
ইমাম তাবরানী রহ. রচিত মাকারিমুল আখলাক গ্রন্থ থেকে অনূদিত
আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত
ভূমিকা
ইসলামে উত্তম চরিত্র বা মাকারিমুল আখলাক মানুষের ঈমানের পরিপূর্ণতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্দর আখলাক, শালীন আচরণ ও মানবিক গুণাবলি প্রতিষ্ঠা করার শিক্ষা দিয়েছেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্র পূর্ণতা দানের জন্য।”
— মুসনাদে আহমাদ
এই ধারাবাহিকে মাকারিমুল আখলাক ১ম ভাগ এর মাধ্যমে আমরা জানবো—সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ধৈর্য, লজ্জাশীলতা ও মানুষের সাথে সদ্ব্যবহারের মতো মহৎ গুণগুলো কীভাবে একজন মুসলিমের চরিত্র গঠন করে। প্রতিটি হাদীস আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগযোগ্য বাস্তব শিক্ষা বহন করে।
আসুন, কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে নিজেদের চরিত্রকে সুন্দর করার পথে অগ্রসর হই।
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াত, অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির, ভাল কথা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন এবং মিসকীনদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে মেলামেশার ফযীলত
1 – عَنْ أَبِي ذَرًّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْصِنِي قَالَ: «أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ، فَإِنَّهَا رَأْسُ أَمْرِكَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «عَلَيْكَ بِتِلَاوَةِ الْقُرْآنِ، وَذِكْرِ اللَّهِ فَإِنَّ ذَلِكَ لَكَ نُورٌ فِي السَّمَوَات وَنُورٌ فِي الْأَرْضِ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «عَلَيْكَ بِالْجِهَادِ فَإِنَّهُ رَهْبَانِيَّةُ أُمَّتِي»
قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي , قَالَ: «لَا تُكْثِرِ الضَّحِكَ، فَإِنَّهُ يُمِيتُ الْقَلْبَ، وَيَذْهَبُ بِنُورِ الْوَجْهِ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «عَلَيْكَ بِالصَّمْتِ إِلَّا مِنْ خَيْرٍ، فَإِنَّهُ مَرَدَّةٌ لِلشَّيْطَانِ عَنْكَ، وَعَوْنٌ لَكَ عَلَى أَمْرِ دِينِكَ»
قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «انْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ دُونَكَ، وَلَا تَنْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكَ، فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ لَا تَزْدَرِيَ نِعْمَةَ اللَّهِ عِنْدَكَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «أَحِبَّ الْمَسَاكِينَ وَجَالِسْهُمْ»
قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «قُلِ الْحَقَّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي , قَالَ: «صِلْ قَرَابَتَكَ، وَإِنْ قَطَعُوكَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي , قَالَ: «لَا تَخَفْ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «تُحِبُّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ» ،
ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى صَدْرِي، فَقَالَ: ” يَا أَبَا ذَرٍّ: «لَا عَقْلَ كَالتَّدْبِيرِ، وَلَا وَرَعَ كَالْكَفِّ، وَلَا حَسَبَ كَحُسْنِ الْخُلُقِ»
১.হযরত আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, আমি তোমাকে তাকওয়া অবলম্বন করার উপদেশ দিচ্ছি। কেননা তা সব কাজের মূল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর যিকিরকে আবশ্যক করে নাও, এটা তোমার আসমান ও যমীনেরর জন্য নূর হবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, জিহাদকে আবশ্যক করে নাও কেননা তা আমার উম্মতের জন্য বৈরাগ্য।
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, অধিক হেসো না, কেননা তা অন্তরকে মৃত করে দেয় এবং চেহারার উউজ্জ্বলতাকে দূর করে দেয়। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, নীরবতা অবলম্বন কর, তবে ভাল কথা ব্যতীত। কেননা নীরবতা তোমার জন্য শয়তান থেকে বাঁচার ঢাল এবং দীনি কাজে তোমার সাহায্যকারী।
