খাবার খাওয়ানোর সওয়াব ও উপকারিতা: দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ
খাদ্য দানের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ

ইমাম তাবরানী (রহ) রচিত মাকারিমুল আখলাক গ্রন্থ থেকে অনূদিত।
আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত
بَابُ فَضْلِ إِطْعَامِ الطَّعَامِ
পরিচ্ছেদঃ খাবার খাওয়ানোর ফযীলত
রাসুলুল্লাহ (সা) এর উপদেশ
153 – عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَّامٍ قَالَ: لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ انْجَفَلَ النَّاسُ قِبَلَهُ فَكُنْتُ فِيمَنْ خَرَجَ فَلَمَّا نَظَرْتُ إِلَيْهِ عَرَفْتُ أَنَّ وَجْهَهُ لَيْسَ بِوَجْهِ كَذَّابٍ، فَكَانَ أَوَّلُ مَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «أَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَأَفْشُوا السَّلَامَ، وَصِلُوا الْأَرْحَامَ، وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ»
১৫৩.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনায় তাশরীফ আনেন, তখন লোকেরা দ্রুত তাকে দেখতে গমন করেন। যখন আমি নবী (সা) এর চেহারা দেখলাম, তখন দেখেই বুঝে ফেললাম যে এটা কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। সর্বপ্রথম কথা যা আমি তার থেকে শুনেছি তা হল- হে লোক সকল! খাবার খাওয়াও, সালামের প্রসার কর এবং নিজেরে আত্মীয়-স্বজনের সাথে উত্তম আচরণ কর। আর যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড়। তাহলে নিরাপদে বেহেশতে চলে যাবে।
সহজ আমল
154 – عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ فَقَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ، وَتَصْدِيقٌ بِهِ، وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ، وَحَجٌّ مَبْرُورٌ» ، فَلَمَّا وَلَّى دَعَاهُ، فَقَالَ: «وَأَهْوَنُ مِنْ ذَلِكَ إِطْعَامُ الطَّعَامِ، وَلِينُ الْكَلَامِ»
১৫৪.হযরত উবাদাহ ইবনে সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা) এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করল, (ইয়া রাসূলাল্লাহ!) উত্তম ইমান কোনটি? রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আল্লাহর উপর ইমান আনা, তার সত্যায়ন করা, আল্লাহর পথে জিহাদ করা আর মকবুল হজ। যখন সে চলে যেতে লাগল তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন, এরচেয়ে বেশী সহজ হল, খাবার খাওয়ানো এবং নম্র কথা বলা।
ইসলাম কি?
155 – عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ السُّلَمِيِّ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: «إِطْعَامُ الطَّعَامِ، وَلِينُ الْكَلَامِ» ، قُلْتُ: فَمَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ»
১৫৫.হযরত আমর ইবনে আবাসাহ আস সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, ইসলাম কি? তিনি বললেন, খাবার খাওয়ানো ও নম্র কথা বলা। আমি আরয করলাম ইমান কি? তিনি (সা) বললেন, ধৈর্য ও সহৃদয়তা।
যে আহার করায় সে উত্তম
156 – عَنْ صُهَيْبِ بْنِ سِنَانٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «خِيَارُكُمْ مَنْ أَطْعَمَ الطَّعَامَ»
১৫৬.হযরত সুহায়ব বিন সিনান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি- তোমাদের মধ্যে উত্তম সে, যে খাবার খাওয়ায়।
আল্লাহর ক্ষমা লাভের উপায়
157 – عَنْ جَابِرٍ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” مِنْ مُوجِبَاتِ الْمَغْفِرَةِ: إِطْعَامُ الْمُسْلِمِ السَّغْبَانِ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ {فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ} [البلد: 14]
