মৃত্যুর পর যারা জীবিত হলো (প্রথম অংশ)
মান আশা বাদাল মাউত (Maan aasha baadal mawt) ইমাম ইবনে আবিদ দুনইয়া রহ.

মৃত্যুর পর যারা জীবিত হলো – ইমাম ইবনে আবিদ দুনইয়া (রহ) রচিত মান আ’শা বাদাল মাউত একটি প্রভাবশালী ইসলামি গ্রন্থ,
যেখানে মৃত্যু, পরকাল এবং আখিরাতের প্রস্তুতি সম্পর্কে গভীর ও বাস্তবভিত্তিক আলোচনা করা হয়েছে।
কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে রচিত এই গ্রন্থটি মানুষের অন্তরকে জাগ্রত করে এবং দুনিয়াবি গাফিলতি থেকে ফিরে এসে আল্লাহর পথে চলার অনুপ্রেরণা দেয়।
এই গ্রন্থে মানুষের জীবন, মৃত্যুর বাস্তবতা, কবরের অবস্থা ও পরকালের জবাবদিহিতা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে, যা পাঠকের আত্মশুদ্ধি ও ঈমান বৃদ্ধিতে সহায়ক।
যারা মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে চান, তাদের জন্য মান আ’শা বাদাল মাউত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষণীয় বই।
মান আ’শা বাদাল মাউত – মৃত্যুর পর জীবন
ইমাম ইবনে আবিদ দুনইয়া (রহ) রচিত মান আশা বা’দাল মাউত গ্রন্থ থেকে অনূদিত
আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত
মান আশা বা’দাল মাউত
এক মায়ের দুআয় মৃত সন্তান জীবিত হওয়া
রিওয়ায়াত: ১ আনাস (রা) বলেন, একবার এক সফরে আমার সাথে একজন আনসারী যুবক ছিল। হঠাৎ সে মারা গেল। আমরা তার চোখ বন্ধ করে দিলাম আর তাকে কাফনের কাপড় পড়িয়ে দিলাম।
আমাদের এক সাথী তার মাকে সংবাদ দিল যে, তোমার ছেলে এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে গেছে। তার মা বলল, সে মরে গেছে?
আমরা বললাম হ্যাঁ। তার মা বলল, তোমরা যা বলছ তা কি সত্যি?
আমরা বললাম হ্যাঁ। তখন সে আসমানের দিকে হাত উঠিয়ে দুআ করল,
সে দুআ করলো
হে আল্লাহ! আমি তোমার প্রতি ইমান এনেছি আর তোমার রাসূলের সাথে হিজরত করেছি। আমার উপর বিপদ এসেছে।
তুমি আমার বিপদ হটিয়ে দাও। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি যে, আজ তুমি আমাকে বিপদে ফেলো না।
বর্ণনাকারী বলেন, তখনই হঠাৎ তার চেহারার উপর থেকে কাপড় সরে গেল (আর সে নড়েচেড়ে বসল)। এতে আমরা অবাক হয়ে গেলাম। এমনকি আমরা এক সাথে খাবার খেলাম।
আরেক অসহায় মায়ের দুআয় মৃত সন্তানের জীবন লাভ
রিওয়ায়াত: ২ সালেহ বলেন, উক্ত ঘটনা আমরা হাফস বিন নযর কে শুনালাম। এতে তিনি অনেক আশ্চর্যান্বিত হলেন।
অতঃপর ২য় জুমআয় তার সাথে সাক্ষাত হলে বললেন, তোমাদের ঘটনা শুনে আমি অনেক অবাক হয়েছিলাম।
রবি বিন কুলসুমের সাথে সাক্ষাত হলে তাকে আমি ঘটনাটি বললাম। তখন সে বলল, আমাকে এক ব্যক্তি বলেছে যে,
তার একজন দুর্বল, অন্ধ, বধির ও বিকলাঙ্গ কন্যা ছিল। তার দেখাশোনার জন্য তার একজন ছেলে ছাড়া আর কেউ ছিল না।
একদিন হঠাৎ ছেলেটি মারা গেল। তখন আমি তার নিকট গিয়ে বললাম, আল্লাহ তোমাকে বিপদে পতিত করেছেন।
সে বলল, কি হয়েছে? আমার ছেলে তো মরে যায়নি? (এরপর সে দুআর জন্য হাত তুলল)
অসহায় মায়ের দুআ
হে আল্লাহ! আমার প্রতি দয়া কর। আমার কেউ নেই। (আমি) অন্ধ, বধির ও বিকলাঙ্গ।
তুমি আমার ছেলেকে আমার থেকে পৃথক করো না। হে আল্লাহ! তার জন্য আমার প্রতি দয়া কর।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এই মেয়ে পাগল হয়ে গেছে।
অতঃপর আমি বাজারে গেলাম কাফনের কাপড় কেনার জন্য। ফিরে এসে দেখলাম ছেলে উঠে বসে আছে।
মৃত্যুর পর যায়েদ বিন খারিজার কথা বলা
রিওয়ায়াত: ৩ আবু খালেদ বর্ণনা করেন। আমি ইয়াজিদ বিন নুমান ইবনে বশীর, কাসিম বিন আব্দুর রহমান এর মজলিসে আমার পিতা নুমান ইবনে বশীরের চিঠি নিয়ে আসলাম। (তাতে লিখা ছিল-)
বিসমিল্লহির রহমানির রহীম। নুমান ইবনে বশীরের পত্র উম্মে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু হাশিম এর প্রতি। তোমার প্রতি সালাম।
আমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা জ্ঞাপন করি যিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই।
তুমি আমাকে পত্র লিখেছিলে যে, আমি যেন তোমাকে যায়দ বিন খারেজার মৃত্যুর অবস্থা প্রসঙ্গে কিছু বলি।
তার ঘটনা হল এই যে
তার ঘটনা হল এই যে, হঠাৎ তার গলায় কষ্ট আরম্ভ হল যদিও সেদিন মদীনার মধ্যে সে-ই সবেচেয়ে সুস্থ ও প্রাণবন্ত ছিল।
যোহর ও আসরের নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে তার মৃত্যু হয়ে যায়। আমরা তাকে চিৎ করে শায়িত করে দুইটি চাদর ও একটি কম্বল দ্বারা ঢেকে দিলাম।
মাগরিবের পর
আমি মাগরিবের নামাযের পর তাসবীহ পাঠ করছিলাম। (এমন সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম) আর স্বপ্নে আমাকে কেউ বলল, যায়দ মৃত্যুর পর কথা বলেছে।
তখন আমি দ্রুত তার নিকট আসলাম। উপস্থিত আনসারীদের মধ্যে সে বলছে,
খলীফাদের বর্ণনা
