তাফসীর আদ দুররে মানসূর সূরা আল বাকারাহ ১২৫

وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ (125)

১২৫.আর স্মরণ কর যখন আমি কাবাগৃহকে মানবজাতির জন্য মিলনকেন্দ্র এবং নিরাপত্তার স্থান করেছিলাম আর বলেছিলাম, তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরুপে গ্রহণ কর। আর ইবরাহীম ও ইসমাঈল থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ই’তিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ। 

ইমাম ইবনে আবী হাতিম- যায়দ বিন আসলাম থেকে বর্ণনা করেন। وَإِذ جعلنَا الْبَيْت দ্বারা উদ্দেশ্য কাবা।

ইমাম ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবী হাতিম- ইবনে আব্বাস (রা) থেকে مثابة للنَّاس এর অর্থ বর্ণনা করেন যে, লোকেরা এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

ইমাম ইবনে জারীর- ইবনে আব্বাস (রা) থকে مثابة للنَّاس প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, এর বিষয়ে তাদের মনের চাহিদা পূর্ণ হয় না। তারা উপস্থিত হয়, যিয়ারত করে অতঃপর ঘরে ফিরে যায় এরপর আবার ফিরে আসে।

ইমাম আব্দ ইবনে হুমায়দ, ইবনে জারীর- আতা (রহ) থেকে وَإِذ جعلنَا الْبَيْت مثابة للنَّاس প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। এর অর্থ হলো লোকেরা সব জায়গা থেকে সেখানে আগমন করে।

ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, আব্দুর রাযযাক, আব্দ ইবন হুমায়দ, ইবনে জারীর, বায়হাকী শুআবুল ইমানে- মুজাহিদ (রহ) থেকে مثابة للنَّاس প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, তারা এর দিকে আসে আর তাদের মনের চাহিদা কখনো পূর্ণ হয় না। তারা হজ করে তারপর ফিরে যায় (আবার আসার ইচ্ছা নিয়ে)। وَأمنا অর্থাৎ যে এর মধ্যে প্রবেশ করে সে নিরাপদ।

ইমাম ইবনে জারীর এবং ইবনে আবী হাতিম- ইবনে আব্বাস (রা) থেকে وَأمنا এর অর্থ করেন যে- أمنا للنَّاس এটা লোকদের জন্য নিরাপত্তার ঘর।

ইমাম ইবনে জারীর- আবুল আলিয়া (রহ) থেকে وَأمنا প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, এটা দুশমন থেকে নিরাপত্তার স্থান, এর মধ্যে হাতিয়ার উঠানো যায় না। জাহিলিয়াতের যুগে এর আশপাশে লোকদেরকে হত্যা ও ছিনতাই করা হত, যেখানে এখানে অবস্থানকারী নিরাপদে থাকত।

أما قَوْله تَعَالَى: {وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مُصَلَّى}

আল্লাহ তাআলার বাণীঃ তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরুপে গ্রহণ কর

ইমাম আব্দ ইবন হুমায়দ- আবু ইসহাক (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। আব্দুল্লাহর সঙ্গীগণ وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مُصَلَّى পড়তেন। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এই স্থানকে নামাযের স্থান বানাতে বলেছেন।

ইমাম সাঈদ ইবনে মানসূর, আহমদ, আল আদনী, দারিমী, বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে আবু দাউদ তার মাসাহেফ-এ, ইবনুল মুনযির, ইবনে মারদুবিয়া, আবু নুআইম হিলইয়াতে, তাহাবী, ইবনে হিব্বান, দারাকুতনী আল আফরাদ-এ এবং বায়হাকী আস সুনান এ- আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উমর (রা) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আল্লাহর ওহীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান বানান। অতএব আল্লাহ তাআলা তখন এই আয়াত নাযিল করেন-

وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مُصَلَّى

 তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান বানাও।-সূরাহ্ আল-বাকারাহ ১২৫

(দ্বিতীয়) পর্দার আয়াত, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সহধর্মীনীদের নিকট ভাল-মন্দ সবাই আসে অতএব এর জন্য যদি আপনি তাদেরকে পর্দা করার নির্দেশ প্রদান করেন (তবে উত্তম হত)। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হয়।

(তৃতীয়) আর একবার নবী (সা) -এর সহধর্মিণীগণ অভিমান সহকারে একত্রে তাঁর নিকট উপস্থিত হন। তখন আমি তাদেরকে বললামঃ

