আত তারগীব ওয়াত তারহীব- আল মুনযিরী (রহ)

(সংকলিত)

আত তারগীব ওয়াত তারহীব 

নেক কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং অসৎ কাজে ভীতি প্রদর্শন

আল মুনযিরী (রহ)

كتاب الْعلم

কিতাবুল ইলম

التَّرْغِيب فِي الْعلم وَطَلَبه وتعلمه وتعليمه وَمَا جَاءَ فِي فضل الْعلمَاء والمتعلمين

ইলম বা জ্ঞান, জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান বিতরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং জ্ঞানী ও জ্ঞান অন্বেষণকারীর মর্যাদা

عَن مُعَاوِيَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من يرد الله بِهِ خيرا يفقهه فِي الدّين رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَابْن مَاجَه

وَرَوَاهُ أَبُو يعلى وَزَاد فِيهِ وَمن لم يفقهه لم يبال بِهِ

وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَلَفظه سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول يَا أَيهَا النَّاس إِنَّمَا الْعلم بالتعلم وَالْفِقْه بالتفقه وَمن يرد الله بِهِ خيرا يفقهه فِي الدّين و {إِنَّمَا يخْشَى الله من عباده الْعلمَاء} فاطر 82

হযরত মুআবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- আল্লাহ যার কল্যাণ কামনা করেন, তাকে দীনের জ্ঞান-বুঝ দান কারেন।-সহিহ

বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আবু ইয়ালাও হাদীসটি বর্ননা করেছেন। আর তার মধ্যে অতিরিক্ত আছে আর যাকে দীনের জ্ঞান-বুঝ দান করা হয়নি তার কোন গুরুত্ব নেই।

আর তাবরানী তার কাবীরে বর্ণনা করেন। তার শব্দ হলো- আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি- হে লোক সকল! জ্ঞান কেবল শিক্ষার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর ফিকহ বা জ্ঞানের গভীরতা লাভ হয় বুঝা ও চর্চার দ্বারা। আর আল্লাহ যার কল্যাণ কামনা করেন তাকে দীনের বুঝ-জ্ঞান দান করেন।

إِنَّمَا يخْشَى الله من عباده الْعلمَاء

আর আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল আল্লাহকে ভয় করে।–[সূরা আল ফাতির ৮২]–হাসান লিগায়রিহী

وَعَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أفضل الْعِبَادَة الْفِقْه وَأفضل الدّين الْوَرع

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي معاجيمه الثَّلَاثَة

হযরত ইবনে উমর (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- উত্তম ইবাদত হলো আল ফিকহ তথা দীনের বুঝ জ্ঞান অর্জন করা আর উত্তম ইবাদত হলো দীনদারী।–যয়ীফ

তাবরানী তার তিন মুজামে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

وَعَن حُذَيْفَة بن الْيَمَان رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فضل الْعلم خير من فضل الْعِبَادَة وَخير دينكُمْ الْوَرع

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَالْبَزَّار بِإِسْنَاد حسن

হযরত হুযায়ফাহ বিন ইয়ামান (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- ইলমের মর্যাদা ইবাদতের মর্যাদা থেকে বেশী। আর তোমাদের উত্তম দীন হলো দীনদারী ও তাকওয়া।– সহিহ লিগায়রিহী

তাবরানী আউসাতে এব বাযযার উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

وَعَن عبد الله بن عَمْرو رَضِي الله عَنْهُمَا عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ قَلِيل الْعلم خير من كثير الْعِبَادَة وَكفى بِالْمَرْءِ فقها إِذا عبد الله وَكفى بِالْمَرْءِ جهلا إِذا أعجب بِرَأْيهِ

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন। অল্প জ্ঞান অধিক ইবাদত হতে উত্তম। কোন ব্যক্তির জন্য ফিকহ তথা দীনের বুঝ-জ্ঞান যথেষ্ট যখন সে আল্লাহর ইবাদত করে। আর কোন ব্যক্তির মূর্খ হওয়ার জন্য যথেষ্ট যে, সে নিজের রায়ের উপর গর্বিত হয়।

