কানযুল উম্মাল- কিতাবুল আযকার- যিকিরের ফযীলত ২য় অংশ

الإكمال

1845 – “أفضل العباد درجة عند الله يوم القيامة الذاكرون الله كثيرا، قيل ومن الغازي في سبيل الله، قال: لو ضرب بسيفه في الكفار والمشركين حتى ينكسر ويختضب دما لكان الذاكرون الله كثيرا أفضل منه درجة”. (حم ت غريب (ع) وابن شاهين في الذكر عن أبي سعيد) .

কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উঁচু মর্যাদার অধিকারী হবে ঐ সব লোক যারা অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, আল্লাহর পথে জিহাদকারী কে? তিনি বললেন, যে কাফির ও মুশরিকদের সাথে এমনভাবে তলোয়ার চালায় যে, তা ভেঙ্গে যায় এবং রক্ত প্রবাহিত হয়। আল্লাহর যিকিরকারী ব্যক্তি তার চেয়েও উত্তম।

1846 – “أكثرهم لله ذكرا”. (حم طب عن معاذ بن أنس) قال: “سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم أي المجاهدين أعظم أجرا وأي الصائمين أعظم أجرا، وكذا الصلاة والزكاة والحج والصدقة ” قال فذكره.

তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহর যিকির করে।

রাসূলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞাসা করা হলো কোন মুজাহিদ সবচেয়ে বেশী প্রতিদান লাভের যোগ্য এবং কোন রোযাদার সবচেয়ে বেশী প্রতিদান লাভের যোগ্য। আর সাদকার ব্যাপারেও জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) এই সবগুলোর উত্তরে উক্ত ইরশাদ করেন।

1847 – “أكثروا ذكر الله فإنه ليس شيء أحب إلى الله ولا أنجى لعبده من خشيته في الدنيا والآخرة من ذكر الله تعالى، ولو أن الناس اجتمعوا على ما أمروا به من ذكر الله لم يكن مجاهد في سبيل الله وإن الجهاد شعبة من ذكر الله”. (هب وضعفه عن معاذ)

অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির কর। কেননা আল্লাহর নিকট আল্লাহর যিকির থেকে বেশী আর কিছু প্রিয় নয়। আর বান্দার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে (সকল) ভয়-ভীতি থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর যিকির থেকে বেশী আর কিছু নেই। লোকদেরকে যেভাবে যিকির করার হুকুম দেওয়া হয়েছে, যদি তারা এর উপর মজবুত হয়ে যেত তবে আল্লাহর পথে জিহাদ করার কেউ থাকত না।

1848 – “إن لكل شيء صقالة صاقل وإن صقالة القلوب ذكر الله وما من شيء أنجى من عذاب الله ولو أن تضرب بسيفك حتى ينقطع”. (هب عن ابن عمر) .

প্রত্যেক জিনিসের একটি পরিষ্কারক আছে যা তার রং অথবা যে কোন ধরণের নোংড়া কচলে পরিষ্কার করে দেয়। অনুরপ অন্তরের পরিষ্কারক হলো আল্লাহর যিকির। আর আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষাকারী আল্লাহর যিকির থেকে উত্তম কিছু নাই। যদিও তলোয়ার এতটা চালানো হয় যে, তা ভেঙ্গে যায়।

 

1849 – “ألا أخبركم بخير أعمالكم وأزكاها وأرفعها في درجاتكم، وخير ممن أعطى الذهب والورق، وخير من أنه لو غدوتم إلى عدوكم، فضربتم رقابهم وضربوا رقابكم اذكروا الله ذكرا كثيرا”. (هب عن ابن عمر) .

আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে উত্তম আমলের কথা বলব না, যা তোমাদেরকে পরিশুদ্ধ করবে, তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং যা আল্লাহর পথে সোনা-রুপা খরচ করা চেয়েও উত্তম। আর এটাও যে, তোমরা জিহাদের ময়দানে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে শত্রুর গর্দান নেবে আর তারা তোমাদের গর্দান নেবে তা থেকেও উত্তম। তা হলো অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির।

1850 – “لذكر الله بالغداة والعشي أفضل من حطم السيوف في سبيل الله، ومن إعطاء المال سحاء”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن ابن عمر ش عنه موقوفا) .

সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকির করা জিহাদে তলোয়ার ভাঙ্গা এবং অনেক সম্পদ ব্যয় করা থেকেও উত্তম।

1851 – “ما عمل آدمي عملا أنجى له من عذاب الله من ذكر الله، قالوا: ولا الجهاد في سبيل الله؟ قال: ولا الجهاد إلا أن تضرب بسيفك حتى ينقطع ثم تضرب به حتى ينقطع ثم تضرب به حتى ينقطع”.

(ش حم طب عن معاذ) .

কোন বান্দা আল্লাহর আযাব থেকে অধিক রক্ষাকারী আল্লাহর যিকিরের চাইতে উত্তম কোন আমল করতে পারে নি। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করাও নয় কি? তিনি (সা) বললেন, না। এমনকি যদিও তলোয়ার দ্বারা এমনভাবে যুদ্ধ কর যে, তা ভেঙ্গে যায়। অতঃপর আরেকটি দ্বারা যুদ্ধ কর আর তাও ভেঙ্গে যায়। অতঃপর আরেকটি দ্বারা যুদ্ধ কর আর তাও যদি ভেঙ্গে যায়।

1852 – “من عجز منكم عن الليل أن يكابده، وبخل بالمال أن ينفقه، وجبن عن العدو أن يجاهده، فليكثر من ذكر الله”. (طب هب وابن النجار عن ابن عباس) .

তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রাতের (ইবাদতের) কষ্ট সহ্য করতে অক্ষম হয়, ধন-সম্পদ খরচ করতে কুণ্ঠিত হয় এবং শত্রুর সাথে লড়াই করতে পিছপা হয়, তবে তার উচিত অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করা।

1853 – “من هاب منكم الليل أن يكابده، وخاف العدو أن يجاهده وضن بالمال أن ينفقه فليكثر من ذكر الله”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن ابن عباس) .

তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রাতের (ইবাদতের) কষ্ট সহ্য করতে ভয় পায়, শত্রুর সাথে লড়াই করতে ভয় পায় এবং ধন-সম্পদ খরচ করতে কুণ্ঠিত হয়, তবে সে যেন অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করে।

1854 – “من هاله الليل أن يكابده، وبخل بالمال أن ينفقه،وجبن العدو أن يقاتله، فليكثر أن يقول: سبحان الله وبحمده فإنها أحب إلى الله من جبل ذهب وفضة ينفقان في سبيل الله”. (طب وابن شاهين وابن عساكر عن أبي أمامة ولفظ ابن شاهين فإنهما أحب إلى الله من جبل ذهب وفضة ينفقهما في سبيل الله. (وهو ضعيف) .

তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রাতের (ইবাদতের) কষ্ট সহ্য করতে ভয় পায়, ধন-সম্পদ খরচ করতে কুণ্ঠিত হয় এবং শত্রুর সাথে লড়াই করতে পিছপা হয়, তবে তার উচিত অধিক পরিমাণে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী’ পাঠ করা। কেননা তা আল্লাহর নিকট সোনারুপার পাহাড় খরচ করা হতেও উত্তম।

1855 – “ذاكر الله في الغافلين بمنزلة الصابر في الفارين”. (طب عن ابن مسعود) .

গাফিলদের মধ্যে যিকরকারীর দৃষ্টান্ত এমন যেন (যুদ্ধে) পলাতকদের মধ্যে ধৈর্যধারণকারী।

 

1856 – “ذاكر الله في الغافلين كالمقاتل عن الفارين، وذاكر الله في الغافلين كالمصباح في البيت المظلم وذاكر الله في الغافلين يعرف له مقعده، ولا يعذب بعده، وذاكر الله في الغافلين له من الأجر بعدد كل فصيح وأعجم، وذاكر الله في الغافلين ينظر الله إليه نظرة لا يعذبه أبدا، وذاكر الله في السوق له بكل شعرة نور يوم يلقى الله”. (هب عن ابن عمر) .

