হয়।
বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপত্তা
হাদীস ৪৯. হযরত আনাস (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে রিওয়ায়াত করেন। তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকালে এই দুআ পাঠ করবে-
أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، أُجِيرَ مِنَ الشَّيْطَانِ حَتَّى يُمْسِيَ
আমি আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যিনি সব শুনেন এ্ববং জানেন।
তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে।
ফায়দা এই ছোট দুআটি মুমিনকে শেখায়—
শয়তানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো আল্লাহর আশ্রয়
আল্লাহই একমাত্র প্রকৃত রক্ষাকারী
আল্লাহর আযাবের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া
হাদীস ৫০. হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন রাসুলুল্লাহ (সা) সকালে এই দুআ পড়তেন-
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ حَيَاتُنَا وَمَوْتُنَا، وَإِلَيْكَ النُّشُورُ، أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ السَّامَّةِ وْالْهَامَّةِ، وَأَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ عِقَابِهِ، وَشَرِّ عِبَادِهِ»
হে আল্লাহ! আমি আপনার সাহায্যে সকাল করেছি, অপনার সাহায্যে সন্ধ্যা করেছি। আমাদের জীবন আপনারই করায়ত্বে এবং আমাদেরকে আপনার দিকেই ফিরে যেতে হবে।
আমি আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ কালিমা দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিষাক্ত ও ক্ষতিকর প্রাণীর অনিষ্ট থেকে। আমি আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আল্লাহার আযাবের অনিষ্ট এবং তার বান্দাদের অনিষ্ট থেকে।
এবং যখন সন্ধ্যা হত তখনও এই দুআ পড়তেন তবে وَإِلَيْكَ النُّشُورُ এর স্থলে وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ পড়তেন।
ফায়দা এই দুআটি একসাথে শেখায়—
আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা
আখিরাতের প্রস্তুতি
দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব বিপদ থেকে হিফাজত
নিয়মিত পড়লে দিন-রাত আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তা ও বরকত পাওয়া যায়।
পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা
হাদীস ৫১.হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট অভিযোগ করল যে, সে বিপগ্রস্ত।
নবী (সা) তাকে বললেন, তুমি ভোরে এই দুআ পাঠ কর,
بِسْمِ اللَّهِ عَلَى نَفْسِي وَأَهْلِي وَمَالِي
আমি আল্লাহর নাম নিচ্ছি আমার নিজের উপর, আমার পরিবার ও মাল-সম্পদের উপর।
এটা তোমার জন্য কোন কিছু (কোন বিপদ না হটিয়ে) ছাড়বে না।
ঐ ব্যক্তি এই দুআ পাঠ করা শুরু করল আর তার বিপদ কেটে গেল।
ফায়দা এটি একটি খুব সহজ কিন্তু কার্যকর হিফাজতের দুআ, যা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও আর্থিক নিরাপত্তার জন্য পড়া হয়।
নবী (সা) এর দুআ
হাদীস ৫২. হযরত আয়িশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ভোরে এই দুআ পড়তেন-
أَصْبَحْتُ يَا رَبِّ أُشْهِدُكَ، وَأُشْهِدُ مَلَائِكَتَكَ، وَأَنْبِيَاءَكَ وَرُسُلَكَ، وَجَمِيعَ خَلْقِكَ عَلَى شَهَادَتِي عَلَى نَفْسِي أَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ، وَأُؤْمِنُ بِكَ، وَأَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ
ইয়া রব! আমি ভোর করেছি। আমি সাক্ষী বানাচ্ছি আপনাকে, আপনার ফেশেতাদেরকে, আপনার নবীদেরকে, আপনার রাসূলদেরকে, আর আপনার সমস্ত মাখলুককে।
আমি আমার নিজের উপর সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। আপনি একক আপনার কোন শরীক নেই।
আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা) আপনার বান্দা এবং রাসূল। আর এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আপনার প্রতি ইমান এনেছি এবং আপনার প্রতি ভরসা করেছি।
তিনি এটা তিনবার পড়তেন।
ফায়দা এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঈমান নবায়ন ও তাওহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার দুআ, যা নবী ﷺ ভোরে পড়তেন।
দিবারাতের সব কল্যাণ
হাদীস ৫৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকালে এই দুআ পড়বে-
مَا شَاءَ اللَّهُ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، أَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ،
আল্লাহ যা চান তা-ই হয়। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআরা সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
তাহলে তাকে ঐ দিনের সব কল্যাণ দান করা হবে, আর তার থেকে ঐ দিনের সকল অকল্যাণ দূর করে দেয়া হবে। আর যে এটা রাতে পড়বে, তাকে ঐ রাতের সব কল্যাণ দান করা হবে। আর তার থেকে ঐ রাতের সকল অকল্যাণ দূর করে দেয়া হবে।
ফায়দা একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী তাওহীদ, তাওয়াক্কুল ও তাকদীরের দুআ, যা সকাল-সন্ধ্যায় পড়লে বিশেষ কল্যাণ পাওয়া যায়।
উপকারী ইলম ও পবিত্র রিযিক
হাদীস ৫৪. হযরত উম্মু সালামা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ভোরে এই দুআ পড়তেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا
হে আল্লাহ! অমি আপনার নিকট চাই উপকারী ইলম, পবিত্র রিযিক এবং কবুল হওয়ার মত আমল।
ফায়দা এটি একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সকালবেলার বরকতপূর্ণ দুআ, যা ইলম, রিজিক ও আমলের জন্য সর্বোত্তম চাওয়া শেখায়।
🔸🔸🔸
আরও পড়ুন যবানের হিফাযত ও নীরবতার মাহাত্ম (১ম অংশ), সুমতু ওয়া আদাবুল লিসান, ইমাম ইবনে আবিদ দুনইয়া রহ.