১৫৭.হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মাগফিরাতের উপায়সমূহের একটি উপায় হল, ক্ষুধার্থ মুসলমানকে খাবার খাওয়ানো। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ
অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে আহার্য দান।– [সূরা আল বালাদ ১৪]
158 عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِنَّ مِنْ مُوجِبَاتِ الْمَغْفِرَةِ: إِطْعَامَ الطَّعَامِ وَبَذْلَ السَّلَامِ “
১৫৮.হযরত মিকদাম ইবনে শুরায়হ (রহ) তার পিতা থেকে, আর তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, মাগফিরাতের উপায়সমূহের মধ্যে রয়েছে- খাবার খাওয়ানো এবং সালামের প্রসার করা।
জাহান্নাম থেকে মুক্তি
159 – عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَطْعَمَ أَخَاهُ حَتَّى يُشْبِعَهُ وَسَقَاهُ مِنَ الْمَاءِ حَتَّى يَرْوِيَهُ بَعَّدَهُ اللَّهُ مِنَ النَّارِ سَبْعَ خَنَادِقَ مَا بَيْنَ كُلِّ خَنْدَقٍ مَسِيرَةُ مِائَةِ عَامٍ»
১৫৯.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইকে খাবার খাওয়ায় এবং সে পরিতৃপ্ত হয়, পানি পান করায় এবং সে পরিতৃপ্ত হয়, তবে আল্লাহ তাআলা খাবার খাওয়ানেওয়ালাকে জাহান্নাম থেকে সাত খন্দক দূরত্ব তৈরি করবেন। আর প্রত্যেক খন্দকের মাঝে ১০০ বছরের দূরত্ব রয়েছে।
যে পর্যন্ত দস্তরখান বিছানো থাকে
160 – عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَزَالُ الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى الرَّجُلِ مَا دَامَتْ مَائِدَتُهُ مَوْضُوعَةً»
১৬০.হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যে পর্যন্ত বান্দার দস্তরখান বিছানো থাকে, সে পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য মাগফিরাতের দুআ করতে থাকে।
আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় খাবার
161 – عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحَبُّ الطَّعَامِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مَا كَثُرَتْ عَلَيْهِ الْأَيْدِي»
১৬১.হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় খাবার হল যার মধ্যে আহারকারী বেশী হয়।
মেহমানের বরকত
162 – عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْخَيْرُ أَسْرَعُ إِلَى الْبَيْتِ الَّذِي يُغْشَى مِنَ الشَّفْرَةِ إِلَى سَنَامِ الْبَعِيرِ»
১৬২.হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যেই ঘরে মেহমান হয়, ঐ ঘরে- উটের কুঁজের দিকে দ্রুত ধাবমান ছুরির চেয়েও দ্রুত কল্যাণ প্রবেশ করে।
যে তার মুসলিম ভাইয়ের ক্ষুধা নিবারণ করে
163 – عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ اهْتَمَّ لِجَوْعَةِ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ فَأَطْعَمَهُ حَتَّى يَشْبَعَ غُفِرَ لَهُ»
১৬৩.হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করে এবং তাকে আহার করায়, এমনকি সে পরিতৃপ্ত হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।
164 – عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَطْعَمَ الْجَائِعَ أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلِّ عَرْشِهِ»
১৬৪.হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ায়, আল্লাহ তাআলা তাকে আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন।