কওমের মধ্যে মাঝে অবস্থানকারী ব্যক্তি (আবু বকর [রা]) কঠিন ছিলেন, যে আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না।
সে লোকদেরকে এই সুযোগ দিতেন না যে, কওমের সবল লোকেরা দুর্বল লোকদের সম্পদ আত্মসাৎ করবে।
উমর (রা) সত্য বান্দা
আমীরুল মুমিনীন উমর (রা) সত্য বান্দা ছিলেন। আর এটা পূর্ববর্তী কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।
অতঃপর সে বলল, আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা) মানুষের অধিকাংশ ভুল-ত্রুটি মাফ করে দেন। দুই রাত অতিবাহিত হয়ে গেছে আর চার রাত বাকী আছে।
অতঃপর লোকদের মধ্যে মতভেদ শুরু হবে
অতঃপর লোকদের মধ্যে মতভেদ শুরু হবে এবং তারা একে অপরের মাল সম্পদ (অন্যায়ভাবে) ভোগ করবে। কোন শৃঙ্খলা থাকবে না এবং খুন খারাবী বৈধ হয়ে যাবে।
ইমানদারগণ অলসতা থেকে ফিরে আসবে
অতঃপর ইমানদারগণ অলসতা থেকে ফিরে আসবে আর বলবে, হে লোক সকল! আল্লাহর কিতাবকে মজবুতভাবে ধারণ কর,
আমীরের দিকে মনোনিবেশ কর এবং তার কথা মান্য কর ও তার আনুগত্য কর। যে তার থেকে ফিরে যাবে তার প্রাণের কোন নিরাপত্তা থাকবে না।
তাকদীরের লিখন আসবেই
আল্লাহর নির্দেশ (তাকদীরের লিখন) আসবেই। আল্লাহ সবার বড়। এটা জান্নাত আর এটা দোযখ। নবীগণ ও সিদ্দীকগণ সত্য বলেছেন। তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
হে আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা! আমি কি আমার পিতা খারেজাহ এবং সা’দ এর ব্যাপারে বলবো, যারা উহুদের দিন শহীদ হয়েছেন। (আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-)
আল কুরআন
كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِلشَّوَى تَدْعُو مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى وَجَمَعَ فَأَوْعَى
না, কখনো নয়। এটাতো লেলিহান অগ্নিশিখা। যা মাথা হতে চামড়া খসিয়ে দিবে। জাহান্নাম ঐ ব্যক্তিকে ডাকবে যে (সত্যের প্রতি)
পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। সে সম্পদ জমা করে ও সংরক্ষণ করে রেখেছিল।– সূরা মাআরিজ ১৫-১৮
অতঃপর তার আওয়ায নিচু হয়ে গেল। যে আমার পূর্বে তার কথা শুনছিল আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, আমি তাকে এটা বলতে শুনলাম যে, চুপ হয়ে যাও। চুপ হয়ে যাও।
আমরা একে অপরে দিকে দেখছিলাম
আমরা একে অপরে দিকে দেখছিলাম যেখানে আওয়ায আসছিল কাপড়ের নিচ থেকে। আমরা তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে দিলে সে বলল, ইনি রাসূল (সা) (আমার পাশে উপস্থিত)।
হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
আবু বকর (রা) আমানতদার
অতঃপর বললেন, আল্লাহর রাসূলের খলীফা আবু বকর (রা) আমানতদার ছিলেন। দৈহিক দিক থেকে দুর্বল দেখাত কিন্তু আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নে ছিলেন অনেক শক্তিধর। তিনি যা বলেছেন সত্য বলেছেন।
আরেকটি বর্ণনা
রিওয়ায়াত: ৪ ইবনে উমায়র বলেন, আমি হাবিব বিন সালিম এর নিকট ঐ পত্র পাঠ করলাম যা নুমান ইবনে বশীর উম্মে খালিদকে লিখেছিলেন।
অতঃপর তুমি যায়দ বিন খারিজার মৃত্যুর পর তার কথা বলার ঘটনার ব্যাপারে জানতে চেয়ে আমার নিকট পত্র লিখেছ। অতঃপর যথারীতি পূর্ববর্তী ঘটনা।
এক আনসারীর ঘটনা
রিওয়ায়াত: ৫ সাঈদ ইবনুল মুসায়িব (রহ) বলেন। এক আনসারীর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হল, যখন সে মারা গেল তখন তাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হল। অতঃপর সে বলতে লাগল,
আবু বকর (রা) আমানতদার ছিলেন। দৈহিক দিক থেকে দুর্বল দেখাত কিন্তু আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নে ছিলেন অনেক শক্তিধর।
উমর (রা) আমানতদার ছিলেন। উসমান (রা) তার পথেই ছিলেন। এখন ইনসাফ শেষ হয়ে গিয়েছে। সবল দুর্বলকে ভক্ষণ করছে।
যায়দ বিন খারিজার আরেকটি ঘটনা
রিওয়ায়াত : ৬ আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, যখন যায়দ বিন খারিজার মৃত্যু হয় তখন তাকে গোসল দেওয়ার জন্য আনসারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
এমনকি ঝগড়া বাঁধার উপক্রম হয়ে যায়। অতঃপর এই সিদ্ধান্তের উপর তারা একমত হয় যে তাকে দুইবার গোসল দেওয়া হবে।
আর প্রত্যেক সরদার তার রান (শরীর) ধরবে আর তৃতীয় ব্যক্তি পানি ঢালবে। আমিও তাদের মধ্যে ছিলাম।
সে কথা বলা শুরু করলো
যখন আমি পানি ঢালতে লাগলাম তখন সে কথা বলা শুরু করে দিল।
সে বলল, দুই রাত অতিক্রম হয়ে গেছে আর চার রাত বাকী আছে। কওমের ধনবান ব্যক্তিরা গরীবদের মাল আত্মসাৎ করা শুরু করে দিয়েছে।
লোকদের মধ্যে মতভেদ শুরু হয়ে গিয়েছে আর কোন নিয়ম-শৃঙ্খলা অবশিষ্ট নেই।
আবু বকর (রা) নরম মনের মানুষ
