সূরা আল ফাতিহা ১ বিসমিল্লাহর তাফসীর, তাফসীর আদ দুররে মানসূর – ইমাম সুয়ূতী রহ.
Tafsir ad durre manthur - Imam suyuti (rh)

ইমাম সুয়ূতী রহ. রচিত তাফসীর আদ দুররে মানসূর থেকে অনূদিত
আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত
ভূমিকা
সূরা আল-ফাতিহার প্রথম আয়াত “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”-এর তাফসীর ইমাম সুয়ূতী (রহ.) তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর-এ কুরআন, হাদীস ও সাহাবা-তাবেঈনের রিওয়ায়াতের আলোকে উপস্থাপন করেছেন। এই আলোচনায় বিসমিল্লাহ সম্পর্কিত হাদীস ও রিওয়ায়াতসমূহ পেশ করা হয়েছে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (1)
১. আল্লাহর নামে যিনি দয়াময় পরম দয়ালু
নবী (সা) সূরা আল ফাতিহা যেভাবে পাঠ করতেন
ইমাম আবু উবায়দ, ইবনে সাদ- তাবাকাতে, ইবনে আবী শায়বাহ, আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে খুযায়মাহ, ইবনুল আম্বারী তার মাসাহেফে, দারাকুতনী, হাকীম, বায়হাকী, খতীব এবং আব্দুল বার তারা উভয়ে তাদের কিতাবুল মাসআলাতে- হযরত উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) সূরা আল ফাতিহা বিসমিল্লাহ থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি আয়াত পৃথকভাবে পাঠ করতেন এবং আরবদের গণনা করার মত গণনা করতেন। বিসমিল্লাহও গণনা করেন এবং লোকদের মত (তাদের ধারণা মত) গণনা করেন নি।
সালাত শুরু করবে কি দিয়ে
ইমাম ইবনে আবী হাতিম, তাবরানী, দারাকুতনী এবং বায়হাকী যয়ীফ সনদে- হযরত বুরায়দাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলু্ল্লাহ (সা) বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হতে হতেই তোমাকে একটি আয়াত বা সূরার ব্যাপারে বলব যা সুলায়মান (আ) এর পর আমি ব্যতীত আর কোন নবীর প্রতি নাযিল হয়নি। বুরায়দাহ (রা) বলেন, নবী (সা) চললেন আর আমিও তার পিছনে চললাম। এমনকি তিনি মসজিদের দরজায় পৌঁছে গেলেন।
রাসূলু্ল্লাহ (সা) মসজিদের চৌকাঠ থেকে এক পা বাহিরে দিয়েছেন আর এক পা ভিতরে রয়েছে। আমি মনে মনে ভাবলাম তিনি (সা) আমাকে সূরার কথা বলা (হয়তো) ভুলে গিয়েছেন। অতঃপর তিনি আমার দিকে মনোযোগী হয়ে বললেন, তুমি যখন সালাত শুরু কর তখন কুরআনের কি দ্বারা শুরু কর? আমি বললাম বিসমিল্লাহ দ্বারা। তিনি (সা) বললেন, এটাই, এটাই। অতঃপর তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলেন।
ইমাম ইবনুস যুরাইস- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিসমিল্লাহ একটি আয়াত।
মানুষ বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় কেন
ইমাম সাঈদ ইবনে মানসূর তার সুনানে, ইবনে খুযায়মাহ তার কিতাবুল বাসমালাতে এবং বায়হাকী- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, শয়তান লোকদের থেকে বিসমিল্লাহ চুরি করে নিয়েছে (যার ফলে তারা বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায়)।
দুজন নবীর প্রতি বিসমিল্লাহ নাযিল হয়েছে
ইমাম আবু উবায়দ, ইবনে মারদুবিয়াহ এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, লোকেরা আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত থেকে গাফিল হয়ে গেছে, যা অমাদের নবী (সা) ব্যতীত আর কোন নবীর উপর নাযিল হয়নি, তবে শুধুমাত্র সুলায়মান (আ) ব্যতীত। তা হল- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
প্রতিটি সূরার সাথে বিসমিল্লাহ নাযিল হত
ইমাম দারাকুতনী যয়ীফ সনদে- হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, জিবরাঈল (আ) যখন আমার নিকট ওহী নিয়ে আসতেন তখন প্রথমে বিসমিল্লাহ পাঠ করতেন।
ইমাম ওয়াহিদী ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক সূরার সাথে বিসমিল্লাহ নাযিল হয়েছে।
ইমাম আবু দাউদ, বাযযার, তাবরানী, হাকীম আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন এবং বায়হাকী আল মারিফায়- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ কোন সূরার শেষ অথবা দুই সূরার ব্যবধান জানতে পারতেন না, যে পর্যন্ত না বিসমিল্লাহ নাযিল হত।
ইমাম বাযযার ও তাবরানী আরো বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেন যে, যখন বিসমিল্লাহ নাযিল হত তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বুঝতে পারতেন যে, প্রথম সূরা শেষ হয়েছে আর দ্বিতীয় সূরা শুরু হয়েছে।
ইমাম হাকীম আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছে এবং বায়হাকী- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, মুসলমানরা (সাহাবীরা) যে পর্যন্ত বিসমিল্লাহ নাযিল না হত, সে পর্যন্ত বর্তমান সূরা নাযিল শেষ হয়েছে বলে জানতে পারত না। যখন বিসমিল্লাহ নাযিল হত তখন জানতে পারতেন যে, প্রথম সূরা শেষ হয়েছে।
