
খাওয়ার আদব – কানযুল উম্মাল- ইসলাম শুধু ইবাদতের বিধানই দেয়নি; বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজের জন্যও সুন্দর আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছে। খাওয়ার আদব তার অন্যতম।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আহারের আগে ও পরে কী করতে হবে, কীভাবে বসে খেতে হবে, কার সঙ্গে খেতে হবে, কোন হাতে খেতে হবে এবং কী কী আচরণ পরিহার করতে হবে- এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
এসব সুন্নত অনুসরণ করলে খাবারে বরকত আসে, শিষ্টাচার গড়ে ওঠে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশা করা যায়।
এই অধ্যায়ে কানযুল উম্মাল গ্রন্থে বর্ণিত খাওয়ার আদব সম্পর্কিত হাদিসসমূহ বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ফায়দাসহ উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে পাঠক সহজেই সুন্নতসম্মত আহারের শিক্ষা গ্রহণ করে দৈনন্দিন জীবনে তা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ কানযুল উম্মালের কিতাবুল মায়িশাহ ওয়াল আদাত অধ্যায় থেকে অনূদিত
আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত
কিতাবুল মায়িশাহ ওয়াল আদাত
অভ্যাস ও জীবন-জীবিকা
খাওয়ার আদব
আহারে বিনয়
40707- آكل كما يأكل العبد، وأجلس كما يجلس العبد.”ابن سعد، ع – عن عائشة”.
৪০৭০৭.আমি এমনভাবে আহার করি যেমন একজন গুলাম আহার করে। আমি এমনভাবে বসি যেমন একজন গুলাম বসে।
40708- إنما أنا عبد، آكل كما يأكل العبد، وأشرب كما يشرب العبد.”عد – عن أنس”.
৪০৭০৮.আমি একজন বান্দা। আমি এমনভাবে আহার করি যেমন একজন গুলাম আহার করে। আমি এমনভাবে পান করি যেমন একজন গুলাম পান করে।
40709- آكل كما يأكل العبد، وأجلس كما يجلس العبد فإنما أنا عبد.”ابن سعد، هب – عن يحيى بن أبي كثير مرسلا”.
৪০৭০৯.আমি এমনভাবে আহার করি যেমন একজন গুলাম আহার করে। আমি এমনভাবে বসি যেমন একজন গুলাম বসে।আমি তো একজন (আল্লাহর) বান্দা।
ফায়দা
রাসূল ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন—আহার ও বসার ক্ষেত্রে বিনয়ী হওয়া ঈমানের সৌন্দর্য। অহংকার নয়; বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে নম্রতা ও সরল জীবনযাপনই একজন মুমিনের আদর্শ।
আল্লাহর নিকট যদি দুনিয়ার মূল্য থাকতো
40710- آكل كما يأكل العبد، فوالذي نفسي بيده! لو كانت الدنيا تزن عند الله جناح بعوضة ما سقى منها كافرا كأسا. “هناد في الزهد – عن عمرو بن مرة”.
৪০৭১০.আমি এমনভাবে আহার করি যেমন একজন গুলাম আহার করে। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহর নিকট দুনিয়ার মূল্য একটি মাছির সমানও হত, তবে আল্লাহ তাআলা কোন কাফিরকে এক গ্লাস পানিও পান করতে দিতেন না।
ফায়দা
দুনিয়ার চাকচিক্য আল্লাহর কাছে প্রকৃত মর্যাদার মাপকাঠি নয়। তাই দুনিয়ার প্রাচুর্যে মোহিত না হয়ে বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও আখিরাতের সফলতাকেই জীবনের আসল লক্ষ্য বানানো উচিত।
হেলান দিয়ে আহার করা মাকরূহ
40711- أما أنا فلا آكل متكئا.”ت – عن أبي جحيفة”
৪০৭১১.আমি হেলান দিয়ে আহার করি না।
ফায়দা
আহারের সময় বিনয় ও সংযম অবলম্বন করা সুন্নতের আদব। বিলাসিতা ও অহংকার থেকে দূরে থেকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আহার করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
খাবার ঠান্ডা করে আহার করা
40712- أبردوا بالطعام؛ فإن الحار لا بركة فيه.”فر عن ابن عمر؛ ك عن جابر وعن أسماء؛ مسدد – عن أبي يحيى؛ طس عن أبي هريرة؛ حل عن أنس”.
