আল হাদীস

ইমানের হাকীকত

কানযুল উম্মাল - শায়খ আলী মুত্তাকী রহ.

ইমানের হাকীকত: প্রকৃত ঈমানের পরিচয় ও গুরুত্ব – ইমান ইসলামের মৌলিক ভিত্তিগুলোর অন্যতম। একজন মুমিনের জীবনে ইমান শুধু মুখে স্বীকৃতি দেওয়ার নাম নয়; বরং অন্তরের বিশ্বাস, মুখের স্বীকৃতি এবং জীবনে তার প্রভাব—সবকিছুর সমন্বিত রূপ হলো ইমান। তাই ইমানের হাকীকত বা প্রকৃত ঈমান কী, এর পরিচয় কী এবং একজন মুমিনের জীবনে ইমানের প্রভাব কতটা—এসব বিষয় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডারে ইমানের সংজ্ঞা, তার শাখা-প্রশাখা, মর্যাদা, বৃদ্ধি-হ্রাস এবং প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস ও সালাফদের বক্তব্য সংরক্ষিত হয়েছে। প্রসিদ্ধ হাদিসগ্রন্থ কানযুল উম্মাল-এও ইমান সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা সংকলিত হয়েছে। এসব বর্ণনার মাধ্যমে ইমানের প্রকৃতি, তার দাবি এবং মুমিনের চরিত্রে ইমানের প্রতিফলন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়।

ইমানের হাকীকত অনুধাবন করলে একজন মানুষ বুঝতে পারে—শুধু পরিচয় বা দাবির মাধ্যমে প্রকৃত মুমিন হওয়া যায় না; বরং ইমানের দাবি হলো আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁর আনুগত্য, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অনুসরণ এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

আরও পোস্ট

এই আলোচনায় কানযুল উম্মাল থেকে ইমানের হাকীকত, ইমানের বৈশিষ্ট্য, মুমিনের গুণাবলি এবং ইমানের সঙ্গে আমলের সম্পর্ক বিষয়ে বর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস ও বক্তব্যগুলো তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে পাঠক প্রকৃত ঈমানের অর্থ ও একজন মুমিনের জীবনে এর গুরুত্ব সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারবেন।

শায়খ আলী মুত্তাকী রহ রচিত কানযুল উম্মাল কিতাবুল ইমান থেকে অনূদিত 

একটি দারুস সাআদাত অনুবাদ ও  প্রকাশনা

হাকীকতুল ইমান

ইমানের পরিচয়

الإيمان: “أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله وتؤمن بالجنة والنار والميزان وتؤمن بالبعث بعد الموت وتؤمن بالقدر خيره وشره”. (هب عن عمر)

ইমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে- আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসূলদের প্রতি। তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে জান্নাত, জাহান্নাম এবং মীযানের প্রতি। বিশ্বাস স্খাপন করবে মৃত্যুর পর পূণরুত্থানের প্রতি। আরো বিশ্বাস স্থাপন করবে তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি।

অন্তরের সত্যায়ন

2- الإيمان ” معرفة بالقلب وقول باللسان وعمل بالأركان “. (طب عن علي) .

ইমান হলো অন্তর দিয়ে আল্লাহকে চেনা, মুখ দ্বারা স্বীকার করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করা।

3- الإيمان بالله: “الإقرار باللسان وتصديق بالقلب وعمل بالأركان” (الشيرازي في الألقاب عن عائشة) .

আল্লাহর প্রতি ইমান হলো- মুখের স্বীকারোক্তি, অন্তরের সত্যায়ন এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করা।

যবান ও অন্তর দ্বারা ইমান লাভ হয়

4 – “الإيمان بالقلب واللسان والهجرة بالنفس والمال” (عبد الخالق بن زاهر الشحابي في الأربعين.

যবান ও অন্তর দ্বারা ইমান লাভ হয় আর জান ও মাল দ্বারা হিজরত।

5 – الإيمان: ” أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه وبلقائه وبرسله وتؤمن بالبعث” (حم ق هـ عن أبي هريرة) .

ইমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে- আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার সাক্ষাতের প্রতি, তার রাসূলদের প্রতি। আরো বিশ্বাস স্খাপন করবে মৃত্যুর পর পূণরুত্থানের প্রতি।

চারটি নির্দেশ

6 – “آمركم بأربع، وأنهاكم عن أربع، آمركم بالإيمان بالله وحده أتدرون ما الإيمان بالله؟ شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وصيام رمضان وأن تؤدوا خمس ماغنمتم، وأنهاكم عن الدباء والنقير والحنتم والمزفت احفظوهن وأخبروا بهن من وراءكم” (ق عن ابن عباس)

আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি আর চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি একক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর উপর ইমান আনার। তুমি কি জান আল্লাহর প্রতি ইমান আনার অর্থ কি? আল্লাহর প্রতি ইমান আনার অর্থ হলো এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর রাসূল।

(আর নির্দেশ দিচ্ছি) নামায কায়েম করার, যাকাত প্রদান করার, রমজানের রোযা রাখার এবং (আরো একটি অতিরিক্ত বিষয়) গনীমতের মালের পাঁচ ভাগের এক ভাগ দান করার।

আর আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি (মদের জন্য প্রস্তুতকৃত) কদুর খোল দ্বারা তৈরিকৃত বরতন, মাটির সবুজ পাত্র, কাঠের পাত্র এবং তৈলাক্ত পাত্র (ব্যবহার করা) থেকে। এই কথাগুলোকে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের আশপাশের লোকদেরকেও তা জানিয়ে দাও।

চারটি নিষেধ 

7 – “آمركم بأربع وأنهاكم عن أربع اعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا وأقيموا الصلاة وآتوا الزكاة وصوموا رمضان وأعطوا الخمس من الغنائم، وأنهاكم عن أربع عن الدباء والخنتم والمزفت والنقير”.(حم م عن أبي سعيد)

আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি আর চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি- তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার সাথে কিছু শরীক করবে না।

সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমজানের রোযা রাখবে এবং গনীমতের মালের এক পঞ্চমাংশ দান করবে।

আর আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি (মদের জন্য প্রস্তুতকৃত) কদুর খোল দ্বারা তৈরি বরতন, কাঠের পাত্র, তৈলাক্ত পাত্র এবং মাটির সবুজ পাত্র (ব্যবহার করা) থেকে।

যেভাবে ইমানের স্বীকৃতি দিবে

8- “بحسب امرئ من الإيمان أن يقول رضيت بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد صلى الله عليه وسلم رسولا” (طس عن ابن عباس) .

কোন ব্যক্তির ইমানের জন্য এটা বলা যথেষ্ট যে- আমি আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ (সা) কে রাসূল হিসাবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

যে ব্যক্তি ইমানের স্বাদ পেয়েছে

9 – “ذاق طعم الإيمان من رضي بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد رسولا” (حم م ت عن العباس بن عبد المطلب) .

ঐ ব্যক্তি ইমানের স্বাদ পেয়েছে- যে আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ (সা) কে রাসূল হিসাবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

10 – “ثلاث من فعلهن فقد طعم طعم الإيمان من عبد الله وحده وأنه لاإله إلا الله وأعطى زكاة ماله طيبة بها نفسه رافدة عليه كل عام ولايعطي الهرمة ولا الرديئة ولا المريضة ولا الشرط اللئيمة ولكن من أوسط أموالكم فإن الله لم يسألكم خيره ولا يأمركم بشره وزكى نفسه” (د عن عبد الله بن معاوية العامري

যে ব্যক্তি তিনিটি কাজ করবে নিশ্চিত সে ইমানের স্বাদ পাবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকে এবং আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই তার স্বীকৃতি প্রদান করে।

প্রতি বছর সন্তুষষ্টচিত্তে নিজের মালের যাকাত প্রদান করে এবং বৃদ্ধ বয়সের, রোগগ্রস্ত (যাকাতের পশু), ত্রুটিপূর্ণ ও নিকৃষ্ট মাল প্রদান করে না। বরং মধ্যম ধরণের মাল প্রদান করে।

আল্লাহ তোমাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ চান না আবার নিকৃষ্ট মাল প্রদান করতেও বলেন না।

বেশ ভূষার নাম ইমান নয়

11 – “ليس الإيمان بالتمنى ولا بالتحلي، ولكن: هو ما وقر في القلب وصدقه العمل” (ابن النجار فرص عن أنس)

ইমান তামান্না বা বেশভূষার মাধ্যমে হাসিল হয় না বরং ইমান তো হলো এমন বিষয় যা অন্তরে পরিপক্ক হয়- আর আমল তার সত্যায়ন করে।

ইমানের হাকীকত

12 – “إن لكل شيء حقيقة ومابلغ عبد حقيقة الإيمان حتى يعلم أن ما أصابه لم يكن ليخطئه وما أخطاه لم يكن ليصيبه” (حم طب عن أبي الدرداء) الإكمال.

