
আল কুরআনের দুআ মাহাত্ম্য ও জ্ঞাতব্য (২য় ভাগ) – আল-কুরআনের দুআসমূহ মানবজীবনের প্রতিটি স্তরের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা।
এসব দুআ শুধু চাওয়ার ভাষা নয়; বরং ঈমান, তাওয়াক্কুল, বিনয়, ধৈর্য এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতার অনন্য প্রকাশ। কুরআনের নবী-রাসুল, নেককার বান্দা ও মুমিনদের দুআ আমাদের শেখায় কীভাবে, কখন এবং কী উদ্দেশ্যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হয়।
‘আল-কুরআনের দুআ: মাহাত্ম্য ও জ্ঞাতব্য (২য় ভাগ)’-এ কুরআনে বর্ণিত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দুআ, সেগুলোর অর্থ, প্রেক্ষাপট, ফজিলত এবং আমল-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিষয় সংকলিত হয়েছে।আশা করা যায়, এই আলোচনা পাঠকদের কুরআনের দুআগুলো বুঝে পড়তে, জীবনে বাস্তবায়ন করতে এবং আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সহায়ক হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআনের দুআগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
👉 প্রথমভাগ পড়ুন আল কুরআনের দুআ : মাহাত্ম্য ও জ্ঞাতব্য (১ম ভাগ)
আল কুরআনের দুআ
দুআ: ২৭ সূরা ইউনুস ৮৫-৮৬
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
হে আল্লাহ! আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায়ের উৎপীড়নের পাত্র করো না। আর আমাদেরকে তোমার অনুগ্রহে কাফির সম্প্রদায় হতে রক্ষা কর।- সূরা ইউনুস: ৮৫-৮৬
জ্ঞাতব্য
এই দুআ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলার কাছে জুলুম-নির্যাতন থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়, ঈমানের ওপর অটল থাকার তাওফিক পাওয়া যায় এবং কুফর ও কাফিরদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর হিফাজত কামনা করা হয়। এটি মুমিনের তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতার সুন্দর প্রকাশ।
দুআ: ২৮ সূরা হূদ ৪৭
رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ ۖ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ
হে আমার পালনকর্তা! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, তার ব্যাপারে কোন দরখাস্ত করা হতে আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না কর, দয়া না কর, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।- সূরা হূদ: ৪৭
জ্ঞাতব্য
এটি হযরত নূহ (আ)-এর প্রার্থনা। প্রথমে তিনি আল্লাহর কাছে তার এক প্লাবন থেকে রক্ষার জন্য দু’আ করে বলেন, সে আমার পরিবারভুক্ত। তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে তার জন্য দুআ করতে নিষেধ করে বলেন, সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়, বরং সে দুরাচারী কাফির (আর কাফির ও ঈমানদার এক পরিবারের হতে পারে না)।
যখন আল্লাহ তাআলা একথা বললেন, তখন তিনি উক্ত দুআ করে আল্লাহর কাছে তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মাসআলা
এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য। তা হলো, আলোচ্য আয়াতে যেহেতু সন্দেহজনক ক্ষেত্রে দুআ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কাজেই জেনে-শুনে অন্যায় ও অবৈধ কাজের জন্য দুআ করা অধিকতর হারাম। যেমন কেউ যদি অবৈধ উদ্দেশ্য বা কাজের জন্য দুআ চায় বা এমন চাকুরীর জন্য, যা হয়ে গেলে সে হারামে জড়িয়ে পড়বে ইত্যাদি এমন সব ব্যাপারে জেনে-শুনে দু’আ করা হারাম তো বটেই এমনকি সন্দেহজনক ব্যাপারেও প্রকৃত অবস্থা না জেনে দু’আ’র জন্য হাত তোলা সমীচীন নয়।