৪০৭১২.খাবার ঠান্ডা করে আহার কর। গরম খাদ্যে বরকত হয় না।
ফায়দা
খাবার কিছুটা ঠান্ডা করে ধীরে-সুস্থে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী এবং তাড়াহুড়া থেকে বিরত রাখে। আহারের সময় ধৈর্য ও শিষ্টাচার বজায় রাখা উত্তম।
ঠান্ডা খাবারে বরকত
40713- إياكم والطعام الحار! فإنه يذهب بالبركة، وعليكم بالبارد! فإنه أهنأ وأعظم بركة.”عبدان عن بولاء”.
৪০৭১৩.গরম খাদ্য থেকে বিরত থাক। কেননা তা খাবারের বরকত বের করে দেয়। ঠান্ডা খাদ্য আহার কর, কারণ তা খেতেও সুস্বাদু এবং তাতে বরকতও বেশী।
ফায়দা
ঠান্ডা খাবার বলতে অতি গরম খাবার না খেয়ে হালকা ঠান্ডা করে খাবার খাওয়া বোঝানো হয়েছে।
40714- أبردوا طعامكم يبارك لكم فيه.”عد عن عائشة”.
৪০৭১৪.তোমার খাবার ঠান্ডা হতে দাও। তাতে তোমার জন্য বরকত হবে।
ফায়দা
আহারের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে কিছুটা ঠান্ডা হলে খাওয়া উত্তম। এতে ধৈর্য, শিষ্টাচার ও পরিমিতির শিক্ষা পাওয়া যায় এবং খাবারের বরকতের আশা করা যায়।
একসাথে আহার করা
40715- اجتمعوا على طعامكم واذكروا اسم الله عليه يبارك لكم فيه.”حم، د”3 هـ, حب، ك عن وحشي بن حرب”.
তোমরা একসাথে আহার কর। তাতে আল্লাহর নাম নাও। এতে তোমার জন্য বরকত প্রদান করা হবে।
ফায়দা
একসাথে বসে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে আহার করলে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহ তাআলার বরকত লাভের আশা করা যায়। ছোট আমলও আল্লাহর নামে শুরু করলে তা কল্যাণময় হয়।
একপাত্রে আহার করা
40716- أحب الطعام إلى الله ما كثرت عليه الأيادي.”ع، هب، حب والضياء عن جابر”.
ঐ খাবার আল্লাহর নিকট বেশী পছন্দনীয় যার মধ্যে অধিক হাত হয়।
ফায়দা
যে আহারে বেশি মানুষ শরিক হয়, তাতে সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ভাগাভাগির মানসিকতা গড়ে ওঠে। একসঙ্গে খাওয়ার মধ্যে বরকত ও পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হওয়ার শিক্ষা রয়েছে।
খাবার বন্টন করে খাওয়া
40717- إن طعام الواحد يكفي الاثنين، وإن طعام الاثنين يكفي الثلاثة والأربعة، وإن طعام الأربعة يكفي الخمسة والستة.”هـ, عن عمر”.
৪০৭১৭.একজনের খাবার দুইজনের জন্য যথেষ্ট। দুইজনের খাবার তিনজন ও চারজনের জন্য যথেষ্ট। চারজনের খাবার পাঁচ ও ছয়জনের জন্য যথেষ্ট।
ফায়দা
অল্প খাবার নিয়েও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ভাগাভাগি করলে তাতে বরকত আসে। উদারতা, অতিথিপরায়ণতা ও পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতাই এ হাদিসের অন্যতম শিক্ষা।
বরকত আছে যেসবের মধ্যে
40718- البركة في الثلاثة: في الجماعة، والثريد، والسحور.”طب، هب عن سلمان”.