ইমাম আবু উবায়দ- হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়র থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী (সা) এর যুগে লোকেরা সূরার শেষ জানতে পারত না, যে পর্যন্ত না বিসমিল্লাহ নাযিল হত। যখন বিসমিল্লাহ নাযিল হত তখন তারা বুঝতে পারতেন যে, প্রথম সূরা শেষ হয়েছে আর পরবর্তী সূরা শুরু হয়েছে।
ইমাম তাবরানী, হাকীম এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, জিবরাঈল (আ) নবী (সা) এর নিকট যখন আগমন করতেন, তখন বিসমিল্লাহ পাঠ করতেন। তখন নবী (সা) বুঝতেন যে, নতুন সূরা নাযিল হয়েছে।
ইমাম বায়হাকী শুআবুল ইমানে এবং ওয়াহিদী- ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা দুই সূরার মাঝে ব্যবধান জানতে পারতাম না, যে পর্যন্ত না বিসমিল্লাহ নাযিল হত।
নামাযে বিসমিল্লাহ পাঠ করা
ইমাম বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নামাযে বিসমিল্লাহ পড়তেন এবং যখন সূরা শেষ করতেন তখনও বিসমিল্লাহ পাঠ করতেন এবং বলতেন, বিসমিল্লাহ পাঠ করার জন্যই তো মাসহাফে (কুরআনে) লিখা হয়েছে।
ইমাম দারাকুতনী- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- জিবরাঈল (আ) আমাকে নামাযের নিয়ম শিখান। তিনি দাড়ালেন, তাকবীর বললেন এবং প্রত্যেক রাকাতে বিসমিল্লাহ পাঠ করলেন।
ইমাম সালাবী- আলী ইবনে যায়দ ইবনে জুদআন থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবাদালাহ (আব্দুল্লাহত্রয়- আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র [রা]) বিসমিল্লাহ দ্বারা কিরাআত শুরু করতেন এবং তা উচ্চস্বরে পাঠ করতেন।
ইমাম সালাবী- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মসজিদে নবী কারীম (সা) এর সাথে এক ব্যক্তি আসল এবং সে নামায শুরু করল। সে সানা পড়ল, তাআউউয পড়ল অতঃপর আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন পড়ল। নবী কারীম (সা) তার এমন পড়া শুনে বললেন- হে অমুক! তুমি তোমার নামায ভেঙ্গে দিয়েছ। তুমি কি জান না যে, বিসমিল্লাহ আলহামদু থেকে। যে বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিল সে একটি আয়াত ছেড়ে দিল। আর যে (মাঝের) একটি আয়াত ছেড়ে দিল তার নামায নষ্ট হয়ে গেল।
ইমাম সালাবী- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন নামাযে সূরা পাঠ করা শুরু করতেন তখন বিসমিল্লাহ পাঠ করতেন এবং বলতেন, যে বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিল সে কম করল, এটা সাবআ মাসানীর পরিপূরক।
ইমাম সালাবী- হযরত তালহা বিন উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
مَنْ تَرَكَ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} فقد تَرَكَ آية من كِتاب الله
যে বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিল সে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত ছেড়ে দিল।
ইমাম শাফিয়ী আল উম্ম এ, দারাকুতনী, হাকীম আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন এবং বায়হাকী- হযরত মুআবিয়া (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি যখন মদীনায় আগমন করেন তখন লোকদেরকে নামায পড়ান তবে বিসমিল্লাহ পড়লেন না। আর যখন নীচের দিকে গেলেন এবং উপর দিকে উঠলেন তখন তাকবীরও বললেন না। মুহাজিরীন ও আনসাররা সালাম ফিরানোর পর বলল যে, হে মুআবিয়া! তুমি নামাযে চুরি করেছ। বিসমিল্লাহ কোথায় গেল আর তাকবীর কোথায় গেল? অতঃপর যখন পরে সে আবার নামায পড়াল তখন তিনি সূরা ফাতিহার সাথে বিসমিল্লাহ পড়লেন এবং অন্য সূরার সাথেও বিসমিল্লাহ পড়লেন এবং সাজদার দিকে যাওয়ার সময় তাকবীরও বললেন।
ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী, দারাকুতনী এবং বায়হাকী- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْتَتِحُ صَلَاتَهُ بِ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}
নবী (সা) তার সালাত বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করতেন।
ইমাম বাযযার, দারাকুতনী এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- আবু তুফায়ল (রহ) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আলী (রা) এবং আম্মার (রা)-কে এটা বলতে শুনেছি যে, রাসূলূল্লাহ (সা) ফরয নামায সমূহে সূরা আল ফাতিহার সাথে বিসমিল্লাহ পড়তেন।
