
আল কুরআনের দুআ : মাহাত্ম্য ও জ্ঞাতব্য – সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, বিপদ থেকে রক্ষাকারী, প্রয়োজনসমূহ পূর্ণকারী, দুনিয়া ও আখিরাতে রহমান ও রাহীমও বটে।
আর অসংখ্য দরূদ ও সালাম সারওয়ারে কায়েনাত, মানবতার মুক্তির দিশারী এবং উম্মতের সর্বাপেক্ষা দরদী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর প্রতি, যিনি দুনিয়া ও আখিরাতের এমন কোন অনিষ্ট নেই, যা থেকে তার উম্মতকে সতর্ক করেন নি, আর এমন কোন কল্যাণও নেই, যার প্রতি তার উম্মতকে অনুপ্রাণিত করেন নি।
হামদ ও সালাতের পর নিবেদন যে, পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল আলিমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, মানুষ যত ধরনের দুআ করে, তন্মধ্যে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দুআগুলোই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বাধিক উপকারী।
কেননা, কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দুআগুলো শব্দের দিক থেকে সংক্ষিপ্ত এবং মর্মের দিক থেকে প্রশস্ত। দীন ও দুনিয়ার এমন কোন প্রয়োজন নেই, যা এসব দুআয় উঠে আসেনি।
এ কারণেই হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ) মুনাজাতে মাকবুলের ভূমিকায় বলেছেন, এসব দু’আয় দীন ও দুনিয়ার প্রয়োজনের প্রতি যতটুকু দৃষ্টি রাখা হয়েছে, কিয়ামত পর্যন্ত আমরা এ বিষয় চিন্তা করলেও এত ব্যাপক বিষয়ভিত্তিক দুআ তৈরি করতে পারব না।
আবার এই দুআগুলোর মধ্যে কুরআনের দুআগুলো আরও একটু স্বাতন্ত্র্যের অধিকারী। তা হলো, এগুলো ওহিয়ে মাতলূ বা প্রত্যক্ষ ওহী যা সরাসরি মনোদৈহিক রোগের শিফা বা আরোগ্য, দুঃখ-বেদনা দূরকারী এবং ক্বলব বা অন্তরের শক্তি ও দৃঢ়তাবৃদ্ধিকারী।
অতএব উল্লিখিত বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করে বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে আল-কুরআনের দুআসমূহ উপস্থাপন করা হলো। আর এর সাথে তাফসীর গ্রন্থসহ আরো কিছু গ্রন্থ থেকে এর মাহাত্ম্য ও আনুষঙ্গিক কিছু বিষয়ও তুলে ধরা হলো, যেন দুআগুলোর প্রতি দুআকারীর আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পায় এবং দীন ও দুনিয়ার কল্যাণ লাভ করা সহজ হয়।
📝 দারুস সাআদাত প্রবন্ধ
🖋️ মারূফ আর রুসাফী
আল কুরআনের দুআ
দুআ: ১ – তা’আউয (আউজুবিল্লাহ)
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি।
জ্ঞাতব্য: আউজুবিল্লাহর মাহাত্ম্য
হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রোজ দশবার আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে আল্লাহ তা’আলা তার সঙ্গে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন, যে ফেরেশতা তার থেকে শয়তানকে বিতাড়িত করে।-তাফসীরে কাবীর
ইস্তিআযার ব্যাখ্যা
আল-ইস্তিআযাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে, কোন ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া। ইস্তিআযাহর মর্ম হচ্ছে, এমন এক শক্তিশালী সত্তার আশ্রয় গ্রহণ করা যিনি আপনা থেকে বিপদাপদ প্রতিহত করবেন।
এমন কোন ইহলৌকিক ও পারলৌকিক অনিষ্ট, ফিতনা-ফাসাদ ও বালা-মুসীবত নেই, যা থেকে হযরত রাসূলে আকরাম (সা) আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন নি এবং উম্মতকে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দেননি।
মানুষের প্রয়োজন অশেষ। কল্যাণকর এমন বিষয় নেই, যা অর্জনের মুখাপেক্ষী সে নয়। সুতরাং বান্দার أَعُوذُ بِاللَّهِ (আউযু বিল্লাহ-আল্লাহর আশ্রয় চাই) বাক্যের মধ্যে দৈহিক ও আত্মিক সব ধরনের অনিষ্ট প্রতিরোধ করার আবেদন রয়েছে। অনিষ্টের কোন সীমা পরিসীমা নেই। – তাফসীরে কাবীর