৪০৭১৮.তিনটি জিনিসের মধ্যে বরকত আছে। জামাআত বা দলবদ্ধতা। (আরব দেশীয় খাবার) সারিদ এবং সেহরীর খাদ্যে।
40719- الجماعة بركة والسحور بركة، والثريد بركة.”ابن شاذان في مشيخته عن أنس”.
৪০৭১৯.জামাআত বা দলবদ্ধতায় বরকত আছে। সারিদে বরকত আছে এবং সেহরীর খাদ্যে বরকত আছে।
ফায়দা
সারিদ (ثريد) হলো আরবদের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। এতে রুটির টুকরো মাংসের ঝোল বা স্যুপে ভিজিয়ে খাওয়া হয়। অনেক সময় এর সঙ্গে মাংসও পরিবেশন করা হয়। এটি পুষ্টিকর ও তৃপ্তিদায়ক খাবার হিসেবে পরিচিত।
অল্প খাবার যথেষ্ট হয় যেভাবে
40720- طعام الاثنين كافي الثلاثة، وطعام الثلاثة كافي الأربعة.”مالك، ق، ت عن أبي هريرة”.
৪০৭২০.দুইজনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট। আর তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।
40721- طعام الواحد يكفي الاثنين، وطعام الاثنين يكفي الأربعة، وطعام الأربعة يكفي الثمانية.”حم، م ” ت، ن عن جابر”.
৪০৭২১.একজনের খাবার দুইজনের জন্য যথেষ্ট। দুইজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।আর চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট।
40722- طعام الاثنين يكفي الأربعة، وطعام الأربعة يكفي الثمانية، فاجتمعوا عليه ولا تفرقوا.”طب عن ابن عمر”.
৪০৭২২.দুইজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট।আর চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট। খাবারের জন্য মিলেমিশে বস। বিক্ষিপ্তভাবে বসো না।
ফায়দা
অল্প খাবারও ভাগাভাগি করে একসঙ্গে খেলে আল্লাহ তাআলা তাতে বরকত দান করেন। তাই অপচয় না করে মিলেমিশে আহার করা, উদারতা ও পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করা একজন মুমিনের সুন্দর চরিত্র।
মিলেমিশে আহার করা
40723- كلوا جميعا، ولا تفرقوا، فإن طعام الواحد يكفي الاثنين، وطعام الاثنين يكفي الثلاثة والأربعة، كلوا جميعا ولا تفرقوا، فإن البركة في الجماعة.”العسكري في المواعظ عن عمر”.
৪০৭২৩.তোমরা মিলেমিশে আহার কর। বিক্ষিপ্ত হয়ো না। কেননা একজনের খাবার দুইজনের জন্য যথেষ্ট। আর দুইজেনের খাবার তিন ও চারজনের জন্য যথেষ্ট। মিলেমিশে আহার কর। বিক্ষিপ্ত হয়ো না। কেননা জামাআত বা একতার মধ্যেই বরকত।
40724- كلوا جميعا ولا تفرقوا، فإن البركة مع الجماعة.”هـ عن عمر”.
৪০৭২৪.তোমরা মিলেমিশে আহার কর। বিক্ষিপ্ত হয়ো না। কেননা জামাআত বা একতার মধ্যেই বরকত।
ফায়দা
একসঙ্গে বসে আহার করা পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং ঐক্য ও মিলেমিশে চলার মধ্যেই আল্লাহ তাআলার বরকত ও কল্যাণ নিহিত।
জুতা খুলে আহার করা
40725- اخلعوا نعالكم عند الطعام، فإنها سنة جميلة.”ك عن أبي عبس بن جبر”.
৪০৭২৫.আহারের সময় জুতা খুলে নাও। কেননা তা উত্তম আদর্শ।
ফায়দা
আহারের সময় পরিচ্ছন্নতা, ভদ্রতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখা ইসলামের সৌন্দর্যের অংশ। বিনয় ও আদবের সঙ্গে আহার করলে তা উত্তম চরিত্রের পরিচয় বহন করে।
আরাম করে আহার করা
40726- إذا أكلتم الطعام فاخلعوا نعالكم، فإنه أروح لأقدامكم.”طس، ع، ك عن أنس”.
