
পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা – এ বিষয় সম্পর্কিত হাদীস ও রিওয়ায়াত সমূহ – ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যেখানে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
কুরআন ও সুন্নাহর অসংখ্য দলিল থেকে প্রমাণিত হয় যে বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা ছাড়া একজন মুমিনের ইবাদত পূর্ণতা লাভ করে না।
বিশেষত পবিত্রতা সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়িনের বর্ণিত হাদীস ও রিওয়ায়াতসমূহ আমাদের জন্য অমূল্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
এই প্রবন্ধে আমরা প্রামাণ্য তাফসীরগ্রন্থ তাফসীর আদ-দুররে মানসূর-এর আলোকে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক বিভিন্ন হাদীস ও রিওয়ায়াত সংকলন করেছি।
এতে তাহারাতের ফজিলত, পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব এবং ইসলামী শরীয়তে এর বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অথচ দলিলভিত্তিক আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে।
ইনশাআল্লাহ, এই আলোচনা পাঠকের ঈমানী সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং দৈনন্দিন জীবনে সুন্নাহভিত্তিক পবিত্রতা অবলম্বনে সহায়ক হবে।
ইমাম সুয়ূতী (রহ) রচিত তাফসীর আদ দুররে মানসূর এর সূরা আল বাকারা ১২৪ আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত হাদীসসমূহ
আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত
ফিতরাত বা স্বভাবজাত সুন্নতসমূহ
মিসয়াক করা
ইমাম ইবনে আবী হাতিম- হযরত আতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
من فطْرَة إِبْرَاهِيم السِّوَاك
মিসওয়াক হযরত ইবরাহীম (আ) এর ফিতরাত বা আদর্শ থেকে।
হাত পায়ের জোড়া ধৌত করা
ইমাম ইবনে আবী হাতিম- হযরত মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
যিকির এবং হাত ও পায়ের জোড়াসমূহ ধৌত করা ইবরাহীম (আ) এর ফিতরাত বা আদর্শ থেকে।
ছয়টি বিষয় ফিতরাত বা স্বভাবজাত
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ আল মুসান্নাফে- মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। ছয়টি বিষয় হযরত ইবরাহীম (আ) এর ফিতরত থেকে।
মোচ কাটা, মিসওয়াক করা, চুল আঁচড়ানো, নখ কাটা, ইস্তিঞ্জা করা, নাভীর নিচের পশম কাটা। তিনি বলেন, তিনটির সম্পর্ক মাথার সাথে আর তিনটির সম্পর্ক শরীরে সাথে।
পাঁচটি বিষয় ফিতরাত
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, আহমদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নামাঈ, ইবনে মাজাহ- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি-
الفِطْرَةُ خَمْسٌ، أَوْ خَمْسٌ مِنَ الفِطْرَةِ: الخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَقَصُّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ،وَنَتْفُ الآباط،
পাঁচটি বিষয় ফিতরাত এর অন্তর্ভুক্ত। খাতনা করা, নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করা, মোচ কাটা, নখ কাটা এবং বগলের লোম নিষ্কাশন করা।
নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করা
ইমাম বুখারী ও নাসাঈ- হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করা, নখ কাটা এবং মোচ কাটা ফিতরাত এর অন্তর্ভুক্ত।
দশটি কাজ স্বভাবজাত
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, রাসুলূল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেছেন, দশটি কাজ স্বভাবজাত-
১.গোঁফ ছোট করা
২.দাড়ি লম্বা করা
৩.মিসওয়াক করা
৪.পানি দ্বারা নাক পরিষ্কার করা
৫.নখ কাটা
৬.আংগুলের গিরা ও জোড়াসমূহ ধৌত করা
৭.বগলের পশম পরিষ্কার করা
৮.নাভির নীচের লোম পরিস্কার করা
৯.পানির দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা।
রাবী যাকারিয়া বলেন, মূসআব বলেছেন, আমি দশমটি ভুলে গিয়েছি, তবে সম্ভবত তা হল কুলি করা।
কুলি করা ও নাক পরিষ্কার করা
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ- হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- কুলি করা, পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা, মিসওয়াক করা, মোচ কাটা, নখ কাটা, বগলের লোম পরিষ্কার করা,
নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, আঙ্গুলের সংযোগস্থলগুলো ধৌত করা, শৌচ করা, খাতনা করা ইত্যাদি ফিতরাত বা মানব স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত।
চারটি বিষয় পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত
ইমাম বাযযার এবং তাবরানী- হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইশাদ করেন-
الطهارات أَربع قصّ الشَّارِب وَحلق الْعَانَة وتقليم الْأَظْفَار والسواك
চারটি বিষয় পবিত্রতার অন্তুর্ভুক্ত। মোচ কাটা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা নখ কাটা এবং মিসওয়াক করা।
চল্লিশ দিনের মধ্যে ক্ষৌরকাজ সম্পন্ন করা
ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন অন্তত চল্লিশ দিনে একবার মোচ ছাঁটতে, নখ কাটতে, নাভির নীচের লোম পরিষ্কার করতে এবং বগলের লোম পরিষ্কার করতে।
অপরিচ্ছন্ন ব্যক্তির নিকট ফেরেশতা আসে না
ইমাম আহমদ এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি নবী কারীম (সা)-কে আরয করেন। জিবরাঈল (আ) আপনার নিকট আসতে দেরি করলেন কেন?
রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, সে আমার নিকট আসতে কেন দেরী করবে না? যেখানে তোমরা আমার আশপাশে অবস্থান কর আর না (সময়মত) মিসওয়াক কর, না নখ কাট, না মোচ কাট আর না আঙ্গুলের জোড়াসমূহ ধৌত কর।
মোচ কাটা
ইমাম তিরমিযী- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। আর তিনি এটাকে হাসান বলেছেন।
তিনি বলেন, নবী (সা) তার মোচ কাটতেন আর বলতেন রহমানের খলীল ইবরাহীম (আ) এমন করতেন।
যে মোচ কাটে না
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, আহমদ, তিরমিযী আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন এবং নাসাঈ-
হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
مَنْ لَمْ يَأْخُذْ مِنْ شَارِبِهِ فَلَيْسَ مِنَّا
যে মোচ কাটে না সে আমাদের মধ্য হতে নয়।
মুশরিকদের বিরোধিতা করা
ইমাম মালিক, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং তিরমিযী- হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি নবী কারীম (সা) থেকে রিওয়ায়াত করেন।
তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিরোধীতা কর- দাড়ি লম্বা কর এবং মোচ খাটো কর।
ইমাম বাযযার- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। নবী কারীম (সা) ইরশাদ করেন-
তোমরা মাজুসীদের (অগ্নিপূজারীদের) বিরোধিতা কর। মোচ কাট আর দাড়ি লম্বা কর।
মোচ খাটো করা দীনের অন্তর্ভুক্ত
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- হযরত উবাযদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
এক মাজুসী ব্যক্তি নবী কারীম (সা) এর নিকট আসলেন। যার দাড়ি মুণ্ডানো ছিল আর মোচ লম্বা ছিল। নবী কারীম (সা) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি? সে বললো এটা আমাদের দীন বা রীতি।
নবী (সা) বললেন, কিন্তু আমাদের দীন হল মোচ খাটো করা এবং দাড়ি লম্বা করা।
নবী (সা) এক ব্যক্তির মোচ কেটে দিলেন
ইমাম বাযযার- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, তার মোচ লম্বা।
তিনি (সা) বললেন, আমাকে কাঁচি আর মিসওয়াক দাও। নবী (সা) মিসওয়াক তার ঠোটের উপর ধরলেন আর মোচের বাকী অংশ কেটে ফেললেন।
জুমার পূর্বে পরিচ্ছন্নতা অর্জন
ইমাম বাযযার, তাবরানী আল আউসাতে, বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হাসান সনদে হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করনে।
রাসূলুল্লাহ (সা) জুমআর দিন নামাযে যাওয়ার পূর্বে নখ আর মোচ কাটতেন।
চল্লিশ দিনের মধ্যে নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করা
ইমাম ইবনে আদী- যয়ীফ সনদে হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
পুরুষ প্রত্যেক চল্লিশ দিনের মধ্যে নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করবে এবং বগলের লোম পরিষ্কার করবে যখন তা প্রকাশ পায়।
আর নিজের মোচ লম্বা করবে না। আর এক জুমআ থেকে অপর জুমআর মধ্যে নখ কাটবে।
শয়তান নখ ও মাংসের মধ্যে চলে
ইমাম ইবনে আসাকির- যয়ীফ সনদের সাথে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নিজের নখ কাট। কারণ শয়তান নখ ও মাংসের মাঝে চলাফেরা করে।
সন্দেহজনক বিষয় পরিত্যাগ করা
ইমাম তাবরানী- যয়ীফ সনদে ওয়াবিসা বিন মাবাদ থেকে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে প্রত্যেক বিষয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছি। এমনকি নখের মধ্যে যে ময়লা থাকে তার বিষয়েও।
তিনি (আমাকে একটি মূলনীতি) বলেন-
دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
ঐ বিষয় পরিত্যাগ কর যা তোমাকে সন্দেহ-সংশয়ে পতিত করে আর তা অবলম্বন কর যা তোমাকে সন্দেহ সংশয়ে নিপতিত করে না।
অপরিচ্ছন্নতার কারণে নামাযে সন্দেহ হয়
ইমাম বাযযার- হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণানা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
আমার কেন (নামাযে) সন্দেহ হবে না। যখন তোমাদের কেউ (নামাযের মধ্যে) আঙ্গুল ও নখের ময়লা খুটতে থাক।
ইমাম বায়হাকী শুআবুল ইমানে- কায়স বিন হাযেম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী কারীম (সা) নামায পড়েন আর তার মনে সন্দেহ উদ্রেক হয়।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন, আমার মনে কেন সন্দেহ উদ্রেক হবে না, যেখানে তোমাদের কেউ কেউ (নামাযের মধ্যে) আঙ্গুল ও নখের ময়লা খুটতে থাক।
মিসওয়াক