عَسى ربه إِن طَلَّقَكُن أَن يُبدلهُ أَزْوَاجًا خيرا مِنْكُن

যদি নবী (সা) তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন, তাহলে তার প্রতিপালক তাকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম অনুগত স্ত্রী দান করবেন।-সূরাহ্ তাহরীম ৫

তখন আল্লাহ তাআলা সূরা তাহরীমের উক্ত আয়াত আমার বলা শব্দ দ্বারা নাযিল করেন।

ইমাম মুসলিম, ইবনে আবু দাউদ, আবু নুআইম হিলইয়াতে এবং বায়হাকী আস সুনান-এ জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা) তাওয়াফ এর তিন চক্করে রমল করেছেন। আর চার চক্করে ধীরে চলেছেন। এমনকি যখন তাওয়াফ শেষ করেছেন তখন  মাকামে ইবরাহীম এর কসদ করেছেন, তার পিছনে দুই রাকাত নামায আদায় করেছেন। আর এই আয়াত পাঠ করেছেন وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مُصَلَّى

ইমাম ইবনে মাজাহ, ইবনে আবী হাতিম এবং ইবনে মারদুবিয়াহ জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন। মক্কা বিজয়ের দিন যখন রাসূলুল্লাহ (সা) মাকামে ইবরাহীম এর উপর অবস্থান করলেন তখন উমর (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটাই কি মাকামে ইবরাহীম যার আলোচনা আল্লাহ তাআলা وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مُصَلَّى – এই আয়াত এ করেছেন? তিনি (সা) বললেন, হ্যাঁ।

ইমাম তাবরানী এবং খতীব তার ইতিহাসে ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। উমর (রা) আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি মাকামে ইবরাহীকে নামাযের স্থান বানানো হয়। তখন এই আযাত নাযিল হয়-

وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مُصَلَّى

ইমাম আব্দ ইবনে হুমায়দ, তিরমিযী- আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। উমর (রা) আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি মাকামে ইবরাহীম এর পিছনে নামায পড়া হয়। তখন এই আয়াত নাযিল হয় وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مصلى

ইমাম ইবনে আবী দাউদ- মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রথমে মাকামে ইবরাহিম বায়তুল্লাহর সাথে মিলিত ছিল। উমর (রা) আরয করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আপনি এটা বায়তুল্লাহর থেকে একটু সরিয়ে দেন? যাতে লোকেরা এর দিকে ফিরে নামায পড়ে। তখন রাসূলু্ল্লাহ (সা) এমনই করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলেন وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مصلى

ইমাম ইবনে আবু দাউদ, ইবনে মারদুবিয়া- মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উমর (রা) আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি মাকাকে ইবরাহীমের পিছনে নামায আদায় করা হয় (তবে কত ভাল হয়)। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন। প্রথমে মাকামে ইবরাহীম বায়তুল্লার নিকটে ছিল। অতএব রাসূলূল্লাহ (সা) ওটা বর্তমান স্থানে স্থানান্তর করেন। মুজাহিদ (রহ) বলেন,

وَقد كَانَ عمر يرى الرَّأْي فَينزل بِهِ الْقُرْآن

উমর (রা) এর একটি অভিমত প্রকাশিত হলে তার ব্যাপারে কুরআন নাযিল হত।

ইমাম ইবনে মারদুবিয়া আমর বিন মায়মুন থেকে উমর (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন। উমর (রা) মাকামে ইবরাহীম এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আরয করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি আমাদের প্রতিপালকের খলীল ইবরাহীম (আ)-এর মাকাম এর উপর দাড়াব না?  তিনি (সা) বললেন, কেন নয়? উমর (রা) আরয করলেন, আমরা কি ঐ স্থানকে নামাযের স্থান বানাব না? অতএব কিছু সময় অতিবাহিত হল আর এই আয়াত নাযিল হলো

وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مصلى

ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ আল মুসান্নিফ এ, দারাকুতনী আফরাদ এ- আবু মায়সারাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উমর (রা) আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা আমাদের প্রতিপালকের খলীলের মাকাম। আমরা কি এটাকে নামাযের স্থান বানিয়ে নিব না? ঐ সময় এই আয়াত নাযিল হয়।

ইমাম ইবনে আবী হাতিম হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মাকামে ইবরাহীম যার আলোচনা এই আয়াতে রয়েছে তা ওটাই যা এই মসজীদে রয়েছে। আধীক্যতার পর পুরা হজকে মাকামে ইবরাহীম করে দেয়া হয়েছে।