৪০৭২৬.যখন আহার কর তখন জুতা খুলে নাও। কেননা তা তোমার পায়ের জন্য অধিক আরামদায়ক।
40727- إذا قرب لأحدكم طعامه وفي رجليه نعلان فلينزع نعليه، فإنه أروح للقدمين وهو من السنة.”ع عن أنس”.
৪০৭২৭.যখন তোমাদের কারো সামনে তার খাবার নিয়ে আসা হয়, আর তার জুতা পায়ে থাকে, তবে সে যেন তার জুতা খুলে নেয় কেননা এতে পায়ের আরাম হয় আর এটা আদর্শ থেকে।
40728- إذا وضع الطعام فاخلعوا نعالكم، فإنه أروح لأقدامكم.”الدارمي، ك عن أنس”.
৪০৭২৮.যখন খাবার রাখা হয় তখন জুতা খুলে নাও। এতে তোমাদের পায়ের আরাম লাভ হবে।
ফায়দা
আহারের সময় স্বাচ্ছন্দ্য, পরিচ্ছন্নতা ও আদব বজায় রাখা উত্তম। ছোট ছোট সুন্নতি শিষ্টাচার মেনে চললে দৈনন্দিন জীবনেও সৌন্দর্য ও বরকত আসে।
বিলাসিতা বর্জন করা
40729- أدمان في إناء لا آكله ولا أحرمه.”طس، ك عن أنس”.
৪০৭২৯.দুই তরকারী পাত্র (অধিক পদ) না আমি খাই আর না হারাম সাব্যস্ত করি।
ফায়দা
ইসলাম বিলাসিতা বাধ্যতামূলক করেনি, আবার বৈধ নিয়ামতও হারাম করেনি। তাই সরল জীবনযাপন করা উত্তম, তবে আল্লাহর দেওয়া হালাল নিয়ামতকে অযথা হারাম মনে করাও উচিত নয়।
গোশত খাওয়ার নিয়ম
40730- أدن العظم من فيك فإنه أهنأ وأمرأ.”د ” عن صفوان بن أمية”.
৪০৭৩০.হাড় তোমার মুখে দাও এবং দাঁত দিয়ে গোশত ছিঁড়ে খাও। তাতে অধিক স্বাদ পাওয়া যায় ও সহজে হজম হয়।
ফায়দা
আহারের সময় স্বাভাবিক ও সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করা উত্তম। অপচয় না করে খাবারের যথাযথ ব্যবহার করা এবং আল্লাহর নিয়ামতের কদর করাও এ শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত।
অনারবদের রীতি পরিহার করা
40731- لا تقطعوا اللحم بالسكين، فإنه من صنيع الأعاجم، ولكن انهشوا نهشا، فإنه أهنأ وأمرأ. “د ” هق عن عائشة”.
৪০৭৩১. গোশত ছুরি দ্বারা কেটে খেও না। কেননা তা আজমীদের রীতি বরং তা দাঁত দ্বারা কামড়ে খাও। কেননা তা অধিক সুস্বাদু ও সহজে হজম হয়।
ফায়দা
আহারের ক্ষেত্রে সরলতা ও স্বাভাবিক পদ্ধতি অবলম্বন করা উত্তম। তবে ছুরি-কাঁটা বা ছুরি দিয়ে মাংস কাটা নিজে হারাম নয়; মূল শিক্ষা হলো অহংকার ও বিলাসিতা থেকে দূরে থেকে আল্লাহর নিয়ামতের কদর করা।
গোশত যেভাবে অধিক সুস্বাদু হয়
40732- انهشوا اللحم نهشا، فإنه أشهى وأهنأ وأمرأ.”حم ” ت، ك عن صفوان بن أمية”.
