ফিতরাত ও মিসওয়াক: ইসলামে স্বাভাবিক জীবনধারার গুরুত্ব
মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা ও সৌন্দর্য রক্ষায় ফিতরাত ও মিসওয়াকের ভূমিকা এবং প্রমাণিত হাদীস।

ইমাম সুয়ূতী (রহ) রচিত তাফসীর আদ দুররে মানসূর এর সূরা আল বাকারা ১২৪ আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত হাদীসসমূহ
আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত
ফিতরাত বা স্বভাবজাত সুন্নত – মিসয়াক করা
ইমাম ইবনে আবী হাতিম- হযরত আতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
من فطْرَة إِبْرَاهِيم السِّوَاك
মিসওয়াক হযরত ইবরাহীম (আ) এর ফিতরাত বা আদর্শ থেকে।
হাত পায়ের জোড়া ধৌত করা
ইমাম ইবনে আবী হাতিম- হযরত মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যিকির এবং হাত ও পায়ের জোড়াসমূহ ধৌত করা ইবরাহীম (আ) এর ফিতরাত বা আদর্শ থেকে।
ছয়টি বিষয় ফিতরাত বা স্বভাবজাত
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ আল মুসান্নাফে- মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। ছয়টি বিষয় হযরত ইবরাহীম (আ) এর ফিতরত থেকে। মোচ কাটা, মিসওয়াক করা, চুল আঁচড়ানো, নখ কাটা, ইস্তিঞ্জা করা, নাভীর নিচের পশম কাটা। তিনি বলেন, তিনটির সম্পর্ক মাথার সাথে আর তিনটির সম্পর্ক শরীরে সাথে।
পাঁচটি বিষয় ফিতরাত
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, আহমদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নামাঈ, ইবনে মাজাহ- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি-
الفِطْرَةُ خَمْسٌ، أَوْ خَمْسٌ مِنَ الفِطْرَةِ: الخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَقَصُّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ،وَنَتْفُ الآباط،
পাঁচটি বিষয় ফিতরাত এর অন্তর্ভুক্ত। খাতনা করা, নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করা, মোচ কাটা, নখ কাটা এবং বগলের লোম নিষ্কাশন করা।
নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করা
ইমাম বুখারী ও নাসাঈ- হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করা, নখ কাটা এবং মোচ কাটা ফিতরাত এর অন্তর্ভুক্ত।
দশটি কাজ স্বভাবজাত
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, রাসুলূল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেছেন, দশটি কাজ স্বভাবজাত- ১.গোঁফ ছোট করা ২.দাড়ি লম্বা করা ৩.মিসওয়াক করা ৪.পানি দ্বারা নাক পরিষ্কার করা ৫.নখ কাটা ৬.আংগুলের গিরা ও জোড়াসমূহ ধৌত করা ৭.বগলের পশম পরিষ্কার করা ৮.নাভির নীচের লোম পরিস্কার করা ৯.পানির দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা। রাবী যাকারিয়া বলেন, মূসআব বলেছেন, আমি দশমটি ভুলে গিয়েছি, তবে সম্ভবত তা হল কুলি করা।
কুলি করা ও নাক পরিষ্কার করা
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ- হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- কুলি করা, পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা, মিসওয়াক করা, মোচ কাটা, নখ কাটা, বগলের লোম পরিষ্কার করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, আঙ্গুলের সংযোগস্থলগুলো ধৌত করা, শৌচ করা, খাতনা করা ইত্যাদি ফিতরাত বা মানব স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত।
চারটি বিষয় পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত
ইমাম বাযযার এবং তাবরানী- হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইশাদ করেন-
الطهارات أَربع قصّ الشَّارِب وَحلق الْعَانَة وتقليم الْأَظْفَار والسواك
চারটি বিষয় পবিত্রতার অন্তুর্ভুক্ত। মোচ কাটা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা নখ কাটা এবং মিসওয়াক করা।
চল্লিশ দিনের মধ্যে ক্ষৌরকাজ সম্পন্ন করা
ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন অন্তত চল্লিশ দিনে একবার মোচ ছাঁটতে, নখ কাটতে, নাভির নীচের লোম পরিষ্কার করতে এবং বগলের লোম পরিষ্কার করতে।
অপরিচ্ছন্ন ব্যক্তির নিকট ফেরেশতা আসে না
ইমাম আহমদ এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি নবী কারীম (সা)-কে আরয করেন। জিবরাঈল (আ) আপনার নিকট আসতে দেরি করলেন কেন? রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, সে আমার নিকট আসতে কেন দেরী করবে না? যেখানে তোমরা আমার আশপাশে অবস্থান কর আর না (সময়মত) মিসওয়াক কর, না নখ কাট, না মোচ কাট আর না আঙ্গুলের জোড়াসমূহ ধৌত কর।
মোচ কাটা
ইমাম তিরমিযী- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। আর তিনি এটাকে হাসান বলেছেন। তিনি বলেন, নবী (সা) তার মোচ কাটতেন আর বলতেন রহমানের খলীল ইবরাহীম (আ) এমন করতেন।
যে মোচ কাটে না
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, আহমদ, তিরমিযী আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন এবং নাসাঈ- হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
مَنْ لَمْ يَأْخُذْ مِنْ شَارِبِهِ فَلَيْسَ مِنَّا
যে মোচ কাটে না সে আমাদের মধ্য হতে নয়।
মুশরিকদের বিরোধিতা করা
ইমাম মালিক, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং তিরমিযী- হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি নবী কারীম (সা) থেকে রিওয়ায়াত করেন। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিরোধীতা কর- দাড়ি লম্বা কর এবং মোচ খাটো কর।
ইমাম বাযযার- হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। নবী কারীম (সা) ইরশাদ করেন- তোমরা মাজুসীদের (অগ্নিপূজারীদের) বিরোধিতা কর। মোচ কাট আর দাড়ি লম্বা কর।
মোচ খাটো করা দীনের অন্তর্ভুক্ত
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- হযরত উবাযদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এক মাজুসী ব্যক্তি নবী কারীম (সা) এর নিকট আসলেন। যার দাড়ি মুণ্ডানো ছিল আর মোচ লম্বা ছিল। নবী কারীম (সা) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি? সে বললো এটা আমাদের দীন বা রীতি। নবী (সা) বললেন, কিন্তু আমাদের দীন হল মোচ খাটো করা এবং দাড়ি লম্বা করা।
নবী (সা) এক ব্যক্তির মোচ কেটে দিলেন
ইমাম বাযযার- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, তার মোচ লম্বা। তিনি (সা) বললেন, আমাকে কাঁচি আর মিসওয়াক দাও। নবী (সা) মিসওয়াক তার ঠোটের উপর ধরলেন আর মোচের বাকী অংশ কেটে ফেললেন।
জুমার পূর্বে পরিচ্ছন্নতা অর্জন
ইমাম বাযযার, তাবরানী আল আউসাতে, বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হাসান সনদে হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করনে। রাসূলুল্লাহ (সা) জুমআর দিন নামাযে যাওয়ার পূর্বে নখ আর মোচ কাটতেন।
চল্লিশ দিনের মধ্যে নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করা
ইমাম ইবনে আদী- যয়ীফ সনদে হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- পুরুষ প্রত্যেক চল্লিশ দিনের মধ্যে নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করবে এবং বগলের লোম পরিষ্কার করবে যখন তা প্রকাশ পায়। আর নিজের মোচ লম্বা করবে না। আর এক জুমআ থেকে অপর জুমআর মধ্যে নখ কাটবে।
শয়তান নখ ও মাংসের মধ্যে চলে
ইমাম ইবনে আসাকির- যয়ীফ সনদের সাথে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নিজের নখ কাট। কারণ শয়তান নখ ও মাংসের মাঝে চলাফেরা করে।
সন্দেহজনক বিষয় পরিত্যাগ করা
ইমাম তাবরানী- যয়ীফ সনদে ওয়াবিসা বিন মাবাদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে প্রত্যেক বিষয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছি। এমনকি নখের মধ্যে যে ময়লা থাকে তার বিষয়েও। তিনি (আমাকে একটি মূলনীতি) বলেন-
دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
ঐ বিষয় পরিত্যাগ কর যা তোমাকে সন্দেহ-সংশয়ে পতিত করে আর তা অবলম্বন কর যা তোমাকে সন্দেহ সংশয়ে নিপতিত করে না।
অপরিচ্ছন্নতার কারণে নামাযে সন্দেহ হয়
ইমাম বাযযার- হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণানা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- আমার কেন (নামাযে) সন্দেহ হবে না। যখন তোমাদের কেউ (নামাযের মধ্যে) আঙ্গুল ও নখের ময়লা খুটতে থাক।
ইমাম বায়হাকী শুআবুল ইমানে- কায়স বিন হাযেম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী কারীম (সা) নামায পড়েন আর তার মনে সন্দেহ উদ্রেক হয়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন, আমার মনে কেন সন্দেহ উদ্রেক হবে না, যেখানে তোমাদের কেউ কেউ (নামাযের মধ্যে) আঙ্গুল ও নখের ময়লা খুটতে থাক।
মিসওয়াক
ইমাম ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকী- আবূ উমামাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- তোমরা মিসওয়াক করো। কেননা মিসওয়াক মুখ পবিত্র ও পরিষ্কার করার উপায় এবং মহান প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপায়। আমার কাছে যখনই জিবরাঈল (আ) এসেছেন তখনই আমাকে মিসওয়াক করার উপদেশ দিয়েছেন। এমনকি আমার আশঙ্কা হয় যে, তা আমার ও আমার উম্মাতের জন্য ফরয করা হবে। আমি যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের জন্য তা ফরয করে দিতাম। আমি এত বেশি মিসওয়াক করি যে, আমার মাড়িতে ঘা হওয়ার আশঙ্কা হয়।
মিসওয়াকে আল্লাহর সন্তুষ্টি
ইমাম তাবরানী যয়ীফ সনদে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ، مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ، ومَجْلَاةٌ لِلْبَصَرِ
মিসওয়াক করা মুখ পবিত্র ও পরিষ্কারের উপায়, এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উপায় এবং দৃষ্টিশক্তি প্রখর করার উপায়।
মিসওয়াকের বহুমুখী উপকারিতা
ইমাম ইবনে আদী এবং বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- তোমাদের জন্য মিসওয়াক করা আবশ্যক- কেননা এটা মুখ পরিষ্কার করে, প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের কারণ, ফেরেশতাদের আনন্দের কারণ, নেকী বৃদ্ধি করে এবং এটা সুন্নাত, চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, দাতের হলদেটেভাব দূর করে, মাড়ি মজবুত করে, কফ দূর করে এবং মুখের সুগন্ধ বৃদ্ধি করে।
মিসওয়াকের গুরুত্ব
ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ وُضُوءٍ
যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টদায়ক হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাযের সময় তাদেরকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
ইমাম আহমদ হাসান সনদে- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কঠিন হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাযের সময় তাদেরকে ওযু করার নির্দেশ দিতাম, আর ওযুর সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
ইমাম বাযযার, আবু ইয়ালা এবং তাবরানী যয়ীফ সনদে- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নবী কারীম (সা) সব সময় মিসওয়াকের কথা বলতেন। এমনকি আমরা এ ব্যাপারে কুরআন নাযিল হওয়ার আশঙ্কা করলাম (যদি তা ফরয হয়ে যায়)।
সত্তুর গুণ বেশি ফযীলত
ইমাম আহমদ, হার্স বিন আবী উসামাহ, বাযযার, আবু ইয়ালা, ইবনে খুযায়মাহ, দারাকুতনী, হাকীম আর তিনি এটাকে সহিহ বলেছেন, আবু নুআইম কিতাবুস সিওয়াক–এ, বায়হাকী শুআবুল ইমানে- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মিসওয়াক করে নামায পড়া, মিসওয়াক না করে নামায পড়ার চাইতে সত্তর গুণ বেশী ফযীলত রাখে।
ইমাম বাযযার, বায়হাকী উত্তম সনদে- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