প্রত্যেক জিনিসের একটি হাকীকত আছে আর কোন বান্দা ইমানের হাকীকত পর্যন্ত ঐ সময় পর্যন্ত পৌছতে পারে না, যে পর্যন্ত সে এ বিষয়টি ভালভাবে জেনে না নিবে যে, যে মুসিবত তার উপর আপতিত হয়েছে তা কখনো তাকে ভুল করত না। আর যা তার উপর আপতিত হয়নি তা তার উপর কখনও আপতিত হত না।

13 – “الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته والكتاب والنبيين وتؤمن بالقدر” (ن عن أبي هريرة وأبي ذر معا)

ইমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবের প্রতি এবং তার নবীদের প্রতি। আরো বিশ্বাস স্থাপন করবে তাকদীরের প্রতি।

14 – “الإيمان أن تؤمن بالله واليوم الآخر والملائكة والكتاب والنبيين والموت والحياة بعد الموت وتؤمن بالجنة والنار والحساب والميزان وتؤمن بالقدر خيره وشره فإذا فعلت ذلك فقد آمنت” (حم عن أبي عامر وأبي مالك) (ن عن أنس) (ابن عساكر عن عبد الرحمن ابن غنم) .

ইমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবের প্রতি, তার নবীদের প্রতি, মৃত্যুর প্রতি এবং মৃত্যুর পর পূণর্জীবনের প্রতি।

আরো বিশ্বাস স্থাপন করবে জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি, হিসাব ও মীযানের প্রতি। আরো বিশ্বাস স্থাপন করবে তাকদীর বা ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি। যখন তুমি এগুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে নেবে তখন তুমি নিশ্চিত ইমান আনয়ন করলে।

নিশ্চিত মুমিন

15 – “أربع من كن فيه فهو مؤمن ومن جاء بثلاث وكتم واحدة فهو كافر شهادة أن لاإله إلا الله وأني رسول الله وأنه مبعوث من بعد الموت وإيمان بالقدر خيره وشره” (تمام وسمويه كر عن أبي سعيد) .

যার মধ্যে চারটি বিষয় থাকবে সে নিশ্চিত মুমিন। আর যার মধ্যে তিনটি থাকবে আর একটি ছেড়ে দিবে সে নিশ্চিত কাফির। এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং আমি [মুহাম্মদ (সা)] আল্লাহর রাসূল এবং মৃত্যুর পর তাকে পূনর্জীবিত করা হবে। আর তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ইমান আনয়ন করা।

16 – ” أربع لم يجد رجل طعم الإيمان حتى يؤمن بهن أن لا إله إلا الله وأني رسول الله بعثني بالحق وأنه ميت ثم مبعوث من بعد الموت ويؤمن بالقدر كله” (كر عن علي) .

চারটি বিষয় এমন যে, তার উপর ইমান আনা ব্যতীত বান্দা ইমানের স্বাদ পেতে পারে না। এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং আমি [মুহাম্মদ (সা)] আল্লাহর রাসূল- যিনি আমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন। এটাও যে, তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে এবং মৃত্যুর পর পূণরায় জীবিত করা হবে। আর তাকদীর বা ভাগ্যের সকল বিষয়ের প্রতি।

ইসলাম হলো সমর্পণ

17- ” الإسلام أن تسلم قلبك ويسلم المسلمون من لسلنك ويدك قيل فأي الإسلام أفضل قال الإيمان. قيل وما الإيمان؟ قال أن تؤمنوا بالله وملائكته وكتبه ورسله والبعث بعد الموت. قيل فأي الإيمان أفضل؟ قال: الهجرة. قيل: وما الهجرة؟ قال: أن تهجر السوء. قيل: فأي الهجرة أفضل؟ قال: الجهاد. قيل: وما الجهاد؟ قال: أن تقاتل الكفار إذا لقيتهم قيل فأي الجهاد أفضل؟ قال: من عقر جواده وأهريق دمه. ثم عملان أفضل الأعمال إلا من عمل بمثلهما: حجة مبرورة أو عمرة”. (حم طب عن عمرو بن عبسه) ورجاله ثقات.