ইমাম তাবরানী আউসাতে, দারাকুতনী এবং বায়হাকী- নাফে (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত ইবনে উমর (রা) যখন নামায শুরু করতেন, তখন আলহামদুর সাথে বিসমিল্লাহ পড়তেন এবং অন্য সূরার সাথেও বিসমিল্লাহ পড়তেন। আর এটাও আলোচনা করা হয় যে, তিনি এটা রাসূলূল্লাহ (সা) থেকে শুনেছেন।
নামাযে জোরে বিসমিল্লাহ পাঠ করা
ইমাম দারাকুতনী, হাকীম এবং বায়হাকী- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) নামাযে বিসমিল্লাহ জোরে পড়তেন।
ইমাম তাবরানী, দারাকুতনী এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত আবু তুফায়ল (রহ) থেকে এবং দারাকুতনী ও হাকীম- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে (নামাযে) জোরে বিসমিল্লাহ পাঠ করতে শুনেছি।
ইমাম দারাকুতনী, হাকীম এবং বায়হাকী- নুআইমিল মুজমির থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত আবু হুরায়রা (রা) এর পিছনে ছিলাম। তিনি প্রথমে বিসমিল্লাহ অতঃপর আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করলেন এবং ওয়ালাদদাল্লীন পর্যন্ত পাঠ করে শেষ করলেন। অতঃপর বললেন, আমীন। লোকেরাও বলল আমীন। আর তিনি যখন সাজদা করতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং সাজদা থেকে উঠার সময়ও তাকবীর বলতেন। যখন সালাম ফিরালেন তখন বললেন, আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী রাসূল্লাল্লাহ (সা) এর মত নামায পড়াই।
ইমাম দারাকুতনী- হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি এবং নবী (সা) (নামাযের) উভয় সূরাতে বিসমিল্লাহ পাঠ করতাম।
ইমাম দারাকুতনী- হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী কারীম (সা) বললেন- যখন তুমি নামাযের জন্য দাঁড়াও তখন কিভাবে কিরাআত পাঠ কর? আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন (দ্বারা শুরু করি)। তিনি বললেন, বিসমিল্লাহও পাঠ কর।
ইমাম দারাকুতনী ও বায়হাকী- হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাকে নবী কারীম (সা) বললেন- যখন তুমি নামায পড় তখন কিভাবে কিরাআত পড়? আমি বললাম, আমি ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ পাঠ করি। তিনি বললেন, (আগে) ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পাঠ কর।
ইমাম দারাকুতনী- হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী কারীম (সা), আবু বকর এবং উমর (রা) এর পিছনে নামায পড়েছি। তারা সবাই বিসমিল্লাহ সশব্দে পাঠ করতেন।
ইমাম দারাকুতনী- হযরত নুমান ইবনে বাশীর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- জিবরাঈল (আ) কাবার পাশে আমার ইমামতী করেছেন আর তিনি বিসমিল্লাহ সশব্দে পাঠ করেছেন।
ইমাম দারাকুতনী- হযরত হাকাম বিন উমায়র (রা) থেকে বর্ণনা করেন আর তিনি ছিলেন বদরী সাহাবী। তিনি বলেন, আমি নবী কারীম (সা) এর পিছনে নামায পড়েছি। তিনি রাতের নামায, ভোরের নামায এবং জুমআর নামাযে বিসমিল্লাহ জোরে পাঠ করেছেন।
ইমাম দারাকুতনী- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বিসমিল্লাহ জোরে পাঠ করতেন।
বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার আয়াত
ইমাম আবু উবায়দ- মুহাম্মদ ইবনে কা’ব আল কুরুযী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- সূরা ফাতিহা বিসমিল্লাহসহ সাত আয়াত।
ইসমে আযম
ইমাম ইবনে আবী হাতিম তার তাফসীরে, হাকীম আল মুস্তাদরাকে আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন, বায়হাকী শুআবুল ইমানে, আবু যার আল হারাভী তার ফাযায়েলে, খতীব বাগদাদী তার তারীখে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। উসমান (রা) নবী কারীম (সা-)-কে বিসমিল্লাহর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন। নবী কারীম (সা) বললেন, এটা আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে একটি নাম আর এর মাঝে ও আল্লাহর ইসমে আকবরের মাঝে চোখের সাদা ও কালোর মত নিকটবর্তীতা রয়েছে।
ঈসা (আ) যেভাবে বিসমিল্লাহর ব্যাখ্যা দিলেন
ইমাম ইবনে জারীর, ইবনে আদী আল কামিলে, ইবনে মারদুবিয়াহ, আবু নুআইম হিলইয়াতে, ইবনে আসাকির তারীখে দিমাশকে এবং সালাবী খুবই দুর্বল সনদে- হযরত আবু সাঈদ আল খুদরী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, ঈসা (আ) এর মাতা ঈসা (আ)-কে শিক্ষকের নিকট নিয়ে যান যাতে তিনি তাকে শিক্ষা দান করেন। শিক্ষক ইসা (আ)-কে বলল, বিসমিল্লাহ লিখ। ঈসা (আ) বললেন বিসমিল্লাহর অর্থ কি? শিক্ষক বলল, তা তো আমি জানি না। ঈসা (আ) বললেন, বা দ্বারা উদ্দেশ্য بهاء الله বাহাউল্লাহ- আল্লাহর দীপ্তি। আর সীন দ্বারা উদ্দেশ্য سناؤه আল্লাহর উচ্চ মর্যাদা আর মীম দ্বারা উদ্দেশ্য مَمْلَكَته আল্লাহর রাজত্ব। আর الرَّحْمَنِ দ্বারা উদ্দেশ্য দুনিয়া ও আখিরাতের রহমান-দয়াময়। আর الرَّحِيمِ দ্বারা উদ্দেশ্য আখিরাতের রহীম-পরম দয়ালু।