গাফিলদের মধ্যে যিকরকারীর দৃষ্টান্ত এমন যেন (যুদ্ধে) পলাতকদের মধ্যে ধৈর্যধারণকারী। গাফিলদের মধ্যে আল্লাহর যিকিরকারীর দৃষ্টান্ত এমন, যেমন অন্ধকার ঘরে আলোর প্রদিপ। গাফিলদের মধ্যে আল্লাহর যিকিরকারীকে আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তার ঠিকানা চিহ্নিত করে দেন এবং তারপর তার আযাবকে প্রতিহত করে দেন। গাফিলদের মধ্যে আল্লাহর যিকিরকারীর প্রত্যেক মানুষ ও জীব-জন্তুর সমপরিমাণ প্রতিদান লাভ করেন।গাফিলদের মধ্যে আল্লাহর যিকিরকারীকে আল্লাহ তাআলা এমন নযরে দেখেন যে, এরপর আর তাকে আযাব দেন না। আর বাজারের মধ্যে আল্লাহ তাআলার যিকিরকারীর কিয়ামতের দিন (আল্লাহর সাথে) সাক্ষাতের সময় প্রত্যেক চুলের পরিবর্তে একটি নূর হবে।

1857 – “ذاكر الله في الغافلين، مثل الذي يقاتل عن الفارين، وذاكر الله في الغافلين، كالمصباح في البيت المظلم، وذاكر الله في الغافلين كمثل الشجرة الخضراء في وسط الشجر الذي قد تحات من الصريد، وذاكر الله في الغافلين يغفر الله له بعدد كل فصيح وأعجم، وذاكر الله في الغافلين يعرفه الله عز وجل مقعده من الجنة”. (حل هب وابن صهري في أماليه وابن شاهين في الترغيب وقال هذا حديث صحيح الإسناد حسن المتن غريب الألفاظ وابن النجار عن ابن عمر) .

গাফিলদের মধ্যে যিকরকারীর দৃষ্টান্ত এমন যেন (যুদ্ধে) গাযীদের মধ্যে জিহাদকারী।গাফিলদের মধ্যে আল্লাহর যিকিরকারীর দৃষ্টান্ত এমন, যেমন অন্ধকার ঘরে আলোর প্রদিপ।গাফিলদের মধ্যে আল্লাহর যিকিরকারীর দৃষ্টান্ত এমন, যেমন পাতাঝড়া গাছের মধ্যে সবুজ শ্যামল গাছ।গাফিলদের মধ্যে আল্লাহর যিকিরকারীকে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষ ও জীব-জন্তুর সমপরিমাণ মাগফিরাত করেন।গাফিলদের মধ্যে আল্লাহর যিকিরকারীকে আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তার ঠিকানা চিহ্নিত করে দেন।

1858 – “الذكر يفضل على النفقة في سبيل الله مائة ضعف”. (طب عن معاذ بن أنس) .

যিকির আল্লাহর পথে খরচ করার চাইতে একশতগুণ বেশী প্রতিদানযোগ্য।

1859 – “الذكر خير من الصدقة والذكر خير من الصيام”. (أبو الشيخ عن أبي هريرة) .

যিকির সাদকা থেকে উত্তম। যিকির রোযা থেকেও উত্তম।

1860 – “لو أن رجلا في حجره دراهم يقسمها وآخر يذكر الله لكان الذاكر أفضل”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن أبي موسى) وفيه جابر بن الوازع وروى له مسلم وقال (ن) : منكر الحديث.

যদি কোন ব্যক্তি নিরজের হুজরায় (কামরায়) বসে দিরহাম খরচ করতে থাকে আর অপর ব্যক্তি আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকে, তবে (তাদের মধ্যে) আল্লাহর যিকিরকারী উত্তম।

এই হাদীসে جابر بن الوازع একজন রাবী আছেন, যার থেকে ইমাম মুসলিম (রহ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম নাসাই (রহ) বলেছেন সে منكر الحديث মুনকারুল হাদীস।

1861 – “يفضل الذكر على النفقة في سبيل الله سبعمائة ضعف”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن معاذ بن أنس) وليس في سنده من تكلم فيه سوى ابن لهيعة.

১৮৬১.যিকির আল্লাহর পথে খরচ করার চাইতে সাতশত গুণ বেশী প্রতিদানযোগ্য।

1862 – “إن ما تذكرون من جلال الله وتسبيحه وتحميده وتكبيره وتهليله يتعاطفن حول العرش لهن دوي كدوي النحل يذكرن بصاحبهن أفلا يحب أحدكم أن لا يزال له عند الرحمن شيء يذكر به”. (الحكيم عن النعمان بن بشير)

১৮৬২.যখন লোকেরা তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর এবং তাহলীলের মাধ্যমে আল্লাহর মহত্বের যিকির করে, তখন তা আরশের আশপাশে ঘোরাফেরা করে, মৌমাছির ভনভন শব্দের মত তাদের শব্দ হয়। তারা (আল্লাহর নিকট) তার আলোচনা করে। অতএব এখন কি তোমরা চাওনা যে, তোমাদের এমন কোন আমল হোক যা তোমাদেরকে দয়াময় রহমানের নিকট স্মরণ করাবে।

1863 – “إن الذين يذكرون من جلال الله وتسبيحه وتحميده وتكبيره وتهليله، يتعاطفن حول العرش لهن دوي كدوي النحل يذكرن بصاحبهن أفلا يحب أحدكم أن لا يزال له عند الرحمن شيء يذكر به”. (حم ش طب ك عن النعمان بن بشير) .

১৮৬৩.যখন লোকেরা তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর এবং তাহলীলের মাধ্যমে আল্লাহর মহত্বের যিকির করে, তখন তা আরশের আশপাশে ঘোরাফেরা করে, মৌমাছির ভনভন শব্দের মত তাদের শব্দ হয়। এভাবে তারা তার পাঠকারীর আলোচনা করে থাকে। অতএব এখন কি তোমরা চাওনা যে, তোমাদের এমন কোন আমল হোক যা তোমাদেরকে দয়াময় রহমানের নিকট স্মরণ করাবে।

1864 – “كما لا تلتقي الشفتان على قول لا إله إلا الله، كذلك لا تحجب عن سماء سماء حتى ينتهي إلى العرش لها دوي كدوي النحل تشفع لصاحبها”. (الديلمي عن جابر) .

১৮৬৪.যেভাবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললে ঠোঁট দুটি বন্ধ থাকে না। তেমনি এই কালিমা আকাশে পৌঁছতেও কোন কিছু প্রতিবন্ধক হয় না। এমনকি তা আরশে পৌছে যায়। মৌমাছির ভনভন শব্দের মত তার শব্দ হয়। সে তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করে।

1865 – “أوحى الله تعالى إلى موسى، أتحب أن أسكن معك بيتك فخر لله ساجدا ثم قال: فكيف يا رب تسكن معي في بيتي، فقال: يا موسى أما علمت أني جليس من ذكرني، وحيثما التمسني عبدي وجدني”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن جابر) وفيه محمد بن جعفر المدائني قال أحمد: لا أحدث عنه أبدا عن سلام بن مسلم المدائني متروك عن زيد العمي ليس بالقوي) .

১৮৬৫.আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা (আ) এর প্রতি ওহী নাযিল করলেন। হে মূসা! তুমি কি চাও যে, আমি তোমার সাথে তোমার ঘরে থাকি। মূসা (আ) সিজদায় পড়ে গেলেন এবং আরয করলেন, হে পরওয়ারদেগার! আপনি আমার সাথে আমার ঘরে থাকবেন? আল্লাহ তাআলা বললেন, হে মূসা! তুমি কি জান না, যে আমার যিকির করে আমি তার সাথে থাকি। আর বান্দা যেখানে আমাকে তালাশ করে, সেখানে পেয়ে যায়।

1866 – قال الله تعالى: “إذا ذكرني عبدي خاليا ذكرته خاليا وإذا ذكرني في ملأ ذكرته في ملأ خير من الملأ الذي ذكرني فيه”. (طب عن ابن عباس) .

