হাদীসে মুমিনের গুণাবলী ও চরিত্রের নিদর্শন
সত্যিকারের ইমানদার কেমন হওয়া উচিত – হাদীসের আলোকে

শায়খ আলী মুত্তকী (রহ) রচিত হাদীস বিশ্বকোষখ্যাত কানযুল উম্মাল গ্রন্থের ইমান অধ্যায়ে থেকে
আমাদের অনুবাদ ও প্রকাশনা – দারুস সাআদাত
মুমিনের বহুমুখী গুণাবলী
669 – “إن من أخلاق المؤمن قوة في دين وحزم في لين وإيمانا في يقين وحرصا في علم وشفقة في مقت وحلما في علم وقصدا في غنى وتجملا في فاقة وتحرجا عن طمع وكسبا في حلال وبرا في استقامة ونشاطا في هدى ونهيا عن شهوة ورحمة للمجهود
وإن المؤمن من عباد الله لا يحيف على من يبغض، ولا يأثم فيمن يحب، ولا يضيع ما استودع، ولا يحسد ولا يطعن ولا يلعن، ويعترف بالحق، وإن لم يشهد عليه ولا يتنابز بالألقاب، في الصلاة متخشعا، إلى الزكاة مسرعا، في الزلازل وقورا، في الرخاء شكورا قانعا بالذي له لا يدعي ما ليس له، ولا يجمع في الغيظ ولا يغلبه الشح عن معروف يريده، يخالط الناس كي يعلم، ويناطق الناس كي يفهم، وإن ظلم وبغي عليه صبر حتى يكون الرحمن هو الذي ينتصر له”. (الحكيم عن جندب بن عبد الله) .
৬৬৯.মুমিনের গুণাবলীর মধ্যে আছে, সে দীনের ব্যাপারে দৃঢ় হবে। নম্রতার মধ্যে বিচক্ষণ হবে। ইমানের মধ্যে ইয়াকীন হবে। ইলমের লোভী হবে। রাগ ও ক্ষোভেও দয়ার্দ্র থাকবে। স্বচ্ছলতায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। অভাব অনটনেও সৌন্দর্য বজায় রাখবে। লোভ লালসা থেকে মুক্ত থাকবে। হালাল উপার্জনকে নিজের পন্থা বানাবে। ভাল কথার উপর অবিচল থাকবে। হিদায়াতের উপর খুশি ও প্রাণবন্ত থাকবে। আসক্তি ও চাহিদা থেকে বিরত থাকবে। দুর্দশাগ্রস্তের প্রতি দয়ার্দ্র হবে।
মুমিন বান্দা আল্লাহ বান্দাদের কারো সাথে বিদ্বেষ রাখে না। বন্ধুর ব্যাপারে গুনাহর কারণ হয় না। আমানতের খিযানত করে না। হিংসা-বিদ্বেষ, ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং লানত করা থেকে বহু দূরে থাকে। হকের সামনে নিজেকে সমর্পণ করে দেয়, যদিও সেই স্থানে উপস্থিত না থাকে। মন্দ নাম বা উপাধী দ্বারা কাউকে কষ্ট দেয় না। নামাযে খুশু-খুযুর সাথে নিমগ্ন থাকে। যাকাত আদায়ে দ্রুততা করে। কাঠিন্যতার সময় নম্রতা পরিত্যাগ করে না। আনন্দ ও খুশির সময় শোকরগুযার থাকে। উপস্থিতির সময় অল্পে তুষ্ট থাকে। অনুপস্থিতিতে কিছু দাবি করে না। রাগের সময় জ্ঞানশূন্য হয় না। কোন নেক কাজে কৃপণতাকে প্রশ্রয় দেয় না। জ্ঞান অর্জনের নিমিত্তে সবার সাথে মিল মহব্বত রাখে। লোকদের সাথে বুদ্ধিমত্তার সাথে কথা বলে। তার উপর যুলুম নির্যাতন করা হলে সবর করে- এমনকি দয়াময় নিজে তার প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
হাকীম, রিওিয়ায়াতঃ জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ
মুমিন স্বল্পাহারী
670 – ” المؤمن يأكل في معى واحد والكافر يأكل في سبعة أمعاء”. (حم ق ت م عن ابن عمر حم م عن جابر حم ق هـ عن أبي هريرة) (م هـ عن أبي موسى) .
৬৭০. মুমিন এক অন্ত্র দ্বারা খায় আর কাফির সাত অন্ত্র দ্বারা খায়।
মুসনাদ আহমদ, বুখারী-মুসলিম, তিরমিযী, মুসলিম- রিওয়ায়াতঃ ইবন উমর (রা); মুসনাদ আহমদ, মুসলিম- রিওয়ায়াতঃ জাবির (রা); মুসনাদ আহমদ, বুখারী-মুসলিম, ইবনে মাজাহ- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা); মুসলিম, ইবন মাজাহ- রিওয়ায়াতঃ আবু মূসা (রা)
671 – “المؤمن يشرب في معى واحد، والكافر يشرب في سبعة أمعاء”. (حم م ت عن أبي هريرة) .