জিবরাঈল (আ) এর ব্যাখ্যা
ইমাম ইবনে আবী হাতিম- যাহহাক (রহ) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম ইবনে জুরায়য এবং ইবনে আবী হাতিম- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন জিবরাঈল (আ) মুহাম্মদ (সা) এর নিকট সর্বপ্রথম আসেন, তখন বলেন, হে মুহাম্মদ! বিসমিল্লাহ পাঠ করুন। আর বললেন, আল্লাহর স্মরণের সাথে পড়ুন। الله সমস্ত মাখলুকের ইবাদতের উপযুক্ত। الرحمن শব্দটি রহমত শব্দ থেকে নির্গত الفعلان এর ওজনে ব্যবহৃত একটি আরবী শব্দ। الرَّحِيم শব্দের অর্থ হল, এমন করুণাময় সত্তা তিনি, যার প্রতি দয়া করতে চান, তার জন্য অতীব দয়ালু এবং যার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করতে চান তার জন্য অতীব কঠোর।
আল্লাহ নামটি ইসমে আযম
ইমাম ইবনে মারদুবিয়াহ- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে-
اسْم الله الْأَعْظَم هُوَ الله
‘আল্লাহ’ নামটি ইসমে আযম।
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, বুখারী তার ইতিহাসে, ইবনুয যুরায়স তার ফাযায়েলে, ইবনে আবী হাতিম- হযরত জাবির বিন ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর ইসমে আযম হল ‘আল্লাহ’। তুমি কি দেখ না যে, কুরআনে প্রত্যেক ইসমের পূর্বে তার উল্লেখ আছে।
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ এবং ইবনে আবিদ দুনইয়া কিতাবুদ দুআয়- শাবী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে-
اسْم الله الْأَعْظَم يَا الله
ইসমে আযম হল- يَا الله হে আল্লাহ।
রহমান ও রহীম নামের বিশেষত্ব
ইমাম ইবনে জারীর- হযরত হাসান বসরী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে- الرَّحْمَن হল اسْم مَمْنُوع অর্থাৎ সংরক্ষিত নাম।
ইমাম ইবনে হাতিম- হযরত হাসান বসরী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাহীম হল এমন নাম যা মানুষ তার নিজের জন্য রাখতে পারে না।
ইমাম ইবনে আবী হাতিম- হযরত যাহহাক (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রহমান হল সমস্ত মাখলুকের জন্য আর রাহীম হল সমস্ত মুমিনদের জন্য খাস।
ইমাম বায়হাকী আল আসমা ওয়াস সিফাতে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আর-রহমান অর্থ (বন্ধু) আর-রাহীম অর্থ মাখলুকের প্রতি রিযিকের মাধ্যমে দয়া প্রদর্শনকারী। এই দুটি নাম নম্রতা ও স্নেহ প্রদর্শনকারীর প্রতি প্রমাণ প্রদর্শন করে। তবে একটি থেকে অপরটি বেশী নম্রতার প্রমাণ প্রদর্শন করে।
ইমাম ইবনে জারীর- আতা আল খুরাসানী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। আল্লাহ তাআলার নাম ছিল আর-রহমান। কিন্তু এ নাম যখন পরিবর্তন হল তখন হল আর-রহমানুর রাহীম।
ঋণ পরিশোধের দুআ
ইমাম বাযযার, হাকীম এবং বায়হাকী দালায়িলে যয়ীফ সনদে- হযত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে ঐ দুআ শিখাব না, যা আমাকে রাসূলুল্লাহ (সা) শিখিয়েছিলেন? হযরত ঈসা (আ) তার হাওয়ারীদেরকে এই দুআ শিখাতেন। যদি তোমার উপর উহুদ পাহাড় বরাবর ঋণও থাকে, তথাপি আল্লাহ তাআলা এই দুআর বরকতে সেই ঋণ পরিশোধ করে দিবেন। আমি বললাম, অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, এই দুআ পড়-
اللَّهُمَّ فَارِجَ الْهَمِّ كَاشِفَ الْغَمِّ
হে আল্লাহ! দুশ্চিন্তা দূরকারী, দুঃখ মোচনকারী।
আর বাযযার এর রিওয়ায়াতে আরো আছে-
وَ كَاشِفَ الكرب – مُجِيبَ دَعْوَةِ الْمُضْطَرِّينَ رَحْمَانَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَرِحِيمَهُمَا أَنْتَ تَرْحَمُنِي رَحْمَةً تُغْنِينِي بِهَا عَمَّن سواك
বিপদ দূরকারী, অসহায়ের ফরিয়াদ শ্রবণকারী, দুনিয়া ও আখিরাতে রহমান ও রহিমও বটে। একমাত্র তুমিই আমাকে দয়া করতে পার। এমন দয়া যা আমাকে অপর সকলের অনুগ্রহ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে।
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- আব্দুর রহমান বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) এই কালিমা দ্বারা দুআ করতেন এবং এই দুআ অন্যদেরকে শিখাতেন
اللَّهُمَّ فَارِجَ الْهَمِّ كَاشِفَ الْغَمِّ وَ كَاشِفَ الكرب – ومُجِيبَ الْمُضْطَرِّينَ ورَحْمَانَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَرِحِيمَهُمَا، أَنْتَ تَرْحَمُنِي فَارْحَمْنِي رَحْمَةً تُغْنِينِي بِهَا عَمَّن سواك
