
বাথরুমে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআ – ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য আদব ও দোয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো বাথরুমে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআ। এই আমল মানুষকে শারীরিক ও আত্মিক পবিত্রতা রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং আল্লাহর স্মরণকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে জাগ্রত রাখে।
হাদিস গ্রন্থ মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ-এ বর্ণিত হয়েছে যে, সাহাবায়ে কেরাম ও পূর্ববর্তী নেককার ব্যক্তিরা বাথরুমে প্রবেশের সময় শয়তান ও অপবিত্রতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন এবং বের হওয়ার পর আল্লাহর শুকরিয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।
এই দোয়ার মাধ্যমে একজন মুমিন নিজেকে সর্বদা আল্লাহর হেফাজতে রাখে এবং বিনয় ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা লাভ করে।
এই আর্টিকেলে আমরা বাথরুমে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআ, তার ফজিলত এবং ইসলামি আদব সম্পর্কে সহজভাবে আলোচনা করবো, ইনশাআল্লাহ।
ইমাম ইবনে আবী শয়বাহ (রহ) রচিত প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ আল মুসান্নাফ এর কিতুবুত তাহারাত থেকে অনূদিত
আমাদের অনুবাদ – দারুস সাআদাত
مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ
বাথরুমে প্রবেশ করার সময় কি দুআ পড়বে?
নবী (সা) বাথরুমে প্রবেশের সময় যা পড়তেন
1 – عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ قَالَ: «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ»
১.হযরত আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, নবী কারীম (সা) বাথরুমে যাওয়ার সময় বলতেন-
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই অনিষ্টকারী পুরুষ ও নারী জিন-শয়তান হতে।
ব্যাখ্যা
বাথরুম এমন একটি স্থান, যেখানে অপবিত্রতা থাকে এবং শয়তানের আনাগোনা বেশি হয়। তাই নবী ﷺ বাথরুমে প্রবেশের আগে আল্লাহর কাছে অনিষ্টকারী পুরুষ ও নারী জিন-শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। এটি আমাদেরও অনুসরণ করা সুন্নত।
শয়তানদের আবাসস্থল
2 – عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مَحْتَضَرَةٌ، فَإِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْخَلَاءَ فَلْيَقُلِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بُكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
২. হযরত যায়েদ বিন আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত। নবী কারীম (সা) ইরশাদ করেন। নিশ্চয়ই এই সকল স্থান (বাথরুম) শয়তানদের অবস্থানস্থল। অতএব তোমাদের কেউ যখন বাথরুমে প্রবেশ করে তখন সে যেন এই দুআ পড়ে,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بُكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
হে আল্লাহ আমি আপনার আশ্রয় চাই অনিষ্টকারী পুরুষ ও নারী জিন-শয়তান হতে।
ব্যাখ্যা
এই হাদিসে নবী ﷺ বাথরুমে প্রবেশের আগে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শিক্ষা দিয়েছেন। কারণ বাথরুম শয়তান ও অপবিত্র শক্তির অবস্থানস্থল।
তাই এই দুআ পাঠ করলে মানুষ আল্লাহর হেফাজতে থাকে এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে।
কাপড় উঠানোর সময় যা পড়বে
3 – قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: ” إِذَا دَخَلْتَ الْغَائِطَ فَأَرَدْتَ التَّكَشُّفَ فَقُلِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الرِّجْسِ النَّجِسِ، وَالْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ، وَالشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ “
৩ হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ বলেন, যখন তোমাদের কেউ বাথরুমে প্রবেশ করে এবং নিজের সতর উন্মুক্ত করতে থাকে তখন সে যেন (মনে মনে) এই দুআ পড়ে,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الرِّجْسِ النَّجِسِ، وَالْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ، وَالشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কদর্যতা ও অপবিত্রতা এবং অনিষ্টকারী পুরুষ ও নারী জিন-শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