মিসওয়াক মুখ পবিত্র করে
ইমাম ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকী- আবূ উমামাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
তোমরা মিসওয়াক করো। কেননা মিসওয়াক মুখ পবিত্র ও পরিষ্কার করার উপায় এবং মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।
আমার কাছে যখনই জিবরাঈল (আ) এসেছেন তখনই আমাকে মিসওয়াক করার উপদেশ দিয়েছেন। এমনকি আমার আশঙ্কা হয় যে, তা আমার ও আমার উম্মাতের জন্য ফরয করা হবে।
আমি যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের জন্য তা ফরয করে দিতাম। আমি এত বেশি মিসওয়াক করি যে, আমার মাড়িতে ঘা হওয়ার আশঙ্কা হয়।
মিসওয়াকে আল্লাহর সন্তুষ্টি
ইমাম তাবরানী যয়ীফ সনদে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ، مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ، ومَجْلَاةٌ لِلْبَصَرِ
মিসওয়াক করা মুখ পবিত্র ও পরিষ্কারের উপায়, এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উপায় এবং দৃষ্টিশক্তি প্রখর করার উপায়।
মিসওয়াকের বহুমুখী উপকারিতা
ইমাম ইবনে আদী এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
তোমাদের জন্য মিসওয়াক করা আবশ্যক- কেননা এটা মুখ পরিষ্কার করে, প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের কারণ, ফেরেশতাদের আনন্দের কারণ, নেকী বৃদ্ধি করে এবং এটা সুন্নাত,
চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, দাতের হলদেটেভাব দূর করে, মাড়ি মজবুত করে, কফ দূর করে এবং মুখের সুগন্ধ বৃদ্ধি করে।
মিসওয়াকের গুরুত্ব
ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ وُضُوءٍ
যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টদায়ক হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাযের সময় তাদেরকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
উম্মতের জন্য কঠিন হওয়ার আশঙ্কা
ইমাম আহমদ হাসান সনদে- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কঠিন হওয়ার আশঙ্কা না করতাম,
তাহলে প্রত্যেক নামাযের সময় তাদেরকে ওযু করার নির্দেশ দিতাম, আর ওযুর সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
মিসওয়াকের ব্যাপারে কুরআন নাযিল হওয়ার আশঙ্কা
ইমাম বাযযার, আবু ইয়ালা এবং তাবরানী যয়ীফ সনদে- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
নবী কারীম (সা) সব সময় মিসওয়াকের কথা বলতেন। এমনকি আমরা এ ব্যাপারে কুরআন নাযিল হওয়ার আশঙ্কা করলাম (যদি তা ফরয হয়ে যায়)।
সত্তুর গুণ বেশি ফযীলত
ইমাম আহমদ, হার্স বিন আবী উসামাহ, বাযযার, আবু ইয়ালা, ইবনে খুযায়মাহ, দারাকুতনী, হাকীম আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন, আবু নুআইম কিতাবুস সিওয়াক–এ, বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মিসওয়াক করে নামায পড়া, মিসওয়াক না করে নামায পড়ার চাইতে সত্তর গুণ বেশী ফযীলত রাখে।
মিসওয়াক করে দুই রাকাত সালাত
ইমাম বাযযার, বায়হাকী উত্তম সনদে- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
رَكْعَتَانِ بسواك أفضل من سبعين رَكْعَة بِغَيْر سواك
মিসওয়াক করে দুই রাকাত নামায মিসওয়াক ব্যতীত সত্তর রাকাতের চাইতে উত্তম।
মিসওয়াকের নির্দেশ
ইমাম আহমদ এবং আবু ইয়ালা উত্তম সনদে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
আমাকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দেয়া হযেছে। এমনকি আমি ধারণা করতে লাগলাম যে, এ ব্যাপারে কুরআন বা ওহী নাযিল হয়ে যাবে।
মিসওয়াক করে শয়ন করা
ইমাম আহমদ আবু ইয়ালা এবং তাবরানী যয়ীফ সনদে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন-
রাসূলু্লাহ (সা) মিসওয়াক করা ব্যতীত শয়ন করতেন না এবং ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন।
মিসওয়াকের প্রতি জিবরাইল (আ) এর উৎসাহ
ইমাম তাবরানী হাসান সনদে হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
জিবরাঈল (আ) আমাকে সর্বদা মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন। এমনকি আমি আমার দাঁতের মাড়ির ক্ষয়ের আশঙ্কা করতাম।
রাসূলগনের সুন্নত
ইমাম বাযযার, তিরমিযী, হাকীম নাওয়াদিরুল উসূলে- কালীহ বিন আব্দুল্লাহ খাতামী থেকে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
خمس مِنْ سُنَنِ المُرْسَلِينَ الحَيَاءُ وَالْحِلْمُ وَالحِجَامَةُ وَالسِّوَاكُ وَالتَّعَطُّرُ