৪০৭৩২. গোশত দাঁত দ্বারা কেটে খাওয়ার দ্বারা অধিক স্বাদ পাওয়া যায় এবং তা সহজে হজম হয়।
ফায়দা
আহারের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ও সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করা উত্তম। খাবার ধীরে-সুস্থে চিবিয়ে খেলে তা উপভোগ্য হয় এবং হজমেও সহায়ক হতে পারে।
গোশতে শুরুআ বাড়িয়ে দেয়া
40733- إذا اشترى أحدكم لحما فليكثر مرقته، فإن لم يصب أحدكم لحما أصاب مرقة، وهو أحد اللحمين.”ت ” هب، ك عن عبد الله المزني”.
৪০৭৩৩. তোমাদের কেউ যদি গোশত ক্রয় করে তবে এতে শুরুয়া বাড়িয়ে দাও। যাতে কেউ গোশত না পেলে অন্তত শুরুয়া পায়। আর এটাও গোশতের শামিল।
ফায়দা
আহারের সময় নিজের পরিবারের সবার কথা ভাবা এবং অভাবীদের প্রতিও সহমর্মিতা দেখানো ইসলামের সুন্দর শিক্ষা। সামান্য খাবারও ভাগাভাগি করলে তাতে বরকত ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।
বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে
40734- إذا أكل أحدكم طعاما فليذكر اسم الله، فإن نسي أن يذكر اسم الله في أوله فليقل: بسم الله في أوله وآخره.”د، ت ” ك عن عائشة”.
৪০৭৩৪. যখন তোমাদের কেউ আহার করে তখন সে যেন আল্লাহর নাম নেয় (বিসমিল্লাহ বলে)। আর যদি আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায় তবে যেন বলে, খাওয়ার শুরু ও শেষে আল্লাহর নামে।
ফায়দা
আহারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নত। ভুলে গেলে মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে “বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু” বলা উচিত। আল্লাহর নাম নিয়ে আহার শুরু করলে তাতে বরকতের আশা করা যায়।
খাওয়ার আদব
40735- اذن يا بني فسم الله، وكل بيمينك وكل مما يليك.”د، ت ” ك عن أبي هريرة؛ هـ عن عمر بن أبي سلمة”.
৪০৭৩৫. বৎস! খাবারের নিকটবর্তী হও এবং আল্লাহর নাম নাও। ডান হাত দ্বারা খাও আর নিজের সামনে থেকে খাও।
ফায়দা
আহারের আদব হলো—‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করা, ডান হাতে খাওয়া এবং নিজের সামনে থেকে খাওয়া। এসব শিষ্টাচার একজন মুমিনের সুন্দর চরিত্র ও সুন্নতের অনুসরণের পরিচয়।
শয়তান প্রতিরোধে বিসমিল্লাহ
٤٠٧٣٦- أما! إنه لو قاله: بسم الله؛ لكفاكم، فإذا أكل أحدكم طعاما فليقل: بسم الله، فإن نسي أن يقول: بسم الله؛ في أوله فليقل: بسم الله في أوله وآخره.”حم، هـ “٢ حب، هق عن عائشة”.
৪০৭৩৬. সাবধান! যদি সে ‘বিসমিল্লাহ’ বলত, তবে তা তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হতো। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন আহার করবে, তখন যেন ‘বিসমিল্লাহ’ বলে। আর যদি শুরুতে বলতে ভুলে যায়, তবে যেন বলে: ‘বিসমিল্লাহি ফি আওয়ালিহি ওয়া আখিরিহি’ (শুরু ও শেষে আল্লাহর নামে)।
ফায়দা
আহারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নত ও বরকতের কারণ। ভুলে গেলে মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘বিসমিল্লাহি ফি আওয়ালিহি ওয়া আখিরিহি’ বলা উচিত।
٤٠٧٣٧- والله ما زال الشيطان يأكل معه حتى سمى، فلم يبق في بطنه شيء إلا قاءه.”حم، د، ن، ك عن أمية بن مخشي”.
