মাকারিমুল আখলাক- ইমাম তাবরানী (রহ)

مَكَارِمُ الْأَخْلَاقِ لِلطَّبَرَانِيِّ
رَبِّ يَسِّرِ الْخَيْرَ، وَاخْتِمْ بِخَيْرٍ لَنَا بِهِ وَلِلْمُسْلِمِينَ آمِينَ
মাকারিমুল আখলাক
(প্রশংসনীয় চরিত্র ও গুণাবলী)
ইমাম তাবরানী (রহ)

بَابُ فَضْلِ تِلَاوَةِ الْقُرْآنِ وَكَثْرَةِ ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى وَالصَّمْتِ إِلَّا مِنْ خَيْرٍ، وَحُبِّ الْمَسَاكِينَ وَمُجَالَسَتِهِمْ
পরিচ্ছেদঃ কুরআন তিলাওয়াত, অধীক পরমিাণে আল্লাহর যিকির, ভাল কথা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন এবং মিসকীনদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে মেলামেশার ফযীলত
1 – عَنْ أَبِي ذَرًّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْصِنِي قَالَ: «أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ، فَإِنَّهَا رَأْسُ أَمْرِكَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «عَلَيْكَ بِتِلَاوَةِ الْقُرْآنِ، وَذِكْرِ اللَّهِ فَإِنَّ ذَلِكَ لَكَ نُورٌ فِي السَّمَوَات وَنُورٌ فِي الْأَرْضِ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «عَلَيْكَ بِالْجِهَادِ فَإِنَّهُ رَهْبَانِيَّةُ أُمَّتِي» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي , قَالَ: «لَا تُكْثِرِ الضَّحِكَ، فَإِنَّهُ يُمِيتُ الْقَلْبَ، وَيَذْهَبُ بِنُورِ الْوَجْهِ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «عَلَيْكَ بِالصَّمْتِ إِلَّا مِنْ خَيْرٍ، فَإِنَّهُ مَرَدَّةٌ لِلشَّيْطَانِ عَنْكَ، وَعَوْنٌ لَكَ عَلَى أَمْرِ دِينِكَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «انْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ دُونَكَ، وَلَا تَنْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكَ، فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ لَا تَزْدَرِيَ نِعْمَةَ اللَّهِ عِنْدَكَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «أَحِبَّ الْمَسَاكِينَ وَجَالِسْهُمْ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «قُلِ الْحَقَّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي , قَالَ: «صِلْ قَرَابَتَكَ، وَإِنْ قَطَعُوكَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي , قَالَ: «لَا تَخَفْ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زِدْنِي قَالَ: «تُحِبُّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ» ، ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى صَدْرِي، فَقَالَ: ” يَا أَبَا ذَرٍّ: «لَا عَقْلَ كَالتَّدْبِيرِ، وَلَا وَرَعَ كَالْكَفِّ، وَلَا حَسَبَ كَحُسْنِ الْخُلُقِ»
১.আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, আমি তোমাকে তাকওয়া অবলম্বন করার উপদেশ দিচ্ছি। কেননা তা সব কাজের মূল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরে উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর যিকিরকে আবশ্যক করে নাও, এটা তোমার আসমান ও যমীনেরর জন্য নূর হবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, জিহাদকে আবশ্যক করে নাও কেননা তা আমার উম্মতের জন্য বৈরাগ্য।
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরে উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, অধিক হেসো না কেননা তা অন্তরকে মৃত করে দেয়ে এবং চেহারাকে অনুজ্জল করে দেয়। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, নীরবতা অবলম্বন কর তবে ভাল কথা ব্যতীত। কেননা নীরবতা তোমার জন্য শয়তান থেকে বাঁচার ঢাল এবং দীনি কাজে তোমার সাহায্যকারী।
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, তুমি তোমার থেকে নীচু স্তরের লোকদের দিকে দেখবে এবং উঁচু স্তরের লোকদের দিকে দেখবে না এটা উত্তম এর থেকে যে তুমি আল্লাহর নিআমত তুচ্ছ মনে করবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরে উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, মিসকীনদেরকে ভালবাসবে এবং তাদের সান্নিধ্য গ্রহণ করবে।
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরে উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, সত্য কথা বলবে যদিও তিক্ত মনে হয়। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরে উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে যদিও তারা ছিন্ন করে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরো উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, আল্লাহর ব্যাপারে কোন তিরষ্কারকারীর তিরষ্কারকে ভয় করবে না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে আরে উপদেশ দিন। তিনি (সা) বললেন, লোকদের জন্য তা-ই পছন্দ করবে নিজের জন্য যা পছন্দ কর।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা) তার হাত মুবারক আমার বুকে মারলেন এবং বললেন তদবীর এর মত কোন বুদ্ধিমত্তা নেই। গুনাহ থেকে বিরত থাকার মত কোন পরহেযগারী নেই এবং উত্তম চরিত্রের মত কোন ভদ্রতা নেই।

