
কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত – আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত পবিত্র কুরআন। এটি মানবজাতির জন্য হিদায়াত, রহমত ও মুক্তির দিশারি।
কুরআন তিলাওয়াত শুধু একটি ইবাদতই নয়, বরং এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, হৃদয়ে প্রশান্তি অর্জন করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করে।
হাদিসের প্রসিদ্ধ সংকলন কানযুল উম্মাল-এ কুরআন তিলাওয়াতের অসংখ্য ফযীলত, কুরআনের বাহকদের মর্যাদা এবং তিলাওয়াতকারীদের জন্য প্রতিশ্রুত মহান পুরস্কারের কথা বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস উল্লেখ করা হলো।
শায়খ আলী মুত্তাকী (রহ) রচিত কানযুল উম্মাল গ্রন্থ থেকে অনূদিত
আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত
৬ষ্ট অধ্যায়
প্রথম পরিচ্ছেদঃ কুরআনের ফযীলত
প্রতিপালকের সাথে কথোপকথন
2257 – “إذا أحب أحدكم أن يحدث ربه فليقرأ القرآن”. (خط فر عن أنس) .
২২৫৭. যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাথে কথা বলতে চায় তাহলে সে যেন কুরআন তিলাওয়াতে মগ্ন হয়ে যায়।
ফায়দা
কুরআন তিলাওয়াত বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য দান করে এবং হৃদয়ে শান্তি ও হিদায়াতের আলো জাগ্রত করে।
রহমতের ফেরেশতা
2258 – “إذا ختم العبد القرآن صلى عليه عند ختمه ستون ألف ملك”. (فر) عن عمرو بن شعيب.
২২৫৮. বান্দা যখন কুরআন খতম করে তখন খতমে কুরআনের সময় ষাট হাজার ফেরেশতা পাঠকারীর জন্য রহমতের দুআ করে।
ফায়দা
কুরআন খতম করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। কুরআন খতমের সময় অসংখ্য ফেরেশতার দোয়া ও রহমত লাভের সৌভাগ্য অর্জিত হয়, তাই নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও খতমের চেষ্টা করা উচিত।
উম্মতের সম্ভ্রান্ত লোক
2259 – “أشراف أمتي حملة القرآن، وأصحاب القرآن وأصحاب الليل”. (طب هب) عن ابن عباس.
২২৫৯. আমার উম্মতের সম্ভ্রান্ত লোক হল কুরআনের বাহক, কুআনের ধারক ও (নামাযে তিলাওয়াত দ্বারা) রাত্রি জাগরণকারী।
ফায়দা
যারা কুরআন শিখে, ধারণ করে এবং তা অনুযায়ী আমল করে, তারা আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। কুরআনের সাথে সম্পর্ক এবং রাতের ইবাদত মানুষের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
ইবাদগুযার
2260 – “أعبد الناس أكثرهم تلاوة للقرآن”. (فر) عن أبي هريرة.
২২৬০. লোকদের মধ্যে সবচেয়ে ইবাদতগুযার ঐ ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশী কুরআন তিলাওয়াত করে।
2261 – “أغنى الناس حملة القرآن من جعله الله تعالى في جوفه”. (ابن عساكر) عن أبي ذر.
২২৬১. লোকদের মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ব্যক্তি হল কুরআনের বাহক, যার বুকে আল্লাহ তাআলা কুরআন আবাদ করে দিয়েছেন।
ফায়দা
বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহর ইবাদতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। যে ব্যক্তি কুরআনের সাথে বেশি সময় অতিবাহিত করে, সে ইবাদতে অগ্রগামী হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে।
চোখের ইবাদত
2262 – “أعطوا أعينكم حظها من العبادة النظر في المصحف والتفكر فيه والاعتبار عند عجائبه”. (الحكيم حب) عن أبي سعيد.