আবু বকর সিদ্দীক (রা) খুব নরম মনের মানুষ ছিলেন- মুমিনদের প্রতি ছিলেন দয়ার্দ্র আর কাফিরদের প্রতি ছিলেন কঠোর। আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না।
উমর (রা) খুব নরম মনের মানুষ ছিলেন- মুমিনদের প্রতি ছিলেন দয়ার্দ্র আর কাফিরদের প্রতি ছিলেন কঠোর।
উসমান (রা) এর নীতি
আর তোমরা (এখন) উসমান (রা) এর নীতির উপর আছ। শুন ও মান্য কর। অতঃপর তার আওয়ায নিচু হয়ে গেল। তার যবান নড়াচরা করতে লাগল কিন্তু দেহ নিথর হয়ে গেল।
অপর বর্ণনা
রিওয়ায়াত: ৭ নুমান ইবনে বাশীর (রা) বলেন, যায়দ বিন খারেজাহ আনসারদের সরদারদের মধ্য হতে ছিলেন। তার পিতা ছিলেন খারেজাহ বিন সা’দ।
আবু বকর (রা) যখন হিজরত করেন তখন তিনি তার ঘরেই অবস্থান করেন। আর নিজের কন্যার বিবাহ খারেজার ছেলের সাথে দেন যার নাম ছিল সা’দ।
যায়দ বিন খারেজার পিতা এবং সাদ বিন খারেজাহ উহুদের দিন শহীদ হয়েছিলেন। যায়দ বিন খারিজাহ নবী (সা) এর যুগ, আবু বকর সিদ্দীক (রা) এর খিলাফত, উমর (রা) এর খিলাফত এবং উসমান (রা) এর খিলাফতের দুই বৎসরকাল পর্যন্ত জীবিত থাকেন।
তিনি (মৃত্যুর দিন) যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে মদীনার এক গলি দিয়ে চলছিলেন।
এমন সময় হঠাৎ পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। যখন আনসাররা জানতে পারেন তখন তাকে উঠিয়ে ঘরে নিয়ে গেলেন।
তারা তাকে দুটি চাদর ও একটি কম্বল দ্বারা ঢেকে দিলেন। আর ঘরের মধ্যে আনসার পুরুষ ও মহীলারা কাঁদতে লাগলেন। এই অবস্থায়ই সে ছিল।
মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে
মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে তারা এক আওয়ায শুনতে পায় যে, কেউ বলছে, চুপ হয়ে যাও। লোকেরা দেখল যে, এই আওয়ায কাপড়ের নিচ থেকে আসছে।
তারা যখন তার চেহারা ও বুক থেকে কাপড় সরালেন তখন যে কথা বলছিল, সে তার মুখ দিয় বলছিল [মুহাম্মদ (সা)] শেষ নবী। তারপর আর কোন নবী আসবে না।
খলিফাদের প্রশংসা
অতঃপর যে কথা বলছিল তার মুখ দিয়ে বলল, সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। অতঃপর যে কথা বলার সে তার মুখ দিয়ে বলল, আবু বকর (রা) রাসূলের খলীফা। সিদ্দীক ও আমীন।
যে দৈহিক দিক থেকে দুর্বল ছিল কিন্তু আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে ছিল শক্তিধর। অতঃপর যে কথা বলছিল তার মুখ দিয়ে বলল, সত্য বলেছে, সত্য বলেছে।
অতঃপর বলল, মাঝে অবস্থানকারী ব্যক্তি কঠিন ছিলেন, যে আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। যে লোকদেরকে নিষেধ করতেন সবলদেরকে দুর্বলদের মাল আত্মসাৎ করতে।
আমীরুল মুমিনীন উমর (রা) আল্লাহর বান্দা ছিলেন। অতঃপর যে কথা বলছিল সে বলল, সত্য বলেছে, সত্য বলেছে।
উসমান (রা)
অতঃপর বলল, আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা) মুমিনদের প্রতি দয়ার্দ্র এবং তাদের ভুল-ত্রুটি মাফ করে দেন। দুই রাত অতিবাহিত হয়ে গেছে আর দুই বছর- দুই রাত এর সমান হয়ে গছে।
আর চার বৎসর বাকী রয়ে গেছ। যার জন্য কোন নিয়ম শৃঙ্খলা বাকী রয়নি। খুন খারাবী বৈধ হয়ে গেছে এবং কিয়ামত নিকটবর্তী হয়ে গেছে। লোকেরা একে অপরের মাল আত্মসাৎ করছে।
আল্লাহর কিতাব মজবুতভাবে ধারণ কর
(এক সময়) লোকেরা নিজেদের অলসতা থেকে বিরত হবে। তারা বলবে, হে লোকসকল! আল্লাহর কিতাব মজবুতভাবে ধারণ কর।
নিজের আমীরের দিকে মনোবিশ কর এবং তার কথা শুন ও তার আনুগত্য কর।
তারা তোমাদের (পূর্ববর্তীদের) নীতির উপর আছেন। যে তাদের থেকে মুখ ফিরাবে তার প্রাণের কোন নিরাপত্তা থাকবে না।
আল্লাহর নির্দেশ আসবেই। এটা দুইবার বললেন। এটা জান্নাত আর এটা দোযখ। এ হল নবীগণ আর এ শহীদগণ।
হে আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা! আমি আমার পিতা খারেজাহ এবং ভাই সা’দ এর ব্যাপারে জেনে নিয়েছি যারা উহুদের দিন শহীদ হয়েছেন। (আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-)
আল্লাহ তাআলার বাণী
كَلَّا إِنَّهَا لَظَى نَزَّاعَةً لِلشَّوَى تَدْعُو مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى وَجَمَعَ فَأَوْعَى
না, কখনো নয়। এটাতো লেলিহান অগ্নিশিখা। যা মাথা হতে চামড়া খসিয়ে দিবে।
জাহান্নাম ঐ ব্যক্তিকে ডাকবে যে (সত্যের প্রতি) পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। সে সম্পদ জমা করে ও সংরক্ষণ করে রেখেছিল।– সূরা মাআরিজ ১৫-১৮
রাসূল্লাহ (সা) এর প্রতি সালাম
অতঃপর বললেন, (আমার পাশে উপস্থিত) ইনি রাসূলুল্লাহ (সা), ইনি রাসূলুল্লাহ (সা)। আপনার প্রতি সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
নুমান ইবনে বাশীর (রা) বলেন, আমাকে বলা হয়েছে যে, যায়দ বিন খারেজাহ মৃত্যুর পর কথা বলেছেন। আমি লোকদেরকে ডিঙিয়ে তার মাথার কাছে গিয়ে বসলাম। আমি তার কথার কিছু অংশ শুনলাম।