দুআ: ২ – তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।
জ্ঞাতব্য: বিসমিল্লাহর মাহাত্ম্য
হযরত জাবির (রা) বর্ণনা করেন যে, যখন এ আয়াতটি নাযিল হয়, তখন পূর্ব দিকে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, বায়ুমন্ডল স্তব্ধ হয়ে যায়, তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ সমুদ্র প্রশান্ত হয়ে উঠে, জন্তুগুলো কান লাগিয়ে মনোযোগ সহকারে শুনতে থাকে,
আকাশ থেকে অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হয়ে শয়তানকে বিতাড়ন করে এবং বিশ্বপ্রভু স্বীয় সম্মান ও মর্যাদার কসম করে বলেন, যে জিনিসের উপর আমার এ নাম নেয়া যাবে তাতে অবশ্যই বরকত হবে।- ইবনে কাসীর
দুআ: ৩ – সূরা আল-ফাতিহা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ١. الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ٢. الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ٣. مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ٤. إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥. اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ٦. صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ٧. غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
১. যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা। ২. যিনি পরম দয়াময়, অতি দয়ালু। ৩. যিনি বিচার দিবসের মালিক। ৪. আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। ৫. আমাদেরকে সরল ও সঠিক পথ দেখাও।৬. তাদের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। ৭. তাদের পথ নয়, যারা অভিশপ্ত এবং যারা পথভ্রষ্ট।- সূরা আল-ফাতিহা: ১-৭
জ্ঞাতব্য: সূরা আল ফাতিহার ফযীলত
হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হযরত রাসূলে কারীম (সা) বলেন : সূরা ফাতিহা মক্কায় নাযিল হয়েছে আরশের নিম্নস্থ খাযানা থেকে।- দুররে মানসূর
হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন : যখন তুমি বিছানায় শায়িত হও, তখন যদি ‘আলহামদু’ ও ‘কুলহুআল্লাহু’ সূরাদ্বয় পাঠ কর, তাহলে তুমি মৃত্যু ভিন্ন অন্য সব বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে।- মুসনাদ আল বাযযার
দুআ: ৪ – সূরা আল-বাকারাহ- ১২৭
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের (এই কাজ) কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।- সূরা আল-বাকারাহ: ১২৭
জ্ঞাতব্য: আমল কবুল না হওয়ার ভয়
এই দু’আটি হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আ) পবিত্র কাবা শরীফ নির্মাণের সময় করেছিলেন। হযরত উহায়ব বিন ওয়ার্দ (রহ) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি এই আয়াত পড়ে খুব ক্রন্দন করতেন আর বলতেন,
হায়! আল্লাহ তাআলার প্রিয় বন্ধু ও গৃহীত নবী হযরত ইবরাহীম (আ) আল্লাহর কাজ তার হুকুমেই করেছেন, তার হুকুমেই তার ঘর নির্মাণ করেছেন, তথাপি ভয় করেছেন, আল্লাহর নিকট এটা মঞ্জুর হয় কিনা।
মুমিনদের অবস্থা আল্লাহ তা’আলা এমনই বর্ণনা করেছেন। যেমন আল্লাহ তা’আলা অন্যত্র বলেন :
وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوا وَّقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ
তারা সৎকার্যাবলী সম্পাদন করে। দান-খয়রাত করে, এবং তাদের অন্তর আল্লাহর ভয়ে কম্পিত থাকে।- [সূরা আল- মুমিনূন: ৬০]।- ইবনে কাসীর