২২৬২. চোখকেও ইবাদতের অংশ প্রদান কর। অর্থাৎ কুরআন দেখ আর তার মধ্যে চিন্তা ফিকির কর। আর তার ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর।
ফায়দা
কুরআন দেখে তিলাওয়াত ও তার অর্থ-উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা করা চোখের ইবাদত। এর মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়, হৃদয় জাগ্রত হয় এবং জীবনের জন্য মূল্যবান শিক্ষা অর্জিত হয়।
উত্তম ইবাদত
2263 – “أفضل العبادة قراءة القرآن”. (ابن قانع) عن أسير بن جابر. (السجزي في الإبانة) عن أنس.
২২৬৩. উত্তম ইবাদত হল কুরআন তিলাওয়াত।
2264 – “أفضل عبادة أمتي تلاوة القرآن”. (هب عن النعمان ابن بشير) .
২২৬৪. আমার উম্মতের সর্বোত্তম ইবাদত হল কুরআন তিলাওয়াত।
ফায়দা
কুরআন তিলাওয়াত সর্বোত্তম ইবাদতসমূহের একটি। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করে, নেকি অর্জন করে এবং হৃদয়কে আলোকিত করে।
দেখে কুরআন পাঠ
2265 – “أفضل عبادة أمتي قراءة القرآن نظرا”. (الحكيم) عن عبادة بن الصامت.
২২৬৫. আমার উম্মতের সর্বোত্তম ইবাদত হলো দেখে কুরআন পাঠ করা।
ফায়দা
দেখে দেখে কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ ইবাদত। এতে তিলাওয়াতের পাশাপাশি কুরআনের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়, মনোযোগ বাড়ে এবং অধিক সওয়াব অর্জিত হয়।
কুরআন পাঠে দক্ষ অদক্ষ
2266 – “الماهر بالقرآن مع السفرة البررة والذي يقرأه ويتعتع فيه وهو عليه شاق له أجران”. (ق د هـ) عن عائشة.
২২৬৬. কুরআনে দক্ষ ব্যাক্তি নেককার দূতদের (ফেরেশতাদের) সঙ্গী হবে। আর ঐ ব্যক্তি যে কুরআন আটকে আটকে পাঠ করে এবং কষ্ট স্বীকার করে, তার দ্বিগুণ প্রতিদান লাভ হবে।
ফায়দা
যে ব্যক্তি কুরআনে দক্ষ, সে ফেরেশতাদের সঙ্গ লাভ করবে এবং উচ্চ মর্যাদা পাবে। আর যে কষ্ট করে তিলাওয়াত করে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে- এতে ধৈর্য ও চেষ্টা করার উৎসাহ পাওয়া যায়।
2267 – “الذي يقرأ القرآن وهو ماهر فيه مع السفرة الكرام البررة والذي يقرأه وهو شاق عليه له أجران”. (حم ت) عن عائشة.
২২৬৭. ঐ ব্যক্তি যে কুরআন পাঠ করে আর এতে সে দক্ষ, সে নেককার সম্মানিত লিপিকার ফেরেশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কষ্ট সহকারে কুরআন পাঠ করে তার দ্বিগুণ প্রতিদান লাভ হবে।
কুরআন পাঠকারী খিয়ানত থেকে মুক্ত
2268 – “لا يخون قارئ القرآن”. (ابن عساكر عن أنس) .
২২৬৮.কুরআনের পাঠক খিয়ানতকারী হওয়া অসম্ভব।
ফায়দা
কুরআনের সত্যিকারের পাঠক ও অনুসারী কখনো খিয়ানত করতে পারে না। কুরআনের শিক্ষা মানুষকে আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ ও চরিত্রবান হতে উদ্বুদ্ধ করে।
কুরআন শিক্ষাকারীর দৃষ্টান্ত
2269 – “تعلموا القرآن واقرؤوه وارقدوا فإن مثل القرآن لمن تعلم فقرأه وقام به كمثل جراب محشو مسكا يفوح ريحه في كل مكان، ومثل من تعلمه فيرقد وهو في جوفه كمثل جراب أوكي على مسك” (ت ن هـ) حب عن أبي هريرة.
