দুআর বাগান- কুরআন ও হাদীসের দুআসমূহ pdf

কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হৃদয়গ্রাহী দুআসমূহ। সংকলন করেছেন আরব আলিম শায়খ আব্দদুল মালিক আল কাসিম। অনুবাদ করে পেশ করা হলো।

Download করুন এএই লিঙ্ক থেকে- Duar bagan

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

نَحْمَدُه وَنُصَلِّ عَلٰى رَسُوْلِهِ الْكَرِيْمِ

مقدمه

ভূমিকা

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.. وبعد:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। আর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা), তার পরিবার ও সকল সাহাবীদের উপর। আম্মাবাদ-

দুআ হলো মহান ইবাদত। তা আল্লাহ ব্যতীত আর কারো জন্য বৈধ নয়। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ

তার চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না। আর তারা তাদের প্রার্থনা সম্বন্ধেও অবহিত নয়। সূরা আহকাফ:৫

আর আল্লাহ তাআলা তার নিকট প্রার্থনা ও আর্জী পেশ করার নির্দেশ এবং প্রার্থনাকারীর আবেদন কবুল করার অঙ্গীকার করে বলেন-

ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ

তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের দুআ কবুল করব। সূরা মুমিন:৬০

হাদীসে এসেছে-

مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو اللَّهَ بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ، وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ، إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ بِهَا إِحْدَى ثَلَاثٍ: إِمَّا أَنْ تُعَجَّلَ لَهُ دَعْوَتُهُ، وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا  

যখন কোন মুসলমান আল্লাহর কাছে দুআ করে আর তার মধ্যে কোন গুনাহ ও আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় না থকে, তবে আল্লাহ তাকে তিনটির মধ্যে একটি অবশ্যই দান করবেন। হয় তার দুআ কবুল করে নিবেন অথবা তা আখিরাতের জন্য সঞ্চিত রাখবেন অথবা তার দ্বারা অনুরুপ কোন বিপদ দূর করে দিবেন।[1]

দুআর আদব

মুসলমান ব্যক্তি তার প্রতিপালকের নিকট দুআর ব্যপারে যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখবে তা হলো- আল্লাহর হামদ ও প্রশংসা এবং নবী (সা) এর উপর দরূদ পাঠ করা। আল্লাহর সমীপে কাকুতি-মিনতি করা। নিম্নস্বরে দুআ করা। ওযু করা, কিবলামুখী হওয়া, দুই হাত উত্তোলন করা, বারবার দুআ করা ইত্যাদি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মহান দাতা।

এমনিভাবে মুসলিম ব্যক্তি দুআর জন্য উত্তম সময় বেছে নিবে। যেমন আরাফার দিন, কদরের রাত, জুমার দিনের শেষাংশ, রাতের শেষাংশ আর প্রত্যেক ফরয নামাযের পর। আর দুআকারী যেন তার দুআ কবুলের ব্যাপারে পুরোপুরি আাস্থা ও বিশ্বাস রাখে।

পাঠকদের সম্মুখে কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবীদের আমল থেকে দুআর এক সমাহার উপহার দিতে যাচ্ছি, তা যেন মুসলিম ব্যক্তির দৈনন্দীন জীবনে সুখে-দুঃখে ও আনন্দ বেদনায় সম্বল হয়। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের দুআ কবুল করেন। তিনি উত্তম দুআ শ্রবণকারী।

كتاب الدعاء الشامل

দুআর বাগান

الْـحَمْدُ للهِ وَحْدَهُ، وَالصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ عَلَى مَنْ لاَ نَبيَّ بَعْدَهُ.. وَبَعْدُ:

সমস্ত প্রশংসা একক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর জন্য। আর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই নবীর প্রতি যার পরে আর কোন নবী নাই।

[আল কুরআনের দুআ ]

[] بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ  الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ  الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ  مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ  إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ  اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ  صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। প্রশংসা  একমাত্র আল্লাহর জন্য  যিনি নিখল বিশ্ব– জাহানের রব। যিনি পরম দয়ালু ও করুণাময়। প্রতিদান দিবসের মালিক৷ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদাত করি এবং  একমাত্র তোমারই কাছে সাহায্য চাই। তুমি আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর। তাদের পথ যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ। তাদের পথ নয় যারা ক্রোধে নিপতিত ও পথভ্রষ্ট।– সূরা আল ফাতিহা

[] رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।– সূরা বাকারা:১২৭

 []رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে দোযখের আগুন থেকে বাঁচাও।– সূরা বাকারা:২০১

رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ []

হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে ধৈর্য দান কর এবং আমাদের পা অবিচল রাখ। আর কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।– সূরা বাকারা:২৫০

[]  رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের রব! পূর্ববর্তীদের উপর যে গুরুদায়িত্ব তুমি অর্পণ করেছিলে, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না। হে আমাদের রব! এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। তুমি আমাদের মাফ করে দাও, আমাদের ক্ষমা কর। আমাদের প্রতি রহম কর। তুমিই আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তুমি আমাদেরকে সাহায্য কর। সূরা বাকারা:২৮৬

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ  []

হে আমাদের রব! সঠিক পথ প্রদর্শনের পর আমাদের অন্তরকে বক্র করো না এবং তোমার নিকট হতে আমাদেরকে করুণা দান কর। নিশ্চয়েই তুমি মহাদাতা।–সূরা আল ইমরান:৮

رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ []

হে আমাদের রব! আমরা ইমান এনেছি, সুতরাং তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি হতে রক্ষা কর।- সূরা আল ইমরান:১৬

[]    اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও। যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।- সূরা আল ইমরান:২৬

رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ []

হে আমার প্রতিপালক! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।- সূরা আল ইমরান:৩৮

رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ [১০]

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা সে বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যা তুমি নাযিল করেছ, আমরা রাসূলের অনুগত হয়েছি। অতএব, আমাদেরকে মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নাও।- সূরা আল ইমরান:৫৩

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ [১১]

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহ এবং আমাদের কাজের সকল প্রকার সীমালংঘন ক্ষমা করে দাও। আর আমাদেরকে দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।- সূরা আল ইমরান:১৪৭

 [১২]رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ  رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ

হে আমাদের প্রতিপালক! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদেরকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও। হে আমাদের প্রতিপালক!  নিশ্চয় তুমি যাকে দোযখে নিক্ষেপ করলে তাকে সবসময়ে অপমানিত করলে, আর যালিমদের জন্যে তো কোন সাহায্যকারী নেই।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিশ্চিতরূপে শুনেছি একজন আহবানকারীকে ঈমানের প্রতি আহবান করতে যে, তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন; তাই আমরা ঈমান এনেছি।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের সকল গুনাহ মাফ কর এবং আমাদের সকল দোষত্রুটি দুর করে দাও, আর আমাদের মৃত্যু দাও নেক লোকদের সাথে।

হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রসূলগণের মাধ্যমে যা দেওয়ার ওয়াদা করেছ, তা আমাদেরকে প্রদান কর এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে লাঞ্ছিত করো না। নিশ্চয় তুমি অঙ্গীকার ভঙ্গ করো না।- সূরা আল ইমরান:১৯১-১৯৪

رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ [১৩]

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ইমান এনেছি। অতএব, আমাদেরকে (ইমান ও ইসলামের) সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো।– মায়িদা:৮৩

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ [১৪]

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি যুলম করেছি। যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা ও দয়া না করো, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাব।- সূরা আরাফ:২৩

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ [১৫]

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে যালিমদের সাথী করো না।– সূরা আরাফ:৪৭

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ [১৬]

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায়ের উৎপীড়নের পাত্র করো না।- সূরা ইউনূস:৮৫

[১৭] رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُنْ مِنَ الْخَاسِرِينَ

হে আমার প্রতিপালক! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে তোমার কাছে প্রার্থনা করা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না করো ও  দয়া না করো, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব।- সূরা হুদ:৪৭

رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ [১৮]

হে আমার প্রতিপালক! এ শহরকে নিরাপদ ও শান্তিময় করে দাও এবং আমাকে ও আমার সন্তান-সন্ততীকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখ।- সূরা ইবরাহিম:৩৫

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ [১৯]

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামায কায়েমকারী কর এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের প্রতিপালক! আর কবুল কর আমাদের দুআ।-সূরা ইবরাহিম:৪০

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ [২০]

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা কর- যেদিন হিসাব কায়েম হবে।- সূরা ইবরাহিম:৪১

رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا [২১]

হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছে।– সূরা ইসরা:২৪

 [২২] رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَلْ لِي مِنْ لَدُنْكَ سُلْطَانًا نَصِيرًا

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং বের কর কল্যাণের সাথে। আর তোমার নিকট থেকে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি।– সূরা ইসরা:৮০

رَبَّنَا آتِنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا [২৩]

হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান কর। আর আমাদের জন্য আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা কর।– সূরা কাহাফ:১০

رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا [২৪]

হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।– সূরা ত্বাহা:১১৪

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ [২৫]

হে আল্লাহ! তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। তুমি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি নিজের প্রতি যুলুম করেছি।– সূরা আম্বিয়া:৮৭

رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ [২৬]

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একা নিঃসঙ্গ রেখো না। তুমিই তো উত্তম ওয়ারিস।-সূরা আম্বিয়া:৮৯

رَبِّ أَنْزِلْنِي مُنْزَلًا مُبَارَكًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْمُنْزِلِينَ [২৭]

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমনভাবে অবতরণ করাও যা হবে কল্যাণকর। আর তুমিই তো শ্রেষ্ঠ অবতরণকারী।– সূরা মুমিনূন:২৯

رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ [২৮]

হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং হে আমার প্রতিপালক! আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি।– সূরা মুমিনূন:৯৭-৯৮

رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ [২৯]

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।- সূরা মুমিনূন:১০৯

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ [৩০]

হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও দয়া কর। দয়ালুদের মধ্যে তুমিই তো শ্রেষ্ট দয়ালু।- সূরা মুমিনূন:১১৮

[৩১] رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ

হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।– সূরা নামল:১৯

رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي [৩২]

হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার নিজের উপর যুলুম করেছি। অতএব, তুমি আমাকে ক্ষমা কর।– সূরা কাসাস:১৬

رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِلْمُجْرِمِينَ [৩৩]

হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছ, এরপর আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না।- সূরা কাসাস:১৬

رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ [৩৪]

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে যালিম সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা কর।- সূরা কাসাস:২১

رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ [৩৫]

হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।- সূরা কাসাস:২৪

رَبِّ انْصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ [৩৬]

হে আমার প্রতিপালক! দুস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য কর।– সূরা আনকাবূত:৩০

رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا [৩৭]

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কাছ থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও। নিশ্চয় এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ।– সূরা ফুরকান:৬৫

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا [৩৮]

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে চোখের শীতলতা প্রদান কর এবং আমাদেরকে কর মুত্তাকীদের জন্য ইমাম বা আদর্শস্বরূপ। -সূরা ফুরকান:৭৪

[৩৯] رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدْتَهُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং তোমার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা কর এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর। হে আমাদের প্রতিপালক! আর তাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাদেরকে দিয়েছ এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ তাদেরকেও। নিশ্চয় তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।– সূরা মুমিন:৭-৮

 [৪০]    رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ

হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, তার জন্য যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করতে পারি। আর আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর। আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি অবশ্যই আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।– সূরা আহকাফ:১৫

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ [৪১]

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নেক সন্তান দান কর।– সূরা আস সাফফাত:১০০

 [৪২]    رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ

হে আমাদের প্রতিপালক!  আমাদেরকে এবং ঈমানে অগ্রগামী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি দয়ালু, পরম করুণাময়।– সূরা হাশর:১০

[৪৩] رَبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ  رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের পাত্র করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।– সূরা মুমতাহিনা:৪-৫

[৪৪] رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنْ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا

হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে- তাদেরকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন এবং যালিমদের জন্য কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন।– সূরা নূহ:২৮

 

নবী (সা) ও সাহাবীদের দুআ

 [৪৫]    اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।[2]

 [৪৬]    اللَّهُمَّ إِنّي أَعُوذ بكَ: مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ، وَفِتْنَةِ الْـقَبْرِ، وَعَذَابِ الْـقَبْرِ، وَشَرِّ فِتْنَةِ الْـغِنَى وَشَرِّ فِتْنَةِ الْـفَقْرِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بِكَ مِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْـمَسِيحِ الدَّجَّالِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْ قَلْبِي بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْـبَرْدِ، وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْـخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْـمَشْرِقِ وَالْـمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْـكَسلِ وَالْـمَأْثَمِ وَالْـمَغْرَمِ

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি তোমার কাছে দোযখের ফিতনা, কবরের ফিতনা, কবরের আযাব, প্রাচুর্যের ফিতনা এবং অভাব ও দারিদ্রের ফিতনা থেকে পানাহ চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট মসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই।

হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে বরফ শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে দাও। আমার অন্তরকে গুনাহ থেকে এমনভাবে সাফ করে দাও, যেভাবে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিস্কার করা হয়। আর তুমি আমার ও আমার গুনাহর মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও যতটা দূরত্ব তুমি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে সৃষ্টি করেছ।

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট পানাহ চাই অলসতা, গুনাহ এবং ঋণ থেকে।[3]

 [৪৭]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ: مِنَ الْـعَجزِ وَالْـكسل، وَالْـجُبنِ وَالْـهَرمِ وَالْـبُخْلِ، وَأَعُوذ بكَ: مِنْ عَذَابِ الْـقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْـمَحْيَا وَالْـمَمَاتِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, বার্ধক্য ও কৃপণতা থেকে। আমি আরো আশ্রয় চাই কবরের আযাব এবং জীবন মৃত্যুর ফিতনা থেকে।[4]

 [৪৮]    اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوذ بكَ: مِنْ جَهَدِ الْـبَلاَءِ، وَدَرْكِ الشَّقَاءِ، وَسُوْءِ الْـقَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই দুর্বিষহ বিপদ থেকে, দুর্ভাগ্যের শিকার হওয়া থেকে, নিয়তীর অশুভ পরিনাম এবং শত্রুর খুশী হওয়া থেকে।[5]

 [৪৯]    اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِيْ دِيْنِي الَّذِيْ هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي، وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيْهَا مَعَاشِي، وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِي الَّتِي فِيْهَا مَعَادِي، وَاجْعَلِ الْـحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ، وَاجْعَلِ الْـمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ

হে আল্লাহ! তুমি আমার দীনকে ঠিক করে দাও, যা আমার সকল কাজের হিফাযতকারী। আমার দুনিয়াকে ঠিক করে দাও, যেখানে রয়েছে আমার জীবন-জীবিকা। আমার আখিরাতকে ঠিক করে দাও, যেখানে আমাকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। নেক ও কল্যাণকর কাজের সাথে আমার হায়াতকে বাড়িয়ে দাও। আর সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে আমাকে শান্তিময় মৃত্যু দান কর।[6]

 [৫০]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: الْـهُدَى، وَالتُّقَى، وَالْـعَفَافَ، وَالْـغِنَى

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি হিদায়াত ও সঠিক পথ, তাকওয়া ও সংযম,  পূত-পবিত্রতা ও নিষ্কলুষতা এবং পরমুখাপেক্ষিহীনতা ও সমৃদ্ধি।[7]

 [৫১]     اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بِكَ مِنَ الْـعَجْزِ وَالْـكَسَلِ، وَالْـجُبنِ وَالْـبُخْلِ وَالْـهَرمِ، وَعَذَابِ الْـقَبْرِ، اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّـاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاَهَا، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ، وَمِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ، وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ، وَمِنْ دَعْوَةٍ لاَ يُسْتَجَابُ لَهَا

হে আল্লাহ! আমি তোমার কছে আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা ও বার্ধক্য এবং কবরের আযাব থেকে। হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে তাকওয়া দান কর এবং একে পরিশুদ্ধ করে দাও। তুমিই তো একে সর্বোত্তম পরিশুদ্ধকারী। তুমিই তো এর অভিভাবক ও মাওলা। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই এমন ইলম থেকে যা উপকার করে না। এমন কলব থেকে যা বিনম্র হয় না। এমন নফস থেকে যা তৃপ্ত হয় না। আর এমন দুআ থেকে যা কবুল হয় না।[8]

 [৫২]    اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْـهُدَى وَالسَّدَادَ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হিদায়াত দান কর এবং সোজা পথে রাখ। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হিদায়াত ও সরলপথ কামনা করছি।[9]

 [৫৩]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بِكَ: مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحُوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجْأَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخْطِكَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- তোমার দেয়া নিয়ামতের পতন থেকে, তোমার প্রদত্ত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার অধঃপতন থেকে, তোমার আকস্মিক পাকড়াও এবং তোমার সব ধরণের ক্রোধ ও অসন্তুষ্টি থেকে।[10]

 [৫৪]    اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالِيْ وَوَلَدِي، وَبَارِكْ لِي فِيْمَا أَعْطَيْتَنِي، وَأَطِلّ حَيَاتِي عَلَى طَاعَتِكَ، وَأَحْسِنْ عَمَلِي وَاغْفِرْ لِي

হে আল্লাহ! আমার মাল-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দাও। তুমি আমাকে যা দিয়েছ তার মধ্যে বরকত প্রদান কর। তোমার আনুগত্যের সাথে আমার হায়াতকে বৃদ্ধি করে দাও। আমার আমলকে সুন্দর করে দাও এবং আমাকে ক্ষমা করে দাও।[11]

 [৫৫]    لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ الْـعَظِيمُ الْـحَلِيمُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ رَبُّ الْـعَرْشِ الْـعَظِيمِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ الله رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ الْـعَرْشِ الْـكَرِيمِ

আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই,  যিনি মহান ও সহনশীল। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি আরশে আযীমের প্রভু। আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই, যিনি আসমানের প্রতিপালক, যমীনের প্রতিপালক এবং সম্মানিত আরশের প্রতিপালক।[12]

 [৫৬]    اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو، فَلا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার রহমতের আশা রাখি। তুমি আমাকে এক মুহুর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিয়ো না। আর আমার সকল অবস্থাকে ঠিক করে দাও। তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই।[13]

  [৫৭]    لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমীন।[14]

 [৫৮]    اللَّهُمَّ إنِّي عَبْدُكَ ابْنُ عَبْدِكَ ابْنُ أَمَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بهِ نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَداً مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْـغَيْبِ عِنْدَكَ: أَنْ تَجْعَلَ الْـقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي، وَنُورَ صَدرِي، وَجلاَءَ حزنِي، وَذَهَابَ هَمِّي

হে আল্লাহ! আমি তোমার বান্দা, তোমারই এক বান্দার পুত্র এবং তোমার এক বাঁদীর পুত্র। আমার কপাল (নিয়ন্ত্রণ) তোমারই হাতে। আমার উপর তোমার নির্দেশ কার্যকর। আমার ব্যাপারে তোমার ফয়সালা ন্যায়পূর্ণ। আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি তোমার প্রতিটি নামের উসীলায়- যে নাম তুমি নিজের জন্য নিজে রেখেছ অথবা তোমার কোন কিতাবে নাযিল করেছ অথবা তোমার সৃষ্টজীবের কাউকে শিখিয়েছ অথবা তোমার গায়েবী জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছ— তুমি কুরআনকে আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, আমার বক্ষের জ্যোতি, আমার দুঃখের অপসারণকারী এবং দুশ্চিন্তা দূরকারী বানিয়ে দাও।[15]

 [৫৯]    اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْـقُلُوبِ، صَرِّفْ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ

হে আল্লাহ! অন্তরের পরিবর্তনকারী। আমার অন্তরকে তোমার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দাও।[16]

 [৬০]    يَا مُقَلِّبَ الْـقُلُوبِ، ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ

হে অন্তরের উলট-পালটকারী। আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর দৃঢ় রাখ।[17]

 [৬১]    اللَّهُمَّ إنِّي أَسْأَلُكَ الْـعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।[18]

 [৬২]    اللَّهُمَّ أَحْسِنْ عَاقِبَتَنَا فِي الأُمُورِ كُلِّهَا، وَأَجِرْنَا مِنْ خِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْـقَبْرِ

হে আল্লাহ! আমাদের সকল কাজের পরিণতি কল্যাণময় করে দাও এবং আমাদেরকে দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতর আযাব থেকে রক্ষা কর।[19]

 [৬৩]    ربِّ أَعِنِّي وَلاَ تُعِنْ عَلَيَّ، وَانْصُرْنِي وَلاَ تَنْصُرْ عَلَيَّ، وَامْكُرْ لِيْ وَلاَ تَمْكُرْ عَلَيَّ، اجْعَلْنِي لَكَ شَكَّاراً، لَكَ ذكّاراً، لَكَ رَهَّاباً، لَكَ مِطْوَاعاً، إِلَيْكَ مُخْبتاً أَوَّاهاً مُنِيباً، رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَاهْدِ قَلْبي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ قَلْبي

হে আমার রব! আমাকে সাহায্য কর, আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না। আমাকে সহযোগিতা করো, আমার বিরুদ্ধে কাউকে সহযোগিতা করো না। আমার জন্য কৌশল করো, আমার বিরুদ্ধে কারো কৌশল কার্যকর করো না।

হে আমার রব! আমাকে তোমার জন্য কৃতজ্ঞ বান্দা বানাও। তোমার অধিক যিকিরকারী, তোমাকে অধিক ভয়কারী, তোমার অধিক আনুগত্যকারী, তোমার নিকট অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী বানাও।

হে আমার রব! আমার তওবা কবুল কর। আমার সমস্ত গুনাহ ধুয়ে ফেল। আমার দুআ কবুল কর। আমার যুক্তি-প্রমাণ বহাল কর। আমার অন্তরকে হিদায়াত দান কর। আমার যবানকে সোজা রাখো এবং আমার মনের কলুষতা দূর করে দাও।[20]

 [৬৪]    اللَّهُمَّ إنّي أَعُوذ بكَ مِنْ شَرِّ سَمعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي، وَمِن شَرِّ لِسَانِي، وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي، وَمِنْ شَرِّ مَنِيّي

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই আমার কানের অনিষ্ট থেকে, আমার চোখের অনিষ্ট থেকে, আমার যবানের অনিষ্ট থেকে, আমার অন্তরের অনিষ্ট থেকে এবং আমার বীর্যের অনিষ্ট থেকে।[21]

 [৬৫]    اللَّهُمَّ إنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْـعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল মহানুভব। ক্ষমা করতে ভালবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দাও।[22]

 [৬৬]    اللَّهُمَّ إنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْـخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْـمُنْكَرَاتِ، وَحُبَّ الْـمَسَاكِينِ، وَأَنْ تَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمَنِي، وَإِذا أَرَدْتَ فِتْنَةَ قَوْمٍ فَتَوَفَّنِي غَيْرَ مَفْتُونٍ، وَأَسْأَلُكَ حُبَّكَ، وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ، وَحَبَّ عَمَلٍ يُّقرِّبُنِي إِلَى حُبِّكَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি নেককাজ করা এবং মন্দ কাজ পরিত্যাগ করা এবং মিসকীনদের প্রতি ভালবাসা পোষণ করা। আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার প্রতি দয়া কর। আর যখন তুমি কোন সম্প্রদায়কে ফিতনায় পতিত করতে ইচ্ছা কর, তখন আমাকে ফিতনায় পতিত করা ব্যতীত মৃত্যু দান কর।

(হে আল্লাহ!) আমি চাই তোমার ভালবাসা। তোমাকে যারা ভালবাসে তাদের ভালবাসা এবং যে আমল আমাকে তোমার নিকটবর্তী করবে সেই আমলের ভালবাসা।[23]

 [৬৭]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْـأَلُكَ مِنَ الْـخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَعُوذُ بكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، وَمَا عَلِمْتُ مِنْهُ، وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، اللَّهُمَّ إنّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَنَبيُّكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْـجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَعُوذ بكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَسْأَلُكَ أَنْ تَجْعَلَ كُلَّ قَضَاءٍ قَضَيْتَهُ لِيْ خَيْراً

হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দ্রুত ও বিলম্বে আগমনকারী, জানা ও অজানা সকল কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার কাছে দ্রুত ও বিলম্বে আগমনকারী, জানা ও অজানা সকল অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সেসব কল্যাণ প্রার্থনা করছি যা তোমার বান্দা ও নবী (সা) প্রার্থনা করেছেন। আর আমি তোমার নিকট সেসব অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা থেকে তোমার বান্দা ও নবী (সা) আশ্রয় কামনা করেছেন।

হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করি এবং ঐসব কথা ও কাজের প্রার্থনা করি যেগুলো আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেবে। আর আমি তোমার নিকট জাহান্নাম থেকে পানাহ চাচ্ছি এবং ঐসব কথা ও কাজ হতেও পানাহ চাচ্ছি যেগুলো আমাকে জাহান্নামের নিকটবর্তী করে দেবে। আর আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি  যে, তুমি আমার তাকদীরে যা নির্ধারণ করে রেখেছ তার পরিনাম আমার জন্য কল্যাণকর কর।[24]

 [৬৮]    اللَّهُمَّ احْفَظْنِي بالإِسْلاَمِ قَائِماً، وَاحْفَظْنِي بالإِسْلاَمِ قَاعِداً، وَاحْفَظْنِي بِالإِسْلاَمِ رَاقِداً، وَلاَ تشْمِتْ بي عَدُوّاً وَلاَ حَاسِداً، اللَّهُمَّ إنّي أَسْأَلُكَ مِنْ كُلِّ خَيْرٍ خَزَائِنُهُ بيَدِكَ، وَأَعُوذُ بكَ مِنْ كُلِّ شَرٍّ خَزَائِنُهُ بيَدِكَ

হে আল্লাহ্! তুমি দাড়ান অবস্থায় আমাকে ইসলাম দ্বারা হিফাযত কর। বসা অবস্থায় আমাকে ইসলাম দ্বারা হিফাযত কর। শায়িত অবস্থায়ও আমাকে ইসলাম দ্বারা হিফাযত কর। আমার ব্যাপারে আমার হিংসুক শত্রুকে কখনো খুশী হওয়ার সুযোগ প্রদান করো না। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সকল কল্যাণ প্রার্থনা করি যার ভাণ্ডার তোমার হাতে। আর তোমার নিকট সকল অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি যার উৎস তোমার হাতে।[25]

 [৬৯]    اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا تَحُولُ بهِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيكَ، وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بهِ جَنَّتَكَ، وَمِنَ الْـيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بهِ عَلَيْنَا مَصَائِبَ الدُّنْيَا، اللَّهُمَّ مَتِّعْنَا بَأَسْمَاعِنَا وَبأَبْصَارِنَا، وَقُوَّاتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا، وَاجْعَلْهُ الْـوَارِثَ مِنَّا، وَاجْعَلْ ثَأْرَنَا عَلَى مَن ظَلَمَنَا، وَانْصُرْنَا عَلَى عَدُوِّنَا، وَلاَ تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا، وَلاَ تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا، وَلاَ مَبْلَغَ عِلْمِنَا، وَلاَ تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لاَ يَرْحَمُنَا

হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে তোমার ভয় ঐ পরিমাণ দান কর, যার দ্বারা তুমি আমাদের ও আমাদের গুনাহর মাঝে বাঁধার সৃষ্টি করবে। তোমার ইবাদত-আনুগত্য ঐ পরিমাণ দান কর যার দ্বারা তুমি আমাদেরকে জান্নাতে পৌছে দেবে। ইমান ও ইয়াকীন ঐ পরিমাণ দান কর যার দ্বারা তুমি আমাদের দুনিয়ার বিপদাপদ সহজ করে দেবে।

হে আল্লাহ! যতদিন আমাদেরকে জীবিত রাখবে ততদিন আমাদেরকে আমাদের চোখ কান ও শক্তি ক্ষমতা দ্বারা উপকৃত কর। আর তা আমাদের উত্তরাধিকার কর। যারা আমাদের উপর অত্যাচার করে তাদের থেকে আমাদের প্রতিশোধ গ্রহণ কর। আর যারা আমাদের প্রতি শত্রুতা করে তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর। আমাদেরকে দীনের ব্যাপারে কখনো বিপদগ্রস্ত করো না। দুনিয়াকে আমাকে চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং জ্ঞানের শেষ সীমা করো না। আর এমন কোন ব্যক্তিকে আমাদের উপর আধিপত্য দিয়ো না, যে আমাদের প্রতি সদয় আচরণ করবে না।[26]

 [৭০]    اللَّهُمَّ إنّي أَعُوذ بكَ مِنَ الْـجُبنِ، وَأُعُوذ بكَ مِنَ الْـبُخلِ، وَأَعُوذ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذلِ الْـعُمرِ، وَأَعُوذ بكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْـقَبرِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই কাপুরুষতা থেকে। তোমার আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে। তোমার আশ্রয় চাই অকর্মণ্য বয়স থেকে। আর তোমার আশ্রয় চাই দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে।[27]

 [৭১]    اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي، وَجَهْلِي، وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بهِ مِنِّي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي هَزلِي وَجدِّي، وَخَطَئِي وَعَمَدِي، وَكُلَّ ذلِكَ عِنْدِي

হে আল্লাহ! তুমি মাফ করে দাও আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল প্রকার সীমালংঘন এবং আমার সেসব গুনাহ যা তুমি আমার চেয়েও বেশী জান। হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমা করে দাও আমার ইচ্ছাকৃত পাপ, উপহাসমূলক পাপ এবং আমার ভুলত্রুটি। আর এই ধরণের সব গুনা আমার মধ্যে রয়েছে।[28]

 [৭২]    اللَّهُمَّ إنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْماً كَثِيراً، وَلا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّك أَنْتَ الْـغَفُورُ الرَّحِيمُ

হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অনেক অন্যায়-অবিচার করেছি এবং তুমি ব্যতীত গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই। অতএব আমাকে তোমার পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দাও। আমার উপর দয়া কর। কেননা তুমি ক্ষমাকারী ও দয়াকারী।[29]

 [৭৩]    اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبكَ خَاصَمْتُ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بعِزَّتِكَ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَنْ تُضِلَّنِي، أَنْتَ الْـحَيُّ الَّذِي لاَ يَمُوتُ، وَالْـجِنُّ وَالإِنْسُ يَمُوتُونَ

হে আল্লাহ! আমি তোমারই নিকট আত্মসমর্পণ করেছি এবং তোমার প্রতিই ঈমান এনেছি। তোমার উপরই ভরসা করছি, তোমার দিকেই রুজু হয়েছি এবং তোমার জন্যই লড়াই ঝগড়া  করেছি। হে আল্লাহ! তোমার ইযযতের কাছে পানাহ চাচ্ছি, তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই । তুমি আমাকে পথভ্রষ্ট করো না। তুমি চিরঞ্জীব সত্তা, যার মৃত্যূ নেই । আর জিন ও ইনসান সবাই মৃত্যুবরণ করবে।[30]

 [৭৪]    اللَّهُمَّ إنّا نَسْأَلُكَ مُوْجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ وَالْـغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ برٍّ وَالْـفَوْزَ بالْـجَنَّةِ، وَالنَّجَاةَ مِنَ النَّارِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার রহমত নির্ধারণকারী বিষয় প্রার্থনা করছি। তোমার মাগফিরাতের কার্যকারণসমূহ প্রার্থনা করছি। আর (প্রার্থনা করছি) প্রতিটি গুনাহ হতে দূরে থাকা ও প্রতিটি নেকী লাভ করা এবং জান্নাতের সাফল্য ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি।[31]

 [৭৫]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ مِنْ شَرِّ مَا عَلِمْتُ، وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْلَمْ

হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই সে সব অনিষ্ট থেকে যা আমি জানি আর যা আমি জানি না।[32]

 [৭৬]    اللَّهُمَّ اجْعَلْ أَوْسَعَ رِزْقِكَ عَلَيَّ عَنْدَ كِبَرِ سِنِّي، وَانْقِطَاعِ عُمرِي

হে আল্লাহ! তুমি আমার বার্ধক্য ও শেষ জীবনে অধিকতর প্রশস্ত রিযিক দান কর।[33]

 [৭৭]اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذنْبي، وَوَسِّعْ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِي رِزْقِي

হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর। আমার গৃহে প্রশস্ততা দান কর। আর আমার রিযিকের মধ্যে বরকত দান কর।[34]

 [৭৮] اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ، فَإِنَّه لا يَمْلِكُهَا إِلاَّ أَنْتَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ ও রহমত কামনা করি। কেননা তুমি ব্যতীত এগুলোর কেউ মালিক নয়।[35]

 [৭৯]   اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ: مِنَ التَّرَدِّي، وَالْـهَدمِ، وَالْـغَرقِ، وَالْـحَرقِ، وَأَعُوذ بكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِيَ الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْـمَوْتِ، وَأَعُوذ بكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبيلِكَ مُدْبراً، وَأَعُوذ بكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيْغاً

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি উপর থেকে পড়ে যাওয়া, ঘর চাপা পড়া, পানিতে ডূবে যাওয়া এবং আগুনে দগ্ধিভূত হওয়া থেকে। আমি তোমার আশ্রয় চাই মৃত্যূর সময় শয়তানের আক্রমণ থেকে। আমি তোমার আশ্রয় চাই তোমার রাস্তায় পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে মৃত্যুবরণ করা হতে। আর আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি (বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে) দংশিত হয়ে মৃত্যূবরণ করা থেকে।[36]

 [৮০]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ: مِنَ الْـعَجزِ، وَالْـكَسلِ، وَالْـجُبنِ، وَالْـبُخلِ، وَالْـهَرمِ، وَالْـكُفْرِ، وَالْـفُسُوقِ، وَالشِّقَاقِ، وَالنِّفَاقِ، وَالسُّمْعَةِ، وَالرِّيَاءِ، وَأَعُوذ بكَ مِنَ الصَّممِ، وَالْـبكمِ، وَالْـجُنُونِ، وَالْـجُذَامِ، وَالْـبَرصِ وَسَيِّئِ الأَسْقَامِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপূরুষতা, চরম বার্ধক্য, কুফরী ও পাপাচার, বিবাদ ও নিফাক, আত্ম-প্রকাশ ও প্রদর্শনেচ্ছা থেকে। আমি তোমার আরো আশ্রয় চাই মুক, বোবা, পাগলামী, কুষ্ঠ ও ধবল কুষ্ঠ এবং অন্যান্য সব খারাপ রোগ ব্যাধি থেকে।[37]

 [৮১]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ: مِنَ الْـفَقْرِ، وَالْـقِلَّةِ، وَالذِّلَّةِ، وَأَعُوذ بكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أوْ أُظْلَمَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই দারিদ্রতা, স্বল্পতা, অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে। আরো আশ্রয় চাই কাউকে নির্যাতন করা ও কারো দ্বারা নির্যাতিত হওয়া থেকে।[38]

 [৮২]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ: مِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ، وَمِنْ دُعَاءٍ لاَ يُسْمَعُ، وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ، وَمِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ، أَعُوذ بكَ مِنْ هَؤُلاءِ الأَرْبَع

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন অন্তর থেকে পানাহ চাই যা বিনম্র হয় না।  এমন দুআ থেকে যা শ্রবণ করা হয় না। এমন নফস থেকে যা তৃপ্ত হয় না। আর এমন ইলম থেকে যা উপকার করে না। আমি তোমার আশ্রয় চাই এই চারটি বিষয় থেকে।[39]

 [৮৩]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ: مِنْ يَوْمِ السُّوءِ، وَمِنْ لَيْلَةِ السُّوءِ، وَمِنْ سَاعَةِ السُّوءِ، وَمِنْ صَاحِبِ السُّوءِ، وَمِنْ جَارِ السُّوءِ فِي دَارِ الْـمَقَامَةِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই মন্দ দিন, মন্দ রাত, মন্দ সময়, মন্দ সঙ্গী এবং মন্দ প্রতিবেশী থেকে।[40]

 [৮৪]  اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْـجَنَّةَ وَأَسْتَجِيرُ بكَ مِنَ النَّارِ» (ثلاث مرات)

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জান্নাত প্রার্থনা করি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই (তিনবার)।[41]

[৮৫]اللَّهُمَّ فَقِّهْنِي فِي الدِّينِ

হে আল্লাহ! আমাকে দীনের গভীর জ্ঞান দান কর।[42]

 [৮৬] اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ: أَنْ أُشْرِكَ بكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ

হে আল্লাহ! জেনে বুঝে তোমার সাথে শিরক করা থেকে পানাহ চাই। আর অজানাভাবে যা হয়েছে তার জন্য ক্ষমা চাই।[43]

 [৮৭] اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْماً نَافِعاً، وَرِزْقاً طَيِّباً وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি উপকারী ইলম, পবিত্র রিযিক এবং মকবুল আমল।[44]

 [৮৮]  اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْماً نَافِعاً، وَأَعُوذ بكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপকারী ইলম প্রার্থনা করি এবং অপকারী ইলম থেকে পানাহ চাই।[45]

 [৮৯]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ يَا اللهُ بأَنَّكَ الْـوَاحِدُ الأَحَدُ، الصَّمَدُ، الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ، أَنْ تَغْفِرَ لِي ذنُوبي، إِنَّكَ أَنْتَ الْـغَفُورُ الرَّحِيمُ

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তুমি একক ও অমুখাপেক্ষী। যার কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারো সন্তান নন। আর তার সমকক্ষ কেউ নেই। অতএব তুমি আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ক্ষমাশীল দয়ালু।[46]

 [৯০]    اللَّهُمَّ أَنْتَ اللهُ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ، أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْـبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، أَنْتَ الْـمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْـمُؤَخِّرُ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র আল্লাহ। যিনি কাউকে জন্ম দেন নি এবং তিনিও কারো থেকে জন্ম নেননি আর তার সমকক্ষ কেউ নেই। (হে আল্লাহ!) তুমিই প্রথম, তোমার পূর্বে কিছু নেই। তুমিই শেষ, তোমার পরে কিছু নেই। তুমিই প্রকাশ্য, তোমার উপরে কিছু নেই। তুমিই গোপন, তোমার নিচে আর কিছু নেই। তুমিই অগ্রগামী কর এবং তুমিই পিছনে ফেল। আর তুমি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

 [৯১]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بأَنَّ لَكَ الْـحَمْدُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ، يَا بَدِيعَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ، يَا ذا الْـجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، إِنِّي أَسْأَلُكَ الْـجَنَّةَ، وَأَعُوذ بكَ مِنَ النَّارِ

হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমারই জন্য। তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। তুমি একক, তোমার কোন শরীক নাই। হে আসমান ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা! হে মহা সম্মানের অধিকারী। হে চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আমি তোমার নিকট জান্নাত প্রার্থনা করি এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ চাই।[47]

 [৯২]  رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْـغَفُورُ

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার তওবা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি তওবা গ্রহণকারী ক্ষমাকারী।[48]

 [৯৩]    اللَّهُمَّ بعِلْمِكَ الْـغَيْبِ، وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْـخَلْقِ، أَحْينِي مَا عَلِمْتَ الْـحَيَاةَ خَيْراً لِي، وَتَوَفَّنِي إِذا عَلِمْتَ الْـوَفَاةَ خَيْراً لِي، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْـغَيْبِ، وَأَسْأَلُكَ الْـقَصدَ فِي الْـغِنَى وَالْـفَقْرِ، وَأَسْأَلُكَ نَعِيماً لاَ يَنْفَدُ، وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لاَ تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْـقَضَاءِ، وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْـعَيْشِ بَعْدَ الْـمَوْتِ، وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَلاَ فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِيْنَةِ الإِيْمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ

হে আল্লাহ! গায়েবী বিষয়ে তোমার জ্ঞান এবং সমস্ত সৃষ্টির উপর তোমার সক্ষমতা দ্বারা আমাকে ততদিন জীবিত রাখ, যতদিন সম্পর্কে তুমি জান যে, জীবন আমার জন্য কল্যাণকর। আর যখন তোমার জ্ঞানে আমার মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর, তখন আমাকে মৃত্যু দান করো।

হে আল্লাহ! আমি প্রার্থনা করি গোপনে (ও প্রকাশ্যে) তোমাকে ভয় করার। প্রাচূর্য ও দারিদ্র উভয় অবস্থায় মধ্যমপন্থা অবলম্বনের। তোমার নিকট প্রার্থনা করি এমন নিআমত যা কখনো শেষ হবে না। চোখের এমন শীতলতা যা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমার নিকট চাই তোমার ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি এবং মৃত্যুর পর আরামের জীবন। আরো চাই তোমার সুন্দর চেহারার দর্শন এবং তোমার সাক্ষাতের এমন আগ্রহ যা ক্ষতিকারক বিপদ ও পথভ্রষ্টকারী ফিতনায় পতিত হওয়া ব্যতীত লাভ হবে। হে আল্লাহ! আমাদেরকে ইমানের সৌন্দর্যে ভূষিত কর এবং সত্যপথগামী নেতা বানাও।[49]

 [৯৪]    اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي مِنَ الذُّنُوبِ وَالْـخَطَايَا، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْهَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالثَّلْجِ وَالْـبَرْدِ وَالْـمَاءِ الْـبَارِدِ

হে আল্লাহ! আমাকে পবিত্র কর গুনাহ ও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে। হে আল্লাহ! আমাকে এগুলো থেকে পবিত্র কর যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তুষার ও বরফের পানি দ্বারা এবং শীতল পানি দ্বারা পবিত্র করে দাও।[50]

 [৯৫]    اللَّهُمَّ رَبَّ جَبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَرَبَّ إِسْرَافِيلَ، أَعُوذ بكَ مِنْ حَرِّ النَّارِ، وَمِنْ عَذَابِ الْـقَبْرِ

হে আল্লাহ! জিবরাইল মিকাইল ও ইসরাফীলের রব! আমি তোমার আশ্রয় চাই জাহান্নামের উত্তাপ এবং কবরের আযাব থেকে।[51]

 [৯৬]  اللَّهُمَّ الْـهِمْنِي رُشْدِي، وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي

হে আল্লাহ! আমার অন্তরে সৎপথের দিশা দান কর এবং আমাকে আমার নফসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা কর।[52]

 [৯৭]    اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ، وَرَبَّ الْـعَرْشِ الْـعَظِيمِ، رَبنَّا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْـحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْـفُرْقَانِ، أَعُوذ بكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بنِاَصِيَتِهِ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْـبَاطِنُ فَلَيْسَ دُوْنَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَاغْنِنَا مِنَ الْـفَقْرِ

হে আল্লাহ! হে আকাশের রব, যমিনের রব, মহান আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব! হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও ফুরকান (কুরআন) নাযিলকারী। আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার (মাথার) অগ্রভাগ তুমি ধরে রেখেছ (নিয়ন্ত্রণ করছ)। হে আল্লাহ! তুমিই প্রথম, তোমার পূর্বে কিছু নাই। তুমি সর্বশেষ, তোমার পরেও কিছু নাই। তুমি প্রকাশ্য, তোমার উপরে কিছু নাই। তুমিই গোপন, তোমার নিম্নেও কিছু নাই। তুমি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দাও এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত কর।[53]

 [৯৮]    اللَّهُمَّ ألِّفْ بَيْنَ قُلُوبنَا، وَأَصْلِحْ ذاتَ بَيْنِنِا، وَاهْدِنَا سُبُلَ السَّلاَمِ، وَنَجِّنَا مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ، وَجَنِّبْنَا الْـفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ، وَبَارِكْ لَنَا فِي أَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا، وَقُلُوبنَا، وَأَزْوَاجِنَا، وَذُرِّيَّاتِنَا، وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ، وَاجْعَلْنَا شَاكِرِينَ لِنِعَمِكَ، مُثْنِينَ بهَا عَلَيْكَ، قَابلِينَ لَهَا وَأَتِمِمْهَا عَلَيْنَا

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে পারস্পরিক মিল-মহব্বত দান কর এবং আমাদের সকল অবস্থা ঠিক করে দাও। আমাদেরকে শান্তির পথে চালাও। অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এনে নাজাত দাও। দূরে রাখ আমাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লিলতা থেকে। বরকত দাও আমাদের কানে, চোখে, অন্তরে, স্ত্রী ও সন্তান-সন্তীতে। আমাদের তওবা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী অতি দয়ালু। আমাদেরকে কর তোমার নিআমতের শোকরগুযার, তার প্রশংসাকারী ও তার যোগ্য। আর এই নিআমতগুলো আমাদের উপর পূর্ণ করে দাও।[54]

 [৯৯]  اللَّهُمَّ جَنِّبْنِي مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَهْوَاءِ وَالأَعْمَالِ وَالأَدْوَاءِ

হে আল্লাহ! দূরে রাখ আমাকে খারাপ স্বভাব-চরিত্র, নফসানী খাহেশের অনুসরণ, খারাপ কাজ-কর্ম এবং খারাপ রোগ-ব্যাধি থেকে।[55]

 [১০০]  اللَّهُمَّ حَاسِبْنِي حِسَاباً يَسِيراً

হে আল্লাহ! তুমি আমার হিসাব সহজভাবে নিও।[56]

 [১০১]  اللَّهُمَّ أَعِنَّا عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

হে আল্লাহ! তোমার যিকির, তোমার শোকর এবং তোমার উত্তম ইবাদতের জন্য আমাদেরকে সাহায্য কর।[57]

 [১০২]   اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيْمَاناً لاَ يرْتَدّ، وَنَعِيماً لاَ يَنْفَدُ، وَمُرَافَقَةَ مُحَمَّدٍ فِي أَعْلَى جَنَّةِ الْـخُلْدِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন ইমান চাই যা কখনো ফিরে যাবে না। এমন নিআমত চাই যা কখনো শেষ হবে না। আর চিরস্থায়ী জান্নাতের উচ্চ স্থানে মুহাম্মদ (সা) এর সান্নিধ্য চাই।[58]

 [১০৩]   اللَّهُمَّ قِنِي شَرَّ نَفْسِي، وَاعْزِمْ لِي عَلَى أَرْشَدِ أَمْرِي، اغْفِرْ لِي مَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَخْطَأْتُ وَمَا عَمَدْتُ، وَمَا عَلِمْتُ وَمَا جَهِلْتُ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার নফসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা কর এবং সকল সৎকাজে আমাকে দৃঢ় থাকার প্রতিজ্ঞা দান কর। আর আমাকে ক্ষমা করে দাও। ক্ষমা করে দাও যা আমি গোপনে করেছি বা প্রকাশ্যে করেছি, যা কিছু ভুলে করেছি বা স্বেচ্ছায় করেছি অথবা অজ্ঞতাবশত করেছি।[59]

 [১০৪]  اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ مِنْ غَلْبَةِ الدَّيْنِ، وَغَلْبَةِ الْـعَدُوِّ، وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই ঋণের প্রাবল্য, শত্রুর আধিপত্য এবং শত্রুর খুশি হওয়া থেকে।[60]

 [১০৫]  اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْـجَنَّةَ وَأَسْتَجِيرُ بِكَ مِنَ النَّارِ» (ثلاث مرات)

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জান্নাত প্রার্থনা করি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই (তিনবার)।[61]

 [১০৬]  اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ، وَاهْدِنِي، وَارْزُقْنِي، وَعَافِنِي، وَأَعُوذ بكَ مِنْ ضِيقِ الْـمَقَامِ يَوْمَ الْـقِيَامَةِ

হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে হিদায়াত দান কর, আমাকে রিযিক দান কর, আমাকে ‍সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান কর। আর আমি তোমার আশ্রয় চাই কিয়ামতের দিনের সংকটময় পরিস্থিতি থেকে।[62]

 [১০৭]    اللَّهُمَّ مَتِّعْنِي بسَمْعِي وَبَصَرِي، وَاجْعَلْهُمَا الْـوَارِثَ مِنِّي، وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ يَظْلِمُنِي وَخُذْ بثَأْرِي