সে বলছিল মাঝের ব্যক্তি খুব কঠিন। এমনকি কথা শেষ হয়ে গেল। আমি লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, সে আমার পূর্বে আর কি বলছিল? তখন তারা আমাকে বিস্তারিত বলল।
মুসায়লামার হাতে শহীদ হওয়া এক ব্যক্তি মৃত্যুর পর কথা বলেছে
রিওয়ায়াত: ৮ আব্দুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ আনসারী বলেন, মুসায়লামাতুল কাজ্জাবের হাতে শাহাদাত বরণকারী একজন কথা বলেছেন, সে বলেছে মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল। আবু বকর সিদ্দীক ও উসমান (রা) খুব নরম মনের মানুষ এবং দয়ালু।
একজন ইবাদতগুযার ব্যক্তির ঘটনা
রিওয়ায়াত: ৯ মুহাম্মদ বিন বাকার (রহ) বলেন, আমরা তিন ভাই ছিলাম। আমাদের মধ্যে ২য় জন ছিল খুব ইবাদগুযার। অনেক বেশী সিয়াম পালনকারী এবং আমাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাসম্পন্ন ব্যক্তি।
আমি কোন সৈন্যবাহীনির সাথে যুদ্ধে ছিলাম। যখন ফিরে আসলাম তখন ঘরের লোকেরা বলল, নিজের ভাইয়ের খবর নাও, সে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত।
যখন আমি তার নিকট গেলাম, আমার যাওয়ার পূর্বেই তার প্রাণ বেরিয়ে গেল। আমি তার উপর কাপড় দিয়ে দিলাম এবং তার পাশে বসে কাঁদতে লাগলাম।
চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বলল
মুহাম্মদ ইবেন বাকার (রহ) বলেন, (এমন সময়) আমার ভাই হাত উঁচু করে নিজের চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বলল, আসসালামুআলাইকুম।
আমি বললাম, হে আমার ভাই! তুমি কি মৃত্যুর পর জীবিত হলে? সে বলল, হ্যাঁ।
আমি আমার রবের সাথে সীমাহীন আনন্দ নিয়ে সাক্ষাত করেছি আর আমার প্রতিপালক আমার প্রতি তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি। আমাকে জান্নাতী পোষাক পড়িয়েছেন।
যেই বিষয়ে তোমরা ভয় কর আমি তা সহজ পেয়েছি। এই কথা তিনি তিনবার বললেন। আর তিনবার বললেন, আমল কর, অলসতা করো না।
কাফন দাফনে দ্রুততা কর
আমি রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে সাক্ষাত করেছি। আমি কসম করেছি যে, তার উঠার পূর্বেই আমি ফিরে আসব। অতএব তুমি আমার কাফন দাফনে দ্রুততা কর।
অতঃপর সে পূণরায় মৃত্যুবরণ করল। এত দ্রুত সে ফিরে গেল, যেভাবে একটি কঙ্কর পানিতে নিক্ষেপ করা হয়।
মুহাম্মদ বিন বাকার (রহ) বলেন (অতঃপর আমি লোকদেরকে) বললাম, আমার ভাইয়ের দাফন কাফনে জলদি কর।
রিওয়ায়াত: ১০ রিব’ঈ বিন হিরাশ (রহ) বলেন, আমার ভাই মৃত্যুবরণ করেন, যে গরমের দিনে অনেক রোযা রাখত আর শীতের রাতে কিয়াম (দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে নামায আদায়) করত।
অতঃপর পূর্ববর্তী ঘটনা বর্ণনা করেন। এর মধ্যে এতটুকু বেশী আছে যে, এই ঘটনা হযরত আয়িশা (রা) এর নিকট পৌঁছলে তিনি এর সত্যায়ন করে বলেন, আমরা শুনতাম যে, এই উম্মতের এক ব্যক্তি মৃত্যুর পর কথা বলবে।
জান্নাতের ঠিকানা দেখার উপর কসম
রিওয়ায়াত: ১১ আলী ইবনে উবায়দুল্লাহ গাত্বফানী এবং হাফস বিন ইয়াযিদ বলেন, আমাদের নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে যে,
ইবনে হিরাশ কসম খেয়েছিলেন যে, সে ঐ পর্যন্ত হাসবে না, যে পর্যন্ত না সে জেনে নিবে যে, সে জান্নাতী না জাহান্নামী।
অতঃপর সে এমন অবস্থায় জীবিত রইলো যে, তাকে কেউ কখনো হাসতে দেখেনি। যখন সে মৃত্যুবরণ করল তখন হাসতে লাগল।
বর্ণনাকারী বলেন, যখন এই কথা হযরত আয়িশা (রা) পর্যন্ত পৌঁছল তখন তিনি বললেন, বনী আব্স এর ভাই সত্য বলেছে। আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন।
আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি যে,
يَتَكَلَّمُ رَجُلٌ مِنْ أُمَّتِي بَعْدَ الْمَوْتِ مِنْ خِيَارِ التَّابِعِينَ
আমার উম্মতের এক ব্যক্তি মত্যুর পর কথা বলবে আর সে হবে তাবিয়ীনদের উত্তম লোকদের মধ্য হতে।
অনুরুপ আরেকটি ঘটনা
রিওয়ায়াত: ১২ হারিস আল গানাভী বলেন, রবী’ বিন হিরাশ এই কসম খেয়েছিলেন যে, সে কখনো হাসবে না-
যে পর্যন্ত না সে তার ঠিকানা জেনে নিবে। এজন্য সে কখনোই হাসেনি। তবে যখন তার মৃত্যু হল তখন হাসতে লাগল।
এরপর তার ভাই রিবয়ী’ও কসম খেল যে, সেও ঐ পর্যন্ত হাসবে না, যে পর্যন্ত না সে জেনে নিবে যে, সে জান্নাতী নাকি জাহান্নামী।
হারেস আল গানাভী বলেন, আমাকে তার গোসল প্রদানকারী ব্যক্তি বলেছে যে, যখন আমরা তার গোসল দিচ্ছিলাম তখন সে মুচকী হাসছিল।
মৃত্যুর পর শহীদ হওয়ার জন্য জীবিত হওয়া
পিতা থেকে বর্ণনা করেন। আমার মামা মৃত্যুবরণ করেন। আমরা তাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেই। যখন আমরা তাকে গোসল দেয়ার জন্য দাড়ালাম তখন তিনি তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন,
