প্রবন্ধ

শুআবুল ইমান আল্লাহর প্রতি আশা ও বাসনা

Shuabul iman, Imam baihaqi rh.

শুআবুল ইমান আল্লাহর প্রতি আশা ও বাসনা – ইমাম বায়হাকী (রহ.) রচিত শুআবুল ঈমান ইসলামি আকীদা ও আখলাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যেখানে ঈমানের শাখা-প্রশাখাগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

ঈমান শুধু বিশ্বাসের নাম নয়, বরং এটি অন্তর, জিহ্বা ও কর্মের সমন্বিত একটি পূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এই গ্রন্থে ঈমানের মোট ৭৭টি বা ৭০টিরও বেশি শাখা তুলে ধরা হয়েছে, যার প্রতিটি শাখা মুমিনের জীবনকে পরিশুদ্ধ ও সুন্দর করার দিকনির্দেশনা দেয়।

এর মধ্যে ১৩তম শাখা হলো “রাজা মিনাল্লাহ”, অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার রহমত ও অনুগ্রহের প্রতি দৃঢ় আশা রাখা। মুমিনের জীবনে ভয় (খাওফ) ও আশা (রাজা) উভয়েরই সমন্বয় থাকা জরুরি।

শুধু ভয় থাকলে মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে, আর শুধু আশা থাকলে গুনাহে নির্ভীক হয়ে যায়। তাই ঈমানের পূর্ণতা আসে এই দুই অবস্থার ভারসাম্যে।

“রাজা” মুমিনকে আল্লাহর প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে, ইবাদতে উৎসাহিত করে এবং গুনাহ থেকে দূরে রাখে।

একই সঙ্গে এটি বান্দাকে আল্লাহর অসীম রহমতের প্রতি আশাবাদী করে তোলে। এই শাখাটি মুসলিম জীবনে আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও ইতিবাচক চিন্তার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে।

ইমাম বায়হাকী (রহ) রচিত শুআবুল ইমান এর ১৩ তম শাখা থেকে সংকলিত ও অনূদিত
দারুস সাআদাত অনুবাদ ও প্রকাশনা

Table of Contents

আর রাজা মিনাল্লাহি

আল্লাহ তাআলার বাণী

وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ
আর আল্লাহকে ভয়-ভীতি ও আশা সহকারে ডাক। নিঃসন্দেহে আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের অতি সন্নিকটে।- সূরা আল আ’রাফ: ৫৬

وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَشِعِينَ
তারা (নবী ও রাসূলরা) আমাকে ডাকত আশা ও ভীতির সাথে এবং তারা ছিল আমার নিকট বিনীত।-সূরা আল আম্বিয়া: ৯০

মানুষ যদি জানত

হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যদি মুমিন ব্যক্তি জানত, আল্লাহর কাছে কত শাস্তি রয়েছে, তবে কেউ তার বেহেশতের আশা করত না।

আর কাফির ব্যক্তি যদি জানত আল্লাহর কাছে কত রহমত রয়েছে, তবে তার বেহেশত থেকে কেউ নিরাশ হত না।

ফায়দা

এই হাদিস মানুষকে হতাশা ও গাফেলতি- উভয় থেকেই বাঁচার শিক্ষা দেয়।

যার অন্তরে দুটি বিষয় একত্রিত হয়

হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। একদা নবী (সা) জনৈক যুবকের কাছে উপস্থিত হন, তখন সে মরণাপন্ন ছিল। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার অবস্থা কি?

সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সা)! আমি আল্লাহর নিকট মাগফিরাতের আশা করছি এবং আমার গুনাহর জন্য আশংকা করছি।

তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, এই দুইটি জিনিস (আশা ও ভয়) যে বান্দার অন্তরে একত্রিত হয়, সে যা চাইবে আল্লাহ তাকে তাই দিবেন এবং যাকে সে ভয় করে তা থেকে তাকে নিরাপত্তা দান করবেন।

ফায়দা

মুমিনের অন্তরে আল্লাহর রহমতের আশা ও গুনাহের ভয়—উভয়ই থাকা উচিত। এ দুটি গুণ মানুষকে নেক আমলে উৎসাহিত করে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা লাভের আশা জাগায়।

ইয়াযিদ ইবনে আসওয়াদ জারশীর মৃত্যুর সময়ের অবস্থা

হযরত উতবাহ ইবনে আবী হাকীম বর্ণনা করেন। হযরত ওয়াসিলা ইবনে আসকা (রা) হযরত ইয়াযিদ ইবনে আসওয়াদ জারশীর অসুস্থতায় সেবাযত্ন করছিলেন। যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি নিজেকে কি অবস্থায় পাচ্ছ?

তিনি বললেন, আমি নিজেকে আশা ও ভয়ের মাঝে দেখতে পাচ্ছি। হযরত ওয়াসিলা (রা) জিজ্ঞাসা করলেন, কোনটি বেশি? তিনি বললেন, আশা বেশি অর্থাৎ প্রবল।

হযরত ওয়াসিলা (রা) বললেন, আল্লাহু আকবার! আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেছেন—

أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي
আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটবর্তী, যেমন সে ধারণা করে।

ফায়দা

মুমিনের উচিত সবসময় আল্লাহ তাআলার প্রতি উত্তম ধারণা রাখা এবং তাঁর রহমতের আশা করা। বিশেষ করে মৃত্যুর সময় আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ার আশা বেশি রাখা সুন্নত ও কল্যাণের কারণ।

মৃত্যুর সময় মৃত্যুপথযাত্রীকে নেককাজ স্মরণ করানো মুস্তাহাব

হযরত ইব্রাহীম বলেন- আলিমগণ মুস্তাহাব মনে করেন যে, বান্দার মৃত্যুর সময় তাকে তার ভাল আমলের কথা স্মরণ করানো, যেন তার প্রতিপালকের প্রতি তার সুধারণা সৃষ্টি হয়।

হযরত মু’তামার বিন সুলায়মান বলেন- আমার পিতা মৃত্যুর সময় বলেন, হে মু’তামার! আমাকে রুখসাতের হাদীসসমূহ বয়ান কর, অথবা রুখসাতের কথা বল, যাতে যখন আমি আল্লাহর সাথে মিলিত হব, তখন তার প্রতি ভাল ধারণা নিয়ে মিলিত হতে পারি।

আশা কখন উত্তম?

হযরত সাঈদ ইবনে ওসমান বলেন- আমি সিররী বিন মুগলিস থেকে শুনেছি, উনি বলেছেন – ভয় আশা থেকে ঐ সময় উত্তম, যখন পর্যন্ত মানুষ সুস্থ-সবল থাকে। আর যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় তখন আশা ভয় থেকে উত্তম।

এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, হে আবুল হুসাইন! তা কিভাবে? তিনি বললেন, এজন্য যে, যখন সে সুস্থ-সবল থাকবে, তখন ভয়ের কারণে নেক কাজ করবে। যখন নেক কাজ করবে, তখন মৃত্যুর সময় অনায়াসেই আশা প্রবল হয়ে যাবে।

আর যখন সুস্থাবস্থায় গুনাহ করবে, তখন মৃত্যুর সময় তার ধারণাও খারাপ থাকবে আর আশাও বেশী হবে না।

মৃত্যুর সময় আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা

হযরত জাবির (রা) বলেন- আমি হযরত রাসূলুল্লাহ (সা)-কে মৃত্যুর তিন দিন পূর্বে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন-

لا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلاَّ وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّهِ
তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ না করে মৃত্যুবরণ না করে।

ফায়দা

মৃত্যুর সময় আল্লাহ তাআলার প্রতি উত্তম ধারণা ও তাঁর রহমতের আশা রাখা অত্যন্ত জরুরি। এটি মুমিনের ঈমানকে দৃঢ় করে এবং আল্লাহর ক্ষমা লাভের আশা জাগায়।