দুআ: ৫ – সূরা আল বাকারাহ ১২৮
رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্জের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী, দয়ালু।-সূরা আল- বাকারাহ: ১২৮
দুআ: ৬ – সূরা আল বাকারাহ ২০১
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।- সূরা বাকারাহ: ২০১
জ্ঞাতব্য: সবচেয়ে ব্যাপক দুআ
কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দুআসমূহের মধ্যে এই দু’আটি সর্বোত্তম। দীন ও দুনিয়ার যাবতীয় উদ্দেশ্যের জন্য সম্ভবত এটিই শ্রেষ্ঠ দুআ।
হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা) অধিকাংশ সময় উক্ত দুআ পড়তেন। অপর বর্ণনায় আছে, হযরত আনাস (রা) বলেন, নবী (সা) একশটি দুআ করলেও তার প্রথমে, মাঝখানে এবং শেষে এই দুআটি অবশ্যই পড়তেন।- ইবনে কাসীর, হায়াতুস সাহাবা
হাসানা বা কল্যাণের ব্যাখ্যা
حَسَنَةً হাসানাহ্ (কল্যাণ)-এর ব্যাখ্যায় অনেক উক্তি বর্ণিত আছে। দুনিয়ার কল্যাণ হলো- নেক আমল [عمل صالح], ইলম ও ইবাদত [العلم والعبادة], পবিত্র রিযিক [الرزق الطيب], উপকারী ইলম [العلم النافع], আফিয়াত বা সুস্থতা ও নিরাপত্তা [عافية], নেককার স্ত্রী [المرأة الصالحة من الحسنات] প্রভৃতি।১৮
আর আখিরাতের কল্যাণের মধ্যে রয়েছে হিসাব সহজ হওয়া, ভয়-সন্ত্রাস হতে মুক্তি পাওয়া, আমলনামা ডান হাতে পাওয়া এবং সম্মানের সাথে বেহেশতে প্রবেশ করা ইত্যাদি।
আর দোযখের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়ার অর্থ দোযখ থেকে মুক্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে পাপ ও হারামের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও সন্দেহমূলক কাজ এবং সুস্পষ্ট হারামসমূহ থেকে আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখবেন।- ইবনে কাসীর
দুআ: ৭ – সূরা বাকারা ২৫০
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَي الْقَوْمِ الْكَفِرِينَ .
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ধৈর্যশক্তি দান করো আমাদের কদম অবিচল রাখ এবং আমাদের সাহায্য কর কাফির জাতির বিরুদ্ধে।- সূরা বাকারা: ২৫০
জ্ঞাতব্য: ধৈর্যশীলদের মর্যাদা
তাফসীরে ইবনে আবী হাতিমে আছে যে, কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তাআলা সকলকে একত্র করবেন, তখন আহ্বানকারী আহ্বান করে বলবে, ধৈর্যশীলরা কোথায়? তোমরা হিসাব গ্রহণের পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ কর।
যখন তারা জান্নাতের দিকে যেতে থাকবে তখন ফেরেশতাদের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হবে। ফেরেশতারা বলবে, হে বনী আদম! তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তারা বলবে, আমরা জান্নাতে যাচ্ছি। ফেরেশতারা বলবে, হিসাবের পূর্বেই? তারা বলবে, হ্যাঁ।
তখন ফেরেশতারা বলবে, তোমরা কারা? তারা বলবে, আমরা ধৈর্যশীল!
ফেরেশতারা বলবে, তোমরা কিসের উপর সবর (ধৈর্য ধারণ) করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সবর করতাম- আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত।
ফেরেশতারা বলবে, তোমরা যেমনটা বলেছ (ঠিক বলেছ), যাও তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর
فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَمِلِينَ
আমলকারীদের জন্য কতইনা উত্তম পুরস্কার।- [সূরা আয-যুমার: ৭৪]।- তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
দুআ: ৮ – সূরা বাকারাহ ২৮৬
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَي الْقَوْمِ الْكَفِرِينَ .