৬৭১. মুমিন এক অন্ত্র দ্বারা পান করে আর কাফির সাত অন্ত্র দ্বারা পান করে ।
মুসনাদ আহমদ, মুসলিম, তিরমিযী- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা);
এক মুমিন আরেক মুমিনের আয়না
672 – ” المؤمن مرآة المؤمن”. (طس والضياء عن أنس) .
৬৭২. মুমিন মুমিনের আয়না
তাবরানী-আউসাত, যিয়া- রিওয়ায়াতঃ আনাস (রা)
673 – “المؤمن مرآة المؤمن والمؤمن أخو المؤمن يكف عليه ضيعته ويحوطه من ورائه “. (خد، د عن أبي هريرة) .
৬৭৩. মুমিন মুমিনের আয়না আর মুমিন মুমিনের ভাই। তারা একে অপরকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং তার অনুপস্থিতে তাকে রক্ষা করে।
বুখারী-আল আদাব, আবু দাউদ- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা);
মুমিন মুমিনের শক্তি
674 – “المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضا”. (ق ت ن عن أبي موسى) .
৬৭৪. এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য ইমারতসদৃশ যার এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে।
বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী- রিওয়ায়াতঃ আবু মূসা (রা);
675 – “إذا لقي المؤمن كان كهيئة البناء يشد بعضه بعضا”. (طب عن أبي موسى) .
৬৭৫. যখন এক মুমিন অপর মুমিনের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন তাদের উদাহরণ হল ইমারতের মত, যার এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে।
তাবরানী-কাবীর- রিওয়ায়াতঃ আবু মূসা (রা)
ইমানদার ব্যক্তি সবার জন্য নিরাপদ
676 – “المؤمن من أمنه الناس على أموالهم وأنفسهم والمهاجر من هجر الخطايا والذنوب”. (هـ عن فصالة) .
৬৭৬. সে-ই মুমিন যার থেকে লোকেরা নিজেদের জান ও মালের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত বোধ করে। আর মুহাজির হল সে, যে গুনাহ পরিত্যাগ করে।
সুনান ইবনে মাজাহ- রিওয়ায়াতঃ ফাযালাহ (রা)
মুমিন যেভাবে মৃত্যুবরণ করে
677 – “المؤمن يموت بعرق الجبين” (حم ت ن هـ ك عن بريده) .
৬৭৭. মুমিন ললাটের ঘামের সাথে মৃত্যুবরণ করে।
মুসনাদ আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, হাকীম-আর মুস্তাদরাক – রিওয়ায়াতঃ বুরায়দা (রা)
মুমিন হৃদ্যতা পোষণকারী
678 – “المؤمن يألف ولا خير فيمن لا يألف ولا يؤلف”. (حم عن سهل بن سعد) .
৬৭৮. মুমিন ব্যক্তি বন্ধুত্ব ও ভালবাসা পোষণকারী হয়। আর যে ব্যক্তি বন্ধুবৎসল ও ভালবাসা পোষণকারী হয় না, আর নিজেও এমন হয় যে তার প্রতি কেউ বন্ধুত্ব ও ভালবাসাপোষণ করে না, তার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই।
মুসনাদ আহমদ- রিওয়ায়াতঃ সাহল ইবনে সাদ (রা)
679 – “المؤمن يألف ويؤلف ولا خير فيمن لا يألف ولا يؤلف وخير الناس أنفعهم للناس”. (قط في الأفراد والضياء عن جابر) .
৬৭৯. মুমিন ব্যক্তি নিজেও বন্ধুত্ব ও ভালবাসা পোষণকারী হয় আর অন্যরাও তার প্রতি বন্ধুত্ব ও ভালবাসা পোষণ করে। আর যে ব্যক্তি কারো সাথে মহব্বত ও বন্ধুত্ব পোষণ করে না, আর না তার নিজের প্রতি কেউ মহব্বত ও বন্ধুত্ব পোষণ করে, তবে তার মধ্যে কোন কল্যণ নেই।
দারাকুতনী-আল আফরাদ, যিয়া- রিওয়ায়াতঃ জাবির (রা)
আত্ম-মর্যাদাবোধ
680 – ” المؤمن يغار والله أشد غيرة”. (م عن أبي هريرة) .
৬৮০. মুমিন ব্যক্তি আত্ম-মর্যাদাবোধসম্পন্ন হয়, আর আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশী আত্ম-মর্যাদাবোধসম্পন্ন।
মুসলিম- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
মুমিন হয় নম্র ভদ্র
681 – “المؤمن غر كريم، والفاجر خب لئيم”. (د ت ك عن أبي هريرة) .