ইসলাম হলো এই যে, তুমি তোমার অন্তরকে (নিজেকে) আল্লাহর সোপর্দ করবে। আর তোমার হাত ও যবান থেকে অপর মুসলমানকে নিরাপদ রাখবে। জিজ্ঞাসা করা হলো কোন ইসলাম উত্তম? তিনি বললেন, ইমান।

জিজ্ঞাসা করা হলো ইমান কি? তিনি বললেন, ইমান হলো এই যে- তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসূলদের প্রতি এবং মৃত্যুর পর পূণর্জীবনের প্রতি।

জিজ্ঞাসা করা হলো কোন ইমান উত্তম? তিনি বললেন, হিজরত। জিজ্ঞাসা করা হলো হিজরত কি? তিনি বললেন, গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। জিজ্ঞাসা করা হলো কোন হিজরত উত্তম, তিনি বললেন, জিহাদ।

জিজ্ঞাসা করা হলো জিহাদ কি? জিহাদ হলো এই যে, যখন কাফিরদের সাথে তোমার মুকাবিলা হবে তখন তুমি তাদেরকে হত্যা করবে। জিজ্ঞাসা করা হলো কোন জিহাদ উত্তম? তিনি বললেন, যেই জিহাদে মুজাহিদের ঘোড়া যখমী হয় এবং তার রক্ত বয়ে যায়।

অতঃপর এগুলোর পর দুটি আমল উত্তম এটা ব্যতীত যে, কেউ অনুরুপ আমল করে- হজ্জে মাবরূর (মকবুল হজ) অথবা উমরা।

ইসলামের হাকীকত

18 – “حقيقة الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا”. (م عن عمر) .

ইসলামের হাকীকত হলো তুমি এই সাক্ষ্য প্রদান করো যে- ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর রাসূল।’ নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর, রমজানের রোযা রাখ আর যদি সফরের সামর্থ্য থাকে তবে বায়তুল্লাহর হজ পালন কর।

19 – “الإسلام علانية والإيمان في القلب” (ش عن أنس) .

ইসলাম হলো প্রকাশমান বিষয় আর ইমান হলো অন্তরের বিষয়।

ইসলামের দৃষ্টান্ত

20 – ” إن للإسلام صنوا ، ومنارا كمنار الطريق ورأسه، وجماعه شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبد ورسوله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وتمام الصوم” (طب عن أبي الدرداء) .

ইসলামের দৃষ্টান্ত হলো পথের দৃষ্টান্তের মত। পথের যেমন একটা মূল থাকে তেমনি ইসলামের মূল বা চূড়া হলো এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল। আর নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় এবং (রমজানের) সব রোযা রাখা।

ইসলামের ভিত্তি

21 – “بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت وصوم رمضان” (حم ق ت ن عن ابن عمر)

ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষষ্ঠিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল। নামায কায়েম করা। যাকাত আদায় করা। বায়তুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোযা রাখা।

22 – “رأس هذا الأمر الإسلام، ومن أسلم سلم، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد، لا يناله إلا أفضلهم” (طب عن معاذ) .

এই দীনের মূল হলো ইসলাম। আর যে ইসলাম গ্রহণ করল সে নিরাপত্তা লাভ করল। আর এই দীনের স্তম্ভ হলো নামায আর উচ্চতা হলো জিহাদ। উত্তম লোক ব্যতীত তা কেউ লাভ করতে পারে না।

23- “عرى الإسلام وقواعد الدين ثلاثة عليهن أسس الإسلام من ترك واحدة منهن فهو بها كافر حلال الدم: شهادة أن لا إله إلا الله والصلاة المكتوبة وصوم رمضان” (ع عن ابن عباس)

ইসলাম সব দোষ থেকে পবিত্র। আর দীনের তিনটি ভিত্তি রয়েছে যার উপর ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যে এর মধ্যে একটিও ছেড়ে দিবে সে কাফির, তার রক্ত হালাল। তা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর’ সাক্ষ্য প্রদান করা, ফরয নামায ও রমজানের রোযা।

ইসলাম হলো শান্তি ও নিরাপত্তা

24 – “يا عدي ابن حاتم أسلم تسلم أشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله وتؤمن بالأقدار كلها خيرها وشرها، حلوها ومرها” (هـ عن عدي بن حاتم) .

হে আদী ইবনে হাতিম! ইসলাম গ্রহণ কর। শান্তি ও নিরপত্তা লাভ কবে। সাক্ষ্য প্রদান কর এই কথার যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই আর আমি [মুহাম্মদ (সা)] আল্লাহর রাসূল। আর ইমান আনয়ন কর তাকদীর বা ভাগ্যের সবকিছুর প্রতি- চাই তা ভাল হোক অথবা মন্দ, মিষ্ট হোক অথবা তিক্ত।

25 – ” الإسلام إقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت وصوم شهر رمضان والاغتسال من الجنابة” (د عن عمر)
ইসলাম হলো নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, বায়তুল্লাহর হজ করা, রমজানের রোযা রাখা এবং জানাবত বা অপবিত্রতা থেকে গোসল করা।

26 – “الإسلام أن تعبد الله ولا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان وتحج البيت” (حم ق هـ عن أبي هريرة وأبي ذر معا)

ইসলাম হলো এই যে- তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে আর তার সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। নামায কায়েম করবে। ফরয যাকাত আদায় করবে। রমজানের রোযা রাখবে এবং বায়তুল্লাহর হজ করবে।

ইসলামের ভিত্তি সমূহ 

27 – “بني الإسلام على خمس شهادة أن لا إله إلا الله والصلاة وصيام رمضان فمن ترك واحدة منهن كان كافرا حلال الدم” (طب عن ابن عباس) .

ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্টিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। সালাত ও রমজানের সিয়াম (এবং হজ ও যাকাত)। যে ব্যক্তি এর কোন একটি ছেড়ে দিবে সে কাফির, তার রক্ত হালাল।

28 – “بني الإسلام على خمس شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت وصوم رمضان والجهاد والصدقة من العمل الصالح” (طب عن ابن عمر) .

ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্টিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল। নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, বায়তুল্লাহর হজ করা। রমজানের রোযা রাখা। আর জিহাদ এবং সাদকাহ হলো নেক আমলের মধ্যে থেকে।

29 – “بني الإسلام على خمس خصال: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وحج البيت، وصوم رمضان. والجهاد والصدقة من العمل الصالح” (طب عن ابن عمر) .

ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের উপর প্রতিষ্টিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল। নামায কায়েম করা। যাকাত আদায় করা। বায়তুল্লাহর হজ করা। রমজানের রোযা রাখা। আর জিহাদ এবং সাদকাহ হলো নেক আমলের মধ্যে থেকে।

30 – “بني الإسلام على خصال: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، والإقرار بما جاء من عند الله، والجهاد ماض منذ بعث رسله إلى آخر عصابة تكون من المسلمين يقاتلون الدجال لا ينقصهم جور من جار ولا عدل من عدل، وأهل لا إله إلا الله فلا تكفروهم بذنب ولا تشهدوا عليهم بشرك، والقدر خيره وشره من الله تعالى” (ابن النجار ابن عمر) .

ইসলামের ভিত্তি এই কয়টি বৈশিষ্ট্যের উপর প্রতিষ্টিত। এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল। আর এই স্বীকারোক্তি প্রদান করা যে- যা কিছু তিনি নিয়ে এসেছেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে।

আর যখন থেকে আল্লাহ তাআলা রাসূল প্রেরণ করেছেন তখন থেকে জিহাদ জারি রয়েছে এবং মুসলমানদের সর্বশেষ জামাআত (পর্যন্ত তা জারি থাকবে আর) তারাও দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে।

কোন যালিমের যুলুম এবং কোন ন্যায়বিচারকের ন্যায়বিচার তাদেরকে তাদের মাকসাদ থেকে হঠাতে পারবে না। তারা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর পরিবারভুক্ত।

অতএব তাদের কোন গুনাহ ও ত্রুটির কারণে তাদেরকে কাফির সাব্যস্ত করো না আর না তাদের প্রতি শিরকের সাক্ষ্য প্রদান করো। আর (জেনে রাখ যে,) তাকদীরের ভাল মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে।

উপসংহার

ইমান মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। প্রকৃত ইমান কেবল অন্তরের বিশ্বাস কিংবা মুখের স্বীকৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রভাব মানুষের কথা, কাজ, চরিত্র ও জীবনাচরণে প্রকাশ পায়। আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি আনুগত্য এবং আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা—এসবই প্রকৃত ইমানের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

কানযুল উম্মালে সংকলিত ইমান-সম্পর্কিত হাদিস ও বর্ণনাগুলো থেকে বোঝা যায়, ইমান মানুষের অন্তরকে সংশোধন করে এবং তার আমল ও চরিত্রকে সুন্দর করে তোলে। একজন মুমিনের মধ্যে আল্লাহভীতি, তাকওয়া, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, উত্তম চরিত্র ও নেক আমলের প্রতি আগ্রহ থাকা ইমানের বাস্তব প্রকাশ।

তাই ইমানের হাকীকত জানা শুধু জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; বরং নিজের বিশ্বাস ও আমলকে যাচাই করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নিজের ইমানকে দৃঢ় করার পাশাপাশি তা নেক আমল ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে জীবনে বাস্তবায়ন করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রকৃত ইমান অর্জন, ইমানের ওপর অটল থাকা এবং ইমানের দাবি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

🔹🔹🔹

👉 আরও পড়ুন সহিহ হাকীম – কিতাবুল ইমান

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!