আল-কুরআন/আত-তাফসীর

সূরা আল ফাতিহা আয়াত ৬-৭ এর তাফসীর, তাফসীর আদ দুররে মানসূর – ইমাম সুয়ূতী রহ.

Sura al faitiha 6-7, Tafsir ad durre manthur - Imam suyuti (rh).

সূরা আল ফাতিহা আয়াত ৬-৭ এর তাফসীর।

ইমাম সুয়ূতী রহ. রচিত তাফসীর আদ দুররে মানসূর থেকে অনূদিত

আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত

ভূমিকা
সূরা আল-ফাতিহার ৬–৭ নং আয়াত একজন মুমিনের হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর দোআ ও জীবনপথের দিকনির্দেশনা। এই আয়াতগুলোতে বান্দা আল্লাহ তাআলার কাছে সরাসরি প্রার্থনা করে—সিরাতে মুস্তাকীমে হিদায়াতের জন্য, এবং সেই পথ থেকে দূরে থাকার জন্য যাদের উপর গযব নেমেছে ও যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। কুরআনের এই অংশে হিদায়াত, সত্য পথ ও ভ্রান্তির স্পষ্ট সীমারেখা টানা হয়েছে।

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6)

৬. আমাদেরকে সহজ পথে চালান

ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম এর বিভিন্ন পাঠ

ইমাম হাকীম আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ সাদ এর সাথে পড়েছেন।

ইমাম সাইদ ইবনে মানসূর, আব্দ ইবনে হুমায়দ, বুখারী তার ইতিহাসে এবং ইবনুল আম্বারী- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি اهدنا السراط-কে সীনের সাথে পাঠ করতেন।

ইমাম ইবুনল আম্বারী- আব্দুল্লাহ ইবনে কাসীর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি السراط-সীনের সাথে পাঠ করতেন।

ইমাম ইবনুল আম্বারী- আল ফারা থেকে বর্ণনা করেন। হামজাহ (রহ) الزراط-যা এর সাথে পাঠ করেছেন।

আল ফারা বলেন, ‘যা’ আন্তরিকতার সাথে উযরাহ, কালব এবং বনী আল আইন এর ভাষা।

ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীমের তাফসীর

ইমাম ইবনে আবী হাতিম- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ এর তাফসীর বর্ণনা করেন যে, আমাদেরকে আপনার দীনে হকের ইলহাম করুন।

ইমাম ইবনে জারীর- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيم এর অর্থ হল আমাদেরকে হিদায়াত প্রদানকারী পথের প্রত্যাদেশ করুন যার মধ্যে কোন বক্রতা নেই।

ইমাম ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে الصِّرَاط এর অর্থ পথ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম ওকী, আব্দ ইবনে হুমায়দ, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, মুহামিলী ‎মুসান্নাফের নুসখা থেকে তার আমালীতে, হাকীম তার সহিহতে- হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ তাফসীর ‎করেছেন যে, সিরাতে মুস্তাকীম দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলাম আর এটা আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী প্রশস্ততার ‎চেয়েও বেশী প্রশস্ত।

ইমাম ইবনে জুরায়য- ইবনে আব্বাস (রা) থেকে اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ এর অর্থ ইসলাম নকল করেছেন।

ইমাম ইবনে জারীর- হযরত ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য সাহাবী থেকে الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ অর্থ ইসলাম বর্ণনা করেছেন ।

সীরাতে মুসতাকীমের দৃষ্টান্ত

ইমাম আহমদ, তিরমিযী আর তিনি এটাকে হাসান বলেছেন, নাসাঈ, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, আবুশ শায়খ, হাকীম আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন, ইবনে মারদুবিয়াহ, এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত নাওয়াস বিন সামআন (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, আল্লাহ্ তাআলা একটি সরল পথ তৈরী করেছেন আর তার পাশে আছে প্রাচীর। যার দরজাগুলো খোলা। দরজাগুলোতে পর্দা ঝুলানো আছে। দরজায় দাঁড়িয়ে একজন আহবায়ক ডাকছেন, হে লোক সকল! সবাই এক পথে চলো, পৃথক হয়ো না। পথের উপর থেকে ডাকছেন আরেকজন আহবায়ক।