১৮৬৬.আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন বান্দা আমাকে নির্জনে স্মরণ করে, তখন আমিও তাকে নির্জনে স্মরণ করি। আর যদি সে আমাকে কোন মজলিসে স্মরণ করে, তখন আমি তাকে তার চেয়েও উত্তম মজলিসে স্মরণ করি।

1867 – قال الله عز وجل: “لا يذكرني عبدي في نفسه إلا ذكرته في ملأ من ملائكتي، ولا ذكرني عبدي في ملأ إلا ذكرته في الرفيق الأعلى”. (طب عن معاذ بن أنس) .

১৮৬৭.মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, (এমন হয় না যে,) কোন বান্দা আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আর অথচ আমি তাকে ফেরেশতাদের মজলিসে স্মরণ না করি। আর কোন বান্দা আমাকে মজলিসে স্মরণ করে, আর অথচ আমি তাকে উচ্চ পরিষদে স্মরণ না করি।

1868 – قال الله تعالى: “من يذكرني في نفسه ذكرته في نفسي ومن ذكرني في ملأ من الناس ذكرته في ملأ أكثر منهم وأطيب”. (ش عن أبي هريرة) .

১৮৬৮.আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন বান্দা আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, তখন আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। আর যদি সে আমাকে কোন মজলিসে স্মরণ করে, তখন আমি তাকে তার চেয়েও উত্তম মজলিসে স্মরণ করি।

1869 – قال ربكم عز وجل: “أنا مع عبدي ما ذكرني وتحركت بي شفتاه”. (كر عن أبي هريرة) .

১৮৬৯.তোমাদের প্রতিপালক বলেন- আমি বান্দার সাথে থাকি, যতক্ষণ সে আমার যিকির করে এবং তার ঠোট নরাচরা করে।

1870 – قال موسى: “يا رب وددت أن أعلم من تحب من عبادك فأحبه قال: إذا رأيت عبدي يكثر ذكري فأنا أذنت له في ذلك وأنا أحبه وإذا رأيت عبدي لا يذكرني فأنا حجبته عن ذلك وأنا أبغضه”.

(قط في الأفراد وابن عساكر عن ابن عمر) .

১৮৭০.মূসা (আ) বললেন, হে পরওয়ারদেগার! আমি আপনার নিকট জানতে চাই, কোন বান্দা আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয়? যেন আমিও তার সাথে মহব্বত পোষণ করি। আল্লাহ তাআলা বললেন, যখন তুমি কাউকে দেখবে যে, সে বেশী বেশী যিকির করে তখন মনে করবে তাকে আমিই তাতে নিয়োজিত করেছি। আর আমি তাকে মহব্বত করি। আর যখন তুমি কাউকে দেখবে যে, সে আমার যিকির করে না, তখন মনে করবে তাকে আমিই তা থেকে বিরত রেখেছি। আর আমি তাকে ঘৃণা করি।

1871 – قال موسى: “يا رب أقريب أنت فأناجيك؟ أم بعيد فأناديك، فأني أحس حس صوتك ولا أراك فأين أنت؟ فقال الله: أنا خلفك وأمامك وعن يمينك وعن شمالك يا موسى أنا جليس عبدي حين يذكرني وأنا معه إذا دعاني”. (الديلمي عن ثوبان) .

১৮৭১.মূসা (আ) বললেন, হে পরওয়ারদেগার! আপনি কি নিকটে, তাহলে আমি অপনার সাথে ‍মুনাজাত-বাক্যালাপ করব অথবা আপনি কি দূরে, তাহলে আমি আপনাকে ডাকব। কেননা আমি আপনার আওয়ায অনুভব করছি কিন্তু আপনাকে দেখতে পাচ্ছি না। অতএব আপনি কোথায়? আল্লাহ তাআলা বললেন, আমি তোমার পেছনেও আছি, সামনেও আছি। তোমার ডানেও আছি বাঁয়েও আছি। হে মূসা! যখন বান্দা আমার যিকির করে তখন আমি তার সাথেই উপবেশন করি, আর যখন সে আমাকে ডাকে আমি তার সাথেই থাকি।

1872 – يقول الله عز وجل: “إذا كان الغالب على العبد الاشتغال بي جعلت بغيته ولذته في ذكري، فإذا جعلت بغيته ولذته في ذكري عشقني وعشقته فإذا عشقني وعشقته رفعت الحجاب فيما بيني وبينه، وصيرت ذلك تغالبا عليه، لا يسهو إذا سها الناس، أولئك كلامهم كلام الأنبياء، أولئك الأبطال حقا، أولئك الذين إذا أردت بأهل الأرض عقوبة أو عذابا، ذكرتهم فصرفت ذلك عنهم”. (حل عن الحسن مرسلا) .

১৮৭২.আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন বান্দা আমার প্রতি প্রবলভাবে মশগুল হয় তখন আমার যিকিরকে তার কাঙ্ক্ষিত ও স্বাদের বস্তুতে পরিণত করে দেই। অতএব  যখন তার নিকট আমার যিকির তার কাঙ্ক্ষিত ও স্বাদের বস্তুতে পরিণত হয়, তখন আমার সাথে তার ইশক হয়ে যায় এবং তার সাথে আমার ইশক হয়ে যায়। আর যখন এই স্তরে এসে যায় তখন আমি আমার ও তার মাঝের পর্দা উঠিয়ে নেই। অতঃপর অধিকাংশ সময় তার উপর এই কাইফিয়াত জারি করে রাখি। এর ফলে অন্য লোকসকল যখন উদাসীনতার মধ্যে থাকে তখন সে এর থেকে নিরাপদ থাকে। তাদের কথা নবীদের কথার মত। তারাই মর্দে হক। আর এরাই তারা- যখন আমি পুরো পৃথিবীবাসীদেরকে আযাবে নিপতিত করার ইচ্ছ করি, তখন তাদের কথা মনে হয় অতঃপর তাদের থেকে আযাব সরিয়ে নেই।

1873 – قال الله تعالى: “من شغله ذكري عن مسألتي أعطيته قبل أن يسألني”. (حل والديلمي عن حذيفة) .

১৮৭৩.আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন বান্দা আমার যিকিরে মশগুল থাকার কারণে আমার নিকট চাওয়ার সুযোগ পায় না, তখন আমি তার চাওয়ার পূর্বেই তাকে দান করে থাকি।

1874 – يقول الله تعالى: “من شغله ذكري عن مسألتي أعطيته فوق ما أعطي السائلين”. (خ) في خلق أفعال العباد وابن شالهين في الترغيب في الذكر وأبو نعيم في المعرفة. (هب عن ابن عمر) ، (عب عن جابر) .

১৮৭৪.আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন বান্দা আমার যিকিরে মশগুল থাকার কারণে আমার নিকট প্রার্থনার সুযোগ পায় না, তখন আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়েও বেশী দান করে থাকি।

1875 – يقول الله: “من شغله ذكري عن مسألتي أعطيته فوق ما أعطي السائلين”. (ش عن عمرو بن مرة مرسلا) .

১৮৭৫.আল্লাহ বলেন, যখন আমার বান্দা আমার যিকিরে মশগুল থাকার কারণে আমার নিকট প্রার্থনার সুযোগ পায় না, তখন আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের চেয়েও বেশী দান করে থাকি।

1876 – “إن لله عز وجل سيارة من الملائكة، يبتغون حلق الذكر، فإذا مروا بحلق الذكر قال بعضهم لبعض: اقعدوا فإذا دعا القوم أمنوا على دعائهم فإذا صلوا على النبي صلى الله عليه وسلم صلوا معهم حتى يفرغوا ثم يقول بعضهم لبعض طوبى لهم لا يرجعون إلا مغفورا لهم”. (ابن النجار عن أبي هريرة) .