ইমাম আব্দ ইবনে হুমায়দ এবং ইবনে আবী হাতিম- ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ননা করেন যে, তিনি বলেন

مقَام إِبْرَاهِيم الْحرم كُله

মাকামে ইবরাহীম হলো সমগ্র হারাম।

ইমাম ইবনে সা’দ, ইবনুল মুনযির- আয়িশাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-

ألقِي الْمقَام من السَّمَاء

মাকামে ইবরাহীম আসমান থেকে নাযিল করা হয়েছে।

ইমাম ইবনে আবী হাতিম এবং আযরাকী- ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। মাকামে ইবরাহীম জান্নাতের ইয়াকূত পাথরসমূহের একটি পাথর। তার আলো নিভিয়ে দেয়া হয়েছে। যদি তার আলো না নিভান হত তবে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী সবকিছু আলোকিত হয়ে যেত। রুকনও একইরকম।

ইমাম তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, হাকীম, বায়হাকী দালায়িল-এ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, রুকন ও মাকামে ইবরাহীম হচ্ছে জান্নাতের ইয়াকুত পাথর থেকে দুটো ইয়াকুত পাথর। এ দুটির নূর আল্লাহ তা‘আলা নির্বাপিত করে দিয়েছেন। যদি এ দুটির নূর নির্বাপিত করে দেওয়া না হতো তবে তা পূর্ব-পশ্চিমের মাঝে যা কিছু আছে সব আলোকিত করে দিত।

ইমাম হাকীম- আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-

الرُّكْن وَالْمقَام ياقوتتان من يَوَاقِيت الْجنَّة

রুকন ও মাকাম জান্নাতের ইয়াকূত পাথরের মধ্য হতে দুটি ইয়াকূত পাথর।

ইমাম আব্দ ইবনে হুমায়দ, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবী হাতিম সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মাকামে ইবরাহীম এর পাথরকে আল্লাহ তাআলা নম্র করেছেন ও রহমত বানিয়েছেন। ইবরাহীম (আ) তার উপর দাড়াতেন আর ইসমাঈল (আ) পাথর নিয়ে আসতেন (কাবা নির্মানের জন্য)।

ইমাম বায়হাকী শুআবুল ইমান-এ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- রুকন ও মাকাম জান্নাতের দুটি ইয়াকূতের মধ্য হতে। যদি এগুলোর মধ্যে মানুষের গুনাহ স্পর্শ না করত তবে পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে সব আলোকিত করে দিত আর কোন বিপদগ্রস্ত অথবা অসুস্থ ব্যক্তি স্পর্শ করলে আরোগ্য লাভ হত।

ইমাম বায়হাকী- ইবনে উমর (রা) থেকে মারফুরুপে বর্ণনা করেন যে,

وَلَوْلَا مَا مَسّه من انجاس الْجَاهِلِيَّة مَا مَسّه ذُو عاهة إِلَّا شفي وَمَا على وَجه الأَرْض شَيْء من الْجنَّة غَيره

যদি জাহিলিয়াতের অপবিত্রতা এটাকে স্পর্শ না করত তবে কোন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি তা স্পর্শ করলে মুক্তি পেত। আর এটা ব্যতীত পৃথিবীতে জান্নাতের আর কিছু নেই।

ইমাম আল জানাদী ফাযাযেলে মাক্কায় সাঈদ ইবনুল মুসায়িব (রহ) থেকে বর্ণনা করেন-

الرُّكْن وَالْمقَام حجران من حِجَارَة الْجنَّة

রুকন আর মাকাম জান্নাতের পাথরসমূহের মধ্য হতে দুটি পাথর।

ইমাম আযরাকী তারীখে মাক্কায় এবং আল জানাদী মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। কিয়ামতের দিন হিজর এবং মাকাম উহুদ পাথরের মত হবে। তার দুটি চোখ এবং দুটি ঠোঁট হবে। উচ্চ আওয়াযে আহ্বান করবে এবং ঐ ব্যক্তির জন্য সাক্ষী দেবে, যে তার সাথে বিশ্বস্ততার সাথে মিলিত হয়েছে।

ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ ইবনুয যুবায়র (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি লোকদেরকে দেখলেন যে, তারা মাকামকে স্পর্শ করছে। তিনি বললেন, তোমাদেরকে এর নির্দেশ দেয়া হয়নি। তোমাদেরকে শুধু এর পাশে নামায পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইমাম আব্দ ইবন হুমায়দ, ইবনে জারীর, আল মুনযির এবং আল আযরাকী  কাতাদাহ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন।তিনি বলেন, লোকদেরকে মাকামের পাশে নামায পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, স্পর্শ করার নির্দেশ দেয়া হযনি। এই উম্মত এমনসব লৌকিকতা করেছে যা পূর্বের উম্মতরা করেনি। আমাকে কতক লোক বলেছে যে. যারা ইবরাহীম (আ) এর নিশান দেখত, তারা তা ছুঁয়ে ছুঁয়ে মুছে দিয়েছে।

ইমাম আযরাকী নাওফিল বিন মুয়াবিয়াহ আদ দাইলামী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আব্দুল মুত্তালিব এর যামানায় মাকামকে المهاة এর সুরতে দেখেছি। আবু মুহাম্মদ আল খুযায়ী বলেন, المهاة দ্বারা উদ্দেশ্য শুভ্র মোতি।

ইমাম আযরাকী আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা)-কে এই চিহ্নের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম যা মাকামের উপর ছিল। তিনি বললেন, এই পাথর প্রথমে তেমনই ছিল আজ যেমন (চিহ্নহীন) আছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা নিজের নিদর্শনের মধ্য হতে এটিকে এক নিদর্শন করার ইচ্ছা করলেন। যখন আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম (আ)-কে লোকদের মাঝে হজ এর ঘোষণা দেওয়ার কথা বললেন, তখন তিনি এই মাকামের উপড় দাড়ান। তখন এই মাকাম উুঁচ হতে থাকে এমনকি সকল পাহাড় ছাড়িয়ে যায়। অতএব তখন তিনি নিচে দেখেন এবং ঘোষণা দেন, হে লোক সকল! তোমাদের প্রতিপালকের হুকুম কবুল কর। অতএব লোকেরা তা কবুল করে। লোকেরা বললো, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক।’ (সেই সময় থেকে) ইবরাহীম (আ) এর চিহ্ন ঐ পাথরের উপর ছিল যা আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করেছিলেন। তিনি ডানে বায়ে দেখতেন এবং বলতেন হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের হুকুম কবুল কর। যখন তিনি ফারেগ হন তখন সেটাকে কিবলা বানানোর হুকুম দেয়া হয়। অতএব তিনি ওটাকে সামনে রাখেন। তিনি দরজার দিকে ফিরে নামায পড়তেন তখন সেটা তার সামনে থাকত। এটা তার কিবলা ছিল, যে পর্যন্ত আল্লাহ চাইলেন। অতঃপর ইসমআইল (আ) কাবার দরজার দিকে ওটার সামনে নামায পড়তে থাকেন। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সা) আগমন করেন তখন তাকে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামায আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি হিজরতের পূর্বে কিছু সময় এবং হিজরতের পর বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামায পড়তে থাকেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার জন্য কিবলার দিকে ফিরা পছন্দ করলেন যা আল্লাহর নিজের এবং পূর্ববর্তী নবীদের পছন্দনীয় ছিল। অতএব তিনি মদীনায় থেকে মীযাবের দিকে ফিরে নামায পড়তেন। অতঃপর তিনি যখন মক্কায় আগমন করেন তখন যতক্ষন মক্কায় থাকেন ততক্ষন মাকামের দিকে মুখ করে নামায পড়তে থাকেন।  

ইমাম আযরাকী সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেন। মক্কার নিম্ন এলাকায় উমর (রা) বাঁধ বাঁধার পূর্বে উম্মে নাহশাল এর বন্যায় মাকামকে তার নিজ স্থান থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। আর কারো জানা ছিল না যে, তার আসল স্থান কোথায়। উমর (রা) তাশরীফ আনেন এবং জিজ্ঞাসা করেন, কে এর জায়গা চিনে? আব্দুল মুত্তালিব বিন আবী ওয়াদাআহ বললেন, আমীরুল মুমিনীন! আমি পরিমাপক দ্বারা এর পরিমাপ করেছিলাম। আমার এ ব্যাপারে এই অনুমান পূর্ব থেকেই ছিল (যে এটা স্থানান্তর হতে পারে কখনো)। এজন্য আমি হিজর থেকে মাকাম পর্যন্ত, রুকন থেকে মাকাম পর্যন্ত এবং কাবার দিক থেকে সব পরিমাপ করে রেখেছি। উমর (রা) বললেন, ঐ মাপ নিয়ে আস। তিনি নিয়ে আসলে সেই মোতাবেক তা যথাস্থানে স্থাপন করা হয়। উমর (রা) বন্যা প্রতিরোধের জন্য বাঁধ বেঁধে দিয়েছিল। সুফিয়ান (রহ) বলেন, এ বিষয়টি আমাদেরকে হিশাম বিন উরওয়াহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মাকামে ইবরাহীম প্রথমে বায়তুল্লাহর এক কোণায় ছিল। অতঃপর এই স্থানে রাখা হয়েছে এখন যেখানে আছে। লোকেরা যে বলে অমুক স্থানে ছিল, এটা ঠিক নয় (বরং উমর (রা) যে মূল স্থান অনুসন্ধান করে স্থাপন করেছেন সেটাই ঠিক)।