165 -ثنا زَرْبِيُّ أَبُو يَحْيَى قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُحِبُّ عَبْدًا بَرَّدَ كَبِدًا جَائِعَةً»
১৬৫.হযরত যারবী আবু ইয়াহয়া বলেন, আমি হযরত আনাস (রা)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা ক্ষুধার্ত আত্মা শীতলকারীকে ভালবাসেন।
মিষ্টান্ন খাওয়ানো
166 – عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَقَّمَ أَخَاهُ لُقْمَةً حُلْوًا صَرْفَ اللَّهُ عَنْهُ مَرَارَةَ الْمَوْقِفِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
১৬৬.হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইকে কোন মিষ্টি বস্তু খাওয়াবে, আল্লাহ তাআলা তার থেকে হাশরের কষ্ট দূর করে দিবেন।
জান্নাতের স্বচ্ছ বালাখানা যার জন্য
167 – عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ غُرُفًا يُرَى ظَاهِرُهَا مِنْ بَاطِنِهَا، وَبَاطِنُهَا مِنْ ظَاهِرِهَا» ، قِيلَ: لِمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «لِمَنْ أَطَابَ الْكَلَامَ، وَأَطْعَمَ الطَّعَامَ، وَبَاتَ قَائِمًا وَالنَّاسُ نِيَامٌ»
১৬৭.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নিশ্চয়ই জান্নাতে এমন বালাখানা রয়েছে যার ভিতরের দৃশ্য বাহির থেকে এবং বাহিরে দৃশ্য ভিতর থেকে দেখা যায়। সাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা কার জন্য? তিনি (সা) বললেন, এটা তার জন্য- যে ভাল কথা বলে, খাবার খাওয়ায় এবং রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে তখন দাড়িয়ে নামায পড়ে।
হজের মত আমল
168 – عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: مَا بِرُّ الْحَجِّ؟ قَالَ: «إِطْعَامُ الطَّعَامِ، وَلِينُ الْكَلَامِ»
১৬৮.হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) এর দরবারে আরয করা হল, হজের (মত) কি নেকী রয়েছে? রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, খাবার খাওয়ানো ও নম্রভাবে কথা বলা।
সাদকার চেয়ে উত্তম আমল
169 – عَنْ بُدَيْلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَأَنْ أَطْعِمَ أَخَا لِي فِي اللَّهِ لُقْمَةً أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَصَدَّقَ بِعَشَرَةِ دَرَاهِمَ، وَلَأَنْ أُعْطِيَهُ عَشَرَةَ دَرَاهِمَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتِقَ رَقَبَةً»
১৬৯.হযরত বুদায়ল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নিশ্চয়ই আমার নিকট আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের (মুসলিম) ভাইকে এক লোকমা খাবার খাওয়ানো, দশ দিরহাম সাদকা করার চেয়ে উত্তম। আর দশ দিরহাম সাদকা করা, আমার নিকট গুলাম আযাদ করার চেয়ে বেশী পছন্দনীয়।
যেভাবে আল্লাহকে পাওয়া যায়
170 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِي قَالَ: يَا رَبِّ: كَيْفَ أَعُودُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعِزَّةِ؟، فَيَقُولُ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا مَرِضَ فَلَمْ تَعُدْهُ، وَلَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَنِي عِنْدَهُ؟ وَيَقُولُ: يَا ابْنَ آدَمَ: اسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمْنِي، فَيَقُولُ: كَيْفَ أُطْعِمُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعِزَّةِ؟ فَيَقُولُ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا اسْتَطْعَمَكَ فَلَمْ تُطْعِمْهُ، أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوَ أَطْعَمْتَهُ لَوَجِدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي؟ وَيَقُولُ: يَا ابْنَ آدَمَ اسْتَسْقَيْتُكَ فَلَمْ تَسْقِنِي، فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ وَكَيْفَ أَسْقِيكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعِزَّةِ؟ فَيَقُولُ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا اسْتَسْقَاكَ فَلَمْ تَسْقِهِ وَلَوْ سَقَيْتَهُ لَوَجِدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي؟ “