১৮৭৬.আল্লাহর কিছু ফেরেশতা পৃথিবীতে ভ্রমণ করে যিকিরের মজলিস তালাশ করতে থাকে। যখন তারা কোন যিকিরের মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন তারা একে অপরকে বলে, আস! এখানে বস। অতঃপর যিকিকারীরা যখন দুআ করে তখন তাদের দুআর উপর তারা আমিন বলতে থাকে। যখন তারা রাসূলুল্লাহ (সা) এর প্রতি দরূদ প্রেরণ করে, তখন তারাও তাদের সাথে দরূদ প্রেরণ করে। পরিশেষে তারা যখন মজলিস সমাপ্ত করে উঠে যায়,তখন ফেরেশতারা একে অপরকে বলে, তাদের জন্য সুসংবাদ যে তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে যাচ্ছে।

1877 – “إن لله تعالى سرايا من الملائكة تحل وتقف على مجالس الذكر في الأرض، فارتعوا في رياض الجنة، قالوا فأين رياض الجنة؟ قال: مجالس الذكر فاغدوا وروحوا في ذكر الله واذكروه بأنفسكم، من كان يحب أن يعلم منزلته عند الله، فلينظر كيف منزلة، الله عنده، فإن الله ينزل العبد من حيث أنزله من نفسه”. (عبد بن حميد والحكيم (ك) وابن شاهين في الترغيب بالذكر عن جابر) .

১৮৭৭.আল্লাহর ফেরেশতাদের কিছু দল পভ্রিমণ করে। তারা পৃথিবীতে যিকিরের মজলিসে অবস্থান করে। অতএব তোমরা জান্নাতের বাগানে পরিভ্রমণ কর। জিজ্ঞাসা করা হলো, জান্নাতের বাগান কি? তিনি (সা) বললেন, যিকিরে মজলিসসমূহ। অতএব তোমরা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাক, আর তোমাদের অন্তরকেও আল্লাহর স্মরণে নিয়োজিত রাখ। যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তার মর্যাদা জানতে চায় তবে সে যেন দেখে তার নিজের নিকট আল্লাহর কি মর্যাদা রয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ঐ মর্তবায়ই রাখেন, সে তার অন্তরে আল্লাহকে যে মর্তবা প্রদান করে।

1878 – “إن لله ملائكة فضلا يبتغون ذكرا يجتمعون عند الذكر، فإذا مروا بمجلس علا بعضهم على بعض حتى يبلغوا العرش فيقول الله لهم: وهو أعلم من أين جئتم؟ فيقولون: من عند عبيد لك يسألون الجنة، ويتعوذون بك من النار، ويستغفرون فيقول: يسألوني جنتي فكيف لو رأوها: ويتعوذون من ناري فكيف لو رأوها فإني قد غفرت لهم، فيقولون ربنا إن فيهم عبدك الخطاء (2) فلان مر بهم لحاجة فجلس إليهم قال الله عز وجل: أولئك الجلساء لا يشقى بهم جليسهم”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن أبي هريرة) وقال ابن شاهين هذا الحديث من أحسن حديث في الذكر وأصحه سندا.

আল্লাহর কিছু মর্যাদাসম্পন্ন ফেরেশতা যিকিরকারীদের অন্বেষণে ঘুরে বেড়ায়। যেখানে যিকির করা হয় সেখানে একত্রিত হয়ে যায়। আর যিকিরের কোন মজলিসে গিয়ে উপর দিকে তারা কাতারবন্দী হতে হতে আরশ পর্যন্ত পৌছে যায়। অতঃপর মজলিস সমাপ্ত হলে ফেরেশতারা আল্লাহর নিকট হাজির হয়। তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন- যদিও তিনি বান্দাদের সম্যক অবস্থা ভাল করে জানেন, তোমরা কোথা হতে আসলে? আপনার বান্দাদের নিকট হতে, যারা আপনার নিকট জান্নাত প্রার্থনা করছে, জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাইছে এবং আপনার নিকট নিজেদের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছে। আল্লাহ তাআলা বললেন,  তারা জান্নাত প্রার্থনা করছে, যদি তারা জান্নাত দেখত তবে কেমন হত? তারা জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাইছে, যদি তারা জাহান্নাম দেখত তবে কেমন হত? অতএব আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। ফেরেশতারা বলল, আপনার একজন গুনাহগার বান্দা তাদের মধ্যে শামিল ছিল না। শুধু সে তার কোন প্রয়োজনের জন্য এখানে এসেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন, তারা এমন সম্পদায় যে, তাদের পাশে বসা ব্যক্তিও বঞ্চিত হয় না। 

1879 – إن هؤلاء القوم كانوا يذكرون الله، يعني أهل مجلس أمامه فنزلت عليهم السكينة  كالقبة، فلما دنت منها تكلم رجل منهم بباطل فرفعت عنهم”. (ابن عساكر عن سعد  بن مسعود) مرسلا.

 

 

 

রাসূলুল্লাহ (সা) তার সামনে বসা একটি মজলিস প্রসঙ্গে বলেন- এরা আল্লাহর যিকির করছিল। অতএব তাদের প্রতি সাকিনা-প্রশান্তি গম্বুজের মত নাযিল হচ্ছিল। যখন তা তাদের নিকটে পৌছল তখন এক ব্যক্তি একটি বাতিল কথা বলল, ফলে তা পূণরায় উঠিয়ে নেয়া হলো।

1880 – “كل مجلس يذكر اسم الله تعالى فيه تحف به الملائكة حتى إن الملائكة يقولون زيد وأزادكم الله والذكر يصعد بينهم وهم ناشروا أجنحتهم”.(أبو الشيخ عن أبي هريرة) .

প্রত্যেক এমন মজলিস যারা আল্লাহর যিকিরে নিয়োজিত থাকে, ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে নেয় এমনকি ফেরেশতারা বলে আল্লাহ তোমাদেরকে বরকত দিন। যিকির বেশী করে কর, যিকির তার মধ্যে বৃদ্ধি পায়। আর ফেরেশতারা তার উপর নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেয়।

 

1881 – “ما اجتمع قوم على ذكر الله إلا حفتهم الملائكة، وغشيتهم الرحمة”.

 (رزق الله التميمي في المجلس الذي أملاه بأصبهان عن أبيه عبد الوهاب عن أبيه أبي الحسن عبد العزيز عن أبيه بكر بن الحارث عن أبيه أسد عن أبيه سليمان عن أبيه الأسود عن أبيه سفيان عن أبيه يزيد، عن أبيه أكينة عن أبيه الهيثم عن أبيه عبد الله التميمي، ورواه ابن النجار من طريقه، قال الذهبي أكثر هؤلاء الأباء لا ذكر لهم في تاريخ ولا في أسماء الرجال وقال العلاء في (الوشي المعلم له) .

১৮৮১.যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর যিকিরের জন্য একত্রিত হয় তখন ফেরেশতারা তাদেরকে ছায়া প্রদান করে আর রহমত তাদেরকে বেষ্টন করে নেয়।

1882 – “يا أيها الناس إن لله سرايا من الملائكة تحل، وتقف على مجالس الذكر في الأرض فارتعوا في رياض الجنة، قالوا: وأين رياض الجنة يا رسول الله، قال: مجالس الذكر في الأرض اغدوا وروحوا في ذكر الله عز وجل وذكروه أنفسكم من كان يحب أن يعلم منزلته عند الله، فلينظر كيف منزلة الله عنده، فإن الله ينزل العبد منه حيث أنزله من نفسه”. (ك وتعقب هـ بز طس هب وابن عساكر عن جابر) .

১৮৮২. হে লোকেরা! আল্লাহর ফেরেশতাদের কতক দল পৃথিবীতে যিকিরের মজলিসে উপস্থিত হয় ও অবস্থান করে। অতএব তোমরা জান্নাতের বাগানে পরিভ্রমণ কর। জিজ্ঞাসা করা হলো জান্নাতের বাগান কি? তিনি বললেন, যিকিরের মজলিস সমূহ। অতএবব তোমরাও সকাল সন্ধ্যা আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাক এবং তোমাদের অন্তরকেও তার স্মরণ দ্বারা তরতাজা রাখ। যে আল্লাহর নিকট তার মর্যাদা দেখতে চায় তবে সে যেন দেখে তার নিকট আল্লাহর কি মর্যাদা রয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ঐ মর্যাদায়ই রাখেন তার মনে যে মর্যাদায় সে আল্লাহকে রাখে।

1883 – “أما إني لم أستحلفكم تهمة لكم، ولكنه أتاني جبريل فأخبرني أن الله عز وجل يباهي بكم الملائكة”. (حم ش م ت ن حب عن معاوية) .