হে আল্লাহ! আমি তোমার পথে মৃত্যুবরণ করতে চাই। এরপর তিনি জীবিত রইলেন। এমনকি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হলেন।
তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না
রিওয়ায়াত: ১৪ মুগীরা বিন হাযাফ, রু’বাতা বিনতে বীজান থেকে বর্ণনা করেন। তিনি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন। লোকেরা মনে করল তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
তারা তাকে গোসল দিয়ে কাফন পড়ালেন। কিন্তু সে কথা বলতে শুরু করল। তিনি তাদের দিকে দেখে বলতে লাগলেন, তোমরা যা ভয় কর আমি তা খুব সহজ পেয়েছি।
আর আমি দেখলাম যে, তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
১.আত্বীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী,
২.মদপানে অভ্যস্থ ব্যক্তি এবং
৩.মুশরিক।
মৃত্যুর সময় আমলনামা দর্শন
রিওয়ায়াত: ১৫ সালেহ বিন হাই (রহ) বলেন, আমাকে আমার প্রতিবেশী বলেছে যে, এক ব্যক্তির রূহ কবযের সময় তার আমলনামা তার সামনে তুলে ধরা হল।
সে বলল, আমি দেখলাম, যেই গুনাহর ব্যাপারেই আমি ক্ষমা প্রার্থনা করেছি তা ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। আর যে গুনাহর জন্য আমি ক্ষমা চাইনি তা ঐ অবস্থায়ই রয়ে গেছে।
ছোট আমলও আমলনামায় দেখেছি
এমনকি আমি কোন ছোট জিনিসও (চলাচলের সুবিধার জন্য) রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি তার জন্যও আমার আমলনামায় নেকী লিখে দেয়া হয়েছে।
আর এক রাতে আমি নামায পড়ছিলাম আর আমার আওয়ায উঁচু হয়ে যায়। আমার আওয়ায শুনে আমার গুলামও নামায পড়তে শুরু করল।
এজন্যও নেকী লেখা হয়েছে
এর জন্য আমার অংশেও তার পরিবরর্তে (তার সমপরিমাণ) নেকী লিখে দেয়া হয়েছে।
আর একদিন আমি লোকদের সামনে এক ভিক্ষুককে এক দিরহাম দিয়েছিলাম তাদেরকে দেখানোর জন্য।
আমি ওটাকে এই অবস্থায় দেখলাম যে, না তো সেটা আমার অধিকারে আসছে আর না আমার বিপরীতে যাচ্ছে।
আবু বকর ও উমর (রা) এর প্রতি বিদ্বেষ এর কুফল
রিওয়ায়াত: ১৬ আব্দুল মালিক বিন উমায়র বলেন, কূফায় এক ব্যক্তি মৃতদের কাফন পড়াত। এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল।
তাকে কাফন দেয়ার জন্য বলা হলে তিনি কাফন নিয়ে সেই ব্যক্তির নিকট গেলেন।
তার উপর কাপড় দেয়া ছিল। তিনি যখন তার উপর থেকে কাপড় সরালেন তখন সে বলতে লাগল, তারা আমাকে ধোঁকা দিয়েছে তারা আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আগুন! আগুন!
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু পড়তে পারলো না
আমি তাকে বললাম, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ কর। সে বলল, আমি এটা পাঠ করতে সক্ষম নই। জিজ্ঞাসা করা হল কেন? সে বলল আবু বকর (রা) ও উমর (রা)-কে গালি দেয়ার কারণে।
অহেতুক কথাবার্তা
রিওয়ায়াত: ১৭ খালফ বিন হাওশাব (রহ) বলেন, মাদায়েনে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। যখন তার উপর কাপড় দিয়ে দেয়া হল তখন কিছু লোক উঠে চলে গেল আর কিছু লোক বসে রইল।
এমন সময় তার কাপড় নড়াচরা করতে লাগল। তখন মৃতব্যক্তি নিজে তার উপর থেকে কাপড় সরিয়ে বলল, এই মসজিদে কিছু লোক অহেতুক কথাবর্তা বলে থাকে অর্থাৎ এই মাদায়েনের মসজিদে।
এই লোকেরা আবু বকর ও উমর (রা)-কে লা’নত করে ও তাদেরকে অস্বীকার করে থাকে। তাদের উপর রূহ কবযকারী ফেরেশতারা লা’নত করে এবং তাদেরকে অস্বীকার করে।
আমরা বললাম, হে অমুক! হয়তো তোমাকেও এই কারণে এই মুসীবতে গ্রেফতার করা হয়েছে?
সে তখন বলল, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’ এরপর সে এমনভাবে অদৃশ্য হয়ে গেল যেভাবে একটি কঙ্কর পানিতে অদৃশ্য হয়ে যায় অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করল।
এক ব্যবসায়ীর ঘটনা
রিওয়ায়াত: ১৮ আবুল খাসিব বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী ছিলাম। আমি এমন কোন মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে শুনিনি, মৃত্যুর পর যাকে কাফন দেয়া হয়নি।
এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলতে লাগল, এখানে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছে আর তাকে কাফন দেয়ার কেউ নেই। তখন আমি আমার সাথীকে বললাম, আমার সাথে চল।
আমরা তার নিকট গেলাম। লোকেরা তার পাশে বসা ছিল। আর তাদের মধ্যে কাপড়ে আবৃত মৃতব্যক্তি শায়িত ছিল। তার পেটের উপর ইট আর মাটি রাখা ছিল।
মৃতব্যক্তি নিজে ইট সরালো
আমি বললাম, তোমরা একে গোসল দাওনা কেন? তারা বলল, এর কাফনের ব্যবস্থা হয়নি। আমি আমার বন্ধুকে বললাম, তুমি কাফন নিয়ে আস। আমি তার পাশে বসে গেলাম।
আমি বসে ছিলাম এমন সময় মৃতব্যক্তি নিজে উঠে তার উপর থেকে ইট আর মাটি সরাতে সরাতে বলল, আগুন! আগুন!