ইমাম আযরাকী ইবনে আবী মুলায়কাহ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। মাকামে ইবরাহীম এখন যেখানে আছে জাহিলিয়াতের যুগেও এখানে ছিল। নবী (সা), আবু বকর (রা) এবং উমর (রা) এর যুগেও এখানে ছিল। কিন্তু উমর (রা) এর যুগে বন্যায় এটিকে তার স্থান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। অতঃপর লোকেরা এটাকে কাবার সাথে রেখে দিয়েছে। উমর (রা) তাশরীফ আনেন আর তিনি লোকদেরে উপস্থিতিতে তা নিজের জায়গায় রেখে দেন।

ইমাম বায়হাকী তার সুনান-এ আয়িশাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। নবী (সা) ও আবু বকর (রা) এর যুগে মাকামে ইবরাহীম বায়তুলল্লাহর সংলগ্ন ছিল। অতঃপর উমর (রা) তাকে পিছনে সরিয়ে দেন।

ইমাম ইবনে সা’দ- মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। উমর (রা) ঘোষণা করলেন যে, কে আছে যে জানে যে মাকামের আসল স্থান কোথায়? তখন আবু ওদাআহ বিন ছাবিরাহ আস সাহমী বলেন, আমীরুর মুমিনীন! আমি দরওয়াযা পর্যন্ত তার পরিমাপ করেছিলাম। এমনিভাবে রুকন থেকে রুকনে আসওয়াদ এবং যমযম পর্যন্ত এর পরিমাপ করেছিলাম। উমর (রা) বললেন, ঐ মাপ নিয়ে আস। তিনি নিয়ে আসলে উমর (রা) সেই অনুযায়ী মাকামকে তার যথাস্থানে স্থাপন করেন।

ইমাম হুমায়দী এবং ইবনে নাজ্জার- জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন-

من طَاف بِالْبَيْتِ سبعا وَصلى خلف الْمقَام رَكْعَتَيْنِ وَشرب من مَاء زَمْزَم غفرت لَهُ ذنُوبه كلهَا بَالِغَة مَا بلغت

যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর তাওয়াফসহ চক্কর দেয় অতঃপর মাকামে ইবরাহীম এর পিছনে দুই রাকাত নামায পড়ে এবং যমযমের পানি পান করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন তা যে পরিমানই হোক না কে।

ইমাম আযরাকী আমর বিন শুআইব থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- মানুষ যখন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার ইচ্ছা করে তখন সে আল্লাহর রহমতের মধ্যে ঢুকে যায়। যখন প্রবেশ করে তখন আল্লাহর রহমত তাকে ঘিরে নেয়। অতঃপর প্রত্যেক কদম উঠানো ও রাখার সময় আমলনামায় পাঁচশত নেকী লিখে দেয়া হয় এবং পাঁচশত গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয় এবং পাঁচশত মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়া হয়। অতঃপর যখস সে তাওয়াফ থেকে ফারেগ হয় এবং মাকামে ইবরাহীম এর উপরে এস দুই রাকাত নামাযে পড়ে অর্থাৎ মাকামের পিছনে দুই রাকাত আদায় করে, তখন সে গুনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হয়ে যায় যেভাবে সে ঐ দিন পবিত্র ছিল যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। আর তার জন্য ইসমাঈল (আ) এর সন্তানদের মধ্য হতে দশজন গুলাম আযাদ করার সওয়াব লিখে দেয়া হয়। একজন ফেরেশতা রুকন এর উপর তার অভ্যর্থনা করে এবং বলে নতুনভাবে আমল শুরু কর, তোমার পিছনের সব গুনাহ মাফ হয়ে গিয়েছে এবং নিজের বংশের সত্তরজনের জন্য সুপারিশ কর।