দুআ: ২৯ সূরা ইউসুফ ৮৬
اِنَّمَاۤ اَشْكُوْ بَثِّىْ وَحُزْنِىْۤ اِلَى اللّٰهِ
আমি আমার অসহনীয় দুঃখ বেদনা, শুধু আল্লাহর নিকট নিবেদন করছি।- সূরা ইউসুফ-৮৬
জ্ঞাতব্য: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট কোন অভিযোগ না করা
একবার হযরত ইয়াকূব (আ)-কে তার এক বন্ধু তার চোখ নষ্ট হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ইউসুফের জন্য কেঁদে কেঁদে আমার চক্ষু নষ্ট হয়ে গেছে আর বিন-ইয়ামীনের দুঃখ বেদনা আমার পিঠ বাঁকা করে দিয়েছে।
তখনই আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাইল (আ) এর মারফত তার কাছে ওহী পাঠালেন- অন্যের কাছে আমার অভিযোগ করতে তোমার লজ্জা করে না। তৎক্ষণাৎ হযরত ইয়াকূব (আ) উক্ত দু’আ পাঠ করেন। হযরত জিবরাইল (আ) বললেন, আপনার অভিযোগ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা পূর্ণ ওয়াকিফহাল।
মুসলিম বিন ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলে কারীম (সা) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি (মানুষের কাছে) মুসিবতের অভিযোগ করল, সে ধৈর্যধারণকারী নয়। এরপর তিনি উক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।
হযরত হাসান (রহ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, হে আল্লাহ! আমি আমার দুঃখ বেদনা এবং আমার প্রয়োজন তোমার কাছে পেশ করছি।
উমর (রা) এর দুঃখ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ (রহ) বলেন, একদিন আমি ফজরের নামাযে হযরত উমর (রা) কে সূরা ইউসুফ পড়তে শুনলাম। যখন তিনি উক্ত আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন আমি কাতারের পিছন থেকে তার ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম।
দুআ: ৩০ সূরা ইউসুফ ১০১
فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ اَنْتَ وَلِيّٖ فِى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ ۚ تَوَفَّنِىْ مُسْلِمًا وَّاَلْحِقْنِىْ بِالصّٰلِحِيْنَ
হে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা! তুমিই ইহকাল ও পরকালে আমার অভিভাবক। তুমি আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান কর এবং আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত কর।- সূরা ইউসুফ-১০১
ফায়দা
এটি হযরত ইউসুফ (আ)-এর একটি মহান দুআ। আল্লাহ তাকে নবুওয়ত, রাজত্ব, স্বপ্নের ব্যাখ্যার জ্ঞান, বিপদ থেকে মুক্তি এবং পিতা-মাতা ও ভাইদের সঙ্গে পুনর্মিলনের মতো অসংখ্য নিয়ামত দান করার পর তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন- যেমন দুনিয়ার নিয়ামত পূর্ণ করেছেন, তেমনি আখিরাতের নিয়ামতও পূর্ণ করুন।
এরপর তিনি বলেন, আমাকে ইসলামের ওপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
এই দুআ পাঠের মাধ্যমে ইসলামের ওপর অবিচল থেকে মৃত্যুবরণ, আল্লাহর অভিভাবকত্ব লাভ এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়। এটি ঈমানের ওপর অটল থাকার এক মহৎ দুআ।
মৃত্যু কামনা প্রসঙ্গ
ইবন আব্বাস (রা) বলেন, ইউসুফ (আ)-এর আগে কোনো নবী কখনো মৃত্যুর কামনা করেননি।
এই আয়াত থেকে ইমাম ইবনে কাসীর বলেন, দুঃখ কষ্টে পতিত হয়ে মৃত্যু কামনা করার ব্যাপার হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। তবে যদি আল্লাহর মহব্বতে, ফিতনা থেকে বাঁচতে বা নিজের কাজকর্ম পুরো হয়ে গেলে তখন মৃত্যু কামনা করা বৈধ। যেমন ইউসুফ (আ) এর যখন সকল কাজ পুরো হয়ে যায় তখন আল্লাহর সান্নিধ্য কামনা করে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন-