সর্বোত্তম আশা

ইমাম বায়হাকী (রহ) বলেন—সর্বোত্তম আশা হলো যা নফসের মুজাহাদা দ্বারা এবং নফসানী খাহিশাত থেকে পৃথক হয়ে যা সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

اِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَ الَّذِيْنَ هَاجَرُوْا وَ جٰهَدُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ ۙ اُولٰٓئِكَ يَرْجُوْنَ رَحْمَتَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে হিজরত করেছে ও আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারাই আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়।- সূরা বাকারা ২১৮

সুধারণার ফযীলত: আল্লাহ তায়ালা বান্দার ধারণা অনুযায়ী আচরণ করেন

হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন—

يا أيها الناس أحسنوا الظن برب العالمين فإن الرب عند ظن عبده
হে লোক সকল! জগতের প্রতিপালকের প্রতি সুধারণা পোষণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার ধারণার সাথে আছেন।

ফায়দা

আল্লাহ তাআলার প্রতি সুধারণা রাখা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। বান্দা যেমন ধারণা রাখে, আল্লাহ তাআলা তার সাথে তেমন আচরণ করেন। তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহর রহমত ও দয়ার আশা রাখা উচিত।

আল্লাহ বান্দার ধারণা অনুযায়ী হন

হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (সা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তায়ালা বলেন—

أنا عند ظن عبدي بي و أنا معه حين يذكرني
আমার প্রতি আমার বান্দার ধারণা মুতাবিক আমি ব্যবহার করি এবং আমি তার সাথেই থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে।

ফায়দা

আল্লাহ তাআলার প্রতি বান্দার যেমন ধারণা থাকে, তিনি তেমন আচরণ করেন। তাই সবসময় আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখা এবং বেশি বেশি তাঁকে স্মরণ করা মুমিনের জন্য কল্যাণের কারণ।

ইবনে মাসউদ (রা) এর উক্তি

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন— কসম সেই সত্তার যিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। মুমিন বান্দাকে ঈমানের পর আল্লাহর প্রতি সুধারণার চাইতে উত্তম কিছু দেওয়া হয়নি।

আল্লাহর কসম! যিনি ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই। বান্দা যখন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করে, তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে সে সব কিছুই দান করেন, যা সে ধারণা করেছে। এটা এজন্য যে, সকল কল্যাণ তার হাতে।

এক ব্যক্তির ঘটনা

হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন- আল্লাহ তাআলা এক বান্দাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার হুকুম দিলেন। অতঃপর যখন লোকটি জাহান্নামের কিনারায় দণ্ডায়মান হলো, তখন সে ফিরে তাকিয়ে বলল,

হে আমার প্রতিপালক! আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তোমার প্রতি আমার ধারণা ভাল ছিল। তখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, তাকে ফিরিয়ে আন। আমার প্রতি আমার বান্দার ধারণা মোতাবেক আমি আচরণ করে থাকি।

ফায়দা

আল্লাহ তাআলার প্রতি উত্তম ধারণা বান্দার মুক্তির কারণ হতে পারে। তাই মুমিনের উচিত কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া এবং সর্বদা তাঁর প্রতি ভালো আশা রাখা।

সুধারণা পোষণ করা ইবাদত

হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (সা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন—

حسن الظن من حسن العبادة
সুধারণা উৎকৃষ্ট ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।

ফায়দা

আল্লাহ তাআলার প্রতি সুধারণা রাখা নিজেই একটি উত্তম ইবাদত। এটি বান্দার ঈমান, আশা ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে।

আমল ব্যতীত আশা করা

হযরত আহমদ বিন আবীল হাওয়ারী বর্ণনা করেন। তিনি বলেন আমি হযরত আবু সুলায়মান আদ-দারানী কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন—

إذا غلب الرجاء على الخوف فسد القلب
যখন ভয়ের উপর আশা প্রবল হয় তখন দিল খারাপ হয়ে যায়।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিদ দুনইয়া বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এক বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি বলেছে, আর সে বিভিন্ন ধরনের কথা বলত। সে বলেছে, আমল ব্যতীত আশা করা, যেন আল্লাহর প্রতি সাহসিকতা প্রদর্শন করা।