পাঁচটি বিষয় রাসূলদের সুন্নাত। লজ্জা, সহনশীলতা, শিঙ্গা লাগানো, মিসওয়াক করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা।
মিসওয়াক না করে না ঘুমানো
ইমাম তাবরানী আল আউসাতে- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ (সা) মিসওয়াক করা ব্যতীত ঘুমাতেন না আর যখন জাগ্রত হতেন তখন প্রথমে মিসওয়াক করতেন।
নামাযে বের হওয়ার জন্য মিসওয়াক
ইমাম তাবরানী হাসান সনদে- হযরত যায়দ বিন খালিদ আল জুহানী থেকে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, নবী কারীম (সা) যখন ঘর থেকে নামায পড়তে বের হতেন তখন মিসওয়াক করে নিতেন।
ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক করা
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ এবং আবু দাউদ যয়ীফ সনদে- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) দিনে বা রাতে ঘুম থেকে উঠার পর ওযুর করার আগে মিসওয়াক করতেন।
নবী (সা) ঘরে প্রবেশ করে আগে কি করতেন
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হল যে, রাসূলু্লোহ (সা) ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কি করতেন? তিনি বললেন, নবী (সা) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন প্রথমে মিসওয়াক করতেন।
মুখ হলো কুরআনের প্রবেশদ্বার
ইমাম ইবনে মাজাহ- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
إِنَّ أَفْوَاهَكُمْ طُرُقٌ لِلْقُرْآنِ، فَطَيِّبُوهَا بِالسِّوَاكِ
তোমাদের মুখ হল কুরআনের প্রবেশ পথ অতএব এটা মিসওয়াক দ্বারা পবিত্র কর।
মিসওয়াক বাকপটুতা বৃদ্ধি করে
ইমাম ইবনুস সুন্নী এবং আবু নুআইম তিব্বুন নবীতে- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
إِن السِّوَاك ليزِيد الرجل فصاحة
মিসওয়াক ব্যক্তির বাকপটুতা বৃদ্ধি করে।
রোগের উপশম
ইমাম ইবনুস সুন্নী- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
কুরআন পাঠ করা এবং মিসওয়াক করা কফ (এবং কফের প্রভাবজনিত রোগ-ব্যাধি) উপশম করে।
মিসওয়াক না করা পর্যন্ত নবী (সা) নিদ্রা যেতেন না
ইমাম আবু নুআইম মারিফাতুস সাহাবায়- হযরত সামুভিয়া (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
রাসূলুল্লাহ কোন রাতে শয়ন করতেন না যে পর্যন্ত না মিসওয়াক করে নিতেন।
নবী (সা) যে সময়গুলোতে মিসওয়াক করতেন
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ মুসান্নাফে, আবু নুআইম কিতাবুস সিওয়াক-এ যয়ীফ সনদে- আবু আতিক থেকে আর তিনি হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
জাবির (রা) বিছানায় যাওযার পূর্বে, ঘুম থেকে উঠার পর এবং নামায পড়তে যাওয়ার সময় মিসওয়াক করতেন। আমি বললাম, আপনি নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন।
তিনি বললেন, আমাকে উসামা (রা) বলেছেন যে, নবী কারীম (সা) এই সময়গুলোতে মিসওয়াক করতেন।
সাহরির সময় মিসওয়াক
ইমাম আবু নুআইম হাসান সনদে- আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন-
আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টদায়ক হওয়ার আশঙ্কা না করলে আমি তাদেরকে সাহরির সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
ওযুর সাথে মিসওয়াক
ইমাম তাবরানী আল আউসাতে হাসান সনদে- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টের আশঙ্কা না হত, তবে (প্রতি) ওযুর সাথে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
মুখের পবিত্রতা
ইমাম শাফিয়ী, ইবনে আবী শায়বাহ, আহমদ, নাসাঈ, আবু ইয়ালা, ইবনে খুযায়মাহ, ইবনে হিব্বান, হাকীম এবং বায়হাকী-
হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন।নরাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ , مَرْضَاةٌ لِلرَّبّ
মিসওয়াক মুখের জন্য পবিত্রতা এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উপায়।
মিসওয়াক করা আবশ্যক
ইমাম আহমদ, তাবরানী আল আউসাতে- হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- অবশ্যই মিসওয়াক কর, এটা মুখ পবিত্র করে এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের কারণ।
দাঁত হলদেটে থাকা নিন্দনীয়
ইমাম আহমদ যয়ীফ সনদে- কুসাম অথবা তাম্মাম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
নবী কারীম (সা) আমাদের নিকট আগমন করেন এবং বলেন, তোমরা আমার নিকট হলুদ দাঁত নিয়ে আস কেন, মিসওয়াক কর না?