হে আল্লাহ! তুমি আমার কান ও চোখ দ্বারা আমাকে উপকৃত কর এবং এগুলোকে আমার উত্তরাধিকার কর। যে আমার প্রতি যুলুম করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য কর এবং আমার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ কর।[63]

 [১০৮]    اللَّهُمَّ لَكَ الْـحَمْدُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، أَنْتَ الْـمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ يَا ذا الْـجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ

হে আল্লাহ! তোমার জন্যই সকল প্রশংসা। তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। তুমি অগণীত নিয়ামত প্রদানকারী। তুমি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা। হে সম্মান ও মহত্বের অধিকারী। হে চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী।[64]

 [১০৯]    اللَّهُمَّ لَكَ الْـحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْـحَمْدُ لَكَ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْـحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهنَّ، وَلَكَ الْـحَمَدْ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ، وَلَكَ الْـحَمْدُ أَنْتَ الْـحَقُّ، وَوَعْدُكَ الْـحَقُّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَقَوْلُكَ حَقٌّ، وَالْـجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالنَّبيُّونَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ

হে আল্লাহ! তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। তুমি আসমান যমীন এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর মালিক। তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। তুমি আসমান যমীন এবং এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর নূর। তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তুমি চির সত্য। তোমার ওয়াদা চির সত্য। তোমার সাক্ষাত সত্য। তোমার বাণী সত্য। জান্নাত সত্য। জাহান্নাম সত্য। নবীগণ সত্য। মুহাম্মাদ (সা) সত্য এবং কিয়ামত সত্য।[65]

 [১১০]    اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبكَ آمَنْتُ, وَعَلَيْكُ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْـمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْـمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ

হে আল্লাহ! তোমার কাছেই আমি আত্মসমর্পন করলাম। তোমার প্রতি ঈমান আনলাম। তোমার প্রতিই ভরসা করলাম। তোমার দিকেই রুজূ’ করলাম। তোমার (সস্তুষ্টির জন্যই) শত্রুতায় লিপ্ত হলাম। তোমাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তুমি আমার পূর্বাপর ও প্রকাশ্য গোপন সব গুনাহ ক্ষমা করে দাও। তুমিই সামনে অগ্রসর কর এবং তুমিই পিছনে ফেল। তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং তোমার সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই।[66]

 [১১১]    اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيْمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِي فَيْمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ, وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلا يُقْضَى عَلَيْكَ، وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হিদায়াত দান কর তাদের মধ্যে, যাদেরকে তুমি হিদায়াত দান করেছ। আমাকে নিরাপত্তা দাও তাদের মধ্যে, যাদেরকে তুমি নিরাপত্তা দিয়েছ। আমাকে তোমার অভিাবকত্বে রাখ তাদের মধ্যে, যাদেরকে তুমি তোমার অভিভাবকত্বে রেখেছ। আমাকে বরকত দান কর সেসবের মধ্যে যা তুমি আমাকে দান করেছ। আমাকে রক্ষা তার অনিষ্ট হতে যা তুমি আমার ভাগ্যে নির্ধারণ করেছ। কেননা তুমিই ফয়সালা কর, তোমার বিপরীতে কেউ ফয়সালা করতে পারে না। নিশ্চয়ই তোমার বন্ধুকে কেউ লাঞ্ছিত করতে পারে না। হে আমার রব! তুমি বরকতময় সুমহান।[67]

 [১১২]    اللَّهُمَّ إنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَنَبيُّكَ مُحَمَّدٌ وَعِبَادُكَ الصَّالِحُونَ، وَأَعُوذ بكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذ مِنْهُ عَبْدُكَ وَنَبيُّكَ مُحَمَّدٌ وَعِبَادُكَ الصَّالِحُونَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সেসব কল্যাণ প্রার্থনা করি, যা তোমার বান্দা ও নবী মুহাম্মদ (সা) এবং তোমার নেক বান্দারা প্রার্থনা করেছে। আর আমি তোমার নিকট সেসব অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, যা থেকে তোমার বান্দা ও নবী মুহাম্মদ (সা) এবং তোমার নেক বান্দারা আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।[68]

 [১১৩]    اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذ بكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بذَنْبي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ

হে আল্লাহ ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা এবং আমি যথাসম্ভব তোমার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ও ওয়াদার উপর আছি। আমি যা করেছি তার অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমার প্রতি তোমার নেয়ামত আমি স্বীকার করছি এবং আমি আমার সব অপরাধও স্বীকার করছি। অতএব তুমি মাফ করে দাও আমার সব গুনাহ ও অপরাধ। তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নেই।[69]

 [১১৪]    اللَّهُمَّ اكْفِنَا شَرَّ الأَشْرَارِ وَكَيْدَ الْـفُجَّارِ، وَشَرَّ كُلِّ طَارِقٍ يَطْرُقُ إِلاَّ طَارِقٌ يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا عَزِيزُ يَا غَفَّارُ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে অনিষ্টকারীর অনিষ্ট ও অসৎ ব্যক্তিদের ফন্দী থেকে রক্ষা কর। আর প্রত্যেক আগত অনিষ্ট হতে আমাকে রক্ষা করো তবে যা কল্যাণ নিয়ে আসে তা ব্যতীত, হে পরাক্রমশালী হে ক্ষমাশীল।

 [১১৫]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنْ تُبَارِكَ فِي سَمعِي، وَفِي بَصَرِي، وَفِي خَلْقِي، وَفِي خُلُقِي، وَفِي أَهْلِي، وَفِي مَحْيَايَ، وَفِي عَمَلِي, وَتَقَبَّلْ حَسَنَاتِي, وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتِ الْـعُلَى مِنَ الْـجَنَّةِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি যে, তুমি বরকত দান কর আমার কানে, আমার চোখে, আমার গঠনে, আমার চরিত্রে, আমার পরিজনে, আমার জীবনে, আমার কাজ-কর্মে। আর আমার নেককাজগুলো কবুল কর। আমি তোমার নিকট জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা প্রার্থনা করছি।[70]

 [১১৬]  اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ: دِقَّهُ وَجُلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَعَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ

হে আল্লাহ! আমার ছোট ও বড়, আগের ও পরের, প্রকাশ্য ও গোপন সব গুনাহ মাফ করে দাও।[71]

 [১১৭]    اللَّهُمَّ لَكَ الْـحَمْدُ كُلّهُ، اللهم لاَ قَابضَ لِمَا بَسَطَتَّ وَلاَ بَاسِطَ لِمَا قَبَضْتَ، وَلاَ هَادِيَ لِمَنْ أَضْلَلْتَ، وَلاَ مُضِلَّ لِمَنْ هَدَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُقَرِّبَ لِمَا بَاعَدْتَ، وَلا مُبَاعِدَ لِمَا قَرَّبْتَ،

    اللَّهُمَّ ابْسُطْ عَلَيْنَا مِنْ بَرَكَاتِكَ وَرَحْمَتِكَ وَفَضْلِكَ وَرِزْقِكَ، اللَّهُمَّ إنِّي أَسْأَلُكَ النَّعِيمَ الْـمُقِيمَ الَّذِي لا يَحُولُ وَلا يَزُولُ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَّعِيمَ يَوْمَ الْـعَيْلَةِ، وَالأَمْنَ يَوْمَ الْـخَوْفِ، اللَّهُمَّ إِنِّي عَائِذٌ بكَ مِنْ شَرِّ مَا أَعْطَيْتَنَا، وَشَرِّ مَا مَنَعْتَ،

    اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الإِيْمَانَ وَزَيِّنْهُ فِي قُلُوبِنَا، وَكَرِّهْ إِلَيْنَا الْـكُفْرَ وَالْـفُسُوقَ وَالْـعِصْيَانَ وَاجْعَلْنَا مِنَ الرَّاشِدِينَ، اللَّهُمَّ تَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ، وَأَحْينَا مُسْلِمِينَ وَالْـحِقْنَا بِالصَّالِحِينَ غَيْرَ خَزَايَا وَلا مَفْتُونِينَ، اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْـكَفَرَةَ الَّذِينَ يُكَذِّبُونَ رُسُلَكَ، وَيُصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ وَاجْعَلْ عَلَيْهِمْ رِجْزَكَ وَعَذَابَكَ، اللَّهُمَّ قَاتَلِ الْـكَفَرَةَ الَّذِينَ أُوتُوا الْـكِتَابَ إِلَهَ الْـحَقِّ» (آمِين)

হে আল্লাহ! তোমার জন্যই সকল প্রশংসা। হে আল্লাহ! তুমি যা প্রসারিত করে দাও তা কেউ সংকীর্ণ করতে পারে না, আর তুমি যা সংকীর্ণ করে দাও তা কেউ প্রশস্ত করতে পারে না। তুমি যাকে হিদায়াত দান কর তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তুমি যাকে পথভ্রষ্ট কর তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। তুমি যা দান কর তা কেউ বাধাগ্রস্ত করে পারে না, আর তুমি যা বাধাগ্রস্ত কর তা কেউ দিতে পারে না। তুমি যা নিকটে কর তাকে কেউ দূর করতে পারে না, আর তুমি যা দূর কর তাকে কেউ নিকটে করতে পারে না।

হে আল্লাহ! আমাদের উপর তোমার বরকত, রহমত, ফযল ও রিযিক প্রশস্ত করে দাও। হে আল্লাহ! তোমার নিকট সেই স্থায়ী নিআমত প্রার্থনা করি যা কখনো পরিবর্তন ও বিলুপ্ত হবে না। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি অভাবের দিনে তোমার নিআমত এবং ভয়ের দিনে নিরাপত্তা। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা দিয়েছ আর যা দাওনি তার অনিষ্ট হতে রক্ষা কর।

হে আল্লাহ! ইমানকে আমাদের নিকট প্রিয় করে দাও এবং এর সৌন্দর্যবোধ আমাদের অন্তরে দান কর। আর আমাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে মুসলিম হিসাবে মৃত্য দান কর এবং মুসলিম হিসাবে জীবিত রাখ এবং কোন অপমান ও ফিতনায় পতিত করা ব্যতীত নেক লোকদের সাথে মিলিত করো।

হে আল্লাহ! কাফিরদেরকে বিনাশ কর, যারা তোমার রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং তোমার পথে বাধা দান করে। তোমার ক্রোধ ও আযাব তাদের উপর আপতিত কর। হে আল্লাহ ঐ সব কাফিরদেরকেও ধ্বংস কর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে। হে সত্য প্রভু! (আমিন)।[72]

 [১১৮]    اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي، وَاجْبُرْنِي، وَارْفَعْنِي

হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর। আমার প্রতি রহম কর। আমাকে হিদায়াত দান কর। আমাকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান কর। আমাকে রিযিক দান কর। আমার অবস্থা ঠিক করে দাও এবং আমাকে উন্নতি দান কর।[73]

 [১১৯]    اللَّهُمَّ زِدْنَا وَلاَ تُنْقِصْنَا، وَأَكْرِمْنَا وَلا تُهِنَّا، وَأَعْطِنَا وَلا تُحْرِمْنَا، وَآثِرْنَا وَلا تُؤْثِرْ عَلَيْنَا، وَأَرْضِنَا وَارْضَ عَنَّا

হে আল্লাহ! আমাদের জন্য (তোমার নিআমত ও অনুগ্রহ) বৃদ্ধি করে দাও, কম করো না। আমাদেরকে সম্মান দান কর, অপমানিত করো না। আমাদেরকে দান কর, বঞ্চিত করো না। আমাদেরকে প্রাধান্য দান কর, আমাদের বিপক্ষে কাউকে প্রাধান্য দিও না। আমাদেরকে সন্তুষ্ট কর আর তুমিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাক।[74]

 [১২০]  اللَّهُمَّ كَمَا أَحْسَنْتَ خَلْقِي، فَأَحْسِنْ خُلُقِي

হে আল্লাহ! তুমি আমার গঠনকে যেমন সুন্দর করেছ তেমনি আমার চরিত্রকেও সুন্দর কর।[75]

 [১২১]  اللَّهُمَّ ثَبِّتْنِي، وَاجْعَلْنِي هَادِياً مَهْدِيّاً

হে আল্লাহ! আমাকে তোমার দীনের উপর দৃঢ় রাখ এবং আমাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানাও।[76]

 [১২২]  اللَّهُمَّ آتِنِي الْـحِكْمَةَ الَّتِي مَنْ أُوتِيَهَا فَقَدْ أُوتِيَ خَيْراً كَثِيراً

হে আল্লাহ! আমাকে হিকমত ও প্রজ্ঞা দান কর। কেননা যাকে হিকমত ও প্রজ্ঞা দান করা হয় তাকে তো সমূহ কল্যান দান করা হয়।[77]

 [১২৩]   بسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِـهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاء وَهُوَ السَّمِيعُ الْـعَلِيمُ

আল্লাহর নামে। যার নামের সাথে আসমান ও যমীনের কেউ ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সব শুনেন ও জানেন।[78]

 [১২৪]   بِسْمِ اللهِ ذِي الشَّانِ، عَظِيمِ السُّلْطَانِ، شَدِيدِ الْـبُرْهَانِ، قَوِيِّ الأَرْكَانِ، مَا شَاء اللهُ كَانَ، أَعُوذُ بِاللهِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ؛ إِنْسٍ وَجَانٍّ [ثلاثًا]

আল্লাহর নামে। যিনি মহা মর্যাদার অধিকারী। মহান অপ্রতিহত বাদশাহ। যুক্তি প্রমাণে কঠোর। মহা শক্তির উৎস। আল্লাহ যা চান তা-ই হয়। আমি আল্লাহর কাছে মানুষরুপী ও জিনরুপী সকল শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।- [তিনবার][79]

 [১২৫]  أَعُوذ بكَلِمَـاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আমি আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ কালিমার আশ্রয় প্রর্থনা করছি তার সকল সৃষ্টির অনিষ্ট হতে।-[তিনবার][80]

 [১২৬]   أَعُوْذ بِوَجْهِ اللهِ الْـعَظِيمِ، الَّذِي لَيْسَ شَيْءٌ أَعْظَمُ مِنْهُ، وَبِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلا فَاجِرٌ، مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذَرَأَ وَبَرَأَ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَـاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا، وَمِنْ شَرِّ مَا يَلِجُ فِي الأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وَمِنْ شَرِّ طَوَارِقِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِلاَّ طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَانُ

আমি মহান আল্লাহ তাআলার চেহারা উসিলায় আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যার চেয়ে মহান আর কিছু নেই এবং আল্লাহ তাআলার সেই পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা ভাল অথবা মন্দ কেউ অতিক্রম করতে পারে না। আশ্রয় প্রার্থনা করছি তার সকল সৃষ্টির অনিষ্ট হতে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন।[81] আসমান থেকে অবতরণকারী এবং আসমানে উড্ডয়নকারীর ক্ষতি হতে। যমীনে বিচরণকারী এবং যমীন হতে বহির্গমনকারীর ক্ষতি হতে। দিবারাতের মঙ্গলময় ঘটনাবলী ব্যতীত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাপ্রবাহ হতে, হে দয়াময়।[82]

 [১২৭]  أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْـمُلْكُ للهِ الْـوَاحِدِ الْـقَهَّارِ، وَالْـحَمْدُ للهِ

আমরা এবং সকল রাজ্য প্রভাত করলাম এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য। আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা।

 [১২৮]  لا إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْـمُلْكُ وَلَهُ الْـحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই। তিনি একক তার কোন শরীক নাই। সব রাজত্ব তারই এবং সমস্ত প্রশংসা তারই। আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।[83]

 [১২৯]  رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذَا الْـيَوْمِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهُ

হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি এই দিনের কল্যাণ এবং এর পরে যে কল্যাণ আছে তা।[84]

 [১৩০]  رَبِّ أَعُوذ بكَ مِنَ الْـكَسْلِ وَالْـهَرَمُ وَسُوْءِ الْـكِبَرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْـقَبْرِ

হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার আশ্রয় চাই, আলসতা, অতি বার্ধক্য, বার্ধক্যের অমঙ্গল, দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে।[85]

 [১৩১]  أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْـمُلْكُ للهِ رَبِّ الْـعَالَمِينَ

আমরা এবং সকল রাজ্য প্রভাত করলাম জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।[86]

 [১৩২]   اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذَا الْـيَوْمِ: فَتْحَهُ، وَنَصْرَهُ، وَنُوْرَهُ، وَبَرْكَتَهُ، وَهُدَاهُ، وَأَعُوْذ بكَ: مِنْ شَرِّ مَا بَعْدَهُ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি এই দিনের কল্যাণ, বিজয়, সাহায্য, নূর, বরকত ও হিদায়াত। আর আমি তোমার আশ্রয় চাই এর এবং এর পরের অকল্যাণ থেকে।[87]

 [১৩৩]   اللَّهُمَّ بكَ أَصْبَحْنَا وَبكَ أَمْسَيْنَا، وَبكَ نَحْيَا وَبكَ نَمُوتُ، وَإِلَيْكَ النُّشُورُ، أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْـمُلْكُ للهِ، وَالْـحَمْدُ للهِ لا شَرِيكَ لَهُ، لا إِلَهَ إِلاَّ هُوَ إِلَيْهِ النُّشُورُ

হে আল্লাহ! তোমার নামেই আমরা সকাল করেছি এবং তোমার নামেই সন্ধ্যা করেছি। তোমার নামেই বেঁচে আছি, তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করব এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করব।[88] আমরা এবং সকল রাজ্য সকাল করেছি আল্লাহর জন্য। আল্লাহর জন্যই সব প্রশংসা। তার কোন শরীক নেই। তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং তার দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন।[89]

 [১৩৪]   اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَـاوَاتِ وَالأَرْضِ، عَالِمَ الْـغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، أَعُوذُ بكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءًا أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ

হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলী ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা। গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় সম্পকে পরিজ্ঞাত। প্রত্যেক বস্ত্তর প্রতিপালক ও অধিপতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার নফসের অনিষ্ট হতে, শয়তানের অনিষ্ট হতে এবং তার শিরক হতে। আর আমি নিজে কোন খারাপ কাজ করা হতে এবং অপর কোন মুসলমানকে খারাপ কাজে জড়িত করা হতে তোমার আশ্রয় প্রাথনা করছি।[90]

 [১৩৫]   اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ، وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلاَئِكَتَكَ، وَجَمِيعَ خَلْقِكَ، أَنَّكَ أَنْتَ اللهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ [ثلاثًا]

হে আল্লাহ্! আমি সকালে উপনীত হয়েছি। আমি তোমাকে ও তোমার আরশবাহী ফেরেশতাকে এবং তোমার সমস্ত সৃষ্টিকে এ ব্যাপারে সাক্ষী রাখছি যে, তুমিই আল্লাহ্ এবং তুমি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। আর মুহাম্মদ (সা) তোমার বান্দা ও রাসূল।-[তিনবার][91]

 [১৩৬]   اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْـعَفْوَ وَالْـعَافِيَةَ فِي: دِينِي، وَدُنْيَايَ، وَأَهْلِي، وَمَالِي

হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে আমার দীন, দুনিয়া, আমার পরিবার-পরিজন এবং মাল-সম্পদের ব্যাপারে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।[92]

 [১৩৭]   اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي: وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمَينِي وَعَنْ شِمَـالِي وَمِن فَوْقِي، وَأَعُوذ بعَظْمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي

হে আল্লাহ্! আমার দোষ-ক্রটি ঢেকে রাখ এবং আমার ভয়-ভীতিকে শান্তি ও নিরাপত্তা দ্বারা পরিবর্তিত কর। হে আল্লাহ্! আমাকে হিফাযত কর- আমার ডান দিক হতে, বাম দিক হতে, সামনে হতে, পেছন হতে এবং উপর দিক হতে। আর তোমার মর্যাদার আশ্রয় প্রার্থনা করছি  নীচের দিকে ধ্বসে যাওয়া হতে।[93]

 [১৩৮]  رَضِيتُ باللهِ رَبّاً، وَبالإِسْلامِ دِيْناً، وَبمُحَمَّدٍ نَبيّاً وَرَسُوْلاً

আমি আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ (সা) কে নবী ও রাসূল হিসাবে পেয়ে সন্তুষ্ট।[94]

 [১৩৯]   اللَّهُمَّ مَا أَصْبَحَ بي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ، فَمِنْكَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ، فَلَكَ الْــحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ

হে আল্লাহ! এই প্রভাতে আমার এবং তোমার সৃষ্টিকুলের মধ্যে যেই যে নিআমত পেয়েছে, তা শুধু তোমার পক্ষ থেকেই পেয়েছে। তুমি একক, তোমার কোন শরীক নেই। সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তোমারই জন্য।[95]

 [১৪০]   اللَّهُمَّ عَافِنِي فـِي بَدَنِي، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ» [ثلاثًا]

হে আল্লাহ! আমার দেহে সুস্থতা দান কর। হে আল্লাহ! আমার কানে সুস্থতা দান কর। হে আল্লাহ! আমার চোখে সুস্থতা দান কর। তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই।-[তিনবার][96]

 [১৪১]   سُبْحَانَ اللهِ وَبحَمْدِهِ لا قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ، مَا شَاءْ اللهُ كَانَ، وَمَا لَمْ يَشَأْ لَمْ يَكُنْ، أَعْلَمُ أَنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَأَنَّ اللهَ قَدْ أَحَاطَ بكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا

আল্লাহ পবিত্র এবং তার জন্যই প্রশংসা। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নাই। আল্লাহ্ যা চান, তা-ই হয়। আর তিনি যা চান না, তা হয়না। আমি জানি আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। নিশ্চয় আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।[97]

 [১৪২]   أَصْبَحْنَا عَلَى فِطْرَةِ الإِسْلاَمِ، وَكَلِمَةِ الإِخْلاصِ، وَدِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى مِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيْمَ، حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْـمُشْرِكِينَ

আমরা প্রত্যুষে উপনীত হয়েছি স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর, ইখলাসের কালিমার উপর,  মুহাম্মদ (সা) এর দীনের উপর, আমাদের পিতা ইবরাহিম (আ) এর আদর্শের উপর। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম। আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।[98]

 [১৪৩]   يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، يَا بَدِيعَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، يَا ذا الْــجَلالِ وَالإِكْرَامِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي وَلا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ

হে চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী! হে আসমান ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা! হে মাহাত্ম ও সম্মানের অধিকারী। তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। তোমার রহমতের দ্বারে ফরিয়াদ করছি, আমার সকল অবস্থা ঠিক করে দাও। আর এক মুহুর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিও না।[99]

 [১৪৪]   اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بذَنْبي، فَاغْفِرْ لِي، إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ

হে আল্লাহ্! তুমি আমার রব! তুমি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি তোমার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর যথাসাধ্য প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি যা করেছি তার অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমার প্রতি তোমার নিয়ামতের কথা আমি স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহর কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ব্যতীত গুনাহ মাফকারী আর কেউ নেই।[100]

      [১৪৫]   اللَّهُمَّ أَنْتَ أَحَقُّ مَنْ ذُكِرَ، وَأَحَقُّ مَنْ عُبِدَ، وَأَنْصَرُ مَنِ ابْتُغِيَ، وَأَرْأَفُ مَنْ مَلَكَ، وَأَجْوَدُ مَنْ سُئِلَ، وَأَوْسَعُ مَنْ أَعْطَى، أَنْتَ الْـمَلِكُ لا شَرِيكَ لَكَ، وَالْـفَرْدُ الَّذِي لاَ نِدَّ لَكَ، كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلاَّ وَجْهُكَ، لَنْ تُطَاعَ إِلاَّ بِإِذْنِكَ وَلَنْ تُعْصَى إِلاَّ بِعِلْمِكَ، تُطَاعُ فَتَشْكُرُ وَتُعْصَى فَتَغْفِرُ، أَقْرَبُ شَهِيدٍ وَأَدْنَى حَفِيظٍ، حُلْتَ دُوْنَ النُّفُوسِ وَأَخَذْتَ بالنَّوَاصِي، وَكَتَبْتَ الآثَارَ وَنَسَخْتَ الآجَالَ، الْـقُلُوبُ لـَكَ مُفْضِيَةٌ وَالسِرُّ عِنْدَكَ عَلاَنِيَةٌ، الْـحَلاَلُ مَا أَحْلَلْتَ، وَالْـحَرَامُ مَا حَرَّمْتَ وَالدِّينُ مَا شَرَعْتَ، وَالْـخَلْقُ خَلْقُكَ وَالْـعَبْدُ عَبْدُكَ، وَأَنْتَ اللهُ الـرَّؤُوفُ الرَّحِيمُ، أَسْأَلُكَ بِنُورِ وَجْهِكَ الَّذِي أَشْرَقَتْ لَهُ السَّمَاوَاتُ وَالأَرْضُ، أَنْ تَقْبَلَنِي فِي هَذِهِ الْـغَدَاوَةِ وَأَنْ تُجِيرَنِي مِنَ النَّارِ بِقُدْرَتِكَ