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, তুমি তোমার থেকে নীচু স্তরের লোকদের দিকে দেখবে এবং উঁচু স্তরের লোকদের দিকে দেখবে না, এটা উত্তম এর থেকে যে, তুমি আল্লাহর নিআমতকে তুচ্ছ মনে করবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরে উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, মিসকীনদেরকে ভালবাসবে এবং তাদের সান্নিধ্য গ্রহণ করবে।
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, সত্য কথা বলবে, যদিও তিক্ত মনে হয়। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে, যদিও তারা ছিন্ন করে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, আল্লাহর ব্যাপারে কোন তিরষ্কারকারীর তিরষ্কারকে ভয় করবে না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরে উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, লোকদের জন্য তা-ই পছন্দ করবে নিজের জন্য যা পছন্দ কর।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা) তার হাত মুবারক দ্বারা আমার বুকে (স্নেহবশত মৃদু) মারলেন এবং বললেন তদবীর বা উপায় অবলম্বনের মত কোন বুদ্ধিমত্তা নেই। গুনাহ থেকে বিরত থাকার মত কোন পরহেযগারী নেই এবং উত্তম চরিত্রের মত কোন ভদ্রতা নেই।
পরিচ্ছেদঃ উত্তম চরিত্রের ফযীলত
ইবাদতের সওয়াব
2 – عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَبْلُغُ بِحُسْنِ خُلُقِهِ دَرَجَةَ الصَّائِمِ الْقَائِمِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُكْتَبُ جَبَّارًا وَمَا هَلَكَ إِلَّا أَهْلُ بَيْتِهِ»
২.হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তি উত্তম চরিত্রের দ্বারা দিনে রোযা এবং রাতে নামায পড়ার মর্যাদা লাভ করে। আবার কখনো কোন ব্যক্তীকে অহংকারী লিখে দেয়া হয়, যদিও সে তার পরিবার ব্যতীত আর কিছুর উপর ক্ষমতাবান নয়।
3 عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيُدْرِكُ بِحُسْنِ خُلُقِهِ دَرَجَةَ السَّاهِرِ بِاللَّيْلِ الظَّامِئِ بِالْهَوَاجِرِ»
৩.হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- বান্দা উত্তম চরিত্রের দ্বারা রাতে তাহাজ্জুদ এবং দিনে রোযা রাখার মর্যাদা লাভ করে।
মীযানের পাল্লা ভারী হওয়া
4 – عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ شَيْءٍ أَثْقَلُ فِي الْمِيزَانِ مِنَ حُسْنِ الْخُلُقِ»
৪.হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মীযানে উত্তম চরিত্রের চাইতে বেশী ওজনদার আর কিছুই নেই।
সবচেয়ে উত্তম যে ব্যক্তি
5 – عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخِيَارِكُمْ؟» ، قَالُوا: بَلَى قَالَ: «أَحْسَنُكُمْ أَخْلَاقًا»
৫.হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না? আমরা বললাম, অবশ্যই। তিনি (সা) বললেন, সে হলো ঐ ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম চরিত্রের অধিকারী।
যে লোকজনকে পছন্দ করে আর লোকজনও তাকে পছন্দ করে
6 – عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَبَّكُمْ إِلَيَّ وَأَقْرَبَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا، الْمُوَطَّئُونَ أَكْنَافًا، الَّذِينَ يَأْلَفُونَ وَيُؤْلَفُونَ، وَإِنَّ أَبْغَضَكُمْ إِلَيَّ وَأَبْعَدَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الثَّرْثَارُونَ، الْمُتَشَدِّقُونِ، الْمُتَفَيْهِقُونَ»
৬.হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- কিয়ামতের দিন আমার মজলিসে ঐ ব্যক্তি আমার সবচেয়ে পছন্দনীয় ও নিকটবর্তী হবে, যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী ও বিনয়ী হবে। সে লোকজনকে পছন্দ করে আর লোকজন তাকে পছন্দ করে। আর আমার মজলিসে আমার থেকে সবচেয়ে দূরে ঐ ব্যক্তি হবে, যে অধিক কথা বলে, বকবক করে এবং অহংকারী হয়।
আল্লাহ যার কল্যাণ চান
7 عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: أَنَا خَلَقْتُ الْعِبَادَ بِعِلْمِي، فَمَنْ أَرَدْتُ بِهِ خَيْرًا مَنَحْتُهُ خُلُقًا حَسَنًا، وَمَنْ أَرَدْتُ بِهِ شَرًّا مَنَحْتُهُ خُلُقًا سَيِّئًا “
৭.হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি বান্দাদেরকে আমার জ্ঞান থেকে সৃষ্টি করেছি। অতএব যার জন্য আমি কল্যাণের ইচ্ছা করি তাকে উত্তম চরিত্র দান করি। আর যার জন্য অকল্যাণের ইচ্ছা করি তাকে মন্দ চরিত্র দান করি।