যখন কোন মানুষ পথের পাশের দরজা খোলার চেষ্টা করে তখন তখন সে বলে, তোমার জন্য ধ্বংস। তুমি তা খোল না, যদি তুমি তা খোল তবে তুমি এর মধ্যে প্রবেশ করে ফেলবে। সীরাত দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহর পথ আর দরজা হল আল্লাহর হুদূদ। আর খোলা দরজাগুলো হল আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের সীমাসমূহ। রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে আহ্বানকারী হল আল্লাহর কিতাব। আর উপর থেকে যিনি ডাকছেন তিনি হলেন পরওয়ারদিগারের পক্ষ থেকে ঐ উপদেশ দাতা, যা মানুষের অন্তরে হয়।

ইমাম ওকী, আব্দ ইবনে হুমায়দ, ইবনে জারীর, ইবনিুল মুনযির, আবু বকর ইবনুল আম্বারী ‎কিতাবুল মাসাহাফে, হাকীম আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত ‎আবদু্ল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ এর তাফসীর বর্ণনা করেছেন যে-‎ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল আল্লাহর কিতাব।

ইমাম ইবনুল আম্বারী- হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই পথ সংক্ষিপ্ত, তদুপরি শয়তান তার উপর এসে পড়ে। অতএব হে আল্লাহর বান্দাগণ! তেমরা ‎এই সরলপথ অনুসরণ কর। সিরাতে মুস্তাকীম হল আল্লাহর কিতাব, একে মজবুতভাবে ধরে থাক।

ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, দারিমী, তিরিমিযী আর তিনি এটাকে যয়ীফ বলেছেন, ইবনে ‎জারীর, ইবনে আবী হাতিম, ইবনুল আম্বারী তার মাসাহাফে, ইবনে মারদুবিয়াহ এবং বায়হাকী শুআবুল ‎ইমানে- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি, অনেক ফিতনা দেখা দিবে। আমি বললাম, তা থেকে বাঁচার উপায় কি? তিনি বললেন, ‎আল্লাহর কিতাব। তাতে আছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ এবং পরবর্তীদের খবর। আর ‎তোমাদের জন্য ফয়সালা-বিধান। এটা হল (সত্য ও মিথ্যার) পার্থক্যকারী, এটা নিরর্থক নয়। এটা হল ‎আল্লাহ তাআলার সুদৃঢ় রজ্জু। এটা হল হিকমতপূর্ণ নসীহত। আর এটাই হল সীরাতে মুস্তাকীম বা সরল সঠিক পথ।

ইমাম তাবরানী কাবীরে- হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- الصِّرَاط الْمُسْتَقيم সীরাতে মুস্তাকীম হল যার উপর আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-কে ছেড়েছি।

ইমাম ইবনে মারদুবিয়াহ এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- الصِّرَاط الْمُسْتَقيم সীরাতে মুস্তাকীম হল যার এক প্রান্ত আমরা রাসূল্লাহ (সা)-কে ছেড়েছি আর অপর প্রান্ত হল জান্নাত।

ইমাম বায়হাকী শুআবুল ইমানে- কায়স বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন,

الْقُرْآنُ هُوَ النُّورُ الْمُبِينُ، وَالذِّكْرُ الْحَكِيمُ، وَالصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ

কুরআন হল নূরে মুবীন বা স্পষ্ট আলোকবর্তিকা, যিকরে হাকীম বা প্রজ্ঞাপূর্ণ আলোচনা এবং সীরাতে মুস্তাকীম বা সরল সঠিক পথ।

সীরাতে মুসতাকীম দ্বারা কি উদ্দেশ্য?