তোমাদের কেউ যেন তার ওপর আপতিত কোনো কষ্ট বা বিপদের কারণে কখনো মৃত্যুর কামনা না করে এবং মৃত্যু আসার আগে তার জন্য দুআও না করে। তবে যদি সে নিজের আমল সম্পর্কে (আল্লাহর রহমতের আশায়) দৃঢ় প্রত্যয় রাখে, তবে ভিন্ন কথা।
কারণ, তোমাদের কেউ যখন মারা যায়, তখন তার জীবনের সময় ও আমল করার সুযোগ শেষ হয়ে যায়। আর একজন মুমিনের জীবন যত দীর্ঘ হয়, তা তার জন্য কল্যাণই বৃদ্ধি করে।
মূল শিক্ষা
এই হাদিসে দুনিয়ার কষ্ট বা বিপদের কারণে মৃত্যুর কামনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ জীবিত থাকা অবস্থায় একজন মুমিন আরও বেশি নেক আমল, তাওবা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ পায়।
দুআ: ৩১ সূরা ইব্রাহীম ৩৫
رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ
হে আমার পালনকর্তা, এ শহরকে নিরাপদ করে দাও এবং আমাকে ও আমার সন্তান সন্ততিকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখ।- সূরা ইব্রাহীম: ৩৫
ফায়দা
এটি হযরত ইবরাহীম (আ) এর দুআ। এই দুআ পাঠের মাধ্যমে নিজের, পরিবারের ও সমাজের নিরাপত্তা এবং শিরক ও সব ধরনের ভ্রান্ত আকীদা থেকে আল্লাহর হিফাজত কামনা করা হয়। এটি ঈমান রক্ষা ও তাওহীদের ওপর অটল থাকার এক গুরুত্বপূর্ণ দোয়া।
দুআ: ৩২ সূরা ইবরাহিম ৩৫
رَبَّنَا إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِي وَمَا نُعْلِنُ ۗ وَمَا يَخْفَىٰ عَلَى اللَّهِ مِن شَيْءٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ
হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি তো জান যা কিছু আমরা গোপন করি এবং যা কিছু প্রকাশ করি। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কিছুই আল্লাহর নিকট গোপন থাকে না।- সূরা ইব্রাহীম: ৩৮
ফায়দা
এটি হযরত ইবরাহীম (আ) এর দুআ। এই দুআ বান্দার অন্তরে আল্লাহর সর্বজ্ঞতার অনুভূতি জাগ্রত করে। এতে ইখলাস বৃদ্ধি পায়, গোপন-প্রকাশ্য সব কাজে সতর্কতা আসে এবং আল্লাহর প্রতি বিনয় ও নির্ভরতা দৃঢ় হয়।
দুআ: ৩৩ সূরা ইবরাহিম ৪০
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
হে আমার পালনকর্তা! আমাকে সালাত কায়েমকারী কর এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের প্রার্থনা কবুল কর।- সূরা ইব্রাহীম: ৪০
ফায়দা
এটি ইবরাহীম (আ) এর দুআ। এই দুআ পাঠের মাধ্যমে নিজের ও সন্তানদের সালাতের প্রতি অটল থাকার তাওফিক এবং আল্লাহর কাছে দুআ কবুল হওয়ার আবেদন করা হয়। এটি নেক সন্তান ও দীনের ওপর অবিচল থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া।
দুআ: ৩৪ সূরা ইবরাহিম ৪১
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা কর, যেদিন হিসাব কাায়েম হবে।- সূরা ইব্রাহীম: ৪১
ফায়দা
এটি হযরত ইবরাহীম (আ) এর দুআ। এই দুআ পাঠের মাধ্যমে নিজের, পিতা-মাতা এবং সকল মুমিনের জন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। এটি পারস্পরিক কল্যাণ কামনা, আত্মশুদ্ধি এবং আখিরাতের মুক্তির আশা জাগ্রত করে।
দুআ: ৩৫ সূরা বনী-ইসরাঈল ২৪
رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
হে আমার পালনকর্তা! তাদের উভয়ের (পিতা-মাতা) প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।- সূরা বনী-ইসরাঈল: ২৪
জ্ঞাতব্য মা বাবার জন্য দুআ
আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে তাদের পিতা-মাতার এবং নিজেদের কল্যাণের জন্য এই দু‘আটি শিক্ষা দিয়েছেন যেন পিতা-মাতার কল্যাণের পাশাপাশি তারা নিজেরাও কল্যাণপ্রাপ্ত হয়। জনৈক সাহাবী (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, পিতা-মাতার জন্য দুআ না করলে ইহকালে জীবন ও জীবিকা সংকীর্ণ হয়ে যায়।
জনৈক তাবিয়ী (রহ) আল্লাহ তাআলার বাণী
‘أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ
আমার কৃতজ্ঞতা আদায় কর এবং কৃতজ্ঞতা আদায় কর তোমার পিতা-মাতার।- সূরা লুকমান: ১৪
আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, মা বাবার কৃতজ্ঞতা আদায় করার অর্থ হলো দিনে অন্তত পাঁচবার তাদের জন্য দুআ করা।
দুআ: ৩৬ সূরা বনী ইসরাইল ৮০
رَّبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَل لِّي مِن لَّدُنكَ سُلْطَانًا نَّصِيرًا
হে আমার পালনকর্তা! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে বের কর কল্যাণের সাথে। আর তোমার নিকট থেকে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি।- সূরা বনী ইসরাঈল: ৮০
জ্ঞাতব্য: লক্ষ্য অর্জনের দুআ
হিজরতের সময় আল্লাহ তাআলা নবী করীম (সা) কে এই দু‘আটি শিক্ষা দেন যে, মক্কা থেকে বের হওয়া এবং মদীনায় প্রবেশ করা উভয়টি উত্তমভাবে এবং নিরাপদে সম্পন্ন হোক।
এই দু‘আর ফলে তিনি সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নিরাপদে মক্কা থেকে মদীনায় পৌঁছে যান। এ কারণেই এই দুআটি লক্ষ্য অর্জনের শুরুতে প্রত্যেক মুসলমানের মনে রাখা উচিত। লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই দুআটি উপকারী।
ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, কল্যাণের সাথে প্রবেশ দ্বারা মৃত্যু এবং কল্যাণের সাথে বের হওয়া দ্বারা মৃত্যু পরবর্তী জীবন বুঝানো হয়েছে।
দুআ: ৩৭ সূরা আল-কাহফ ১০
رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান কর এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ কর।- সূরা আল-কাহাফ: ১০
জ্ঞাতব্য
ইমাম গাযালী (রহ) বলেন, কোন নতুন কাজ আরম্ভ করার সময় এই দু‘আ পড়বে।
সাধারণভাবেও নিজের কাজ-কর্ম সুন্দরভাবে আয়োজন ও সমাধা হওয়ার জন্যও এই দুআ করা উচিত।
দুআ: ৩৮ সূরা ত্বাহা ২৫-২৮
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও এবং আমার কাজ সহজ করে দাও। আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দাও। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।- সূরা ত্বাহা: ২৫-২৮
জ্ঞাতব্য: প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রার্থনা করা
এটি হযরত মূসা (আ)-এর দুআ। এই দুআয় দুআর একটি আদব বর্ণিত হয়েছে। আর তা হলো, প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রার্থনা করা। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রার্থনা করা যদিও জায়েয, তথাপি প্রয়োজন পরিমাণ প্রার্থনা করা উত্তম। কেননা তা নবীদের বৈশিষ্ট্য এবং ভদ্রতার পরিচায়ক।
নবী কারীম (সা) সম্পর্কেও বর্ণিত আছে, নবী কারীম (সা) দুআ করেছেন-
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ اٰلِ مُحَمَّدٍ قُوْتًا
হে আল্লাহ! মুহাম্মদ ও তার পরিবারকে প্রাণ রক্ষার মত (প্রয়োজনীয়) পরিমাণ রিযিক দান কর)।
বর্ণিত আছে যে, হযরত কাব (রা)-এর কাছে তার ভ্রাতুষ্পুত্র এসে বলল, এটা বড়ই লজ্জার কথা যে, আপনার মুখের ভাষা ত্রুটিপূর্ণ। হযরত কাব (রা) বললেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি কি আমার কথা বুঝতে পার না? সে উত্তরে বলল- হ্যাঁ, বুঝতে পারি বটে।
হযরত কা’ব (রা) বললেন, তাহলে এই যথেষ্ট। হযরত মুসা (আ)-ও আল্লাহর কাছে এটুকুর জন্য প্রার্থনা করেছিলেন।