ইসলামে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি
8 – عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحْسَنَ النَّاسِ إِسْلَامًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا»
৮.হযরত জাবির বিন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মানুষের মধ্যে ইসলামে সবেচেয়ে উত্তম ঐ ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচাইতে উত্তম।
পরিপূর্ণ ইমানদার
9 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا»
৯.হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- পরিপূর্ণ ইমানদার ঐ ব্যক্তি যার চরিত্র সবচাইতে উত্তম।
দোযখের আগুন যাকে ভক্ষণ করবে না
10 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا حَسَّنَ اللَّهُ خَلْقَ رَجُلٍ وَخُلُقَهُ، فَيُطْعِمَهُ النَّارَ»
১০.হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা যার সীরাত (স্বভাব–চরিত্র) ও সুরত (চেহার-অবয়ব) সুন্দর করেছেন তাকে দোযখের আগুন ভক্ষণ করবে না।
গুনাহ মিটিয়ে দেয়
11 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «حُسْنُ الْخُلُقِ يُذِيبُ الْخَطِيئَةَ كَمَا تُذِيبُ الشَّمْسُ الْجَلِيدَ»
১১.হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- উত্তম চরিত্র গুনাহকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয় যেভাবে সূর্যের তাপ বরফ গলিয়ে দেয়।
মানুষকে সবচেয়ে উত্তম যা দেয়া হয়েছে
12 – عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا خَيْرُ مَا أُعْطِيَ النَّاسُ؟ قَالَ: «إِنَّ النَّاسَ لَمْ يُعْطَوْا شَيْئًا خَيْرًا مِنْ خُلُقٍ حَسَنٍ»
১২.হযরত উসামাহ বিন শারীক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ রাসূলূল্লাহ (সা)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মানুষকে সবচেয়ে উত্তম জিনিস কোনটি দেয়া হয়েছে? তিনি (সা) বললেন, মানুষেকে সুন্দর স্বভাব-চরিত্রের চাইতে উত্তম কোন কিছু প্রদান করা হয়নি।
মানুষের সাথে উত্তম চরিত্র নিয়ে মেলামেশা করা
13 – عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ، وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا، وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ»
১৩.হযরত আবু যার গিফারী (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাকে নবী (সা) নসীহত করেছেন যে, তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় কর। আর যখনই কোন গুনাহ হয়ে যায়, সাথে সাথেই কোন নেককাজ করে নাও, যাতে এই নেককাজ ঐ গুনাহকে মিটিয়ে দেয়। আর মানুষের সাথে উত্তম চরিত্র নিয়ে মেলামেশা কর।
পরিচ্ছেদঃ নম্র মেজাজ, সরল চরিত্র এবং বিনয়ের ফযীলত
জাহান্নামের আগুন হারাম যার জন্য
14 – عَنْ جَابِرٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ عَلَى مَنْ تَحْرُمُ النَّارُ؟ عَلَى كُلِّ هَيِّنٍ، لَيِّنٍ، سَهْلٍ، قَرِيبٍ»
১৪.হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলু্ল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, আমি কি তোমাকে ঐ ব্যক্তির ব্যপারে বলব না, যার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম? (সে হলো ঐ ব্যক্তি) যে ব্যক্তি নম্র, ভদ্র, সহজ-সরল ও মিশুক হয়।
মুমিন হয় নম্র ভদ্র ও সহজ সরল
15 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْمُؤْمِنُ هَيِّنٌ، لَيِّنٌ، تَخَالُهُ مِنَ اللِّينِ أَحْمَقَ»
১৫.হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মুমিন ব্যক্তি এমন নম্র ভদ্র হয় যে, তার নম্রতা ও ভদ্রতার কারণে লোকেরা তাকে বোকা মনে করে থাকে।
16 – عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ السُّلَمِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُؤْمِنُ كَالْجَمَلِ الْأَنِفِ، إِنْ قِيدَ انْقَادَ، وَإِنْ سِيقَ انْسَاقَ، وَإِنْ اسْتُنِيخَ عَلَى صَخْرَةٍ اسْتَنَاخَ»
১৬.হযরত ইরবায বিন সারিয়া আস সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মুমিনের উদাহরণ হলো লাগাম পরিহিত উটের মত। যদি তাকে বেঁধে দেয়া হয় তবে সে দাঁড়িয়ে যায়, যদি চালানো হয় তবে চলতে থাকে, আর যদি বসানো হয় তবে বসে থাকে।