ইমাম আবু দাউদ আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন।

أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لما دخل مَكَّة طَاف بِالْبَيْتِ وَصلى رَكْعَتَيْنِ خلف الْمقَام يَعْنِي يَوْم الْفَتْح

রাসূলুল্লাহ (সা) যখন মক্কা্য় প্রবেশ করেন তখন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন এবং মাকামে ইবরাহীম এর পিছনে দুই রাকাত নামায আদায় করেন। এটা মক্কা বিজয়ের দিনের ঘটনা।

ইমাম বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রা) থেকে বর্ণনা করেন

أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم اعْتَمر فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَصلى خلف الْمقَام رَكْعَتَيْنِ

 রাসূলুল্লাহ (সা) উমরা করেন। অতঃপর বাযতুল্লাহর তাওয়াফ করেন এবং মাকামে ইবরাহীম এর পিছনে দুই রাকাত নামায আদায় করেন।

ইমাম আযরাকী তাল্ক বিন হাবীব থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস এর সাথে হাতিম এ বসা ছিলাম। ছায়া (বেলা) ছোট হয়ে গেল এবং মজলিস খতম হয়ে গেল। এমন সময় আমরা একটি সাপ এর চমক দেখলাম, যে বনী শায়বাহর দরজা দিয়ে এসেছিল। লোকেরা তাকে দেখতে লাগল। সে বায়তুল্লাহর সাত চক্কর দিল অতঃপর মাকামের পিছনে দুই রাকাত নামায আদায় করলো। আমি তার দিকে দাড়িয়ে বললাম, হে উমরা পালনকারী! আল্লাহ তাআলা তোমার ইবাদত পূর্ণ করেছেন। আমাদের যমীনে গুলাম ও নাদান বাচ্চারা আছে। তোমার ব্যাপারে আমরা তাদের থেকে ক্ষতির আশঙ্কা করি। তখস সে বাতহার টীলার উপর নিজের মাথা উঠাল অতঃপর আসমানের দিকে উড়ে গেল এবং আমাদের দৃষ্টির বাইরে চলে গেল।

ইমাম আযরাকী আবু তুফায়ল (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। জাহিলী যুগে যী তুওয়া উপত্যকায় থাকত এক জিন মহীলা। তার একটিই ছেলে ছিল আর সে তাকে অনেক ভালবাসত। ঐ ছেলে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে খুব ভদ্র ছিল। সে বিবাহ করলো এবং স্ত্রীর সাথে রাত্রি যাপন করলো। বিবাহের সপ্তম দিনে সে তার মাকে বললো, আম্মাজান! আমি দিনের বেলায় কাবার তাওয়াফ করতে চাই। তার মা বললো, বৎস! আমি তোমার ব্যাপারে কুরায়শদের নাদান লোকদের ভয় করছি। সে বললো (ভয় করো না) আমি নিরাপদে থাকব। তার মা তাকে অনুমতি দিলে সে সাপের বেশ ধরে কাবার দিকে গেল এবং তাওয়াফ এর সাত চক্কর দিল অতঃপর মাকামের পিছনে দুই রাকাত নামায আদায় করলো। অতঃপর যখন সে ফিরছিল তখন বনী সাহম গোত্রের এক যুবক তারে সামনে এল (এবং তাকে দেখতে পেয়ে সাপ মনে করে) তাকে হত্যা করে ফেললো। এর ফলে মক্কায় দাঙ্গার আগুন জ্বলে উঠলো এমনকি পাহাড়ও দেখা যাচ্ছিল না। আব ‍তুফায়ল (রহ) আরো বলেন, আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, এই্ দাঙ্গা কোন মহান ব্যক্তির মৃত্যুর বদলার জন্যই জ্বলে উঠে। অতএব বনী সাহম গোত্র নিজেদেরে ভূমিতে ভোরবেলা অনেক মৃত লোক দেখতে পেল যাদেরকে জিনেরা হত্যা করেছিল। তার মধ্যে ঐ যুবক ব্যতীত সত্তরজন বৃদ্ধও ছিল।