رَكْعَتَانِ بسواك أفضل من سبعين رَكْعَة بِغَيْر سواك
মিসওয়াক করে দুই রাকাত নামায মিসওয়াক ব্যতীত সত্তর রাকাতের চাইতে উত্তম।
মিসওয়াকের নির্দেশ
ইমাম আহমদ এবং আবু ইয়ালা উত্তম সনদে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- আমাকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দেয়া হযেছে। এমনকি আমি ধারণা করতে লাগলাম যে, এ ব্যাপারে কুরআন বা ওহী নাযিল হয়ে যাবে।
মিসওয়াক করে শয়ন করা
ইমাম আহমদ আবু ইয়ালা এবং তাবরানী যয়ীফ সনদে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন- রাসূলু্লাহ (সা) মিসওয়াক করা ব্যতীত শয়ন করতেন না এবং ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন।
মিসওয়াকের প্রতি জিবরাইল (আ) এর উৎসাহ
ইমাম তাবরানী হাসান সনদে হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- জিবরাঈল (আ) আমাকে সর্বদা মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন। এমনকি আমি আমার দাঁতের মাড়ির ক্ষয়ের আশঙ্কা করতাম।
রাসূলগনের সুন্নত
ইমাম বাযযার, তিরমিযী, হাকীম নাওয়াদিরুল উসূলে- কালীহ বিন আব্দুল্লাহ খাতামী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
خمس مِنْ سُنَنِ المُرْسَلِينَ الحَيَاءُ وَالْحِلْمُ وَالحِجَامَةُ وَالسِّوَاكُ وَالتَّعَطُّرُ
পাঁচটি বিষয় রাসূলদের সুন্নাত। লজ্জা, সহনশীলতা, শিঙ্গা লাগানো, মিসওয়াক করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা।
মিসওয়াক না করে ন ঘুমানো
ইমাম তাবরানী আল আউসাতে- হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) মিসওয়াক করা ব্যতীত ঘুমাতেন না আর যখন জাগ্রত হতেন তখন প্রথমে মিসওয়াক করতেন।
নামাযে বের হওয়ার জন্য মিসওয়াক
ইমাম তাবরানী হাসান সনদে- হযরত যায়দ বিন খালিদ আল জুহানী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী কারীম (সা) যখন ঘর থেকে নামায পড়তে বের হতেন তখন মিসওয়াক করে নিতেন।
ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক করা
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ এবং আবু দাউদ যয়ীফ সনদে- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) দিনে বা রাতে ঘুম থেকে উঠার পর ওযুর করার আগে মিসওয়াক করতেন।
নবী (সা) ঘরে প্রবে, করে আগে কি করতেন
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল যে, রাসূলু্লোহ (সা) ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কি করতেন? তিনি বললেন, নবী (সা) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন প্রথমে মিসওয়াক করতেন।
মুখ হলো কুরআনের প্রবেশদ্বার
ইমাম ইবনে মাজাহ- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
إِنَّ أَفْوَاهَكُمْ طُرُقٌ لِلْقُرْآنِ، فَطَيِّبُوهَا بِالسِّوَاكِ
তোমাদের মুখ হল কুরআনের প্রবেশ পথ অতএব এটা মিসওয়াক দ্বারা পবিত্র কর।
মিসওয়াক বাকপটুতা বৃদ্ধি করে
ইমাম ইবনুস সুন্নী এবং আবু নুআইম তিব্বুন নবীতে- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
إِن السِّوَاك ليزِيد الرجل فصاحة
মিসওয়াক ব্যক্তির বাকপটুতা বৃদ্ধি করে।
রোগের উপশম
ইমাম ইবনুস সুন্নী- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, কুরআন পাঠ করা এবং মিসওয়াক করা কফ (এবং কফের প্রভাবজনিত রোগ-ব্যাধি) উপশম করে।
মিসওয়াক না করা পর্যন্ত নবী (সা) নিদ্রা যেতেন না
ইমাম আবু নুআইম মারিফাতুস সাহাবায়- হযরত সামুভিয়া (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ কোন রাতে শয়ন করতেন না যে পর্যন্ত না মিসওয়াক করে নিতেন।
নবী (সা) যে সময়গুলোতে মিসওয়াক করতেন