যে বিনয় অবলম্বন করে
17 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طُوبَى لِمَنْ تَوَاضَعَ فِي غَيْرِ مَنْقَصَةٍ، وَطُوبَى لِمَنْ خَالَطَ أَهْلَ الْفِقْهِ وَالْحِكْمَةِ وَجَانَبَ أَهْلَ الذُّلِّ وَالْمَعْصِيَةِ، وَطُوبَى لِمَنْ أَنْفَقَ الْفَضْلَ مِنْ مَالِهِ وَأَمْسَكَ الْفَضْلَ مِنْ قَوْلِهِ، وَطُوبَى لِمَنْ وَسِعَتْهُ سُنَّتِي، وَلَمْ يَعْدُهَا إِلَى بِدْعَةٍ»
১৭.হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য, যার দোষ-ত্রুটি না থাকা সত্বেও বিনয় অবলম্ন করে। সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা রাখে। সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য, যে নিজের অতিরিক্ত সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে এবং অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে। আর সুসসংবাদ ঔ ব্যক্তির জন্য, যে আমার সুন্নতের অনুসরণ করে আর আমার সুন্নত ছেড়ে বিদআতের অনুসরণ করে না।
পরিচ্ছেদঃ মানুষের প্রতি উদারতা এবং তাদের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার ফযীলত
মানুষের মন জয় করার উপায়
18 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّكُمْ لَا تَسَعُونَ النَّاسَ بِأَمْوَالِكُمْ، وَلَكِنْ لِيَسَعْهُمْ مِنْكُمْ بَسْطُ الْوَجْهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ»
১৮.হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- তোমরা মানুষদেরকে নিজেদের ধন-সম্পদ দ্বারা খুশি করতে পারবে না, তবে তোমাদের হাস্যেজ্জল মুখ ও উত্তম চরিত্র দ্বারা খুশি করতে পারবে।
উত্তম সাদকা
19 – عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ أَنْ تَكْفَأَ مِنْ دَلْوِكَ فِي إِنَاءِ أَخِيكَ، وَأَنْ تَلْقَاهُ وَوَجْهُكَ مُنْبَسِطٌ»
১৯.হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- উত্তম সাদকা হলো, তুমি তোমার পাত্র থেকে পানি তোমার ভাইয়ের পাত্রে ঢেলে দিবে, আর তার সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করবে।
পরিচ্ছেদঃ মুসলমান ভাইয়ের জন্য মুচকী হাসি দেয়ার ফযীলত
মানুষের কাজ করে দেয়া সাদকা
20 – عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِفْرَاغُكَ فِي دَلْوِ أَخِيكَ مِنْ دَلْوِكَ صَدَقَةٌ، وَأَمْرُكَ بِالْمَعْرُوفِ وَنَهْيُكَ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ، وَتَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ، وَهِدَايَتُكَ الطَّرِيقَ مَنْ أَرْضِ الضَّلَالَةِ لَكَ صَدَقَةٌ»
২০.হযরত আবু যার (রা) রাসূলু্লাহ (সা) থেকে মারফুরুপে বর্ণনা করেন। রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের বালতি ভরে দেয়া সাদকা। তোমার নেককাজের আদেশ করা সাদকা। তোমার মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকা। আর তোমার কোন পথ-ভ্রান্তকে পথ দেখিয়ে দেয়াও সাদকা।
আবু দারদা রা. এর মুচকি হাসির কারণ
21 – عَنْ أَبِي عَبْدِ الصَّمَدِ قَالَ: حَدَّثَتْنِي أُمُّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّهُ: كَانَ لَا يُحَدِّثُ حَدِيثًا إِلَّا تَبَسَّمَ فِي حَدِيثِهِ، فَقُلْتُ لَهُ: فَقَالَ: «مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُ حَدِيثًا إِلَّا تَبَسَّمَ فِي حَدِيثِهِ»
২১.হযরত উম্মু দারদা (রা) বলেন, আবু দারদা (রা) কথাবার্তা বলার সময় মুচকী হাসতেন। আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে বলেন, আমি দেখেছি যে, রাসূলূল্লাহ (সা) কথাবার্তার সময় মুচকি হাসতেন।
নবী (সা) এর চরিত্র
22 – عَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ قُلْتُ: نَذِيرُ قَوْمٍ فَإِذَا سُرِّيَ عَنْهُ، فَأَكْثَرُ النَّاسِ ضَحِكًا، وَأَحْسَنُهُمْ خُلُقًا
২২.হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) এর প্রতি যখন ওহী নাযিল হত তখন আমি বলতাম যে, রাসূলুল্লাহ (সা) তার জাতিকে ভয় প্র্রদর্শন করবেন। আর যখন ওহী নাযিল হত না, তখন তিনি লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হাস্যোজ্জ্বল এবং উত্তম চরিত্রসম্পন্ন ব্যক্তি হতেন।
পরিচ্ছেদঃ নম্রতা, সহনশীলতা ও ধীরস্থিরতার ফযীলত