১৭০.হযরত আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন, হে আদম সন্তান আমি অসুস্থ হয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমার সেবা করনি। সে বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি কী করে তোমার সেবা করব, অথচ তুমি সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, আর তুমি তার সেবা করনি। যদি তুমি তার সেবা করতে তাহলে অবশ্যই আমাকে সেখানে পেতে।
হে আদম সন্তান আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে খেতে দাওনি। সে বলবে, হে আমার পরওয়ারদিগার! আমি কী করে তোমাকে আহার করাতে পারি? তুমি তো সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে আহার চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে খেতে দাওনি। যদি তুমি তাকে আহার করাতে তাহলে তা (তার প্রতিদান) অবশ্যই আমার কাছে পেতে।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিলাম; কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। সে বলবে, হে আমার পরওয়ারদিগার! আমি কী করে তোমাকে পান করাব, অথচ তুমি সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানীয় চেয়েছিল, তুমি তাকে পান করাওনি। যদি তুমি তাকে পান করাতে, তবে তা (তার প্রতিদান) আমার কাছে পেয়ে যেতে।
আলী (রা) এর পছন্দনীয় আমল
171 – عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – قَالَ: «لَأَنْ أَجْمَعَ أُنَاسًا مِنْ أَصْحَابِي عَلَى صَاعٍ مِنْ طَعَامٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَخْرُجَ إِلَى السُّوقِ فَأَشْتَرِيَ نَسَمَةً فَأَعْتِقَهَا»
১৭১.হযরত আলী (রা) বলেন, আমার সঙ্গীদেরকে এক সা (পরিমাণ) খাবার খাওয়ানো, আমার নিকট তার থেকে বেশী প্রিয় যে, আমি বাজারে যাব আর একজন দাসী ক্রয় করে তাকে আযাদ করে দিব।
মিসকীনদের প্রতি হুসায়ন (রা) এর মমতা
172 – عَنْ يُونُسَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: بَعَثَتِ امْرَأَةُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَيْهِ: إِنَّا قَدْ صَنَعْنَا لَكَ مِنَ الطَّعَامِ طَيِّبًا وَصَنَعْنَا لَكَ طِيبًا، فَانْظُرْ أَكْفَاءَكَ فَأْتِنَا بِهِمْ، فَدَخَلَ الْحُسَيْنُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ الْمَسْجِدَ فَجَمَعَ السُّؤَّالَ الَّذِينَ فِيهِ وَالْمَسَاكِينَ، فَانْطَلَقَ بِهِمْ إِلَيْهَا فَأَتَاهَا جَوَارِيهَا فَقُلْنَ لَهَا: وَاللَّهِ قَدْ جَلَبَ عَلَيْكِ الْمَسَاكِينَ، وَدَخَلَ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى امْرَأَتِهِ فَقَالَ: «أَعْزِمُ عَلَيْكِ لِمَا كَانَ لِي عَلَيْكِ مِنْ حَقٍّ أَنْ لَا تَدَّخِرِي طَعَامًا، وَلَا طِيبًا» ، فَفَعَلَتْ، فَأَطْعَمَهُمْ وَكَسَاهُمْ وَطَيَّبَهُمْ