৬৮১. মুমিন ব্যক্তি হয় সহজ-সরল, নম্র-ভ্রদ্র আর কাফির হয় পাপাচারী ও শঠ।
আবু দাউদ, তিরমিযী, হাকীম-আল মুস্তাদরাক- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
মুমিন সর্বাবস্থায় কল্যাণের উপর থাকে
682 – “المؤمن بخير على كل حال تنزع نفسه من بين جنبيه وهو يحمد الله”. (ن عن ابن عباس) .
৬৮২. মুমিন সর্বাবস্থায় কল্যাণের উপর থাকে। তার পার্শ্বদ্বয় থেকে তার আত্মা বের করা হয় অথচ তখনও সে আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকে।
নাসাঈ – রিওয়ায়াতঃ ইবনে আব্বাস (রা)
ইমানদার ব্যক্তি অপরের ব্যথায় ব্যথিত হয়
683 – ” المؤمن من أهل الإيمان بمنزلة الرأس من الجسد يألم المؤمن لأهل الإيمان كما يألم الجسد لما في الرأس”. (حم عن سهل بن سعد) .
৬৮৩. ইমানদারদের মধ্যে মুমিনের দৃষ্টান্ত হল দেহের মধ্যে মাথার মত। মুমিন ব্যক্তি ইমানদারের (কষ্টের) জন্য এমনভাবে ব্যথিত হয়, যেভাবে মাথার ব্যথার কারনে পুরো শরীর কষ্ট অনুভব করে।
মুমিনের গুনাহ ক্ষমা করা হয়
মুসনাদ আহমদ- রিওয়ায়াতঃ সাহল ইবনে সাদ (রা)
684 – “المؤمن يكفر” (ك عن سعد) .
৬৮৪. মুমিনের গুনাহর কাফফারা হয়ে যায়।
হাকীম-আল মুস্তাদরাক – রিওয়ায়াতঃ সা’দ (রা)
মুমিন বান্দা হালকা থাকে
685 – “المؤمن يسير المؤنة”. (حل هب عن أبي هريرة) .
৬৮৫. মুমিন তার বোঝা হালকা রাখে।
আবু নুআইম-হিলইয়াহ, বায়হাকী-শুআবুল ইমান – রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
যে মুমিন মানুষের দেয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করে
686 – “المؤمن الذي يخالط الناس ويصبر على أذاهم أفضل من المؤمن الذي لا يخالط الناس ولا يصبر على أذاهم”. (حم خد ق هـ عن ابن عمر) .
৬৮৬. যে মুমিন মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকে এবং তাদের দেয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করে, সে ঐ মুমিন হতে উত্তম- যে লোকদের থেকে দূরে থাকে এবং তাদের দেয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করে না।
মুসনাদ আহমদ, বুখারী-আল আদাব, বায়হাকী, ইবনে মাজাহ – রিওয়ায়াতঃ ইবনে উমর (রা)
অপরের কল্যাণ কামনা
687 – “المؤمن أخو المؤمن لا يدع نصيحته على كل حال”. (ابن النجار عن جابر) .
৬৮৭. এক মুমিন আরেক মুমিনের ভাই, যে তার কল্যাণ কামনার ব্যাপারে কখনো বিরক্ত হয় না।
ইবনে নাজ্জার – রিওয়ায়াতঃ জাবের (রা)
দুনিয়ার কষ্ট মুমিনের গুনাহর কাফফারা
688 – “المؤمن لا يثرب عليه بشيء أصابه في الدنيا وإنما يثرب على الكافر”. (طب عن ابن مسعود)
৬৮৮. ইমানদার ব্যক্তির দুনিয়াতে যে কষ্টই মিলে না কেন, তাতে তার কোন আফসোস নেই (কারন তা গুনাহর কাফফারা)। আফসোস তো কাফিরের জন্য।
তাবরানী-কাবীর – রিওয়ায়াতঃ ইবনে মাসউদ (রা)
ইমানদার ব্যক্তি বুঝমান হয়
689 – “المؤمن كيس فطن” حذر. (القضاعي عن أنس) .
৬৮৯. ইমানদার ব্যক্তি আকলমন্দ, সমঝদার ও হুশিয়ার থাকে।
আল কাযায়ী – রিওয়ায়াতঃ আনাস (রা)
মুমিন ব্যক্তি সহজ সরল হয়
690 – “المؤمن هين لين حتى تخاله من اللين أحمق”. (هب عن أبي هريرة) .
৬৯০.মুমিন ব্যক্তি সহজ সরল ও নম্র হয়। এমনকি তার সরলতা ও নম্রতার কারণে তাকে তোমার বোকা মনে হতে পারে।
বায়হাকী-শুআবুল ইমান – রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
691 – “المؤمن واه راقع فالسعيد من مات على رقعه”. (البزار عن جابر) .