নম্রতার জন্য আল্লাহ যা দান করেন
23 – عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُغَفَّلِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ، وَيُعْطِي عَلَيْهِ مَا لَا يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ»
২৩.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নম্র আর তিনি নম্রতাকে পছন্দ করেন। তিনি নম্রতার জন্য এমন কিছূ দান করেন, যা কঠোরতার জন্য দান করেন না।
আল্লাহ তাআলা নম্রতা পছন্দ করেন
24 – عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الْأَمْرِ كُلِّهِ»
২৪.হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক ব্যাপারে নম্রতা পছন্দ করেন।
নম্রতা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
25 – عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا كَانَ الرِّفْقُ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا زَانَهُ»
২৪.হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, যেই জিনিসের মধ্যেই নম্রতা থাকে তা তার মধ্যে কেবল সৌন্দর্যকেই বৃদ্ধি করে।
আল্লাহ যে পরিবারের কল্যাণ কামনা করেন
26 – عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِأَهْلِ بَيْتٍ خَيْرًا أَدْخَلَ عَلَيْهِمُ الرِّفْقَ»
২৬.হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা কোন পরিবারের কল্যাণ কামনা করলে তাদেরকে নম্রতা দান করেন।
ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে
27 -عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْأَنَاةُ مِنَ اللَّهِ، وَالْعَجَلَةُ مِنَ الشَّيْطَانِ»
২৭.হযরত সাহল ইবনে সাদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে আর তাড়াহুড়া শয়তানে পক্ষ থেকে।
মানুষের সম্মান কোথায়?
28 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَرَمُ الْمَرْءِ دِينُهُ، وَمُرُوءَتُهُ عَقْلُهُ، وَحَسَبُهُ خُلُقُهُ»
২৮.হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, মানুষের সম্মান হলো তার দীন, মনুষত্ব হলো তার বিবেক আর আভিজাত্য হলো তার চরিত্র।
দুটি অভ্যাস যা আল্লাহর নিকট প্রিয়
29 – عَنِ الْأَشَجِّ الْعَصَرِيِّ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِنَّ فِيكَ لَخَلَّتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ مِنْكَ: الْحِلْمُ وَالْأَنَاةُ ” قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَخَلَّقُ بِهِمَا أَمْ جَبَلَنِي اللَّهُ عَلَيْهِمَا؟ قَالَ: «بَلْ جَبَلَكَ اللَّهُ عَلَيْهِمَا» ، قُلْتُ: فَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَبَلَنِي عَلَى خَلَّتَيْنِ يَرْضَاهُمَا
২৯.হযরত আশাজ্জ আল আসারী (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আমাকে বললেন- তোমার মধ্যে দুটি অভ্যাস এমন আছে যা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন। তা হলো সহনশীলতা ও ধীর-স্থিরতা। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ দুটি স্বভাব কি আমি নিজের মধ্যে সৃষ্টি করেছি, নাকি তা আমার মধ্যে প্রকৃতিগতভাবেই আছে? তিনি ইরশাদ করলেন, না বরং আল্লাহ তাআলা তোমার মাঝে তা প্রকৃতিগতভাবেই রেখেছেন। অতঃপর আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার মধ্যে প্রকৃতিগতভাবেই এই স্বভাব রেখেছেন যার দ্বারা তিনি ও তার রাসূল সন্তুষ্ট।
তিনটি বিষয়
30 – عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَمْ تَكُنْ فِيهِ وَاحِدَةٌ مِنْ ثَلَاثٍ فَلَا يَحْتَسِبُ بِشَيْءٍ مِنْ عَمَلِهِ، مَنْ لَمْ تَكُنْ فِيهِ تَقْوَى تَحْجُزُهُ عَنِ الْمَحَارِمِ، أَوْ حِلْمٌ يَكُفُّهُ عَنْ غَيِّهِ، أَوْ خُلُقٌ يَعِيشُ بِهِ فِي النَّاسِ»
৩০.হযরত উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, যার মধ্যে তিনটি বিষয়ের একটিও পাওয়া না যাবে, তবে সে যেন তার কোন আমলের সওয়াব ও প্রতিদানের আশা না রাখে। ১.এমন তা্কওয়া যা হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে। ২.এমন সহনশীলতা যা তাকে গুমরাহী থেকে বিরত রাখে। ৩.উত্তম চরিত্র যার দ্বারা মানুষের সাথে জীবন অতিবাহিত করে।
পরিচ্ছেদঃ ধৈর্য ও সহৃদয়তার ফযীলত
ইমান কি?