১৭২.হযরত ইউনূস ইবনে আমর তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হযরত হুসায়ন (রা) এর স্ত্রী তার নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, আমি আপনার জন্য সুস্বাদু খাবার এবং সুগন্ধী প্রস্তুত করেছি। আপনি আপনার সমজাতীয় লোকদের অনুসন্ধান করে তাদেরকে সাথে করে নিয়ে আসুন। হুসায়ন (রা) মসজিদে গেলেন এবং সেখানে যে মিসকীন ও যাচ্ঞাকারীরা ছিল তাদেরকে সাথে করে নিয়ে ঘরে আসেন। প্রতিবেশী স্ত্রীলোকেরা তার স্ত্রীর নিকট এসে বলতে লাগল, আল্লাহর শপথ! আপনাদের ঘরে তো মিসকীনরা ভরে গেছে।
হুসায়ন (রা) তার স্ত্রীর নিকট গিয়ে বললেন, আমি তোমাকে ঐ অধিকারের কসম দিয়ে বলছি, তোমার প্রতি আমার যে অধিকার আছে যে, তুমি খাবার ও সুগন্ধী বাঁচিয়ে রাখবে না। তার স্ত্রী তা-ই করলেন। হুসায়ন (রা) প্রথমে মিসকীনদের খাবার খাওয়ালেন, কাপড় পরিধান করালেন অতঃপর সুগন্ধী লাগিয়ে দিলেন।
আলী ইবনুল হুসায়ন (রা) এর বিনয় ও উদারতা
173 – عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ قَالَ: مَرَّ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ وَهُوَ رَاكِبٌ عَلَى مَسَاكِينَ يَأْكُلُونَ كِسَرًا لَهُمْ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ فَدَعَوْهُ إِلَى طَعَامِهِمْ فَتَلَا هَذِهِ الْآيَةَ {لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا} [القصص: 83] ثُمَّ نَزَلَ فَأَكَلَ مَعَهُمْ، ثُمَّ قَالَ: «قَدْ أَجَبْتُكُمْ فَأَجِيبُونِي» ، فَحَمَلَهُمْ إِلَى مَنْزِلِهِ فَأَطْعَمَهُمْ وَكَسَاهُمْ وَصَرَفَهُمْ
১৭৩.হযরত ইসমাঈল ইবনে আবু খালেদ বলেন, হযরত আলী ইবনে হুসায়ন (রহ) সওয়ারীর উপর সওয়ার হয়ে মিসকীনদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা বেঁচে যাওয়া উচ্ছিষ্ট খাবার খাচ্ছিল। তিনি তাদেরকে সালাম করলেন। তারা তাকে খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করলেন। তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا
দুনিয়াতে যারা উচ্চ হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না।– সূরা আল কাসাস ৮৩
অতঃপর বাহন থেকে নেমে তাদের সাথে খাবার খেলেন। অতঃপর বললেন, আমি তোমাদের দাওয়াত কবুল করেছি এখন তোমরা আমার দাওয়াত কবুল কর। অতঃপর তিনি তাদেরকে তার ঘরে নিয়ে গেলেন, খাবার খাওয়ালেন এবং কাপড় ও দিরহাম দান করলেন।
দস্তরখান প্রশস্ত হওয়া এবং কথাবার্তা সুন্দর হওয়া
174 – عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ: «كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ضَخْمَ الْقِطْعَةِ، حَسَنَ الْحَدِيثِ»
১৭৪.হযরত আমর ইবনে দীনার বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস (রা) এর দস্তরখান হত প্রশস্ত এবং তার কথাবার্তা হত সুন্দর।
মিছরীর টুকরা
175 – أَنَّ عُمَرَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ الْقُرَشِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ، أَخْبَرَهُ أَنَّ الْحَجَّاجَ , عُمِلَتْ لَهُ سَكَرَّةٌ عَظِيمَةٌ لَمْ يَقْتَدِرُوا أَنْ يَحْمِلُوهَا عَلَى الدَّوَابِّ فَجُرَّتْ عَلَى الْعَجَلِ حَتَّى أُتِى بِهَا إِلَى عِنْدِ عَبْدِ الْمَلِكِ، فَخَرَجَ فَنَظَرَ إِلَيْهَا فَلَمَّا رَآهَا رَاعَتْهُ وَاسْتَعْظَمَهَا، وَلَمْ يَدْرِ كَيْفَ يَصْنَعُ بِهَا فَفَكَّرَ سَاعَةً، فَقَالَ: «يَا غُلَامُ وَجِّهْهَا إِلَى مَنْزِلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ» ، وَهُوَ يَوْمَئِذٍ عِنْدَهُ فَوُجِّهَتْ إِلَى مَنْزِلِهِ، فَلَمَّا دَنَتْ إِذَا صِيَاحٌ، وَإِذَا النَّاسُ قَدِ اجْتَمَعُوا يَنْظُرُونَ إِلَيْهَا قَالَ: مَا هَذَا؟ فَقِيلَ لَهُ: سَكَرَّةٌ بَعَثَ بِهَا إِلَيْكَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ، فَخَرَجَ فَنَظَرَ إِلَى شَيْءٍ لَمْ يَنْظُرِ النَّاسُ إِلَى مِثْلِهِ فَفَكَّرَ سَاعَةً، ثُمَّ قَالَ: يَا غُلَامُ عَلَيَّ بِالْأَنْطَاعِ وَالْفُؤْسِ، فَأُتِيَ بِالْأَنْطَاعِ وَالْفُئُوسِ فَجَعَلُوا يُكَسِّرُونَهَا، وَهُوَ يَقُولُ: مَنْ أَخَذَ شَيْئًا فَهُوَ لَهُ، فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى أُتِيَ عَلَى آخِرِهَا، فَبَلَغَ ذَلِكَ عَبْدَ الْمَلِكِ فَعَجِبَ، وَقَالَ: «هُوَ كَانَ أَعْلَمَ بِهَا مِنَّا»