بَابُ مَا جَاءَ فِي حُسْنِ الْخُلُقِ
পরিচ্ছেদঃ উত্তম চরিত্রর ফযীলত
2 -عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيَبْلُغُ بِحُسْنِ خُلُقِهِ دَرَجَةَ الصَّائِمِ الْقَائِمِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُكْتَبُ جَبَّارًا وَمَا هَلَكَ إِلَّا أَهْلُ بَيْتِهِ»
২. আলী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তি উত্তম চরিত্রের দ্বারা দিনে রোযা এবং রাতে নামায পড়ার মর্যাদা লাভ করে। আবার কখনো কোন ব্যক্তীকে অহংকারী লিখে দেয়া হয় যদিও সে তার পরিবার ব্যতীত আর কিছুর উপর ক্ষমতাবান নয়।
3 – عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرَّجُلَ لَيُدْرِكُ بِحُسْنِ خُلُقِهِ دَرَجَةَ السَّاهِرِ بِاللَّيْلِ الظَّامِئِ بِالْهَوَاجِرِ»
৩.আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- বান্দা উত্তম চরিত্রের দ্বারা রাতে তাহাজ্জুদ এবং দিনে রোযা রাখার মর্যাদা লাভ করে।
4 – عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ شَيْءٍ أَثْقَلُ فِي الْمِيزَانِ مِنَ حُسْنِ الْخُلُقِ»
৪.আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মীযানে উত্তম চরিত্রের চাইতে বেশী ওজনদার আর কিছুই নেই।
5 – عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخِيَارِكُمْ؟» ، قَالُوا: بَلَى قَالَ: «أَحْسَنُكُمْ أَخْلَاقًا»
৫.জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না? আমরা বললাম, অবশ্যই। তিনি (সা) বললেন, সে হলো ঐ ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম চরিত্রের অধিকারী।
6 – عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَبَّكُمْ إِلَيَّ وَأَقْرَبَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا، الْمُوَطَّئُونَ أَكْنَافًا، الَّذِينَ يَأْلَفُونَ وَيُؤْلَفُونَ، وَإِنَّ أَبْغَضَكُمْ إِلَيَّ وَأَبْعَدَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الثَّرْثَارُونَ، الْمُتَشَدِّقُونِ، الْمُتَفَيْهِقُونَ»
৬. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- কিয়ামতের দিন আমার মজলিসে ঐ ব্যক্তি আমার সবচেয়ে পছন্দনীয় ও নিকটবর্তী হবে, যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী ও বিনয়ী হবে। সে লোকজনকে পছন্দ করে আর লোকজন তাকে পছন্দ করে। আর আমার মজলিসে আমার থেকে সবচেয়ে দূরে ঐ ব্যক্তি হবে, যে অধিক কথা বলে, বক বক করে এবং অহংকারী হয়।
7 – عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: أَنَا خَلَقْتُ الْعِبَادَ بِعِلْمِي، فَمَنْ أَرَدْتُ بِهِ خَيْرًا مَنَحْتُهُ خُلُقًا حَسَنًا، وَمَنْ أَرَدْتُ بِهِ شَرًّا مَنَحْتُهُ خُلُقًا سَيِّئًا “
৭. .আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি বান্দাদেরকে আমার জ্ঞান থেকে সৃষ্টি করেছি। অতএব যার জন্য আমি কল্যাণের ইচ্ছা করি তাকে উত্তম চরিত্র দান করি। আর যার জন্য অকল্যাণের ইচ্ছা করি তাকে মন্দ চরিত্র দান করি।
8 – عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحْسَنَ النَّاسِ إِسْلَامًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا»
৮.জাবির বিন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মানুষের মধ্যে ইসলামে সবেচেয়ে উত্তম ঐ ব্যক্তি যার চরিত্র সবচাইতে উত্তম।
9 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا»
৯.আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- পরিপূর্ণ ইমানদার ঐ ব্যক্তি যার চরিত্র সবচাইতে উত্তম।
10 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا حَسَّنَ اللَّهُ خَلْقَ رَجُلٍ وَخُلُقَهُ، فَيُطْعِمَهُ النَّارَ»
১০.আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- আল্লাহ তাআলা যার সীরাত (স্বভাব–চরিত্র) ও সুরত (চেহার-অবয়ব) সুন্দর করেছেন তাকে দোযখের আগুন ভক্ষণ করবে না।
11 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «حُسْنُ الْخُلُقِ يُذِيبُ الْخَطِيئَةَ كَمَا تُذِيبُ الشَّمْسُ الْجَلِيدَ»
১১.আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- উত্তম চরিত্র গুনাহকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয় যেভাবে সূর্যের তাপ বরফ গলিয়ে দেয়।
12 – عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا خَيْرُ مَا أُعْطِيَ النَّاسُ؟ قَالَ: «إِنَّ النَّاسَ لَمْ يُعْطَوْا شَيْئًا خَيْرًا مِنْ خُلُقٍ حَسَنٍ»
১২.উসামাহ বিন শারীক (রা) থেকে বর্ণিত। সাহাবীগণ রাসূলূল্লাহ (সা)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মানুষকে সবচেয়ে উত্তম জিনিস কোনটি দেয়া হয়েছে? তিনি (সা) বললেন, মানুষেকে সুন্দর স্বভাব- চরিত্রের চাইতে উত্তম কোন কিছু প্রদান করা হয়নি।
13 – عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ، وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا، وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ»
১৩. আবু যার গিফারী (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমকে নবী (সা) নসীহত করেছেন যে, তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় কর। আর যখনই কোন গুনাহ হয়ে যায় সাথে সাথেই কোন নেককাজ করে নাও যাতে ঐ নেককাজ ঐ গুনাহকে মিটিয়ে দেয়। আর মানুষের সাথে উত্তম চরিত্র নিয়ে মেলামেশা কর।