৬৯১. ইমানদার ব্যক্তি ক্ষতিহীন ও সাদামাটা স্বভাবের হয়। আর যে ব্যক্তি এই অবস্থার উপর দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় সে কতইনা সৌভাগ্যবান।
বাযযার – রিওয়ায়াতঃ জাবির (রা)
ইমানদার ব্যক্তি উপকারী হয়
692 – “المؤمن منفعة إن ماشيته نفعك، وإن شاورته نفعك وإن شاركته نفعك وكل شيء من أمره منفعة”. (حل عن ابن عمر) .
৬৯২.মুমিন বরারবর উপকারী হয়। যদি তুমি তার সাথে চল সে তোমাকে উপকার করবে। যদি তার সাথে পরামর্শ কর তবে সে তোমার উপকার করবে। যদি তার সাথে অংশীদারিত্ব কর তবে সে তোমার উপকার করবে। মোটকথা তার সব কাজেই উপকার রয়েছে।
হিলইয়াহ – রিওয়ায়াতঃ ইবনে উমর (রা)
মুমিন ব্যক্তি উটের মত সরল
693 – “المؤمنون هينون لينون كالجمل الأنف إن قيد انقاد وإن أنيخ على صخرة استناخ”. (ابن المبارك عن مكحول مرسلا) ، (هب عن ابن عمر) .
৬৯৩. মুমিন ব্যক্তি বেরিয়ে পড়া উটের মত সহজ সরল ও নম্র স্বভাবের হয়। যদি তাকে হাঁক দেওয়া হয় তবে আনুগত্যের সাথে চলতে থাকে। আর যদি কোন শক্ত ভূমিতে বসিয়ে দেয়া হয় তবে বসে থাকে।
ইবনুল মুবারক- রিওয়ায়াতঃ মাকহুল থেকে মুরসালরুপে; শুআবুল ইমান- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
মুমিন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত ব্যক্তির মত
694 – “المؤمنون كرجل واحد إن اشتكى رأسه تداعى له سائر الجسد بالحمى والسهر”. (م عن النعمان بن بشير) .
৬৯৪. মুমিনদের উদাহরণ একজন ব্যক্তির মত। যদি তার মাথায় ব্যথা হয় তখন সমস্ত শরীর জ্বর ও অনিদ্রায় ভোগে।
মুসলিম – রিওয়ায়াতঃ নুমান ইবনে বাশীর (রা)
695 – “المؤمنون كرجل واحد إن اشتكى رأسه اشتكى كله وإن اشتكى عينه اشتكى كله”. (حم م عن النعمان بن بشير)
৬৯৫. মুমিনদের উদাহরণ একজন ব্যক্তির মত। যদি তার মাথায় ব্যথা হয় তখন সমস্ত শরীরে কষ্ট দেখা দেয়। আর যখন চোখে ব্যথা হয় তখনও সাড়া শরীরে কষ্ট প্রকাশ পায়।
মুসনাদ আহমদ, সহিহ মুসলিম- রিওয়ায়াতঃ নুমান ইবনে বাশীর (রা)
মুমিন ব্যক্তি কাউকে ধোঁকা দেয় না
696 – “الإيمان قيد الفتك لا يفتك مؤمن”. (تخ د ك عن أبي هريرة عن الزبير وعن معاوية) .
৬৯৬. ইমানের দাবী হল কাউকে ধোঁকা দিয়ে হত্যা না করা। অতএব কোন মুমিন গুপ্ত হত্যা করবে না।
বুখারী-আত তারীখ, আবু দাউদ, হাকীম-আল মুস্তাদরাক- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
ইমানদার ব্যক্তি অকল্পনীয় স্থান থেকে রিযিক লাভ করে
697 – “أبى الله أن يرزق عبده المؤمن إلا من حيث لا يحتسب”. (فر عن أبي هريرة) (هب عن علي) .
৬৯৭. আল্লাহ তাআলা এটা ইচ্ছা করেছেন যে, মুমিন বান্দাকে এমন স্থান থেকে রিযিক দিবেন যার কল্পনাও সে করে না।
দায়লামী-মুসনাদ আল ফিরদাউস- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরারযরা (রা); বায়হাকী-শুআবুল ইমান- রিওয়ায়াত- আলী (রা)
আল্লাহ তাআলা মুমিনের বিপদ দূর করেন
698 – “أبى الله أن يجعل للبلاء سلطانا على بدن عبده المؤمن”. (فر عن أنس) .
৬৯৮. আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করেছেন যে, মুমিনের দেহে কোন বিপদ ও কষ্টের চিন্হ অবশিষ্ট রাখবেন না।
দায়লামী-মুসনাদ আল ফিরদাউস- রিওয়ায়াতঃ আনাস (রা)
নেককাজে খুশি হওয়া আর মন্দ কাজে দুঃখিত হওয়া
699 – “إذا سرتك حسنتك وساءتك سيئتك فأنت مؤمن”. (حم حب طب ك هب والضياء عن أبي أمامة) .