১৮৮৩ আমি তোমাদের থেকে শপথ তোমাদের প্রতি কোন সন্দেহেরে কারণে নেইনি। বরং আমার নিকট জিবরাইল (আ) এসেছিল। তিনি এসে আমাকে সংবাদ দিলেন যে, আল্লাহ তাআলা তোমাদের কারণে ফেরেশতাদের নিকট গর্ব প্রকাশ করেছেন।

1884 – “إذا مررتم برياض الجنة فاجلسوا إليه قالوا: يا رسول الله وما رياض الجنة؟ قال: أهل الذكر”.

(ابن شاهين عن أبي هريرة) .

১৮৮৪ যখন তোমরা জান্নাতের বাগানে পরিভ্রমণ করবে তখন সেখানে বসে যাবে। জিজ্ঞাসা করা হলো জান্নাতের বাগান কি? তিনি বললেন, যিকিরকারীদের মজলিস সমূহ।

1885 – “إذا مررتم برياض الجنة فارتعوا قالوا: وما رياض الجنة قال: حلق الذكر”. (حم ت) حسن غريب (وابن شاهين في الترغيب في الذكر (هب) عن أنس) .

১৮৮৫.যখন তোমরা জান্নাতের বাগানের পাশ দিয়ে যাবে তখন সেখানে পরিভ্রমণ করবে। জিজ্ঞাসা করা হলো জান্নাতের বাগান কি? তিনি বললেন, যিকিরকারীদের মজলিস সমূহ।

1886 – “أين السابقون الذين يستهترون بذكر الله تعالى؟ من أحب أن يرتع في رياض الجنة فليكثر ذكر الله”. (طب عن معاذ) .

১৮৮৬.কোথায় অগ্রগামীগণ, যারা শুধু আল্লাহর যিকিরের জন্যই হয়ে থাকে? যে জান্নাতের বাগানে পরিভ্রমণ করতে চায় সে যেন বেশী করে যিকির করে।

1887 – “من أحب أن يرتع في رياض الجنة فليكثر ذكر الله”. (ش طب عن معاذ بن جبل) .

১৮৮৭ যে বক্তি জান্নাতের বাগানে পরিভ্রমণ করতে চায় সে যেন বেশী করে যিকির করে।

1888 – “ما جلس قوم يذكرون الله، إلا ناداهم مناد من السماء قوموا مغفورا لكم”. (حم ع طس ص عن أنس) .

১৮৮৮. কোন সম্প্রদায় আল্লাহর যিকিরের জন্য একত্রিত হলে আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী বলে, উঠ! তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।

1889 – “ما من قوم اجتمعوا يذكرون الله تعالى إلا ناداهم مناد من السماء قوموا مغفورا لكم قد بدلت سيئاتكم حسنات”. (هب عن عبد الله بن معقل) .

১৮৮৯. কোন সম্প্রদায় আল্লাহর যিকিরের জন্য একত্রিত হলে আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী বলে, উঠ! তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে এবং মন্দ কর্মগুলো পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে।

1890 – “ما اجتمع قوم على ذكر، ثم تفرقوا إلا قيل لهم قوموا مغفورا لكم”. (الحسن بن سفيان عن

سهل بن الحنظلية) .

১৮৯০.কোন সম্প্রদায় আল্লাহর যিকিরের জন্য একত্রিত হয় আর যখন তারা উঠে তখন তাদেরকে বলা হয়, উঠ! তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।

1891 – “ما من قوم يذكرون الله عز وجل لا يريدون بذلك إلا وجه الله إلا ناداهم مناد من السماء، قوموا مغفورا لكم قد بدلت سيئاتكم حسنات”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن أنس) .

১৮৯১.যে সম্প্রদায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার যিকির করতে বসে, তখন আসমান থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, উঠ! তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে এবং মন্দ কর্মগুলো পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে।

1892 – “ما من قوم جلسوا مجلسا يذكرون الله إلا ناداهم مناد من السماء قوموا فقد غفرت لكم وبدلت سيئاتكم حسنات”. (العسكري في الصحابة وأبو موسى عن حنظلة العبشمي) وضعف.

১৮৯২. যে সম্প্রদায় শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তার যিকির করে, তখন তাদেরকে  আসমান থেকে বলা হয়, উঠ! তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে এবং মন্দ কর্মগুলো পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে।

1893 – “ليبعثن الله أقواما يوم القيامة، في وجوههم النور، على منابر اللؤلؤ، يغبطهم الناس ليسوا بأنبياء ولا شهداء، هم المتحابون في الله من قبائل شتى، وبلاد شتى، يجتمعون على ذكر الله يذكرونه”. (طب عن أبي الدرداء) .

১৮৯৩.কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা এমন সম্প্রদায় উঠাবেন, যাদের চেহারায় নূর দীপ্তমান থাকবে। তারা মুক্তার মিম্বরে আরোহণ করবে। লোকেরা তাদের দিকে ঈর্ষার দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে। কিন্তু না তারা নবী হবে আর না শহীদ। কারা তো হবে শেুধু আল্লাহর মহব্বতে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও বিভিন্ন এলাকার লোকজন।, যারা আল্লাহর যিকিরের জন্য একত্রিত হত এবং আল্লাহর যিকির করত।

1894 – “أكثروا الكلام بذكر الله فإن كثرة الكلام بغير ذكر الله يقسي القلب وإن أبعد الناس من الله القلب القاسي”. (أبو الشيخ في الثواب عن ابن عمر) .

১৮৯৪.অধিক কথা (বলার প্রয়োজন হলে) আল্লাহর যিকিরের সাথে বলো। কেননা আল্লাহর যিকির ব্যতীত অধিক কথা অন্তরকে কঠিন করে দেয়। আর লোকদের মধ্যে সে-ই আল্লাহর থেকে সবচেয়ে দূরে কঠিন হৃদয় ব্যক্তি।

  1895 – “لا تكثروا الكلام بغير ذكر الله، فإن كثرة الكلام بغير ذكر الله قسوة القلب وإن أبعد القلب من الله القلب القاسي”. (ت غريب وابن شاهين في الترغيب في الذكر هب عن ابن عمر)

১৮৯৫.আল্লাহর যিকির ব্যতীত অধিক কথা বলো না। কেননা আল্লাহর যিকির ব্যতীত অধিক কথা অন্তরকে কঠিন করে দেয়। আর লোকদের মধ্যে সে-ই আল্লাহর থেকে সবচেয়ে দূরে কঠিন হৃদয় ব্যক্তি।

1896 – “يا حفصة إياك وكثرة الكلام، فإن كثرة الكلام بغير ذكر الله تميت القلب وعليك بكثرة الكلام بذكر الله فإنه يحي القلب”. (الديلمي عن حفصة) .

 ১৮৯৬ হে হাফসা! অধিক কথা বলা থেকে বেঁচে থাক। কেননা আল্লাহর যিকির ব্যতীত অধিক কথা অন্তরকে মৃত করে দেয়। অতএব তোমার জন্য জরুরী হলো আল্লাহর যিকিরের সাথে অথিক কথা বলা (প্রয়োজন হলে), কেননা এটা (যিকির) অন্তরকে জীবিত রাখে।

1897 – “اذكروا الله حتى يقال أنكم مراؤون”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن ابن عباس) .

১৮৯৭. আল্লাহর যিকির কর, এমনকি যেন বলা হয় তোমরা রিয়াকার।

1898 – “أكثروا ذكر الله تعالى حتى يقول المنافقون: إنكم مراؤون”. (ش حم في الزهد هب عن أبي الجوزاء مرسلا) .