ফায়দা

শুধু আশার উপর ভরসা করলে মানুষ গুনাহে নির্ভীক হয়ে যায়। তাই মুমিনের উচিত আশা ও ভয়- উভয়টিই হৃদয়ে জীবিত রাখা।

আল্লাহর রহমতের ব্যাপকতা

হযরত আবু হুরায়রা (রা) রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন—

سبقت رحمتي غضبي
আমার রহমত আমার ক্রোধকে অতিক্রম করেছে।

ফায়দা

আল্লাহ তাআলার রহমত অত্যন্ত ব্যাপক ও সীমাহীন। তাই বান্দার উচিত গুনাহের পরও তাঁর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।

একশত রহমত

হযরত সালমান (রা) থেকে বর্ণিত। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা একশটি রহমত সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে একটি রহমত দ্বারা তিনি সকল সৃষ্টিজীবকে রহম করেন। আর বাকী ৯৯টি রহমত কিয়ামতের দিনের জন্য রেখে দিয়েছেন।

আল্লাহর মাগফিরাত

হযরত আবু যার (রা) সূত্রে নবী (সা) থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তাআলা বলেন- হে আমার বান্দা তুমি আমার ইবাদত করেছ এবং আমার প্রতি আশা রেখেছ, আমি তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দিব, যত গুনাহ তোমার মধ্যে আছে।

যদি তুমি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ করেও আমার কাছে আস এবং শিরক না কর, তবে আমি পৃথিবী ভর্তি মাগফিরাত নিয়ে তোমার কাছে আসব।

হযরত লোকমান (আ) এর নসীহত

হযরত আউন ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত লোকমান (আ) তার ছেলেকে বলেছেন-

বৎস! আল্লাহ তাআলার প্রতি আশা কায়েম রাখ, কিন্তু এমন আশা নয় যা তোমাকে আল্লাহর সূক্ষ্ম কৌশল (পাকড়াও) থেকে নির্ভিক করে দেয়।

আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক তবে এমন ভয় নয়, যা তোমাকে তার রহমত থেকে নিরাশ করে দেয়।

তার ছেলে জিজ্ঞাসা করল, আব্বাজান! আমি কিভাবে তা করতে পারি, যেহেতু আমার একটাই অন্তর?

হযরত লোকমান (আ) বললেন, মুমিনের এমনই হওয়া উচিত, যেন তার দুটি অন্তর। একটি মন দিয়ে সে আল্লাহর প্রতি আশা পোষণ করে। আর অপরটি দিয়ে সে আল্লাহকে ভয় করতে থাকে।

আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কবীরা গুনাহ

হযরত ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, কবীরা গুনাহ হলো, আল্লাহর সাথে শরীক করা, আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিশ্চিন্ত হওয়া, আল্লাহর রহমত থেকে আশাহীন হওয়া এবং আল্লাহর করুণা থেকে নিরাশ হওয়া।

ফায়দা

আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া ও তাঁর শাস্তি থেকে নিশ্চিন্ত থাকা—উভয়ই বড় গুনাহ। তাই মুমিনের উচিত আশা ও ভয়—দুটির মাঝামাঝি অবস্থায় থাকা।

মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করার পরিণতি

হযরত যায়দ বিন আসলাম (রা) বর্ণনা করেন। পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল, যে ইবাদত বন্দেগীতে খুব চেষ্টা সাধনা ও মুজাহাদা করত এবং নিজের উপর কঠোরতা করত আর মানুষকে (আল্লাহর আযাবের ভয় দেখিয়ে) আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করত। এরপর সেই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল।

মৃত্যুর পর লোকটি আল্লাহর নিকট আরয করল, হে আমার প্রতিপালক! আপনার নিকট আমার জন্য কি (প্রতিদান) রয়েছে? আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করলেন, আমার নিকট তোমার জন্য জাহান্নাম ব্যতীত কিছুই নেই।