ব্যাখ্যা
এই হাদিসে বাথরুমে সতর উন্মুক্ত করার সময় আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ অপবিত্রতা, কদর্যতা এবং জিন-শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর হেফাজত কামনা করে। এটি লজ্জাশীলতা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতারও একটি প্রকাশ।
হুযায়ফা (রা) যে দুআ পড়তেন
4 – عَنِ الضَّحَّاكِ، قَالَ: كَانَ حُذَيْفَةُ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ، قَالَ: «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الرِّجْسِ النَّجِسِ، الخَبِيثِ الْمُخْبِثِ، الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ»
৪.হযরত যাহহাক (রহ) বলেন, হযরত হুযায়ফা (রা) যখন বাথরুমে প্রবেশ করতেন তখন এই দুআ পড়তেন,
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الرِّجْسِ النَّجِسِ، الخَبِيثِ الْمُخْبِثِ، الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইছি কদর্যতা ও অপবিত্রতা এবং অনিষ্টকারী পুরুষ ও নারী জিন-শয়তান হতে।
ব্যাখ্যা
এই বর্ণনায় দেখা যায়, সাহাবায়ে কেরামও বাথরুমে প্রবেশের সময় আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। এর উদ্দেশ্য হলো অপবিত্র স্থান ও জিন-শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা। এটি একটি সুন্নত আমল, যা আল্লাহর স্মরণ ও নিরাপত্তা চাওয়ার শিক্ষা দেয়।
অনিষ্টকারী জিন ও শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া
5 – عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ إِذَا دَخَلَ الْكَنِيفَ قَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ»
৫ হযরত আনাস (রা) বলেন, নবী (সা) যখন বাথরুমে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন-
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ আমি আপনার আশ্রয় চাই অনিষ্টকারী পুরুষ ও নারী জিন-শয়তান হতে।
ব্যাখ্যা
এই বর্ণনায় বোঝা যায়, হযরত আনাস (রা) থেকে নবী ﷺ-এর আমল অনুযায়ী বাথরুমে প্রবেশের আগে “বিসমিল্লাহ” ও দুআ পড়ার শিক্ষা পাওয়া যায়।
এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করে এবং শয়তান ও অপবিত্রতার অনিষ্ট থেকে তাঁর আশ্রয় কামনা করে। এটি শিষ্টাচার ও নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল।
কদর্যতা হতে আশ্রয় চাওয়া
6 – عَنِ الضَّحَّاكِ بن مُزَاحِمٍ قال إِذَا دَخَلْتَ الْخَلَاءَ فَقُلِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الرِّجْسِ النَّجَسِ، الْخَبِيثِ الْمُخْبِثِ، الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ “
৬. যাহহাক বিন মুযাহিম বলেন, তোমাদের কেউ যখন বাথরুমে প্রবেশ করে তখন সে যেন এই দুআ পড়ে
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الرِّجْسِ النَّجَسِ، الْخَبِيثِ الْمُخْبِثِ، الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি কদর্যতা ও অপবিত্রতা এবং অনিষ্টকারী পুরুষ ও নারী জিন-শয়তান হতে।
ব্যাখ্যা
এই বর্ণনায় তাবেয়ি যাহহাক বিন মুযাহিম (রহ) বাথরুমে প্রবেশের সময় দুআ পড়ার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন।
এর উদ্দেশ্য হলো অপবিত্রতা, নাপাক পরিবেশ এবং জিন-শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। এটি ইসলামি আদব ও নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা মানুষের মনে আল্লাহর স্মরণ বজায় রাখে।
مَا يَقُولُ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْمَخْرَجِ
বাথরুম থেকে বের হয়ে কি দুআ পড়বে
বাথরুম থেকে বের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা
7 – يَقُولُ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَسَمِعْتُهَا تَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْغَائِطِ، قَالَ: «غُفْرَانَكَ»
৭. হযরত আয়িশা (রা) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সা) বাথরুম থেকে বের হয়ে আসতেন তখন বলতেন,
غُفْرَانَكَ
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
ব্যাখ্যা