২২৭৯. কুরআন শিক্ষা কর, তা পাঠ কর আর শ্রবণ কর। কুরআনের দৃষ্টান্ত এমন, যে ব্যক্তি তা শিখল অতঃপর পাঠ করল, আর তার দ্বারা রাতে নফল নামাযে কিয়াম করল, তার দৃষ্টান্ত মিশকের ঐ থলির মত যার মুখ খোলা। আর তার সুঘ্রাণ পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েছে। আর যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করেছে অতঃপর বুকে নিয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে তার দৃষ্টান্ত মিশকের ঐ থলির মত যার মুখ বন্ধ।
ফায়দা
কুরআন শিখে তিলাওয়াত করা ও রাতের ইবাদতে কিয়াম করা মানুষের জীবনকে বরকতময় ও সুগন্ধিময় করে। আর কুরআন শিখে আমল না করলে তার ফায়দা সীমিত হয়ে যায়। তাই কুরআনের জ্ঞানকে আমলে রূপ দেওয়া জরুরি।
কুরআন দ্বারা দুনিয়া উপার্জন করো না
2270 – “اقرؤوا القرآن واعملوا به، ولا تجفوا عنه ولا تغلوا فيه ولا تأكلوا به ولا تستكثروا به” (حم ع طب هب عن عبد الرحمن ابن شبل) .
২২৭০.কুরআন পাঠ কর, আর তার উপর আমল কর, এর থেকে বিমুখ হয়ো না। এর মধ্যে খিয়ানত করো না। এর দ্বারা ভক্ষণ (দুনিয়া লাভ) করো না। আর এর দ্বারা সম্পদ লাভের উপায় করো না।
ফায়দা
কুরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়, বরং এর উপর আমল করা জরুরি। কুরআনকে দুনিয়ার স্বার্থে ব্যবহার বা বিকৃত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে কুরআনের সম্মান রক্ষা হয় এবং ইখলাসসহ আমল করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
কুরআন পাঠকারী মানসিক অশান্তি থেকে মুক্ত
2271 – ” اقرؤوا القرآن، فإن الله تعالى لا يعذب قلبا وعى القرآن”. (تمام عن أبي أمامة) .
২২৭১. কুরআন পাঠ কর, কেননা আল্লাহ ঐ অন্তরকে আযাব দ্বারা একাকার করেন না, যে ব্যক্তি কুরআন ইয়াদ রেখেছে।
ফায়দা
যে ব্যক্তি কুরআন মুখস্থ রাখে ও তিলাওয়াত করে, তার অন্তর আল্লাহ আযাব থেকে হেফাজত করেন। কুরআনের সাথে সম্পর্ক মানুষের হৃদয়কে নরম রাখে এবং আল্লাহর রহমতের দিকে আকৃষ্ট করে।
জান্নাতের মর্যাদা
2272 – ” إن عدد درج الجنة عدد أي القرآن فمن دخل الجنة ممن قرأ القرآن لم يكن فوقه أحد”. (ابن مردويه) عن عائشة.
২২৭২. জান্নাতের মর্যাদা কুরআনের আয়াতসমূহের সমপরিমাণ। অতএব যে কুরআন পাঠকারী জান্নাতে প্রবেশ করে, তার উপর আর কোন মর্যাদা হবে না।
2273 – “عدد درج الجنة عدد أي القرآن فمن دخل الجنة من أهل القرآن فليس فوقه درجة”. (هب) عن عائشة.
২২৭৩. জান্নাতের মর্যাদা কুরআনের আয়াতসমূহের সমপরিমাণ। অতএব যে কুরআন পাঠকারী জান্নাতে প্রবেশ করে তার উপর আর কারো মর্যাদা হবে না।
ফায়দা
কুরআনের সাথে সম্পর্ক মানুষের জান্নাতে মর্যাদা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যত বেশি কুরআন তিলাওয়াত ও আমল করা হবে, জান্নাতে তত উচ্চ মর্যাদা অর্জিত হবে।
কুরআনের বাহককে সম্মান করার গুরুত্ব
2274 – “أكرموا حملة القرآن، فمن أكرمهم فقد أكرمني”. (فر) عن ابن عمر.