31 – عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” الْإِيمَانُ: الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ “
৩১.হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- ইমান হল ধৈর্য ও সহৃদয়তার নাম।
যে মানুষের দেওয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করে
32 – عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الَّذِي يُخَالِطُ النَّاسَ فَيُؤْذُونَهُ فَيَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ أَفْضَلُ مِنَ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يُخَالِطُ النَّاسَ وَلَا يَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ»
৩২.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- ঐ ইমানদার যে মানুষের সাথে মেলামেশা করে আর তাদের দেওয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করে, সে ঐ ইমানদার থেকে উত্তম, যে মানুষের সাথে মেলামেশা করে না, আর তাদের দেওয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করে না।
আল্লাহ তাআলা সাবূর- অত্যন্ত ধৈর্যশীল
33 – عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” لَمَّا عُرِجَ بِإِبْرَاهِيمَ رَأَى رَجُلًا يَفْجُرُ فَدَعَا عَلَيْهِ فَأُهْلِكَ، ثُمَّ رَأَى عَبْدًا عَلَى مَعْصِيَةٍ فَدَعَا عَلَيْهِ
فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: يَا إِبْرَاهِيمُ إِنَّهُ مَنْ عَصَانِي مِنْ عِبَادِي فَإِنَّ قَصْرَهُ مِنِّي إِحْدَى ثَلَاثِ خِصَالٍ: إِمَّا أَنْ يَتُوبَ فَأَتُوبَ عَلَيْهِ، وَإِمَّا أَنْ يَسْتَغْفِرَنِي فَأَغْفِرَ لَهُ، وَإِمَّا أَنْ يَخْرُجَ مِنْ صُلْبِهِ مَنْ يَعْبُدُنِي،
يَا إِبْرَاهِيمُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ مِنْ أَسْمَائِي أَنِّي أَنَا الصَّبُورُ؟ “
৩৩.হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যখন ইবরাহীম (আ)-কে আসমান ও যমীনে ভ্রমণ করানো হল তখন তিনি এক ব্যক্তিকে গুনাহে লিপ্ত দেখে তার জন্য ধ্বংসের দুআ করেন, তখন ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হয়ে যায়। অতঃপর আরেক ব্যক্তিকে গুনাহে লিপ্ত দেখে তার জন্যও ধ্বংসের দুআ করেন।
তখন আল্লাহ তাআলা ওহী করেন যে, নিশ্চয়ই যে আমার নাফরমানী করেছে সে আমারই বান্দা। আর তিনটি বিষয় তাকে আমার শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারে। হয় সে তওবা করবে, আর আমি তার তওবা কবুল করব। অথবা সে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে, আর আমি তাকে মাফ করব। অথবা তার বংশে এমন একজনের জন্ম হবে, যে আমার ইবাদত করবে।
হে ইবরাহীম! তুম কি জান না যে, আমার নামসমূহের মধ্যে একটি নাম হল الصَّبُورُ অর্থাৎ অত্যন্ত ধৈর্শীল।
আল্লাহ তাআলার ধৈর্য
34 – عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا أَحَدَ أَصْبَرُ عَلَى أَذًى يَسْمَعُهُ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، إِنَّهُمْ يَدَّعُونَ لَهُ وَلَدًا وَيُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ»
৩৪.হযরত আবু মূসা আল আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- কোন কষ্টদায়ক কথা শুনে ধৈর্যধারণ করার ব্যাপারে মহান আল্লাহর থেকে বেশী ধৈর্যধারণকারী আর কেউ নেই। লোকেরা তার দিকে সন্তান সাব্যস্ত করে অথচ এরপরও আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করেন এবং রিযিক দান করেন।
গুনাহগারকে তিরস্কার না করা