যদি আমি আমার উম্মতের উপর কষ্টের আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের জন্য এমনভাবে মিসওয়াক ফরয করে দিতাম, যেভাবে ওযু তাদের জন্য ফরয করা হয়েছে।
কানের উপর মিসওয়াক রাখা
ইমাম তাবরানী- হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
নবী কারীম (সা) মিসওয়াক কানের উপর ঐ জায়গায় রাখতেন যেখানে কাতিব (লেখক) তার কলম রাখেন।
সফরকালে নবী (সা) যা যা সঙ্গে রাখতেন
ইমাম উকাইলী আয যুআফায়, আবু নুআইম আস-সিওয়াক-এ যয়ীফ সনদে- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
নবী কারীম (সা) যখন সফর করতেন তখন মিসওয়াক, চিরুনী, সুরমাদানী, বোতল এবং আয়না সাথে নিয়ে যেতেন।
মিসওয়াক করা ওয়াজিব কি না
ইমাম আবু নুআইম একটি দুর্বল সনদে- হযরত রাফে বিন খুদাইজ (রা) থেকে মারফুভাবে বর্ণনা করেন যে, মিসওয়াক করা ওয়াজিব।
ওহীর আশঙ্কা
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
আমাদেরকে এভাবে মিসওয়াক করার নির্দেশ দেয়া হত যে, আমরা ভাবতে লাগলাম- এ ব্যাপারে ওহী নাযিল হয়ে যাবে।
মিসওয়াক ওযুর অর্ধেক
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- হযরত হাসান বিন আতিয়্যা (রহ) থেকে মারফু রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন যে, (রাসূলুল্লাহ [সা] ইরশাদ করেন-)
ওযু ইমানের অর্ধেক আর মিসওয়াক ওযুর অর্ধেক। যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টের আশঙ্কা না হত তাহলে প্রত্যেক নামাযের সময় তাদেরকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
মিসওয়াকের সাথে বান্দা যে দুই রাকাত নামায পড়ে তা সত্তর রাকাত হতে উত্তম যা মিসওয়াক ব্যতীত পড়া হয়।
বেজোড় সংখ্যায় মিসওয়াক করা
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- হযরত সালমান বিন সাদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
اسْتَاكُوا وَتَنَظَّفُوا وَأَوْتِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ
মিসওয়াক কর এবং পরিচ্ছন্ন কর আর তা বেজোড় সংখ্যায় কর। কেননা আল্লাহ বেজোড় আর তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন।
পরিচ্ছন্নতা
আঙ্গুলের জোড়ার প্রতি খেয়াল রাখা
ইমাম ইবনে আদী- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
রাসূল্লাহ (সা) ওযুর সময় আঙ্গুলের জোড়াগুলোর প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল করতে বলেছেন কেননা এর মধ্যে বেশী ময়লা জমে থাকে।
নখ কেটে দাফন করা
ইমাম হাকীম তিরমিযী নাওয়াদিরুল উসূলে- এমন সনদের সাথে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর থেকে বর্ণনা করেন যার মধ্যে মাজহুল রাবী আছে।
তিনি বলেন, নখ কাট এবং কাটা নখগুলো দাফন করে দাও। আর আঙ্গুলের জোড়াসমুহ পরিষ্কার কর।
রাসূলুল্লাহ (সা) যখন আহলে কিতাবের নিয়ম পালন করতেন
ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী শামায়েলে, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, আহলে কিতাব তাদের মাথার চুল লম্বাভাবে ঝুলিয়ে দিত আর মুশরিকরা মাথায় সিঁথি করত।
রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে যে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হুকুম ছিল না, সেক্ষেত্রে তিনি আহলে কিতাবের নিয়ম পালন করতে ভালবাসতেন।
তাই রাসূলুল্লাহ (সা)-ও তার কপালের চুল লম্বাভাবে ঝুলিয়ে দেন। অতঃপর আবার সিঁথি করেন।
নিম্নাঙ্গের চুল পরিষ্কার করা
ইমাম ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকী উত্তম সনদে- হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) যখন তার (নাভীর নিচের) চুল নিষ্কাশনের জন্য কোন প্রলেপ ব্যবহার করতেন তখন তিনি নিজ হাতে (প্রলেপ লাগিয়ে) নাভীর নিচের চুল পৃথক করতেন।
ইমাম বায়হাকী অনেক দুর্বল সনদে- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) এর (নিম্নাঙ্গের) চুল যখন বেশী বড় হয়ে যেত তখন তিনি চুনা (প্রলেপ) ব্যবহার করতেন না, বরং চুল মুণ্ডিয়ে দিতেন।
খাতনা
খাতনা করা সুন্নত
ইমাম আহমদ, বায়হাকী- শাদ্দাদ বিন আউস (রা) থেকে মারফুভাবে বর্ণনা করেন যে-
الْخِتَانُ سُنَّةٌ لِلرِّجَالِ، مَكْرُمَةٌ لِلنِّسَاءِ