হে আমাদের রব! আমরা ভুলে গেলে অথবা ত্রুটি-বিচ্যুতি করে ফেললে তুমি আমাদের পাকড়াও করো না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেমন দায়িত্বভার অর্পণ করেছিলে, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না।
হে আমাদের রব! এমন দায়িত্বভার আমাদের উপর অর্পণ করো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। তুমি আমাদের প্রতি উদার হও।
আমাদের ক্ষমা কর। আমাদের দয়া কর। তুমিই আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফিরদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো। – সূরা আল-বাকারা: ২৮৬
জ্ঞাতব্য: সূরা বাকারা শেষ আয়াতসমষ্টির ফযীলত
এই আয়াতগুলো সূরা বাকারার শেষ আয়াতসমষ্টি। এর ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদীস রয়েছে। এগুলো আরশের নিম্নস্থ ভাণ্ডার থেকে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা)-কে দান করা হয়েছে।
একবার হযরত জিবরাঈল (আ) নবী (সা)-এর নিকট এসে এই দু’আগুলো পাঠ করতে বলেন। নবী (সা) একে একে সব দু’আ পাঠ করেন। হযরত জিবরাঈল (আ) বলেন, হে মুহাম্মদ (সা)! সব কবুল হয়েছে।- তাফসীর তাবারী
হযরত আবু মাসঊদ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন : যে ব্যক্তি এই আয়াত দু’টি রাতে পাঠ করবে, তার জন্য তাই যথেষ্ট।- ইবনে কাসীর
এই যথেষ্ট’ হওয়ার সঠিক অর্থ হলো, তা মানুষকে সব রকমের অকল্যাণ ও বিপদ থেকে নিরাপদ রাখবে।- আযকারে মাসনূনাহ
দুআ: ৯ – সূরা আলে ইমরান ৮
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
হে আমাদের পালনকর্তা! সরল সুপথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে বিপথগামী করো না এবং তোমার নিকট থেকে আমাদের অনুগ্রহ দান করো। নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা।- সূরা আলে ইমরান: ৮
জ্ঞাতব্য: হিদায়াত লাভের পর গুমরাহ হওয়া থেকে ভয়
হযরত উম্মু সালামা (রা) বলেন, নবী কারীম (সা) এই দুআ করেন-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
হে অন্তরসমূহে পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর অটল রাখ অতঃপর তিনি উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন।- তাফসীর ইবনে আবী হাতিম
একবার হযরত আবু হুরায়রা (রা) দুআ করছিলেন : হে আমার রব! আমি যেন পাপাচার না করি। হে আমার রব! আমি যেন চুরি না করি। হে আমার রব! আমি যেন নাশোকরী না করি। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি এগুলোর ভয় করছেন?