আমি তাকে বললাম, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ কর।
সে বলল এটা আমাকে এখন কোন উপকার দিচ্ছে না।
আল্লাহ লা’নত করুন কুফার মাশায়েখদের যারা আমাকে ধোঁকায় ফেলেছে আর আমি এত গুমরাহ হয়ে গেছি যে, আবু বকর ও উমর (রা)-কে গালি দিয়ে ফেলেছি।
অতঃপর সে পুনরায় মরে গেল। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি তাকে কাফন দিব না। আর আমি তাকে কাফন দেয়া ব্যতীত উঠে চলে এলাম।
কুফার মশায়েখদের ঘটনা
রিওয়ায়াত: ১৯ চ্ছন্দ্যশীল ব্যবসায়ী ছিলাম এবং মাদায়েন এর কিসরায় বসবাস করতাম। আর সেটা ছিল ইবনে হুবায়রার প্লেগের সময়।
আশরাফ নামে আমার একজন কর্মচারী আমার কাছে এসে বলল, মাদায়েনে এমন একজন মৃত ব্যক্তি আছে যার কাফনের কাপড় নেই।
তখন আমি আমার সওয়ারীতে করে তার ঘরে গেলাম। তার পাশে বসে তার শুভাকাঙ্ক্ষী ও বন্ধু-বান্ধবগণ তার ইবাদত-বন্দেগীর কথা ও তার গুণ-গান করছিল। আর মৃত ব্যক্তির পেটের উপর ইট রাখা ছিল।
আমি এক ব্যক্তীকে পাঠালাম কাফন ক্রয়ের জন্য এবং কবর খনন করতে বললাম এবং কবরের জন্য ইটের ব্যবস্থা করলাম। যখন আমি তাকে গোসল দেওয়ার জন্য পানি গরম করতে লাগলাম তখন হঠাৎ মৃতব্যক্তি উঠে বসল এবং তার পেট থেকে ইট খসে পড়ল।
মৃতব্যক্তি বলে উঠলো, হায়! জাহান্নাম!
আর সে এই বলে উঠল, হায় জাহান্নাম! যখন তার বন্ধুরা এই অবস্থা দেখল তখন সবাই (ভয় পেয়ে) চলে গেল।
আবুল খাসিব বলেন, আমি তার নিকটবর্তী হয়ে তার বাঁজু ধরে ঝটকা দিলাম এবং বললাম, তুমি কি দেখেছ এবং তোমার কি অবস্থা?
অসৎসঙ্গ
সে বলল আমি কুফার মাশায়েখদের সান্নিধ্যে ছিলাম আর তারা আমাকে তাদের দীন ও মতাদর্শে দাখিল করিয়েছিল।
আমিও তাদের সাথে মিলে আবু বকর ও উমর (রা)-কে গালি গালায করতাম (ভাল-মন্দ বলতাম) এবং তাদের সাথে বিদ্বেষ রাখতাম।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে বললাম, তুমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও এবং এখন থেকে আর গালি দিও না।
জাহান্নামে পৌঁছে যাওয়া
সে বলল আমি আমার ঠিকানায় পৌঁছে গেছি আর এটা আমাকে এখন কোন উপকার করছে না।
আমি জাহান্নাম দেখতে পেয়েছি এবং আমাকে বলা হয়েছে যা কিছু তুমি দেখেছে তা তোমার বন্ধুদেরকে বলে আস।
আবুল খাসিব বলেন যে, আমি জানি না যে তার কথাবার্তা সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই কি সে তার পূর্বের (মৃত) অবস্থায় চলে গেছে কিনা। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম।
বিদআতিদের কাফন দাফন করতে অস্বীকার
অতঃপর কাফন আনা হল। আমি কাফন নিয়ে নিলাম এবং বললাম, না আমি তার কাফন দিব আর না গোসল দিব, আর না জানাযা আদায় করব। অতঃপর আমি ফিরে আসলাম।
অতঃপর আমাকে বলা হল যে, যে লোকেরা তার সাথে ছিল তারা তাকে গোসল দিয়েছে এবং জানাযা দিয়েছে। আর তারা লোকদের বলেছে যে যা কিছু আমি শুনেছি তারাও তা শুনেছে।
আর যেভাবে আমি আমাকে বাঁচিয়েছি তারাও তাদেরকে বাঁচিয়েছে। (তারা বলল,) তোমরা কিভাবে আমাদের সাথীকে অপছন্দ কর, এটাতো শয়তানের আওয়ায ছিল। যা তার যবান দ্বারা বলছিল।
খালফ বলেন, হে আবুল খাসিব এই ঘটনা কি তোমার সামনে ঘটেছে? সে বলল আমার এই দুচোখ দেখেছে আর এই দুই কান শুনেছে।
খালফ বলেন, এরপর আমি তার (আবুল খাসীব) ব্যপারে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা তার ব্যাপারে ভাল বলেছে (বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী)।
এই ঘটনার বিষয়ে
রিওয়ায়াত: ২০ খালফ বিন তামীম (রহ) বলেন, আমি সুফিয়ান সাওরী (রহ)-কে দেখেছি তিনি এই ঘটনার ব্যাপারে এই শায়খ (আবুল খাসীব)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে।
জাহিলী যুগের এক ব্যক্তির ঘটনা
রিওয়ায়াত: ২১ মুজালিদ- আমের থেকে বর্ণনা করেন। আমরা জুহায়নার (জুহায়না গোত্রের) মজলিসে পৌঁছলে দেখলাম যে, এক বৃদ্ধ ব্যক্তি বসে আছে।
আমিও তার পাশে বসে গেলাম আর সে আমাকে বলতে শুরু করল যে, জাহিলিয়াতের যুগে এক ব্যক্তি খুব অসুস্থ হয়ে গেল।
আমি তাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলাম এই মনে করে যে, হয়তো সে মারা গেছে। আমি তার কবর খনন করার নির্দেশ দিলাম আর নিজে তার কাছে বসে রইলাম।
সে হঠাৎ কথা বলতে শুরু করল
এমন সময় সে হঠাৎ কথা বলতে শুরু করল। সে বলল, আমি তোমার নিকট এসেছি যেমন তুমি দেখতে পাচ্ছ। যখন আমি অজ্ঞান হলাম তখন আমাকে বলা হল- (কবিতা)
“তুমি কি দেখ না যে তোমার মা কাঁদছে আর তোমার জন্য কবরও খনন করা হচ্ছে। তোমার মা তোমার জন্য কাঁদছে।
তুমি কি মনে কর যে, আমরা তোমার প্রতি তার মহব্বত অন্য বাচ্চাদের দিকে ফিরিয়ে দিব, যে তার থেকে জন্ম নিয়েছে?