খাতনা করা পুরুষের জন্য সুন্নত এবং মহীলাদের জন্য সম্মানজনক।
ইসলাম গ্রহণের পর আমল
ইমাম তাবরানী মুসনাদে শামিয়ীন-এ, আবুশ শায়খ কিতাবুল আকীকায় এবং বায়হকী- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবু দাউদ- উসাইম ইবনু কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা হতে তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন।
তিনি নবী (সা)-এর কাছে গিয়ে বললেন, আমি ইসলাম কবুল করেছি। নবী কারীম (সা) তাকে বললেন, তুমি কুফর অবস্থার চুল ফেলে দাও (মুণ্ডন কর)।
উসাইমের দাদা বলেন, আমাকে অন্য একজন বলেছেন, তার সাথে আরেকজন ছিল, তাকে নবী কারীম (সা) বললেন, তুমি কুফর অবস্থার চুল ফেলে দাও এবং খাতনা করে নাও।
ইমাম বায়হাকী- যুহরী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন আর তিনি নবী কারীম (সা) থেকে বর্ণনা করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন-
من أسلم فليختتن
যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে তার উচিত খাতনা করা।
খাতনার অনুষ্ঠান
ইমাম আহমদ, তাবরানী- হযরত উসমান ইবনে আবুল আস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাকে খাতনার অনুষ্টানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তিনি বলেন, আমরা রাসূলের যুগে খাতনার অনুষ্ঠানে আসতাম আর এর জন্য আমন্ত্রণ জানানো হত না।
বাচ্চা জন্মের সপ্তম দিনে সাতটি বিষয় তার জন্য সুন্নত
ইমাম তাবরানী আল আউসাতে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বাচ্চা জন্মের সপ্তম দিনে সাতটি বিষয় তার জন্য সুন্নত।
১. তার নাম রাখা
২. তার খাতনা করা
৩. তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা,
৪. আকীকা করা
৫. চুল মুণ্ডণ করা
৬. আকীকার দ্বারা তাকে (মাথা যাফরান দ্বারা) রঞ্জিত করা
৭. আর তার মাথার চুল স্বর্ণ অখবা রোপ্যের দ্বারা ওযন করা (সাদাকার জন্য)।
হাসান ও হুসায়ন (রা) এর খাৎনা
ইমাম আবুশ শায়খ কিতাবুল আকীকায় এবং বায়হাকী- হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) হযরত হাসান ও হুসায়ন (রা)-এর খাতনা করেন এবং তা (জন্মের) সপ্তম দিনে করেন।
ইসহাক ও ইসমাঈল (আ) এর খাৎনা
ইমাম বায়হাকী- মূসা বিন আলী ইবনে রাবাহ থেকে বর্ণনা করেন। ইবরাহীম (আ) ইসহাক (আ) এর খাতনা করেন জন্মের সপ্তম দিনে। আর ইসমাঈল (আ) এর খাতনা করেন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময়।
ইমাম ইবনে সাদ- হযরত হুয়াই বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, যখন ইসমাঈল (আ) এর খাতনা হয়েছে তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর।
ইবরাহিম (আ) এর খাতনা করা
ইমাম আবুশ শায়খ কিতাবুল আকীকায়- হযরত মূসা বিন আলী ইবনে রাবাহ থেকে বর্ণনা করেন যে,
যখন ইবরাহীম (আ) এর বয়স আশি বছর তখন তার খাতনা করার আদেশ আসে। তিনি দ্রুত কুড়াল নিয়ে তার দ্বার খাতনা করেন আর এতে তার অনেক কষ্ট হতে লাগল। তিনি আল্লাহকে ডাকলেন।
আল্লাহ তাআলা বললেন, তুমি আমার পরবর্তী নির্দেশ শুনার পূর্বেই তাড়াহুড়ো করেছ। তিনি বললেন, ইয়া রব! আমি আপনার নির্দেশ এর ব্যাপারে দেরী করা অপছন্দ করি।
ইবরাহিম (আ) কুড়াল দ্বারা খাৎনা করা
ইমাম বুখারী, মুসলিম- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
اختتن إِبْرَاهِيم عَلَيْهِ السَّلَام وَهُوَ ابْن ثَلَاثِينَ سنة بالقدوم
ইবরাহীম (আ) কুড়াল দ্বারা খাতনা করেন তখন তার বয়স ছিল ত্রিশ বৎসর।
ইমাম ইবনে আদী এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) খাতনা করেন তখন তার বয়স ছিল একশত বিশ বৎসর। তিনি কুড়াল দ্বার খাতনা করেন। এরপর তিনি ঐ বছরই জীবিত থাকেন।
ইমাম ইবনে সাদ, ইবনে আবী শায়বাহ, হাকীম এবং বায়হাকী- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
হযরত ইবরাহীম (আ) কুড়াল দ্বারা খাতনা করেন যখন তার বয়স ছিল একশত বিশ বৎসর। এরপর তিনি ঐ বছরই জীবিক থাকেন।
সর্বপ্রথম চুল সাদা হয় যার
হযরত সাঈদ বলেন, সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) খাতনা করেন। সর্বপ্রথম তিনি সাদা চুল দেখেন। তিনি আরয করেন, ইয়া রব! এটা কি?