হে আল্লাহ! একমাত্র তুমিই যিকিরের উপযুক্ত। তুমিই ইবাদতের উপযুক্ত। যাদের সাহায্য প্রার্থনা করা হয় তাদের মধ্যে তুমিই শ্রেষ্ঠ। সম্রাটদের মধ্যে তুমিই সবচেয়ে দয়াবান। প্রার্থীর প্রার্থনায় তুমি মহান দাতা। দানকারীদের মধ্যে তুমিই প্রশস্ত দাতা। তুমিই মহান বাদশাহ তোমার কোন অংশিদার নাই। তুমি একক তোমার কোন তুলনা নাই। তুমি ব্যতীত সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। তোমার হুকুম ব্যতীত কোন আনুগত্য করা যায় না। কোন নাফরমানী তোমার জ্ঞান বহির্ভূত না। যখন তোমার আনুগত্য করা হয় তখন তুমি তার মূল্যায়ন কর। আর যখন তোমার নাফরমানী করা হয় তখন তুমিই ক্ষমা কর।

তুমিই সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী সাক্ষী এবং তুমিই সবচাইতে নিকটবর্তী এবং সুক্ষ্য হেফাযতকারী। সবার জানের নিয়ন্ত্রণ একমাত্র তোমার হাতে। সবার চুলের মুঠা তোমার মুষ্ঠিতেই আবদ্ধ। তুমিই সকল আমল ও কার্যকলাপ লিপিবদ্ধ করে দিয়েছ। সবার আজল তুমিই নির্ধারণ করে দিয়েছ। সকলের অন্তর তোমার নিকট উন্মুক্ত। সকল রহস্য তোমার নিকট অনাবৃত। তুমি যা হালাল করেছ তা-ই হালাল আর তুমি যা হারাম করেছ তা-ই হারাম। দীন তা-ই যা তুমি শরীতসম্মত করেছ। সমস্ত মাখলুক তো তোমারই মাখলুক। সকল বান্দা তো তোমারই বান্দা। তুমি পরম দয়ালু ও মেহেরবান আল্লাহ।  আমি তোমার সেই নূরের দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করছি যার কারণে সমস্ত আসমান ও যমীন সমুজ্জ্বল হয়ে উঠে। তুমি আমাকে এই শুভক্ষণে কবুল কর। আর তুমি তোমার নিজ ক্ষমতাবলে আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর।[101]

 [১৪৬]   حَسْبِيَ اللهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْـعَرْشِ الْـعَظِيمِ» [سبع مرات]

আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। আমি তারই উপর নির্ভর করছি। আর তিনি মহান আরশের রব।-[সাতবার][102]

 [১৪৭]   اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذ بكَ: مِنَ الْـهَمِّ وَالْـحَزَنِ، وَأَعُوذُ بِكَ: مِنَ الْـعَجْزِ وَالْـكَسَلِ، وَمِنَ الْـبُخْلِ وَالْـجُبُنِ، وَأَعُوذُ بِكَ: مِنْ غَلْبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ

হে আল্লাহ আমি তোমার আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা, দুঃখ, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা হতে। আমি তোমার আশ্রয় চাই ঋণের প্রাবল্য এবং মানুষের আধিপত্য হতে।[103]

 [১৪৮]    أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْـمُلْكُ للهِ وَالْـكِبْرِيَاءُ وَالْـعَظْمَةُ وَالْــخَلْقُ وَالأَمْرُ، وَاللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَمَا يُضَحَّى فِيهِمَـا للهِ وَحْدَهُ

আমরা এবং সমগ্র রাজ্য প্রভাতে উপনীত হয়েছি আল্লাহর জন্য। আল্লাহর জন্যই সব বড়ত্ব ও সম্মান। সমস্ত সৃষ্টি ও বিধান, দিবা রাত্রি এবং এগুলোর মাঝে যা আছে তা সবই আল্লাহর মালিকানাধীন।[104]

 [১৪৯]    اللَّهُمَّ اجْعَلْ أَوَّلَ هَذَا الْـيَوْمِ صَلاَحًا، وَأَوْسَطَهُ فَلاَحًا، وَآخِرَهُ نَجَاحًا، أَسْأَلُكَ خَيْرَي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

হে আল্লাহ! আজকের দিনের প্রথমাংশে কল্যাণ, মধ্যাংশে বিজয় এবং শেষাংশে নাজাত দান কর। আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করছি হে দয়াময় পরম দয়ালু।[105]

 [১৫০]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْـقَضَاءِ، وَبَرْدَ الْـعَيْشِ بَعْدَ الْـمَوْتِ، وَلَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ الْـكَرِيمِ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ، فِي غَيْر ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَلاَ فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَعْتَدِيَ أَوْ يُعْتَدَى عَلَيَّ، أَوْ أَكْتَسِبَ خَطِيْئَةً أَوْ ذَنْبًا لاَ تَغْفِرُهُ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি তোমার নির্ধারিত তাকদীরের উপর সন্তুষ্টি, মৃত্যুর পর শান্তির জীবন, তোমার সম্মানিত চেহারা দর্শনের স্বাদ এবং তোমার সাক্ষাতের এমন আগ্রহ যা ক্ষতিকর বিপদ ও পথভ্রষ্টকারী ফিতনায় পতিত হওয়া ব্যতীত অর্জিত হবে। আমি তোমার আশ্রয় চাই কারো প্রতি অত্যাচার করা বা কারো দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া থেকে। কারো সাথে বাড়াবাড়ি করা বা কারো বাড়াবাড়ির শিকার হওয়া থেকে। আর এমন পাপ ও ভুলত্রুটি হতে যা তুমি ক্ষমা করবে না।[106]

 [১৫১]    اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ عَالِمَ الْـغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ذَا الْـجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ، إِنِّي أَعْهَدُ إِلَيْكَ فِي هَذِهِ الْـحَيَاةِ الدُّنْيَا وَأُشْهِدُكَ وَكَفَى بكَ شَهِيدًا: أَنِّي أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ، وَأَشْهَدُ أَنَّ وَعْدَكَ حَقٌّ، وَلِقَاءَكَ حَقٌّ، وَالْـجَنَّةَ وَالنَّارَ حَقٌّ، وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لا رَيْبَ فِيْهَا، وَأَنَّكَ تَبْعَثُ مَنْ فِي الْـقُبُورِ، وَأَنَّكَ إِنْ تِكِلْنِي إِلَى نَفْسِي، تِكِلْنِي إِلَى ضَعْفٍ وَعَوْرَةٍ وَذَنْبٍ وَخَطِيْئَةٍ، وَأَنِّي لاَ أَثِقُ إِلاَّ برَحْمَتِكَ، فَاغْفِرْ لِي ذنُوبِي كُلَّهَا وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

হে আল্লাহ! আসমানরাজী ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা। প্রকাশ্য ও গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। সম্মান ও মহত্বের অধিকারী। আমি এই পার্থিব জীবনে অঙ্গিকার করছি এবং তোমাকেই সাক্ষী রাখছি। আর সাক্ষী হিসাবে তুমিই যথেষ্ট। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। তুমি একক তোমার কোন শরীক নাই এবং মুহাম্মদ (সা) তোমার বান্দা ও রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তোমার ওয়াদা সত্য। তোমার সাক্ষাৎ সত্য। জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য। কিয়ামত সংঘটিত হবে এতে কোন সন্দেহ নাই। সকল কবরবাসকে তুমি একিত্রত করবে। তুমি যদি আমাকে আমার নিজের উপর, আমার দুর্বলতার উপর, আমার দোষ-ত্রুটি ও গুনাহখাতার উপর ন্যস্ত কর, তবু আমি তোমার দয়া ব্যতীত কোন কিছেুর উপর ভরসা করি না। অতএব তুমি আমার সব গুনাহ ক্ষমা করে দাও এবং আমার তওবা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী দয়াময়।[107]

[১৫২]  اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذلِ الْـعُمْرِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই অকর্মণ্য বয়সে পৌছে যাওয়া থেকে।[108]

 [১৫৩]    اللَّهُمَّ اهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَعْمَالِ، وَالأَخْلاقِ، لا يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلاَّ أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا، لا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ

হে আল্লাহ! আমাকে উত্তম কাজ ও উত্তম চরিত্রের দিকে পথপ্রদর্শন কর। কেননা তুমি ব্যতীত কেউ ভাল কাজের দিকে পথ দেখাতে পারে না। আর তুমি আমাকে মন্দ কার্যাবলী থেকে রক্ষা কর। কেননা তুমি ছাড়া কেউ মন্দ কাজ থেকে ফিরাতে পারে না।[109]

 [১৫৪]  اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِيْنِي، وَوَسِّعْ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِي رِزْقِي

হে আল্লাহ! আমার দীনকে ঠিক করে দাও। আমার ঘরে প্রশস্ততা দান কর। আর আমার রিযিকের মধ্যে বরকত দান কর।[110]

 [১৫৫]   اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ: مِنَ الْـقَسْوَةِ وَالْـغَفْلَةِ، وَالذِّلَّةِ وَالْـمَسْكَنَةِ، وَأَعُوذ بكَ: مِنَ الْـكُفْرِ وَالْـفُسُوقِ وَالشِّقَاقِ، وَالسُّمْعَةِ وَالرِّيَاءِ، وَأَعُوذ بكَ: مِنَ الصَّمَمِ وَالْـبَكَمِ وَالْـجُذَامِ وَسَيِّئِ الأَسْقَامُ

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই কঠিন হৃদয়, উদাসীনতা, লাঞ্ছনা ও দারিদ্রতা থেকে। আমি তোমার আশ্রয় চাই কুফর, পাপাচার, ঝগড়া-বিবাদ, আত্ম-প্রকাশ ও লোকদেখানো থেকে। আমি তোমার আশ্রয় চাই শ্বেতরোগ, কুষ্ঠরোগ, উন্মাদনা এবং কঠিন রোগ-ব্যাধি হতে।[111]

 [১৫৬]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذ بكَ: مِنَ الْـهَدَمِ وَالتَّرَدِّي، وَمِنَ الْـغَرَقِ وَالْـحَرَقِ وَالْـهَرَمِ، وَأَعُوذ بكَ مِنْ أَنْ يَتَخَبَّطَنِيَ الشَّيْطَانَ عِنْدَ الْـمَوْتِ، وَأَعُوذ بكَ مِنْ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا، وَأَعُوذُ بكَ مِنْ طَمْعٍ يَهْدِي إِلَى طَبْعٍ

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঘর চাপা পড়া,  উপর থেকে পড়ে যাওয়া, পানিতে ডূবে যাওয়া এবং আগুনে দগ্ধিভূত হওয়া থেকে। আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি মৃত্যূকালে শয়তানের ধোঁকা থেকে। তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি সাপ বিচ্ছুর দংশনে মৃত্যূবরণ করা থেকে।[112] আর আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এমন আকাঙ্ক্ষা থেকে যা দোষের দিকে নিয়ে যায়।[113]

 [১৫৭]    اللَّهُمَّ إنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الأَمْرِ، وَالْـعَزِيمَةَ عَلَى الرُّشْدِ، وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ قَلْبًا سَلِيمًا وَلِسَانًا صَادِقًا، وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ وَأَعُوذ بكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا تَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْـغُيُوبِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দীনের সব ব্যাপারে দৃঢ় থাকার এবং সততা ও স্বচ্ছতা উপর দৃঢ় ধাকার প্রার্থনা করছি। তোমার নিকট প্রার্থনা করি তোমার নিআমতের শোকর করার এবং তোমার উত্তম ইবাদত করার তাওফীক। তোমার নিকট প্রার্থনা করি ক্বলবে সালিম বা নিষ্কলুষ অন্তর এবং সত্যবাদী যবান। আমি তোমার নিকট তোমার জানা কল্যাণ প্রার্থনা করি এবং তোমার জানা অকল্যাণ থেকে পানাহ চাই। আর তোমার জ্ঞানে আমার যেসব গুনাহ আছে তার জন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তুমি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে সবিশেষ জ্ঞাত।[114]

 [১৫৮]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: فِعْلَ الْـخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْـمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْـمَسَاكِينِ، وَأَنْ تَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمَنِي، وَإِذا أَرَدْتَ بِعِبَادِكَ فِتْنَةً فَتَوَفَّنِي إِلَيْكَ مِنْهَا غَيْرَ مَفْتُونٍ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি নেককাজ করা এবং মন্দ কাজ পরিত্যাগ করা এবং দরিদ্র ও মিসকীনদের প্রতি ভালবাসা পোষণ করা। আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার প্রতি দয়া কর। আর যখন তুমি তোমার বান্দাদেরকে ফিতনায় পতিত করার ইচ্ছা কর, তখন আমাকে ফিতনায় পতিত করা ব্যতীত মৃত্যু দিয়ে তোমার নিকট উঠিয়ে নিও।[115]

 [১৫৯]  اللَّهُمَّ حَبِّبْنِي إِلَيْكَ وَإِلَى مَلائِكَتِكَ وَأَنْبِيَائِكَ وَجَمِيعَ خَلْقِكَ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার মহব্বত, তোমার ফেরেশতাদের মহব্বত, তোমার নবীদের মহব্বত এবং সমস্ত সৃষ্টির মহব্বত দান কর।[116]

 [১৬০]    اللَّهُمَّ اجْعَلْ حُبَّكَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ نَفْسِي وَأَهْلِي وَمَالِي وَوَلَدِي وَمِنَ الْـمَاءِ الْـبَارِدِ عَلَى الظَّمَأِ

হে আল্লাহ! তোমার মহব্বতকে আমার নিকট আমার নিজের থেকে, আমার পরিবার-পরিজন, আমার মাল সম্পদ, সন্তান-সন্ততী এবং ঠান্ডা পানি থেকেও বেশী প্রিয় করে দাও।[117]

 [১৬১]  اللَّهُمَّ اجْعَلْ خَيْرَ عُمُرِي آخِرَهُ، وَخَيْرَ عَمَلِي خَوَاتِمَهُ، وَخَيْرَ أَيَّامِي يَوْمَ لِقَائِكَ

হে আল্লাহ! আমার জীবনের শেষ অংশকে কল্যাণকর কর এবং আমার শেষ আমলকে কর উত্তম। আর যেদিন তোমার সাথে আমার সাক্ষাত হবে সেদিনকে আমার সর্বোত্তম দিনে পরিণত কর।[118]

 [১৬২]  اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِيْشَةً نَقِيَّةً، وَمِيْتَةً سَوِيَّةً، وَمَرَدًّا غَيْرَ مَخْذُولٍ فَاضِحٍ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই পবিত্র জীবন। সুন্দর ও পছন্দনীয় মৃত্যু। আর কোন অপমান ও দুর্নাম ব্যতীত (পরকালের দিকে) প্রত্যাবর্তন।[119]

 [১৬৩]    اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي صَبُورًا وَاجْعَلْنِي شَكُورًا، وَاجْعَلْنِي فِي عَيْنِي صَغِيرًا وَفِي أَعْيُنِ النَّاسِ كَبِيرًا، رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَاهْدِنِي السَّبيلَ الأَقْوَمَ

হে আল্লাহ! আমাকে ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ বানাও। আর আমাকে নিজের নযরে ছোট এবং অপরের নযরে বড় করে দাও।[120] হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর ও দয়া কর। আর আমাকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন কর।[121]

 [১৬৪]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: خَيْرَ الْـمَسْأَلَةِ، وَخَيْرَ الدُّعَاءِ، وَخَيْرَ النَّجَاحِ، وَخَيْرَ الثَّوَابِ، وَثبِّتْنِي وَثَقِّلْ مَوَازِينِي وَحَقِّقْ إِيْمَانِي، وَارْفَعْ دَرَجِتِي وَتَقَبَّلْ صَلاَتِي وَاغْفِرْ خَطِيئَاتِي، وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتِ الْـعُلَى مِنَ الْـجَنَّةِ، آمِين

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই উত্তম প্রার্থনা, উত্তম দুআ, উত্তম সাফল্য, উত্তম প্রতিদান। আমাকে দৃঢ়তা দান কর। আমার নেকীর পাল্লা ভারী করে দাও। আমার ইমানকে মজবুত কর। আমার মর্যাদা বৃদ্ধি কর। আমার নামায কবুল কর। আর আমার গুনাহ ক্ষমা করে দাও। আমি তোমার নিকট জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা প্রার্থনা করি। আমিন।[122]

 [১৬৫]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: فَوَاتِحَ الْـخَيرِ وَخَوَاتِمَهَ وَجَوَامِعَهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَظَاهِرَهُ وَبَاطِنَهُ، وَالدَّرَجَاتِ الْـعُلَى مِنَ الْـجَنَّةِ. آمِين

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই প্রত্যেক কল্যাণের সূচনা ও সমাপ্তি, পূর্ণতা, শুরু ও শেষ, গোপন ও প্রকাশ্য (কল্যাণ) এবং জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা। আমিন।[123]

 [১৬৬]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: خَيْرَ مَا آتِي، وخَيْرَ مَا أَفْعَلُ، وَخَيْرَ مَا بَطَنَ وَخَيْرَ مَا ظَهَرَ، وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتِ الْـعُلَى مِنَ الْـجَنَّةِ. آمِين

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই- আমি যা পাই, যা করি, যা প্রকাশ পায় আর যা গোপন থাকে তার কল্যাণ। আমি তোমার নিকট জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা প্রার্থনা করি। আমিন।[124]

 [১৬৭]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: أَنْ تَرْفَعَ ذِكْرِي، وَتَضَعَ وِزْرِي، وَتُطَهِّرَ قَلْبي، وَتُحَصِّنَ فَرْجِي، وَتَغْفِرَ لِي ذنْبي، وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتِ الْـعُلَى مِنَ الْـجَنَّةِ. آمِين

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি- তুমি আমার স্বরণকে উচ্চে তুলে ধরো। আমার ভার লাঘব কর। আমার অন্তরকে পবিত্র কর। আমার যৌনাঙ্গকে সুরক্ষিত রাখ। আমার গুনাহকে ক্ষমা কর। আমি তোমার নিকট জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা প্রার্থনা করি। আমিন।[125]

 [১৬৮]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: أَنْ تُبَارِكَ لِي فِي سَمْعِي وَفِي بَصَرِي، وَفِي رُوحِي وَفِي خَلْقِي، وَفِي أَهْلِي وَفِي مَحْيَايَ وَفِي عَمَلِي، وَتَقَبَّلْ حَسَنَاتِي، وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتِ الْـعُلَى مِنَ الْـجَنَّةِ. آمِين

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি- তুমি বরকত দান কর আমার কানে। আমার চোখে। আমার প্রাণশক্তিতে। আমার গঠনে। আমার পরিবার-পরিজনে। আমার জীবনে এবং আমার কাজ-কর্মে। আর আমার নেককাজসমূহ কবুল কর।  আমি তোমার নিকট জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা প্রার্থনা করি। আমিন।[126]

 [১৬৯]    اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَارْضَ عَنَّا، وَتَقَبَّلْ مِنَّا، وَأَدْخِلْنَا الْــجَنَّةَ وَنَجِّنَا مِنَ النَّارِ، وَأَصْلِحْ لَنَا شَأْنَنَا كُلَّهُ

হে আল্লাহ! আমাদেরকে ক্ষমা কর। আমাদের প্রতি দয়া কর। আমাদের প্রতি রাযী হও। আমাদের থেকে কবুল কর। আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও। আর আমাদের সকল অবস্থা ঠিক করে দাও।[127]

 [১৭০]    اللَّهُمَّ لاَ تَدَعْ لَنَا ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ، وَلاَ عَيْبًا إِلاَّ سَتَرْتَهُ، وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ، وَلاَ دَيْنًا إِلاَّ قَضَيْتَهُ، وَلاَ حَاجَةً مِنْ حَوَائِجِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ هِيَ لَكَ رِضًا وَلَنَا صَلاَحٌ، إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

হে আল্লাহ! আমাদের সকল গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও। সকল দোষ-ত্রুটি গোপন করে দাও। সকল চিন্তা-ভাবনা অপসারণ করে দাও। সকল ঋণ পরিশোধ করে দাও। দীন ও দুনিয়ার এমন সকল প্রয়োজন যাতে রয়েছে তোমার সন্তুষ্টি এবং আমাদের কল্যাণ- তা সব পুরা করে দাও, হে মহান দয়ালু।[128]

 [১৭১]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: رَحْمَةً مِنْ عِنْدِكَ، تُهْدِي بهَا قَلْبِي، وَتَـجْمَعُ بهَا أَمْرِي وَتَلُمُّ بِهَا شَعْثِي، وتَـحْفَظُ بهَا غَائِبي، وَتَرْفَعُ بِهَا شَاهِدِي، وَتَبْيَضُّ بِهَا وَجْهِي، وَتُزَكِّي بِهَا عَمَلِي، وَتُلْهِمُنِي بِهَا رُشْدِي، وَتَرُدُّ بهَا الْـفَتِيْ وَتَعْصِمُنِي بهَا مِنْ كُلِّ سُوْءٍ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার রহমত কামনা করি- যার দ্বারা তুমি আমার অন্তরে হিদায়াত দান করবে। আমার কার্যাবলীকে সমন্বিত করবে। আমার বিক্ষিপ্ততাকে ঠিক করবে। আমার অনুপস্থিত বিষয়গুলোর হিফাযত করবে। উপস্থিত বিষয়গুলোকে উন্নত করবে। আমার চেহারাকে উজ্জল করবে। আমার আমলকে পরিশুদ্ধ করবে। আমার অন্তরে সঠিক বিষয়ের উপলব্ধী দান করবে। আমার প্রিয় বিষয়গুলো ফিরিয়ে দিবে। আর আমাকে সকল ধরণের অনিষ্ট থেকে হিফাযত করবে।[129]

 [১৭২]    اللَّهُمَّ أَعْطِنِي إِيمَانًا صَادِقًا، وَيَقِينًا لَيْسَ بَعْدَهُ كُفْرٌ، وَرَحْمةً أَنَالُ بِهَا شَرَفَ كَرَامَتِكَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সত্য ইমান প্রার্থনা করি এবং এমন ইয়াকীন প্রার্থনা করি যার পর আর কুফরী থাকবে না। আর আমাকে তোমার এমন রহমত দান কর যার দ্বারা আমি দুনিয়া ও আখিরাতে তোমার প্রদত্ত উচ্চসম্মান পেতে পারি।[130]

 [১৭৩]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْـفَوْزَ يَوْمَ الْـقَضَاءِ وَعَيْشَ السُّعُدَاءِ وَمَنْزِلَ الشُّهَدَاءِ، وَمُرَافَقَةَ الأَنْبيَاءِ وَالنَّصْرَ عَلَى الأَعْدَاءِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কামনা করি ভাগ্যের সফলতা, সৌভাগ্যবানদের জীবন, শহীদগণের মর্যাদা, নবীদের সাহচর্য এবং শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়।[131]

 [১৭৪]    اللَّهُمَّ أُنْزِلُ بِكَ حَاجَتِي وَإنْ قَصُرَ رَأْيِي وَضَعُفَ عِلْمِي وَعَمَلِي، افْتَقَرْتُ إِلَى رَحْمَتِكَ فَأَسْأَلُكَ يَا قَاضِيَ الأُمُورِ، وَيَا شَافِيَ الصُّدُورِ كَمَا تُجِيرُ بَيْنَ الْـبُحُورِ أَنْ تُجِيرَنِي مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْـقُبُورِ، وَمِنْ دَعْوَةِ الثُّبُورِ