২২৭৩. কুরআনের বাহককে সম্মান কর। যে ব্যক্তি তার সম্মান করল, সে যেন আমার সম্মান করল।
ফায়দা
কুরআনের বাহককে সম্মান করা মূলত কুরআন ও আল্লাহর নির্দেশনার সম্মান করা। এতে সমাজে কুরআনের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং নবী ﷺ-এর প্রতি আদব রক্ষা হয়, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।
উন্নতি ও অবনতির মাধ্যম
2275 – “إن الله تعالى يرفع بهذا الكتاب أقواما ويضع به آخرين”. (م هـ) عن عمر.
২২৭৫. আল্লাহ তাআলা এই কুরআন দ্বারা অনেক সম্প্রদায়কে উঁচু করেন আবার অনেক সম্প্রদায়কে নীচু করেন।
ফায়দা
কুরআন মানুষের মর্যাদা উন্নত বা অবনমিত করার মানদণ্ড। যারা কুরআনকে গ্রহণ করে, তিলাওয়াত করে ও আমল করে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন; আর যারা কুরআন থেকে বিমুখ হয়, তারা অপমানিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিরান ঘর
2276 – “إن الذي ليس في جوفه شيء من القرآن كالبيت الخرب “. (حم ت ك) عن ابن عباس.
২২৭৬.যার বুকে কুরআনের কিছু অংশও নেই তার দৃষ্টান্ত বিরান ঘরের মত।
ফায়দা
যার অন্তরে কুরআনের কিছু অংশও নেই, সে হিদায়াত ও নূর থেকে বঞ্চিত হয়। কুরআন মানুষের অন্তরকে জীবন্ত করে; তাই কুরআনের সাথে সম্পর্ক না থাকলে হৃদয় শূন্য ও নিস্তেজ হয়ে যায়।
আল্লাহর পরিবার ও খাস বান্দা
2277 – “إن لله تعالى أهلين من الناس هم أهل الله وخاصته”. (حم ن هـ ك عن أنس) .
২২৭৭. মানুষের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর পরিবার। তারা আল্লাহ ও আল্লাহর বিশেষ বান্দা।
2278 – “أهل القرآن أهل الله وخاصته”. (أبو القاسم بن حيدر في مشيخته عن علي) .
২২৭৮. কুরআনের বাহকগণ আল্লাহর পরিবার ও আল্লাহর তার বিশেষ লোক।
2279 – “أهل القرآن أهل الله”. (خط في رواية مالك عن أنس) .
২২৭৯. কুরআনের বাহকগণ আল্লাহর পরিবার।
ফায়দা
যারা কুরআন শেখে, তিলাওয়াত করে এবং এর উপর আমল করে, তারা আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তাঁর বিশেষ রহমত ও নৈকট্য লাভ করে।
কুরআন খতমে দুআ কবুল
2280 – “إن لصاحب القرآن عند كل ختم دعوة مستجابة وشجرة في الجنة لو أن غرابا طار من أصلها لم ينته إلى فرعها حتى يدركه الهرم”. (خط عن أنس) .
২২৮০. কুরআন পাঠকারীর প্রত্যেক খতমে দুআ কবুল হয়। আর জান্নাতে একটি গাছ আছে। যদি কাক তার মূল থেকে উড়ে যায় তবে বৃদ্ধ হওয়া পর্যন্ত তার ডালের শেষ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না।
ফায়দা
কুরআন খতম করা অত্যন্ত বরকতময় আমল; এতে দোয়া কবুল হওয়ার আশার কথা বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া জান্নাতের নিয়ামত ও বিশালতা এতই অগণিত যে, তা মানুষের কল্পনারও বাইরে। তাই কুরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়িয়ে জান্নাতের প্রতি আগ্রহী হওয়া উচিত।
দুআ কবুল হওয়া
2281 – “إن لقارئ القرآن دعوة مستجابة فإن شاء صاحبها عجلها في الدنيا وإن شاء أخرها إلى الآخرة”. (ابن مردويه عن جابر) .