بَابُ فَضْلِ لِينِ الْجَانِبِ، وَسُهُولِ الْأَخْلَاقِ، وَقُرْبِ الْمَأْخَذِ، وَالتَّوَاضُعِ
নম্র মেজাজ, সরল চরিত্র এবং বিনয়ের ফযীলত
14 – عَنْ جَابِرٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ عَلَى مَنْ تَحْرُمُ النَّارُ؟ عَلَى كُلِّ هَيِّنٍ، لَيِّنٍ، سَهْلٍ، قَرِيبٍ»
১৪. জাবির (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলু্ল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, আমি কি তোমাকে ঐ ব্যক্তির ব্যপারে বলব না, যার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম? (সে হলো ঐ ব্যক্তি) যে নম্র, ভদ্র, সহজ-সরল ও মিশুক হয়।
15 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْمُؤْمِنُ هَيِّنٌ، لَيِّنٌ، تَخَالُهُ مِنَ اللِّينِ أَحْمَقَ»
১৫.আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মুমিন ব্যক্তি এমন নম্র ভদ্র হয় যে, তার নম্রতা ও ভদ্রদতার কারণে লোকেরা তাকে বোকা মনে করে থাকে।
16 – عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ السُّلَمِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُؤْمِنُ كَالْجَمَلِ الْأَنِفِ، إِنْ قِيدَ انْقَادَ، وَإِنْ سِيقَ انْسَاقَ، وَإِنْ اسْتُنِيخَ عَلَى صَخْرَةٍ اسْتَنَاخَ»
১৬. ইরবায (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মুমিনের উদাহরণ হলো লাগাম পরিহিত উটের মত। যদি তাকে বেঁধে দেয়া হয় তবে সে দাঁড়িয়ে যায়, যদি চালানো হয় তবে চলতে থাকে, আর যদি বসানো হয় তবে বসে থাকে।
17 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طُوبَى لِمَنْ تَوَاضَعَ فِي غَيْرِ مَنْقَصَةٍ، وَطُوبَى لِمَنْ خَالَطَ أَهْلَ الْفِقْهِ وَالْحِكْمَةِ وَجَانَبَ أَهْلَ الذُّلِّ وَالْمَعْصِيَةِ، وَطُوبَى لِمَنْ أَنْفَقَ الْفَضْلَ مِنْ مَالِهِ وَأَمْسَكَ الْفَضْلَ مِنْ قَوْلِهِ، وَطُوبَى لِمَنْ وَسِعَتْهُ سُنَّتِي، وَلَمْ يَعْدُهَا إِلَى بِدْعَةٍ»
১৭. আবু হুরায়রা(রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য যার দোষ-ত্রুটি না থাকা সত্বেও বিনয় অবলম্ন করে। সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা রাখে। সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য যে নিজের অতিরিক্ত সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে এবং অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে। আর সুসসংবাদ ঔ ব্যক্তির জন্য, যে আমার সুন্নতের অনুসরণ করে আর আমার সুন্নত ছেড়ে বিদআতের অনুসরণ করে না।