হে আল্লাহ ! আমার সব হাজত নিয়ে নামছি তোমারই দরবারে যদিও আমার আদর্শে ধ্বস নেমেছে এবং আমার জ্ঞান ও আমল দুর্বল। তবু আমি তোমার রহমত ও দয়ার মুখাপেক্ষী। তোমার নিকট প্রার্থনা করি, হে সবকিছুর ফয়সালাকারী। হে হৃদয়ের শেফা দানকারী! তুমি যেমনভাবে সাগরগুলোকে পরস্পর সংরক্ষণ কর, তেমনি তুমি আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। আর আমাকে কবরের আযাব এবং মৃত্যুর বিভিষীকা থেকে রক্ষা কর।[132]

 [১৭৫]   اللَّهُمَّ ذا الْـحَبْلِ الشَّدِيدِ، وَالأَمْرِ الرَّشِيدِ أَسْأَلُكَ: الأَمْنَ يَوْمَ الْـوَعِيدِ، وَالْـجَنَّةَ يَوْمَ الْـخُلُودِ، مَعَ الْـمُقَرَّبينَ الشُّهُودِ، الرُّكَّعِ السُّجُودِ، الْـمُوفِيْنَ بالْـعُهُودِ، إِنَّكَ رَحِيمٌ وَدُودٌ، تَفْعَلُ مَا تُرِيدُ

হে আল্লাহ! শক্ত হাতলধারী এবং প্রতিটি কাজ সুচারুরুপে সম্পাদনকারী। তোমার নিকট প্রার্থনা করি ভয়ের দিনে নিরাপত্তা। স্থায়ী জান্নাতে তাদের সঙ্গ, যারা তোমার নৈকট্যের অধিকারী এবং তোমার দরবারে সদা উপস্থিত, রুকু-সিজদাকারী, অঙ্গীকার পুরাকারী। তুমি তো দয়ালু প্রেমময়। তুমি যা ইচ্ছা তাই কর।[133]

 [১৭৬]    سُبْحَانَ مَنْ لاَ يَنْبَغِي التَّسْبيحُ إِلاَّ لَهُ، سُبْحَانَ ذِي الْـفَضْلِ وَالنِّعَمِ، سُبْحَانَ ذِي الْـمَجْدِ وَالْـكَرَمِ، سُبْحَانَ الَّذِي أَحْصَى كُلَّ شَيْءٍ عِلْمُهُ

পবিত্র সেই সত্তা যার তাসবীহ ছাড়া অপর কারো তাসবীহ পাঠ করা যায় না। পবিত্র সেই সত্তা যিনি অনুগ্রহকারী ও নিআমত দানকারী। পবিত্র সেই মহান সত্তা যিনি মহান মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী। পবিত্র সেই সত্তা যিনি সবকছু তার জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করে আছেন।[134]

 [১৭৭]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: الْـعَفْوَ وَالْـعَافِيَةَ وَالْـمُعَافَاةَ الدَّائِمَةَ، فِي الدِّينِ وَالدُّنْيَا وَالآخِرَةِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে স্থায়ী ক্ষমা, সুস্থতা, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।[135]

 [১৭৮]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: صِحَّةً فِي إِيْمَانٍ، وَإِيْمَاناً فِي حُسْنِ خُلُقٍ، وَنَجَاحًا يَتْبَعُهُ نَجَاحٌ، وَرَحْمَةً مِنْكَ وَعَافِيَةً مِنْكَ، وَمَغْفِرَةً مِنْكَ وَرِضْوَاناً

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই ইমানের সাথে সুস্থতা। সৎ চরিত্রের সাথে ইমান। এমন মুক্তি ও নাজাত যা সফলতা প্রদান করে। আর তোমার দয়া ও নিরাপত্তা, তোমার ক্ষমা ও সন্তুষ্টি।[136]

 [১৭৯]   اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: الصِّحَّةَ وَالْـعِفَّةَ، وَحُسْنَ الْـخُلُقِ، وَالرِّضَا بِالْـقَدَرِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট চাই সুস্থতা, পবিত্রতা, উত্তম চরিত্র এবং তোমার ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি।[137]

 [১৮০]    اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا: هَادِيْنَ مَهْدِيِّينَ، غَيْرَ ضَالِّينَ وَلاَ مُضِلِّينَ، سِلْمًا لأَوْلِيَائِكَ، حَرْبًا لأَعْدَائِكَ نُحِبُّ بحُبِّكَ مَنْ أَحَبَّكَ، وَنُعَادِي بِعَدَاوَتِكَ مَنْ عَادَاكَ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হিদায়াতপ্রাপ্ত ও হিদায়াতকারী বানাও। আমাকে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী বানিও না। তুমি আমাকে তোমার বন্ধুদের সাথে সন্ধিকারী এবং তোমার শত্রুদের সাথে যুদ্ধকারী বানাও। তোমাকে যারা ভালবাসে আমরা তাদেরকে ভালবাসি, তোমার ভালবাসার কারণে। যারা তোমার সাথে শত্রুতা করে আমরা তাদের সাথে শত্রুতা করি, তোমার সাথে শত্রুতার কারণে।[138]

 [১৮১]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ: مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصَيَتِهَا، إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٌ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই আমার নিজের অনিষ্ট হতে। আর প্রত্যেক প্রাণীর অনিষ্ট হতে যার ললাটের কেশগুচ্ছ তুমি ধারণ করে আছ। আমার প্রতিপালক সরল সঠিক পথে আছেন।[139]

 [১৮২]   اللَّهُمَّ فَارِجَ الْـهَمِّ وَكَاشِفَ الْـغَمِّ، مُجِيبَ دَعْوَةِ الْــمُضْطَرِّينَ، رَحْمَنَ الدًّنْيَا وَالآخِرَةِ وَرَحِيمَهُمَا، ارْحَمْنِي رَحْمَةً تُغْنِيْنِي بِهَا عَنْ رَحْمَةِ مَنْ سِوَاكَ

হে আল্লাহ! চিন্তা অপসরণকারী, দুঃখ-কষ্ট দূরকারী, উদ্বিগ্ন ব্যক্তিদের দুআ কবুলকারী। দুনিয়া ও আখিরাতে রহমান ও রাহীম। একমাত্র তুমিই আমাকে দয়া করতে পার। যে দয়া আমাকে অন্য সবার অনুগ্রহ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেবে।[140]

  [১৮৩]   أَصْبَحْنَا بِاللهِ الَّذِي لَيْسَ شَيْءٌ مِنْهُ مُمْتَنِعٌ وَبِعِزَّةِ اللهِ لاَ تُرَامُ وَلاَ تُضَامُ، وَبِسْلْطَان اللهِ الْـمَنِيْعِ نَحْتَجِبُ، وَبأَسْمَاءِ اللهِ الْـحُسْنَى كُلِّهَا، عَائِذًا باللهِ مِنَ الأَبَالِسَةِ، وَمِنْ شَرِّ شَيَاطِينِ الإِنْسِ وَالْـجِنِّ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ مُعْلِنٍ أَوْ مُسِرٍّ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَكْمُنُ بِاللَّيْلِ وَيَخْرُجُ بِالنَّهَارِ، أَوْ يَكْمُنُ بالنَّهَارِ وَيَخْرُجُ باللَّيْلِ وَمِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذرَأَ وَبَرَأَ، وَمِنْ شَرِّ إِبْلِيْسَ وَجُنُودِهِ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بَنَاصِيَتِهَا

আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে সকাল করলাম। এমন কিছু নেই যা তাকে বাধা দিতে পারে। আল্লাহর সম্মানের উসিলায় যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও ক্ষতিকারক নয়। সেই বাধা প্রদানকারী আল্লাহরই বাদশাহীর ছত্রছায়ায়, আল্লাহর সমস্ত উত্তম নামের ‍উসিলায়, আশ্রয় প্রার্থনা করছি- সেই ইবলিসদের থেকে, মানুষ ও জিনের অনিষ্ট, প্রত্যেক প্রকাশকারী ও গোপনকারীর অনিষ্ট, যা রাতে গোপন হয় ও দিনে বের হয় তার অনিষ্ট বা দিনে গোপন হয় ও রাতে বের হয় তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট, ইবলিস ও তার বাহিনীর অনিষ্ট এবং প্রত্যেক প্রাণীর অনিষ্ট হতে যার ললাটের কেশগুচ্ছ তোমারই হাতে।

 [১৮৪]    أَعُوْذ باللهِ مِمَّا اسْتَعَاذ بهِ مُوسَى وَعِيسَى وَإِبْرَاهِيمُ الَّذِي وَفَّى، وَمِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذرَأَ وَبَرَأَ، وَمِنْ شَرِّ إِبْلِيْسَ وَجُنُودِهِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يُتَّقَي

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন মূসা, ইসা ও ইবরাহিম (আ)। আর তিনি তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। আমি আশ্রয় চাই তার সেই সৃষ্টির অনিষ্ট হতে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন, ইবলিস ও তার বাহিনীর অনিষ্ট হতে এবং তাদের অনিষ্ট থেকে যাদের থেকে বেঁচে থাকতে হয়।

 [১৮৫]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ: خَيْرَ مَا عِنْدَكَ وَأَفْضِ عَلَيَّ مِنْ فَضْلِكَ، وَانْشُرْ عَلَيَّ مِنْ رَحْمَتِكَ وَأَنْزِلْ عَلَيَّ مِنْ بَرَكَاتِكَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উত্তম ও কল্যাণকর জিনিস প্রার্থনা করি। আমার উপর তোমার অনুগ্রহ প্রবাহিত করে দাও। তোমার রহমত আমার উপর প্রসারিত করে দাও। আর আমার উপর তোমার বরকত নাযিল কর।[141]

 [১৮৬]    اللَّهُمَّ لَكَ الْـحَمْدُ كُلُّهُ، وَلَكَ الْـمُلْكُ كُلُّهُ وَبِيَدِكَ الْـخَيْرُ كُلُّهُ، وَإِلَيْكَ يُرْجَعُ الأَمْرُ كُلُّهُ عَلانِيَتُهُ وَسِرُّهُ، فَأَهْلٌ أَنْتَ أَنْ تُحْمَدَ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার। সকল রাজত্ব তোমার। তোমার হাতেই সব কল্যাণ। প্রকাশ্য ও গোপন সকল বিষয় তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। তুমিই সব প্রশংসার যোগ্য। আর তুমি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।[142]

 [১৮৭]   اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي جَمِيعَ مَا مَضَى مِنْ ذُنُوبي، وَاعْصِمْنِي فِيْمَا بَقِيَ مِنْ عُمُرِي، وَارْزُقْنِي عَمَلاً زَاكِيًا تَرْضَى بهِ عَنِّي

হে আল্লাহ! আমার পূর্বের হয়ে যাওয়া সব গুনাহ ক্ষমা করে দাও। বাকী জীবনে আমাকে (গুনাহ ও অকল্যাণ থেকে) রক্ষা কর। আর আমাকে এমন ভাল আমল করার তাওফীক প্রদান কর যার দ্বারা তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।[143]

 [১৮৮]    اللَّهُمَّ إِنِّي ضَعِيفٌ فَقَوِّنِي فِي رِضَاكَ، وَخُذْ إِلَى الْـخَيْرِ بنَاصِيَتِي، وَاجْعَلِ الإِسْلاَمَ مُنْتَهَى رَجَائِي

হে আল্লাহ! আমি দুর্বল। সুতরাং তোমার সন্তুষ্টির জন্য আমাকে সবল কর। আমার ললোটের চুল ধরে আমাকে নেককাজে লাগিয়ে রাখ। ইসলামকে আমার জন্য চূড়ান্ত লক্ষ্য ও আশার বিষয়ে পরিণত কর।[144]

 [১৮৯]    اللَّهُمَّ إِنِّي ضَعِيفٌ فَقَوِّنِي، وَإِنِّي ذلِيلٌ فَأَعِزَّنِي، وَإِنِّي فَقِيرٌ فَأَغْنِنِي

হে আল্লাহ! আমি দুর্বল শক্তিহীন, আমাকে শক্তি দাও। আমি লাঞ্ছিত অপমানিত, আমাকে সম্মান দান কর। আমি ফকীর ও দরিদ্র, আমাকে স্বচ্ছলতা ও সমৃদ্ধি দান কর।[145]

 [১৯০]    اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْـكَفَرَةَ الَّذِينَ يُكَذِّبُونَ رُسُلَكَ، وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبيلِكَ، وَاجْعَلْ عَلَيْهِمْ رِجْزَكَ وَعَذَابَكَ

হে আল্লাহ! যার তোমার রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং তোমার পথে বাঁধা দেয়, তুমি ঐ সমস্ত কাফিরদেরকে ধ্বংস কর। তোমার লাঞ্ছনা ও আযাব তাদের জন্য অবধারিত করে দাও।[146]

 [১৯১]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بكَ مِنَ: الطَّعْنِ، وَالطَّاعُونِ، وَالْـوَبَاءِ، وَعَظِيمَ الْـبَلاءِ، فِي النَّفْسِ وَالأَهْلِ وَالَمَالِ وَالْـوَلَدِ، اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ مِمَّا نَخَافُ وَنَحْذَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ عَدَدَ ذُنُوبنَا حَتَّى تُغْفَرَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই আঘাত, প্লেগ রোগ, মহামারী, নিজ জীবনে, স্বীয় পরিবার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততীতে বড় বিপদাপদ হতে। আমরা যা ভয় করি তার থেকে আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আমার গুনাহ ক্ষমা করা পর্যন্ত আমার গুনাহর সমতুল্য তাকবীর পাঠ করছি। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান।[147]

 [১৯২]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذ بكَ: مِنَ الطَّعْنِ وَالطَّاعُونِ وَمِنْ هُجُومِ الْـبَلاَءِ، وَمِنْ مَوْتِ الْـفَجْأَةِ وَمِنْ سَعْرَةِ الْـحُمَّى، وَمِنْ سُوْءِ الْـقَضَاءِ وَمِنْ شَرِّ الْـبَلاءِ، وَنَعُوذُ بكَ مِنْ دَرَكِ الشَّقَاءِ وَشَمَاتَةَ الأَعْدَاءِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ يَا ذا الْـجَلالِ وَالإِكْرَامِ، اكْشِفْ عَنَّا الْـعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُونَ، اصْرِفَ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا، رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْـخَاسِرِينَ برَحْمَتِكَ يَا رَبَّ الْـعَالَمِينَ يَا اللهُ يَا حَافِظُ يَا اللهُ يَا رَافِعُ

হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাই বিভিন্ন আক্রমণ, প্লেগ রোগ, বিপদাপদের আক্রমণ, অপ্রত্যাশিত মৃত্যু, জ্বরের উত্তাপ, তাকদীরের অকল্যাণ, বিপদের অকল্যাণ থেকে। আমরা তোমার আরো আশ্রয় চাই দুর্ভাগ্যের আক্রমণ এবং শত্রুর খুশি হওয়া থকে। হে চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী! হে মহা সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী! তুমি আমাদের উপর থেকে আযাব দূর করে দাও, আমরা তো নিশ্চয়ই মুমিন। তুমি আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব দূর করে দাও, এর আযাব তো  নিশ্চিত বিনাশ। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নিজেদের উপর অনেক যুলম করেছি। তুমি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না কর ও দয়া না কর, তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব। হে জগতসমূহের প্রতিপালক! হে আল্লাহ! হে হেফাযতকারী! হে আল্লাহ! হে মর্যাদা দানকারী।[148]

 [১৯৩]    اللَّهُمَّ عَجِّلْ لأَوْلِيَائِكَ الْـفَرَجَ وَالْـعَافِيَةَ وَزِدْ لِي فِي حَياتِي، فَإِنَّكَ أَنْتَ اللهُ الَّذِي يَهِبُ عَيْشَ الأَبَدِ لأَهْلِ الآخِرَةِ، فَهَبْ لِي عُمُرًا طَوِيلاً مَدِيدًا وَعَيْشًا مَزِيدًا فِي عَافِيَتِكَ وَرِضَاكَ؛ فَإِنَّكَ وَلِيُّ ذَلِكَ، وَالْـقَادِرُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيِا وَالآخِرَةِ

হে আল্লাহ! তুমি তোমার বন্ধুদেরকে বিপদমুক্ত করে দাও এবং নিরাপদ ও শান্তিতে রাখ। আমার জীবদ্দশায়ও এগুলো বৃদ্ধি করে দাও। কেননা তুমিই আল্লাহ! আখিরাতে তোমার নিকটজনদের অমরত্ব দানকারী। তুমি আমাকে তোমার নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টির সাথে  দীর্ঘজীবি কর এবং পর্যাপ্ত জীবনোপকরণ দান কর। কেননা তুমিই এগুলোর অধিকারী এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তুমিই এর উপর ক্ষমতাবান।[149]

 [১৯৪]    أَعُوذ بكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَأَلِيمِ عِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ شَرِّ هَمْزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

আমি আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ কালিমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি তার ক্রোধ, তার কঠিন শাস্তি, তার বান্দাদের অনিষ্ট, শয়তানদের উৎপীড়ন এবং আমার নিকট শয়তানের আগমন হতে।[150]

 [১৯৫]  اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذ بوَجْهِكَ الْـكَرِيمِ وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ

হে আল্লাহ! আমি তোমার সম্মানিত চেহারা ও পরিপূর্ণ কালিমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি সেসব সৃষ্টজীবের অনিষ্ট হতে, যার ললাটের কেশগুচ্ছ তুমি ধরে রেখেছ।[151]

 [১৯৬]  اللَّهُمَّ أَنْتَ تَكْشِفُ الْـمَأْثمَ وَالْـمَغْرَمَ

হে আল্লাহ! একমাত্র তুমিই পাপ ও ‍ঋণ মুক্তকারী।[152]

 [১৯৭]   اللَّهُمَّ لا يُهْزَمُ جُنْدُكَ وَلا يُخْلَفُ وَعْدُكَ سُبْحَانَكَ وَبحَمْدِكَ، تَحَصَّنْتُ باللهِ الَّذِي لا إِلَهَ إِلاَّ هُوَ إِلَهِي وَإِلَهُ كُلِّ شَيْءٍ، وَاعْتَصَمْتُ بِرَبِّي وَرَبِّ كُلِّ شَيْءٍ، وَتَوَكَّلْتُ عَلَى الْـحَيِّ الَّذِي لاَ يَمُوتُ، وَاسْتَدْفَعْتُ الشَّرَّ كُلَّهُ بلاَ حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ الْـعَلِيِّ الْـعَظِيْمِ، حَسْبيَ اللهُ وَنِعْمَ الْـوَكِيْلُ، حَسْبيَ الرَّبُّ مِنَ الْـعِبَادِ، حَسْبيَ الْـخَالِقُ مِنَ الْـمَخْلُوقِينَ، حَسْبيَ الرَّازِقُ مِنَ الْـمَرْزُوقِينَ، حَسْبيَ اللهُ وَكَفَى، سَمِعَ اللهُ لِمَنْ دَعَا، لَيْسَ وَرَاءَ اللهِ مُنْتَهَى، لا إِلَهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ، وَهُوَ رَبُّ الْـعَرْشِ الْـعَظِيمِ

হে আল্লাহ! তোমার বাহিনীকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। তোমার অঙ্গীকার ভঙ্গ হয় না। তুমি পবিত্র, তোমার জন্যই সব প্রশংসা।আমি সেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করছি যিনি ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নাই। তিনিই আমার ও সবার উপাস্য। আমি আমার ও সবার প্রতিপালকের হিফাযত গ্রহণ করছি। আমি ভরসা করছি সেই চিরঞ্জীব সত্তার উপর যিনি কখনও মৃত্যুবরণ করবেন না। সকল অকল্যাণকে প্রতিরোধ করি সেই আল্লাহর মাধ্যমে যার সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই, যিনি সমুচ্চ ও সম্মানিত।

আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট আর তিনি উত্তম অভিভাবক। সকল বান্দাদের থেকে আমার জন্য আমার প্রতিপালকই যথেষ্ট। সকল মাখলুক থেকে আমার জন্য আমার খালেকই (সবার স্রষ্টা আল্লাহ) যথেষ্ট। সকল রিযিকপ্রাপ্তদের থেকে আমার জন্য রাযযাকই (সবার রিযিকদাতা আল্লাহ) যথেষ্ট। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট ও পরিপূর্ণ। যে আল্লাহকে ডাকে আল্লাহ তার ডাক শুনেন। আল্লাহ ব্যতীত সবকিছু নিঃশেষ হয়ে যাবে। তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। আমি তারই উপর ভরসা করি। আর তিনি মহান আরশের রব।[153]

 [১৯৮]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَشْكُو إِلَيْكَ ضَعْفَ قُوَّتِي وَقِلَّةَ حِيلَتِي، وَهَوَانِي عَلَى النَّاسِ، برَحْمَتِكَ يَا رَبَّ الْـعَالَمِينَ، أَنْتَ رَبُّ الْـمُسْتَضْعَفِينَ وَأَنْتَ رَبِّي إِلَى مَنْ تَكِلُنِي؟ إِلَى بَعِيدٍ يَتَجَهَّمُنِي أَوْ إِلَى عَدُوٍّ مَلَّكْتَهُ أَمْرِي؟ إِنْ لَمْ يَكُنْ بكَ غَضَبٌ عَلَيَّ فَلا أُبَالِي، وَلَكِنَّ عَافِيَتَكَ أَوْسَعُ لِي مِنْ ذُنُوبي، أَسْأَلُكَ بنُورِ وَجْهِكَ الَّذِي أَشْرَقَتْ لُهُ الظُّلُمَاتُ، وَصَلَحَ عَلَيْهِ أَمْرُ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ مِنْ أَنْ يَحِلَّ بي سَخْطُكُ أَوْ يَنْزِلَ عَلَيَّ عَذَابُكَ، لَكَ الْـعُتْبَى حَتَّى تَرْضَى، وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلاَّ بكَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আমার দুর্বলতা, উপায়ের স্বল্পতা এবং মানুষের চোখে হীন হওয়ার অভিযোগ করছি, তোমার রহমতের মাধ্যমে হে সমস্ত জগতের প্রতিপালক। তুমিই তো দুর্বলদের প্রতিপালক এবং তুমিই আমার প্রতিপালক। আমাকে তুমি কার উপর ন্যস্ত করবে? কোন দূরে ঠেলে দিবে বা কোন শত্রুর হাতে আমার কাজকর্মের ভার ন্যস্ত করবে?