তাবরানী আউসাতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

فصل অনুচ্ছেদ

وَعَن أبي الدَّرْدَاء رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول من سلك طَرِيقا يلْتَمس فِيهِ علما سهل الله لَهُ طَرِيقا إِلَى الْجنَّة وَإِن الْمَلَائِكَة لتَضَع أَجْنِحَتهَا لطَالب الْعلم رضَا بِمَا يصنع وَإِن الْعَالم ليَسْتَغْفِر لَهُ من فِي السَّمَوَات وَمن فِي الأَرْض حَتَّى الْحيتَان فِي المَاء وَفضل الْعَالم على العابد كفضل الْقَمَر على سَائِر الْكَوَاكِب وَإِن الْعلمَاء وَرَثَة الْأَنْبِيَاء إِن الْأَنْبِيَاء لم يورثوا دِينَارا وَلَا درهما إِنَّمَا ورثوا الْعلم فَمن أَخذه أَخذ بحظ وافر

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ

আবু দারদা (রা) বর্ণনা করেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য পথ অতিক্রম করে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের পথকে সহজ করে দেন। আর নিশ্চয় ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেন এজন্য যে, তারা তার এই কাজকে পছন্দ করেন। জ্ঞানীর জন্য যমীন ও আসমানের সকল মাখলুক এমনকি পানির মাছও তার জন্যি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর জ্ঞানী ব্যক্তির মর্যাদা আবিদ বা ইবাদতকারীর উপর এমন, যেমন চাঁদের মর্যাদা তারকার উপর। নিশ্চযই অলিমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। নবীগণ কাউক দীনার ও দিরহামের উত্তরাধিকার করেন নি বরং তারা ইলম বা জ্ঞানের উত্তরাধিকারী করেছেন। অতএব যে এই জ্ঞানের কিছু অংশ লাভ করলো সে পুরোপুরিই লাভ করলো।– হাসান লিগায়রিহী

আবু দাউদ, তিরমিী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান তার সহিহ এ এবং বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

وَعَن صَفْوَان بن عَسَّال الْمرَادِي رَضِي الله عَنهُ قَالَ أتيت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَهُوَ فِي الْمَسْجِد متكىء على برد لَهُ أَحْمَر فَقلت لَهُ يَا رَسُول الله إِنِّي جِئْت أطلب الْعلم فَقَالَ مرْحَبًا بطالب الْعلم إِن طَالب الْعلم تحفه الْمَلَائِكَة بأجنحتها ثمَّ يركب بَعضهم بَعْضًا حَتَّى يبلغُوا السَّمَاء الدُّنْيَا من محبتهم لما يطْلب

رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد وَاللَّفْظ لَهُ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه

সাফওয়ান ইবনে আসসাল মুরাদী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা) এর থিদমেত হাজির হলাম। অর তিনি লাল রঙের চাদরের উপর থামের সাথে হেলান দেয়া অবস্থায় বসা ছিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জ্ঞান অর্জন করার জন্য এসেছি। তখন তিনি বললেন, মারহাবা জ্ঞান অর্জনকারীর জন্য। নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞান অর্জনকারীদেরকে নিজেদের ডানা দ্বারা ঘিরে নেন। অতঃপর তার জ্ঞান অর্জনে উৎসাহে তার মহব্বতের জন্য একের উপর এক আরোহন করতে থাকেন। এমনকি দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যান।-হাসান 

আহমদ ও তাবরানী নিজ শব্দে উত্তম সনদে এবং ইবনে হিব্বান তার সহিহ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। 

وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم سبع يجرى للْعَبد أجرهن وَهُوَ فِي قَبره بعد مَوته من علم علما أَو كرى نَهرا أَو حفر بِئْرا أَو غرس نخلا أَو بنى مَسْجِدا أَو ورث مُصحفا أَو ترك ولدا يسْتَغْفر لَهُ بعد مَوته