হে আল্লাহ! দুশ্চিন্তা লাঘবকারী, বিপদ দূরকারী, অসহায়ের ফরিয়াদ শ্রবণকারী, দুনিয়া ও আখিরাতে রহমান ও রহিমও বটে। একমাত্র তুমিই আমার প্রতি দয়া করতে পার। এমন দয়া যা আমাকে অপর সকলের অনুগ্রহ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে।
সূরা আল ফাতিহার তাফসীর
ইমাম বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- আল্লাহ তাআলা আমার উপর এমন একটি সূরা নাযিল করেছেন যা আমার পূর্বে কোন নবী রাসূলের প্রতি নাযিল করেননি। নবী কারীম (সা) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেন- আমি এই সূরা আমার ও আমার বান্দার মাঝে বন্টন করেছি। তা হল সূরা আল ফাতিহা। এর অর্ধেক আমার জন্য আর অর্ধেক বান্দার জন্য। এর একটি আয়াত আমার ও আমার বান্দার মধ্যে মিলিত।
যখন বান্দা বলে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা আমার দুটি দয়ার নিদর্শন সম্বলিত নাম দ্বারা দুআ করেছে। আর এর মধ্যে একটি অপরটির থেকে বেশী দয়ার নিদর্শন প্রকাশ করে। ‘রাহীম’ রহমান থেকে বেশী দয়ার্দ্রতার নিদর্শন প্রকাশ করে। তবে উভয়টিই দয়ার্দ্রতার নিদর্শন প্রকাশ করে।
যখন বান্দা বলে الْحَمْدُ لِلَّهِ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করেছে এবং আমার প্রশংসা করেছে।
যখন বান্দা বলে رَبِّ الْعَالَمِينَ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা সাক্ষ্য প্রদান করেছে যে, আমি জগতের প্রতিপালক। অর্থাৎ ইনসান, জিন, ফেরশেতা, শয়তানদের রব, সকল মাখলুকের রব এবং সবকিছুর রব।
যখন বান্দা বলে الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা আমার মহত্ব বর্ণনা করেছে।
যখন বান্দা বলে مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা সাক্ষ্য প্রদান করেছে যে, আমি ব্যতীত ঐ দিনের কেউ মালিক নয়।
যখন বান্দা বলে مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, সে আমার গুণগান করেছে।
যখন বান্দা বলে إِيَّاكَ نَعْبُدُ অর্থাৎ আমি আল্লাহর ইবাদত করি আর তাকে একক মানি এবং বলে وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার সাথে সম্পৃক্ত। তারা আমার ইবাদত করে এই অংশ আমার জন্য। আর তারা আমার সাহায্য চায় এটা তাদের জন্য। আর আমার বান্দার জন্য তা-ই যা সে চায়।
اهْدِنَا এর অর্থ হল আমাদেরকে কল্যাণের সাথে চলার পথ দেখিয়ে দিন।
الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ এর অর্থ দীন ইসলাম। কেননা ইসলাম ব্যতীত আর কোন দীন উপযুক্ত নয় যার মধ্যে তাওহীদ নেই।
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ এর দ্বারা উদ্দেশ্য নবীগন ও মুমিনগণ. যাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা নবুওয়ত ও ইসলামের নিআমত দান করেছেন।
غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ অর্থাৎ বান্দা এটা বলে যে, আমাদেরকে এমন দীনের পথপ্রদর্শন করুন, ঐ লোকদের দীন ব্যতীত যাদের প্রতি আপনার ক্রোধ রয়েছে। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য ইহুদীগণ।
وَلَا الضَّالِّينَ এর দ্বারা উদ্দেশ্য নাসারাগণ। আল্লাহ তাআলা যাদেরকে গুমরাহ করে দিয়েছেন হিদায়াত লাভের পর। তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের উপর আল্লাহর গজব পতিত হয়েছে (কুরআনের ভাষায়)-
وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوتَ أُولَئِكَ شَرٌّ مَكَانًا
যাদের কতকতে বানর ও শূকর বানিয়ে দিয়েছেন এবং যারা তাগূতের পূজা করেছে। এরুপ লোকেরাই নিকৃষ্ট স্থানের অধিকারী।– সূরা মায়িদাহ ৬০
দুনিয়া ও আখিরাতে। অর্থাৎ (পরকালে) আগুনের নিকৃষ্ট বাসস্থান।
وَأَضَلُّ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ
এবং ইহকালেও সরল পথ হতে অধিকতর বিপথগামী।– সূর মায়িদাহ ৬০
অর্থাৎ ইমানদারদের সঠিক পথ থেকে তাদেরকে বিচ্যুত করে দিয়েছেন।
নবী কারীম (সা) বলেন, যখন ইমাম আমীন বলে তখন তোমরাও আমীন বল। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন।
নবী কারীম (সা) বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে বলেছেন (এই আমীন) দোযখ থেকে তোমার নাজাত আর তোমার উম্মতের জন্য নাজাত। আর তোমার দীনের অনুসরণকারীর জন্য নাজাত।
ইমাম বায়হাকী (রহ) বলেন, হাদীসে رقيقان শব্দাবলী আছে আর এটা ব্যাকরণগত ভুল। মূলে হবে رفيقان আর الرفيق আল্লাহর নাম থেকে।
বিসমিল্লাহর ফযীলত
ইমাম ইবনে মারদুবিয়াহ এবং সালাবী- জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন বিসমিল্লাহ নাযিল হয় তখন মেঘ পশ্চিমের দিকে ধাবিত হল, বাতাস থমকে গেল, সমুদ্র তরঙ্গায়িত হল, জন্তু জানোয়ার আপাদমস্তক কান লাগিয়ে শুনতে লাগল, আসমান থেকে শয়তানদের প্রতি পাথর নিক্ষিপ্ত হতে লাগল। আর আল্লাহ তাআলা তার সম্মান ও মাহাত্মের কসম খেয়ে বললেন, যেই জিনিসের উপর বিসমিল্লাহ পাঠ করা হবে, তার মধ্যে বরকত প্রদান করা হবে।