তুমি যদি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট না হও তবে আমি কোন কিছুর পরোয়া করি না। কেননা তোমার ক্ষমা ও নিরপত্তা আমার গুনাহ ও পাপ হতে অধিকতর প্রশস্ত। আমি তোমার নিকট তোমার চেহারার সেই নূরের উসীলায় প্রার্থনা করি যার দ্বারা সকল অন্ধকার দুর হয়ে যায়, যার দ্বারা ইহকালীন পরকালীন কর্মসমূহ পরিশুদ্ধ হয়ে যায়- আমার উপর যেন তোমার ক্রোধ ও আযাব আপতিত না হয়। তোমার সন্তুষ্ট হওয়া অবধি তোমার  ইবাদত করব। তোমার সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নাই।[154]

 [১৯৯]  اللَّهُمَّ عَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَانْفَعْنِي بمَا عَلَّمْتَنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে উপকারী ইলম ও জ্ঞান শিক্ষা দাও। আমাকে যেই ইলম ও জ্ঞান শিখিয়েছ তার দ্বারা উপকৃত কর। আর আমার ইলম ও জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।[155]

 [২০০]  اللَّهُمَّ يَا مُعِلِّمَ إِبْرَاهِيمَ عَلِّمْنِي، وَيَا مُفَهِّمَ سُلَيْمَانَ فَهِّمْنِي

হে আল্লাহ! হে ইবরাহিম (আ) কে শিক্ষা দানকারী! তুমি আমাকে শিক্ষা দান কর। হে সুলায়মান (আ) কে বিজ্ঞকারী, আমাকে বিজ্ঞ কর।[156]

 [২০১]   اللَّهُمَّ اجْعَلْ لِي وَلِلْمُسْلِمِينَ مِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا، وَمِنْ كُلِّ ضِيْقٍ مَخْرَجًا، وَمِنْ كُلِّ بَلاءٍ عَافِيَةً

হে আল্লাহ! তুমি আমার ও সকল মুসলমানের চিন্তা-ভাবনাকে অপসারণ করে দাও, সকল সংকটকে দূরিভূত কর এবং বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা দান কর।[157]

 [২০২]  اللَّهُمَّ مَنْ أَرَادَ الْـمُسْلِمِينَ بسُوءٍ فَاشْغِلْهُ فِي نَفْسِهِ

হে আল্লাহ! যারা মুসলমানদের অনিষ্ট করতে চায়, তাদেরতে তাদের নিজেদের (চিন্তা-পেরেশানীর) মধ্যে ব্যস্ত করে দাও।[158]

 [২০৩]  اللَّهُمَّ إِنَّا نَدْرَأُ بكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنُعُوذ بكَ مِنْ شُرُورِهِمْ

হে আল্লাহ! আমরা তাদেরকে (অনিষ্টকারীদেরকে) দমন করার জন্য তোমাকে ন্যস্ত করছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।[159]

 [২০৪]   اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُسْلِمِينَ وَالْـمُسْلِمَاتِ وَالْـمُؤْمِنِينَ وَالْـمُؤْمِنَاتِ الأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالأَمْوَاتِ إِنَّكَ قَرِيبٌ مُجِيبُ الدَّعْوَاتِ رَبَّ الْـعَالَمِينَ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার পিতা-মাতাকে, সকল জীবিত ও মৃত মুসলমান ও ‍মুমিন নর-নারীকে মাফ করে দাও। তুমি অতি নিকটে, প্রার্থনা শ্রবণকারী সমস্ত জগতের প্রতিপালক।[160]

 [২০৫]    اللَّهُمَّ طَهِّرْ قَلْبي مِنَ النِّـفَاقِ، وَعَمَلِي مِنَ الرِّيَاءِ، وَلِسَانِي مِنَ الْـكَذِبِ، وَعَيْنِي مِنَ الْـخِيَانَةِ، إِنَّكَ تَعْلَمُ خَائِنَةَ الأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورِ

হে আল্লাহ! পবিত্র কর আমার হৃদয়কে মুনাফিকী থেকে। আমার আমলকে রিয়া থেকে। আমার যবানকে মিথ্যা থেকে। আমার চোখকে খিয়ানত থেকে। নিশ্চয়ই তুমি চোখের অপব্যবহার এবং অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্পর্কে অবগত আছ।[161]

 [২০৬]  اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ نَفْسًا مُطْمَئِنَّةً بلِقَائِكَ وَتَقْنَعُ بِعَطَائِكَ وَتَرْضَى بِقَضَائِكَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট নফসে মুতমায়িন্না বা এমন প্রশান্ত আত্মা প্রার্থনা করি- যে তোমার সাক্ষাতের আশা রাখে, তোমার দানে তৃপ্ত থাকে এবং তোমার নির্ধারিত তাকদীরে রাযী থাকে।[162]

 [২০৭]  اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ سِرِّي وَعَلاَنِيَتِي فَاقْبَلْ مَعْذِرَتِي، وَتَعْلَمُ حَاجَتِي فَأَعْطِنِي سُؤْلِي

হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রকাশ্য ও গোপন সব জান। অতএব আমার ওযর কবুল কর। আমার প্রয়োজন পূর্ণ কর এবং আমার প্রার্থনা অনুযায়ী দান কর।[163]

 [২০৮]   اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيْمَانًا يُبَاشِرُ قَلْبي، وَيَقِيْنًا صَادِقًا حَتَّى أَعْلَمَ أَنَّهُ لَنْ يُصِيبَنِي إِلاَّ مَا كَتَبْتَ لِي، وَأَنَّ مَا أَصَابَنِي لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَنِي وَمَا أَخْطَأَنِي لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَنِي

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন ইমান প্রার্থনা করি যা আমার অন্তরে বিস্তার লাভ করবে। আর এমন সত্য ইয়াকীন প্রার্থনা করি, যার দ্বারা এই বিশ্বাস জন্মে যে, তুমি আমার তাকদীরে যা লিপিবদ্ধ করেছ তার বাইরে কিছুই হবে না। আমার যা পাওয়ার তা কখনো আমাকে ভুল করবে না। আর যা আমাকে ভুল করবে তা কখনো আমি পাব না।[164]

 [২০৯]  اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيمَانًا أَهْتَدِي بهِ، وَنُورًا أَقْتَدِي بهِ، وَرِزْقًا حَلاَلاً أَكْتَفِي بهِ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এমন ইমান দান কর যার দ্বারা আমি হিদায়াতের পথে চলতে পারি। এমন নূর দান কর যার দ্বারা আমি (সত্যের) অনুসরণ করতে পারি এবং এমন হালাল রিযিক দান কর, যা হবে আমার জন্য যথেষ্ট।[165]

 [২১০]  اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي أُحِبُّكَ بقَلْبي كُلِّهِ، وَأُرْضِيكَ بجُهْدِي كُلِّهِ

হে আল্লাহ! আমার অন্তরের সব মহব্বত তোমার জন্য কর এবং সব চেষ্টা-সাধনা তোমার সন্তুষ্টির জন্য করার তাওফীক দান কর।

 [২১১]  اللَّهُمَّ اجْعَلْ حُبِّي كُلَّهُ وَسَعْيِي كُلَّهُ فِي مَرْضَاتِكَ

হে আল্লাহ! আমার সব মহব্বত ও ভালবাসা এবং সব ধরণের চেষ্টা-প্রচেষ্টা তোমার সন্তুষ্টির জন্য করার তাওফীক দান কর।

 [২১২]  اللَّهُمَّ مَا زَوَيْتَ عَنِّي مِمَّا أُحِبُّ فَاجْعَلْهُ قُوَّةً لِي فِيمَا تُحِبُّ، وَاجْعَلْنِي لَكَ كَمَا تُحِبُّ

হে আল্লাহ! তুমি আমার পছন্দনীয় যা দূরে সরিয়ে রেখেছ, তা তুমি আমার জন্য শক্তিস্বরুপ করে দাও তার জন্য যা তুমি পছন্দ কর এবং আমাকে তোমার জন্য তুমি যেভাবে চাও তেমন বানিয়ে দাও।[166]

 [২১৩]   سُبْحَانَ اللهِ مِلْءَ الْـمِيْزَانِ وَمُنْتَهَى الْـعِلْمِ وَمَبْلَغَ الرِّضَا وَزِنَةَ الْـعَرْشِ، وَلا إِلَهَ إِلاَّ اللهُ مِلْءَ الْـمِيْزَانِ وَمُنْتَهَى الْـعِلْمِ وَمَبْلَغَ الرِّضَا وَزِنَةَ الْـعَرْشِ، وَاللهُ أَكْبَرُ مِلْءَ الْـمِيزَانِ وَمُنْتَهَى الْـعِلْمِ وَمَبْلَغَ الرِّضَا وَزِنَةَ الْـعَرْشِ

সুবহানাল্লাহ বা আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি মীযানের সমপরিমাণ, জ্ঞানের পরিসীমা পর্যন্ত, আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল অবধি এবং আরশের ওযনের সমপরিমাণ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলি মীযানের সমপরিমাণ, জ্ঞানের পরিসীমা পর্যন্ত, আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল অবধি এবং আরশের ওযনের সমপরিমাণ। আল্লাহু আকবার বা আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করি মীযানের সমপরিমাণ, জ্ঞানের পরিসীমা পর্যন্ত, আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল অবধি এবং আরশের ওযনের সমপরিমাণ।[167]

 [২১৪]    اللَّهُمَّ إِنَّكَ عِلِمْتَ مَا تَحْتَ أَرْضِكَ كَعِلْمِكَ بـمَا فَوْقَ عَرْشِكَ، وَكَانَتْ وَسَاوِسُ الصُّدُورِ كَالْـعَلانِيَةِ عِنْدَكَ، وَعَلانِيَةُ الْـقَوْلِ كَالسِّرِّ فِي عِلْمِكَ، وَانْقَادَ كُلُّ شَيْءٍ لِعَظْمَتِكَ، وَخَضَعَ كُلُّ سُلْطَانٍ لِسُلْطَانِكَ، وَصَارَ أَمْرُ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ كُلُّهُ بيَدَيْكَ، اجْعَلْ لِي مِنْ كُلِّ هَمٍّ وَغَمٍّ أَصْبَحْتُ فِيهِ فَرَجًا وَمَخْرَجًا

হে আল্লাহ! তুমি যমীনের নিচের সবকিছু তেমনভাবেই জান যেমনভাবে তুমি আরশের উপরের সবকিছু সম্বন্ধে জান। অন্তরের কুমন্ত্রণা তোমার নিকট প্রকাশ্য বিষয়ের মত। আর প্রকাশ্য কথাবার্তা তোমার জ্ঞানে গোপন বিষয়ের মতই। প্রত্যেক বস্তুই তোমার মাহাত্বের অনুগত এবং প্রত্যেক ক্ষমতার অধিকারী তোমার ক্ষমতার অনুগত। ইহকাল ও পরকালের সকল বিষয়ের কর্তৃত্ব তোমারই হাতে। আমাকে প্রত্যেক দুশিন্তা ও পেরেশানী এবং দুঃখ-বেদনা থেকে মুক্তি দান কর।

 [২১৫]    اللَّهُمَّ إِنَّ عَفْوَكَ عَنْ ذُنُوْبي، وَتَجَاوُزَكَ عَنْ خَطِيْئَتِي، أَطْمَعَنِي أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لا أَسْتَوْجِبُهُ مِمَّا قَصَّرْتُ فِيهِ، أَدْعُوْكَ آمِنًا وَأَسْأَلُكَ مُسْتَأْنِسًا، وَإِنَّكَ لَلْمُحْسِنُ إِلَيَّ وَإِنِّي لَلْمُسِيْءُ إِلَى نَفْسِيْ فِيْمَا بَيْنِي وَبَيْنَكَ، تَتَوَدَّدُ إِلَيَّ بالنِّعَمِ وَأَتَبَغَّضُ إِلَيْكَ بالْـمَعَاصِي، وَلَكِنَّ الثِّقَةَ بكَ حَمَلَتْنِي عَلَى الْـجَرَاءَةِ عَلَيْكَ، فَعُدْ بفَضْلِكَ وَإِحْسَانِكَ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ، لا إِلَهَ غَيْرُكَ، وَالْـبَدِيعُ لَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَالدَّائِمُ غَيْرُ الْـغَافِلِ، وَالَّذِي لا يَمُوتُ وَخَالِقُ مَا يُرَى وَمَا لا يُرَى، وَكُلَّ يَوْمٍ أَنْتَ فِي شَأْنٍ، وَسِعْتَ اللَّهُمَّ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَّعِلْمًا، يَا رَحْمنُ، يَا رَحِيمُ، يَا كَرِيمُ، يَا أَحَدُ، يَا صَمَدُ، يَا حَيُّ، يَا مُحْيِي، يَا قَيُّومُ، لا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، يَا رَبَّنَا إِنَّا عَبيدُكَ وَفِي سَبيلِكَ، اجْعَلْ لَنَا السَّبيلَ إِلَى كُلِّ خَيْرٍ

হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপকে ক্ষমা কর। আমার ভুল ত্রুটিকে মাফ কর। যা আমি অবহেলাবশত পালন করতে পারিনি আমাকে তার আগ্রহ প্রদান কর। আমি তোমার নিকট নিরপত্তার দুআ করি এবং একাগ্রতার প্রার্থনা করি। নিশ্চয়ই তুমি আমার প্রতি ইহসান-অনুগ্রহকারী আর আমি আমার নিজের প্রতি যুলুমকারী সেই বিষয়ে, যে বিষয়ে তোমার সাথে আমার অঙ্গীকার রয়েছে। তোমার নিআমতের মাধ্যমে তুমি আমার প্রতি মহব্বত পোষণ কর আর আমার গুনাহর মাধ্যমে আমি তোমার প্রতি বৈরিতা প্রকাশ করি। তা সত্বেও তোমার প্রতি আশা-ভরসাই আমাকে তোমার প্রতি সাহস যুগায়। অতএব তোমার ফযল ও অনুগ্রহে তুমি আমার প্রতি ফিরে এসো (রহম করো)। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী অতি দয়ালু।

তুমি ব্যতীত অপর কোন মাবুদ নাই। তুমি এমন স্রষ্টা যার পূর্বে কিছুই নেই। যিনি সদা জাগ্রত কখনো গাফিল নন। যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। যিনি দৃশ্য-অদৃশ্য সবকিছুর স্রষ্টা। তুমি প্রতিদিন তোমার শান অনুযায়ী থাক। হে আল্লাহ! তুমি প্রত্যেক বস্তুকে তোমার জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে রেখেছ। হে দয়াময়! হে দয়ালু! হে মহান দাতা! হে একক ও অদ্বীতিয়! হে অমুখাপেক্ষী! হে চিরঞ্জীব! হে জীবন দানকারী! হে চিরস্থায়ী!  তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা তোমার বান্দা এবং তোমার পথেই আছি। তুমি আমাদের জন্য প্রত্যেক কল্যাণের পথ খুলে দাও।

 [২১৬]    اللَّهُمَّ حَنِّنْ عَلَيَّ عِبَادَكَ وَإِمَاءَكَ، أَغْنِنِي عَنْ شِرَارِ عِبَادِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ، يَا وَدُودُ يِا ذا الْـعَرْشِ الْـمَجِيدُ يا فَعَّالاً لِمَا يُرِيدُ أَسْأَلُكَ بعِزِّكَ الَّذِي لا يُرَامُ، وَبـمُلْكِكَ الَّذِي لا يُضَامُ وَبنُورِكَ الَّذِي مَلأَ أَرْكَانَ عَرْشِكَ أَنْ تَكْفِيَنِي شَرَّ كَذَا وَكَذَا يَا مُغِيثُ أَغِثْنِي، يَا مُغِيثُ أَغِثْنِي، يَا مُغِيثُ أَغِثْنِي

হে আল্লাহ! তুমি তোমার বান্দা ও বান্দীদের উপর দয়া কর। হে দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু! তুমি তোমার বান্দাদের অনিষ্ঠ হতে আমাকে রক্ষা কর। হে দয়াময়! হে সম্মানিত আরশের অধিকারী! হে যা ইচ্ছা তাই করার অধিকারী! আমি তোমার নিকট তোমার সম্মানের অসিলায় যা নিঃশেষ হবার নয়, তোমার রাজত্বের অসিলায় যার কোন শরীক নেই এবং তোমার নূরের অসিলায় যা তোমার আরশের স্তম্ভগুলো ভরে রেখেছে- তুমি আমাকে অমুক অমুক অনিষ্ঠ হতে রক্ষা কর। হে সাহায্যকারী! আমাকে সাহায্য কর। হে সাহায্যকারী! আমাকে সাহায্য কর। হে সাহায্যকারী! আমাকে সাহায্য কর।[168]

 [২১৭]    أَعُوذ بعَزَّةِ اللهِ وَعَظْمَتِهِ وَبعِزَّةِ اللهِ وَقُدْرَتِهِ وَبعِزَّةِ اللهِ وَسُلْطَانِهِ وَبعِزِّ جَلالِ اللهِ وَبعِزِّ اللهِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، وَذرَأَ وَبَرَأَ، وَمِنْ شَرِّ مَا تَحْتَ الثَّرَى، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ رَبِّي آخِذٌ بنَاصِيَتِهَا، إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ، وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ الْـعَلِيِّ الْـعَظِيمِ، مَلْجَأِ كُلِّ هَارِبٍ وَمَأْوَى كُلِّ خَائِفٍ، لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ الْـعَلِيِّ الْـعَظِيمِ، أَقِي بهَا نَفْسِي وَدِيْنِي وَأَهْلِي وَمَالِي، وَجَمِيعَ نِعْمِ إِلَهِي وَمَوْلايَ وَسَيِّدِي عِنْدِي

আমি আল্লাহর ইযযত সম্মান ও বড়ত্বের অসিলায়, ইযযত সম্মান ও কুদরতের অসিলায়, ইযযত সম্মান ও বাদশাহীর অসিলায়, মহিমার ইযযত সম্মান ও তার মর্যাদার অসিলায় আশ্রয় প্রার্থনা করছি তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে। আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা কিছু যমীনের নিচে তার অনিষ্ট হতে। আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রত্যেক প্রাণধারী সত্তার অনিষ্ট হতে যার ললাটের কেশগুচ্ছ তার হাতে। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক সরল সঠিক পথে আছেন। মহান ও সমুচ্চ আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই। প্রত্যেক পলাতক ও ভীত ব্যক্তির আশ্রয়স্থল তিনিই। মহান ও সমুচ্চ আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই। তারই শক্তির সাহায্যে আমি বেঁচে থাকি এবং আমার দীন, আমার পরিবার, আমার সম্পদ বেঁচে থাকে। আমার নিকট আমার মাবুদ, অভিভাবক ও প্রতিপালকের সমস্ত নিআমত।[169]

 [২১৮]    اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الشَّاكِرِينَ لآلاَئِكَ الصَّابرِينَ عَلَى بَلائِكَ، النَّاصِرِينَ لأَوْلَيَائِكَ

হে আল্লাহ! আমাকে তোমার নিআমতের শোকরকারী, তোমার নির্ধারিত বিপদাপদে ধৈর্যধারণকারী এবং তোমার বন্ধুদের সাহায্যকারী বানাও।[170]

 [২১৯]  اللَّهُمَّ لا تَحْرِمْنِي خَيْرَ مَا عِنْدَكَ بسُوْءِ مَا عِنْدِي

হে আল্লাহ! আমার নিকট যে খারাপ বস্তু রয়েছে তার পরিবর্তে তোমার নিকট যে উত্তম বস্তু রয়েছে তা দেয়া থেকে আমাকে বঞ্চিত করো না।[171]

 [২২০]  اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عَيْشاً قَارًّا، وَرِزْقًا دَارًّا، وَعَمَلاً بَارًّا

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি স্থায়ী উত্তম জীবন, অঢেল জীবনোপকরণ এবং নেক আমলের তাওফীক।[172]

 [২২১]  اللَّهُمَّ أَغْنِنِي بالاِفْتِقَارِ إِلَيْكَ، وَلا تَفْقِرْنِي بالاسْتِغْنَاءِ عَنْكَ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার মুখাপেক্ষী করে রাখ। আর তোমার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করো না।[173]

 [২২২]   اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَتِي وَآمِنْ رَوْعَتِي وَخَفِّفْ لَوْعَتِي

হে আল্লাহ! আমার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখ। আমার ভয়-ভীতিকে নিরপদ করো এবং আমার কষ্ট লাঘব কর।[174]

 [২২৩]   اللَّهُمَّ آجِرْنِي عَلَى حُسْنِ عِبَادِتِكَ وَوَفِّقْنِي لاسْتِفْتَاحِ أَبْوَابِ رَحْمَتِكَ وَاسْتِمْطَارِ سَمَاحَتِكَ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার উত্তম ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত কর। তোমার রহমতের দরজা উন্মুক্ত করার তাওফীক দান কর এবং (তোমার) উদারতার অনুগ্রহ দান কর।[175]

 [২২৪]  اللَّهُمَّ سَلِّمْنَا وَلاَ تُسْلِمْنَا

হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে নিরাপদে রাখ এবং আমাদেরকে আমাদের নিজেদের উপর সোপর্দ করো না।[176]

 [২২৫]  اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا فِي ضَمَانِكَ وَأَمَانِكَ وَإِحْسَانِكَ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার যামানতে, তোমার আমানতে এবং তোমার দয়া ও ইহসানের উপর রাখ।[177]

 [২২৬]  اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي كُلَّ ذنْبٍ وَاحْفَظْنِي مِنْ كُلِّ جَنْبٍ وَفَرِّجْ عَنِّي كُلَّ كَرْبٍ

হে আল্লাহ! তুমি আমার সব গুনাহ মাফ কর, সব গুনাহ থেকে হিফাযত কর এবং সব ধরণের বিপদাপদ থেকে রক্ষা কর।[178]

 [২২৭]  اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى الْـمَوْتِ وَكُرْبَتِهِ، وَالْـقَبْرِ وَغُمَّتِهِ، وَالصِّرَاطِ وَزَلَّتِهِ، وَيَوْمِ الْـقِيَامَةِ وَرَوْعَتِهِ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মৃত্যু ও তার বিভীষিকায়, কবর ও তার চাপে, পুলসিরাত ও তার পদস্থলনে এবং কিয়ামত ও তার ভয়াবহতায় সাহায্য কর।[179

 [২২৮]    اللَّهُمَّ جَمِّلْ أَمْرِي مَا أَحْيَيْتَنِي، وَعَافِنِي مَا أَبْقَيْتَنِي، وَبَارِكْ لِي فِيْمَا خَوَّلْتَنِي، وَاحْفَظْ عَلَيَّ مَا أَوْلَيْتَنِي، وَارْحَمْنِي إِذا تَوَفَّيْتَنِي، وَآنِسْ وَحْشَتِي إِذا أَرْمَسْتَنِي، وَتَفَضَّلْ عَلَيَّ إِذا حَاسَبْتَنِي، وَلاَ تَسْلُبْنِي الإِيْمَانَ وَقَدْ عَرَّفْتَنِي

হে আল্লাহ! আমার কাজ-কর্মকে সুন্দর কর যতদিন আমি জীবিত থাকব। আমাকে সু্স্থ রাখ যতদিন বাকী থাকব। আমার প্রদত্ত বিষয়ে বরকত দান কর এবং হিফাযত কর যা তুমি আমাকে দান করেছ। মৃত্যুর সময় আমার প্রতি দয়া কর। ভয়-ভীতিতে সান্তনা প্রদান কর। হিসাব নিলে অনুগ্রহ কর। তোমার পরিচয় যেহেতু লাভ করিয়েছ অতএব আমার নিকট হতে ইমানকে ছিনিয়ে নিও না।[180]

 [২২৯]   اللَّهُمَّ ثبِّتْ فِي الْـخَيْرَاتِ وَطَأْتِي، وَنَفِّسْ بَعْدَ الْــمَوْتِ كُرْبَتِي، وَبَارِكْ لِي فِي مَصِيرِي وَمُنْقَلَبي، وَلا تَخْفِرْ ذِمَّتِي يَا غَايَةَ رَغْبَتِي

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে কল্যাণের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। মৃত্যুর পর আমার কষ্ট দূর কর। আমার প্রত্যাবর্তনস্থল ও পরিণতিতে বরকত দান কর। আমার যিম্মা রক্ষা কর- হে আমার আশা-আকাঙ্ক্ষার লক্ষ্যস্থল।[181]

 [২৩০]    اللَّهُمَّ لا تَقْطَعْ رَجَائِي، وَبَلِّغْنِيَ الأَمَانِيَّ وَاكْفِنِي الأَعاَدِي وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي وَاكْفِنِي أَمْرَ دِيْنِي وَدُنْيَايَ وَآخِرَتِي، وَارْزُقْنِي قَلْباً توَّاباً، لا كَافِرًا وَلا مُرْتَاباً، وَاغْفِرْ لِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ، برَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

হে আল্লাহ! আমার আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ছিন্ন করো না। আমার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ কর। আমার প্রত্যাবর্তনস্থলকে যথেষ্ট কর। আমার কার্যাবলীকে ঠিক কর। আমার দীন দুনিয়া ও আখিরাতের কাজের জন্য তুমি আমার জন্য যথেষ্ট হও। আমাকে এমন তওবাকারী অন্তর প্রদান কর যা অস্বীকারকারী ও সন্দেহ পোষণকারী হবে না। আমাকে ক্ষমা, হিদায়াত ও রিযিক দান। নিশ্চয় তুমি উত্তম রিযিকদাতা। হে দয়াময় ও অতি দয়ালু! তোমার রহমতেরই অসিলায় প্রার্থনা করি।[182]