২২৮১. কুরআন পাঠকের দুআ কবুল হয়। এখন তার ইচ্ছা যে, দুনিয়াতে তার দ্বারা দ্রুত কাজ নিবে অথবা আখিরাতের জন্য কিছু চেয়ে নিবে।
ফায়দা
কুরআন তিলাওয়াতকারীর দোয়া কবুল হওয়ার সুযোগ থাকে, তাই সে চাইলে দুনিয়ার কল্যাণ অথবা আখিরাতের সাফল্যের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে পারে। তবে উত্তম হলো আখিরাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং স্থায়ী কল্যাণ চাওয়া।
ফেরেশতার সংশোধন
2282 – “إن ملكا موكل بالقرآن، فمن قرأ منه شيئا لم يقومه قومه الملك ورفعه”. (أبو سعيد السمان) في مشيخته والرافعي في تاريخه عن أنس.
২২৮২. এক ফেরেশতা কুরআনের উপর নিয়োজিত আছে। যে কুরআন পাঠ করে আর তা সঠিকভাবে পড়তে পারে না তাহলে ঐ ফেরেশতা তা ঠিক করে উপরে নিয়ে যায়।
2283 – “إن ملكا موكل بالقرآن فمن قرأه من أعجمي أو عربي فلم يقومه قومه الملك ثم رفعه قواما”. (الشيرازي في الألقاب) عن أنس.
২২৮৩. এক ফেরেশতা কুরআনের উপর নিয়োজিত আছে। যে অনারব অথবা আরব কুরআন পাঠ করে আর তা সঠিকভাবে পড়তে পারে না তাহলে ঐ ফেরেশতা তা ঠিক করে তা সঠিক অবস্থায় উপরে নিওয় যায়।
2284 – ” إذا قرئ القارئ القرآن فأخطأ أو لحن أو كان أعجميا كتبه الملك كما أنزل”. (فر عن ابن عباس) .
২২৮৪. কুরআন পাঠক যখন কুরআন পাঠ করে এবং ছোট অথবা বড় ভুল করে অথবা সে আজমী। তাহলে ফেরেশতা তাকে ঐভাবেই লিখে যেভাবে নাযিল করা হয়েছে।
ফায়দা
কুরআন তিলাওয়াতের সময় ভুল হলেও যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তিলাওয়াত করে, আল্লাহ তার নিয়ত ও চেষ্টা কবুল করেন। ফেরেশতারা বান্দার নেক আমলকে তার অবস্থান অনুযায়ী ন্যায়ভাবে লিপিবদ্ধ করেন। তাই কুরআন শেখা ও তিলাওয়াতে অবিরত থাকা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ।
আল্লাহর দস্তরখান
2285 – “إن هذا القرآن مأدبة الله، فاقبلوا من مأدبته ما استطعتم”. (ك عن ابن مسعود) .
২২৮৫. এই কুরআন হল আল্লাহর দস্তরখান। অতএব যত ইচ্ছা এথান থেকে নিয়ে নাও।
2286 – “كل مؤدب يحب أن يؤتى مأدبته، ومأدبة الله القرآن فلا تهجروه”. (هب عن سمرة) .
২২৮৬. প্রত্যেক মেযবান তার দস্তরখান পেশ করকে পছন্দ করে। আর আল্লাহর দস্তরখান হল কুরআন। অতএব তা ছেড়ো না।
ফায়দা
কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য হিদায়াত ও রহমতের ভাণ্ডার। যত বেশি কুরআন থেকে শিক্ষা ও আমল গ্রহণ করা হবে, ততই মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করবে।
কুরআনের মর্যাদা
2287 – “إنكم لا ترجعون إلى الله بشيء أفضل مما خرج يعني القرآن”. (حم في الزهد ت عن جبير بن نفير) مرسلا (ك عن أبي ذر) .