ইমাম ওকী, সালাবী- হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এটা চায় যে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের ১৯ জন ফেরেশতা থেকে মুক্তি দিবেন তবে সে যেন বিসমিল্লাহ পাঠ করে। যাতে আল্লাহ তাকে প্রত্যেক হরফের বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করেন।
ইমাম দায়লামী মুসনাদ আল ফিরদাউসে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে মারফু রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন যে, শিক্ষক যখন বাচ্চাকে বলে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ পাঠ কর, তখন শিক্ষক, বাচ্চা এবং পিতা মাতার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরওয়ানা লিখে দেওয়া হয়।
মুশকিল আসান
ইমাম ইবনুস সুন্নী আমালুল ইয়াওমে এবং দাইলামী- হযরত আলী (রা) থেকে মারফুরুপে বর্ণনা করেন যে- যখন তুমি কোন মুশকিলে পড় তখন পাঠ কর-
{بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযিম।
তাহলে আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে (তোমার) বিভিন্ন মুসিবতের মধ্যে যা ইচ্ছা দূর করে দিবেন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিসমিল্লাহ
ইমাম হাফিয (রহ) আব্দুল কাদির রিহাউয়ী থেকে আরবাঈনে হাসান সনদে- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ ب {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} أقطع
কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিসমিল্লাহ ব্যতীত শুরু করলে তা অপূর্ণ থেকে যায়।
বিসমিল্লাহ জিনদের থেকে পর্দা
ইমাম আব্দুর রাযযাক আল মুসান্নাফে, আবু নুআইম হিলইয়াতে- আতা (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন রাতের বেলা গাধার (বা কুকুরের) ডাক শুনতে পাও তখন পাঠ কর-
{بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} أعوذ بِاللَّه من الشَّيْطَان الرَّجِيم
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম।
ইমাম আবুশ শায়খ আল আযমায়- সাফওয়ান বিন সালীম (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জিনেরা মানুষের ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও পোষাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করে থাকে। অতএব তোমাদের কেউ যখন কাপড় পড়বে বা রাখবে তখন বিসমিল্লাহ বলবে। কেননা আল্লাহর নাম হল (জিন শয়তানদের জন্য) মোহর।
বিসমিল্লাহ দ্বারা নিরাপত্তা
ইমাম আবু নুআইম, দায়লামী- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন বিসমিল্লাহ নাযিল হল, তখন পাহাড়গুলো গর্জন করল, এমনকি মক্কাবাসীরা সেই আওয়ায শুনতে পেল। লোকেরা বলল, মুহাম্মদ (সা) পাহাড়ের উপর যাদু করেছে। অতএব আল্লাহ তাআলা একটা ধোয়া প্রেরণ করেন যা মক্কাবাসীদের উপর ছায়ার মত বিস্তার লাভ করে। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, যে বক্তি বিসমিল্লাহ পাঠ করবে এই বিশ্বাসের সাথে যে, পাহাড়গুলো তার সাথে তাসবীহ পাঠ করেছে, তবে সে পাহাড়ের আওয়ায (গর্জন) শুনতে পাবে না।
বিসমিল্লাহর নেকী
ইমাম দায়লামী- হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ পাঠ করবে তার জন্য প্রত্যেক অক্ষরের বিনিময়ে চার হাজার নেকী লিখে দেওয়া হবে, চার হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং চার হাজার মর্যাদা উন্নীত করা হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা) এর কিরাআত কেমন ছিল
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, বুখারী, দারাকুতনী, হাকীম এবং বায়হাকী তার সুনানে- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাকে রাসূলুল্লাহ (সা) এর কিরাআতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) এর কিরাআত ছিল মাদ এর সাথে টেনে টেনে। যখন বিসমিল্লাহ পড়তেন তখন ‘আল্লাহ’ শব্দ টেনে পড়তেন। ‘রাহমান’ টেনে পড়তেন। ‘রাহীম’ টেনে পড়তেন (এমনভিাবে সব শব্দ)।
বিসমিল্লাহ প্রত্যেক কিতাবের চাবী
ইমাম হাফিয আবু বকর আল বাগদাদী তার আল জামেতে- হযরত আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন-
{بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} مِفْتَاح كل كتاب
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম প্রত্যেক কিতাবের চাবী।