লোকটি বলল, তাহলে আমার ইবাদত বন্দেগী চেষ্টা সাধনা কোথায় গেল? তখন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করলেন, তুমি দুনিয়াতে মানুষকে আমার রহমত থেকে নিরাশ করতে, আজ আমি তোমাকে আমার রহমত থেকে নিরাশ করে দিলাম।

এ প্রসঙ্গে ইমাম বায়হাকী (রহ) এর উক্তি

ইমাম বায়হাকী (রহ) বলেন, সম্ভবত এই লোক নিজের ইবাদতকে নাজাতের কারণ মনে করত এবং নিজের ইবাদতের উপর ভরসা ও অহংকার করত।

আর সে হয়ত এটা ভুলে গিয়েছিল যে, গুনাহর ব্যাপারে আল্লাহর মাগফিরাত বা ক্ষমা তার জন্যই হয়, তিনি যার জন্য চান। বরং সে এটাকে দূর মনে করত।

আল্লাহর প্রিয় ও অপ্রিয় যে বান্দা

হযরত আবু সিনান কাসমালী বর্ণনা করেন। আমি কোন কোন (আসমানী) কিতাবে পেয়েছি যে (আল্লাহ তাআলা বলেন-) আমার বান্দাদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় বান্দা সে, যে আমাকে আমার বান্দাদের নিকট প্রিয় করে দেয়। আমি তাকে আমার প্রশস্ত রহমতের সুসংবাদ দিচ্ছি।

আর আমার বান্দাদের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত বান্দা সে, যে আমার বান্দাদেরকে হতাশ করে এবং তাদেরকে আমার রহমত থেকে নিরাশ করে।

ফায়দা

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সে, যে মানুষকে আল্লাহর রহমতের দিকে আহ্বান করে। আর সবচেয়ে নিন্দিত সে, যে মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে।

সাহাবীদের ঘটনা

হযরত আবুর হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) তার কতিপয় সাহাবীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তখন তারা হাস্যালাপ ও গাল-গল্পে লিপ্ত ছিলেন।

তখন তিনি ইরশাদ করলেন, কসম সেই সত্তার-যার হাতে আমার প্রাণ! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে তোমরা অবশ্যই কম হাসতে এবং অধিক কাঁদতে।

যখন আমরা সেখান থেকে সরে গেলাম তখন আল্লাহ তাআলা নবী (সা)-এর প্রতি ওহী নাযিল করলেন, হে মুহাম্মদ! আমার বান্দাদেরকে কেন নিরাশ করছ?

নবী (সা) তখন তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং বললেন—

أَبْشِرُوا وَقَارِبُوا وَسَدِدُوا
সুসংবাদ গ্রহণ কর (আল্লাহর) নৈকট্য লাভে তৎপর হও এবং (কথা ও কাজে) সহজতা অবলম্বন কর।

এই হাদীস দ্বারা যা প্রমাণিত হয়

ইমাম বায়হাকী (রহ) বলেন এই হাদীস দ্বারা এই বিষয় প্রমাণিত হয় যে, বান্দার ভয় এত বেশী হওয়া ঠিক নয়, যা তাকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে দেয়।

অনুরূপ তার আশাও এত বেশী হওয়া ঠিক নয় যা তাকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে নির্ভীক করে দেয় এবং গুনাহ ও পাপে জড়িয়ে রাখে।

ভয় ও আশা একমাত্র আল্লাহর প্রতি হওয়া চাই

ইমাম বায়হাকী (রহ) বলেন- আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ভয় করা যেমন উচিত নয়, তেমনি আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কারো প্রতি আশা পোষণ করাও উচিত নয়। এজন্য যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউই উপকার ও ক্ষতি করার মালিক নয়।

যে ব্যক্তি এমন কারো সাথে আশা সম্পর্কিত করে এবং এমন জিনিসের আশা পোষণ করে যার মালিক সে নয়, তবে সে মূর্খ।