رَوَاهُ الْبَزَّار وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- সাতটি বিষয় যা মানুষের মৃত্যুর পরও তার কবরে কাজে আসে। ১.কাউকে জ্ঞান দান করা। ২.নহর খনন করা। ৩.কূপ খনন করা। ৪.খেজুর গাছ অথবা কোন গাছ রোপন করা। ৫.মসজিদ বানানো। ৬. কোন গ্রন্থ লিখে রেখে যাওয়া। ৭. কোন সন্তান রেখে যাওয়া যে তার মৃত্যুর পর দুআ করে।- হাসান লিগায়রিহী

বাযযার এবং আবু নুআইম হিলইয়াতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول الدُّنْيَا ملعونة مَلْعُون مَا فِيهَا إِلَّا ذكر الله وَمَا وَالَاهُ وعالما ومتعلما

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি- দুনিয়া অভিশপ্ত এবং এর মধ্যে যা আছে সব অভিশপ্ত। তবে আল্লাহর যিকির ও এর সাথে সম্পৃক্ত বিষয় এবং জ্ঞানী ও জ্ঞানার্জনকারী ব্যতীত।– হাসান

তিরমিযী ইবনে মাজাহ ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন হাদীসটি হাসান।

وَعَن ابْن مَسْعُود قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا حسد إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ رجل آتَاهُ الله مَالا فَسَلَّطَهُ على هَلَكته فِي الْحق وَرجل آتَاهُ الله الْحِكْمَة فَهُوَ يقْضِي بهَا وَيعلمهَا

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم

ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- দুই ব্যক্তি ব্যতীত আর কারো প্রতি ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। এক ঐ ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দান করেছেন আর সে তা সঠিক খাতে ব্যয় করে। দুই ঐ ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা জ্ঞান দান করেছেন আর সে তার দ্বারা বিচার ফয়সালা করে আর অপরকে শিক্ষা দেয়।– সহিহ

বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن مِمَّا يلْحق الْمُؤمن من عمله وحسناته بعد مَوته علما علمه ونشره وَولدا صَالحا تَركه أَو مُصحفا وَرثهُ أَو مَسْجِدا بناه أَو بَيْتا لِابْنِ السَّبِيل بناه أَو نَهرا أجراه أَو صَدَقَة أخرجهَا من مَاله فِي صِحَّته وحياته تلْحقهُ من بعد مَوته

رَوَاهُ ابْن مَاجَه بِإِسْنَاد حسن وَالْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নিশ্চয়ই মুমিনের আমল ও নেক কাজ যা তার মৃত্যু পরও পৌঁছতে থাকে তা হলো- ১.ঐ ইলম বা জ্ঞান যা সে শিখেছে ও প্রসার করেছে। ২.নেক সন্তান যা সে রেখে গেছে। ৩.কোন গ্রন্থ যা সে উত্তরাধিকার সূত্রে ছেড়ে গেছে। ৪.যে মসজিদ সে নির্মাণ করেছে। ৫.যে মুসাফিরখানা সে বানিয়েছে। ৬.যে নহর সে জারি কছে। ৭.ঐ সাদকাহ যা সে সুস্থাবস্থায় তার সম্পদ থেকে দান করেছে। এই সব তার মৃত্যুর পরও জারি থাকে।

ইবনে মাজাহ সহিহ সনদে, বায়হাকী এবং ইবনে খুযায়মা তার সহিহতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا مَاتَ ابْن آدم انْقَطع عمله إِلَّا من ثَلَاث صَدَقَة جَارِيَة أَو علم ينْتَفع بِهِ أَو ولد صَالح يَدْعُو لَهُ