আল্লাহ বললেন এটা সম্মান। তিনি বললেন, হে আমার রব! আমার সম্মান বাড়িয়ে দিন। সর্বপ্রথম তিনি মেহমানদারী করেন।
সর্বপ্রথম তিনি তার মোচ কাটেন। সর্বপ্রথম তিনি নখ কাটেন। আর তিনিই সর্বপ্রথম নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করেন।
ইবরাহীম (আ) এর মেহমানদারি
ইমাম ইবনে আদী এবং বায়হাকী- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) মেহমানদারী করেন।
সর্বপ্রথম তিনি তার মোচ কাটেন। সর্বপ্রথম তিনি বার্ধক্যের চিহ্ন দেখতে পান। সর্বপ্রথম তিনি নখ কাটেন। আর সর্বপ্রথম তিনি কুড়াল দ্বারা খাতনা করেন।
অন্যান্য প্রসঙ্গ
কান ফুঁড়ানো
ইমাম বায়হাকী- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। (ইবরাহীম [আ] এর) বিবি হাজেরা বিবি সারার সেবিকা ছিলেন। তিনি তাকে ইবরাহীম (আ)-কে দিয়ে দেন। হযরত ইসমাঈল ও ইসহাক (আ) দৌড় প্রতিযোগিতা করেন (খেলাচ্ছলে)।
হযরত ইসমাঈল (আ) অগ্রগামী হয়ে যান এবং ইবরাহীম (আ) এর কোলে গিয়ে বসেন। সারাহ (ঈর্ষাবশত) বললেন, আল্লাহর শপথ আমি তার (হাজেরার) তিনটি অঙ্গহানী না করে ছাড়ব না [যেহতেু ইসমাঈল (আ) ছিলেন তার সন্তান]।
ইবরাহীম (আ) শঙ্কিত হলেন যে, সে আবার তার নাক কান কেটে না দেয়। ইবরাহীম (আ) বললেন
সারাহকে বললেন, তুমি অন্যভাবে তোমার কসম পুরা করতে পার। তুমি তার কান ফুঁড়ে দাও। আর তখন থেকেই কান ফুঁড়ানোর রেওয়ায চালু হয়েছে।
স্ত্রীর দোষ উপেক্ষা করা
ইমাম বায়হাকী- সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেন। ইবরাহীম (আ) সারার উগ্র ব্যবহারের জন্য কষ্ট অনুভব করেন অতএব আল্লাহর নিকট আরজ পেশ করেন (সমাধানের জন্য)।
আল্লাহ তাআলা বললেন, “হে ইবরাহীম [তার মধ্যে যেসব দোষ-ত্রুটি আছে তার উপর পর্দা ফেলে দাও অর্থাৎ উপেক্ষা কর- যে পর্যন্ত দীনের ব্যাপারে কোন হারাম বিষয় না দেখ।”– মূল গ্রন্থের কোন কপিতেই এই বাক্যটুকু নেই, শুআবুল ইমান থেকে তা উল্লেখ করা হল- অনুবাদক]।
তিনি [ইবরাহীম (আ)] ছিলেন সর্বপ্রথম পায়জামা পরিধানকারী। সর্বপ্রথম চুল আঁচড়ানো ব্যক্তি। সর্বপ্রথম নাভির নিচের লোম মুণ্ডণকারী। সর্বপ্রথম খাতনাকারী।
সর্বপ্রথম মেহমানদারী করানো ব্যক্তি এবং সর্বপ্রথম বার্ধক্য অবলোকনকারী ব্যক্তি।
পায়জামার প্রচলন
ইমাম ওকী- ইবনে উয়াইনার গুলাম ওয়াসিল থেকে বর্ণনা করেন। আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম (আ) এর নিকট ওহী পাঠান।
হে ইবরাহীম! তুমি আমার নিকট সমস্ত যমীনবাসীর থেকেও বেশী সম্মানিত। অতএব যখন তুমি সাজদা করবে তখন যেন তোমার লজ্জাস্থান অনাবৃত না হয়। অতএব ইবরাহীম (আ) তখন পায়জামা তৈরী করেন।
সাদা চুল ও সম্মান
ইমাম হাকীম- হযরত আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আকাশের হাতলের আঙ্গুলের মধ্য হতে দুই আঙ্গুলের মাঝে সাদা চুল প্রকাশিত হয়। অতঃপর তা ইবরাহীম (আ) এর নিকটবর্তী হতে থাকে এমনকি পুরোপুরি নিকটবর্তী হয়ে যায়।
অতঃপর আসমান তা ইবরাহীম (আ) এর মাথায় ঢেলে দিলেন এবং বললেন, সম্মান বৃদ্ধি কর। অতঃপর আল্লাহ তাআলা সেই চুলের নিকট ওহী করলেন যে, প্রবল হয়ে যাও। (আর তা সাদা হয়ে গেল)।
সর্বপ্রথম তার চুলই সাদা হয় এবং তিনিই সর্বপ্রথম খাতনা করেন। আর মুহাম্মদ (সা) এর উপর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার প্রতিও তা নাযিল করেছিলেন (তা হল)-
সূরা তওবার التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ থেকে وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ পর্যন্ত।–আয়াত ১১২
সূরা মুমিনূন এর قد أَفْلح الْمُؤْمِنُونَ থেকে هم فِيهَا خَالدُونَ পর্যন্ত।- আয়াত ১-১১
সূরা আল আহযাব এর এই আয়াত إِن الْمُسلمين وَالْمُسلمَات -আয়াত ৩৫
এবং সূরা মাআরিজ এর الَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ থেকে قَائِمُونَ পর্যন্ত।–আয়াত ২৩-৩৩
এই অংশগুলো ইবরাহীম (আ) এবং মুহাম্মদ (সা) ব্যতীত আর কেউ পূরণ করেনি।
ইবরাহীম (আ) কল্যাণ প্রার্থনা করেন
ইমাম ইবনে সাদ তাবাকাতে- হযরত সালমান (রা) থেকে বর্ণনা করেন। ইবরাহীম (আ) আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করেন।
তখন তার চুলের ২/৩ ভাগ অংশ সাদা হয়ে যায়। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, (ইয়া রব!) এটা কি? আল্লাহ তাআলা বললেন,