যে একান্তই আল্লাহমুখি হয়

হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-

যে ব্যক্তি সকল মাখলুক থেকে মুখ ফিরিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর দিকে রুজু হয়, আল্লাহ তাআলা তার সকল প্রয়োজন নিজেই পূর্ণ করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিযিক দান করেন, যার কল্পনাও সে করে না।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর থেকে মুখ ফিরিয়ে মাখলুকের মুখাপেক্ষী হয়, আল্লাহ তাকে তাদের হাতেই সোপর্দ করেন।

ইবরাহীম (আ) এর ঘটনা

হযরত বাশার বিন হারিস থেকে বর্ণিত, যখন হযরত ইব্রাহীম (আ)-কে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপের জন্য উঠানো হলো, তখন হযরত জিবরাইল (আ) এসে জিজ্ঞাসা করলেন,

হে ইব্রাহীম! আপনার কোন (সাহায্যের) প্রয়োজন আছে কি? তিনি বললেন কোন অবস্থাতেই আমার তোমার নিকট কোন প্রয়োজন নেই।

যে তার প্রয়োজন আল্লাহর নিকট পেশ করে

হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তির কোন প্রয়োজন দেখা দেয়, আর সে তা মানুষের কাছে পেশ করে, তবে তার সংকট দূর করা হয় না।

আর যে তা আল্লাহর কাছে পেশ করে, তবে আল্লাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করে অমুখাপেক্ষী করে দেন- দ্রুত মৃত্যুর মাধ্যমে অথবা সম্পদ দান করে।

ফায়দা

উক্ত হাদীসে মৃত্যুর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে হযরত মোল্লা আলী কারী (রহ) বলেন, তার নিকটতম কেউ মৃত্যুবরণ করবে। ফলে সে তার উত্তরাধিকারী হিসাবে সম্পদের মালিক হবে।

অথবা সত্যিই মৃত্যুর মাধ্যমে আল্লাহ তাকে পেরেশানী থেকে মুক্ত করবেন। যেমন দুআ মাসূরাতে আছে—

وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ، وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ

হে আল্লাহ! আমার হায়াতকে আমার প্রতিটি কল্যাণ বর্ধনের কারণ বানিয়ে দাও এবং মৃত্যুকে আমার জন্য প্রতিটি অকল্যাণ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কারণ বানিয়ে দাও।

তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তি

হযরত আবু হামদান বর্ণনা করেন। আমি আমার পিতার কিতাবে লেখা দেখেছি যে, তিনি হযরত আবু উসমান থেকে শুনেছেন।

তিনি বলেন (আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তি সে, যে আল্লাহ ব্যতীত অপর কাউকে ভয় পায় না, আর না আল্লাহ ছাড়া আর কারো প্রতি আশা পোষণ করে। বস্ সে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই নিজ প্রবৃত্তির উপর প্রাধান্য দান করে।

বঞ্চিত যে ব্যক্তি

হযরত আবু ইয়াকুব (রহ) বলেন— যার উদর পূর্ণ করা হয় শুধু স্বাদ লাভের জন্য, সে সর্বদা ক্ষুধার্ত থাকে।

যার ধনী হওয়ার উদ্দেশ্যে হয় সম্পদ পুঞ্জীভূত করা, সে সর্বদা ফকীরই থাকে।

যে ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন সৃষ্টিজীব থেকে পূর্ণ হওয়ায় আশা করে, সে সর্বদা বঞ্চিত থাকে।

আর যে ব্যক্তি নিজের কোন ব্যাপারে আল্লাহ ব্যতীত অপর কারো সাহায্য প্রত্যাশী হয়, সে সর্বদা সাহায্যহীন থাকে।

ফায়দা

লালসা ও দুনিয়ামুখী নির্ভরতা মানুষকে কখনো পরিতৃপ্ত করে না। প্রকৃত শান্তি ও স্বস্তি শুধু আল্লাহর উপর ভরসা রাখার মধ্যেই নিহিত।