ইমাম খতীব আল জামেতে- হযরত সাইদ ইবনে জুবায়র থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক কিতাবের শুরুতে বিসমিল্লাহ হওয়া চাই, যদিও তা কবিতার গ্রন্থ হোক।
যেসব গ্রন্থ দিয়ে বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা নিষেধ
ইমাম খতীব যুহরী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, রীতি চালু হয়ে গেছে যে, (কবিতা উপন্যাস ইত্যাদি) কিতাবের গ্রন্থে বিসমিল্লাহ লেখা হবে না।
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, আবু বকর বিন আবু দাউদ, খতীব আল জামেতে- শাবী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, লোকেরা কবিতার শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা পছন্দ করত না।
ইমাম খতীব- শাবী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, উলামাদের ইজমা আছে যে, কবিতার শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা হবে না।
ইমাম আবু উবায়দ, ইবনে আবী শায়বাহ আল মুসান্নাফে- মুজাহিদ এবং শাবী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এই দুজন মনীষী জুনুবী (গোসল ফরয হয়েছে এমন) ব্যক্তির জন্য বিসমিল্লাহ লেখা অপছন্দ করতেন।
বিসমিল্লাহ দ্বারা আল্লাহর ক্ষমা লাভ
ইমাম আবু নুআইম তারীখে ইস্পাহানে, ইবনে আশতাহ আল মাসাহেফে যয়ীফ সনদে- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সম্মানের জন্য সুন্দর করে বিসমিল্লাহ লিখবে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
ইমাম বায়হাকী শুআবুল ইমানে হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি খুব সুন্দর করে তারতীবসহ বিসমিল্লাহ পাঠ করে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।
বিসমিল্লাহ লেখা সম্পর্কে কিছু রিওয়ায়াত
ইমাম আস সালাফী তার জুয-এ- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- বা কে মীম এর দিকে লম্বা করা যাবে না, যে পর্যন্ত না সীন শেষ হয়।
ইমাম খতীব আল জামেতে- হযরত যুহরী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বিসমিল্লাহকে দীর্ঘ করতে মানা করেছেন।
ইমাম খতীব এবং ইবনে আশতাহ আল মাসাহেফে- মুহাম্মদ ইবনে সিরীন (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ‘বা’ কে ‘মীম’ এর দিকে লম্বা করা অপছন্দ করতেন, যে পর্যন্ত না সীন লেখা হয়।
ইমাম দায়লামী মুসনাদ আল ফিরদাউসে, ইবনে আসাকীর তারীখে দিমাশক-এ যায়দ ইবনে সাবিত (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যখন তুমি বিসমল্লাহ লিখ তখন সীনকে স্পষ্ট কর।
ইমাম খতীব আল জামেতে এবং দায়লামী- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যখন তোমাদের কেউ বিসমিল্লাহ লিখে, তখন আর-রহমানকে লম্বা কর।
ইমাম দায়লামী- হযরত মুআবিয়া (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- হে মুআবিয়া! দোয়াত রেখে দাও, কলম আলাদা কর। ‘বা’কে সোজা লিখ। সীনকে পৃথক কর। মীমকে খাড়া কর আর ‘আল্লাহ’ শব্দকে খুব সুন্দর কর। রহমানকে লম্বা কর। রাহীমকে উৎকৃষ্ট কর। আর নিজের কলম তোমার ডান কানে রাখ, কেননা তা তোমাকে স্মরণ করাবে।
ইমাম খতীব- মাতারুল ওয়ারাক (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। মুআবিয়া ইবনে সুফিয়ান (রা) যিনি রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাতিব ছিলেন। তাকে রাসূল্লাহ (সা) নির্দেশ দিয়েছেন যে, বা আর সীনকে একত্রিত কর। সীনকে মীমের দিকে লম্বা কর। অতঃপর আল্লাহ এবং ‘আর রহমানির রাহীম’ শব্দাবলীকে একত্রিত কর। আল্লাহর নামগুলোর মধ্যে কোন নামকে লেখা ও পড়ার মধ্যে লম্বা কর না।
ইমাম আবু উবায়দ- হযরত মুসলিম বিন ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বিসমিল্লাহকে (بِمَ) লিখা অপছন্দ করতেন। কেননা এভাবে লেখার দ্বারা সীন বাদ পড়ে যায়।
ইমাম আবু উবায়দ ইবনে আউন (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনে সিরীন (রহ) এর জন্য (بِمَ) লিখলে ইবনে সিরীন (রহ) বললেন, থাম, সীন লেখ। এ থেকে বাঁচ যে, তোমাদের মধ্যে কেউ গুনাহে লিপ্ত হয় অথচ তার জানাও থাকে না।
ইমাম আবু উবায়দ- ইমরান ইবনে আউন থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয কাতিবকে প্রহার করেন, যে বিসমিল্লাহতে সীন লিখার পূর্বে মীম লিখেছিল। কাতিবকে জিজ্ঞাসা করা হল যে, আমরুল মুমিনীন তোমাকে কেন প্রহার করেছিল? সে বলল, সীন না লেখার জন্য।
ইমাম ইবনে সাদ তাবাকাতে- হযরত জুয়াইরিয়া বিনতে আসমা (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ) তার এক কাতিবকে বরখাস্ত করেছিলেন, যিনি বিসমিল্লাহতে সীন লিখে নাই।