 [২৩১]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَهْدِيكَ لأَرْشَدِ أُمُورِي وَأَسْتَجِيرُكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، سُبْحَانَ رِبِّي الأَعلَى الْـوَهَّابُ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট সর্বাধিক উত্তম কাজের হিদায়াত প্রার্থনা করি এবং আমার নফসের অনিষ্ট থেকে মুক্তি চাই।[183] আমার প্রতিপালক সুউচ্চ দাতা।[184]

 [২৩২]    يَا عَالِمَ الْـخَفِيَّاتِ، رَفِيعَ الدَّرْجَاتِ، ذا الْـعَرْشِ يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ، غَافِرَ الذَّنْبِ قَابلَ التَّوْبِ شَدِيدَ الْـعِقَابِ ذا الطَّوْلِ، لا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ إِلَيْكَ الْـمَصِيرُ، لا إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، سُبْحَانَ اللهِ وَبحَمْدِهِ، أَسْتَغْفِرُ اللهَ، لا حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ، الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْـبَاطِنُ وَهُوَ بكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

হে অদৃশ্যের মহাজ্ঞানী! হে মর্যাদা বুলন্দকারী! যার নির্দেশেই তার বান্দাদের মধ্য হতে যার প্রতি ইচ্ছা তার প্রতি রূহ প্রদান করা হয়। যিনি গুনাহ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তি প্রদানকারী, মহা শক্তিশালী। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং তোমার দিকেই সবাই প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং আল্লাহ মহান। আল্লাহ পবিত্র এবং তার জন্যই সব প্রশংসা। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নাই। তিনিই প্রথম আর তিনিই শেষ। তিনিই প্রকাশ্য আর তিনিই গোপন। আর তিনি সকল বিষয়ে জ্ঞানী।

 [২৩৩]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا تُبْتُ إِلَيْكَ مِنْهُ ثُمَّ عُدْتُ فِيهِ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا جَعَلْتُهُ لَكَ عَلَى نَفْسِي فَلَمْ أُوْفِ لَكَ بهِ، وَأَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا زَعَمْتُ أَنِّي أَرَدْتُ بهِ وَجْهَكَ فَخَالَطَ قَلْبي مَا قَدْ عَلِمْتَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি ঐ সব গুনাহর জন্য, যা থেকে আমি তওবা করেছিলাম অতঃপর পূণরায় তাতে পতিত হয়েছি। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি ঐ সব ত্রুটির জন্য, যা আমি নিজের উপর নির্ধারণ করেছিলাম আর আমি তা পূরণ করতে পারিনি। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি ঐ সব ত্রুটির জন্য, যা আমি তোমার সন্তুষ্টির ইচ্ছায় করি কিন্তু পরে আমার অন্তর তাতে মন্দ মিশ্রণ ঘটায়।[185]

 [২৩৪]    اللَّهُمَّ إِنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بـمَا تَوَسَّلَ بهِ عِبَادُكَ الصَّالِحُونَ وَأَوْلِيَاؤُكَ الْـمُقَرَّبُونَ، أَنْ تَجْعَلَ لَنَا مِنَ الْـفَهْمِ عَنْكَ وَعَنْ رَسُولِكَ مَا نَبْلُغُ بهِ مَنَازِلَ الصِّدِّيقِينَ، وَنُحْشَرُ بهِ فِي زُمْرَةِ الْـعُلَمَاءِ العَامِلِينَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐ বস্তুর মাধ্যমে ওসীলা করে প্রার্থনা করি, যার মাধ্যমে তোমার নেক বান্দাগণ, তোমার নৈকট্যপ্রাপ্ত বন্ধুগণ ওসীলা করে প্রার্থনা করেছে। তুমি আমাকে তোমার ও তোমার রাসূলের ব্যাপারে এমন জ্ঞান দান কর যা আমাদেরকে সিদ্দীকদের মর্যাদায় উন্নীত করে দেবে এবং তার ওসীলায় যেন আমলকারী আলেমদের দলে পূণরুত্থিত হতে পারি।[186]

 [২৩৫]    اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الَّذِيْنَ سَرَحَتْ أَرْوَاحُهُمْ فِي دَارِ الْـعُلَى، وَحَطَّتْ هِمَمُ قُلُوبهِمْ فِي غَايَةِ التُّقَى، حَتَّى أَنَاخُوا برِيَاضِ النَّعِيمِ وَجَنَوا مِنْ ثِمَارِ رِيَاضِ التَّسْنِيمِ، وَخَاضُوا لُجَّةَ السُّرُورِ، وَشَرِبُوا بكَأْسِ الرَّحِيْقِ الْـمَخْتُومِ وَاسْتَظَلُّوا تَحْتَ ظِلِّ الْـكَرَامَةِ الظَّلِيلِ

হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর যাদের রূহকে তুমি ইল্লিয়্যীনে বিচরণ করতে ছেড়ে দিয়েছ এবং যাদের সকল চিন্তা ছিল তাকওয়া অর্জন। যার ফলে তারা নিআমতের বাগিচায় স্থান পেয়েছে এবং জান্নাতের ফল আহরণ, স্থায়ী আনন্দ, মোহরাঙ্কিত বেহেশতী পানীয় পান এবং সম্মানিত ছায়ায় স্থান লাভ করেছে।[187]

 [২৩৬]   اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الَّذِينَ فَتَحُوا بَابَ الصَّبْرِ وَأَرْدَمُوا خَنَادِقَ الْـجَزَعِ، وَجَازُوا شَدِيدَ الْـعِقَابِ، وَعَبَرُوا جِسْرَ الْـهَوَى

হে আল্লাহ! যাদের জন্য তুমি ধৈর্যের দরজা খুলে দিয়েছ এবং হা-হুতাশের দরজা বন্ধ করে দিয়েছ। যারা কষ্টে পতিত হয়ে পুরষ্কৃত হয়েছে এবং প্রবৃত্তির সেতু অতিক্রম করতে পেরেছে, তুমি আমাদেরকে তাদের অন্তুর্ভুক্ত কর।[188]

 [২৩৭]   اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الَّذِينَ أَشَارَتْ إِلَيْهِمْ أَعْلاَمُ الْـهِدَايَةِ وَوَضَحَتْ لَهُمْ طَرِيقُ النَّجَاةِ وَسَلَكُوا سَبيلَ الإِخْلاَصِ وَالْـيَقِينِ

হে আল্লাহ! যাদের হিদায়াতের নিশান প্রকাশিত, মুক্তির পথ স্পষ্ট এবং যারা ইখলাস ও ইয়াকীনের পথে চলে আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর।[189]

 [২৩৮]   اللَّهُمَّ إِنَّ نَفْسِيْ أَمَّارَةٌ بِالسُّوْءِ وَالشَّيْطَانُ يُوقِعُنِي كُلَّ سَاعَةٍ فِي خَطِيئَةٍ مِنَ الْـكَبَائِرِ فَضْلاً عَنِ الصَّغَائِرِ، وَإِنِّي أُرِيْدُ نَزْعِي مِنْ نَزْغِهِ، وَلاَ أَسْتَطِيعُ حَتَّى تُوَفِّقَنِي؛ فَإِنَّ بيَدِكَ الْـخَيْرُ، وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ فَاغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ وَلاَ تُزِغْ قَلْبيْ بَعْدَ إِذ هَدَيْتَنِي، وَامْنَحْنِي عِلْمًا بالْـكِتَابِ وَالسُّـنَّةِ وَإِنْ لَمْ تَرْحَمْنِي وَتَغْفِرْ لِي أَكُنْ مِنَ الْـخَاسِرِينَ، فَاهْدِنِي سَوَاءَ السَّبيلِ وَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً تَامَّةً، وَاعْفُ عَنِّي فَإِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْـعَفْوَ، وَارْزُقْنِي الْـعَافِيَةَ فِي الدِّينِ وَالدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، وَمَا ذَلِكَ عَلَيْكَ بعَزِيْزٍ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ، يَا لَطِيفُ يَا لَطِيفُ، الْـطُفْ بي بالْـقُدْرَةِ الَّتِي اسْتَوَيْتَ بهَا عَلَى الْـعَرْشِ فَلَمْ يَعْلَمْ أحَدٌ كَيْفِيَّةَ اسْتِوَائِكَ عَلَيْهِ، اكْفِنِي شَرَّ كُلِّ شِرِّيرٍ يَا مَنْ كَانَ قَبْلَ أَنْ يَكُونَ شَيْءٌ وَهُوَ الْـمُكَوِّنُ لِكُلِّ شَيْءٍ، وَمَنْ يَكُونُ بَعْدَ مَا لاَ يَكُونُ شَيْءٌ أَسْأَلُكَ يا ذا الْـجَلالِ وَالإِكْرَامِ، يَا ذا الطَّوْلِ، وَالإِنْعَامِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، رَبَّ الْـعَالَمِينَ أًرْحَمَ الرَّاحِمِينَ الْـحَنَّانُ الْـمَنَّانُ بَدِيعَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ رَبَّ الْـعَرْشِ الْـعَظِيمِ

হে আল্লাহ! নিশ্চই আমার নফস বেশী বেশী মন্দ কর্মের নির্দেশ দেয় আর শয়তান প্রতি মুহুর্তে ভুল-ত্রুটি এবং বড় বড় গুনাহর কুমন্ত্রণা প্রদান করে। আমি তোমার নিকট সেই কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই। কিন্তু আমার সেই শক্তি নেই- যে পর্যন্ত তুমি আমাকে তাওফীক না দেবে। তোমার হাতেই সকল কল্যাণ। মন্দের সম্পর্ক তোমার সাথে নেই। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে হিদায়াত দান করার পর আমার অন্তরকে বক্র করো না। তুমি আমাকে কুরআন ও সুন্নাহর ইলম দান কর। তুমি যদি আমার প্রতি দয়া না কর ও ক্ষমা না কর তবে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব। আমাকে সরল পথের দিশা দান কর। পরিপূর্ণভাবে ক্ষমা কর। আমার গুনাহগুলো ক্ষমা কর, নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাকে পছন্দ কর। আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি ও নিরাপত্তা দান কর আর তোমার নিকট তা কোন কঠিন বিষয় নয়, হে দয়াময় পরম দয়ালু।

হে দয়ালু! হে দয়ালু! তুমি আমার প্রতি তোমার ঐ কুদরতের দ্বারা দয়া কর, যার দ্বারা তুমি আরশের উপর সমুন্নত কিন্তু কিভাবে সমুন্নত তা কেউ জানে না। তুমি প্রত্যেক অনিষ্টকারীর অনিষ্ট হতে আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাও। হে সেই মহান! যিনি বিদ্যমান ছিলেন কোন জিনিস হওয়ার পূর্বেও এবং যিনি প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা আর যিনি বিদ্যমান থাকবেন কোন কিছু শেষ হওয়ার পরেও। হে মহা সম্মানিত ও মর্যাদাবান! তোমারই নিকট আমি প্রার্থনা করি। হে মহা শক্তিশালী ও মহান দাতা। ‍তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। (তুমি) বিশ্ব জগতের প্রতিপালক, সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াময়, দয়ালু ও দাতা, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, মহান আরশের রব।

 [২৩৯]   اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي أَخْشَاكَ حَتَّى كَأَنِّي أَرَاكَ وَأَسْعِدْنِي بتَقْوَاكَ، وَلاَ تَجْعَلْنِي بمَعْصِيَتِكَ مُطْرُودًا، وَرَضِّنِي بقَضَائِكَ، وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ ظَلَمَنِي، وَأَرِنِي فِيهِ ثَأْرِي وَأَقِرَّ بذَلِكَ عَيْنِي

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার এমন ভীতি দান কর, যেন আমি তোমাকে দেখছি। তোমার তাকওয়া দ্বারা সৌভাগ্যমণ্ডিত কর। তোমার পাপাচার দ্বারা দূরে সরিয়ে দিও না। তোমার নির্ধারিত ফয়সালার উপর তুষ্ট রাখ। যে আমার প্রতি যুলম করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য কর এবং তার থেকে আমার প্রতিশোধ গ্রহণ করে আমার চোখকে শীতল কর।[190]

 [২৪০]   اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَوْدِعُكَ الْـيَوْمَ نَفْسِي وَأَهْلِي وَمَالِي وَوَلَدِي، وَمَنْ كَانَ مِنِّي فِي سَبيلِ الشَّاهِدِ مِنْهُمْ وَالْـغَائِبِ

হে আল্লাহ! আমি আজকের দিনে আমার জীবন, আমার পরিবার, আমার সম্পদ, আমার সন্তান-সন্ততী এবং উপস্থিত অনুপস্থিত যা কিছুর অধিকার আমার উপর রয়েছে তা সব তোমার উপর ন্যস্ত করলাম।

 [২৪১]   اللَّهُمَّ احْفَظْنَا بحِفْظِ الإِيْمَانِ وَاحْفَظْهُ عَلَيْنَا

হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ইমান হিফাযতের মাধ্যমে হিফাযত কর এবং আমাদের জন্য ইমানকেও হিফাযত কর।[191]

 [২৪২]   اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَلاَ تَسْلُبْنَا فَضْلَكَ، إِنَّا إَلَيْكَ رَاغِبُونَ

হে আল্লাহ! আমাদেরকে তোমার রহমতের মধ্যে দাখিল কর। আমাদের থেকে তোমার অনুগ্রহ উঠিয়ে নিও না। নিশ্চয়ই আমরা তোমারই আশাবাদি।[192]

[২৪৩]   اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوْذ بكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْـمُنْقَلَبِ، وَسُوْءِ الْـمَنْظَرِ فِي الأَهْلِ وَالْـمَالِ وَالْـوَلَدِ، يَا مَنْ هُوَ أَقْرَبُ مِنْ حَبْلِ الْـوَرِيدِ، يَا فَعَّالاً لِمَا يُرِيدُ، يَا مَنْ يَحُولُ بَيْنَ الْـمَرْءِ وَقَلْبهِ حُلْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَنْ يُؤْذِينَا، بحَوْلِكَ وَقُوَّتِكَ يَا كَافِيَ كُلِّ شَيْءٍ وَلاَ يَكْفِي مِنْهُ شَيْءٌ اكْفِنَا مَا يَهُمُّنَا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

হে আল্লাহ! আমরা তোমার আশ্রয় চাই সফরে কষ্ট, অবাঞ্ছিত দৃশ্য এবং পরিবার, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততীর ব্যাপারে মন্দ দৃশ্য থেকে। হে সেই সত্তা! যিনি গ্রীবাস্থিত ধমনী হতেও অতি নিকেট। হে যা ইচ্ছা তাই সম্পাদনকারী! হে মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টিকারী! আমাদেরকে যারা কষ্ট দিতে চায় তোমার ক্ষমতা ও শক্তি দ্বারা তাদের মাঝে ও আমাদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও। হে সকল বস্তুর পূর্ণতা দানকারী! যিনি ব্যতীত কোন কিছুই পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। তুমি আমার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাও।

 [২৪৪]    اللَّهُمَّ وَفِّرْ حَظِّي مِنْ خَيْرٍ تُنْزِلُهُ، أَوْ إِحْسَانٍ تُفْضِلُهُ أَوْ بِرٍّ تَنْشُرُهُ أَوْ رِزْقٍ تَبْسُطُهُ أَوْ ذنْبٍ تَغْفِرُهُ أَوْ خَطَأٍ تَسْتُرُهُ، يَا إِلَهِي يَا مَنْ بيَدِهِ نَاصِيَتِي يَا عَلِيمٌ بضُرِّي وَمَسْكَنَتِي يَا خَبِيرٌ بفَقْرِي وَفَاقَتِي يَا رَبِّ أَسْأَلُكَ بحَقِّكَ وَقُدْسِكَ وَأَعْظَمِ صِفَاتِكَ وَأَسْمَائِكَ: أَنْ تَجْعَلَ أَوْقَاتِي بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ بذِكْرِكَ مَعْمُورَةً وَبخِدْمَتِكَ مَوْصُولَةً وَأَعْمَالِي عَنْدَكَ مَقْبُولَةً يَا مَنْ عَلَيْهِ مُعَوِّلِي يِا مَنْ إِلَيْهِ شَكَوْتُ أَحْوَالِي، قَوِّ عَلَى خِدْمَتِكَ جَوَارِحِي وَاشْدُدْ عَلَى الْـعَزِيْمَةِ جَوَانِحِي وَهَبْ لِي الْـجِدَّ فِي خَشْيَتِكَ وَالدَّوَامَ عَلَى الاتِّصَالِ فِي خِدْمَتِكَ حَتَّى أَخَافَكَ مَخَافَةَ الْـمُوْقِنِينَ وَأَجْتَمِعَ فِي جَوَارِكَ مَعَ الْـمُؤْمِنِينَ

হে আল্লাহ! তুমি আমার ভাগ্যকে তোমার নাযিলকৃত কল্যাণ দ্বারা পূর্ণ কর। অথবা তোমার এমন ইহসান দ্বারা যা তুমি দান কর। অথবা এমন পূণ্য দ্বারা যা তুমি বিস্তার কর। অথবা এমন রিযিক দ্বারা যা তুমি প্রশস্ত কর। অথবা এমন গুনাহ দ্বারা যা তুমি ক্ষমা কর। অথবা এমন ভুল-ত্রুটি দ্বারা যা তুমি গোপন রাখ।

হে আমার মাবুদ! হে যার হাতে আমার ললাট! হে আমার কষ্ট ও অসহায়ত্ব সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত! হে আমার দারিদ্রতা ও নিঃস্বতা সম্পর্কে অবহিত! হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট তোমার হক, পবিত্রতা এবং মহান গুণাবলী ও নামসমূহের ওসীলায় প্রার্থনা করি যে, তুমি আমার দিবা-রাতের সময়গুলো তোমার যিকির ও স্মরণের কাজে লাগিয়ে দাও, তোমার খিদমতে পৌছিয়ে দাও এবং আমার আমলগুলো গ্রহণযোগ্য কর।

যার উপর আমার ভরসা হে সেই সত্তা! হে যার প্রতি আমার অবস্থাগুলোর অভিযোগ তুলে ধরি! তুমি আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তোমার খিদমতের জন্য শক্তিশালী কর এবং আমার আযম ও সংকল্পকে দৃঢ় কর। তোমার ভয়ের মধ্যে আমাকে একাগ্রতা দান কর এবং তোমার খিদমতে সর্বদা সংযুক্ত রাখ। এমনকি আমি যেন তোমার প্রতি ইয়াকীনকারীদের মতই তোমাকে ভয় করি এবং মুমিনদের সাথে তোমার প্রতিবেশী হই।

 [২৪৫]    اللَّهُمَّ مَنْ أَرَادَنِي بسُوءٍ فَرُدَّهُ عَلَيْهِ، وَمَنْ كَادَنِي فَكِدْهُ، وَاجْعَلْنِي مِنْ أَحْسَنِ عِبَادِكَ نَصِيبًا عِنْدَكَ وَأَقْرَبِهِمْ مَنْزِلَةً مِنْكَ وَأَخَصِّهِمْ زُلْفَى لَدَيْكَ، إِنَّهُ لاَ يَنَالُ ذَلِكَ إِلاَّ بفَضْلِكَ، وَجُدْ لِي بِجُودِكَ، وَاعْطِفْ عَلَيَّ بمَجْدِكَ وَاحْفَظْنِي برَحْمَتِكَ وَاجْعَلْ لِسَانِي بِذِكْرِكَ لَهِجًا، وَأَقِلْنِي مِنْ عَثْرَتِي وَاغْفِرْ لِي زَلَّتِي، فَإِنَّكَ أَمَرْتَ عَبَادَكَ بدُعَائِكَ وَضَمِنْتَ لَهُمُ الإِجَابَةَ، فَإِلَيْكَ يَا رَبِّ نَصَبْتُ وَجْهِي، وَمَدَدْتُ يَدَيَّ فَبرَحْمَتِكَ اسْتَجِبْ دُعَائِي، وَبَلِّغْنِي مُنَايَ وَلاَ تَقْطَعْ رَجَائِي، وَاكْفِنِي شَرَّ أَعْدَائِي يَا سَمِيعَ الدُّعَاءِ، يَا سَابغَ النِّعَمِ، يَا دَافِعَ النِّقَمِ، يَا نُورَ الْـمُسْتَوْحِشِينَ فِي الظُّلَمِ، يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

হে আল্লাহ! যে আমার ক্ষতি করতে চায়, তার ক্ষতি তার দিকে ফিরিয়ে দাও। আর যে আমার সাথে প্রতারণা করতে চায়, তার প্রতারণা তার উপরই পতিত কর। আমাকে তোমার নিকট তোমার উত্তম ভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর। তাদের মাঝে তোমার সর্বাধিক নিকটতম স্থান আমাকে দান কর। তাদের মাঝে সর্বাপেক্ষা বাছাইকৃতদের থেকে তোমার অধিক নিকটবর্তী আমাকে করে নাও। আর এই মর্যাদা তোমার অনুগ্রহ ব্যতীত লাভ করা যায় না।

তোমার বদান্যতা দ্বারা আমাকে সমৃদ্ধ কর। তোমার সম্মানের ওসীলায় আমার প্রতি দয়া কর। তোমার রহমতের মাধ্যমে আমাকে রক্ষা কর। আমার যবানকে তোমার যিকির দ্বারা অটল রাখ। আমার ভুল-ত্রুটি হ্রাস কর এবং আমার ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা কর। কেননা তুমিই তোমার বান্দাদেরকে তোমার নিকট দুআ করতে নির্দেশ দিয়েছ এবং তা কবুল করার দায়িত্ব নিয়েছ।

হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার চেহারাকে তোমার দিকে করছি এবং আমার হাত দুটিকে প্রসারিত করে তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। অতএব তুমি আমার দুআকে তোমার দয়ায় কবুল করে নাও। আমাকে নিজের লক্ষ্যে পৌছিয়ে দাও। আমার আশা ছিন্ন করো না। আর আমার শত্রুর অনিষ্ট থেকে তুমি আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাও হে দুআ শ্রবণকারী! হে নিআমত দানকারী! হে শাস্তি প্রতিহতকারী! হে অন্ধকারে আলো প্রদানকারী! হে দয়াময় পরম দয়ালু!