ইমাম আব্দ ইবন হুমায়দ, ইবনে জুরায়জ, ইবনে আবী হাতিম, ইবনে আদী, ইবনে আসাকির- হযরত আবুল আলিয়া থেকে الصِّرَاط الْمُسْتَقيم এর তাফসীর বর্ণনা করেন যে, এর অর্থ হল রাসূলুল্লাহ (সা) এবং তার পরের দুইজন সাথী। আমরা এর আলোচনা হযরত হাসান (রা) এর নিকট করলে তিনি বললেন, আবুল আলিয়া সত্য বলেছে এবং খালিস কথা বলেছে।

ইমাম হাকীম আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন- আবুল আলিয়া থেকে আর তিনি ইবনে আব্বাস (রা) ‎থেকে বর্ণনা করেন- ‎সিরাতে মুস্তাকীম দ্বারা উদ্দেশ্য রাসূলুল্লাহ (সা) এবং তার দুই সাথী।

ইমাম আব্দ ইবনে হুমায়দ- আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- ‎ইসলামকে শিখ। আর যখন তুমি ইসলাম শিখে নিবে তখন তুমি এর থেকে বিমুখ হয়ো না। আর ‎তোমাদের সিরাতে মুস্তাকীম এর উপর চলা আবশ্যক। কেননা সিরাতে মুস্তাকীম হল ইসলাম। সুতরাং ‎কখনো এর ডানে বামে ঝুঁকে যেও না। ‎

ইমাম সাইদ ইবনে মানসূর তার সুনানে, ইবনুল মুনযির এবং বায়হাকী তার কিতাবুর রু’য়াতে হযরত সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, কুরআনের তাফসীরে কোন ইখতিলাফ নেই। এটা একটি জামে কালাম। আর এটা দ্বারা এই এই উদ্দেশ্য।

কুরআন ব্যাপক বিষয়াবলী সমৃদ্ধ

ইমাম ইবনে সাদ তাবাকাতে এবং আবু নুআইম হিলইয়াতে- হযরত আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেন। আবু দারদা (রা) বলেন, তুমি কুরআন পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না তুমি এর মধ্যে অনেক মুখ (ব্যাপক বিষয়াবলী) দেখতে না পাবে।

ইমাম ইবনে সাদ- হযরত ইকরিমা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত ইবনে আব্বাস (রা) কে খারিজীদের ব্যাপারে বলতে শুনেছি- যারা হুকুমতকে অস্বীকার করেছিল এবং আলী (রা) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেছেন, তাদের মধ্যে বার হাজার পৃথক হয়েছিল। আলী (রা) আমাকে ডাকলেন এবং বললেন, তাদের নিকট যাও, তাদের সাথে বিতর্ক কর এবং তাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে আহ্বান কর। তবে কুরআন দ্বারা তাদের সাথে ঝগড়া কর না, কারণ কুরআন অনেক মুখ (ব্যাখ্যা) রাখে। তবে সুন্নত দ্বারা তাদের সাথে মুনাযারা কর।

ইমাম ইবনে সাদ- ইমরান ইবনে মান্নাহ থেকে বর্ণনা করেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বললেন, আমিরুল মুমিনীন! আমি তাদের থেকে কুরআনুল কারীম বেশী জানি। কুরআন আমাদের ঘরেই নাযিল হয়েছে। তিনি বললেন, তুমি ঠিক বলেছ। তবে কুরআন সৌন্দর্যমণ্ডিত। তা অনেক মুখ (ব্যাখ্যা বা বিষয়াবলী) রাখে। সে (কুরআন) এটা বলে আর ওটা বলবে। তবে তাদের সাথে সুন্নত দ্বারা বিতর্ক কর কেননা এর থেকে তাদের পালানোর কোন উপায় নেই। ইবনে আব্বাস (রা) তাদের নিকট গেলেন এবং তাদের সাথে সুনান দ্বারা বিতর্ক করলেন আর তাদের নিকট কোন দলীল রইল না। ‍

□ □ □ □

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (7)‏

৭.তাদের পথ যাদের প্রতি আপনি নিআমত বর্ষণ করেছেন। তাদের পথ ‎নয় যাদের উপর আপনার গযব আপতিত হয়েছে এবং তাদের পথও নয় যারা ‎পথভ্রষ্ট।