যে জিনিস মানুষকে স্রষ্টা ও সৃষ্টির নিকট প্রিয় করে দেয়

হযরত মুহাম্মদ বিন হামেদ (রহ) বলেন, আমি হযরত আবু বকর ওয়ারাককে বললাম, আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা আমাকে মানুষের নিকট প্রিয় করে দিবে।

তিনি বললেন যে জিনিস তোমাকে আল্লাহর নিকট প্রিয় করে দিবে, তা হলো আল্লাহর কাছে যাচ্ঞা করা ও তার কাছে চাওয়া।

আর যা তোমাকে মানুষের নিকট প্রিয় করে দিবে, তা হলো মানুষের কাছে চাওয়া ও যাচ্ঞা করা থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহর কাছে না চাইলে আল্লাহ নারাজ হন

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। হযরত রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন-

من لا يسأله يغضب عليه
যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে (প্রয়োজনীয় জিনিস) প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার প্রতি নারাজ হন।

কবিতা

ইমাম বায়হাকী (রহ.) বলেন, আমি শুনেছি উস্তাদ আবুল কাসিম মুফাসসিরদের থেকে বর্ণনা করেন যে,

কবি কত সুন্দর বলেছেন—

والله يغضب إن تركت سؤاله
وبني آدم حين يسئل يغضب

আল্লাহর কাছে চাওয়া না হলে আল্লাহ নারাজ হয়ে যায়। আর মানুষের কাছে চাওয়া হলে মানুষ নারাজ হয়ে যায়।

দোয়া সম্মানিত ইবাদত

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন—

ليس شيء أكرم على الله من الدعاء
আল্লাহর নিকট দুআর চাইতে বেশি সম্মানিত জিনিস আর নাই।

ফায়দা

দুআ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ইবাদত। তাই বান্দার উচিত সব সময় আল্লাহর কাছে দুআ করা।

দুয়ায় অনুনয়-বিনয় কারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন

হযরত ঈসা ইবনে ইউনুস হযরত আওযায়ী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-

أَفْضَلُ الدُّعَاءِ الْإِلْحَاحُ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَ التَّضَرُّعُ إِلَيْهِ
উত্তম দুআ হলো আল্লাহর দরবারে আহাজারী করা এবং তাঁর প্রতি অনুনয়-বিনয় করা।

হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন—

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُلِحِّينَ فِي الدُّعَاءِ
আল্লাহ তাআলা দুআর মধ্যে অনুনয়-বিনয় ও আহাজারীকারীকে ভালবাসেন।

ফায়দা

দুআর মূল সৌন্দর্য হলো আল্লাহর সামনে অনুনয়-বিনয় ও বারবার চাওয়া। আল্লাহ তাআলা একনিষ্ঠভাবে জিদ করে দুআ করা বান্দাকে ভালোবাসেন।

অসহায়ের সহায় আল্লাহ তাআলা

হযরত মুয়াররাক আযালী (রহ) বলেন, আমি মুমিনের জন্য কোন দৃষ্টান্ত খুঁজে পাই না। তবে ঐ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হতে পারে, যে সাগরে একটি কাষ্ঠখণ্ডের উপর ভেসে আছে, আর ডাকছে ইয়া রব! ইয়া রব! (আমাকে উদ্ধার কর)। আশা করা যায় যে আল্লাহ তাকে (ঐ বিপদ থেকে) উদ্ধার করে নিবেন।

ফায়দা

মুমিন সর্বদা আল্লাহর সাহায্যের মুখাপেক্ষী। বিপদে তার আসল আশ্রয় শুধু আল্লাহই।

সকল প্রয়োজন আল্লাহর কাছে চাওয়া: আল্লাহ না দিলে সামান্য বস্তুও মিলবে না

হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- তোমার যে প্রয়োজনই দেখা দেয়, তা আল্লাহর কাছে চাও। এমনকি জুতার ফিতাও। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা এটা পাওয়াও যদি সহজ না করেন, তবে তাও পাওয়া সহজ হবে না।