৪০৭৩৭. আল্লাহর কসম! সে যখন পর্যন্ত আল্লাহর নাম নেয়নি, শয়তান তার সঙ্গে আহার করছিল। পরে সে আল্লাহর নাম নিলে শয়তান তার পেটে যা ছিল সব বমি করে বের করে দিল।
ফায়দা
আল্লাহর নাম ছাড়া আহার করলে শয়তান তাতে অংশ নেয়। তাই প্রতিটি খাবার আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আদব।
পাত্রের সামনে থেকে খাবার খাওয়া
٤٠٧٣٨- يا غلام! سم الله، وكل بيمينك، وكل مما يليك.”ق “٣ هـ عن عمر بن أبي سلمة”.
৪০৭৩৮. হে বৎস! আল্লাহর নাম নিয়ে (বিসমিল্লাহ বলে) খাও, ডান হাতে খাও এবং তোমার সামনে থেকে খাও।
ফায়দা
আহারের সুন্নত হলো—‘বিসমিল্লাহ’ বলা, ডান হাতে খাওয়া এবং নিজের সামনে থেকে খাওয়া। এসব আদব মেনে চলা নবী ﷺ-এর অনুসরণের নিদর্শন।
খাবারে শয়তানের কৌশল
٤٠٧٣٩- إن الشيطان ليستحل الطعام الذي لم يذكر اسم الله عليه، وإنه جاء بهذا الأعرابي ليستحل به، فأخذت يده، وجاء بهذه الجارية ليستحل بها، فأخذت بيدها؛ فوالذي نفسي بيده! إن يده في يدي مع أيديهما.”حم، م “١ د، ن عن حذيفة”.
৪০৭৩৯. যে খাবারের ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয় না, শয়তান তা নিজের জন্য বৈধ করে নেয়। একবার সে এই বেদুঈনকে নিয়ে এলো, যাতে তার মাধ্যমে সে ওই খাবারে অংশ নিতে পারে। তখন আমি তার হাত ধরে ফেললাম। এরপর সে এই বালিকাকে নিয়ে এলো, যাতে তার মাধ্যমেও সে খাবারে অংশ নিতে পারে। তখন আমি তার হাতও ধরে ফেললাম। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! তাদের উভয়ের হাতসহ শয়তানের হাতও আমার হাতের মধ্যে ছিল।
ফায়দা
খাবারের আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর নাম নিয়ে আহার শুরু করলে শয়তানের অংশগ্রহণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং খাবারে বরকতের আশা করা যায়।
যে বিসমিল্লাহ বলে আহার করে ও আহার শেষে আল্লাহর প্রশংসা করে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়
٤٠٧٤٠- إن الرجل ليوضع الطعام بين يديه فما يرفع حتى يغفر له، يقول: بسم الله – إذا وضع، و: الحمد لله – إذا رفع.”الضياء عن أنس”.
৪০৭৪০. কোনো ব্যক্তির সামনে যখন খাবার রাখা হয়, সে যদি খাবার শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে এবং খাবার শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে, তবে সে খাবার শেষ করার আগেই তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
ফায়দা
আহারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা আল্লাহর একটি প্রিয় আমল। এতে বান্দা আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তাঁর ক্ষমা ও বরকতের আশা করতে পারে।
উপসংহার
খাওয়ার আদব শুধু কিছু শিষ্টাচার নয়; বরং এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নত এবং একজন মুমিনের উত্তম চরিত্রের পরিচয়। আহারের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া, ডান হাতে খাওয়া, নিজের সামনে থেকে খাওয়া, অপচয় পরিহার করা, একসঙ্গে আহার করা এবং খাবার শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা—এসব আমল মানুষের জীবনে বরকত, কৃতজ্ঞতা ও শৃঙ্খলা এনে দেয়।
আসুন, কানযুল উম্মাল-এ বর্ণিত এসব হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী আমাদের আহারের অভ্যাস গড়ে তুলি। সুন্নতের অনুসরণে প্রতিদিনের সাধারণ আহারও ইবাদতে পরিণত হতে পারে এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও আখিরাতের কল্যাণ লাভের মাধ্যম হতে পারে, ইনশাআল্লাহ।
🔹🔹🔹
👉 আরও পড়ুন আহার করানোর ফযীলত