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ মুসান্নাফে, আবু নুআইম কিতাবুস সিওয়াক-এ যয়ীফ সনদে- আবু আতিক থেকে আর তিনি হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন। জাবির (রা) বিছানায় যাওযার পূর্বে, ঘুম থেকে উঠার পর এবং নামায পড়তে যাওয়ার সময় মিসওয়াক করতেন। আমি বললাম, আপনি নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন। তিনি বললেন, আমাকে উসামা (রা) বলেছেন যে, নবী কারীম (সা) এই সময়গুলোতে মিসওয়াক করতেন।
সাহরির সময় মিসওয়াক
ইমাম আবু নুআইম হাসান সনদে- আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন- আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টদায়ক হওয়ার আশঙ্কা না করলে আমি তাদেরকে সাহরির সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
ওযুর সাথে মিসওয়াক
ইমাম তাবরানী আল আউসাতে হাসান সনদে- হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টের আশঙ্কা না হত, তবে (প্রতি) ওযুর সাথে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
মুখের পবিত্রতা
ইমাম শাফিয়ী, ইবনে আবী শায়বাহ, আহমদ, নাসাঈ, আবু ইয়ালা, ইবনে খুযায়মাহ, ইবনে হিব্বান, হাকীম এবং বায়হাকী- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ , مَرْضَاةٌ لِلرَّبّ
মিসওয়াক মুখের জন্য পবিত্রতা এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উপায়।
মিসওয়াক করা আবশ্যক
ইমাম আহমদ, তাবরানী আল আউসাতে- হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- অবশ্যই মিসওয়াক কর, এটা মুখ পবিত্র করে এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের কারণ।
দাঁত হলদেটে থাকা নিন্দনীয়
ইমাম আহমদ যয়ীফ সনদে- কুসাম অথবা তাম্মাম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী কারীম (সা) আমাদের নিকট আগমন করেন এবং বলেন, তোমরা আমার নিকট হলুদ দাঁত নিয়ে আস কেন, মিসওয়াক কর না? যদি আমি আমার উম্মতের উপর কষ্টের আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের জন্য এমনভাবে মিসওয়াক ফরয করে দিতাম, যেভাবে ওযু তাদের জন্য ফরয করা হয়েছে।
কানের উপর মিসওয়াক রাখা
ইমাম তাবরানী- হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন। নবী কারীম (সা) মিসওয়াক কানের উপর ঐ জায়গায় রাখতেন যেখানে কাতিব (লেখক) তার কলম রাখেন।
সফরকালে নবী (সা) যা যা সঙ্গে রাখতেন
ইমাম উকাইলী আয যুআফায়, আবু নুআইম আস-সিওয়াক-এ যয়ীফ সনদে- হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। নবী কারীম (সা) যখন সফর করতেন তখন মিসওয়াক, চিরুনী, সুরমাদানী, বোতল এবং আয়না সাথে নিয়ে যেতেন।
মিসওয়াক করা ওয়াজিব কি না
ইমাম আবু নুআইম একটি দুর্বল সনদে- হযরত রাফে বিন খুদাইজ (রা) থেকে মারফুভাবে বর্ণনা করেন যে, মিসওয়াক করা ওয়াজিব।
ওহীর আশঙ্কা
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে এভাবে মিসওয়াক করার নির্দেশ দেয়া হত যে, আমরা ভাবতে লাগলাম- এ ব্যাপারে ওহী নাযিল হয়ে যাবে।
মিসওয়াক ওযুর অর্ধেক
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- হযরত হাসান বিন আতিয়্যা (রহ) থেকে মারফু রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন যে, (রাসূলুল্লাহ [সা] ইরশাদ করেন-) ওযু ইমানের অর্ধেক আর মিসওয়াক ওযুর অর্ধেক। যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টের আশঙ্কা না হত তাহলে প্রত্যেক নামাযের সময় তাদেরকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। মিসওয়াকের সাথে বান্দা যে দুই রাকাত নামায পড়ে তা সত্তর রাকাত হতে উত্তম যা মিসওয়াক ব্যতীত পড়া হয়।
বেজোড় সংখ্যায় মিসওয়াক করা
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- হযরত সালমান বিন সাদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-
اسْتَاكُوا وَتَنَظَّفُوا وَأَوْتِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ
মিসওয়াক কর এবং পরিচ্ছন্ন কর আর তা বেজোড় সংখ্যায় কর। কেননা আল্লাহ বেজোড় আর তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন।