এই আয়াতের বিভিন্ন পাঠ

ইমাম ওকী, আবু উবায়দ, সাঈদ ইবনে মানসূর, আব্দ ইবনে হুমায়দ, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবু দাউদ এবং ইবনুল আম্বারী উভয়ে তাদরে মাসাহাফে- হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি পাঠ করেতন

صِرَاطَ مَنْ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَغَيْرِ الضَّالِّينَ

ইমাম আবু উবায়দ, আব্দ ইবনে হুমায়দ, ইবনে আবু দাউদ এবং ইবনুল আম্বারী- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি নামাযে পাঠ করতেন-

صِرَاطَ مَنْ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَغَيْرِ الضَّالِّينَ

ইমাম ইবনুল আম্বারী- হযরত হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি পাঠ করতেন عَلَيْهِمِي অর্থাৎ হা আর মীম কে যেরের সাথে আর ইয়াকে ইসবাতের সাথে পড়তেন।

ইমাম ইবনুল আম্বারী- হযরত আরাজ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি পাঠ করতেন عَلَيْهُمُو অর্থাৎ হা আর মীম পেশের সাথে আর ওয়াও মিলিয়ে পাঠ করতেন।

ইমাম ইবনুল আম্বারী- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে কাসীর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি পাঠ করতেন أَنْعَمْتَ عَلَيْهُمُو অর্থাৎ হা আর মীম পেশের সাথে আর ওয়াও মিলিয়ে পাঠ করতেন।

ইমাম ইবনুল আম্বারী- ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি পাঠ করতেন عَلَيْهُمُ অর্থাৎ হা আর মীম পেশের সাথে এবং ওয়াও ব্যতীত পাঠ করতেন।

ইমাম ইবনে আবু দাউদ- হযরত ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেন। ইকরিমাহ এবং আসওয়াদ পাঠ করতেন

صِرَاطَ مَنْ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَغَيْرِ الضَّالِّينَ

ইমাম সালাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- أَنْعَمت عَلَيْهِم ষষ্ট আয়াত।

তারা কারা যাদের প্রতি নিআমত বর্ষণ করা হয়েছে

ইমাম ইবনে জারীর এবং ইবনে আবী হাতিম- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে ‎ صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم এর তাফসীর বর্ণনা করেন যে, ‎তারা হল- ফেরেশতা, আম্বিয়া, সিদ্দিকীন, শহীদগণ এবং সালিহীন বা নেককারগণ- যারা তোমার ‎আনুগত্য ও ইবাদত করেছেন। ‎

ইমাম ইবনে জারীর- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم ‎ এর তাফসীর বর্ণনা ‎করেন যে- ‎তারা হল মুমিনগণ।

ইমাম ইবনে জারীর- হযরত আবি যায়দ থেকে ‎صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم এর তাফসীর বর্ণনা করেন ‎যে-‎ তারা হল নবী (সা) এবং তার সাথীগণ।

ইমাম আব্দ ইবনে হুমায়দ- হযরত রবী বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেন-‎ صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم‎ ‎দ্বারা উদ্দেশ্য নবীগণ। غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ দ্বারা উদ্দেশ্য ইহুদীগণ এবং‎وَلَا الضَّالّين দ্বারা উদ্দেশ্য নাসারা বা ‎খৃষ্টানগণ।

ওয়ালাদ দাল্লীন দ্বারা কারা উদ্দেশ্য?