২২৮৭. তোমরা আল্লাহর নিকট তার চেয়ে উত্তম কোন বস্তু নিয়ে যেতে পারবে না যা তার থেকে বেরিয়েছে অর্থাৎ কুরআন।
ফায়দা
কুরআন আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নি‘আমত ও হিদায়াত। এর চেয়ে উত্তম কোনো দিশা বা কল্যাণ মানুষের জন্য নেই। তাই কুরআনকে আঁকড়ে ধরা দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার মূল মাধ্যম।
বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান
2288 – ” أهل القرآن عرفاء أهل الجنة”. (الحكيم عن أبي أمامة) .
২২৮৮. কুরআনের ধারক-বাহকরা জান্নাতবাসীদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ও পরিচিত (সম্মানিত) লোক হবে।
2289 – “حملة القرآن عرفاء أهل الجنة يوم القيامة”. (طب عن الحسين بن علي) .
২২৮৯. কুরআনের বাহকরা কিয়ামতের দিন জান্নাতবাসীদের মধ্যে বিশেষ পরিচিত ও সম্মানিত হবে।
ফায়দা
কুরআন তিলাওয়াত ও ধারণ করা মানুষকে আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা ও সম্মান এনে দেয়।
জান্নাতের সর্দার
2290 – “القراء عرفاء أهل الجنة”. (ابن جميع في معجمه والضياء عن أنس) .
২২৯০. কুরআনের পাঠকগণ আহলে জান্নাতের সরদার হবে।
ফায়দা
কুরআন তিলাওয়াত ও এর উপর আমল মানুষকে আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা দান করে। যারা কুরআনের সাথে বেশি সম্পর্ক রাখে, তারা জান্নাতে সম্মানিত ও মর্যাদাবানদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
যে ঘরে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়
2291 – “البيت الذي يقرأ فيه القرآن يتراءيا لأهل السماء كما تراءيا النجوم لأهل الأرض”. (هب عن عائشة) .
২২৯১. ঐ ঘর যেখানে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তা আসমানবাসীদের জন্য এভাবে চমকায় যেভাবে যমীবাসীদের জন্য তারকা চমকায়।
ফায়দা
যে ঘরে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, সেখানে রহমত ও বরকত নাজিল হয় এবং সেই ঘর আল্লাহর নিকট মর্যাদাপূর্ণ হয়। কুরআনের তিলাওয়াত ঘরকে নূর ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করে তোলে।
জান্নাতের শেষ ধাপ
2292 – “حامل القرآن يرقى” (فر عن عثمان) .
২২৯২. কুরআনের বাহক জান্নাতের মনজিলে শেষ ধাপ পযন্ত উন্নতি করতে থাকবে।
ফায়দা
কুরআন ধারণকারী ও তার উপর আমলকারী ব্যক্তি আখিরাতে ধীরে ধীরে উচ্চ থেকে উচ্চতর মর্যাদার দিকে অগ্রসর হবে। কুরআনের সাথে সম্পর্ক মানুষকে জান্নাতে উন্নত ও সম্মানিত অবস্থানে পৌঁছে দেয়।
উপসংহার
পবিত্র কুরআন আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ নি‘আমত এবং মানবজাতির জন্য হিদায়াত, রহমত ও মুক্তির পথপ্রদর্শক। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, হৃদয়ে প্রশান্তি অনুভব করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অগণিত কল্যাণ অর্জন করে।
হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ কানযুল উম্মাল-এ কুরআন তিলাওয়াত, কুরআনের বাহকদের মর্যাদা এবং তিলাওয়াতকারীদের জন্য মহান প্রতিদানের কথা বর্ণিত হয়েছে।
তাই আমাদের উচিত নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা, তা বুঝে পড়া এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। কেননা কুরআনের সাথে সম্পর্কই প্রকৃত সফলতা, মর্যাদা ও নাজাতের অন্যতম মাধ্যম।
🔹🔹🔹
👉 আরও পড়ুন আল্লাহর যিকির এর মাহাত্ম্য


