মুসলমানদের সাহায্য ও তাদের প্রয়োজন পূর্ণ করার ফযীলত

মাকারিমুল আখলাক-ইমাম তাবরানী (রহ)- রিওয়ায়াত ৮২-৯২

بَابُ فَضْلِ مَعُونَةِ الْمُسْلِمِينَ وَالسَّعْيِ فِي حَوَائِجِهِمْ

মুসলমানদের সাহায্য ও তাদের প্রয়োজন পূর্ণ করার ফযীলত

82 – عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ خَلْقًا خَلَقَهُمْ لِحَوَائِجِ النَّاسِ يَفْزَعُ إِلَيْهِمُ النَّاسُ فِي حَوَائِجِهِمْ، أُولَئِكَ الْآمِنُونَ غَدًا مِنْ عَذَابِ اللَّهِ»

৮২.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, কিছু লোক এমন যে, আল্লাহ যাদেরকে মানুষের প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষ প্রয়োজনের সময় তাদের দ্বারস্থ হয়। এরাই ঐ সব লোক যারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ থাকবে। 

83 – عَنْ سَهْلٍ رَفَعَ الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عِنْدَ اللَّهِ خَزَائِنُ الْخَيْرِ وَالشَّرِّ، وَمَفَاتِيحُهَا الرِّجَالُ، فَطُوبَى لِمَنْ جَعَلَهُ اللَّهُ مِفْتَاحًا لِلْخَيْرِ وَمِغْلَاقًا لِلشَّرِّ، وَوَيْلٌ لِمَنْ جَعَلَهُ مِفْتَاحًا لِلشَّرِّ، مِغْلَاقًا لِلْخَيْرِ»

৮৩. হযরত সাহল (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, কল্যাণ ও অকল্যাণের উৎস আল্লাহর হাতে। আর মানুষ হল তার চাবী। ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যাকে আল্লাহ কল্যাণের চাবী আর অকল্যাণের জন্য তালা বানিয়েছেন। আর ধ্বংস ঐ ব্যক্তির জন্য যাকে আল্লাহ অকল্যাণের চাবি আর কল্যাণের তালা বানিয়েছেন।

84 – عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: أَنَا اللَّهُ، قَدَّرْتُ الْخَيْرَ وَالشَّرَّ، فَطُوبَى لِمَنْ جَعَلْتُ مَفَاتِيحَ الْخَيْرِ عَلَى يَدَيْهِ، وَوَيْلٌ لِمَنْ جَعَلْتُ مَفَاتِيحَ الشَّرِّ عَلَى يَدَيْهِ “

৮৪. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিনত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমিই রব! আমিই কল্যাণ অকল্যাণ নির্ধারণ করেছি। সুসংবাদ তার জন্য যার হাতে কল্যানের চাবি রয়েছে আর মন্দ তার জন্য যার হাতে অকল্যাণের চাবি রয়েছে।

85 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ فَرَّجَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً جَعَلَ اللَّهُ لَهُ شُعْلَتَيْنِ مِنْ نُورٍ عَلَى الصِّرَاطِ يَسْتَضِيءُ بِضَوْئِهِمَا عَالَمٌ لَا يُحْصِيهِمْ إِلَّا رَبُّ الْعِزَّةِ»

৮৫. আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি কোন মুমিনের কষ্ট ও বিপদ দূর করে দিবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য পুলসিরাতের উপর নূরেরে এমন দুটি অংশ সৃষ্টি করবেন  যার আলো দ্বারা এত মাখলুক আলো লাভ করবে যার সংখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না।

86 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ فَرَّجَ عَنْ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ عَلَى أَخِيهِ الْمُسْلِمِ سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَاللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا دَامَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ»

৮৬. আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুললাহ (সা) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন মুমিনের বিপদ দূর করে দিবে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করে দিবেন। যে কোন মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতেরে দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ঐ সময় পর্যন্ত সাহায্য করতে থাকেন, যে পর্যন্ত সে তার মুসলিম ভাইকে সাহায্য করতে থাকেন।

87 – عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْخَلْقُ عِيَالُ اللَّهِ، وَأَحَبُّ الْخَلْقِ إِلَى اللَّهِ أَنْفَعُهُمْ لِعِيَالِهِ»

৮৭. আনাস (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুললাহ (সা) ইরশাদ করেন- সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। আর আল্লাহর নিকট ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে বেশী প্রিয়, যে তার পরিবারের প্রতি বেশী উপকারী।

88 – عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَضَى لِأَخِيهِ الْمُسْلِمِ حَاجَةً كَانَ كَمَنْ خَدَمَ اللَّهَ عُمْرَهُ»

৮৮. আনাস (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুললাহ (সা) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের প্রয়োজন পূরণ করল সে যেন সারা জীবন আল্লাহর ইবাদত করল।

89 – عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا»

৮৯. হযরত আবু মূসা আল আশআরী (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- এক ‍মুমিন অপর মুমিনের জন্য ইমারত সদৃশ যার একটি অংশ অপর অংশকে মজবুত করে।

90 – عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَرَاحُمِهِمْ وَتَوَادُدِهِمْ وَتَوَاصُلِهِمْ كَمَثَلِ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى عُضْوٌ مِنْهُ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالْحُمَّى وَالسَّهَرِ»

قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ الطَّبَرَانِيُّ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَنَامِ فَسَأَلْتُ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَشَارَ بِيَدِهِ: صَحِيحٌ ثَلَاثًا وَالْحَدِيثُ صَحِيحٌ

৯০. হযরত নুমান ইবনে বাশীর (রা) বর্ণণা করেন। রাসূলুললাহ (সা) ইরশঅদ করেন- মুমিনগগণ পরস্পরের মধ্যে দয়া ভালবাসা এবং সুসম্পর্কের উদাহরণ একটি অওেঙ্গর মত। যখন তার একটি অঙ্গে কোন কষ্টে পৌঁছে তখন সকল অঙ্গই জ্বর ও অনিদ্রার শিকার হয়।

গ্রন্থকার আবুল কাসিম আত তাবরানী (রহ) বলেন, আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সা) এর যিয়ারত লাভে ধন্য হই। তখন আমি এই হাদীস প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করি। তখন নবী (সা) তিনবার হাত ইশারা করে বলেন, এই হাদীসটি সহিহ।

91 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «أَنْ تُدْخِلَ عَلَى أَخِيكَ الْمُسْلِمِ سُرُورًا، أَوْ تَقْضِيَ عَنْهُ دَيْنًا، أَوْ تُطْعِمَهُ خُبْزًا»

 ৯১. আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা) এর দরবারে আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন আমলটি উত্তম? রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, তোমার মুসলমান ভাইকে খুশি করা, তার ঋণ পরিশোধ করে দেয়া এবং তাকে রুটি আহার করানো।

92 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُؤْمِنُ مِرْآةُ الْمُؤْمِنِ، الْمُؤْمِنُ أَخُو الْمُؤْمِنِ حَيْثُ لَقِيَهُ يَكُفُّ عَلَيْهِ ضَيْعَتَهُ وَيَحُوطُهُ مِنْ وَرَائِهِ»

৯২. আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন। মুমিন মুমিনের আয়না। মুমিন মুমিনের ভাই। সে যেখানেই তাকে পায় তাকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং আড়াল থেকে তার (অনুপস্থিতিতে তার জান মাল ইযযত আব্রু) হিফাযত করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button
error: Content is protected !!