ইমাম আযরাকী হাসান বসরী (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি এমন কোন শহর জানি না যেখানে আল্লাহ তাআলা নবী (সা)-কে নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন একমাত্র মক্কা ব্যতীত। ইরশাদ করেন وَاتَّخذُوا من مقَام إِبْرَاهِيم مصلى

তিনি বলেন মক্কায় পনরটি স্থানে দুআ কবুল হয়। মুলতাযাম এর পশে। মীযাব এর নীচে। রুকনে ইয়ামানীর পাশে। সাফায়। মারওয়ায়া। সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে।  রুকন ও মাকামের মাঝে। কাবার ভিতরে। মীনায়। মুযদালিফায়। আরফায় এবং তিন জামরাতের পাশে।

وَأما قواه تَعَالَى: {وعهدنا إِلَى إِبْرَاهِيم}

আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আর ইবরাহীম (ও ইসমাঈল) থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম

ইমাম ইবনে জারীর আতা (রহ) থেকে وعهدنا إِلَى إِبْرَاهِيم এর এই অর্থ বর্ণনা করেন। أمرناه অর্থাৎ আমি ইবরাহীমকে নির্দেশ দিয়েছি।

ইমাম ইবনে আবী হাতিম ইবনে আব্বাস (রা) থেকে إِن طهرا بَيْتِي প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, আমার ঘর মূর্তী থেকে পবিত্র রাখ।

ইমাম ইবনে আবী হাতিম মুজাহিদ এবং সাঈদ ইবন জুবায়র (রহ) থেকে এই প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে,

من الْأَوْثَان والريب وَقَول الزُّور والرجس

আমার ঘরকে মূর্তি, সন্দেহ-সংশয়, মিথ্যা কথা এবং নাপাকী থেকে পবিত্র রাখ।

ইমাম আব্দ ইবনে হুমায়দ, ইবনে জারীর কাতাদাহ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। আমার ঘরকে মূর্তী, শিরক এবং মিথ্যা থেকে পবিত্র রাখ। আর والركع السُّجُود দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নামায।

ইমাম ইবনে আবী হাতিম ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। যখন বান্দা দাড়ায় তখন সে তাওয়াফকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। যখন বসে তখন সে ই’তিকাফকারীদের  অন্তুর্ভুক্ত হয় আর যখন নামায পড়তে থাকে তখন সে الركع السُّجُود এর অন্তুর্ভুক্ত হয়।

ইমাম আব্দ ইবনে হুমাযদ সুয়াইদ বিন গাফলাহ থেকে বর্ণনা করেন। যে ব্যক্তী মসজিদে পবিত্র অবস্থায় বসে সে মু’তাকিফ (ই’তিকাফকারী) যে পর্যন্ত না সে বের হয়।

ইমাম আব্দ ইবনে হুমায়দ এবং ইবনে আবী হাতিম সাবিত থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আবব্দুল্লাহ বিন উবায়দ বিন উমায়রকে বললাম যে, আমার খেয়াল হলো যে, আমীরের সাথে কথা বলে মসজীদে হারামে শয়নকারীদের নিষেধ করব। কেননা এরা মসজীদে জুনুবী এবং বে-ওযু হয়ে যায়। আব্দুল্লাহ বললেন, তুমি এমন করো না। কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে এমন লোকদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তারা ই’তিকাফকারী (এর অন্তর্ভুক্ত)।

ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ- আবু বকর বিন আবু মূসা (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। ইবনে আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো তাওয়াফ উত্তম নাকি নামায? তিনি বললেন,

أما أهل مَكَّة فَالصَّلَاة وَأما أهل الْأَمْصَار فالطواف

 মক্কাবাসীদের জন্য নামায উত্তম আর বাহিরের লোকেদের জন্য তাওয়াফ উত্তম।

ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার মতে মুসাফিরের জন্য নামায অপেক্ষা তাওয়াফ উত্তম।

ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। মক্কাবাসীদের জন্য নামায উত্তম আর ইরাকবাসীদের জন্য তাওয়াফ উত্তম।

ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ হাজ্জাজ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আতা (রহ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তোমার জন্য তাওয়াফ উত্তম আর মক্কাবাসীদের জন্য নামায উত্তম।

ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ মুজাহিদ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন

الطّواف أفضل من عمْرَة بعد الْحَج

হজের পর উমরাহ থেকে তাওয়াফ উত্তম।

অপর বর্ণনায় আছে আমার মতে তোমার তাওয়াফ করা উমরার জন্য বের হওয়া থেকে উত্তম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!