৬৯৯. যখন তোমার নেক কাজ তোমাকে আনন্দ দিবে এবং মন্দ কাজ কষ্ট দিবে, তখন তুমি মুমিন।
মুসনাদ আহমদ, সহিহ ইবনে হিব্বান, তাবরানী-কাবীর, হাকীম-আল মুস্তাদরাক, বায়হাকী-শুআবুল ইমান, যিয়া- রিওয়ায়াতঃ আবু উমামা (রা)
700 – “من سرته حسنته وساءته سيئته فهو مؤمن” (طب عن أبي موسى) .
৭০০. যার নেক কাজ তাকে আনন্দ দেয় এবং মন্দ কাজ কষ্ট দেয় তখন সে মুমিন।
তাবরানী-কাবীর- রিওয়ায়াতঃ আবু মূসা (রা)
কখনো কেখনো প্রশংসা শুনে মুমিনের ইমান বাড়ে
701 – “إذا مدح المؤمن في وجهه ربا الإيمان في قلبه”. (طب ك عن أسامة بن زيد) .
৭০১. মুমিনকে তার মুখের উপর প্রশংসা করা হয়, আর তার অন্তরে ইমান বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।
তাবরানী-কাবীর, হাকীম-আল মুস্তাদরাক- রিওয়ায়াতঃ উসামা বিন যায়দ (রা)
সবচেয়ে বেশী সচেতন যে
702 – “أعظم الناس هما المؤمن يهتم بأمر دنياه وأمر آخرته”. (هـ عن أنس) .
৭০২. লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী চিন্তিত (সচেতন) ঐ মুমিন, যে তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয় বিষয়ে চিন্তা করে।
ইবনে মাজাহ- রিওয়ায়াতঃ আনাস (রা)
যার চরিত্র উত্তম
703 – “أفضل المؤمنين أحسنهم خلقا”. (هـ ك عن ابن عمر) .
৭০৩. ইমানদারদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ঐ ব্যক্তি যার চরিত্র সবচাইতে উত্তম।
ইবনে মাজাহ, হাকীম-আল মুস্তাদরাক- রিওয়ায়াতঃ ইবনে উমর (রা)
সবচেয়ে উত্তম ইমান ঐ ব্যক্তির
704 – “أفضل المؤمنين إيمانا الذي إذا سأل أعطي وإذا لم يعط استغنى”. (خط عن ابن عمرو) .
৭০৪. ইমানদারদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ইমান ঐ ব্যক্তি, যখন সে (আল্লাহর কাছে) চায় তখন তাকে প্রদান করা হয়। আর যদি লোকদের পক্ষ থেকে তাকে না দেওয়া হয়, তাহলে সে অমুখাপেক্ষী থাকে।
খতীব-আত তারীখ- রিওয়ায়াতঃ ইবনে উমর (রা)
ইমানদার ব্যক্তি নম্রতার সাথে ক্রয় বিক্রয় করে
705 – أفضلُ المُؤْمِنينَ رَجُلٌ سَمْحُ البَيْعِ سَمْحُ الشِّرَاءِ سَمْحُ القَضاءِ سَمْحُ الاقْتِضاءِ. (طس عن أبي سعيد)
৭০৫. ইমানদারদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ঐ ব্যক্তি যে কোন কিছু ক্রয় করে তো নম্রতার সাথে ক্রয় করে, আর বিক্রয় করে তো নম্রতার সাথে বিক্রয় করে এবং যখন কোন ফয়সালা করে তো নম্রতার সাথে করে।
তাবরানী-আউসাত- রিওয়ায়াতঃ আবু সাঈদ (রা)
মুমিনের নিকট শয়তান উপহাসের পাত্র
706 – إنّ المُؤْمِنَ يُنْضِي شَيْطانَهُ كَمَا يُنْضِي أحَدُكمْ بَعِيرَهُ فِي السّفَرِ (حم والحكيم وَابْن أبي الدُّنْيَا فِي مكايد الشَّيْطَان) عَن أبي هُرَيْرَة
৭০৬. মুমিন শয়তানের সাথে এভাবে উপহাস করে যেভাবে সফরে কেউ নিজের উটের সাথে করে।
মুসনাদ আহমদ, হাকীম, ইবনে আবিদ দুনইয়া-মাকায়িদুশ শযতান- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
একে অপরের জন্য ব্যথিত হওয়া
707 – “إن حقا على المؤمنين أن يتوجع بعضهم لبعض كما يألم الجسد للرأس”. (أبوالشيخ في التوبيخ عن محمد بن كعب مرسلا) .
৭০৭. মুমিনের জন্য অবশ্যক হল একে অপরের জন্য ব্যথিত হওয়া, যেভাবে সারা শরীর শুধুমাত্র মাথার ব্যথাতেই অসুস্থ হয়ে যায়।
আবুশ শায়খ-আত তাওবীখ- রিওয়ায়াতঃ মুহাম্মদ বিন কাব থেকে মুরসালরুপে (রা)
আমলের ব্যাপারে মৃমিনের দৃঢ়তা
708 – “تجد المؤمن مجتهدا فيما يطيق متلهفا على ما لا يطيق”. (حم في الزهد عن عبيد بن عمر مرسلا) .