তিনি বললেন, আমি অন্তরের পরিবর্তন হওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন।- তাফসীর আদ দুররে মানসূর
দুআ ১০: সূরা আলে ইমরান ১৬
رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি। অতএব তুমি আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।- সূরা আল ইমরান: ১৬
জ্ঞাতব্য: তাহাজ্জুদের সময় ইস্তিগফার করা
হযরত আনাস (রা) বলেন, আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হতো যে, আমরা তাহাজ্জুদের নামায পড়লে যেন ঊষার শেষ সময়ে ৭০ বার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।- ইবনে কাসীর
দুআ ১১: সূরা আলে ইমরান ২৬
اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমান কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমা। – সূরা আলে ইমরান: ২৬
জ্ঞাতব্য: সকল সম্মান ও ক্ষমতা আল্লাহর হাতে
এই আয়াত প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, অন্যকে যুদ্ধে পরিখা খননের সময় আল্লাহ তা’আলা নবী করীম (সা)-কে অদূর ভবিষ্যতে এই উম্মতের পারস্য ও রোম বায়যানটাইন বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করেন।
মদীনার মুনাফিকরা এটা জানার পর মন্তব্য করে যে, দেখ! প্রাণ বাঁচানোই যাদের পক্ষে দায়, যারা শত্রুর ভয়ে আহার নিদ্রা ত্যাগ করে দিবা-রাত্রি পরিখা খননে ব্যস্ত, তারাই কিনা পারস্য, রোম, ইয়ামান (পরাশক্তিসমূহকে) জয় করার স্বপ্ন দেখছে। আল্লাহ তা’আলা এসব মূর্খ জালিমদের উত্তরে আলোচ্য আয়াত নাজিল করেন।
এতে মুনাজাত ও দুআর ভাষায় অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে জাতিসমূহের উত্থান, পতন ও সাম্রাজ্যের পটপরিবর্তনে আল্লাহ তা’আলার অপ্রতিহত শক্তি মত্তা বর্ণিত হয়েছে।
অর্থাৎ সম্মান, মর্যাদা, প্রভাব-প্রতিপত্তি, শক্তি-ক্ষমতা এ সবকিছুই আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে, তিনি যাকে ইচ্ছা দেন, আবার যার থেকে ইচ্ছা ছিনিয়ে নেন।- তাফসীর মা’আরেফুল কোরআন
দুআ ১২: সূরা আলে ইমরান ৩৮
رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
হে আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র একটি সন্তান দান কর, নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।- সূরা আলে ইমরান: ৩৮
জ্ঞাতব্য: নেক সন্তানের জন্য দুআ করা
এটি হযরত যাকারিয়া (আ)-এর দুআ। এই দুআর পর আল্লাহ তাআলা তাকে হযরত ইয়াহ্ইয়া (আ)-এর সুসংবাদ দান করেন, যার গুণাবলী ও পবিত্রতা পরবর্তী আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে হযরত রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, আদম সন্তানের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে গুনাহ করেনি কিংবা তার অন্তরে গুনাহের ইচ্ছা করেননি, একমাত্র ইয়াহ্ইয়া ইবনে যাকারিয়া (আ) ব্যতীত।-আল বিদায়া
দুআ ১৩: সূরা আলে ইমরান ৫৩
رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা সে বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছি যা তুমি নাযিল করেছ এবং আমরা রসূলের অনুগত হয়েছি অতএব তুমি আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের (উম্মতদের) অন্তর্ভুক্ত করে নাও।- সূরা আলে ইমরান: ৫৩
দুআ ১৪: সূরা আলে ইমরান ১৪৭
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের পাপসমূহ এবং আমাদের কাজের সকল প্রকার সীমালঙ্ঘন তুমি ক্ষমা করে দাও আর আমাদের কদমকে সুদৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।- সূরা আলে-ইমরান: ১৪৭
দুআ ১৫: সূরা আলে ইমরান ১৭৩
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক।- সূরা আল-ইমরান: ১৭৩
জ্ঞাতব্য: কঠিন পরিস্থিতিতে যে দুআ পড়বে
হাদীস শরীফে আছে যে, হযরত ইবরাহীম (আ) আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার সময় উক্ত কালেমা পাঠ করেছিলেন। আর নবী কারীম (সা) এই কালেমা ঐ সময় পাঠ করেছিলেন, যখন মানুষ তাকে কাফেরদের ভীরু ও কাপুরুষ সৈন্যদের আগমনের ভয় দেখাচ্ছিল।
ইবনে মারদুবিয়া হাদীস গ্রন্থে রয়েছে, হযরত রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন-
إِذَا وَقَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ الْعَظِيمِ فَقُولُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
যখন তোমাদের সামনে কোন কঠিন কাজ এসে পড়ে, তখন তোমরা বলো, হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকীল।- ইবনে কাসীর
দুআ ১৬: সূরা আলে ইমরান ১৯১-১৯৪
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ * رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ * رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا ۚ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ * رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ .
হে আমাদের প্রতিপালক! এসব (আসমান-যমীনের সৃষ্টিরাজী) তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র, আমাদেরকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও।
হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয়ই তুমি যাকে দোযখে নিক্ষেপ করলে তাকে তো নিশ্চয়ই অপমানিত করলে, আর জালেমদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই।
হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিশ্চিতরূপে শুনেছি একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করতে যে, তোমাদের পালনকর্তার প্রতি ঈমান আন, তাই আমরা ঈমান এনেছি।
(অতএব) হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের সকল গুনাহ মাফ কর এবং আমাদের মন্দ কাজগুলো দূর করে দাও আর আমাদের মৃত্যু দাও নেক লোকদের সাথে।
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের দাও যা দেয়ার তুমি ওয়াদা করেছ তোমার রাসূলগণের মাধ্যমে এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরেক তুমি অপমানিত করো না। নিশ্চয়ই তুমি ওয়াদা খেলাফ করো না।- সূরা আলে ইমরান : ১৯১-১৯৪
জ্ঞাতব্য: আল্লাহর যিকির ও ফিকির
এই দুআর পূর্বে আল্লাহ তাআলা তাদের প্রশংসা করেছেন, যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির করে এবং আল্লাহর সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে আর এই দু’আ করে।
হযরত হাসান বসরী (রহ) বলেন, এক ঘণ্টাকাল (সৃষ্টি বিষয়ে) চিন্তা ও গবেষণা করা সারা রাত্রি দাড়িয়ে ইবাদত করা থেকে উত্তম।
হযরত ঈসা (আ) বলেছেন, হে আদম সন্তান! হে দুর্বল মানুষ! তোমরা যেখানেই থাক না কেন আল্লাহকে ভয় কর, পৃথিবীতে বিনয় ও দারিদ্র্যের সাথে অবস্থান কর, মসজিদকে নিজেদের ঘর বানিয়ে নাও, নিজেদের চোখগুলোকে ক্রন্দন শিখিয়ে দাও, দেহকে ধৈর্য ধারণে অভ্যস্ত কর, হৃদয়কে চিন্তা-গবেষণাকারী বানিয়ে দাও এবং আগামী কালের রূযির জন্য আজকে চিন্তা করো না।- ইবনে কাসীর
দুআ ১৭: সূরা আন-নিসা ৭৫
رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْع لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا .
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরেকে এই জনপদ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নাও, এখানকার অধিবাসীরা যে অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অভিভাবক নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।- সূরা আন-নিসা : ৭৫
জ্ঞাতব্য: যালিম থেকে মুক্তি
যে মুসলিম ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জালিম বা নির্দয় লোকদের কবলে পড়ে বা অধীন হয়ে পড়ে, তার জন্য উক্ত দুআটি অতি উত্তম। বন্দী ব্যক্তির জন্যও দু’আটি আদর্শ।
দুআ: ১৮ – সুরা আল-মায়িদা ৮৩
رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ .
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে (সত্যের) সাক্ষীগণের অন্তর্ভুক্ত করো।-সূরা আল-মায়িদা:৮৩
দুআ: ১৯ – সূরা মায়িদা ১১৪
رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ .
হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাদ্যসম্ভার নাযিল কর। তা আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্য হবে ঈদ উৎসবস্বরূপ এবং তোমার পক্ষ থেকে নিদর্শন। তুমি আমাদেরকে রিযিক দান কর, আর তুমিই তো শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।- সূরা আল-মায়িদা:১১৪
জ্ঞাতব্য
হযরত ঈসা (আ) তার অনুসারী হাওয়ারীদের অনুরোধে আল্লাহর নিকট এই দুআ করেছিলেন। এর পূর্বে তিনি তাদেরকে নিষেধ করেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। (কেননা তোমরা এর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারবে না)।
শায়খ শরফুদ্দীন আহমদ ইয়াহইয়া মানেরী (রহ) বলেন, কেউ যদি চায় যে, তার উপর যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত ও রহমত নাযিল হতে থাকে, তার রিযিকে প্রশস্ততা আসুক এবং সে যেন কারো মুখাপেক্ষী না থাকে, তবে সে নিয়মিত উক্ত দুআ পড়বে।
দুআ: ২০ – সূরা আল-আ’রাফ ২৩
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ .
“হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি। যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা না কর এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না কর, তবে আমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।- সূরা আল-আ’রাফ:২৩
জ্ঞাতব্য
এটি হযরত আদম (আ) এর দুআ। এই দুআর মাধ্যমেই হযরত আদম (আ) আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করেছিলেন।
দুআ: ২১ – সূরা আরাফ ৪৭
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ .
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে যালিমদের সঙ্গী করো না।- সূরা আল-আ’রাফ:৪৭
জ্ঞাতব্য
যালিমদের সঙ্গী বলতে যালিমের সাহায্যকারী বা তাদের কাজে সমর্থন করা বা যারা আল্লাহর হুকুম আহকামে সীমালঙ্ঘন করে তাদেরকেও বোঝানো হয়েছে। আর মাযলুমও এই দুআ করতে পারে।
দুআ : ২২ – সূরা আরাফ ৮৯
رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنِ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ .
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করে দাও যথার্থ ফয়সালা। তুমিই তো শ্রেষ্ঠতম ফয়সালাকারী।- সূরা আল-আ’রাফ:৮৯
জ্ঞাতব্য
কোন বিষয়ে ন্যায়ানুগ ফয়সালা হওয়ার জন্য এই দুআ খুবই চমৎকার।
দুআ : ২৩ – সূরা আরাফ ১২৬
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
হে আমাদের পরওয়ারদেগার! আমাদেরকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান কর এবং আমাদেরকে মুসলমানরূপে মৃত্যু দাও।- সূরা আল-আরাফ:১২৬
দুআ : ২৪ – সূরা আরাফ ১৫১
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ ۖ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে তোমার রহমতের মধ্যে দাখিল কর। তুমি তো সর্বাধিক করুণাময়।-সূরা আল-আ’রাফ:১৫১
দুআ : ২৫ – সূরা আরাফ ১৫৫
أَنتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۖ وَأَنتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ وَاكْتُبْ لَنَا فِي هَٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ
(হে আল্লাহ!) তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা কর, আমাদের উপর দয়া কর, তুমিই তো শ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল। আর আমাদের জন্য নির্ধারণ কর দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ।- সূরা আল-আ’রাফ:১৫৫-১৫৬
জ্ঞাতব্য
غَفَرَ শব্দের অর্থ হচ্ছে ঢেকে ফেলা, গোপন করা এবং পাপের কারণে পাকড়াও না করা। আর غُفْرَان এর সঙ্গে যখন رَحْمَة যুক্ত হয় তখন ভাবার্থ হয় ক্ষমা করে দেয়ার পর আল্লাহ তাআলা তাকে আগামীতে পুনরায় পাপে জড়িত না করা।
দুআ : ২৬ – সূরা আত-তাওবা ১২৯
حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।- সূরা আত-তাওবা-১২৯
জ্ঞাতব্য: দুশ্চিন্তা প্রতিরোধে যা যথেষ্ট
হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে সাতবার করে এই আয়াত পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের কারণ দূর করে দিবেন।-ইবনে কাসীর
উপসংহার
কুরআনের দুআগুলোর মাধুর্য ও উপকারিতা বর্ণনাতীত। বাকী দুআগুলো পরবর্তী অংশে আসবে ইনশাআল্লাহ।
🔹🔹🔹
👉 আরও পড়ুন সকাল সন্ধ্যার দুআ ১ম ভাগ