১৮৯৮.এত অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির কর, যেন মুনাফিকরা বলে তুমি রিয়াকার।

 

 

1899 – “إن خيار عباد الله من هذه الأمة الذين إذا رأوا ذكر الله وإن شرار هذه الأمة المشاؤون بالنميمة المفرقون بين الأحبة الباغون البراء العنت”. (الخرائطي في مكارم الأخلاق من طريق عبد الرحمن بن غنم عن أبي مالك الأشعري) .

১৮৯৯. এই উম্মতের উত্তম লোক তারা যাদেরকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। আর এই উম্মতের নিকৃষ্ট লোক তারা যারা চোগলখুরী করে, আপনজনদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে, পূত-পবিত্র লোকদের প্রতি অপবাদ আরোপ করার সুযোগ সন্ধান করে।

1900 – “ألا أدلكم على خيار هذه الأمة، الذين إذا رآهم الناس ذكروا الله، وإذا ذكر الله عندهم أعانوا على ذكره”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن محمد بن عامر بن إبراهيم الأصبهاني عن أبيه عن نهشل عن الضحاك عن ابن عباس) وهذا إسناد واهي.

১৯০০. আমি কি তোমাদেরকে এই উম্মতের উত্তম লোকদের কথা বলব না? তারা হলো যাদেরকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। আর যখন তাদের নিকট আল্লাহর যিকির করা হয় তখন তারা যিকিরের ব্যাপারে সাহায্যকারী হয়।

1901 – “أيها الناس ألا أنبئكم بخياركم، الذين إذا رؤوا ذكر الله، ألا أنبئكم بشراركم فإن شراركم المشاؤون بالنميمة المفسدون بين الأحبة الباغون البراء العنت”. (حم طب عن أسماء بنت يزيد) .

১৯০১. হে লোক সকল! আমি কি তোমাদেরকে এই উম্মতের উত্তম লোকদের নিদর্শন বলব না? তারা হলো ঐ সব লোক, যাদেরকে দেখলেই তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। আর আমি কি তোমাদেরকে এই নিদর্শন বলে দেব না? তারা হলো যারা চোগলখুরী করে, আপনজনদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে, পূত-পবিত্র লোকদের প্রতি অপবাদ আরোপ করার সুযোগ সন্ধান করে।

1902 – قال الله تعالى: “ألا إن أوليائي من عبادي، وأحبائي من خلقي، الذين يذكرون بذكري وأذكر بذكرهم”. (الحكيم) (حل عن عمرو بن الجموح) .

১৯০২.আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে আমার বন্ধু, আমার সৃষ্টির মধ্যে আমার প্রিয়তর ব্যক্তি সে, যাকে আমার স্মরণের সাথে স্মরণ করা হয় আর যাকে স্মরণের সাথে আমাকে স্মরণ করা হয়।

1903 – “أن تمسي وتصبح ولسانك رطب من ذكر الله عز وجل”. (ابن النجار عن معاذ) قال: قلت يا رسول الله أي العمل خير وأقرب إلى الله وإلى رسوله؟ قال: فذكره.

১৯০৩.সকাল হোক কি সন্ধ্যা, সব সময় তোমাদের যবান আল্লাহর যিকির দ্বারা তরতাজা রাখ।

হযরত মুআয (রা) জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন আমলটি উত্তম এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের নিকটবর্তী? তখন রাসূলুল্লাহ (সা) উক্ত জওয়াব দেন।

1904 – “الذين لا تزال ألسنتهم رطبة من ذكر الله يدخل أحدهم الجنة وهو يضحك”. (ابن شاهين في الترغيب بالذكر عن أبي ذر) ،(وأبو الشيخ في الثواب عن أبي الدرداء (ش) عنه موقوفا) .

১৯০৪. যারা আল্লাহর যিকির দ্বারা তাদের জিহ্বা তরতাজা রাখে, তারা হাসতে হাসতে জান্নাতে যাবে।

1905 – “ألا أخبركم بأفضل أهل الأرض عملا يوم القيامة؟ رجل يقول كل يوم مائة مرة مخلصا لا إله إلا الله وحده لا شريك له إلا من زاد عليه”. (الديلمي عن ابن مسعود) .

১৯০৫.আমি কি তোমাদেরকে বলব না যে, কিয়ামতের দিন যমীনবাসীদের মধ্যে কার আমল সবচেয়ে উত্তম হবে? সে ঐ ব্যক্তি যে প্রত্যেহ ৭০ বার ইখলাসের সাথে এই (নিম্নের) কালিমা পাঠ করে- তবে সে ব্যতীত যে এর চেয়ে বেশী পাঠ করে-

لا إله إلا الله وحده لا شريك له

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু।

1906 – “ألا أدلك على شيء هو أكثر من ذكرك الليل مع النهار، والنهار مع الليل؟ قل:

الحمد لله عدد ما خلق، والحمد لله ملأ ما خلق، والحمد لله عدد ما في السموات والأرض، والحمد لله عدد ما أحصى كتابه، والحمد لله عدد كل شيء، والحمد لله ملأ كل شيء، وسبحان الله عدد ما خلق، وسبحان الله ملأ ما خلق، وسبحان الله عدد ما في السموات والأرض، وسبحان الله عدد ما أحصى كتابه، وسبحان الله عدد كل شيء، وسبحان الله ملأ كل شيء، تعلمهن وعلمهن عقبك من بعدك”.

(ن وابن خزيمة طب وسمويه وابن عساكر ص عن أبي أمامة طب عن أبي الدرداء) .

১৯০৬.তোমরা রাত-দিন এবং দিন-রাত আল্লাহর যিকির কর। আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও বেশী আমলের কথা বলব না? তা হলো তোমরা এই কালিমা পাঠ কর- الحمد لله عدد ما خلق……

1907 – “قال موسى يا رب علمني شيئا أذكرك به وأدعوك به، قال يا موسى: قل لا إله إلا الله قال: يا رب كل عبادك يقولون هذا قال: قل لا إله إلا الله قال: لا إله إلا أنت يا رب، إنما أريد شيئا تخصني به، قال يا موسى لو أن السموات السبع وعامرهن غيري والأرضين السبع في كفة ولا إله إلا الله في كفة مالت بهم لا إله إلا الله”. (ع والحكيم حب ك حل ق في الأسماء عن أبي سعيد  .

১৯০৭.মূসা (আ) আল্লাহর দরবারে আরয করলেন, পরওয়ারদেগার! আমাকে এমন কোন কালিমা শিখিয়ে দিন যার দ্বারা আমি অপনাকে স্মরণ করব এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করব। আল্লাহ তাআলা বললেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলো। মূসা (আ) আরয করলেন, হে আল্লাহ! তোমার সব বান্দাই তো এটা বলে। আল্লাহ তাআলা বললেম লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলো। মূসা (আ) বললেন, নিশ্চয়ই আপনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। তবে আমি তো এমন কিছু চাইছি যা বিশেষভাবে আমার জন্য নির্দিষ্ট করবেন। তখন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করলেন, হে মুসা! সকল আসমান এবং তার মধ্যে আমি ব্যতীত আর যা কিছু আছে এবং সপ্ত যমীন যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, আর অপর পাল্লায় এই কালিমাকে রাখা হয় তবে লা ইলাহা ইল্লাহর পাল্লাই অপর সবকিছু থেকে ভারী হয়ে যাবে।

1908 – “ما من الذكر أفضل من لا إله إلا الله ولا من الدعاء أفضل من الاستغفار”. (طب عن ابن عمر) .

১৯০৮. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর থেকে উত্তম কোন যিকির নাই আর ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার চাইতে উত্তম কোন দুআ নাই।

1909 – “ما من عبد يقول لا إله إلا الله والله أكبر إلا أعتق الله ربعه من النار، ولا يقولها اثنتين إلا أعتق الله شطره من النار، ولا يقولها أربعا إلا أعتقه الله من النار”. (طب عن أبي الدرداء) .