দুআ: ৩৯ সূরা ত্বহা ১১৪
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
হে আমার পালনকর্তা! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।- সূরা ত্বাহা:১১৪
জ্ঞাতব্য
হযরত শাহ আব্দুল আযীয (রহ) বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন গ্রন্থে বলেন, সুবহানাল্লাহ! এই উম্মতের মধ্যে এমন অনেক ব্যক্তি গত হয়েছেন, যাদের (সব সময়ের) দুআ ছিল এটি। তারা এমন পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন, যা কল্পনাও বাইরে।
হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, আমার নিকট ইলম বেশী হওয়া ইবাদত বেশী হওয়া থেকে বেশী উত্তম। আর তোমাদের উত্তম দীন হলো পরহেযগারী অর্থাৎ হারাম ও সন্দেহজনক বিষয় থেকে বিরত থাকা।
দুআ: ৪০ সূরা আল-আম্বিয়া ৮৩
رَبِّ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
হে আমার প্রতিপালক! আমি দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছি এবং তুমি দয়াবানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান।- সূরা আল-আম্বিয়া:৮৩
জ্ঞাতব্য
এটা হযরত আইয়ুব (আ)-এর দু’আ। তিনি এই দুআ সেই সময় করেছিলেন, যখন তার সব সহায় সম্পত্তি, তার সন্তান-সন্ততি সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন যাবত দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে লোকালয় থেকে দূরে থেকে কষ্টভোগ করছিলেন।
অতঃপর তিনি আল্লাহর কাছে এই দুআ মাধ্যমে ফরিয়াদ করেন। এরপর আল্লাহ তাআলা তাকে পূর্ণ আরোগ্য এবং পূর্বের চাইতেও ভালো অবস্থা দান করেন।
দুআ: ৪১ সূরা আল আম্বিয়া ৮৭
لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
(হে আল্লাহ!) তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি পবিত্র, মহান। আমিই তো সীমালঙ্ঘনকারী।- সূরা আল-আম্বিয়া:৮৭
জ্ঞাতব্য
এটা দুআয়ে ইউনুস অর্থাৎ হযরত ইউনুস (আ) মাছের পেট থেকে যে দু’আটি করেছিলেন, এটি সেই দুআ। যারা বিপদ-আপদের সময় এই দুআ পাঠ করে থাকে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সে সব বিপদাপদ থেকে উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে বেশ উৎসাহ ব্যঞ্জক বাণী রয়েছে।
হযরত সাদ (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হযরত রাসূলে করীম (সা) ইরশাদ করেন, যে কেউই হযরত ইউনুস (আ) এর দুআর মাধ্যমে দু’আ করবে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তার দুআ কবুল করবেন।
দুআ: ৪২ সূরা আল- আম্বিয়া:৮৯
رَبِّ لَا تَذَرْنِيْ فَرْدًا وَّأَنْتَ خَيْرُ الْوٰرِثِيْنَ
হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একা (নিঃসন্তান) রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস।- সূরা আল- আম্বিয়া:৮৯
ফায়দা
এটি হযরত যাকারিয়া (আ)এর দুআ।
তিনি দীর্ঘদিন নিঃসন্তান ছিলেন। তখন আল্লাহর কাছে এভাবে প্রার্থনা করেছিলেন। এই দুআটি আন্তরিকভাবে পড়লে আল্লাহর কাছে নেক সন্তান, উত্তম উত্তরসূরি এবং কল্যাণকর ভবিষ্যতের আশা করা যায়। একই সঙ্গে এটি শেখায় সব আশা-ভরসা একমাত্র আল্লাহর ওপরই রাখা উচিত।
দুআ: ৪৩ সূরা আল- আম্বিয়া:১১২
رَبِّ احْكُمْ بِالْحَقِّ وَرَبُّنَا الرَّحْمٰنُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰى مَا تَصِفُوْنَ
হে আমার পালনকর্তা! তুমি ন্যায়ানুগ ফয়সালা করে দাও। আমাদের পালনকর্তা তো দয়াময়, তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে আমরা তার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।- সূরা আম্বিয়া:১১২