১৭৫.হযরত উমর ইবনে আবু বকর কারশী বর্ণনা করেন যে, হাজীদের জন্য বিরাট বড় এক মিছরির (চিনি/মিছরী) টুকরা তৈরী করা হল। যেটা কোন চতুষ্পদ জন্তুর (বাহনের) উপরেও উঠানো গেল না। অতঃপর তা একটা ছকড়া (ঘোড়ায় টানা গাড়ী) দ্বারা খলিফা আব্দুল মালিকের নিকট নিয়ে আসা হল। তিনি বাইরে বেরিয়ে আসলেন এবং তার আয়তন দেখে বিস্মিত হলেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারছিলেন না যে, তিনি কি করবেন। কিছু সময় ভেবে তিনি তার গুলামকে ডেকে বলনে, এটা হযরত জাফরের নিকট নিয়ে যাও।
তখন তিনি খলিফার ওখানেই ছিলেন। যখন মিছরির টুকরাটি তার নিকট নিয়ে যাওয়া হল তখন তিনি বিস্মিত হলেন, আর লোকেরাও তা দেখার জন্য জমা হয়ে গেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি? আরয করা হল এটা মিছরির একটি টুকরা যা খলিফা আপনার নিকট পাঠিয়েছেন।
তিনি বাইরে বেরিয়ে এমন জিনিস দেখলেন যার অনুরুপ কেউ কখনো দেখেনি। তিনি কিছু সময় ভেবে গুলামকে বললেন, চামড়ার বিছানা এবং কুড়াল নিয়ে আস। তা ভাঙার জন্য কুঠাড়ী আনা হল এবং চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দেয়া হল। জাফর (রহ) বললেন, (এটা ভাঙার পর) যে যেটা পাবে সেটা তার। অতঃপর তিনি সেখানে দাড়িয়ে রইলেন এবং ঐ টুকরার সব ভেঙে ফেলা হল (এবং বন্টন করে দেয়া হল)। যখন এই সংবাদ খলিফার নিকট পৌঁছল তখন তিনি এটা শুনে বিস্মিত হলেন এবং বললেন, সে এই ব্যাপারে আমাদের থেকে ভাল জানেন।
যে ব্যক্তি গোশত খেতে চায়
176 – عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَدْرَكْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، وَمُنَادٍ يُنَادِي عَلَى أُطُمِهِ: مَنْ أَحَبَّ شَحْمًا وَلَحْمًا فَلْيَأْتِ سَعْدًا، ثُمَّ أَدْرَكْتُ ابْنَهُ قَيْسًا يُنَادِي بِمِثْلِ ذَلِكَ قَالَ: وَقَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ: «اللَّهُمَّ هَبْ لِي حَمْدًا، وَهَبْ لِي مَجْدًا، لَا مَجْدَ إِلَّا بِفِعَالٍ، وَلَا فِعَالَ إِلَّا بِمَالٍ، اللَّهُمَّ إِنَّهُ لَا يَصْلُحُ لِي الْقَلِيلُ، وَلَا أَصْلُحُ عَلَيْهِ»
১৭৬.হযরত হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রহ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত সাদ ইবনে উবাদা (রা) এর সাক্ষাতে গেলাম। সেখানে একজন ঘোষণাকারী লোকদের মাঝে এই ঘোষণা করছিলেন যে, যে ব্যক্তি গোশত ও চর্বি খেতে চায়, সে যেন সাদ ইবনে উবাদার ঘরে আসে। অতঃপর আমার সাক্ষাৎ তার ছেলে কায়সের সাথে হল। তিনিও এই ঘোষণা করছিলেন।
হযরত সাদ ইবনে উবাদাহ (পূর্ব থেকে নিয়মিত এই) দুআ করেন-
اللَّهُمَّ هَبْ لِي حَمْدًا، وَهَبْ لِي مَجْدًا، لَا مَجْدَ إِلَّا بِفِعَالٍ، وَلَا فِعَالَ إِلَّا بِمَالٍ، اللَّهُمَّ إِنَّهُ لَا يَصْلُحُ لِي الْقَلِيلُ، وَلَا أَصْلُحُ عَلَيْهِ
হে আল্লাহ! আমাকে প্রশংসা ও আভিজাত্য দান কর। আভিজাত্য তো কেবল নেক আমল দ্বারাই লাভ করা যায়। আর নেক আমল সম্পদ দ্বারা। হে আল্লাহ! অল্প সম্পদ আমার (ভাল কাজের জন্য) জন্য যথেষ্ট নয়, আর না তা আমার সব (কাজ) ঠিক করতে পারে।