১৯০৯.যে বান্দা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার বলে, আল্লাহ তাআলা তার এক চতুর্থাংশ প্রাণ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন। যে এই কালিমা দুইবার পাঠ করে আল্লাহ তাআলা তার অর্ধেক জানমুক্ত করেন। আর যে এই কালিমা চারবার বলে তাকে আল্লাহ পুরোপুরিভাবে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেন।

1910 – “يا معاذ كم تذكر كل يوم؟ أتذكر عشرة آلاف مرة  ألا أدلك على كلمات هن أهون عليك وأكثر من عشرة الآلاف وعشرة آلاف تقول :

 لا إله إلا الله عدد خلقه لا إله إلا الله زنة عرشه، لا إله إلا الله ملأ سمواته  لا إله إلا الله مثل ذلك معه والله أكبر مثل ذلك معه، والحمد لله مثل ذلك معه لا يحصيه ملك ولا غيره.

(ابن النجار عن أبي شبل عن جده وكان من الصحابة) .

১৯১০. হে মুআয দিনে তুমি কতবার আল্লাহর যিকির কর? তুমি কি দিনে দশ হাজার বার আল্লাহর যিকির কর? আমি কি তোমাকে এর চেয়ে সহজ কালিমা বলব না, যা দশ হাজার অধিক দশহাজার থেকেও অধিক সওয়বা রাখে। তাহলো- لا إله إلا الله عدد خلقه …….

1911 – “يا معاذ ما لك لا تأتنا كل غداة؟ قال: يا رسول الله إني أسبح كل غداة سبعة آلاف تسبيحة قبل أن آتيك قال: ألا أعلمك كلمات هن أخف عليك وأثقل في الميزان ولا تحصيه الملائكة ولا أهل الأرض قال:

 قل لا إله إلا الله عدد رضاه لا إله إلا الله زنة عرشه لا إله إلا الله عدد خلقه لا إله إلا الله ملأ سمواته لا إله إلا الله ملأ أرضه، لا إله إلا الله ملأ ما بينهما”.

 (ابن بركان والديلمي عن ابن مسعود) .

১৯১১. হে মুআয! কি ব্যাপার যে, তুমি প্রতিদিন ভোরে আমার নিকট আস না? তিনি আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার নিকট হাজির হওয়ার পূর্বে প্রতিদিন ভোরে সাত হাজারবার আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করি। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম কালিমা বলবো না, যা মিযানে তার থেকেও বেশী ওযনদার হবে যার সওয়াব না ফেরেশতারা গণনা করতে পারবে, আর না যমীনবাসীরা। তুমি বলো- لا إله إلا الله عدد رضاه ….

1912 – “اذكروا الله عند كل شجر وحجر”. (حم في الزهد عن عطاء بن يسار مرسلا) .

১৯১২. প্রত্যেক গাছ ও গুহার নিকট আল্লাহর যিকির কর।

1913 – “اذكر الله حيثما كنت وخالق الناس بخلق حسن واتبع السيئه الحسنة تمحها”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن أبي ذر) .

১৯১৩.তুমি যেখানেই থাক আল্লাহর যিকির কর। মানুষের সাথে উত্তম চরিত্র নিয়ে মেলামেশা কর। যখন কোন মন্দকাজ হয়ে যায়, তখন তার পরে কোন নেক কাজ কর যাতে ঐ মন্দকাজকে দূর করে দেয়।

1914 – “اذكروا الله عباد الله، فإن العبد إذا قال: سبحان الله وبحمده كتبت له بها عشر ومن عشر إلى مائة ومن مائة إلى ألف ومن زاد زاده الله، ومن استغفر الله غفر الله له”.

(ابن شاهين عن ابن عمر) ورواه (خط) وزاد، ومن حالت شفاعته دون حد من حدود الله فقد ضاد الله في ملكه ومن أعان على خصومة بغير علم فقد باء بسخط من الله، ومن قذف مؤمنا أو مؤمنة حبسه الله في ردغة الخبال حتى يأتي بالمخرج ومن مات وعليه دين اقتص من حسناته ليس ثم درهم ولا دينار. (خط عن ابن عمر) .

১৯১৪.হে আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর যিকির করতে থাক। কেননা বান্দা যখন সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী বলে তখন তার জন্য দশটি নেকী লিখে দেয়া হয়। দশবার পাঠ করলে একশত নেকী লিখে দেয়া হয়। একশতবার পাঠ করলে হাজার নেকী লিখে দেয়া হয়। যে আরো বেশী করে আল্লাহ তার প্রতিদানও আরো করেন। অঅর যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।

1915 -. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر والخطيب والديلمي وابن عساكر عن أبي هـ قال الله تعالى: “يا ابن آدم إنك ما ذكرتني شكرتني، وما نسيتني كفرتني” ريرة وفيه المعلى بن الفضل له مناكير) .

১৯১৫. মহিয়ান গরিয়ান আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান! যখন তুমি আমার যিকির কর, আমাকে স্মরণ কর তখন প্রকৃতপক্ষে আমার কৃতজ্ঞতা আদায় কর। আর যখন তুমি আমাকে বিস্মৃত হও, তখন তুমি আমার অকৃতজ্ঞতায় পতিত হয়ে যাও।

এই রিওয়াযাতের একজন বর্ণনাকারী যার হাদীস মুনকার ও অগ্রহণযোগ্য।

1916 – قال إبليس: “يا رب كل خلقك قد سببت أرزاقهم فما رزقي قال: كل ما لم يذكر عليه اسمي”. (أبو الشيخ في العظمة عن ابن عباس) .

১৯১৬. ইবলিস বললো, হে পরওয়ারদেগার! তুমি সব মাখলুকের রিযিক নির্ধারণ করেছ, কিন্তু আমার রিযিক কি? আল্লাহ তাআলা বললেন, যে বস্তুর উপর আমার নাম নেয়া হবে না, ওটাই তোর রিযিক।

1917 – قال إبليس: “يا رب ليس أحد من خلقك إلا جعلت لهم رزقا ومعيشة، فما رزقي؟ قال: ما لم يذكر عليه اسمي”. (حل عن ابن عباس) .

১৯১৭.ইবলিস বললো, হে পরওয়ারদেগার! তুমি সকল মাখলুকের রিযিক ও জীবন-জীবিকা নির্ধারণ করেছ, কিন্তু আমার রিযিক কি? আল্লাহ তাআলা বললেন, যে বস্তুর উপর আমার নাম নেয়া হয়নি ওটাই তোর রিযিক।

1918 – “ما صيد مصيد  إلا بنقص من التسبيح إلا أنبت الله نابه وإلا وكل ملكا يحصي به حتى يأتي به يوم القيامة ولا عضد من شجرة إلا بنقص في التسبيح وما دخل على امرئ مكروه إلا بذنب وما عفا الله عنه أكثر”، (ابن عساكر عن أبي بكر الصديق وعمر معا، قال: هذا حديث منكر وفي الإسناد ضعيفان ومجهولان) .

১৯১৮. কোন শিকার কেবল শিকার হয় এ কারণে যে, তার আল্লাহর যিকিরে স্বল্পতা হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এর স্থলে অপর কাউকে সৃষ্টি করে দেন এবং একজন ফেরেশতা নির্ধারণ করে দেন, যে তার হিফাযত করে। এমনকি কিয়ামত পর্যন্ত (এভাবে চলতে থাকে)। এমনিভাবে কোন গাছও তখন কাটা পড়ে যখন তার আল্লাহর যিকিরের স্বল্পতা আসে। আর কোন ব্যক্তি অপছন্দনীয় বিষযের সম্মুখীন তখনই হয় যখন তার দ্বারা কোন গুনাহ সংঘটিত হয়। আর যেসব গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন তার সংখ্যা অনেক বেশী।

ইমাম সুয়ূতী (রহ) বলেন- এই হাদীস মুনকার বা পরিত্যাজ্য। এর দুইজন বর্ণনাকারী একেবা্রেই যয়ীফ ও মাজহুল।

1919 – “ما صيد صيد ولا قطعت شجرة إلا بتضييع التسبيح وكل شيء من الخلق يسبح حتى يتغير عن الخلقة التي خلقه الله، وإن كنتم تسمعون بعض حدثكم فإنما هو تسبيح”. (أبو نعيم عن أبي هريرة) .