৭০৮. মুমিনকে তুমি দেখবে যে, সে যেই আমলের শক্তি রাখে তার মধ্যে চূড়ান্ত চেষ্টা-সাধনা করতে। আর যেটার শক্তি রাখে না তার জন্য আফসোস করতে।
আহমদ-আয যুহুদ- রিওয়ায়াতঃ উবায়দ বিন উমর থেকে মুরসালরুপে (রা)
লাঠি ব্যবহার করা সুন্নাত
709 – “حمل العصا علامة المؤمن، وسنة الأنبياء”. (فر عن أنس) .
৭০৯. লাঠি ব্যবহার করা মুমীনের আলামত এবং সমস্ত নবীদের সুন্নত।
দায়লামী-মুসনাদ আল ফিরদাউস- রিওয়ায়াতঃ আনাস (রা)
মুমিনের সকল কাজই কল্যাণকর
710 – “عجبا لأمر المؤمن إن أمره كله خير وليس ذلك لأحد إلا للمؤمن إن أصابته سراء شكر وكان خير له إن أصابته ضراء صبر فكان خيرا له”. (حم م عن صهيب) .
৭১০. মুমিনের বিষয় আশ্চর্যজনক, তার সকল কাজই কল্যাণকর। এটা শুধু মুমিনেরই হয়ে থাকে। যদি সে সুখ শান্তি লাভ করে তাহলে আল্লাহর শোকর আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি তার কোন মুসিবত পৌঁছে তাহলে সে ধৈর্যধারণ করে, যা তার জন্য কল্যাণকর।
মুসনাদ আহমদ, মুসলিম- রিওয়ায়াতঃ সুহায়ব (রা)
মুমিনের মর্যাদা
711 – “قال الله تعالى عبدي المؤمن أحب إلي من بعض ملائكتي”. (طس عن أبي هريرة) .
৭১১. আমার মুমীন বান্দা কতক ফেরেশতা থেকেও আমার নিকট বেশী প্রিয়।
তাবরানী-আউসাত- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
712 – “المؤمن أكرم على الله من بعض ملائكته “. (هـ عن أبي هريرة) .
৭১২. মুমীন বান্দা আল্লাহর নিকট কতক ফেরেশতা থেকেও বেশী সম্মানিত।
ইবনে মাজাহ- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
713 – “ليس شيء أكرم على الله تعالى من المؤمن”. (طس عن ابن عمر)
৭১৩. আল্লাহর নিকট মুমিন থেকে বেশী প্রিয় আর কিছু নেই।
তাবরানী-আউসাত- রিওয়ায়াতঃ ইবনে উমর (রা)
ইমানদার ব্যক্তি মিষ্টান্ন পছন্দ করে
714 – “قلب المؤمن حلو يحب الحلاوة”. (هب عن أبي أمامة) (خط عن أبي موسى) .
৭১৪. মুমিনের অন্তর মিষ্টান্ন দ্রব্য পছন্দ করে।
বায়হাকী-শুআবুল ইমান- রিওয়ায়াতঃ আবু উমামা (রা); খতীব-আত তারীখ- রিওয়ায়াতঃ আবু মূসা (রা)
ইমানদার ব্যক্তির চারটি শত্রু
715 – “للمؤمن أربعة أعداء مؤمن يحسده ومنافق يبغضه وشيطان يضله وكافر يقاتله”. (فر عن أبي هريرة) .
৭১৫. মুমিনের চার শত্রু রয়েছে। মুমিন যে তার প্রতি ঈর্ষা পোষণ করে। মুনাফিক যে তার প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে। শযতান যে তাকে পথভ্রষ্ট করতে চায়। কাফির যে তাকে হত্যা করতে চায়।
দায়লামী-মুসনাদ আল ফিরদাউস- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
মুমিনের অসৎ প্রতিবেশী থাকবেই
716 – “ما كان ولا يكون إلى يوم القيامة مؤمن إلا وله جار يؤذيه”. (فر عن علي) .
৭১৬. কিয়ামত পর্যন্ত না কোন মুমিন আছে আর না থাকবে, তবে তার ক্ষতিকারী প্রতিবেশী অবশ্যই থাকবে।
দায়লামী-মুসনাদ আল ফিরদাউস- রিওয়ায়াতঃ আলী (রা)
ইমানদার ব্যক্তিকে কষ্ট প্রদানকারী থাকবেই
717 – “لو كان المؤمن في جحر ضب لقيض الله له ما فيه من يؤذيه”. (طس هب عن أنس) .