জুতার ফিতা প্রার্থনা করা

হযরত উরওয়া (রা) হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- আল্লাহ তাআলার কাছে সবকিছু সহজ হওয়ার দুআ কর। এমনকি জুতার ফিতাও। কেননা আল্লাহ তাআলা যদি এটাও সহজ না করেন তবে তা (পাওয়াও) সহজ হবে না।

হযরত বকর বিন আব্দুল্লাহ মুযানী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-

سلوا الله حوائجكم حتى الملح
নিজের সমস্ত প্রয়োজন আল্লাহর কাছে চাও এমনকি লবণ পর্যন্ত।

প্রয়োজনের সময় বেশি করে দুআ করা

হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-

لقد بارك الله لرجل في حاجة أكثر الدعاء فيها أعطيها أو منعها
আল্লাহ তাআলা বরকত দিন ঐ ব্যক্তিকে যে তার প্রয়োজনের সময় বেশী করে দুআ করে, দেওয়া হোক বা না হোক।

ফায়দা

প্রয়োজনে বেশি বেশি দুআ করা বরকতের কারণ। দুআ কবুল হোক বা না হোক, আল্লাহর কাছে চাওয়া নিজেই কল্যাণ।

বারবার ও বেশী করে দুআ করা: যে বারবার দরজা খটখটায় তার দৃষ্টান্ত

হযরত আবু দারদা (রা) বলেন-যে ব্যক্তি বারবার দরজা খটখটায়, সম্ভাবনা আছে যে, তার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি বারবার দুআ করে, খুব সম্ভব যে তার দুআ কবুল করে নেয়া হবে।

অপর বর্ণনায় আছে-তিনি বলেন বেশী করে দুআ করতে থাক, যে ব্যক্তি অধিক হারে দরজা খটখটায়, খুব সম্ভাবনা থাকে যে, তার জন্য দরজা খুলে দেয়া হবে।

سلوا الله حوائجكم حتى الملح
নিজের সমস্ত প্রয়োজন আল্লাহর কাছে চাও এমনকি লবন পর্যন্ত।

প্রয়োজনের সময় বেশি করে দোয়া করা

হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-

لقد بارك الله لرجل في حاجة أكثر الدعاء فيها أعطيها أو منعها
আল্লাহ তায়ালা বরকত দিন ঐ ব্যক্তিকে যে তার প্রয়োজনের সময় বেশি করে দোয়া করে, দোয়া কবুল হোক বা না হোক।

ফায়দা

প্রয়োজনে বেশি দুআ করা বরকতের কারণ। দুআ কবুল হোক বা বিলম্ব হোক—আল্লাহর দিকে বারবার ফিরে যাওয়াই বান্দার জন্য কল্যাণ।

বারবার ও বেশি করে দোয়া করা: যে বারবার দরজা খটখটায় তার দৃষ্টান্ত

হযরত আবু দারদা (রা) বলেন- যে ব্যক্তি বারবার দরজা খটখটায়, সম্ভাবনা আছে যে, তার জন্য দরজা খুলে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি বারবার দোয়া করে, খুব সম্ভব যে তার দোয়া কবুল করে নেয়া হবে।

অপর বর্ণনায় আছে- তিনি বলেন বেশি করে দোয়া করতে থাক, যে ব্যক্তি অধিক হারে দরজা খটখটায়, খুব সম্ভাবনা থাকে যে, তার জন্য দরজা খুলে দেয়া হবে।

ফায়দা

বারবার দুআ করা কবুলিয়তের একটি বড় কারণ। আল্লাহর রহমতের দরজা বেশি বেশি ডাকলেই খুলে যাওয়ার আশা থাকে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহ তাআলার প্রতি আশা রাখা মুমিনের হৃদয়ের এক মহান গুণ এবং ইমানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা।

এটি মানুষকে হতাশা থেকে রক্ষা করে, ইবাদতে উৎসাহ দেয় এবং আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরিয়ে আনে।

তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার রহমত ও ক্ষমার আশা রাখা এবং তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা করা।

🔹🔹🔹

👉 আরও পড়ুন  ইসমে আযম দুআ কবুলের গোপন রহস্য

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!