 [২৪৬]    اللَّهُمَّ فَخُذْ بيَدِي فِي الْـمَضَائِقِ وَاكْشِفْ لِي وَجُوهَ الْـحَقَائِقِ وَوَفِّقْنِي لِمَا تُحِبُّ وَاعْصِمْنِي مِنَ الزَّلَلِ، وَلا تَسْلُبْ عَنِّي سِتْرَ إِحْسَانِكَ، وَقِنِي مَصَارِعَ السُّوْءِ وَاكْفِنِي كَيْدَ الْـحَاسِدِ وَشَمَاتَةَ الأَضْدَادِ، وَالْـطُفْ بي فِي سَائِرِ مُتَصَرِّفَاتِي، وَاكْفِنِي مِنْ جَمِيعِ جِهَاتِي يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

হে আল্লাহ! সংকীর্ণতার সময় আমার হাত ধরো। আমার সামনে সবকিছুর স্বরুপ উন্মোচন কর। আমাকে তার তাওফীক দান কর যা তুমি পছন্দ কর এবং আমাকে পদস্থলন থেকে রক্ষা কর। তোমার ইহসান ও অনুগ্রহের চাদর আমার উপর থেকে উঠিয়ে নিও না। আমাকে মন্দ মৃত্যু থেকে রক্ষা করে। হিংসুকের চক্রান্ত এবং শত্রুর উপহাসের ব্যাপারে তুমি আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাও। তুমি আমার সকল কাজে আমার প্রতি নমনীয়তা ও সহজতা অবলম্বন কর এবং আমার সকল বিয়য়ে তুমি আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাও হে দয়াময় পরম দয়ালু।

 [২৪৭]    اللَّهُمَّ كُنْ لِي مُؤَيِّدًا وَنَاصِرًا وَكُنْ بي رَؤُوْفًا رَحِيمًا يَا خَيْرَ الْـمَسْؤُولِينَ، إِلَيْكَ أَشْكُو ضَعْفَ قُوَّتِي وَقِلَّةَ حِيلَتِي يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ بقُدْرَتِكَ عَلَيَّ، وَلا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ برَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ» [ثلاثًا]

হে আল্লাহ! তুমি আমার সমর্থনকারী ও সাহায্যকারী হও এবং তুমি আমার প্রতি দয়াশীল ও মেহেরবান হও, হে সর্বোত্তম প্রার্থনার স্থল। আমি তোমার নিকট আমার দুর্বলতা এবং আমার অদক্ষতা ও উপায়ের স্বল্পতার অভিযোগ করছি, হে দয়াময় পরম দয়ালু। তোমার কুদরতই আমার উপর প্রতিফলিত। তুমি আমাকে এক মুহুর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিও না। হে চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী! তোমার রহমতের দ্বারেই ফরিয়াদ করছি।

 [২৪৮]    اللَّهُمَّ أَسْأَلُكَ بعِزِّكَ وَذُلِّي إِلاَّ رَحِمْتَنِي، وَأَسْأَلُكَ بقُوَّتِكَ وَضَعْفِي، وَبغِنَائِكَ عَنِّي وَفَقْرِي إِلَيْكَ، هَذِهِ نَاصِيَتِي الْـكَاذِبَةُ الْـخَاطِئَةُ بَيْنَ يَدَيْكَ، عَبيدُكَ سِوَايَ كَثِيرٌ وَلَيْسَ لِي سَيِّدٌ سِوَاكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَى مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، أَسْأَلُكَ مَسْأَلَةَ الْـمِسْكِينِ، وَأَبْتَهِلُ إِلَيْكَ ابْتِهَالَ الْـخَاضِعِ الذَّلِيلِ، وَأَدْعُوكَ دُعَاءَ الْـخَائِفِ الضَّرِيرِ، سُؤَالَ مَنْ خَضَعَتْ لَكَ رَقْبَتُهُ، وَرَغِمَ لَكَ أَنْفُهُ، وَفَاضَتْ لَكَ عَيْنَاهُ، وَذلَّ لَكَ قَلْبُهُ

হে আল্লাহ! আমি তোমার সম্মানের ওসীলায় প্রার্থনা করছি এবং আমার হীনতায় তোমার দয়া কামনা করছি। আমার দুর্বলতায় তোমার শক্তি কামনা করছি। আমার অভাব ও দারিদ্রতায় তোমার স্বচ্ছলতা ও প্রাচূর্য কামনা করছি।

আমার এই মিথ্যাবাদী ও ভুলকারী ললাটের কেশগুচ্ছ তোমার হাতেই। আমি ছাড়া তোমার অনেক বান্দা রয়েছে কিন্তু তুমি ব্যতীত আমার কোন অভিভাবক নেই। তুমি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল ও মুক্তির পথ নেই। আমি তোমার নিকট অসহায়ের মত প্রার্থনা করছি। তোমার প্রতি আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশকারীর মত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে প্রার্থনা করছি। আত্ম-সমর্পণকারী ও হীনতা প্রকাশকারী হয়ে, তোমার ভয়ে কান্নায় অশ্রু প্রবাহিতকারী ও বিনয়ী হৃদয়ের অধিকারীর মত বিনয়ী হয়ে তোমার নিকট প্রার্থনা করছি।[193]

 [২৪৯]    اللَّهُمَّ الْـبسْنِي الْـعَافِيَةَ حَتَّى تُهَنِّينِي بِالْـمَعِيشَةِ، وَاخْتِمْ لِي بالْـمَغْفِرَةِ حَتَّى لاَ تَضُرُّنِي الذُّنُوبُ، وَاكْفِنِي كُلَّ هَوْلٍ دُونَ الْـجَنَّةِ حَتَّى تُبَلِّغَنِيهَا برَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নিরাপত্তার পোষাকে আবৃত কর যেন আমার জীবন জীবিকা স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। মৃত্যুর সময় আমাকে ক্ষমা কর, যেন গুনাহ আমার কোন ক্ষতি করতে না পারে। তোমার দয়ায় জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত প্রতিটি সংকটজনক পরিস্থিতি হতে আমাকে রক্ষা কর, হে দয়াময় পরম দয়ালু।[194]

 [২৫০]    اللَّهُمَّ أَعْطِنِي مِنَ الدُّنْيَا مَا تَقِينِي بهِ فِتْنَتَهَا، وَتُغْنِينِي بهِ عَنْ أَهْلِهَا، وَيَكُونُ بَلاَغًا لِي إِلَى مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْهَا، فَإِنَّهُ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بكَ

হে আল্লাহ! তুমি দনিয়াতে আমাকে যা দান করেছ তার ফিতনা হতে আমাকে রক্ষা কর এবং আমাকে দুনিয়াবাসীদের থেকে অমুখাপেক্ষী করে দাও যেন আমার তার চেয়েও উত্তম বস্তু মিলে যায়। নিশ্চয়ই মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নেক কাজ করার শক্তি সামর্থ্য একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে।[195]

 [২৫১]    اللَّهُمَّ قَنِّعْنِي بمَا رَزَقْتَنَي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ، وَاخْلُفْ عَلَيَّ كُلَّ غَائِبَةٍ لِي بخَيْرٍ

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে রিযিক দিয়েছ তার মধ্যে তুষ্টি দান কর। তার মধ্যে বরকত দান কর এবং আমার অদৃশ্যের প্রতিটি বস্তুর ব্যাপারে কল্যাণের সাথে তুমি আমার প্রতিনিধি হয়ে যাও।[196]

 [২৫২]   سُبْحَانَ اللهِ وَبحَمْدِه عَدَدَ خَلْقَهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِه

আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার প্রশংসার সাথে, তার সৃষ্টির সমপরিমাণ, তার সন্তুষ্টির সমপরিমাণ, তার আরশের ওযনের সমপরিমাণ এবং তার কালিমাসমূহ লিখার কালির সমপরিমাণ।[197]

 [২৫৩]    سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَعَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الأَرْضِ، وَسُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذلِكَ، وَسُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ، وَاللهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذلِكَ، وَالْـحَمْدُ للهِ مِثْلَ ذلِكَ، وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ مِثْلَ ذلِكَ

আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি আসমানের সৃষ্টির সমপরিমাণ এবং যমীনের সৃষ্টির সমপরিমাণ। আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এতদুভয়ের মাঝে যা আছে তার সমপরিমাণ। আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই পরিমাণ, যেই পরিমাণ তিনি সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর বড়ত্ব-ও বর্ণনা করছি অনুরুপ পরিমাণ। আল্লাহর প্রশংসাও বর্ণনা অনুরুপ পরিমাণ এবং লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহও পাঠ করছি অনরুপ পরিমাণ।[198]

 [২৫৪]    سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، سُبْحَانَ اللهِ مِلْءَ مَا خَلَقَ سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ، سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا فِي الأَرْضِ وَالسَّمَـاءِ، سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا أَحْصَى كِتَابُهُ، وَسُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ كُلِّ شَيْءٍ، وَسُبْحَانَ اللهِ مِلْءَ كُلِّ شَيْءٍ وَالْـحَمْدُ للهِ مِثْلَ ذَلِكَ

আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার সৃষ্টির সমপরিমাণ। আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তিনি যা সৃষ্টি করেচেন তা ভর্তি। আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার সৃষ্টির সংখ্যার সমপরিমাণ। আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি আসমান ও যমীনের যত সৃষ্টি আছে তার পরিমাণ। আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই পরিমাণ যা তার কিতাব হিসাব করেছে। আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সকল কিছুর সংখ্যা পরিমাণ। আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি সকল বস্তু ভর্তি এবং আল্লাহর প্রশংসাও জ্ঞাপন করছি অনুরপ পরিমাণ।[199]

 [২৫৫]    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْـجَنَّةَ وَنَعِيمَهَا وَاسْتَبْرَقَهَا وَأَعُوذ بكَ مِنَ النَّارِ وَسَلاسِلِهَا وَأَغْلاَلِهَا

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জান্নাত ও তার নিআমতসমূহ এবং তার স্বাচ্ছন্দ্যের সকল উপকরণ প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নাম হতে এবং তার মধ্যে জিঞ্জিরাবদ্ধ হওয়া ও আবদ্ধ হওয়া থেকে।[200]

 [২৫৬]    اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَسْمَعُ كَلاَمِي، وَتَرَى مَكَانِي وَتَعْلَمُ سِرِّي وَعَلاَنِيَتِي، وَلاَ يَخْفَى عَلَيْكَ شِيْءٌ مِنْ أَمْرِي وَأَنَا الْـبَائِسُ الْـفَقِيرُ وَالْـمُسْتَغِيثُ الْـمُسْتَجِيرُ، وَالْـوَجِلُ الْـمُشْفِقُ الْـمُقِرُّ الْـمُعْتَرِفُ إِلَيْكَ بذَنْبهِ، أَسْأَلُكَ مَسْأَلَةَ الْـمِسْكِينِ وَأَبْتَهِلُ إِلَيْكَ ابْتِهَالَ الْـمُذْنِبِ الذَّلِيلِ، وَأَدْعُوْكَ دُعَاءَ الْـخَائِفِ الضَّرِيرِ، دُعَاءَ مَنْ خَضَعَتْ لَكَ رَقْبَتُهُ وَذلَّ لَكَ جِسْمُهُ، وَرَغِمَ لَكَ أَنْفُهُ

হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রর্থনা শুনছ। আমার অবস্থা দেখছ। আমার প্রকাশ্য ও গোপন সবকিছু যান। আমার কোন বিষয় তোমার কাছে গোপন নয়। আমি বিপদগ্রস্ত, মুখাপেক্ষী, সাহায্য ও আশ্রয়কামী, ভীত-কম্পিত ও অপরাধ স্বীকারকারী। আমি তোমার কাছে মিসকীনের মত চাই। অপরাধীর ন্যায় প্রার্থনা করি। বিপদগ্রস্ত ও ভীত ব্যক্তির ন্যায় তোমাকে ডাকি। যার গর্দান তোমার সামনে নত রয়েছে। যার দেহটি তোমার সামনে অপদস্থ হয়ে পড়ে আছে। যার নাক ধূলি ধূসরিত (হয়ে তোমাকে ডাকছে)।[201]

 [২৫৭]   اللَّهُمَّ إِنك قُلْتَ، وَقُوْلُكَ الْـحَقُّ: ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ

হে আল্লাহ! তুমি বলেছ, আর তোমার বলা সত্য- তোমরা আমার নিকট দুআ কর, আমি কবুল করব।

 [২৫৮]    اللَّهُمَّ هَذَا الدُّعَاءُ وَعَلَيْكَ الإِجَابَةُ وَهَذَا الْـجَهْدُ وَعَلَيْكَ التُّكْلاَنُ، وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بكَ

হে আল্লাহ! এ হলো আমার প্রার্থনা আর কবুল করা তোমার ইচ্ছাধীন। আর এই হলো আমার প্রচেষ্টা আর ভরসা তোমার উপরই। তোমার সাহায্য ব্যতীত কোন শক্তি নেই।

 [২৫৯]    اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ, وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيدٌ

হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মদ (সা) ও তারবংশধরের প্রতি রহমত নাযিল কর, যেমনিভাবে তুমি রহমত নাযিল করেছিলে ইবরাহিম (আ) ও তার বংশধরের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।  হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মদ (সা) ও তারবংশধরের প্রতি বরকত নাযিল কর, যেমনিভাবে তুমি বরকত নাযিল করেছিলে ইবরাহিম (আ) ও তার বংশধরের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।[202]

তথ্যসূত্র

[1] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:১১১৩৩।

[2] . সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩৮৯।

[3] . সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩৭৭।

[4] . সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩৬৭।

[5] . সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩৪৭।

[6] . সহিহ মুসলিম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৭২০।

[7] . সহিহ মুসলিম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৭২১।

[8] . সহিহ মুসলিম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৭২২।

[9] . সহিহ মুসলিম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৭২৫।

[10] . সহিহ মুসলিম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৭৩৯।

[11] . রাসূলুল্লাহ (সা) হযরত ইবনে মাসউদ (রা) এর জন্য যে দুআ করেছেন সেই দুআর আলোকে। দ্র: সহিহ বুখারী, হাদীস:৬৩৩৪ এবং আদাবুল মুফরাদ, হাদীস:৬৩৫। আর দ্বিতীয়ত ঐ হাদীস যার মধ্যে রয়েছে, ঐ ব্যক্তি সৌভাগ্যবান যার হায়াত দীর্ঘ হয়েছে এবং আমল ভাল হয়েছে। দ্র: মিশকাত, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২২৭০।

[12] . সহিহ বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ, হাদীস:৭৪৩১।

[13] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৯০।

[14] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৫০৫।

[15] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:৩৭১২।

[16] . সহিহ মুসলিম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৬৫৪।

[17] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৫৮৭।

[18] . সুনানে ইবনে মাজাহ, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৮৮৪।

[19] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:১৭৬২৮।

[20] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৫৫১।

[21] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৪৯২।

[22] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৫১৩।

[23] . জামে তিরমিযী, কিতাবুত তাফসীর, হাদীস:৩২৩৫।

[24] . সুনানে ইবনে মাজাহ, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৮৪৬।

[25] . আল মুস্তাদরাক হাকীম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:১৯২৪।

[26] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৫০২।

[27] . সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩৭৪।

[28] . সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩৯৯।

[29] . সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩২৬।

[30] . সহিহ মুসলিম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৭১৭।

[31] . আল মুস্তাদরাক হাকীম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:১৯২৫।

[32] . তাখরীজ আহাদীসে ইহ্ইয়া, হাদীস:৪।

[33] . আল মুস্তাদরাক হাকীম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:১৯৮৭।

[34] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৫০০।

[35] . তাবরানী কাবীর, হাদীস:১০৩৮৯।

[36] . সুনানে নাসাঈ, ইস্তিআযা অধ্যায়, হাদীস:৫৫৩১।

[37] . আল মুস্তাদরাক হাকীম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:১৯৪৪।

[38] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, হাদীস:১৫৪৪।

[39] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৪৮২।

[40] . তাবরানী- কিতাবুদ দুআ, হাদীস:১৩৩৮।

[41] . হাদীস শরীফে আছে- যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তিনবার জান্নাত প্রার্থনা করে তবে জান্নাত বলে, হে আল্লাহ! একে জান্নাতে দাখিল কর। আর যদি কোন ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায় তবে জাহান্নাম বলে, হে আল্লাহ! একে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় দান কর। দ্র: জামে তিরিমিযী, জান্নাত অধ্যায়, হাদীস:২৫৭২।

[42] . নবী (সা) হযরত ইবনে আব্বাস (রা) এর জন্য যে দুআ করেছেন সেই দুআর আলোকে। দ্র: সহিহ বুখারী, কিতাবুল ইলম, হাদীস:১৪৩।

[43] . মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস:৬০।

[44] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:২৬৬০২।

[45] . সহিহ ইবনে হিব্বান, কিতাবুর রাকায়েক, হাদীস:৮২।

[46] . সুনানে নাসাঈ, কিতাবুস সাহউয়ি, হাদীস:১৩০১।

[47] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, হাদীস:১৪৯৫।

[48] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:৪২২৬।

[49] . সুনানে নাসাঈ, কিতাবুস সাহউয়ি, হাদীস:১৩০৫।

[50] . সুনানে নাসাঈ, কিতাবুল গোসল, হাদীস:১৩০৫।

[51] . সুনানে নাসাঈ, কিতাবুল ইস্তিআযাহ, হাদীস:৫৫১৯।

[52] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৪৮৩।

[53] . সহিহ মুসলিম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৭১৩।

[54] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, হাদীস:৯৬৯।

[55] . আল মুস্তাদরাক হাকীম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:১৯৪৯।

[56] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:২৪২১৫।

[57] . বায়হাকী আদ দাওয়াতুল কাবীর, হাদীস:২৭৫।

[58] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:৩৭৯৭।

[59] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:১৯৯৯২।

[60] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:৬৬১৮।

[61] . দ্র: ৪০ নং ফুটনোট।

[62] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, হাদীস:৭৬৬।

[63] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৬০৪।

[64] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:১২৬১১।

[65] . সহিহ বুখারী, কিতাবুত তাহাজ্জুদ, হাদীস:১১২০।

[66] . সহিহ বুখারী, কিতাবুত তাহাজ্জুদ, হাদীস:১১২০।

[67] . সুনানে আবু দাউদ, হাদীস:১৪২৫।

[68] . এই মর্মের দুআ দ্র:সুনানে ইবনে মাজাহ:৩৮৪৬। মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ:৩০২৫।

[69] . সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩২৩।

[70] . আল মুস্তাদরাক হাকীম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:১৯১১।

[71] . সহিহ মুসলিম, কিতাবুস সালাত, হাদীস:২১৬।

[72] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:১৫৪৯২।

[73] . বায়হাকী আদ দাওয়াতুল কাবীর, হাদীস:৯৮,৯৯।

[74] . জামে তিরমিযী, কিতাবুত তাফসীর, হাদীস:৩১৭৩।

[75] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:৩৮২৩।

[76] . নবী (সা) জারির (রা) এর জন্য যে দুআ করেছেন তার আলোকে। দ্র: সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩৩৩।

[77] . সূরা বাকারা:২৬৯ আয়াতের আলোকে।

[78] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৯০।

[79] . তারীখে দিমাশক, ৪০ খণ্ড, পৃ:২৬৮।

[80] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৬০৪।

[81] . মুয়াত্তা মালিক, কিতাবুশ শা’র, হাদীস:৩৫০২।

[82] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:১৫৫৩৯।

[83] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৭১।

[84] . প্রাগুক্ত।

[85] . প্রাগুক্ত।

[86] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৮৪।

[87] . প্রাগুক্ত।

[88] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৮৬।

[89] . আদাবুল মুফরাদ, হাদীস:৬০৪।

[90] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৬৭।

[91] .সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৬৯।

[92] .সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৭৪।

[93] . প্রাগুক্ত।

[94] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৭২।

[95] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৭৩।

[96] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৯০।

[97] . নাসাঈ আস সুনানুল কুবরা, হাদীস:৯৭৫৬।

[98] . নাসাঈ আস সুনানুল কুবরা, হাদীস:৯৭৪৩।

[99] . এই মর্মের দুআ দ্র: আল মুস্তাদরাক হাকীম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২০০০।

[100] . সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩০৬।

[101] . তাবরানী কাবীর, হাদীস:৩১৮।

[102] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৮১।

[103] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, হাদীস:১৫৫৫।

[104] . মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৯২৭৭।

[105] . প্রাগুক্ত।

[106] . মুসনাদে শামিয়ীন লিত তাবরানী, হাদীস:১৪৮১।

[107] . প্রাগুক্ত।

[108] . সহিহ বুখারী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৬৩৬৪।

[109] . সহিহ মুসলিম, কিতাব সালাতুল মুসাফিরীন, হাদীস:৭৭১।

[110] . এই মর্মের দুআ দ্র: মুসনাদে আহমদ, হাদীস:১৯৫৭৪।

[111] . তাবরানী- কিতাবুদ দুআ, হাদীস:১৩৪৩।

[112] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:১৫৫২৪।

[113] . মিশকাতুল মাসাবিহ, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৪৭৪।

[114] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৪০৭।

[115] . জামে তিরমিযী, কিতাবুত তাফসীর, হাদীস:৩২৩৩।

[116] . হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১ম খণ্ড, পৃ:৩০৮।

[117] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৪৯০।

[118] . তাবরানী আউসাত, হাদীস:৯৪১১।

[119] . আল মুস্তাদরাক হাকীম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:১৯৮৬।

[120] . মুসনাদ আল বাযযার, হাদীস:৪৪৩৯।

[121] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:২৬৬৮৫।

[122] . আল মুস্তাদরাক হাকীম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:১৯১১।

[123] . প্রাগুক্ত।

[124] . প্রাগুক্ত।

[125] . প্রাগুক্ত।

[126] . প্রাগুক্ত।

[127] . সুনানে ইবনে মাজাহ, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৮৩৬।

[128] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল যালালি ওয়াল আকরাম, পৃ:৪৯।

[129] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হা্দীস:৩৪১৯।

[130] . প্রাগুক্ত।

[131] . প্রাগুক্ত।

[132] . প্রাগুক্ত।

[133] . প্রাগুক্ত।

[134] . প্রাগুক্ত।

[135] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল যালালি ওয়াল আকরাম, পৃ:২৬।

[136] . আল মুস্তাদরাক হাকীম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:১৯১৯।

[137] . বায়হাকী আদ দাওয়াতুল কাবীর, হাদীস:২৫৯।

[138] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হা্দীস:৩৪১৯।

[139] . ইবনুস সুন্নী- আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল, হাদীস:৫৭।

[140] . তাবরানী- কিতাবুদ দুআ, হাদীস:১০৪১।

[141] . তাবরানী কাবীর, ১৮ খণ্ড, হাদীস:৯৪০।

[142] . তাবরানী- কিতাবুদ দুআ, হাদীস:১৭৪৬।

[143] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:২৩৩৫৫।

[144] . তাবরানী- আউসাত, হাদীস:৬৫৮৫।

[145] . প্রাগুক্ত।

[146] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:১৫৪৯২।

[147] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল যালালি ওয়াল আকরাম, পৃ:৪০।

[148] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৪১।

[149] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫১।

[150] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৫২৮।

[151] . সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, হাদীস:৫০৫২।

[152] . প্রাগুক্ত।

[153] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫১।

[154] . মাজমাউয যাওয়ায়েদ, কিতাবুল মাগাযী, হাদীস:৯৮৫১।

[155].  মুসনাদ আল বাযযার, হাদীস:৯৪১৪।

[156] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫২।

[157] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫২।

[158] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫২।

[159] . মুসনাদে আবি আওয়ানা, কিতাবুল হুদুদ, হাদীস:৬৫৬৬।

[160] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫২।

[161] . বায়হাকী- আদ দাওয়াতুল কাবীর, হাদীস:২৫৮।

[162] . তাবরানী কাবীর, হাদীস:৭৪৯০।

[163] , তাবরানী আউসাত, হাদীস:৫৯৭৪।

[164] . প্রাগুক্ত।

[165] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫৩।

[166] . জামে তিরমিযী, দুআ অধ্যায়, হাদীস:৩৪৯১।

[167] . কানযুল উম্মাল, হাদীস:৪৯৫৫।

[168] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫৩।

[169] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৪৪।

[170] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫৩।

[171] . আখবারে মাককা লিল ফাকিহী, রিওয়ায়াত:১৯০৬।

[172] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫৪।

[173] . প্রাগুক্ত।

[174] . প্রাগুক্ত।

[175] . প্রাগুক্ত।

[176] . প্রাগুক্ত।

[177] . প্রাগুক্ত।

[178] . প্রাগুক্ত।

[179] . প্রাগুক্ত।

[180] . প্রাগুক্ত, পৃ:৫৫।

[181] . প্রাগুক্ত ।

[182] . প্রাগুক্ত।

[183] . তাবরানী আউসাত, হাদীস:৭৮৭৫।

[184] . মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমায়দ, হাদীস:৩৮৭।

[185] . শুআবুল ইমান, রিওয়ায়াত:৬৭৬৮।

[186] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫৫।

[187] . তাবরানী সগীর, হাদীস:৫৫৭।

[188] . প্রাগুক্ত।

[189] . প্রাগুক্ত।

[190] . আহলাল কালাম ফি মুনাজাতি যিল জালালি ওয়াল ইকরাম, পৃ:৫৬।

[191] . প্রাগুক্ত।

[192] . প্রাগুক্ত।

[193] . মাওয়ারিদুয যামআন, পৃ:৬৭।

[194] . আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম, সীরাতে উমর ইবনে আব্দুল আযীয, পৃ:৯৮।

[195] . প্রাগুক্ত।

[196] . আদাবুল মুফরাদ, হাদীস:৬৮১।

[197] . সহিহ মুসলিম, দুআ অধ্যায়, হাদীস:২৭২৬।

[198] . আত তারগীব ওয়াত তারহীব, দুআ ও যিকির অধ্যায়, হাদীস:২৪২৪।

[199] . আত তারগীব ওয়াত তারহীব, দুআ ও যিকির অধ্যায়, হাদীস:২৪২৬।

[200] . মুসনাদে আহমদ, হাদীস:১৪৮৩।

[201]. তাবরানী- কিতাবুদ ‍দুআ, হাদীস:৮৭৭।

[202] . সহিহ বুখারী, হাদীস:৩৩৭০।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!