১৯১৯. কোন শিকার শিকার হয় না, কোন গাছ কাটা যায় না শুধুমাত্র আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করা ছাড়া। আর প্রত্যেক মাখলুক আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে। এমনকি এর কারণে আল্লাহর সৃষ্ট বিধানও (ভাগ্য) পরিবর্তন হয়ে যায়।  কখনও তোমরা বিভিন্ন বিষয় শুনে থাক, তাই তাসবীহ।

1920 – “ما صيد صيد ولا عضدت عضاة ولا قطعت شجرة (2) إلا بقلة التسبيح”. (ابن راهويه عن أبي بكر) وسنده ضعيف جدا.

১৯২০.কোন শিকার শিকার হয় না, কোন ডাল কাটা হয় না এবং কোন গাছ কাটা যায় না শুধুমাত্র আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করা ছাড়া।

এই রিওয়ায়াতের সনদ সীমাহিন যয়ীফ

1921 – “آجال البهائم كلها من القمل، والبراغيث والجراد والخيل والبغال كلها والبقر وغيره، آجالها في التسبيح، فإذا انقضى تسبيحها قبض الله أرواحها وليس إلى ملك الموت من ذلك شيء.” (عق وأبو الشيخ عن أنس) قال عق ولا أصل له وأورده ابن الجوزي في الموضوعات.

১৯২১. সমস্ত প্রাণী চাই তা উকুন, মাছি, টিড্ডি, ঘোড়া, খচ্চর, গাভী ইত্যাদি সব প্রাণীর মৃত্যু তা তাসবীহ অনুযায়ী হয়। যখন তাদের তাসবীহ শেষ হয়ে যায় তখন তাদের রূহ সমূহ আল্লাহ কবয করে নেন। এর মধ্যে মালাকুল মউত এর কোন দখল নেই।

উকাইলী (রহ) বলেন, এই রিওয়ায়াত প্রমাণিত উসূলের বিপরীত। আর আল্লামা জাওযী (রহ) একে আল মাউযুআত এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

1922 – “ما من بقعة يذكر الله فيها إلا استبشرت بذكر الله إلى منتهاها من سبع أرضين وفخرت على ما حولها من البقاع، وما من مؤمن يقوم بفلاة من الأرض إلا تزخرفت به الأرض”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن أنس) وفيه بن موسى بن عبيدة الزبدي عن يزيد الرقاشي ضعيفان.

১৯২২. যমীনের যেই অংশেই আল্লাহর নামম নেয়া হয়, যমীনের ঐ অংশই আল্লাহর যিকিরের কারণে সাত যমীন থেকে নিয়ে নিজের চূড়ান্ত সীমা পর্যন্ত খুশী হয়ে যায় এবং যমীনের অপর অংশের উপর গর্ব প্রকাশ কর্ । আর যখন কোন মুমিন বান্দা যমীনের কোন অংশকে নামাযের জন্য নির্বাচন করে, তখন তার জন্য ঐ যমীনকে সজ্জিত করা হয়।

1923 – “مثل البيت الذي يذكر الله فيه والذي لا يذكر الله فيه مثل الحي والميت”. (حم م حب عن يزيد عن أبي بردة عن أبي موسى) .

১৯২৩. যে ঘরে আল্লাহর নাম নেয়া হয় আর যে ঘরে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না তার দৃষ্টান্ত জীবিত ও মৃতের ন্যায়।

1924 – “من أطاع الله فقد ذكر الله وإن قلت صلاته وصيامه وتلاوته للقرآن، ومن عصى الله فلم يذكره وإن كثرت صلاته وصيامه وتلاوته للقرآن”. (الحسن بن سفيان طب وابن عساكر عن واقد مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم) (ص هب عن ابن أبي عمران مرسلا) .

১৯২৪. যে আল্লাহর আনুগত্য করলো সে আল্লাহকে স্মরণ করল। চাই তার নমায ও তিলাওয়াত কম হোক না কেন। আর যে আল্লাহর যিকির ছেড়ে দিল সে আল্লাহর নাফরমানী করল, চাই তার নমায ও তিলাওয়াত যতই বেশী হোক না কেন।

1925 – “من أكثر من ذكر الله فقد برئ من النفاق”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن أبي هريرة) ورجاله ثقات.

১৯২৫. যে অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করল, সে নিফাক থেকে মুক্ত হয়ে গেল।

1926 – “من علامة حب الله ذكر الله، ومن علامة بغض الله بغض ذكر الله”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر عن أنس وهو ضعيف) .

১৯২৬. আল্লাহর মহব্বতরে নিদর্শন হলো আল্লাহরহর যিকিরের প্রতি মহব্বত, আর আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষের্ আলামত হলো তার যিকিরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ।

1927 – “لا تزال مصليا قانتا ما ذكرت الله قائما وقاعدا أو في سوقك أو في ناديك أو حيثما كنت”. (هب عن يحيى بن أبي كثير) مرسلا.

১৯২৭. যে পর্যন্ত তুমি আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকবে সে পর্যন্ত তুমি (যেন) নামায ও ইবাদত মশগুল রইলে। চাই তুমি দা্ড়ান থাক অথবা বসা অথবা বাজারে অথবা মজলিসে অথবা যেখা্নেই থাক না কেন।

1928 – “يا نساء المؤمنين عليكن بالتهليل والتسبيح والتقديس ولا تغفلن فتنسين الرحمة، واعقدن بالأنامل فإنها مسؤلات مستنطقات

১৯২৮. হে ইমানদারদের স্ত্রী, তোমাদের উপর তাহলীল, তাসবীহ এবং তাকদীস অত্যাবশ্যক। আর গাফলতে পতিত হয়ো না, আর না হয় রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে। আর আঙ্গুলের কড়া দিয়ে গণনা কর। কেননা এই অঙ্গগুলো থেকে প্রশ্ন করা হবে আর এরা কথা বলবে।

1929 – “يفضل الذكر الخفي الذي لا تسمعه الحفظة على الذي تسمعه سبعين ضعفا”. (ابن أبي الدنيا هب وضعفه عن عائشة) .

১৯২৯. ঐ যিকির যা নিগাহবান ফেরেশতারাও শুনতে পায় না, তা ঐ যিকির হতে সত্তর গুণ বেশী মর্যাদা রাখে, যা ঐ ফেরেশতা শুনতে পায়।

1930 – يقول الله تعالى: “أخرجوا من النار من ذكرني أو خافني في مقام”. (ابن شاهين في الترغيب في الذكر هب عن أنس) وفيه مبارك بن فضالة وثقه جماعة وضعفه (ن) .

১৯৩০. আল্লাহ তাআলা বলবেন, জাহান্নাম থেকে ঐ ব্যক্তিকে বের কর, যে আমাকে কখনও স্মরণ করেছে অথবা কোন স্থানে আমাকে ভয় করেছে।

1931 – يقول الرب عز وجل: “يوم القيامة سيعلم أهل الجمع من أهل الكرم قيل ومن أهل الكرم يا رسول الله، قال: أهل مجالس الذكر في المساجد”. (حم ع ص حب وابن شاهين في الترغيب في الذكر هب وأبي سعيد) .

১৯৩১. কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন, খুব শীঘ্রই আহলে করম এর দলদের জ্ঞান হয়ে যাবে। জিজ্ঞাসা করা হলো আহলে করম কারা ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললন, তারা মসজীদে আল্লাহর যিকির করত।

1932 – “ما كنتم تقولون فإني رأيت الرحمه تنزل عليكم فأحببت أن أشارككم فيها”. (ك عن سلمان) أنه كان في عصابة يذكرون الله تعالى فمر بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فذكره.

১৯৩২. তোমরা কি কথাবার্তা বলছিলে? আমি দেখলাম তোমাদের উপর রহমত নাযিল হচ্ছে। তখন আমারও ইচ্ছা হলো যে, আমি তোমাদের সাথে অন্তর্ভু্ত হয়ে যাই।

সাহাবীগদের এক জামাআত একত্রিত হয়ে আল্লাহর যিকির করছিলেন। রাসূলু্লাহ (সা) সেদিক দিয়ে যাওয়ার সময় উক্ত ইরশাদ করেন। 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!