بَابُ فَضْلِ الِانْبِسَاطِ إِلَى النَّاسِ، وَلِقَائِهِمْ بِطَلَاقَةِ الْوَجْهِ
মানুষের প্রতি উদারতা এবং তাদের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করার ফযীলত
18 – عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّكُمْ لَا تَسَعُونَ النَّاسَ بِأَمْوَالِكُمْ، وَلَكِنْ لِيَسَعْهُمْ مِنْكُمْ بَسْطُ الْوَجْهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ»
১৮.আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- তোমরা মানুষদেরকে নিজেদের ধন-সম্পদ দ্বারা খুশি করতে পারবে না। তবে তোমাদের হাস্যেজ্জল মুখ ও উত্তম চরিত্র দ্বারা খুশি করতে পারবে।
19 – عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ أَنْ تَكْفَأَ مِنْ دَلْوِكَ فِي إِنَاءِ أَخِيكَ، وَأَنْ تَلْقَاهُ وَوَجْهُكَ مُنْبَسِطٌ»
১৯.জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- উত্তম সাদাকা হলো তুমি তোমার পাত্র থেকে পানি তোমার ভাইয়ের পাত্রে ঢেলে দিবে আর তার সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করবে।

بَابُ فَضْلِ تَبَسُّمِ الرَّجُلِ فِي وَجْهِ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ
মুসলমান ভাইয়ের জন্য মুচকী হাসি দেয়ার ফযীলত
20 – عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِفْرَاغُكَ فِي دَلْوِ أَخِيكَ مِنْ دَلْوِكَ صَدَقَةٌ، وَأَمْرُكَ بِالْمَعْرُوفِ وَنَهْيُكَ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ، وَتَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ، وَهِدَايَتُكَ الطَّرِيقَ مَنْ أَرْضِ الضَّلَالَةِ لَكَ صَدَقَةٌ»
২০.আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলু্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের বালতি ভরে দেয়া সাদকা। তোমার নেককাজের আদেশ করা সাদকা। তোমার মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকা। আর তোমার কোন পথভ্রান্তকে পথ দেখিয়ে দেয়াও সাদকা।

চলবে

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!