৭১৭. মুমিন যদি কোন সমুদ্রে কোন কাঠের উপরও বসে থাকে, তবে সেখানেও আল্লাহ তার জন্য কোন কষ্ট প্রদানকারী সৃষ্টি করে দিবেন।
তাবরানী-আল আউসাত, শুআবুল ইমান- রিওয়ায়াতঃ আনাস (রা)
718 – “لو كان المؤمن على قصبة في البحر لقيض الله له من يؤذيه”. (ش عن … ) .
৭১৮. মুমিন যদি কোন গর্তেও প্রবেশ করে, তবে সেখানেও আল্লাহ তার জন্য কোন কষ্ট প্রদানকারী সৃষ্টি করে দিবেন।
ইবনে আবী শায়বাহ- রিওয়ায়াতঃ [সালামাহ বিন কুহায়ল]
719 – “لم يكن مؤمن ولا يكون إلى يوم القيامة إلا وله جار يؤذيه”. (أبوسعيد النقاش في معجمه وابن النجار عن علي) .
৭১৯. কিয়ামত পর্যন্ত না কোন মুমিন আছে আর না থাকবে, তবে তার ক্ষতিকারী প্রতিবেশী অবশ্যই থাকবে।
আবু সাঈদ আন নাক্কাশ-আল মুজাম, ইবনে নাজ্জার- রিওয়ায়াতঃ আলী (রা)
মুমিনের মধ্যে যেসব দোষ থাকতে পারে না
720 – “ليس المؤمن بالطعان ولا اللعان ولا الفاحش البذيء”. (حم خد حب ك عن ابن مسعود) .
৭২০. মুমিন খোঁটাদাতা, অভিশাপকারী, অশ্লিলভাষী ও বাচাল হতে পারে না।
মুসনাদ আহমদ, বুখারী-আর আদাব, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাকীম-আল মুস্তাদরাক- রিওয়ায়াতঃ ইবনে মাসউদ (রা)
মুমিন কল্যাণের কথা শুনতে ক্লান্ত হয় না
721 – “لن يشبع المؤمن من خير يسمعه حتى يكون منتهاه الجنة”. (ت حب عن أبي سعيد) .
৭২১. মুমিন কল্যাণের কথা শুনতে ক্লান্ত হয় না যে পর্যন্ত না সে জান্নাতে প্রবেশ করে।
তিরমিযী, সহিহ ইবনে হিব্বান- রিওয়ায়াতঃ আবু সাঈদ (রা)
কোন কিছু ইমানদার থেকে উত্তম নয়
722 – “لا نعلم شيئا خيرا من ألف مثله إلا الرجل المؤمن”.(طس عن ابن عمر) .
৭২২. আমরা কোন হাজার বস্তুকেও মুমীন থেকে উত্তম দেখি না।
তাবরানী-আউসাত- রিওয়ায়াতঃ ইবনে উমর (রা)
মুমিন একই ভুল বারবার করে না
723 – “لا يلدغ المؤمن من جحر مرتين”. (حم ق د هـ عن أبي هريرة) (حم هـ عن ابن عمر) .
৭২৩. মুমিন একই গর্ত থেকে দুইবার দংশিত হয় না।
মুসনাদ আহমদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ রিওয়ায়াতঃ আবু হুরাযরা (রা); মুসনাদ আহমদ, ইবনে মাজাহ- রিওয়ায়াতঃ ইবনে উমর (রা)
যে পরস্পরে দয়ার্দ্র
724 – “أفضل الناس مؤمن بين كريمين”. (طب عن كعب بن مالك)
৭২৪. মানুষের মধ্যে উত্তম ঐ মুমিন যে পরস্পরে দয়ার্দ্র।
তাবরানী-কাবীর- রিওয়ায়াতঃ কাব ইবনে মালিক (রা)
725 – “إن روحي المؤمنين تلتقي على مسيرة يوم وليلة وما رأى واحد منهما وجه صاحبه”. (خد طب عن ابن عمر) .
৭২৫. মুমিনদের রূহসমূহ এক রাতের ব্যবধানে পরস্পর মিলিত হয়, যেখানে এখনও তারা কেউ কারো চেহারা দেখেনি।
বুখারী-আল আদাব, তাবরানী-কাবীর রিওয়ায়াতঃ ইবনে উমর (রা)
মুমিনের কতক দৃষ্টান্ত
726 – “مثل المؤمن كمثل العطار إن جالسته نفعك وإن ماشيته نفعك وإن شاركته نفعك”. (طب عن ابن عمر) .
৭২৬. মুমিনের দৃষ্টান্ত হল আতরের মত, যদি তুমি তার সাথে বস তবে সে তোমাকে উপকৃত করবে। যদি সাথে চল তবে উপকৃত করবে। যদি (ব্যবসায়) অংশিদারিত্ব কর তবে উপকৃত করবে।
তাবরানী-কাবীর রিওয়ায়াতঃ ইবনে উমর (রা)
727 – “مثل المؤمن مثل النخلة ما أخذت منها من شيء نفعك”. (طب عن ابن عمر) .