ইমাম সাঈদ- হযরত মুহাম্মদ ইবন সিরীন (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ‘বা’-কে এভাবে লেখা অপছন্দ করতেন যে, তা মীমের দিকে লম্বা করা হয়। যে পর্যন্ত না প্রথমে সীন লেখা হয়। (بِمَ) লিখার জন্য কঠিন ধমকী আছে।
ইমাম খতীব- হযরত মুআয ইবনে মুআয (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি সিওয়ার এর নিকট বিসমিল্লাহ লিখলাম। আমি ‘বা’কে লম্বা করে দিলাম এবং সীনকে ছেড়ে দিলাম। তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং বললেন, মুহাম্মদ এবং হাসান তা অপছন্দ করতেন।
ইমাম খতীব- হযরত আব্দুল্লহ বিন সালিহ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি বিসমিল্লাহ লিখলাম আর ‘বা’কে এতটা লম্বা করে দিলাম যে, তা দীর্ঘ হয়ে গেল। লাইস (রহ) তা অপছন্দ করলেন এবং অস্বীকার করলেন। আর বললেন, তুমি অর্থ বিগড়ে দিয়েছ। অর্থাৎ ‘বা’ লাম হয়ে গেছে।
বিসমিল্লাহকে সমান করা
ইমাম আবু দাউদ মারাসিলে- হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী কারীম (সা) এক স্থানে যমীনে পতিত কিতাবের উপর দিয়ে অতিক্রম করেন। তখন নবী (সা) কিতাবের পাশে বসলেন এবং যুবককে জিজ্ঞাসা করলেন এই কিতাবে কি (লেখা) আছে? সে বলল, বিসমিল্লাহ। নবী (সা) বললেন, যে এমন করেছে তার প্রতি লানত করা হয়েছে। বিসমিল্লাহকে তার মর্যাদায় রাখ।
ইমাম খতীব তালী আত-তালখীসে- হযরত আনাস (রা) থেকে মারফুরুপে বর্ণনা করেন-
من رفع قرطاسا من الأَرْض فِيهِ {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} إجلالا لَهُ أَن يداس كتب عِنْد الله من الصديقين وخفف عَن وَالِديهِ وَإِن كَانَا كَافِرين
যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ লিখিত কাগজের হিফাযত করল যাতে তার বেআদবী না হয়, তবে আল্লাহর দরবারে তাকে সিদ্দীকদের মধ্যে লিখা হয় এবং তার পিতা মাতার কবরের আযাব হ্রাস করে দেওয়া হয় যদিও তারা কাফির হয়।
ইমাম ইবনে আবী দাউদ আল বাস-এ- হযরত উম্মে খালিদ বিন সাঈদ ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি সর্বপ্রথম (সবার আগে) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম লিখেছিলাম।
ইমাম সালাবী হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী কারীম (সা) মক্কায় দাঁড়িয়ে বিসমিল্লাহ পাঠ করলে কুরায়শরা বলে, আল্লাহ তোমার মুখ ছোট করে দিন।
নামাযে বিসমিল্লাহ আস্তে পাঠ করা
ইমাম আবু দাউদ তার মারাসিলে- হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) মক্কায় বিসমিল্লাহ জোড়ে পাঠ করতেন। মক্কাবাসীরা মুসায়লামাকে আর-রহমান বলত। লোকেরা এটা শুনে বলতে লাগল যে, মুহাম্মদ (সা) ইয়ামামার খোদার দিকে আহ্বান করেন। অতএব রাসূলুল্লাহ (সা) বিসমিল্লাহ নীরবে পাঠ করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর রাসূললুল্লাহ (সা) তার মৃত্যু পর্যন্ত কখনো বিসমিল্লাহ জোড়ে পড়েন নি।
ইমাম তাবরানী- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন বিসমিল্লাহ পড়তেন তখন মুশরিকরা তাকে উপহাস করতেন আর বলতেন, মুহাম্মদ (সা) ইয়ামার খোদার যিকির করেন। মুসায়লামাকে আর-রহমান বলা হত। যখন এই আয়াত নাযিল হল, তখন রাসূলু্ল্লাহ (সা) তা নীরবে পাঠ করতে বলেন।
ইমাম তাবরানী- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম (সা), আবু বকর (রা) এবং উমর (রা) বিসমিল্লাহ আস্তে পাঠ করতেন।
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, তিরিমিযী আর তিনি এটিকে হাসান বলেছেন, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকী- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফাফাল (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বিসমিল্লাহ (জোরে) পড়তে শুনে বললেন, বৎস! এটা কি বিদআত? আমি রাসূলুল্লাহ (সা), আবু বকর, উমর এবং উসমান (রা) এর পিছনে নামায পড়েছি। তাদের কাউকে এটা জোরে পড়তে শুনিনি।
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পাঠ করা বেদুঈনদের কিরাআত।
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- হযরত ইবরাহীম (রহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ইমামের উচ্চ আওয়াযে বিসমিল্লাহ পাঠ করা বিদআত।
ইমাম ইবনুয যুরায়স- ইয়াহয়া ইবনে আতীক (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। হাসান বসরী (রহ) বলেন, কুরআনের সূচনাতে বিসমিল্লাহ লিখ এবং প্রত্যেক দুই সূরার মাঝে বিসমিল্লাহ লিখ।
□ □ □ □
আয়াত ২ এর তাফসীর সূরা আল ফাতিহা আয়াত ২ এর তাফসীর, তাফসীর আদ দুররে মানসূর-ইমাম সুয়ূতী (রহ)