ইমাম আব্দ ইবনে হুমায়দ- মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে-غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ হল ইহুদীগণ আর وَلَا الضَّالّين হল নাসারাগণ।

ইমাম আব্দ ইবনে হুমায়দ- হযরত সাঈদ ইবনে যুবায়র (রহ) থেকে‎ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ‎ এর ‎তাফসীর বর্ণনা করেন যে, তারা হল ইহুদী ও নাসারাগণ।

ইমাম আব্দুর রাযযাক, আহমদ তার মুসনাদে, আব্দ ইবনে হুমায়দ, ইবনে জারীর, বাগাবী মুজামুস সাহাবায়, ইবনুল মুনযির, আবুশ শায়খ- আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাকে ঐ ব্যক্তি বলেছে, যে নবী (সা) থেকে শুনেছে। যখন নবী (সা) ওয়াদী উপত্যকায় ঘোড়ার উপর সওয়ার ছিলেন। বনী আইন গোত্রের এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলالْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ এর দ্বারা কারা উদ্দেশ্য ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি (সা) বললেন, ইহুদীগণ। অতঃপর জিজ্ঞাসা করলেন, الضالون দ্বারা কারা উদ্দেশ্য? তিনি বললেন, নাসারাগণ।

ইমাম ওকী, আব্দ ইবন হুমায়দ, ইবনে জারীর- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ওয়াদী উপত্যকার লোকদের মাঝে ছিলেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, এরা কারা? তিনি (সা) বললেন তারা হলهَؤُلَاءِ {المغضوب عَلَيْهِم} অর্থাৎ ইহুদীগণ। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অপর দল কারা? তিনি (সা) বললেন, তারা হল هَؤُلَاءِ {الضالون} অর্থাৎ নাসারাগণ।

ইমাম ইবনে মারদুবিয়াহ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক সূত্রে হযরত আবু যার (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুলল্লাহ (সা)-কে المغضوب عَلَيْهِم এর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, ইহুদীগণ। আমি জিজ্ঞাসা করললাম الضَّالّين দ্বারা কারা উদ্দেশ্য? তিনি (সা) বললেন নাসারাগণ।

ইমাম বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে আর তিনি ইবন আ’ম্মিন থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) এর দরবারে হাজির হলাম যখন তিনি ওয়াদী উপত্যকায় ছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার নিকট এরা কারা? তিনি (সা) বললেন, الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ হল ইহুদীগণ আর وَلَا الضَّالّين হল নাসারাগণ।

ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ তার তাফসীরে এবং সাঈদ ইবনে মানসূর- ইসমাইল ইবনে আবী ‎খালিদ থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- ‎ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ‎ দ্বারা ‎উদ্দেশ্য ইহুদীগণ। আর ‎وَلَا الضَّالّين‎ দ্বারা উদ্দেশ্য নাসারগণ।

ইমাম আহমদ, আব্দ ইবনে হুমায়দ, তিরমিযী আর তিনি এটাকে হাসান বলেছেন, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবী হাতিম, ইবনে হিব্বান তার সহিহতে- আদী ইবনে হাতিম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন- الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ এর দ্বারা উদ্দেশ্য ইহুদীগণ আর الضَّالّين এর দ্বারা উদ্দেশ্য নাসারাগণ।

ইহূদীদের মত বসা থেকে সাবধানতা

ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান, হাকীম আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন এবং তাবরানী আশ শারীদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যখন আমি এভাবে বসা ছিলাম যে, আমার বাম হাত ছিল আমার পিঠের পিছনে। আর আমি আমার হাতের উপর ভর করা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, তুমি কি الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ -দের (ইহুদীদের) মত বস?

ইমাম ইবনে জুরায়য- হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ এর দ্বারা উদ্দেশ্য ইহুদীগণ আর الضَّالّين এর দ্বারা উদ্দেশ্য নাসারাগণ।

ইমাম ইবনে জুরায়য মুজাহিদ (রহ) থেকে অনরুপ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম ইবনে আবী হাতিম বলেন, মুফাসসিরদের মধ্যে এ বিষয়ে কোন মতভেদ নেই যে, الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ এর দ্বারা উদ্দেশ্য ইহুদীগণ আর الضَّالّين দ্বারা উদ্দেশ্য নাসারাগণ।

□ □ □ □

👉 আরও পড়ুন সূরা আল ফাতিহা, আয়াত ৩-৫ এর তাফসীর, তাফসীর আদ দুররে মানসূর – ইমাম সুয়ূতী রহ.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!