আমরা এই অপবাদ কুসালের প্রতি আরোপ করেছি, যে এই কাজ করেছে। তুমি কি তোমার প্রতিপালকের কৃতজ্ঞতা আদায় করবে, নামায পড়বে এবং শিরক ও গুমরাহীর পথ ছেড়ে দিবে?”
আমি বললাম হ্যাঁ। (আমাকে বলা হল) তুমি যাও আর দেখ কুসালের কি অবস্থা। যখন সে গেল, দেখল যে, সে মরে গেছে এবং তাকে দাফনও করে দেয়া হয়েছে। অতঃপর এই ব্যক্তি জীবিত রইলো এমনকি ইসলামের যুগ পেল।
জুহনী লোকের ঘটনা
রিওয়ায়াত: ২২ মুজালিদ- শাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি জুহায়নার এক বৃদ্ধ ব্যক্তির কথা বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি এই ঘটনা বর্ণনা করেন। অতঃপর বলেন, আমি এই জুহনী লোকটিকে নামায পড়তে এবং মূর্তিকে ভাল-মন্দ বলতে শুনেছি।
শাবী (রহ.) বর্ণিত ঘটনা
রিওয়ায়াত: ২৩ শাবী (রহ) বর্ণনা করেন যে, ইসলামের প্রথম যুগে জুহায়নার এক ব্যক্তি অসুস্থ হলে তার ঘরের লোকেরা ধারণা করল যে, সে হয়তো মরে গেছে আর তার কবরও খনন করা হয়ে গেছে।
অতঃপর শাবী (রহ) পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন যার মধ্যে নিম্নের কবিতাগুলো বর্ধিত ছিল-
‘আমি তার ব্যাপারে কুসালের প্রতি অপবাদ আরোপ করেছি। অতঃপর আমি তার উপর পাথর দিয়ে দিয়েছি। সে ভাবছিল যে, সে এমন করে নাই।’
অপর এক বর্ণনায় নিম্নের কবিতাটি বর্ধিত আছে-
أَتُؤْمِنُ بِالنَّبِيِّ الْمُرْسَلْ
তুমি কি প্রেরিত নবীর প্রতি ইমান আনবে?
কবরে সুগন্ধযুক্ত বৃক্ষ উদগমন
রিওয়ায়াত: ২৪ হযরত আব্দুল্লাহ বলেন, মুহাম্মদ ইবনে হুসায়ন আমাদের নিকট ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, তাদের কবরের উপর সুগন্ধযুক্ত কিছু বৃক্ষ উদগমন করেছে।
উমর (রা) এর যুগের অবাক করা ঘটনা
রিওয়ায়াত: ২৫ যায়দ বিন আসলাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। উমর (রা) এর নিকট লোকজন উপস্থিত ছিল। এক ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাচ্ছিল যার কাঁধে তার ছেলে বসে ছিল।
উমর (রা) বললেন, আমি একজন অপরিচিতকে তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অপর একজন অপরিচিতকে (বাচ্চাকে) দেখতে পাচ্ছি। তখন ঐ ব্যক্তি বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহর শপথ! এই ছেলেকে তার মৃত মা জন্ম দিয়েছে।
উমর (রা) বললেন, তোমার অকল্যাণ হোক, কিভাবে তা সম্ভব? সে বলল, আমি সফরে ছিলাম আর তার মা ছিল গর্ভবতী। আমি (সফরে যাওয়ার সময়) তাকে বললাম,
সে তার বাচ্চাকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করলো
أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ مَا فِي بَطْنِكِ
যা তোমার পেটে আছে তাকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করলাম।
যখন আমি সফর থেকে ফিরে আসলাম তখন আমাকে বলা হল যে, তোমার স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেছে। এক রাতে আমি আমার চাচাত ভাইয়ের সাথে জান্নাতুল বাকীতে (জান্নাতুল বাকী কবরস্তানে) বসা ছিলাম।
কবরে প্রদীপ জ্বলছিল
এমন সময় কবরের মধ্যে প্রদীপের আলো দেখতে পাই। আমি আমার চাচাত ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম এটা কি?
সে বলল আমি জানি না, তবে অমুক মহীলার (তোমার স্ত্রীর) কবরের মধ্যে এই আলো হয়।
আমি আমার সাথে একটি কোদাল নিয়ে কবরের নিকট গেলাম।
কবরে বাচ্চা খেলা করছে
দেখলাম যে, কবরটি খোলা আর একটি বাচ্চা তার মায়ের কোলে রয়েছে। আমি আওয়ায দিলে একজন আহ্বানকারী বলল যে,
আল্লাহ তাআলা আমানতদার
হে নিজের প্রতিপালকের নিকট আমানত রাখনেওয়ালা ব্যক্তি! নিজের আমানত বুঝে নাও। যদি তুমি তোমার স্ত্রীকেও আল্লাহর নিকট সোপর্দ করতে, তবে তোমার স্ত্রীকেও আজ জীবিত পেতে।
অতঃপর যখন আমি বাচ্চাকে উঠালাম তখন কবর নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।
মায়ের সাথে বে-আদবীর কুফল
রিওয়ায়াত: ২৬ বসরাবাসীদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বর্ণনা করেন যে, আমি বসরার এক কুয়ার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন গাধার চিৎকারের আওয়ায শুনতে পেলাম। আমি লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম এই আওয়ায কিসের?