عِبْرَة فِي الدُّنْيَا وَنور فِي الْآخِرَة
এটা দুনিয়াতে সতর্ককারী আর আখিরাতে নূর।
ইমাম আহমদ আয যুহুদে- হযরত সালমান (রা) থেকে বর্ণনা করেন। ইবরাহীম (আ) বিছানায় গিয়ে দুআ করেন হে আল্লাহ! কল্যাণ দান করুন।
ভোরে উঠে দেখেন যে, তার চুলের ২/৩ ভাগ অংশ সাদা হয়ে গেছে। তার এই অবস্থা ভাল লাগল না। অতএব তাকে বলা হল তুমি পেরেশান হয়ো না।
এটা দুনিয়াতে সতর্ককারী আর আখিরাতে নূর। সর্বপ্রথম তার চুলই সাদা হয়েছিল।
খিযাব
ইমাম দায়লামী- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
أول من خضب بِالْحِنَّاءِ والكتم إِبْرَاهِيم عَلَيْهِ السَّلَام
সর্বপ্রথম যিনি মেহেদি ও কাতামের খিযাব লাগিয়েছেন তিনি হলেন ইবরাহীম (আ)।
ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ- হযরত ইবরাহীম (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
إِنَّ اليَهُودَ، وَالنَّصَارَى لاَ يَصْبُغُونَ، فَخَالِفُوهُمْ
ইহুদী ও খৃষ্টানরা চুলে রং লাগায় না। অতএব তোমরা তাদের বিপরীত কাজ কর।
ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ- হযরত আবু যার (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- সবচেয়ে উত্তম বস্তু যার দ্বারা তোমরা চুলের শুভ্রতা পরিবর্তন করে থাক তা হল মেহেদী ও কাতাম।
বিধর্মীদের বিপরীত করা
ইমাম তিরমিযী হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
غيروا الشيب وَلَا تشبهوا باليهود
চুলের শুভ্রতা পরিবর্তন কর, ইহুদীদের সাথে মিল রেখো না।
ইমাম বাযযার- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- আজমীদের সাথে সামঞ্জস্য রেখো না। আর দাড়ির রং পরিবর্তন কর।
ইবরাহিম (আ) সর্বপ্রথম যেসব কাজ করেছেন
ইমাম ইবনে আবী শায়বা মুসান্নাফে এবং বাযযার- সাদ ইবনে ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেন।
সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) মিম্বরের উপর খুতবা (ভাষণ) দিয়েছিলেন। যখন রোমানরা হযরত লূত (আ)-কে কয়েদ করেছিলেন। অতঃপর তিনি যুদ্ধ করেন এমনকি লূত (আ)-কে ছাড়িয়ে আনেন।
ইমাম ইবনে আসাকির- হযরত হাসান বিন আতিয়া থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন হযরত ইবরাহীম (আ) তাদের সাথে যুদ্ধ করতে চলেন,
যারা হযরত লূত (আ)-কে কয়েদ করেন তখন তিনি সর্ব প্রথম সৈন্যদরকে যুদ্ধের ময়দানে ডান ব্যুহ ও বাম ব্যুহ অনুযায়ী প্রস্তুত করেন।
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- ইয়াযিদ বিন আবু যায়দ থেকে বর্ণনা করেন। সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) পতাকা উত্তোলন করেন।
তার নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, হযরত লূত (আ) এর উপর এক সম্প্রদায় হামলা করেছে আর তাকে কয়েদ করে নিয়ে গেছে।
তখন তিনি পতাকা বাঁধেন এবং নিজের গুলাম ও মাওয়ালীদের (মিত্র ও সমর্থক) নিয়ে সামনে তাদের দিকে অগ্রসর হন, যে পর্যন্ত না দুশমনদের নাগাল পান।
অতঃপর তাদের থেকে লূত (আ) ও তার পরিবারবর্গকে উদ্ধার করেন।
রেশমি পোষাক
ইমাম ইবনে আবিদ দুনইয়া (রহ) কিতাবুর রূমীতে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
أول من عمل القسي إِبْرَاهِيم عَلَيْهِ السَّلَام
সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) রেশমী পোষাক ব্যবহার করেন।
মেহমানদারী
ইমাম ইবনে আবিদ দুনইয়া এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
كَانَ أوّل من ضيف الضَّيْف إِبْرَاهِيم عَلَيْهِ السَّلَام
সর্বপ্রথম যিনি মেহমানদারী করেছেন তিনি হলেন হযরত ইবরাহীম (আ)।
ইমাম ইবনে সাদ, ইবনে আবিদ দুনইয়া (রহ), আবু নুআইম হিলইয়াতে, বায়হাকী শুআবুল ইমানে- ইকরিমা (রহ) থেকে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ইবরাহীম খলীলুর রহমান এর উপনাম ছিল আবু যায়ফান (মেহমানদের পিতা)। তার বাড়ীর চারটি দরজা ছিল যাতে কোন ব্যক্তি বঞ্চিত হয়ে ফিরে না যায়।
ইমাম বায়হাকী- আতা (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
ইবরাহীম (আ) যখন খাবার খেতেন তখন এক মাইল পর্যন্ত কোন লোকের তালাশ করতেন, যে তার সাথে খাবার খাবে।
🔸🔸🔸
আরও পড়ুন সকাল সন্ধ্যার দুআ ১ম ভাগ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল ইবনুস সুন্নী