رَوَاهُ مُسلم وَغَيره

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যখন মানুষ মারা যায় তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি বিষয় (জারি থাকে)- ১.সাদকাযে জারিয়া। ২.ঐ জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং ৩.নেক সন্তান যে তার জন্য দুআ করে।

মুসলিম ও প্রমুখ হাদীসটি বর্ননা করেছেন।

وَعَن أبي قَتَادَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خير مَا يخلف الرجل من بعده ثَلَاث ولد صَالح يَدْعُو لَهُ وَصدقَة تجْرِي يبلغهُ أجرهَا وَعلم يعْمل بِهِ من بعده

رَوَاهُ ابْن مَاجَه بِإِسْنَاد صَحِيح

আবু কাতাদাহ (রা) বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- নেক কাজ যা মানুষ মৃত্যুর পর ছেড়ে যায় তা তিনটি- ১.নেক সন্তান যে তার জন্য দুআ করে। ২.সাদকায়ে জারিয়া- যার সওয়াব সে পেতে থাকে। ৩.ঐ ইলম যার পর তার উপর আমল করা হয়।– সহিহ

ইবনে মাজাহ সহিহ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

وَعَن أبي أُمَامَة قَالَ ذكر لرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رجلَانِ أَحدهمَا عَابِد وَالْآخر عَالم فَقَالَ عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام فضل الْعَالم على العابد كفضلي على أدناكم ثمَّ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الله وَمَلَائِكَته وَأهل السَّمَوَات وَالْأَرْض حَتَّى النملة فِي جحرها وَحَتَّى الْحُوت ليصلون على معلم النَّاس الْخَيْر

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح

আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা) এর মজলিসে দুজন ব্যক্তির আলোচনা করা হলো। তার একজন আলিম অপরজন আবিদ। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করলেন-আলিমের মর্যাদা আবিদ এর উপর এমন যেমন তোমাদের উপর আমার মর্যাদা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করলেন, আল্লাহ তাআলা ও তার ফেরেশতা, আসমান ও যমীন এর মাখলুক এমনকি পিপিলিকা তার গর্তে এবং পানির মাছও লোকদেরকে জ্ঞান শিক্ষাদানকারীর জন্য দুআ করেন।– হাসান লিগায়রিহী

তিরমিযী হাদীসটি বর্ননা করেছেন। আর তিনি এটাকে হাসান সহিহ বলেছেন।

 وَرَوَاهُ الْبَزَّار من حَدِيث عَائِشَة مُخْتَصرا قَالَ معلم الْخَيْر يسْتَغْفر لَهُ كل شَيْء حَتَّى الْحيتَان فِي الْبَحْر

বাযযার আয়িশা (রা) থেকে সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন- জ্ঞান অর্জনকারীর জন্য সবকিছু এমনকি সমুদ্রের মৎস্যও ক্ষমা প্রার্থনা করে। -সহিহ লিগায়রিহী

وَعَن جَابر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم الْعلم علمَان علم فِي الْقلب فَذَاك الْعلم النافع وَعلم على اللِّسَان فَذَاك حجَّة الله على ابْن آدم

رَوَاهُ الْحَافِظ أَبُو بكر الْخَطِيب فِي تَارِيخه بِإِسْنَاد حسن وَرَوَاهُ ابْن عبد الْبر النمري فِي كتاب الْعلم عَن الْحسن مُرْسلا بِإِسْنَاد صَحِيح

জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলু্ল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- ইলম দুই্ প্রকার। এক ঐ ইলম যা অন্তরে প্রবেশ করে আর এটাই উপকারী ইলম। আর অপর ইলম হলো যা শুধু মুখে থাকে। আর এটা আদম সন্তানের বিরুদ্ধে আল্লাহর দলীল।-যয়ীফ

ইমাম আবু বকর খতীব তার তারীখে উত্তম সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আব্দুল বার নামরী তার কিতাবুল ইলম এ হাসান বসরী থেকে মুরসালরুপে সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন।

চলবে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
error: Content is protected !!