তারা বলল, এটা এমন ব্যক্তি, যে তার মা যখন কোন ব্যাপারে কথা বলত তখন সে বলত, গাঁধার মত চেঁচাচ্ছ কেন?
আর তার মা বলত আল্লাহ তোকে গাঁধা বানিয়ে দিক।
যখন এই ব্যক্তি মারা গেল তখন থেকে প্রতি রাতে তার কবর থেকে গাঁধার চিৎকারের আওয়াজ ভেসে আসে।
আরেক গাধার ঘটনা
রিওয়ায়াত: ২৭ মুজাহিদ (রহ) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি কোন এক কাজে বের হলাম আর দেখলাম যে,
মাটির নীচ থেকে একটি গাধা মাথা বের করে তিনবার চিৎকার করে পূণরায় মাটির অভ্যন্তরে চলে যায়।
আমি এ ব্যাপারে লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করার জন্য গেলে তারা আমাকে বলল, তুমি কি তাকে চিন? আমি বললাম, না।
সে তার মাকে গালি দিত আর গাধার মত চিৎকার করত
তারা বলল, সে হল অমুক গোত্রের যুবক। তার মা চার দেয়ালের মাঝে থাকত। যখনই তার মা তাকে কোন কাজের কথা বলত, তখন সে তার মাকে গালি দিত আর গাধার মত চিৎকার করত। যখন সে মারা গেল তখন আমরা তাকে ঐ কবরে দাফন করে দিলাম।
যখন থেকে আমরা তাকে দাফন করেছি তখন থেকে সে তার মাথা বাহিরে বের করে তিনবার এই চার দেয়ালের দিকে মুখ করে গাধার মত চিৎকার করে পূণরায় মাটির অভ্যন্তরে চলে যায়।
গাধার চিৎকার
রিওয়ায়াত: ২৮ আব্দুল্লাহ ইবনে হুযায়ল বলেন, এক বদ-বখত (দুর্ভাগা) ব্যক্তি ছিল। যখনই তার মা কথা বলত তখনই সে গাধার মত চিৎকার করত আর মাকে বলত তুমি গাধি।
যখন সে মারা গেল তখন প্রতিদিন আসরের নামাযের পর তার সিনা পর্যন্ত গাধার মাথা হত এবং কবর থেকে বের হয়ে তিনবার গাধার মত চিৎকার করে আবার কবরে চলে যেত।
এক ব্যক্তির মৃত গাধা জীবিত হওয়া
রিওয়ায়াত: ২৯ শাবী (রহ) বলেন, ইয়ামানের কিছু লোক জিহাদের জন্য সৈন্যবাহিনীর মধ্যে ছিল। তাদের মধ্যে একজনের গাধা মরে গেল।
তার সাথীরা চাইল যে, সে তাদের সাথে (তাদরে বাহনে) আসুক।
কিন্তু সে তাদের সাথে যেতে অস্বীকার করল। অতঃপর সে দাড়াল, ওযু করে নামায পড়ে দুআ করল-
তার দুআ
হে আল্লাহ! আমি দাসিনা নামক স্থান হতে তোমার পথে জিহাদ করতে এসেছি তোমার সন্তুষ্টির আশায়।
নিশ্চয়ই আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি মৃতকে জীবিত করবে এবং যারা কবরে আছে তাদেরকে দ্বিতীয়বার উত্থিত করবে।
হে আল্লাহ! আমাকে তুমি কারো কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করো না।
আমি তোমার নিকট দুআ করছি যে, আমার গাধাকে পুনরায় জীবিত করে দাও।
গাধা উঠে দাঁড়ালো
অতঃপর সে গাধার পাশে দাড়িয়ে গাধাকে ঠোকর দিল। গাধা তার কান ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে দাড়াল। সে গাধার উপর জীন বাঁধল এবং লাগাম স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়ে চলতে লাগল।
এমনকি নিজের সাথীদের সাথে গিয়ে সাক্ষাত করল। তারা বলল তুমি কিভাবে পৌঁছলে? সে বলল, আল্লাহ তাআলা আমার গাধাকে জীবিত করে দিয়েছেন।
কুনাসাহ নামক স্থানে গাধা বিক্রি
শাবী (রহ) বলেন আমি ঐ গাধাটিকে কুনাসাহ নামক স্থানে বিক্রি হতে দেখেছি।
রিওয়ায়াত: ৩০ আবু সাবরাহ আন নাখয়ী সূত্রে অনুরুপ ঘটনা।
জীবিত হওয়া গাধা বিক্রি করা
রিওয়ায়াত: ৩১ মুসলিম বিন আব্দু্ল্লাহ বিন শরীক নাখয়ী (রহ) বলেন, নাখয়ী গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট একটি গাধা ছিল। যার নাম ছিল নাবাতাহ বিন ইয়াযিদ।
উমর (রা) এর যুগে সে সৈন্যবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। যখন সে জিহাদে, শানে আমীরাহ নামক স্থানে পৌঁছেন তখন তার গাধাটি মরে যায়।
অতঃপর তিনি পূর্ববর্তী অনুরুপ সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন। তার মধ্যে এতটুক বৃদ্ধি আছে যে, সে তার গাধাটিকে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়।
আমার গাধার প্রয়োজন নেই
কেউ তখন বলল যে, আল্লাহ রব্বুল ইযযত যে গাধাটিকে তোমার জন্য জীবিত করে দিয়েছেন তা তুমি বিক্রি করছ?
সে বলল আমি কি করব? (এখন আমার এর কোন প্রয়োজন নেই)।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সে (তার গোত্রের কোন এক ব্যক্তি) তিনটি কবিতা পাঠ করে যার মধ্যে আমার একটি মনে আছে-
আমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি আাছে যার গাধাকে আল্লাহ তাআলা পুনরায় জীবিত করে দিয়েছেন। যদিও তার প্রতিটি হাড় ও জোড়া মরে গিয়েছিল।
🔸🔸🔸
আরও পড়ুন আকল সম্পর্কিত শিক্ষনীয় বিষয়, কিতাবুল আকল – ইমাম ইবনে আবিদ দুনইয়া রহ.


