ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সাহাবী— “হযরত তাজউদ্দীন রাঃ ( রাজা চেরামান পেরুমল)”

facebook group  ‘ইসলামের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস’ page থেকে
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সাহাবী—
“হযরত তাজউদ্দীন রাঃ (নওমুসলিম রাজা চেরামান পেরুমল)”
_____________________________________________
“চেরামান পেরুমল” উপমহাদেশের সর্বপ্রথম নাগরিক যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পবিত্র; সাহচর্য লাভ করে সাহাবী হবার গৌরব অর্জন করেন।
“চেরামান পেরুমল” নিবাস ছিল ভারত উপমহাদেশে। বর্তমান কেরালা প্রদেশের মালাবার অঞ্চলের ‘কোডুঙ্গোলর’ (Kodungaloor) এলাকায়। তিনি উক্ত অঞ্চলের সম্রাট ছিলেন। একাধারে ২৬ টি বৎসর “চেরামান পেরুমল” রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
পুরো দক্ষিণ ভারতের ২৫০০ মাইলেরও বেশী এলাকা জুড়ে উপকুলীয় এ রাজ্যের সীমানা ছিল বিশাল। অনেক ঐতিহাসিক উনার ইসলাম ধর্ম গ্রহনের কাহিনী লিপিবদ্ধ করেছেন।
প্রাচীন বইয়ের মধ্যে “এম. হামিদুল্লাহ” রচিত “মুহাম্মাদ রসূলুল্লহ” বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ঐতিহাসিক একটি তথ্য ও কেরালার মুসলমানদের কাছে প্রজন্ম পরম্পরায় জনশ্রুতিতে রয়েছে যে-মত—
রাজা চেরামান পেরুমল, ১৭ রজব ৬১৭ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.)-এর আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হতে দেখেন। তিনি তার রাজ্যের ধর্মীয় পুরোহিতদের কাছে এ অদ্ভুত রহস্য জানতে চান।
তবে রাজ্যের ধর্মীয় যাজকরা তাকে কোনো সদুত্তর দিতে সক্ষম হয়নি। পরে আরব, মুসলিম বণিকদের থেকে রাসূল ﷺ এর চন্দ্র দ্বিখন্ডিত করা ঘটনার সত্যতা ও মো’যেযা সম্পর্কে জানতে পারেন রাজা “চেরামন পেরুমল”। অতপর উত্তরসূরিদের কাছে রাজ্যের দায়িত্বভার দিয়ে আরব বণিকদের সঙ্গে, চেরামন পেরুমল মক্কা গমন করেন।
মক্কা গিয়ে চেরামান পেরুমল মহানবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেন।
হযরত আবু বকর (রাঃ) সহ আরও কয়েকজন সাহাবীর উপস্থিতিতে স্বয়ং আল্লাহর হাবীব, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) চেরামন পেরুমলের নাম রাখেন “তাজউদ্দীন”।
রাজা চেরামান পেরুমল, ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ এর জন্য উপঢৌকন হিসেবে দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত আচার নিয়ে গিয়েছিলেন। ভারতীয় এক বাদশাহ কর্তৃক আদার সংমিশ্রণে তৈরী সেই আচার সংক্রান্ত একটা হাদিসও আমরা দেখতে পাই। হাদিস সংকলনকারী হাকিম (রঃ) এর “মুস্তাদরাক” কিতাবে সংকলিত হাদিসটি।
হযরত আবু সাঈদ সা’দ বিন মালিক বিন সিনান আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত—
عن ابى سعيد الخدرى (رضى لله عنه) قال اهدى ملك الهند الى النبى (صلى الله عليه وسلم) جرة فيها زنجبيل فاطعم اصحابه قطعة قطعة واطعمنى منها قطعة
‘ভারতীয় মহারাজ নবীজী (সাঃ) এর জন্য এক বয়াম আচার নিয়ে আসলেন যার মধ্যে আদার টুকরা ছিল। নবীজী (সাঃ) সেই টুকরাগুলা তার সাহাবীদের ভাগ করে দিলেন। আমিও খাবার জন্য একটি টুকরা ভাগে পেয়েছিলাম’।
[মুসতাদরাকে হাকিম— ৭১৯০]
( লন্ডনভিত্তিক ভারতীয় এনসাইক্লোপিডিয়ার বরাতে ব্রিটিশ ও ভারতীয় ইতিহাসবেত্তারা দাবি করেন, হাদিসে উল্লিখিত ভারতীয় রাজা হলেন কেরালার রাজা চেরামান পেরুমল।)
প্রখ্যাত তাবেঈ “হযরত মালিক ইবনে দীনার” এর বোন রাজিয়া’র সাথে রাজা পেরুমল তথা, সাহাবী হযরত তাজউদ্দীন (রাঃ) এর বিয়ে হয়। তিনি সেখানে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ বৎসর অবস্থান করে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এর নির্দেশে ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
হযরত তাজউদ্দীন (রাঃ) এর সাথে ‘মালিক ইবনে দীনার সহ আরও ক’জন ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে দক্ষিণপূর্ব আরবের এক বন্দরে (বর্তমান ওমানের সালালা শহর) অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সেখানেই হযরত তাজউদ্দিন (রাঃ) মৃত্যুবরণ করেন। আজও তার কবর রয়েছে ওমানের সালালা শহরে, মর্যাদাবান এক সাহাবী হিসেবে বিশ্বের মুসলমানদের কাছে সেটি এক অনবদ্য আকর্ষণ।
_____________________________________________
মহান আল্লাহ আমাদের বুঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুন। (আমিন)
জাযাকাল্লাহ খাইরান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!