35 – عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ: ” إِذَا رَأَيْتُمْ أَخَاكُمْ قَارَفَ ذَنْبًا فَلَا تَكُونُوا أَعْوَانًا لِلشَّيْطَانِ عَلَيْهِ، تَقُولُوا: أَخْزَاهُ اللَّهُ، قَبَّحَهُ اللَّهُ، وَلَكِنْ قُولُوا: تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ، غَفَرَ لَهُ “
৩৫.হযরত আবু মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- তোমরা যদি কোন মুসলমানকে গুনাহে লিপ্ত দেখতে পাও তবে তার বিরুদ্ধে শয়তানকে সাহায্য করো না- এমন বলে যে, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন অথবা আল্লাহ তার মন্দ করুন। বরং বল, আল্লাহ তাআলা তাকে তওবার তাওফীক দান করুন এবং তাকে ক্ষমা করুন।
পরিচ্ছেদঃ রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ফযীলত
শক্তিশালী যে ব্যক্তি
36 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرْعَةِ» قَالُوا: وَمَا الشَّدِيدُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ»
৩৬.হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- ঐ ব্যক্তি শক্তিশালী নয়, যে অন্যকে ধরাশায়ী করে। সাহাবায়ে কিরাম (রা) জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তবে কে শক্তিশালী? তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
37 – عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَرَّ عَلَى قَوْمٍ يَرْفَعُونَ حَجَرًا فَقَالَ: «مَا هَذَا؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ حَجَرٌ كُنَّا نُسَمِّيهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ: حَجَرُ الْأَشِدَّاءِ، فَقَالَ: «أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى أَشَدِّكُمْ؟ أَمْلَكُكُمْ لِنَفْسِهِ عِنْدَ الْغَضَبِ»
৩৭.হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কিছু লোকদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা পাথর উঠানোর প্রতিযোগিতা করছিল। রাসূলুল্লাহ (সা) জিজ্ঞাসা করলেন, কি হচ্ছে? লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এগুলো ঐ পাথর, জাহিলী যুগে যেগুলোকে আমরা শক্তিমান লোকদের পাথর বলতাম। রাসূলু্ল্লাহ (সা) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচয়ে শক্তিশালী লোকের কথা বলব না? তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে শক্তিমান, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
যা আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করে
38 – عَنِ ابْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يُنَجِّينِي مِنْ غَضِبِ اللَّهِ؟ قَالَ: «لَا تَغْضَبْ»
৩৮.হযরত ইবনে আমর (রা) বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন জিনিস আমাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? তিনি (সা) বললেন, তুমি রাগান্বিত হয়ো না।
তাওরাতের বাণী
39 – عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ: ” مَكْتُوبٌ فِي التَّوْرَاةِ: اذْكُرْنِي إِذَا غَضِبْتَ أَذْكُرْكَ إِذَا غَضِبْتُ، وَإِذَا ظُلِمْتَ فَاصْبِرْ فَإِنَّ نُصْرَتِي لَكَ خَيْرٌ مِنْ نُصْرَتِكَ لَكَ، وَحَرِّكْ يَدَكَ أَفْتَحْ لَكَ بَابَ الرِّزْقِ “
৩৯.হযরত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাওরাতে লিখা আছে যে, যখন তোমার রাগ হয় তখন তুমি আমাকে স্মরণ কর, ফলে যখন আমার রাগ হবে তখন আমি তোমাকে মনে রাখব। আর যখন তোমার উপর যুলুম করা হবে তখন তুমি সবর কর, আমার তোমাকে সাহায্য করা, তোমার নিজেকে নিজে সাহায্য করা হতে উত্তম। আর তুমি তোমার হাতকে নাড়া দাও (উপার্জন কর অথবা দান কর অথবা পরোপকার কর), তোমার জন্য রিযিকের দরজা খুলে যাবে।
🔸🔸🔸
👉 আরও পড়ুন খাবার খাওয়ানোর সওয়াব ও উপকারিতা, মাকারিমুল আখলাক -ইমাম তাবরানী রহ