জ্ঞাতব্য
এটি মুহাম্মাদ (সা) এর দুআ। এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা নবী (সা)-কে এ দুআটি বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই দুআ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আল্লাহর ন্যায়বিচার এবং কঠিন পরিস্থিতিতে তার সাহায্য কামনার শিক্ষা দেয়। এটি ধৈর্য, আল্লাহর ওপর ভরসা এবং সত্যের ওপর অটল থাকার অনুপ্রেরণা দেয়।
দুআ: ৪৪ সূরা আল- মুমিনুন ২৬
رَبِّ انْصُرْنِيْ بِمَا كَذَّبُوْنِ
হে আমার পালনকর্তা! আমাকে সাহায্য কর। কেননা, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।- সূরা আল মুমিনুন:২৬
ফায়দা
অন্যায় অপবাদ, বিরোধিতা বা কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থন লাভের জন্য এই দুআ পড়া যায়।
দুআ: ৪৫ সূরা আল- মুমিনুন ২৯
رَبِّ اَنْزِلْنِيْ مُنْزَلًا مُّبٰرَكًا وَّأَنْتَ خَيْرُ الْمُنْزِلِيْنَ
হে আমার পালনকর্তা! আমাকে এমনভাবে অবতরণ করাও যা হবে কল্যাণকর।- সূরা মুমিনুন:২৯
ফায়দা
নতুন কোনো জায়গায় যাওয়া, বাসা বদল, সফর বা নতুন কাজ শুরু করার সময় কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য এই দুআ পড়া যায়।
আল্লাহ তাআলা হযরত নূহ (আ) কে এই দুআ শিক্ষা দিয়েছিলেন যে, প্লাবন শেষে যখন তুমি নৌকা থেকে অবতরণ করবে, তখন এই দুআ পড়বে। এতে করে সেই অবতরণ এবং অবতরণ স্থল হবে কল্যাণকর এবং ক্ষতি ও বিপদাপদমুক্ত।
দুআ: ৪৬ সূরা আল- মুমিনুন ২৯
رَبِّ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزٰتِ الشَّيٰطِيْنِ وَاَعُوْذُ بِكَ رَبِّ اَنْ يَّحْضُرُوْنِ
হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। হে আমার প্রতিপালক! তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকে।- সূরা মুমিনুন:৯৭-৯৮
জ্ঞাতব্য
শয়তানের প্ররোচনা ও অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা প্রতিটি মানুষের জন্য অবশ্য কর্তব্য। কেননা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই শয়তানকে প্রতিরোধ করার সবচেয়ে বেশী শক্তি রাখেন।
ইমাম রাযী (রহ) বলেন, প্রকাশ্য শত্রু অপেক্ষা অপ্রকাশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কেননা প্রকাশ্য শত্রু ক্ষতি করার সুযোগ পেলে কেবল পার্থিব দিক থেকেই ক্ষতি করতে পারবে, কিন্তু গুপ্ত শত্রু সুযোগ পেলে দীন ও ইয়াকীনের সর্বনাশ ঘটিয়ে ছাড়ে।
আবার প্রকাশ্য শত্রুর কাছে হেরে গেলেও আমরা সওয়াবের অধিকারী হব, কিন্তু অপ্রকাশ্য শত্রু যদি আমাদের পরাস্ত করতে সক্ষম হয়, তবে আমরা মহা ফিতনার সম্মুখীন হব।
যদি প্রকাশ্য শত্রু কাউকে হত্যা করে তবে সে শহীদ হয়ে যায়। আর গুপ্ত শত্রুর (শয়তানের) হাতে যে মারা পড়ে, সে হয় অভিশপ্ত। সুতরাং গুপ্ত শত্রু হতে দূরে থাকাটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না বান্দা মনে-প্রাণে শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় না চাইবে।- তাফসীরে কাবীর
দুআ: ৪৭ সূরা আল- মুমিনুন ১০৯
رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।- সূরা মুমিনুন: ১০৯
দুআ: ৪৮ সূরা আল- মুমিনুন ১১৮
رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
হে আমার পালনকর্তা! ক্ষমা কর ও দয়া কর। তুমিই তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু।- সূরা মুমিনুন: ১১৮
দুআ: ৪৯ সূরা আল-ফুরকান ৬৫-৬৬
رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের কাছ থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও। নিশ্চয় এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ। বসবাস ও অবস্থানস্থল হিসেবে তা কত নিকৃষ্ট জায়গা!-সূরা আল-ফুরকান: ৬৫-৬৬
জ্ঞাতব্য
যে জিনিস আসে ও চলে যায় তাকে غَرَام (বিনাশ) বলা হয় না। বরং غَرَام (বিনাশ) বলা হয় এমন শাস্তিকে যা আসার পর আর যাওয়ার নাম করে না বা কিছুতেই সরে যায় না।
দুআ: ৫০ সূরা আল-ফুরকান ৭৪
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের ইমাম।- সূরা আল-ফুরকান: ৭৪
জ্ঞাতব্য: চোখের শীতলতার ব্যাখ্যা
হযরত হাসান বসরী (রহ) কে এই আয়াত প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, এই চোখের শীতলতা দুনিয়াতে হবে না আখিরাতে? তিনি বললেন, না, আল্লাহর কসম! বরং তা দুনিয়াতেই হবে।
জিজ্ঞাসা করা হলো, তা কি? তিনি বললেন, তা হলো একজন মুসলমানের নিজের স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বন্ধুকে আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে দেখতে পাওয়া।
আল্লাহর কসম! একজন মুসলমানের জন্য এর চাইতে প্রিয় কিছু হতে পারে না যে, সে তার (স্ত্রী,) সন্তান, পিতা (মাতা), ভাই বন্ধুকে আল্লাহর ‘ইবাদত-আনুগত্যের মধ্যে দেখতে পাবে।
হযরত মুজাহিদ (রহ) থেকে এই আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত আছে, হে আল্লাহ! আমাদেরেক এমন স্ত্রী-সন্তান দান কর, যারা তোমার ‘ইবাদত-আনুগত্য উত্তমভাবে করে এবং তোমার আনুগত্য করা অবস্থায় কোন ধরনের গুনাহ না করে।
স্ত্রী-সন্তানের গঠন ও প্রকৃতি অর্থাৎ বাহ্যিক সৌন্দর্য ও স্বভাব-চরিত্র সুন্দর হওয়ার ব্যাপারেও দুআটি প্রযোজ্য। কেননা সুদর্শন ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হওয়া দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যের লক্ষণ এবং তা হৃদয় মনকে বেশী আকর্ষণকারী।
কেমন নারী উপকারী
হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে, তিনি বলেন- নিঃসন্দেহে কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর এতটা উপকৃত হতে পারে না, যতটা উপকৃত হয় সুদর্শনা, সুন্দর স্বভাব-চরিত্র, ভালেবাসা দানকারী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারী নারী দ্বারা।
অপর দিকে আল্লাহর সাথে শিরক এর পর কোন ব্যক্তির এতটা অনিষ্ট হয় না, যতটা অনিষ্ট হয় খারাপ স্বভাব-চরিত্র ও কটুভাষিণী নারীর দ্বারা।
দুনিয়াতে সবচাইতে উত্তম দুটি জিনিস
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহ (রা) এই দুআ করেন-
اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَسْئَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَّا تَرْتَدُّ وَنَعِيْمًا لَّا يَنْفَدُ
হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে চোখের এমন শীতলতা চাই যাতে কখনো বিরাম আসবে না আর এমন নিয়ামত চাই যা কখনো শেষ হবে না’ এবং বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন-
لَيْسَ مِنْ هَاتَيْنِ شَيْءٌ فِي الدُّنْيَا
দুনিয়াতে এই দুটি বিষয়ের চাইতে উত্তম কিছু নাই।- তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
উপসংহার
আল-কুরআনের দুআ সম্পর্কে এই পর্বে আলোচিত বিষয়গুলো আমাদের জ্ঞান ও আমলের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। তবে কুরআনের দুআগুলোর শিক্ষা এতেই শেষ নয়। পরবর্তী ভাগে আরও গুরুত্বপূর্ণ দুআ, তাদের তাৎপর্য এবং জীবনে প্রয়োগের দিকগুলো আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
🔹🔹🔹
👉 আরও পড়ুন কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত