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বাথরুম থেকে বের হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। এতে বোঝা যায়, একজন মুমিন প্রতিটি ছোট কাজের পরও আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং নিজের অপূর্ণতা ও গাফিলতির জন্য ক্ষমা চায়।
বাথরুমের মতো একান্ত ও অপবিত্র স্থানে মানুষের কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল, অসাবধানতা বা অন্তরের গাফিলতি হতে পারে।
তাই বের হয়ে সাথে সাথে ইস্তিগফার করা মানে হলো নিজেকে পবিত্র করা, অন্তরকে পরিষ্কার করা এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা।
এটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের প্রতিটি কাজের পর আল্লাহকে স্মরণ করা ও তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়া একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
বাথরুম থেকে বের হয়ে নূহ (আ) যা পাঠ করতেন
8 – عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ: ” أَنَّ نُوحًا النَّبِيَّ كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْغَائِطِ، قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي ”
৮. হযরত ইব্রাহীম তাইমী (রহ) বলেন, হযরত নূহ (আ) যখন বাথরুম থেকে বের হয়ে আসতেন তখন বলতেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করেছেন এবং আমাকে সুস্থ ও নিরাপদ করেছেন।
ব্যাখ্যা
এই বর্ণনায় হযরত নূহ (আ)-এর একটি দোয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়, যা বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি দৃষ্টান্ত।
তিনি আল্লাহর প্রশংসা করতেন, কারণ আল্লাহ মানুষের শরীর থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে তাকে স্বস্তি ও আরাম দিয়েছেন।
এর মাধ্যমে বোঝা যায়, একজন মুমিন শুধু বিপদে নয়, দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ শেষ করেও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। এটি আমাদের শেখায় যে শারীরিক আরাম, সুস্থতা ও স্বস্তিও আল্লাহরই বড় নেয়ামত—আর এর জন্য তাঁর প্রশংসা করা উচিত।
অপর বর্ণনা
9 – ح أَخْبَرَنَا الْعَوَّامُ، قَالَ: ” حُدِّثْتُ أَنَّ نُوحًا كَانَ يَقُولُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذَاقَنِي لَذَّتِهِ، وَأَبْقَى فِيَّ مَنْفَعَتِهِ، وَأَذْهَبَ عَنِّي أَذَاهُ ”
৯. হযরত আওয়াম বলেন, অমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, হযরত নূহ (আ) বলতেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذَاقَنِي لَذَّتِهِ، وَأَبْقَى فِيَّ مَنْفَعَتِهِ، وَأَذْهَبَ عَنِّي أَذَاهُ
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য যিনি খাবারের স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন, উপকারী বস্তু রেখে দিয়েছে এবং অপকারী বস্তু অপসারণ করে দিয়েছেন।
আবু যার (রা) যা পাঠ করতেন
10 – عَنْ أَبِي عَلِيٍّ، أَنَّ أَبَا ذَرٍّ كَانَ يَقُولُ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي»
১০. হযরত আবু আলী বলেন, হযরত আবু যার (রা) যখন বাথরুম থেকে বের হয়ে আসতেন তখন বলতেন-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করেছেন এবং আমাকে সুস্থ ও নিরাপদ করেছেন।
ব্যাখ্যা
এই বর্ণনায় হযরত নূহ (আ)-এর একটি কৃতজ্ঞতামূলক দোয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে তিনি খাবার গ্রহণের পর আল্লাহর প্রশংসা করতেন। কারণ আল্লাহ মানুষকে খাদ্যের স্বাদ উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছেন, শরীরের জন্য উপকারী অংশ রেখে দিয়েছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর অংশ দূর করেছেন।
এর মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রতিটি খাবার গ্রহণ ও হজম প্রক্রিয়াও আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত। তাই একজন মুমিন শুধু বড় নেয়ামতের জন্য নয়, ছোট ছোট দৈনন্দিন নিয়ামতের জন্যও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে।
হুযায়ফা (রা) এর দুআ
11 – عَنِ الضَّحَّاكِ، قَالَ: كَانَ حُذَيْفَةُ يَقُولُ إِذَا خَرَجَ، يَعْنِي مِنَ الْخَلَاءِ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي»
১১. হযরত যাহহাক (রহ) বলেন, হযরত হুযায়ফা (রা) যখন বাথরুম থেকে বের হয়ে আসতেন তখন বলতেন-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করেছেন এবং আমাকে সুস্থ ও নিরাপদ করেছেন।
ব্যাখ্যা
এই বর্ণনায় হযরত হুযায়ফা (রা)-এর একটি দোয়ার কথা বলা হয়েছে, যা তিনি বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর পাঠ করতেন।
এতে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করতেন, কারণ আল্লাহ শরীর থেকে কষ্টদায়ক ও অপ্রয়োজনীয় বস্তু দূর করে মানুষকে স্বস্তি, সুস্থতা ও আরাম দান করেন।
এর মাধ্যমে বোঝা যায়, একজন মুমিন জীবনের ছোট থেকে ছোট প্রয়োজন পূর্ণ হওয়ার পরও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। এটি অন্তরে কৃতজ্ঞতা বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি সচেতনতা জাগায়।
কষ্টদায়ক বস্তু অপসরণ হওয়া
12 – عَنْ طَاوُسَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِذَا خَرَجَ أَحَدُكُمْ مِنَ الْخَلَاءِ فَلْيَقُلِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي مَا يُؤْذِينِي، وَأَمْسَكَ عَلَيَّ مَا يَنْفَعُنِي “
১২. হযরত তাউস (রহ) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) যখন বাথরুমে থেকে বের হতেন তখন বলতেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي مَا يُؤْذِينِي، وَأَمْسَكَ عَلَيَّ مَا يَنْفَعُنِي
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং উপকারী বস্তু রেখে দিয়েছেন।
ব্যাখ্যা
এই বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর আল্লাহর প্রশংসা করার দোয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।
এতে তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন, কারণ আল্লাহ মানুষের শরীর থেকে কষ্টদায়ক ও অপ্রয়োজনীয় বস্তু দূর করেন এবং শরীরের জন্য উপকারী অংশ রেখে দেন।
এর মাধ্যমে বোঝা যায়, একজন মুমিন প্রতিদিনের সাধারণ ও স্বাভাবিক কাজ শেষ করেও আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এটি হৃদয়ে শোকর, পবিত্রতা ও আল্লাহভীতি বৃদ্ধি করে।
সুস্থ ও নিরাপদ হওয়া
13 – عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: كَانَ أَبُو الدَّرْدَاءِ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ، قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَمَاطَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي»
১৩. হযরত মিনফাল বিন আমর বলেন, হযরত আবু দারদা (রা) যখন বাথরুম থেকে বের হতেন তখন বলতেন
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَمَاطَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দুর করেছেন এবং আমাকে সুস্থ ও নিরাপদ করেছেন।
ব্যাখ্যা
এই বর্ণনায় হযরত আবু দারদা (রা)-এর একটি সুন্দর অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে, যেখানে তিনি বাথরুম থেকে বের হয়ে আল্লাহর প্রশংসা করতেন।
কারণ আল্লাহ মানুষের শরীর থেকে কষ্টদায়ক ও অপ্রয়োজনীয় বস্তু দূর করে তাকে আরাম, সুস্থতা ও স্বস্তি দান করেন।
এর মাধ্যমে বোঝা যায়, একজন সত্যিকারের মুমিন প্রতিটি সাধারণ ও দৈনন্দিন নিয়ামতের জন্যও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। এটি হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা, পবিত্রতা ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে।
উপসংহার
বাথরুমে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, যা মুমিনের দৈনন্দিন জীবনে পবিত্রতা, শিষ্টাচার ও আল্লাহর স্মরণকে প্রতিষ্ঠিত করে।
মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ সহ বিভিন্ন বর্ণনায় দেখা যায়, সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফগণ এই আমলের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন।
এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা অপবিত্রতা ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায় এবং কাজ শেষে তাঁর নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করে।
ফলে একজন মুসলিমের জীবন শুধু বাহ্যিকভাবে নয়, অন্তর থেকেও পবিত্র ও আল্লাহমুখী হয়ে ওঠে।
🔹🔹🔹
👉 আরও পড়ুন সকাল সন্ধ্যার দুআ, ইবনুস সুন্নী (রহ)