৭২৭.মুমিনের দৃষ্টান্ত খেজুর গাছের মত। তার থেকে যা নেবে তা-ই উপকার দিবে।
তাবরানী-কাবীর রিওয়ায়াতঃ ইবনে উমর (রা)
728 – “مثل المؤمن إذا لقي المؤمن فسلم عليه البنيان يشد بعضه بعضا”. (خط عن أبي موسى) .
৭২৮.এক মুমিন যখন অপর এক মুমিনের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন তার দৃষ্টান্ত হল দেয়ালের মত, যার এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে।
খতীব-আত তারীখ- রিওয়ায়াতঃ আবু মূসা (রা)
729 – ” المؤمن كمثل النحلة لا تأكل إلا طيبا ولا تضع إلا طيبا”. (طب حب عن أبي رزين) .
৭২৯.মুমিনের দৃষ্টান্ত খেজুর গাছের মত, ভাল খায় ও ভাল ফল দেয়।
তাবরানী-কাবীর, সহিহ ইবনে হিব্বান- রিওয়ায়াতঃ আবু রাযীন
730 – “مثل المؤمن مثل السنبله تميل أحيانا وتقوم أحيانا”. (ع عن أنس) .
৭৩০.মুমিনের দৃষ্টান্ত শস্যের মত। যা কখনো ঝুঁকে যায় আবার কখনো দাঁড়িয়ে যায়।
মুসনাদ আবু ইয়ালা- রিওয়ায়াতঃ আনাস (রা)
মুমিন ও মুনাফিকের দৃষ্টান্ত
731 – “مثل المؤمن مثل الخامة تحمر مرة وتصفر أخرى، والكافر كالأرزة” (حم عن أبي) .
৭৩১.মুমিনের দৃষ্টান্ত শস্যের মত। যা কখনো লাল হয় আবার কখনো হলুদ। আর কাফিরের দৃষ্টান্ত সানুবর বৃক্ষের মত (এক অবস্থায় থাকে)
মুসনাদ আবু ইয়ালা- রিওয়ায়াতঃ আনাস (রা)
732 – “مثل المؤمن مثل السنبلة تستقيم مرة وتحمر مرة ومثل الكافر مثل الأرزه لا تزال مستقيمة حتى تخر ولا تشعر”. (حم عن جابر) .
৭৩২.মুমিনের দৃষ্টান্ত শস্যের মত, যা কখনো সোজা ও লাল হয়। আর কাফিরের দৃষ্টান্ত সানুবর বৃক্ষের মত, যা সবসময় সোজা (কঠিন) থাকে। কিন্তু কখনো এভাবে উৎপাটন হয়ে যায় যে, বুঝতেও পারে না।
মুসনাদ আহমদ- রিওয়ায়াতঃ জাবির (রা)
733 – “مثل المؤمن كمثل خامة الزرع من حيث أتتها الريح كفأتها فإذا سكنت اعتدلت وكذلك المؤمن يكفأ بالبلاء ومثل الفاجر كالأرزة صماء معتدلة حتى يقصمها الله إذا شاء”. (ق عن أبي هريرة) .
৭৩৩.মুমিনের দৃষ্টান্ত ক্ষেতের ফসলের মত, বাতাস এসে তাকে ঝুঁকিয়ে দেয়। আর যখন বাতাস থেমে যায় তখন তা সোজা হয়ে যায়। এভাবে মুমিনকে বিপদ মুসিবত ঝুঁকিয়ে দেয। আর কাফিরের দৃষ্টান্ত সানুবর বৃক্ষের মত যা সর্বদা সোজা (কঠিন) থাকে। যখন আল্লাহ চান তখন উপড়িয়ে দেন।
বায়হাকী- রিওয়ায়াতঃ আবু হুরায়রা (রা)
কুরআন পাঠকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত
734 – “مثل المؤمن الذي يقرأ القرأن كمثل الأترجة ريحها طيب وطعمها طيب ومثل المؤمن الذي لا يقرأ القرآن كمثل التمر لا ريح لها وطعمها حلوو مثل المنافق الذي يقرأ القرآن كمثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر، ومثل المنافق الذي لا يقرأ القرآن كمثل الحنظلة ليس لها ريح وطعمها مر”. (حم ق 4 عن أبي موسى) .
৭৩৪.কুরআন পাঠকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত কমলার মত, যার ঘ্রাণও চমৎকার স্বাদও উচ্চমানের। যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের মত, যার কোন ঘ্রাণ নেই তবে এর স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ সুঘ্রাণযুক্ত ফুলের মত, যার সুঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হানযালা ফলের ন্যায়, যার গন্ধও খারাপ স্বাদও তিক্ত।
মুসনাদ আহমদ, বুখারী, মুসলিম, সুনান চতুষ্টয়- রিওয়ায়াতঃ আবু মূসা (রা)

